19/01/2015
প্রতিদিন ঢাকার কোথাও না কোথাও বাস পোড়ানো হচ্ছে । আগুনে পোড়ছে মানুষ, ঝলসে যাওয়া শরীর নিয়ে বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছে অসহায় অসংখ্য মানুষ । যারা বাসে পেট্রোল বোমা মারছে তাদের নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্যবস্তু নাই, তাদের দরকার লাশ,তাদের দরকার জনমনে আতঙ্ক। তাইতো শিশু বৃদ্ধ যুবা চাকুরীজীবি ছাত্র ছাত্রী কেউ বাদ যায়নি । রাস্তায় মানুষ কম, যানবাহন কম । জরুরী প্রয়োজনে যারা বাইরে যাচ্ছে সবার মনে আতঙ্ক । বাসের জানলা বন্ধ করে মনে ভয় নিয়ে বসে থাকে এই বুঝি কোন কুলাঙ্গার ছুড়ে মারল পেট্রোল বোমা !!!!!
এই যখন পরিস্থিতি তখন নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষা হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে । প্রতিদিন ঢাকার নানা প্রান্ত থেকে এমনকি ঢাকার বাইরে থেকে ছাত্রছাত্রীদের আসতে হচ্ছে ক্লাসে অংশগ্রহন করতে। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হলে কোন কথা ছিল না, হল থেকে হেটে গিয়ে ক্লাস করা যেত। কিন্তু শতভাগ অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথের ছাত্রছাত্রীরা কিভাবে আসে প্রশাসন কি ভেবে দেখবে না ?? মানলাম ভার্সিটির বাস চলে কিন্তু ভার্সিটির বাসেতো মোট ছাত্রছাত্রীর ১০ভাগও আসা যাওয়া করে না, সেটা সম্ভবও না । বাকী যারা বিভিন্ন লোকাল বাসে করে ভার্সিটিতে আসে তাদের কে দেখবে, তাদের নিরাপত্তা কে নিশ্চিত করবে !!!
আর ভার্সিটির বাসগুলোও কি খুব নিরাপদ ? গত কয়েকদিন আগেইতো এক বাসে হামলা হইসে, বাসে ভাংচুর করছে, ড্রাইভারসহ অনেকে আহত হইসে ।
গত পরশুদিন জগন্নাথের এক ছাত্রী ভার্সিটিতে আসার সময় আহত হইসে । গতকাল সংসদ ভবন এলাকায় ইডেন কলেজের চার ছাত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে আছে । আগামীকাল আমি হামলার শিকার হবো না বা আরেকজন আহত হয়ে হাসপাতালে যাবে না তার কি গ্যারান্টি আছে !! !
নিরাপত্তার কারনে ভার্সিটির নরসিংদী, মাওয়া, নারায়নগঞ্জ রুটের বাসগুলো বন্ধ আছে । ঢাকার পরিস্থিতি কি খুব ভালো ?? প্রতিদিনইতো ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পোড়ানো হচ্ছে বাস ।
মোদ্দাকথা হলো পড়াশোনা করতে গিয়ে কেউ পুড়ে অঙ্গার হতে চায় না । কেউ চায়না ছোটবেলায় পড়া প্রবাদ “পড়াশোনা করে যে, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সে” বদলে হয়ে যাক “পড়াশোনা করে যে, গাড়ির আগুনে পুড়ে সে” ।
-- অন্তরে অন্তরে ।