23/08/2026
কক্সবাজার আইন কলেজ: অধ্যক্ষের বাংলা বানান: ভুল আর ভুল
শুদ্ধীকরণ:
১. ❌ ফোনঃ ✅ ফোন:
ব্যাখ্যা: বিসর্গ (ঃ) কোনো সংক্ষেপণ বা যতিচিহ্ন নয়, এটি বাংলা বর্ণমালার একটি পৃথক বর্ণ। বর্ণ হিসেবে এর নিজস্ব উচ্চারণ রয়েছে। পদান্তে অবস্থিত বিসর্গ বর্ণের উচ্চারণ /হ্/। যতিচিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত কোলন ( : ) বা সংক্ষেপণচিহ্নের ( . ) স্থলে বিসর্গ (ঃ) বর্ণ কোনোভাবে বিধেয় নয়।
২. ❌ তারিখঃ ✅ তারিখ:
ব্যাখ্যা: বিসর্গ (ঃ) কোনো সংক্ষেপণ বা যতিচিহ্ন নয়, এটি বাংলা বর্ণমালার একটি পৃথক বর্ণ। বর্ণ হিসেবে এর নিজস্ব উচ্চারণ রয়েছে। পদান্তে অবস্থিত বিসর্গ বর্ণের উচ্চারণ /হ্/। যতিচিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত কোলন ( : ) বা সংক্ষেপণচিহ্নের ( . ) স্থলে বিসর্গ (ঃ) বর্ণ কোনোভাবে বিধেয় নয়।
৩. ❌ ২০২৬-২৭ ইং ✅ ২০২৬— ২৭ খ্রি.
ব্যাখ্যা: ‘ইং’ বা ‘ইংরেজি’ নামের কোনো বর্ষপঞ্জি নেই। এখানে বর্ণিত বছরের নাম গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি। বাংলায় লেখা হয় খ্রিষ্টাব্দ, সংক্ষেপে: খ্রি.। খ্রিষ্টাব্দ (খ্রিষ্ট+অব্দ) ব্যক্তিনাম খ্রিষ্ট-এর সঙ্গে সংস্কৃত অব্দ মিলে গঠিত; অর্থ (বিশেষ্যে) খ্রিষ্টের জন্মের বৎসর থেকে পরিগণিত অব্দ, সাল। অধিকন্তু, হতে, থেকে কিংবা সময় বা অন্য কোনো বিষয়ের ব্যবধান নির্দেশের জন্য ড্যাশ (—) দেওয়া হয়। কিন্তু, এখানে দেওয়া হয়েছে সন্ধি বা শব্দাংশ একীভূত নির্দেশে ব্যবহৃত হাইফেন (-)। যা সমীচীন হয়নি।
৪. ❌ এলএল.বি ✅ এলএলবি
ব্যাখ্যা: ‘এলএল.বি’ নামের কোনো ডিগ্রি বাংলাদেশে নেই। যা আছে তার নাম, ‘এলএলবি’। ‘এলএলবি’ মুণ্ডমাল শব্দ হিসেবে লেখা হয়। কোনো বাক্যাংশের বা একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত কোনো নামের প্রতিটি শব্দের প্রথম ধ্বনি বা বর্ণসমূহ নিয়ে বানানো শব্দকে মুণ্ডমাল শব্দ বলা হয়। মুণ্ডমাল শব্দ এক শব্দের মতো কোনো ফাঁক বা ডটা ছাড়া পরস্পর সেঁটে লেখা বিধেয়। যেমন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: চবি। দুর্নীতি দমন কমিশন: দুদক। বাংলাদেশে টেলিভিশন: বিটিভি। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা: (বাসস)। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ: (রাজউক)। প্রকৌশলী কৃষিবিদ ও চিকিৎসক: প্রকৃচি। অনুরূপ: এসএসসি, এইচএসসি, এমএ, বিএ, পিএ (Personal Assistant)।
৫. ❌ ০৯/০৯/২০২৬ ইং তারিখ ✅ ০৯/০৯/২০২৬ খ্রি.
‘ইং’ বা ‘ইংরেজি’ নামের কোনো বর্ষপঞ্জি নেই। এখানে বর্ণিত বছরের নাম গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি। বাংলায় লেখা হয় খ্রিষ্টাব্দ, সংক্ষেপে: খ্রি.। খ্রিষ্টাব্দ (খ্রিষ্ট+অব্দ) ব্যক্তিনাম খ্রিষ্ট-এর সঙ্গে সংস্কৃত অব্দ মিলে গঠিত; অর্থ (বিশেষ্যে) খ্রিষ্টের জন্মের বৎসর থেকে পরিগণিত অব্দ, সাল। অধিকন্তু, ‘খ্রিষ্টাব্দ’ ও ‘সন’ সমার্থক। দুটো একসঙ্গে লেখা বাহুল্য।
৬. ❌ রাত ১২ টা ✅ রাত ১২:০০ টা
ব্যাখ্যা: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানের পরিশিষ্ট ‘গ’-এ বাংলা তারিখ ও সময় লেখার নিয়ম বিধৃত। সময় নির্ধারণে সংখ্যার পর কোলন (:) দিয়ে দুটি শূন্য দেওয়ার নির্দেশনা বিধৃত। ‘ঘটিকা’ পদের সংক্ষেপণ হিসেবে কেবল পূর্ণ ঘণ্টার জন্য একবর্ণ ফাঁক রেখে ‘টা’ এবং অন্যত্র মি: লিখতে হয়। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পরিশিষ্ট গ, পৃষ্ঠা: ১৪২৯।
৭. ❌ ভর্তি বিষয়ক✅ ভর্তিবিষয়ক/ভর্তি-বিষয়ক
ব্যাখ্যা: ‘-বিষয়ক (বি+√সি+অক)’ হলো, (বিশেষণে) সম্পর্কিত, সম্বন্ধীয় প্রভৃতি অর্থে সমাসের পরপদে ব্যবহৃত শব্দ। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা: ৯৯৩। শব্দটি (-বিষয়ক) সংশ্লিষ্ট শব্দের শেষে সেঁটে বসে। যেমন: আইনবিষয়ক, অর্থবিষয়ক, দেশবিষয়ক, বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক। মূল শব্দকে স্পষ্ট রাখা আবশ্যক মনে হলে হাইফেন দিয়েও লেখা যায়। যেমন: আইন-বিষয়ক, অর্থ-বিষয়ক, বিশ্ববিদ্যালয়-বিষয়ক।
৮. ❌ ওয়েব সাইট ✅ ওয়েবসাইট
ব্যাখ্যা: ইংরেজি ‘website’-এর বাংলা রূপ ‘ওয়েবসাইট’। ইংরেজির মতো বাংলাতেও ‘ওয়েব’ ও ‘সাইট’ পরস্পর সেঁটে লেখা হয়। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা: ২৪৭।
৯. ❌ আবেদন ফরম ✅ আবেদন ফর্ম
ব্যাখ্যা: ফর্ম+পূরণের= ফর্মপূরণের। ইংরেজি উৎসের ‘ফর্ম’ অর্থ দরখাস্তের ছক। অন্যদিকে, ইংরেজি উৎসের ‘ফরম’ অর্থ: হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে। এখানে, বাক্য এবং উদ্দেশ্য অনুযায়ী দরখাস্তের ছক অর্থদ্যোতক ‘ফর্ম’ লেখা ছিল অপরিহার্য। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা: ৮৯২।
১০. ❌ ১০০০/- (এক হাজার) টাকা ✅ ১০০০ (এক হাজার) টাকা
ব্যাখ্যা: ‘/-’ একটি অর্থহীন চিহ্ন। এই চিহ্নটি এখানে অযথা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি টাকা প্রকাশের জন্য অঙ্কের পর ‘টাকা’ লেখা হয় কিংবা টাকার চিহ্ন ‘৳’ দেওয়া হয়। বাংলাদেশি টাকা প্রকাশের জন্য এখানে টাকা লেখা হয়েছে।
১১. ❌ ফি সহ ✅ ফি-সহ
ব্যাখ্যা: ‘সমেত’ অর্থদ্যোতক ‘-সহ’ শব্দটি সংশ্লিষ্ট শব্দের শেষে হাইফেন-সহ বা হাইফেন ছাড়া সেঁটে বসে। তবে প্রমিত হচ্ছে হাইফেন-সহ লেখা। অর্থাৎ, 'সহ' পদটি শব্দের শেষে (সহিত, সমেত বা সঙ্গে) অর্থে সেঁটে বা হাইফেন নিয়ে বসবে। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা: ১৩১০ ও ১৩১১।
১২. ❌ ১০/০৯/২০২৬ ইং তারিখের মধ্যে ✅ ১০/০৯/২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে
‘ইং’ বা ‘ইংরেজি’ নামের কোনো বর্ষপঞ্জি নেই। এখানে বর্ণিত বছরের নাম গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি। বাংলায় লেখা হয় খ্রিষ্টাব্দ, সংক্ষেপে: খ্রি.। খ্রিষ্টাব্দ (খ্রিষ্ট+অব্দ) ব্যক্তিনাম খ্রিষ্ট-এর সঙ্গে সংস্কৃত অব্দ মিলে গঠিত; অর্থ (বিশেষ্যে) খ্রিষ্টের জন্মের বৎসর থেকে পরিগণিত অব্দ, সাল। অধিকন্তু, ‘খ্রিষ্টাব্দ’ ও ‘সন’ সমার্থক। দুটো একসঙ্গে লেখা বাহুল্য।
১৩. ❌ ভর্তি সংক্রান্ত ✅ ভর্তিসংক্রান্ত
ব্যাখ্যা: ‘বিষয়ক’ অর্থদ্যোতক ‘সংক্রান্ত’ পূর্ববর্তী সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে সেঁটে বসে। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা: ১২৬৪। কোনো কারণে পৃথক রাখতে হলে আগে তার আগে হাইফেন অপরিহার্য।
১৪. ❌ ওয়েব সাইট ✅ ওয়েবসাইট
ব্যাখ্যা: ইংরেজি ‘website’-এর বাংলা রূপ ‘ওয়েবসাইট’। ইংরেজির মতো বাংলাতেও ‘ওয়েব’ ও ‘সাইট’ পরস্পর সেঁটে লেখা হয়। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা: ২৪৭।
১৫. ❌ সাধারন ✅ সাধারণ
ব্যাখ্যা: সাধারণ= স+আধারণ। ‘সাধারণ’ তৎসম শব্দ। ণত্ববিধিমতে, ‘সাধারণ’ বানানে ণ অপরিহার্য। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা: ১৩১৭।
১৬. ❌ যোগ্যতাঃ ✅ যোগ্যতা:
ব্যাখ্যা: বিসর্গ (ঃ) কোনো সংক্ষেপণ বা যতিচিহ্ন নয়, এটি বাংলা বর্ণমালার একটি পৃথক বর্ণ। বর্ণ হিসেবে এর নিজস্ব উচ্চারণ রয়েছে। পদান্তে অবস্থিত বিসর্গ বর্ণের উচ্চারণ /হ্/। যতিচিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত কোলন ( : ) বা সংক্ষেপণচিহ্নের ( . ) স্থলে বিসর্গ (ঃ) বর্ণ কোনোভাবে বিধেয় নয়।
১৭. ❌ কোন ✅ কোনো
ব্যাখ্যা: 'কোন’ যখন সর্বনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন এর অর্থ— কী, কে, কোনটি (কোন দিন)। ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে অর্থ— কী প্রকারে, কীভাবে, কীসে (তুমিই বা কোন ভালো খেলোয়াড়)। এটি কোনো বা কোনও শব্দের সমার্থক নয়। ‘কোনো’ অর্থ— অনির্দিষ্ট বা অনির্ধারিত একজন লোক বিষয় বা বস্তু, কে বা কী (কোনো বিষয়), বহুর মধ্যে একটি বা একজন।
১৮. ❌ মেয়াদী ✅ মেয়াদি
ব্যাখ্যা: মেয়াদি’ বিদেশি (ফারসি) উৎসের শব্দ। বিদেশি উৎসের শব্দের বাংলা বানানে ঈ-কার পরিহার্য। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা: ১১৩২।
১৯. ❌ পাস ✅ পাশ
ব্যাখ্যা: শব্দটির বাংলা বানান ‘পাশ’। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা: ৮১৯। এই বিজ্ঞপ্তিতে অন্যত্র একই অর্থে লেখা হয়েছে ‘পাশ’। বাংলায় চারটি পাশ পাওয়া যায়। চারটি চার প্রকৃতির পাশ; যেমন: জন্মে তেমন কর্মে। একটি পাশ এসেছে সোজা ব্রিটিশ থেকে। আর একটির জন্মস্থান পারস্য। তবে আমরা বাংলাতেই বেশি পাশ করি। (১) সংস্কৃত ‘পাশ’ অর্থ বিশেষ্যে পৌরাণিক যুদ্ধাস্ত্র, বাঁধন (শক্ত পাশ), ফাঁদ (পাখি ধরার পাশ), জাল (মায়াপাশ), গুচ্ছ (কবরীপাশ), গোছা (কেশপাশ), অক্ষ,পাশা প্রভৃতি। (২) সংস্কৃত পার্শ্ব থেকে উদ্ভূত বাংলা ‘পাশ’ অর্থ বিশেষ্যে পার্শ্ব, সামীপ্য, নৈকট্য, ধার (নদীর পাশ), প্রান্ত (পথের পাশ), পক্ষ (বিজয়ী পাশ)। (৩) ফারসি ‘পাশ’ অর্থ বিশেষ্যে সুগন্ধি জল বা তরল ছিটানোর পাত্রবিশেষ (গোলাপপাশ)। বাংলায় এটি তেমন প্রচলিত শব্দ নয়। (৪) ইংরেজি পাশ (pass) অর্থ সাফল্য (পরীক্ষায় পাশ), অনুমতিপত্র, গেটপাশ, অনুমোদন (প্রকল্প পাশ)। বাঙালি হলেও আমরা এই ইংরেজি পাশটাই বেশি ব্যবহার করি।অনেকে সাফল্য অর্থে পাস লিখেন। আমিও লিখতাম। এখন লিখি না। সব পাস শেষ হয়ে গেছে। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে পাস বানানের কোনো শব্দ নেই। একসময় আমরা পরীক্ষার উত্তীর্ণ হওয়া অর্থে লিখতাম পাস। এখন কেউ পাস লিখতে পারব না, সুতরাং পাসও করতে পারব না। আমাদের এখন পাশ করতে হবে। আজিব: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে, ইংরেজি pass শব্দকে বাংলায় লেখা হয়েছে— পাশ। ইংরেজিতে রোমান হরফে class বানানে লেখা লাতিন class শব্দকে বাংলায় লেখা হয়েছে—ক্লাস।
২০. ❌ মেয়াদী ✅ মেয়াদি
ব্যাখ্যা: মেয়াদি’ বিদেশি (ফারসি) উৎসের শব্দ। বিদেশি উৎসের শব্দের বাংলা বানানে ঈ-কার পরিহার্য। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা: ১১৩২।
২১.❌ আবেদন ফরম ✅ আবেদন ফর্ম
ব্যাখ্যা: ফর্ম+পূরণের= ফর্মপূরণের। ইংরেজি উৎসের ‘ফর্ম’ অর্থ দরখাস্তের ছক। অন্যদিকে, ইংরেজি উৎসের ‘ফরম’ অর্থ: হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে। এখানে, বাক্য এবং উদ্দেশ্য অনুযায়ী দরখাস্তের ছক অর্থদ্যোতক ‘ফর্ম’ লেখা ছিল অপরিহার্য। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা: ৮৯২।
২২. ❌ আবেদন ফরম-এর ✅ আবেদন ফর্মের
ব্যাখ্যা: ‘এর’ ষষ্ঠী বিভক্তি। এটি সাধারণত ‘র’ ধ্বনি হয়ে সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে সেঁটে বসে। এটাই বিধেয়। বিশেষ কারণে ‘র’ ধ্বনিকে ‘এর’ বানানে মূল পদ হতে পৃথক রাখতে হলে আগে হাইফেন (-এর) অপরিহার্য। নইলে ‘এর’ অর্থ হয়ে যায়: তাহার, তার, ইহার, এটির। যেমন: ‘কামাল এর বউ’ কথার অর্থ কামাল, তার বউ। ‘কামাল-এর বউ’ অর্থ কামালের বউ। এখানে ‘এর’ বিভক্তি ‘ফর্ম’ শব্দের সঙ্গে ‘-এর’ হিসেব না লিখে র-ধ্বনি হিসেবে লেখা সমীচীন ছিল।
২৩. ❌হবেঃ ✅ হবে:
ব্যাখ্যা: বিসর্গ (ঃ) কোনো সংক্ষেপণ বা যতিচিহ্ন নয়, এটি বাংলা বর্ণমালার একটি পৃথক বর্ণ। বর্ণ হিসেবে এর নিজস্ব উচ্চারণ রয়েছে। পদান্তে অবস্থিত বিসর্গ বর্ণের উচ্চারণ /হ্/। যতিচিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত কোলন ( : ) বা সংক্ষেপণচিহ্নের ( . ) স্থলে বিসর্গ (ঃ) বর্ণ কোনোভাবে বিধেয় নয়।
২৪. ❌ এস এস সি ✅ এসএসসি
ব্যাখ্যা: ‘এস এস সি’ নামের কোনো ডিগ্রি বাংলাদেশে নেই। যা আছে তার নাম, ‘এসএসসি’। ‘এসএসসি’ মুণ্ডমাল শব্দ হিসেবে লেখা হয়। কোনো বাক্যাংশের বা একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত কোনো নামের প্রতিটি শব্দের প্রথম ধ্বনি বা বর্ণসমূহ নিয়ে বানানো শব্দকে মুণ্ডমাল শব্দ বলা হয়। মুণ্ডমাল শব্দ এক শব্দের মতো কোনো ফাঁক বা ডটা ছাড়া পরস্পর সেঁটে লেখা বিধেয়। যেমন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: চবি। দুর্নীতি দমন কমিশন: দুদক। বাংলাদেশে টেলিভিশন: বিটিভি। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা: (বাসস)। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ: (রাজউক)। প্রকৌশলী কৃষিবিদ ও চিকিৎসক: প্রকৃচি। অনুরূপ: এইচএসসি, এমএ, বিএ, পিএ (Personal Assistant)।
২৫. ❌ এইচ.এস.সি ✅ এইচএসসি
ব্যাখ্যা: ‘এইচ. এস. সি’ নামের কোনো ডিগ্রি বাংলাদেশে নেই। যা আছে তার নাম, ‘এইচএসসি’। ‘এইচএসসি’ মুণ্ডমাল শব্দ হিসেবে লেখা হয়। কোনো বাক্যাংশের বা একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত কোনো নামের প্রতিটি শব্দের প্রথম ধ্বনি বা বর্ণসমূহ নিয়ে বানানো শব্দকে মুণ্ডমাল শব্দ বলা হয়। মুণ্ডমাল শব্দ এক শব্দের মতো কোনো ফাঁক বা ডটা ছাড়া পরস্পর সেঁটে লেখা বিধেয়। যেমন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: চবি। দুর্নীতি দমন কমিশন: দুদক। বাংলাদেশে টেলিভিশন: বিটিভি। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা: (বাসস)। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ: (রাজউক)। প্রকৌশলী কৃষিবিদ ও চিকিৎসক: প্রকৃচি। অনুরূপ: এইচএসসি, এমএ, বিএ, পিএ (Personal Assistant)।
২৬. ❌ নম্বরপত্র এর ✅ নম্বরপত্রের
ব্যাখ্যা: ‘এর’ ষষ্ঠী বিভক্তি। এটি সাধারণত ‘র’ ধ্বনি হয়ে সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে সেঁটে বসে। এটাই বিধেয়। বিশেষ কারণে ‘র’ ধ্বনিকে ‘এর’ বানানে মূল পদ হতে পৃথক রাখতে হলে আগে হাইফেন (-এর) অপরিহার্য। নইলে ‘এর’ অর্থ হয়ে যায়: তাহার, তার, ইহার, এটির। যেমন: ‘কামাল এর বউ’ কথার অর্থ কামাল, তার বউ। ‘কামাল-এর বউ’ অর্থ কামালের বউ। এখানে ‘এর’ বিভক্তি ‘নম্বরপত্র’ শব্দের সঙ্গে ‘-এর’ হিসেব না লিখে র-ধ্বনি হিসেবে লেখা সমীচীন ছিল।
২৭. ❌ রেজিষ্ট্রেশন ✅ রেজিস্ট্রেশন
ব্যাখ্যা: ‘রেজিস্ট্রেশন’ বিদেশি (ইংরেজি) উৎসের শব্দ। বিদেশি উৎসের শব্দের বাংলা বানানে ঈ-কার পরিহার্য।
২৮. ❌ কার্ড এর✅ কার্ডের
ব্যাখ্যা: ‘এর’ ষষ্ঠী বিভক্তি। এটি সাধারণত ‘র’ ধ্বনি হয়ে সংশ্লিষ্ট পদের সঙ্গে সেঁটে বসে। এটাই বিধেয়। বিশেষ কারণে ‘র’ ধ্বনিকে ‘এর’ বানানে মূল পদ হতে পৃথক রাখতে হলে আগে হাইফেন (-এর) অপরিহার্য। নইলে ‘এর’ অর্থ হয়ে যায়: তাহার, তার, ইহার, এটির। যেমন: ‘কামাল এর বউ’ কথার অর্থ কামাল, তার বউ। ‘কামাল-এর বউ’ অর্থ কামালের বউ। এখানে ‘এর’ বিভক্তি ‘কার্ড’ শব্দের সঙ্গে ‘-এর’ হিসেব না লিখে র-ধ্বনি হিসেবে লেখা সমীচীন ছিল।
২৯. ❌ কপি PP সাইজ ✅ কপি পাসপোর্ট সাইজ (PP)
ব্যাখ্যা: বাংলা ভাষায় লেখা কোনো পত্রে বিদেশি বর্ণে লেখা বাক্য বা শব্দ শব্দাংশ ব্যবহার করা সমীচীন নয়। তবে, বোধগম্যতা কিংবা অন্য কোনো কারণে বিদেশি ভাষার বর্ণে কিছু লেখা অপরিহার্য মনে হলে আগে তা বাংলা বর্ণে লিখে পাশে বন্ধনীর মধ্যে বিদেশি ভাষা ব্যবহার করা উচিত। PP-সহজবোধ্য নয়। এর চেয়ে ‘পাসপোর্ট সাইজ’ অনেক সহজবোধ্য এবং বাংলায় সাধারণ এটাই লেখা হয়। তাই এখানে রোমান বর্ণে কেবল PP লেখা আদৌ সমীচীন হয়নি।
৩০. ❌ বিঃ দ্রঃ ✅ বিদ্র
ব্যাখ্যা: মুণ্ডমাল শব্দ হিসেবে বি এবং দ্র ধ্বণি মাঝখানে কোনো চিহ্ন ছাড়া পরস্পর সেঁটে বসবে। সংক্ষেপণ প্রকাশের জন্য কোলন ( : ) নয়, ডট্ (.) ব্যবহার করা হয়। অধিকন্তু, বিসর্গ (ঃ) কোনো সংক্ষেপণ বা যতিচিহ্ন নয়, এটি বাংলা বর্ণমালার একটি পৃথক বর্ণ। পদান্তে অবস্থিত বিসর্গ বর্ণের উচ্চারণ /হ্/। যতিচিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত কোলন ( : ) বা সংক্ষেপণচিহ্নের ( . ) স্থলে বিসর্গ (ঃ) বিধেয় নয়।
৩১. ❌ অত্র ✅ এ/ এই
ব্যাখ্যা: অত্র (এতদ্+ত্র) অর্থ: এখানে (here), এই স্থানে (this place) (বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা: ২৭)। ‘এ/এই’ অর্থে ‘এখানে’, ‘এই স্থানে’ অর্থদ্যোতক ‘অত্র’ শব্দের ব্যবহার যথার্থ নয়। আভিধানিক অর্থ বিবেচনায় ‘এ’, ‘এই’ অর্থে ‘অত্র’ শব্দের ব্যবহার অসংগত। ‘অত্র পত্রের’ অর্থ এখানে পত্রের বা এই স্থানে পত্রের। আলোচ্য পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে, এমন অর্থ ও হাস্যকর। তাই এ/এই পত্রের লেখা সমীচীন ছিল। ‘অত্র শিক্ষা বোর্ড’ অর্থ ‘এখানে শিক্ষা বোর্ড’। উদ্দেশ্য বিবেচনায় এটি হাস্যকর ও অর্থহীন।
৩২. ❌ কোন ✅ কোনো
ব্যাখ্যা: 'কোন’ যখন সর্বনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন এর অর্থ— কী, কে, কোনটি (কোন দিন)। ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে অর্থ— কী প্রকারে, কীভাবে, কীসে (তুমিই বা কোন ভালো খেলোয়াড়)। এটি কোনো বা কোনও শব্দের সমার্থক নয়। ‘কোনো’ অর্থ— অনির্দিষ্ট বা অনির্ধারিত একজন লোক বিষয় বা বস্তু, কে বা কী (কোনো বিষয়), বহুর মধ্যে একটি বা একজন।