12/08/2026
গত ১১-০৮-২০২৬ খ্রি. সোমবার প্রদান করা হয়েছে রাজবাড়ী ইংলিশ ভার্সন স্কুলের সকল ক্লাসের ’জুলাই ২০২৬ এর ক্লাস টেস্ট’ এর প্রগ্রেস রিপোর্ট সিট । সকল ক্লাসের সকল কোমলমতি শিক্ষার্থী সোনামণিকে প্রদান করা হয়েছে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুরস্কার ।
"আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে"-
শিক্ষকতার মতো একটি মহৎ পেশার খুব ছোট একজন অংশীদার হিসেবে সম্মানিত সহকর্মীদের উদ্দেশে কিছু কথা—সময়ের অপচয় মনে না করলে দয়া করে পড়তে পারেন।
শিক্ষা একটি সর্বজনীন বিষয়—এখানে সবার অংশীদারিত্ব রয়েছে। এ পেশার যেকোনো ধরনের ভুল-ত্রুটি সবাইকে প্রভাবিত করে। তাই কখনো কখনো কিছু না লিখে পারা যায় না।
সকল সম্মানিত শিক্ষক মহোদয়ের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে বিনয়ের সঙ্গে বলছি—আমরা যেহেতু শিক্ষক, সেহেতু আমরা নিশ্চয়ই জানি, শিক্ষক কাকে বলে বা একজন শিক্ষক কে? প্রশ্নটির উত্তর জানা থাকলে আমরা নিশ্চয়ই অবগত আছি যে, শিক্ষক হচ্ছেন তিনি, যিনি জ্ঞান, গুণ, পারদর্শিতা, সৌজন্য, ভদ্রতা, নম্রতা, বিনয়, শিষ্টাচার, শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, দেশপ্রেম, বিশুদ্ধ সংস্কৃতি, ভাষাদক্ষতা, জীবনদক্ষতা, মনুষ্যত্ববোধসহ যাবতীয় যোগ্যতা এবং শিক্ষণীয় ও বার্তাবহ সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশ ঘটিয়ে থাকেন। এসব গুণ ও আচরণ প্রত্যেক কোমলমতি শিক্ষার্থীর জন্য অবশ্যই অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।
কারণ, একজন সম্মানিত, সুযোগ্য ও সুশিক্ষকের প্রতিটি কাজকর্ম, কথাবার্তা, আচার-আচরণ ও চালচলন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অবচেতন মন ও ইতিবাচক আবেগকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সে অনুযায়ী তাদেরকে তাড়িত করে, গড়ে তোলে এবং তাদের শিখন-আগ্রহকে জাগ্রত করে। শিক্ষার্থীদের মডেল বা আদর্শ হচ্ছেন একজন সুশিক্ষক। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অবচেতন মনে গভীরভাবে শিক্ষকদের সর্বদা অনুকরণ ও অনুসরণ করতে চায়।
একজন সম্মানিত শিক্ষক বা শিক্ষিকার প্রতিটি কাজকর্ম, চালচলন, আচার-আচরণ, শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চা—সর্বোপরি সবকিছুই অত্যন্ত যৌক্তিক, মার্জিত, রুচিশীল, প্রেক্ষাপটনির্ভর, শিখন-পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাসঙ্গিক, শুদ্ধ ও বার্তাবহ (অর্থাৎ শিক্ষণীয় বার্তা বহন করে এমন) হওয়া বাঞ্ছনীয় বলে মনে করি।
একজন সম্মানিত শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানে—বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে—সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে পেশাদারিত্বের সৌন্দর্য বজায় রাখাও বাঞ্ছনীয় বলে মনে করি।
অন্যথায়, যে আলফা-অ্যাডভান্সড, চৌকস প্রজন্মকে আমরা সামলাচ্ছি—এ প্রজন্মকে প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ এবং টিকটক-প্রবণ প্রজন্ম বলা হলেও ভুল হবে না বোধহয়। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বড়-ছোট সবার মধ্যেই একধরনের ছোটখাটো টিকটক ভিডিও-আসক্তির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ও সংবাদ মাধ্যমে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেশ চৌকস কথাবার্তা ও কার্যকলাপ দেখে বিষয়টি বুঝতে আমাদের আর বাকি নেই। তাছাড়া, প্রতিনিয়ত আমরা নিজেদের বসতবাড়ি ও পারিবারিক পরিসরেও এ বাস্তবতা উপলব্ধি করছি।
এমতাবস্থায়, যেকোনো সম্মানিত শিক্ষকের টিকটক-আকারের উদ্দেশ্যহীন, বার্তাবিহীন বা শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও তৈরি ও প্রচারকে আমরা বিনীতভাবে ও আন্তরিকভাবে নিরুৎসাহিত করি। কারণ, সম্মানিত শিক্ষক মহোদয় কর্তৃক তৈরি যেকোনো ধরনের অপ্রাসঙ্গিক, উদ্দেশ্যহীন ও টিকটক-আকারের ভিডিও ব্যক্তি বা পারিবারিক পরিসরের বাইরে পেশাগত পরিসরে প্রভাব ফেললে তা অনেক সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে নেতিবাচক আবেগ উসকে দিতে পারে।
শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ ও ইতিবাচকভাবে পরিচালিত করতে শিক্ষকের ভূমিকা অগ্রগণ্য। তাছাড়া, প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনকালে দাপ্তরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাজকর্মগুলো অত্যন্ত আনুষ্ঠানিক বা ফরমাল হওয়ার বাধ্যবাধকতা ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও মনে করি।
তবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, উৎসব, আয়োজন কিংবা প্রেক্ষাপটনির্ভর বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বা তাদের আনন্দ দিতে বা প্রেষণা দিতে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী শালীনতা বজায় রেখে হতেই পারে। তবে সেগুলো অবশ্যই প্রেক্ষাপটনির্ভর এবং শিক্ষণীয় হলে ভালো হয়।
প্রতিটি বিষয়ের সৌন্দর্য নির্ভর করে তার প্রেক্ষাপট, পরিবেশ, পরিস্থিতি ও পারিপার্শ্বিকতার ওপর। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও একান্ত সামাজিক পরিবেশ-পরিসরের সৌন্দর্য অনেক সময় পেশাগত ও পেশাদারিত্বের দাপ্তরিক পরিবেশ-পরিসরের সৌন্দর্য তথা জাতীয় পরিসরের সৌন্দর্যের সঙ্গে এক নাও হতে পারে বলে মনে করি। অর্থাৎ, এমন অনেক বিষয় আছে, যার সৌন্দর্য জাতীয় পরিসরের চেয়ে ব্যক্তি-পরিসর ও পারিপার্শ্বিকতায় অধিকতর শ্রেয় ও কাঙ্ক্ষিত হয়।
প্রত্যেক শিক্ষক মহোদয়ই আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মানের। তাঁদের যোগ্য ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্ব আমাদের ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে এবং পথনির্দেশ দেয়।
তাই মনে করি—
“Never follow a bad model!
Never appreciate a wrong thing!
Never do a thing that you don’t know!”
শুভকামনা ও অফুরান শ্রদ্ধা সকল সম্মানিত সুশিক্ষকের প্রতি।
ধন্যবাদান্তে,
ফারজানা হক
অধ্যক্ষ
রাজবাড়ী ইংলিশ ভার্সন স্কুল
(বাংলাদেশী শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে ক্লাস প্লে হতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমে পাঠদান)
আমরা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করি ও মাতৃস্নেহে পাঠদান করি