28/07/2026
১৯০১ সালে গ্রিসের আন্টিকিথেরা দ্বীপের কাছে একটা রোমান আমলের ডুবোজাহাজ থেকে ডুবুরিরা উদ্ধার করেন অদ্ভুত এক ব্রোঞ্জের যন্ত্র, যা পরে পরিচিত হয় ‘আন্টিকিথেরা মেকানিজম’ নামে। প্রায় ২,০০০ বছরের পুরনো হাতে ধরার মতো এই যন্ত্রটা গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি, চাঁদ-সূর্যের গ্রহণ, এমনকি অলিম্পিক গেমসের তারিখ পর্যন্ত হিসাব করে দিতে পারত—এত জটিল নকশার কারণেই বিজ্ঞানীরা একে ডাকেন ‘পৃথিবীর প্রথম অ্যানালগ কম্পিউটার’। অথচ আজ এটা টিকে আছে মাত্র ৮২টা ভাঙাচোরা টুকরায়, যার ভেতর অক্ষত অবস্থায় আছে মাত্র ৩০টা ব্রোঞ্জের গিয়ার।
২০২১ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক টনি ফ্রিথের নেতৃত্বে একটা দল প্রথমবারের মতো একটা তাত্ত্বিক মডেল দাঁড় করান, যা ব্যাখ্যা করে যন্ত্রটার সামনের অংশ কীভাবে কাজ করত—যেখানে দেখানো হতো প্রাচীন গ্রিকদের বিশ্বাস অনুযায়ী পৃথিবীকেন্দ্রিক এক মহাবিশ্বের ছবি। ব্যাবিলনীয় জ্যোতির্বিদ্যা, প্লেটোর একাডেমির গণিত আর প্রাচীন গ্রিক জ্যোতির্বিজ্ঞান তত্ত্ব—এই তিনের সমন্বয় ঘটিয়ে তারা সমাধান করেন এই ‘ত্রিমাত্রিক ধাঁধা’। যন্ত্রটার আকার ছিল একটা দেয়ালঘড়ির মতো, কাঠের বাক্সে রাখা থাকত, আর পাশের একটা হাতল ঘুরিয়ে এর রত্নখচিত কাঁটাগুলো দিয়ে দেখানো যেত গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান।
২০১৬ সালের আরেকটা গবেষণায় জানা যায়, যন্ত্রের গায়ে খোদাই করা আছে ৪৬২ আর ৪৪২ বছরের হিসাব—যথাক্রমে শুক্র আর শনি গ্রহের নিজ অবস্থানে ফিরে আসার সময় নিয়ে প্রাচীন গ্রিকদের হিসাব। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, গবেষকরা নিজেরাই নিশ্চিত নন এই নকশা আদৌ সেই যুগে বাস্তবে বানানো সম্ভব ছিল কিনা—কারণ প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী একাধিক ফাঁপা নলকে গুঁজে দিতে হতো মাত্র ২৫ মিলিমিটার গভীর জায়গার মধ্যে, যা আধুনিক লেদ মেশিন ছাড়া তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। তাই গবেষক দল এখন চেষ্টা করছেন, প্রাচীন গ্রিকদের হাতে থাকা প্রযুক্তি দিয়েই বাস্তবে এই মডেল বানিয়ে দেখানো যায় কিনা। 🤯