Subhanallahi Wa Bihamdihi-সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি

Subhanallahi Wa Bihamdihi-সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি

Share

“O you who believe! Seek help in patience and As-Salāt (prayer). Truly! Allāh is with As-Sābirin (the patient)”

05/11/2025
13/08/2019

আসসালামুআলাইকুম
সংসারের কাজ শেষে যেই গোসল করতে যাবো,দেখি ট্যাঙ্কিতে পানি নাই, সুইচ অন করতে গিয়ে দেখি কারেন্ট না!
সারাদিনের ক্লান্তি আর অসহ্য গরমে ঘেমে শেষ!অস্থির লাগছে।
ফ্লোরে বসে পড়লাম!
কখন কারেন্ট গেছে জানি না।

আমার এদিকে কারেন্ট খুবই কম যায়,গেলেও এসে পরে।অপেক্ষা আর অপেক্ষা।তাও কারেন্টের খবর নাই
অনলাইন কতক্ষণ ঘুরাঘুরি করলাম হুদাই,১বান্ধবীর সাথে বকবক করলাম...
ধুর বিরক্ত লাগছে ।ডাটা অফ করে বের হলাম,হঠাৎ মনে মনে ভাবলাম কারেন্ট তো এমনিতে আসবে না,আমাকেই দাওয়াত করতে হবে!
তসবিহ টা হাতে নিয়ে কয়বার ইস্তেখফার পড়লা,তারপর দরূদ পড়া শুরু করলাম,মাত্র ১৯বার দরূদ পড়লাম, আলহামদুলিল্লাহ্‌ কারেন্ট এসে গেছে,আলহামদুলিল্লাহ্‌।

রমজানে মাদ্রাসায় ক্লাস করার সময় একবার এমন হয়,কারেন্ট নাই, লাইনে কি সমস্যা।
বিশাল রুমটা ভর্তি ছাত্রী আর ছাত্রী, প্রচণ্ড গরম নাই কারেক্ট,খুবই কঠিন অবস্থা...
এর মধ্যে আমাদের বড় খালাম্মা(টিচার) এসে বলেনঃ আমরা সবাই দরূদ পড়ি,আল্লাহ তা'আলা দরূদের বরকতে কারেন্ট দিয়ে দিবেন ইনশাআল্লাহ,
আমরা কয়বার ইস্তেখফার পড়ে দরূদ পড়তে থাকি সম্মেলিত ভাবে,কয়বার মাত্র পড়ছি,আলহামদুলিল্লাহ্‌ কারেন্ট চলে আসলো,অথচ লাইনে সমস্যা ছিলো।

#দরূদ_শরীফ_এর_অনেক_ফযিলতঃ
★প্রতিদিন ১০০বার দরূদ পাঠ করলে আল্লাহ ৩০টি হাযত দুনিয়াতে আর ৭০টি হাযত আখিরাতে পূরণ করে দেন #সুবহানাল্লাহ্
★১বার দরূদ পাঠ করলে আল্লাহর ১০বার রহমত নাযিল করেন,১০টি গুনাহ মাফ হয়,১০টি নেকি পাওয়া যায়,সুবহানাল্লাহ্
★দরূদ এক প্রকার দূয়া,আপনি শুধু পাঠ করবেন,এই দূয়া আল্লাহর কাছে সরাসরি চলে যাবে।
★একদল ফেরেশতাই আছেন কে কখন কোথায় দরূদ পাঠ করছে সাথে সাথে রাসূল(সাঃ)এর রওযামোবারকে পৌঁচ্ছে দেন।
দরূদের কতটা ফায়দা তা লিখে শেষ হবে না।
আমাকে কেউ সহজ কোন আমলের কথা জিজ্ঞাস করলে আমি ৩ আমল বলি,

১)দরূদ শরীফ পাঠ,যতবার পড়া যায়,(জিকিরের ন্যায়)
২)ইস্তেখফার করা বা তওবা করা(জিকিরের ন্যায়)
৩)দান করা (প্রতিদিন কম করে ২টা দান করুন।
এই সহজ ৩টা আমলের অনেক ফায়দা,আলহামদুলিল্লাহ্‌।

💥তওবা করলে গুনাহ মাফ হয়ে যায়,আর গুনাহ মাফ হলে ইনশাআল্লাহ আপনি যে দূয়া করবেন (হালাল দূয়া)সেটাই কবুল হবে, ইনশাআল্লাহ আর এমন অবস্থায় মারা গেলে আপনি ইনশাআল্লাহ জান্নাতে যাবেন।

💥যেকোনো দূয়ার আগে ও পরে দরূদ এবং ইস্তেখফার পড়লে দূয়া কবুল হয় ইনশাআল্লাহ্
💥আর দান;যেকোনো বিপদ আপদ বালা মুসিবত দূর করে,নেক চাওয়া কবুল হয়,আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সহজ হয়,সম্পদ পবিত্র হয়,সম্পদ বৃদ্ধি পায়,দিলটাও আল্লাহর দিকে ঘুরে যায়।

👏আল্লাহ তা'আলা আমাদের নেক আমল করার তৌফীক দিন আমিন।।
কপি।

09/07/2019

অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমল! যদি করতে পারেন.....

আমার একটা বেষ্ট ফ্রেন্ড আছে,ও কুয়ালালামপুরের স্থানীয়। একবার ওর বাসায় আমার দাওয়াত ছিল,ওর বাসায় যাওয়ার পর ওর রুমে আমি একটা আশ্চর্য জিনিস দেখেছি তাহলে ডিজিটাল নামাজের টাইম টেবিল। রুমের দেয়ালের সাথে বড় এক নামাজের জামাতের টাইম টেবিল সাজানো...

আমি কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম এই নামাজের টাইম টেবিল তো মসজিদে থাকে তোমার বাসায় কেন??

ও উত্তর দিলো এটা দেখে আমি আর আমার মা দোয়া করি!!কারন হাদিসে আছে আজান ইকামতের মাঝখানে দোয়া করলে তা ফেরত দেওয়া হয়না!! বাবা মসজিদ থেকে জামাতের টাইম দেখে এখানে চেইঞ্জ করে দেয়...আজান দিলেই আমি আর মা দোয়া করতে বসে যাই....
এতদিন যত দোয়া এই সময়ের মধ্যে করেছি তার অধিকাংশই কবুল হয়েছে....

আমি খুব ইন্সপায়ার হলাম, এরপর কুয়ালালামপুরের অনেক জায়গায় আমি নামাজের টাইম টেবিল খুঁজেছি কিন্তু পাইনি পরে কাগজে কম্পস করে নিয়েছিলাম

আমার ভার্সিটির ক্যাম্পাসের দক্ষিণ পাশে বড় এক মসজিদ আছে আর ওই মসজিদে মুয়াজ্জিনির সুমধুর কন্ঠর আজান যে কারো হৃদয়কে শান্ত করতে পারে। এখানে ছেলে মেয়ে সবার জন্য মসজিদ উন্মুক্ত আমি জেনে নিয়েছিলাম আযানের 15 মিনিট পরে এখানে জামাত হয় বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা এই 15 মিনিট আমার কাছে এখোনো মনে হয় কোটি টাকার চেয়েও দামি কারণ এই 15 মিনিট আমি যা দোয়া করতাম সবই কবুল হয়ে যেত।

একদিন আসরের আজান শেষ হওয়ার সাথে সাথে উদ্ভট এক দোয়া করে বসি!!
ওইদিনই আমাদের একটা পরীক্ষা ছিল,পরীক্ষাটা আমার মোটেই ভালো হয়নি,আমি মনে মনে দোয়া করলাম হে আল্লাহ পরীক্ষাটা যদি বাতিল হত!!(উদ্ভট একারনে বললাম কারন এর আগে কখনো শুনিনি এখানের কোন পরীক্ষা বাতিল হয়েছে)

পরদিন সকালেই নোটিশ বোর্ডে লেখা দেখলাম গতকালের পরীক্ষা অনিবার্য কারনে বাতিল করা হয়েছে!!

আজান -ইকামতের মাঝখানে একাগ্রচিত্তে আপনিও দোয়া করে দেখতে পারেন ..ইনশাআল্লাহ দেখবেন কবুল হয়ে গেছে।

আপনার দোয়া কবুলের কোন ঘটনা থাকলে আমাদের জানালে কৃতজ্ঞ হব।

িমাদ্রি_নীল

#ইকামাত_কি_এবং_এর_সময়ঃ
:
দু'আ কবুলের অন্যতম সময় হলো আযান
এবং ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়টুকু।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, "আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ের দু'আ ফিরিয়ে দেয়া হয়না।”
(আবু দাউদ ৫২১, তিরমিজি ২১২)

অনেক বোনের জিজ্ঞাসা "ইকামাত কী?
আমরা কীভাবে বুঝব কখন ইকামাত হচ্ছে?"

মাসজিদে আযান হওয়ার ১৫/৩০ মিনিট পর জামাতে নামায শুরু হয়।
জামাতে নামায শুরুর পূর্ব মুহূর্তে আযানের বাক্যগুলো দিয়ে মাসজিদে আবার আযান দেয়া হয়, যাতে সবাই জামাতে এসে শামিল হয়।
এটাকেই ইকামাত বলে।
এটি আযানের মত এত দীর্ঘ ও উচ্চ আওয়াজে (মাইকে) বলা হয় না, বরং একটু দ্রুত বলা হয়।
ইকামাত শেষ হওয়া মাত্রই জামাতের সাথে নামায শুরু হয়ে যায়।

আযানের কতক্ষণ পর ইকামাত শুরু হয়?

১। সাধারণত ফজরের আযানের ৩০ মিনিট পর ইকামাতের মাধ্যমে জামাত শুরু হয়ে যায়।
যেমনঃ বর্তমানে ভোর ৪:৩০-এ ফজরের আযান হয় ও ৫:০০-টায় ইকামাতের মাধ্যমে জামাত শুরু হয়ে যায়।

২। দেশের অধিকাংশ মাসজিদে ১টায় আযান হয় এবং দেড়টায় ইকামাতের মাধ্যমে জামাত শুরু হয়।
অনেক স্থানে আবার সোয়া একটায়ও জামাত শুরু হয়।

৩। আসরের আযানের ১৫ মিনিট পর ইকামাতের মাধ্যমে জামাত শুরু হয়।

৪। মাগরিবের আযানের পরপরই জামাত শুরু হয়।
সাধারণত ২ থেকে ৫ মিনিট পরই জামাত শুরু হয়।

৫। ইশার আযানের ১৫ মিনিট পর জামাত শুরু হয়।

সাধারণভাবে আযান থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে দু'আ করতে পারেন নিঃসংকোচে। কারণ ১৫ মিনিট আগে কোথাও ইকামাত শুরু হয় না (মাগরিব বাদে)।
এ সময় বেশি বেশি দু'আ করুন।


দুআর শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা করবেন। সেটা হতে পারে সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াত বা আয়াতুল কুরসির প্রথম লাইনটি (কিংবা পুরোটা)।


এরপর দুরুদে ইবরাহীম (যেটা নামাযের শেষ বৈঠকে পড়ি) পড়বেন।
এরপর নিজের মত করে দু'আ করবেন।


দু'আর মাঝে একটু পর-পর "ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়ূমু" পড়তে থাকবেন।
দু'আ ইউনুসও পড়বেন (লা ইলাহা ইল্লা আনতা... যোয়ালিমিন)।

দু'আ শেষ করবেন আগের মতই-- আল্লাহর প্রশংসা, অতপর দুরূদ এরপর "আমীন" বা "ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম" বলে দু'আ শেষ করবেন।
অথবা আল্লাহর কোন গুণবাচক নাম দিয়ে।

® Collected from page "Dawah"

06/01/2019

সূরা ইবরাহীম আয়াত ৪০

رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي ۚ رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ

রাব্বিজ ‘আলনী মুকীমাসসালা-তি ওয়া মিন যুররিইইয়াতী রাব্বানা-ওয়া তাকাব্বাল দু‘আই।

হে আমার পালনকর্তা, আমাকে নামায কায়েমকারী করুন এবং আমার সন্তানদের মধ্যে থেকেও। হে আমাদের পালনকর্তা, এবং কবুল করুন আমাদের দোয়া।

01/01/2019

বিয়ের আগে জীবনসঙ্গীনী সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ) এর ছেলেকে দেয়া নসীহত:
___
নারীরা সাধারণত রোমান্টিকতা পছন্দ করে। খুনসুটি-রসিকতা পছন্দ করে। নখরা-ন্যাকা তাদের স্বভাবগত। তারা ভালবাসার স্পষ্ট প্রকাশকে খুবই পছন্দ করে। তুমি একান্তে স্ত্রীর কাছে এসব কথা প্রকাশে কখনোই কার্পণ্য করবেনা। তাকে বেশি বেশি ভালোবাসার কথা বলবে। যদি এসবে কার্পণ্য কর,তাহলে দেখবে কিছুদিন পরই তোমার আর তার মাঝে একটা অদৃশ্য পর্দা ঝুলে গেছে। এরপর দিনদিন পরস্পরের সম্পর্কে শুষ্কতা আসতে শুরু করবে। ভালবাসা জানলা দিয়ে পালাবার পথ খুঁজবে।

নারীরা কঠোর-কর্কশ-রূঢ়-বদমেজাজি-রুক্ষস্বভাবের পুরুষকে একদম পছন্দ করেনা। তোমার মধ্যে এমন কিছু থাকলে এখুনি ঝেড়ে ফেল। কারণ তারা সুশীল,ভদ্র,উদার পুরুষ পছন্দ করে। তুমি তার ভালবাসা অর্জনের জন্য,তাকে আশ্বস্ত করার জন্য হলেও গুণগুলো নারীরা কঠোর-কর্কশ-রূঢ়-বদমেজাজি-রুক্ষস্বভাবের পুরুষকে একদম পছন্দ করেনা। তোমার মধ্যে এমন কিছু থাকলে এখুনি ঝেড়ে ফেল। কারণ তারা সুশীল,ভদ্র,উদার পুরুষ পছন্দ করে। তুমি তার ভালবাসা অর্জনের জন্য,তাকে আশ্বস্ত করার জন্য হলেও গুণগুলো অর্জন কর।

এটা খুব ভালো করে মনে রাখবে,তুমি তোমার স্ত্রীকে যেমন পরিচ্ছন্ন,সুন্দর,পরিপাটি,গোছাল
ো,সুরুচিপূর্ণ, সুগন্ধিময় দেখতে চাও,তোমার স্ত্রীও কিন্তু তোমাকে ঠিক তেমনটাই চায়। তাই সাবধান থাকবে,তার চাহিদা পূরণে যেন কোন অবস্থাতেই তোমার পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র অবহেলা না হয়।

ঘর হল নারীদের রাজ্য। একজন নারী নিজেকে সবসময় সেই রাজ্যের সিংহাসনে আসীন দেখতে খুবই পছন্দ করে। সে কল্পনায়,স্বপ্নে, বাস্তবে এই রাজ্য নিয়ে ভাবে। সাজায়,রচনা করে। খুবই সাবধান থাকবে। কখনোই তোমার স্ত্রীর এই সুখময় রাজত্বকে ভেংগে দিতে যেও না। এমনকি তাকে সিংহাসন থেকে নামিয়ে দেয়ার প্রয়াশও চালাবেনা। তুমি তো জানোই,আল্লাহ্ তা'আলার কাছে সবচেয়ে অপছন্দজনক বিষয় কী?

- তাঁর সাথে কোনকিছু শরীক করা।
- হ্যাঁ,ঠিক বলেছো। একজন রাজার কাছেও সবচেয়ে ঘৃণিত বিষয় কী?
- তার রাজ্যে অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করা।

নারীরা তার স্বামীকে মনে প্রাণে,সর্বান্ত:করণে প্রবলভবে স্বামীকে পেতে চায়। তবে পাশাপাশি বাপের বাড়িকেও হারাতে চায় না। হুঁশিয়ার থেকো বাবা! তুমি ভুলেও নিজেকে আর স্ত্রীর পরিবারকে এক পাল্লায় তুলে মাপতে শুরু করে দিওনা। তুমি এ অন্যায় দাবী করে বসো না 'হয় আমাকে বেছে নাও,নাহলে তোমার বাবা-মাকে। তুমি এই বিষয়টা চিন্তাতেও স্থান দিও না। তুমি তাকে এমনটা করতে বাধ্য করলে সে হয়তো চাপে পড়ে মেনে নিবে। কিন্তু তার মনের গহীনে কোথাও একটা চাপা বোবা কান্না গুমরে মরতে থাকবে। তোমার প্রতি এক ধরনের সুপ্ত অশ্রদ্ধা তার কোমল মনে জেগে উঠবে।
তুমি জানো,অনেক শুনেছো এবং পড়েছো নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে বাহু (বা পাজরের) বাঁকা হাড় থেকে। এই বক্রতা কিন্তু তার দোষ নয়, সৌন্দর্য । তুমি চোখের ভ্রু লক্ষ করে দেখেছ? সেটার সৌন্দর্যটা কোথায়?

- বক্রতায়
- একদম ঠিক কথা। বক্রতাই ভ্রুকে সুন্দর করে তোলে। ভ্রুটা যদি সোজা হত,দেখতে সুন্দর লাগতো না। যদি তোমার স্ত্রী কোন ভুল করে ফেলে,অস্থির হয়ে রেগেমেগে হামলা করে বসোনা। উত্তেজিত অবস্থায় তাকে সোজা করতে যেওনা,তাহলে অতিরিক্ত চাপে ভেঙে যাবে। আর ভাঙা মানে বুঝোই তো,তালাক!
আবার সে অনবরত ভুল করে যেতে থাকলে ভেঙে যাওয়ার ভয়ে কিছু না বলে লাগামহীন ছেড়েও দিওনা। তাহলে বক্রতা যে আরো বেড়ে যাবে। নিজের ভেতরে গুটিয়ে যাবে। তোমার প্রতি আচরণ উদ্ধত হয়ে যাবে। তোমার কথায় কান দিবেনা।

- তাহলে কী করব?
- মাঝামাঝি অবস্থানে থাকবে।

তুমি ঐ হাদিসটা পড়ো নি?
- কোনটা?
- ঐ যে,যার ভাবার্থ হল,নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে এমনভাবে যে,তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়। তার প্রতি অতীতে কৃত সব সদ্ব্যবহার-সদাচার ভুলে যায়। তুমি যদি তার প্রতি যুগ-যুগান্তরও সুন্দর আচরণ কর, হঠাৎ একদিন কোনক্রমে একটু রূঢ় আচরণ করে ফেলেছ, ব্যাস অমনিইই সে নাকের জল চোখের জল এক করে ফেলবে - আমি তোমার কাছে কখনোই ভালো কিছু পাইনি।

দেখো বাছা! তার এই আচরণে রুষ্ট হয়োনা। তার এই চপল স্বভাবের প্রতিক্রিয়ায় তার প্রতি বিতৃষ্ণা এনো না। তার এই স্বভাবকে তুমি অপছন্দ করলেও, তার মধ্যে এমন অনেক কিছু পাবে, যা তুমি শুধু পছন্দই করোনা, বরং জানও লড়িয়ে দিতে পারো।

নারীদের শরীর মনের অবস্থা সবসময় একরকম থাকে না। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট একটা সময় তাদের শারীরিক দুর্বলতা থাকে। অনেকসময় মানসিক অস্থিরতাও বিরাজ করে। তাদের এই দুর্বলতা, অসহায় অবস্থার কথা বিবেচনা করে আল্লাহ্ তা'আলা তাদের নির্দিষ্ট সময়ের নামাজ মআআফ করে দিয়েছেন। রোযাকে পিছিয়ে দিয়েছন তার স্বাস্থ্য ও মেজাজ ঠিক হওয়া পর্যন্ত। তুমিও তোমার স্ত্রীর দুর্বল মুহুর্তগুলোতে তার প্রতি কোমল হবে।

সবসময় মনে রেখো, তোমার স্ত্রী তোমার কাছে অনেকটা দায়বদ্ধ। বিভিন্নভাবে তোমার মুখাপেক্ষী। তোমার সুন্দর আচরণের কাঙাল। তুমি তার প্রতি যত্নবান হবে। তার প্রতি অনেকবেশি মনোযোগ দিবে। তাকে আপন করে নেবে। তাহলে সে তোমার জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদে পরিণত হবে। তাকে অনুপম সংগী হিসেবে পাবে।"
সংগৃহীত

01/01/2019

সূরা আল-বাকারা আয়াত ২৮৬

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।

31/10/2018

কেন আপনি দ্বীনদার ছেলেকে বিয়ে করবেন ?

•• সে তার দৃষ্টি নত রাখবে। রাস্তাঘাটে বা এখানে সেখানে মেয়েদের দিকে হা করে তাকিয়ে থাকবে না।

•• অফিসে বা বাহিরে থাকা অবস্থায় কি করছে তা নিয়ে আপনাকে দুশ্চিন্তায় থাকবে হবে না। অফিসের কলিগ বা অন্য মেয়েদের সাথে ফ্ল্যার্ট করছে কিনা সেই ভয়ে থাকতে হবে না আপনাকে।

•• আপনার সাথে অশালীন আচরণ করবে না। কখনো অশ্লীল শব্দ উচ্চারণ করবে না। আজেবাজে ভাষার ব্যবহার বা গালাগালি করবে না।

•• কখনো আপনার বা সন্তানের গায়ে হাত তুলবে না।

•• বিয়েতে মোটা অংকের যৌতুক বা উপহার দাবি করবে না। ইন্ডিরেক্টলি সেটার জন্যে ফোর্স করবে না।

•• ড্রাগস বা খারাপ সঙ্গের ভয় থাকবে না আপনার। নেশাজাতীয় কোন কিছুর সাথে সম্পৃক্ততা থাকবে না। যাদের সাথে মিশতেছে ওরা কেমন। কবে না ঘরে মাতাল হয়ে ফিরে এই ভয় থাকবে না আপনার।

•• আপনাকে এবং আপনার পরিবারের লোকজনকে সে সম্মান করবে। ভালো ব্যবহার করবে।

•• দ্বীন ও দুনিয়ার কাজে সহযোগী হবে। আশা করা যায় ঘরের কাজে সহযোগীতা পাবেন। চাকরাণী নয় রাণীর মতো ট্রিট করবে আপনাকে।

•• দ্বীন পালনের জন্যে পরিপূর্ণ পর্দা করার জন্যে আপনি একটি সুন্দর পরিবেশ পাবেন। দ্বীন পালনে বা পর্দা করতে কোন বাধার মুখোমুখী হতে হবে না।

•• একসাথে দ্বীন পালনের মাধ্যমে জান্নাতের দিকে এগিয়ে যেতে সহজ হবে। আপনি একজন মাধ্যম পাবেন যার সহযোগিতায় আলেমদের কাছ থেকে বিভিন্ন মাসয়ালা মাসায়েল জানতে পারবেন। ভালো একজন গাইড পাবেন যে দ্বীন পালনে আপনাকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে পারবে। নিজে না পারলেও আলেমদের কাছ থেকে জেনে জানাতে পারবে।
______
______
কেন আপনি দ্বীনদার কোন মেয়েকে বিয়ে করবেন ??

•• যেহেতু সে পরিপূর্ণ পর্দানশিন হবে তাই দাইয়্যুস হওয়ার মতো বড় একটি আজাব থেকে বেঁচে যাবেন আপনি। হাশরের ময়দানে অনেক জবাবদিহিতার হাত থেকে আপনি বেঁচে যাবেন।

•• সে উত্তম চরিত্রের পবিত্র মানুষ হবে। দুনিয়ার সামান্য কিছুর বিনিময়ে সে তার স্বকীয়তা হারাবে না। মৃত্যুর ভয়েও সে তার সম্মান ও সম্ভ্রমকে হারাবে না।

•• অফিসে বসে দুশ্চিন্তা করতে হবে না; সে অনৈতিক কোন কার্যকলাপে জাড়াচ্ছে কি না। আপনার সাথে প্রতারণা করছে কি না। আল্লাহর ভয়েই সে নিজের চরিত্রের হেফাজত করবে।

•• আপনার সন্তান ভালো একজন শিক্ষিক পাবে। দক্ষ হাতে মানুষ হবে। অবহেলায় অনাদরে বড় হবে না। মানুষের মতো মানুষ হবে ইনশাআল্লাহ্।

•• মোটা অংকের দেনমোহর দিতে হবে না। ওয়েডিং ফটোগ্রাফি, বিশাল রিসেপশান ও কয়েক লাখ টাকার শপিংয়ের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকবেন।

•• এই বার্ষিকী, সেই বার্ষিকী, অমুক দিবস, তমুকের বার্থডে পার্টির গিফটের ঝামেলা থেকে মুক্ত আপনি। এই দিবস সেই দিবসের ডেট মনে রাখতে হবে না কষ্ট করে। অমুক মাসের অমুক তারিখে গিফট কিনে দেননি কেন তা নিয়ে ঝগড়া করবে না সপ্তাহ জুড়ে।

•• আপনার হালাল ইনকাম অল্প হলে তাতেই তুষ্ট থাকবে। হারাম থেকে বেঁচে থাকতে সহজ হবে আপনার জন্যে। কুমিরের মতো আচরণ করবে না। এটা চাই ওটা চাই বলে আপনাকে ফোর্স করবে না। হারামের দিকে ঠেলে দিবে না।

•• আনুগত্য করবে আপনার। কথায় কথায় তর্ক করবে না। বেয়াদবি করবে না।

•• হিন্দি সিরিয়াল বা ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালের আজাব থেকে মুক্ত থাকবেন ইনশাআল্লাহ্। অমুক ভাবী এই করেছে তমুক ভাবী সেই করেছে এই ধরনের ক্যাচাল থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

•• দ্বীনের পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করবে আপনাকে। ঈমান ও আমল বুষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ্। আল্লাহর রাস্তায় বের হতে সাহায্য করবে আপনাকে। বের হওয়ার সময় হলে ব্যাগ গুছিয়ে দিবে আপনার। আচল দিয়ে বেঁধে রাখবে না ইনশাআল্লাহ্।

________
________
লেখাটা পড়ার পর অনেকেরই মনে হবে ইশশশ আমার স্বামী (ছেলেদের বেলায় স্ত্রী) যদি এমন হতো। অথচ আমাদের চিন্তা করা উচিৎ ছিল আমি যদি এমন স্বামী/স্ত্রী হতে পারতাম। নিজের দায়িত্বটা আগে ঠিক মতো পালন করি তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করি এবং তেমন কারো জন্যে দোয়া করতে থাকি। আল্লাহর কাছে নিজের পছন্দ মতো চাওয়ার পাশাপাশি যেন এটাও চাই, আমি যেন তার যোগ্য হতে পারি।

25/10/2018

আমল ঘর
# স্বামী_স্ত্রীর_মোহাব্বত ”
:
একজন স্বামী এবং স্ত্রী পরস্পর তিনটি চাহিদাকে
কেন্দ্র করে একে অপরের সাথে জড়িয়ে
থাকে।
শারীরীক চাহিদা, মানসিক চাহিদা এবং আধ্যাত্মিক চাহিদা।
এর কোন একটির ঘাটতি বয়ে আনতে পারে
অসন্তুষ্টি।
আর তাই বিয়ের আগ মুহূর্তে সুন্নাহ মোতাবেক
পারিবারিক জীবন অতিবাহিত করার একটা রাফ প্ল্যান
করে নিতে পারেন।
কিছু বিষয় হাইলাইট করে যদি সুন্নাহ মোতাবেক
জীবন পরিচালনা করা যায় তবে প্রতিটি ঘর হয়ে
উঠবে প্রশান্তিময়।
বিয়ে পরবর্তী রোমান্স যেনো আমৃত্যু
টিকে
থাকে এজন্য নিম্নের সুন্নাতি বিষয়গুলোতে
আসুন
সকল পুরুষরা একটু চোখ বুলিয়ে নেইঃ

১) সহধর্মিণীর হৃদয়ের ভাষা বুঝুনঃ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একবার আয়শাকে (রাঃ) বললেন, হে
আয়শা! আমি অবশ্যই জানি কখন তুমি আমার প্রতি
সন্তুষ্ট থাক আর কখন অসন্তুষ্ট হও।
আয়শা জিজ্ঞেস করলেন, তা আপনি কিভাবে
জানেন?
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, যখন তুমি আমার প্রতি
সন্তুষ্ট
থাক, তখন তুমি এরূপ বল,‘মুহাম্মাদের রবের কসম,
আর যখন তুমি অসন্তুষ্ট হও তখন বল,
‘ইবরাহীমের
রবের কসম’!
আয়শা (রাঃ) বললেন, জী হ্যাঁ, ইয়া রাসূলুল্লাহ।
আল্লাহর শপথ! (রাগের সময়) আমি কেবল আপনার
নামটাই বাদ দেই।
স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) তার
সহধর্মিণীর হৃদয়ের অনুভূতি কতোটা
গভীরভাবে
বুঝতেন।
আসলে স্বামী এবং স্ত্রীর সম্পর্ক তো
এমনই
হওয়া উচিত। একে অপরের সুখ-দুঃখ যতো
বেশী
বুঝতে পারবে ততো তাদের মাঝে প্রশান্তি
বিরাজ
করবে।

২) স্ত্রী দুঃখ পেলে সান্ত্বনা দেয়াঃ
আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর প্রিয় সহধর্মিণী সাফিয়াহ (রাঃ)
ইসলাম গ্রহনের পুর্বে ইহূদী ছিলেন।
তো রাসুলুল্লাহ (সাঃ) একবার হযরত সাফিয়াহর (রাঃ) গৃহে
গিয়ে দেখলেন, তিনি কাঁদছেন।
কারণ জিজ্ঞেস করলে,
তিনি বললেনঃ- আয়শা এবং যায়নাব বলেন, আমরা
রাসুলুল্লাহর স্ত্রী এবং গৌরবের দিক হতে একই
রক্তধারার অধিকারিণী।
সুতরাং আমরাই শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার।
একথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, তুমি কেন
বললে না যে, 'আমি আল্লাহর নবী হযরত
হারুণের
বংশধর ও হযরত মুসার ভ্রাতুষ্পুত্রী এবং রাসুলুল্লাহ
(সাঃ)
আমার স্বামী।
অতএব তোমরা কোন দিক হতে আমার চাইতে
শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হতে পার?' অতঃপর
আল্লাহর রাসুল (সাঃ) তার নিজ হাত দিয়ে সাফিয়াহর (রাঃ)
চোখ মুছে দিলেন।
বিয়ের পর একটি দম্পতির মাঝে অবশ্যই এই গুনটি
বিরাজ করতে হবে।
আপনার বেটার হাফ সবসময় হাস্যজ্জ্বল থাকবে
এমন
ভাবাটা বোকামী।
এসময় একে অপরকে সান্ত্বনা দিয়ে তাদের
কাছে টানতে হবে।

৩) স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে শোয়াঃ
আল্লাহর রাসুল (সাঃ) প্রায় সময় উম্মুল মু'মিনীন খাদিজা
(রাঃ) এর কোলে মাথা রাখতেন, এবং তার মৃত্যুর পর
আয়শা (রাঃ) এর উরুর উপর মাথা রেখে শুতেন।
যখন আয়শা (রাঃ) ঋতুবর্তী অবস্থায় উপনীত
হতেন, তখন তিনি (সাঃ) তার উরুর উপর শুয়ে
কোরআন তিলাওয়াত করতেন।
একজন পুরুষ তার বৈবাহিক জীবনে কতোবার
এভাবে স্ত্রীর উরুতে মাথা রেখে
শুয়েছেন??
একটাবার ভাবুন, মহিলাদের এই সেন্সেটিভ সময়ে
আপনার একটু সুক্ষ্ম আহ্লাদ তার মনের দুঃখ
নিমিষেই
ভুলিয়ে দিতে পারে।
একবার মাথা রেখে দেখুনই না স্ত্রী সব উজাড়
করে দিয়ে দিবে, প্রমিজ।
এক্ষেত্রে একজন স্ত্রীরও উচিত স্বামীর
কাঁধে মাথা রেখে নিজের কথাগুলো শেয়ার করা।
নিশ্চিত স্বামী বেচারা পরদিন আস্ত গোলাপ বাগান
নিয়ে আসতেও কুন্ঠাবোধ করবেন না।

৪) একে অপরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিনঃ
উম্মুল মু'মিনীন আ'ইশা (রাঃ) প্রায় সময় রাসুলুল্লাহর
(সাঃ)
মাথার চুল আচড়ে দিতেন।
এমনকি তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর মাথা ধৌত করে দিতেন।
আমি তো মনে করি, স্বামী-স্ত্রী একে
অপরের কাছাকাছি আসার এটাই সবচেয়ে বড়
সুযোগ।
আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না, একে অপরের
মাথায় সিম্পলি হাত বুলিয়ে দেয়া বা একে অপরের চুল
আচড়ে দেয়ার মাধ্যমে যে ভালোবাসার
আদানপ্রদান হবে তা অবিশ্বাস্য।

৫) একই পাত্র হতে খাওয়ার অভ্যেস শুরু করুনঃ
যখন উম্মুল মু'মিনীন আংশা (রাঃ) গ্লাসে করে পানি
খেতেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) ঠিক প্রিয়
সহধর্মিণীর
ঠোট লাগা অংশে ঠোট লাগিয়ে পানি পান করতেন।
যখন আয়শা (রাঃ) গোশত খেতেন, তখন আল্লাহর
রাসুল (সাঃ) আয়শা হতে গোশতটা টান দিয়ে নিয়ে
নিতেন, এবং ঠিক আয়শা (রাঃ) যেদিকটায় ঠোট
লাগিয়ে
খেয়েছেন, একই স্থান থেকে তিনি (সাঃ) ও খাওয়া
শুরু করতেন।
অফিস থেকে আসতে দেরী হোক আর যাই
হোক, স্ত্রীর সাথে আজ হতে মাঝে মাঝে
একই প্লেটে, একই গ্লাসে খাওয়া শুরু করুন।
(প্রতিদিন করতে বলবো না, নাহয় নেকামি ভেবে
বৌ-শাশুড়ির দ্বন্দ্ব জেগে উঠতে পারে)।
এতে হৃদতা, ভালোবাসা বাড়বে।
খেতে খেতে দু'জনার হৃদয় হতে এমন
ফ্রেগ্রেন্স বের হবে, আহ! শুধু সুকুন আর
সুকুন।

৬) লজ্জা ফেলে মুসাহাফা করুনঃ
আল্লাহর রাসুল (সাঃ) প্রায় সময় স্ত্রীদের চুমু
খেতেন।
তাদের সাথে আদর আহ্লাদ করতেন।
যখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সিয়াম রাখতেন, ঠিক তখন তিনি
স্ত্রীদের চুমু দিয়েছেন এমন কথাও হাদিসে
পাওয়া
যায়।
স্ত্রীর চোখে চোখ রাখা, তার কাজের
মধ্যখান
দিয়ে হুট করে চুমু দিয়ে আসা, আপনার ভালোবাসার
গভীরতাকে আপনার স্ত্রীর অন্তরে পৌছুতে
সাহায্য করবে।
ভালোবাসা লুকোনোর বিষয় নয়, তা প্রকাশ করার
মাধ্যম ইসলাম শিখিয়েছে আমাদের।
লজ্জা ভুলে একে অপরের সম্মুখে ভালোবাসা
প্রকাশ করা শুরু করুন।
একে অপরের সাথে মিলিত হন।
কাছে টানুন।
নিশ্চয়ই স্বামী স্ত্রীর পবিত্র মিলন সাদাকাহ
হিসেবে আল্লাহ তা'য়লা কবুল করেন।

৭) একে অপরের মুখে হাত তুলে খাইয়ে দিনঃ
ভালোবাসা প্রদর্শনের উত্তম মাধ্যম হলো এই
ক্ষুদ্র কাজটি।
নিজ হাতের উপার্জন স্ত্রীর মুখে তুলে দেয়াও
সওয়াবের কাজ।
ভালোবাসার অস্তমিত সুর্যকে নতুন করে জাগিয়ে
তুলতে এর তুলনা নেই।
আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘'...তুমি আল্লাহর
সন্তুষ্টির
উদ্যেশ্যে যা ব্যয় করবে তার উত্তম প্রতিদান
পাবে।
এমনকি স্বীয় স্ত্রীর মুখে তুলে দেওয়া
লোকমার বিনিময়েও।”

৮) স্ত্রীর হাতের কাজে সাহায্য করুনঃ
আসওয়াদ (রহঃ) বলেন, আমি আ'ইশা (রাঃ) কে
জিজ্ঞেস করলাম,
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ঘরে কী কাজ করতেন? তিনি
বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ঘরের কাজে ব্যস্ত
থাকতেন অর্থাৎ গৃহস্থালির কাজে পরিবার-পরিজনের
সহযোগিতায় থাকতেন।
যখন নামাজের সময় হতো নামাজে চলে
যেতেন।
স্ত্রীর ঘরের কাজে সাহায্য করা আল্লাহর রাসুল
(সাঃ)
এর সুন্নাহ।
নিশ্চয়ই এই সুন্নাহর ব্যাপারে পুরুষদের সজাগ দৃষ্টি
দেয়া প্রয়োজন।
সারাদিন গৃহস্থালি কাজ করতে করতে স্ত্রী যখন
হাপিয়ে উঠে, বন্ধের দিন গুলোতে পুরুষদের
উচিত তাদের কাজে সাহায্য করা।
এতে ভালোবাসা বাড়বে বৈ কমবে না।

৯) স্ত্রীর সাথে গল্প করতে ভুলবেন নাঃ
বাসায় স্ত্রীর সাথে যে মুহূর্তগুলো কাটাবেন,
ঠিক এসময়গুলো চেষ্টা করবেন প্রিয় মানুষের
সাথে গল্প-গুজব করে কাটাতে। মাঝে মাঝে
হাস্যরস এবং দুষ্টুমি করবেন। এতে আপনাদের
মাঝে ভালোবাসা বাড়বে।
আল্লাহর রাসুল (সাঃ) প্রায় সময় তার স্ত্রীদের গল্প
শোনাতেন।
আয়শা (রাঃ) কে তিনি উম্মে যারাহ এর বিখ্যাত গল্প
শুনিয়ে বলেছিলেন যে, 'হে আয়শা আমি
তোমাকে আবু যারাহ এর মতো ভালোবাসি,
যেভাবে সে উম্মে যারাহ কে
ভালোবাসতো।’
প্রতিদিন বাইরে যে কর্মব্যস্ত সময়ে কাটে তা
প্রিয় সহধর্মিণীকে শেয়ার করতে পারেন,
এতে
আপনার উপর তার বিশ্বাস দৃঢ় হয়ে জন্মাবে।

১০) স্ত্রীকে নিয়ে তার প্রিয় জায়গায় ঘুরতে যানঃ
একবার ইথিওপিয়া থেকে কিছু লোক এসে মাসজিদ
আন নববীতে তরবারি খেলা দেখাচ্ছিল।
আয়শা (রাঃ) রাসূল (সাঃ) কে বললেন তিনি খেলা
দেখতে চান।
এমন অবস্থায় আমরা হলে কী বলতাম? “হ্যাঁ!!
উম্মাহর এই অবস্থা আর তুমি চাও খেলা দেখতে!!
ছিহঃ! যাও যাও কুরআন পড়…তাফসীর পড়…”
অথচ রাসূল (সাঃ) আয়শাকে নিয়ে গেলেন এবং
তাকে
আড়াল করে সামনে দাঁড়িয়ে গেলেন।
আয়শা (রাঃ) রাসূলুল্লাহর পিছনে দাঁড়িয়ে খেলা
দেখতে লাগলেন।
এত দীর্ঘ সময় তিনি খেলা দেখলেন যে,
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বারবার এক পা থেকে আরেক পায়ে
ভর দিয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন।
তিনি আয়শা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন যে তার
দেখা শেষ হয়েছে কিনা।
আয়শা (রাঃ) বললেন তিনি আরো দেখতে চান।
কোন আপত্তি না করে রাসূল (সাঃ) সেভাবেই
দাঁড়িয়ে থাকলেন।
দীর্ঘক্ষণ পর আয়শা (রাঃ) নিজেই ক্লান্ত হয়ে
বললেন যথেষ্ট হয়েছে।
এরপর রাসূল (সাঃ) তাকে বাসায় নিয়ে আসলেন।
কি শ্রেষ্ঠ ভালোবাসাই না ছিলো আল্লাহর রাসুল
(সাঃ)
এবং তার সহধর্মিণীদের মাঝে!
আপনিও একই সুন্নাহ অনুসরন করুন, ভালোবাসায়
টইটম্বুর অবস্থা হবে।

১১) স্ত্রীর সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করুনঃ
আয়শা (রাঃ) তখন হালকা গড়নের ছিলেন।
রাসূল (সাঃ) কোন এক সফর থেকে ফিরছিলেন।
সাথে ছিলেন আয়শা (রাঃ)।
তিনি সাহাবীদেরকে বললেন সামনে এগিয়ে
যেতে।
তারা চোখের আড়াল হলে রাসূল (সাঃ) আয়শাকে
দৌড়
প্রতিযোগীতায় আহ্বান করলেন।
আয়েশা জিতে গেলেন সেইবার।
এর কয়েকবছর পর একই সিনারিও।
আবার রাসূল (সাঃ) আয়শাকে (রাঃ) দৌড়
প্রতিযোগীতায়
আহ্বান করলেন।
এবার রাসূল (সাঃ) জিতে গিয়ে মজা করে বললেন,
“এটা আগেরটার শোধ।”
আমাদের দেশের পুরুষরা কি স্ত্রীর সাথে এমন
প্রতিযোগিতা করেছে কখনো? আপনি শুরু
করুন।
রাসুল (সাঃ) কে ভালোবেসে আপনি যদি একই
ভাবে
আপনার স্ত্রীকেও ভালোবাসতে থাকেন, এর
চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না।

১২) সহধর্মিণীকে প্রিয় নামে ডাকুনঃ
আ'ইশাকে (রাঃ) নবী (সাঃ) আদর করে ডাকতেন
হুমায়রা বলে।
হুমায়রা অর্থ '‘লাল বর্ণের রমনী।”
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর আদর মাখা ডাক শুনে আয়শা (রাঃ)
কাছে আসতেন তাকে জড়িয়ে ধরতেন, এরপর
কবিতা পাঠ করে আল্লাহর রাসুলকে (সাঃ)
শোনাতেন।
এমনও হয়েছে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) একবার আয়শার
(রাঃ) দিকে তাকিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বলেন,
'‘তোমার চক্ষুদ্বয় কত্ত সাদা!”
প্রিয় সহধর্মিণীকে এমন ভালো অর্থবোধক
নামে ডাকতে পারেন, এতে একে অপরের প্রতি
ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।
একে অপরকে যতো বেশী কম্পলিমেন্ট
দেয়া যায়, ঠিক ততো একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
ধরে রাখতে সুবিধে হবে।

১৩) প্রিয় মানুষের জন্য নিজেকে সাজানঃ
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন,‘‘আমি যেমন আমার
জন্য
স্ত্রীর সাজগোজ কামনা করি, অনুরূপ তার জন্য
আমার নিজের সাজগোজও পছন্দ করি।’’
অর্থাৎ যাবতিয় সাজসজ্জা যেনো কেবল প্রিয়
মানুষকে খুশি করার জন্যই করা হয়, এতে পস্পরের
প্রতি আগ্রহ জন্মাবে এবং একে অপরকে আরো
অধিকভাবে কাছে টানতে পারবে।
আমাদের দেশের নারীরা তো এক্ষেত্রে
বলা
চলে স্বামীর সামনে ছেঁড়া পুরোনো কাপড়ই
পরিধান করে।
অথচ এক্ষেত্রে উচিত সবচেয়ে বেস্ট
পোশাক একে অপরের জন্য পরিধান করা।

১৪) সুগন্ধী ব্যবহার করাঃ
আয়শা (রাঃ) এর কাছে যেসব সুগন্ধি থাকত,
সেগুলো থেকে উত্তম সুগন্ধি হজরত আয়শা
(রাঃ)
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে লাগিয়ে দিতেন।
সুগন্ধী আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর প্রিয় ছিলো।
তাই স্বামীদের উচিত তাদের স্ত্রীদের
সম্মুখে সুগন্ধী ব্যবহার করা, এবং স্ত্রীদের
উচিত তাদের স্বামীদের সম্মুখে নিজেকে রঙ
দিয়ে সাজানো যা তাকে আকৃষ্ট করে।

১৫) বৈবাহিক সম্পর্কের গোপনীয়তা রক্ষা করাঃ
সাংসারিক সমস্যা নিয়ে অন্যদের সাথে আলোচনা না
করাই শ্রেয়।
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে উপভোগ্য বিষয়গুলো
গোপন করা।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, '‘কিয়ামতের দিন আল্লাহর
দরবারে সর্ব-নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে, যে নিজের
স্ত্রীর সাথে মিলিত হয় এবং যার সাথে তার স্ত্রী
মিলিত হয়, অতঃপর সে এর গোপনীয়তা প্রকাশ
করে বেড়ায়।’’
তাই এব্যাপারে খুব সতর্কতার সাথে ডিল করতে
হবে।
ভুলেও যেনো একে অপরের গোপনীয়
কথা
অন্যকে না বলা হয়।
আমাদের সমাজে অধিকাংশ বিয়ে ভেঙ্গে যায়
কেবল এই বিষয়ে অবহেলার কারনে।

১৬) স্ত্রীর পরিবার এবং আত্মীয়ের খবর নেয়াঃ
নবীজি (সাঃ) মাঝে মাঝে একটা ভেড়া জবাই করে
বলতেন, "এই ভেড়ার গোশত খাদিজার
বান্ধবীদের জন্য পাঠিয়ে দাও।" লক্ষ করুন,
নবীজি যে কেবল খাদিজার জীবিত অবস্থায় এমন
করেছেন তা নয় বরং তিনি তো খাদিজা (রাঃ) মারা যাবার
পরেও তার বান্ধবীদের সাথে সৌহার্দ্য বজায়
রেখেছেন।
এটা তিনি করতেন খাদিজার প্রতি ভালোবাসা থেকে।
আবু বকর (রাঃ) একবার বলছিলেন, আমি তিনটি বিষয় খুব
পছন্দ করি, এর মাঝে একটি হল, 'আমি মুহাম্মদের
শ্বশুর...' উক্ত কথা দ্বারা এটাই প্রমান করে আল্লাহর
রাসুল (সাঃ) শ্বশুর বাড়ির লোকেদের কেমম
মহব্বত
করতেন, এবং কতোটা আপন করে নিয়েছিলেন।
তাই স্বামীদের উচিত স্ত্রী পক্ষের
আত্মীয়ের এবং পরিবারের দেখাশোনা করা, এবং
স্ত্রীর উচিত স্বামীর পরিবারের এবং
আত্মীয়ের দেখভাল করা।
তবেই একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা বৃদ্ধি পাবে এবং
ভালোবাসা অটুট থাকবে।

উক্ত সুন্নাতি কাজগুলো যদি বিয়ের পুর্বে একজন
পুরুষ এবং নারী চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন,
তবে
বিয়ের পরবর্তী মুহূর্তগুলো কাটবে চমকপ্রদ।
আমৃত্যু সুকুনের সাথে বসবাস করে যেতে
পারবেন, যার শেষ গন্তব্য হবে আল-জান্নাত।
আল্লাহ আমাদের আমলগুলোকে আরো সুন্দর
করে দিক, এবং আমাদের মাঝে যারা অবিবাহিত তাদের
দ্রুত বিবাহ সম্পাদিত হওয়ার তাওফিক দিক।
.................................................................
কালেক্টেড।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka
1205