تقبل الله منا ومنكم
অনলাইনে কুরআন শিক্ষা
To learn Quranul Kareem within 15 hours Plz Contact +8801777505014(Whatsapp)
লাইলাতুল কদর: ফযীলত ও আমলের পদ্ধতি
════════════════
‘লাইলাতুল কদর’ বা 'কদরের রাত্রি এক হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।' (সূরা কদর: ৩)।
অর্থাৎ ১০০০ মাস তথা ৮৩ বছর ৪ মাসের চাইতেও অধিক ইবাদতের সাওয়াব এই এক রাতের ইবাদতের দ্বারাই আল্লাহ তাআলা প্রদান করে থাকেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
مَنْ قَامَ لَيْلَةَ القَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার অতীত গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে। [বুখারী-১৯০১; মুসলিম-৭৬০]
বড় হতভাগা!
══════
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ও তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে এত বড় খোশখবরী পাওয়ার পর এ রাতের ক্ষমা ও রহমত লাভের চেষ্টা না করা অনেক বড় বঞ্চনার বিষয়। হযরত আনাস রা. বলেন, রমযান আসলে নবীজী বলতেন,
إِنّ هَذَا الشّهْرَ قَدْ حَضَرَكُمْ، وَفِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ، مَنْ حُرِمَهَا فَقَدْ حُرِمَ الْخَيْرَ كُلّهُ، وَلَا يُحْرَمُ خَيْرَهَا إِلّا مَحْرُومٌ.
এই মহিমান্বিত মাস উপস্থিত। তাতে একটি রজনী রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত হল সে যেন সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল। আর কেবল অভাগাই এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থাকে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৬৪৪, সনদ হাসান)
সুতরাং হেলায় না কাটিয়ে কদরের রাতের কদর করা দরকার।
----------------------------------------------------------
কদরের রাত কোনটি?
══════════
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
تحروا ليلة القدر في الوتر من العشر الأواخر من رمضان.
তোমরা রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত তালাশ কর। [বুখারী ২০১৭]
বুখারী ও মুসলিম শরীফের হাদিসে হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বলেন,
كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل العشر شد مئزره وأحيا ليله وأيقظ اهله.
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ দশক আসলে ইবাদতের জন্য কোমর বেঁধে প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং রাতভর ইবাদত করতেন আর পরিবার পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।
সহীহ মুসলিমের এক হাদীসে এসেছে, এক ব্যক্তি এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু ইসলামকে বললেন, আমি স্বপ্নে দেখেছি শবে কদর ২৭তম রাতে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ইসলাম বললেন, আমি দেখেছি শেষ দশকে। কাজেই তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতে তালাশ করো। (মুসলিম ১১৬৫)
এছাড়া অসংখ্য হাদিসে নির্দিষ্ট তারিখ ব্যতীত শেষ দশকের বেজোড় রাতে শবে কদর তালাশ করার কথা বর্ণিত হয়েছে।
তবে কিছু বর্ণনা এসেছে ২৩ ও ২৭ তারিখ সম্পর্কে।
عن زر قال : سمعت أبي بن كعب يقول : - وَقِيلَ لَهُ : إِنَّ عبد الله بن مَسْعُود يَقُولُ : مَنْ قَامَ السنة أصَابَ ليلةَ الْقَدْرِ فَقَال أَبِي : والله الَّذِي لَا إِلَهَ إلا هُوَ ! إِنَّهَا لَفِي رَمَضَانَ - يَحْلِفُ مَا يَسْتَثْنِي وَوَالله !
إِنِّي لأَعْلَمُ أَيَّ لَيْلَةٍ هِيَ ؟ هِيَ اللَّيْلَةِ الَّتِي أَمَرَنَا بِهَا رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلَّم بِقِيَامِهَا . هِيَ لَيْلَةُ صَبِيحَةِ سَبْعِ وَعِشْرِيْنَ . وَأَمَارَتْهَا أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فِي صَبِيحَةِ يَوْمِهَا بَيْضَاءَ لاَ شُعَاعَ لَهَا.
তাবেয়ী যির বিন হুবাইশ বলেন, যখন হযরত উবাই বিন কা'বকে বলা হল যে, আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রা. বলেছেন, "কেউ যদি বছরের সব রাতে ইবাদত করে, তাহলে লাইলাতুল কদর অবশ্য পাবে।"
তখন আমি তাঁকে (উবাই বিন কা'বকে) বলতে শুনলাম, ‘সেই আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, এ রাতটি অবশ্য রমযানে।
আল্লাহর কসম! আমি জানি সেটা কোন্ রাত, যে রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। সে রাত হচ্ছে, রমজানের সাতাইশতম রাত।
এর আলামত হচ্ছে, এ দিন সূর্য সাদা হয়ে ও তীব্র আলোকচ্ছটা মুক্ত অবস্থায় উদিত হয়। [মুসলিম-৭৬২]
হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণিত,
أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قَالَ : « تَحَرُّوا لِيْلَةَ الْقَدْرِ ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيْهَا فَلْيَتَحَرِّهَا لَيْلَةَ سَبْع وَعِشْرِينَ ».
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা শবে কদর তালাশ করো। আর তোমাদের কেউ শবে কদর তালাশ করতে চাইলে সে যেন তা ২৭তম রাতে খাঁজ করে। [মুসনাদে আহমদ ৪৮০৮, সনদ সহীহ]
عَنْ عَبْدِ الله بْنِ عَبَّاسِ رَضِيَ الله عَنْهُ ، أَنَّ رَجُلاً أَتَى النَّبي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللهِ إِنِّى شَيْخٌ كَبِيرٌ عَلِيلٌ يَشُقُّ عَلَى الْقِيَامُ ، فَأَمُرْنِي بِلَيْلَةٍ لَعَلَّ الله يُوَفِّقْنِي فِيهَا لَيْلَةَ الْقَدْرِ. قَالَ : « عَلَيْكَ بِالسَّابِعَةِ ».
হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা. বলেন, এক লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর কাছে এসে বলল, ইয়া নবীয়াল্লাহ! আমি একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ। কিয়াম (রাতে ইবাদত করা) আমার জন্য কষ্টকর। অতএব, আপনি আমাকে এমন একটি রাতের পথ নির্দেশ করেন, যাতে হয়তো আল্লাহ আমাকে শবে কদর লাভ করার তাওফীক দিবেন।
তিনি বললেন, আপনি সপ্তম রাতে (তৃতীয় দশকের সপ্তম রাত তথা ২৭তম রাত) ইবাদত করুন। (মুসনাদে আহমদ ২১৪৯)
আর হযরত আব্দুল্লাহ উনাইস ও ইবনে আব্বাস রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নির্ভরযোগ্য সনদে ২৩তারিখের কথা বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম ১১৬৮; মুসনাদে আহমদ ১৬০৪৪, ২৩০২)
অতএব নিশ্চিত করে কি বলতে পারবো যে, শুধুমাত্র ২৭শে রাতটাই হচ্ছে ‘নিশ্চিত লাইলাতুল কদর’? তাই শেষ বিজোড় রাত্রিসমূহকে সম্ভাব্য কদরের রাত্রি মনে করে রাত জেগে ইবাদত করা এবং পরিবারকে জাগিয়ে দেওয়া উচিৎ। কারণ যদি সাতাইশের রাত্রি না হয়, তাহলে ক্ষতিটা কার? কিন্ত সাতাইশের রাত্রিকে এমনভাবে নির্ধারিত করে প্রচলন হয়েছে যে, সাতাইশাকেই কদর বাধ্যতামূলক করা হয়ে গেছে।
সুতরাং শবে কদরকে তালাশ করি, সাতাইশকে নয়।
কদরের রাতের দুআ
══════════
আয়েশা রা. জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে জানতে পারি তাহলে এতে কী বলব? তিনি বললেন: বল,
" اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي"
‘‘হে আল্লাহ, নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল। ক্ষমাকে ভালোবাসেন, অত:এব আমাকে ক্ষমা করে দিন।’’’ (তিরমিযী হা. ৩৫১৩, সহীহ)
রাত্রি জাগরণ কিভাবে করবে?
════════════
ইফতারের সাথে সাথেই রাত শুরু হয়ে যায়। তাই মাগরিবের পর থেকেই ইবাদতে মগ্ন হওয়া চাই।
কদরের রাতে ইবাদতের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণের উদ্দেশ্য কী?
এ প্রসঙ্গে ফিকহের প্রায় কিতাবে যা বলা হয়েছে, তা আল্লামা ইবনে আবিদীন শামী রাহ. (মৃত্যু ১২৫২ হি.) এর শব্দে উল্লেখ করছি-
الحاصل ذلك في معظم الليل، وقيل بساعة منه. ويحصل القيام بالصلاة نفلا فرادى من غير عدد مخصوص، وبقراءة القرآن، والأحاديث وسماعها، وبالتسبيح والثناء، والصلاة والسلام على النبي
অর্থ্যাৎ রাত্রি জাগরণের তাৎপর্য এই যে, রাতের অধিকাংশ সময়ে, কারো কারো মতে কিছু অংশে- কোন নির্র্দিষ্ট সংখ্যা ব্যতীত একাকী নফল নামায আদায় করা, কুরআন-হাদীস তেলাওয়াত করা বা শুনা, তাসবীহ পাঠ করা এবং নবীজি صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم এর উপর দরূদ ও সালাম পেশ করা। (ফাতাওয়া শামী, ইবনে আবিদীন ২/৪৬৯, দারু আলামিল কুতুব; মারাকীল ফালাহ, হাসান শারাম্বুলালী পৃ. ১৫৪, দারুল কুতুবুল ইলমিয়্যা, বৈরুত।)
কাজেই এ রাত্রে ইবাদত করার জন্য বিশেষ কোন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা তথা নির্দিষ্ট সংখ্যার (বারো কিংবা ষোল রাকাত) নামায জামা’আত সহকারে আদায় করা অথবা সাওয়াবের নামে কিংবা অন্য উদ্দেশ্যে হালুয়া-রুটি বা অন্য কোন খানা খাওয়া বা পাকানো শরীয়তে এর কোন ভিত্তি নেই।
কোন কোন জায়গায় এই রেওয়াজ আছে যে, এ রাতে ওয়াজ-নসীহত করা হয়। আবার কোথাও ওয়াজের পর মিলাদ-মাহফিলের অনুষ্ঠান হয়। তাছাড়া এসব কিছুই করা হয় মাইকে এবং বাইরের মাইকও ছেড়ে দেওয়া হয়।
মনে রাখতে হবে, এসব কিছুই ভুল রেওয়াজ। এগুলো আগেই আলোচনা করা যায়। এ রাতে মাইক ছেড়ে দিয়ে বক্তৃতা-ওয়াজের আয়োজন করা ঠিক নয়। এতে না ইবাদতে আগ্রহী মানুষের পক্ষে ঘরে বসে একাগ্রতার সাথে ইবাদত করা সম্ভব হয়, আর না মসজিদে। অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় আরামেরও মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের এইসব ভুল কাজকর্ম পরিহার করার তাওফীক দিন।
- সাঈদ আহমাদ হাফিজাহুল্লাহ
Copy মাসিক আদর্শ নারী
Search The glorious night Lailatul Qadr
Please See it
08/03/2026
দুঃখিত, এটি ভুয়া যাচাই করে দেখলাম এই মাত্র
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে নিয়োগ মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম।
আজকেই আবেদনের শেষ তারিখ ৮ মার্চ ২০২৬ ইং।
Mashaallah
Follow this amazing Ustajah❤️❤️❤️
সবাই উপভোগ করুন ❤️❤️❤️❤️
و حَدَّثَنِي عَنْ مَالِك عَنْ عَبْدِ رَبِّهِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ عَائِشَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ زَوْجَيْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُمَا قَالَتَا كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ جِمَاعٍ غَيْرِ احْتِلَامٍ فِي رَمَضَانَ ثُمَّ يَصُومُ.
নাবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আয়েশা ও উম্মে সালমা (রা) থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ্ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্বপ্নদোষে নয় স্ত্রী সহবাসের কারণে রমযানে জানাবত অবস্থায় ফজর হত, অতঃপর তিনি রোযা রাখতেন। (বুখারী ১৯২৬, ১৯৩০, মুসলিম ১১০৯)
মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস নং ৬২৬
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
03/03/2026
আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ওয়ায়েজ, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন আল্লামা হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী (রহ) (১৯৪৭–২০২৬)ইন্তেকাল করেছেন, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
আজ ৩ মার্চ ঢাকার হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা ও দাঈ। কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক ওয়াজ-মাহফিলের মাধ্যমে তিনি বহু মানুষকে দ্বীনের পথে অনুপ্রাণিত করেছেন।
আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া করি এবং পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
তার অবদান ও স্মৃতিচারণ চিরকাল আমাদের মনে থাকবে।
📌 মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান ও অসংখ্য ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Address
House#38, Road#10, Sector#14, Uttara
Dhaka
1230