02/04/2026
সেবা ও মমতার এক অনন্য নাম: ফাতেমা আক্তার এবং ‘কেয়ার অ্যাট হোম’।
সেবা কেবল একটি দায়িত্ব নয়, এটি হৃদয়ের গভীর থেকে আসা এক পরম মমতা। আর এই মমতাকে সঙ্গী করেই পথ চলছেন ফাতেমা আক্তার। প্রবীণদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে তিনি গড়ে তুলেছেন এক আস্থার নাম— ‘কেয়ার অ্যাট হোম’ (Care @ Home)। আজ তিনি কেবল একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, বরং প্রবীণ নাগরিকদের কাছে এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল।
অভিজ্ঞতার আলোকে মানবিক সেবা
ফাতেমা আক্তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও গভীর একাগ্রতা নিয়ে সিনিয়র সিটিজেন বা প্রবীণদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের সমাজের প্রবীণরা বয়সের ভারে বা অসুস্থতায় যখন একা বোধ করেন, ফাতেমা আক্তার ঠিক তখনই মমতার হাত বাড়িয়ে দেন। তার এই পথচলা তাকে শিখিয়েছে কীভাবে পরম যত্নে একজন মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে আগলে রাখতে হয়।
‘কেয়ার অ্যাট হোম’: ঘরের আঙিনায় পেশাদার নার্সিং
ফাতেমা আক্তারের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের মূল বিশেষত্ব হলো এটি সরাসরি রোগীর বাসায় গিয়ে পেশাদার কেয়ারগিভার ও নার্সিং সেবা নিশ্চিত করে। পরিবারের সুবিধার্থে তারা ২৪/৭ (সার্বক্ষণিক) বাসায় থেকে অথবা নির্দিষ্ট শিফটিং ডিউটির মাধ্যমে সেবা প্রদান করে থাকেন।
আমাদের উল্লেখযোগ্য সেবাসমূহ:
স্বাস্থ্যসেবা (Health Care):
দক্ষ সেবিকা ও কেয়ারগিভাররা সরাসরি বাসায় গিয়ে ওষুধ খাওয়ানো, ব্লাড সুগার ও প্রেশার চেকআপ, শরীরের তাপমাত্রা মাপা, ইনজেকশন পুশ, নেবুলাইজার, অক্সিজেন সেবা এবং ক্যাথেটার সেটিং-এর মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন।
ব্যক্তিগত সেবা (Personal Care):
প্রবীণদের গোসল করানো, পরিচ্ছন্ন রাখা, খাইয়ে দেওয়া, হাঁটাচলায় সহায়তা এবং পোশাক পরিবর্তনসহ দৈনন্দিন ব্যক্তিগত কাজের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঘরোয়া পরিচর্যা (Domestic Care):
রোগীর জন্য পুষ্টিকর খাবার গরম করে দেওয়া, বিছানা পরিপাটি রাখা এবং রোগীর ব্যবহৃত ঘর ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
সামাজিক ও বিশেষ সেবা:
প্রবীণদের নিঃসঙ্গতা কাটাতে বই বা পত্রিকা পড়ে শোনানো, গল্প করা এবং তাদের মানসিক প্রশান্তির জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। এছাড়া ডিমেনশিয়া কেয়ার, প্যালিয়েটিভ কেয়ার এবং ফিজিওথেরাপি সেবাও আমাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
সেবায় এক অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত
ফাতেমা আক্তার প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থাকলে সেবাকে মহতী ব্রত হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব। প্রবীণদের শেষ বয়সটা যেন সম্মান, মর্যাদা ও সুস্বাস্থ্যের সাথে কাটে— সেই লক্ষ্যেই তিনি ও তার দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
তার এই মানবিক প্রচেষ্টা এবং প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটানোর অঙ্গীকার তাকে আজ এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। সেবার এই পথ ধরে ফাতেমা আক্তার হয়ে উঠেছেন অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা।
“সেবাই পরম ধর্ম— এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে ফাতেমা আক্তার ও তার ‘কেয়ার অ্যাট হোম’ টিম এগিয়ে চলেছে এক মানবিক আগামীর দিকে।”