[] ফরজ নামাজবাদ হাত তুলে মুনাজাত সুন্নাত []
=================
মুনাজাতের ১২টি অবস্থা রয়েছে। এর প্রত্যেকটি অবস্থাই বিভিন্ন হাদীস দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। মুনাজাতের ১২টি অবস্থা হল-
১. নামাজবাদ মুনাজাত:
২. ফরজ নামাজবাদ মুনাজাত:
৩. সম্মিলিত মোনাজাত:
৪. ইমাম-মুক্তাদীর একত্রে সম্মিলিত মুনাজাত:
৫. হাত তুলে মুনাজাত:
৬. নামাজবাদ হাত তুলে মুনাজাত:
৭. সম্মিলিত হাত তুলে মুনাজাত:
৮. নামাজবাদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুনাজাত:
৯. ফরজ নামাজবাদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুনাজাত:
১০. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.)-এর হাত তুলে মুনাজাত:
১১. নামাজবাদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.)-এর হাত তুলে মুনাজাত:
১২. ফরয নামাজবাদ সম্মিলিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.)-এর হাত তুলে মুনাজাত:
_______________________________________________
এবাব বিস্তারিত-------
১. নামাজবাদ মুনাজাত:
________________________________________
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন-فَإِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْ
অর্থ: ‘অতএব যখনই আপনি অবসর পান, তখনই কঠোর সাধনায় রত হোন। [সূরা ইনশিরাহ, আয়াত- ৭] অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে কুরতুবীতে এসেছে-
قَوْله تَعَالَى : { فَإِذَا فَرَغْتَ } قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَقَتَادَةُ : فَإِذَا فَرَغْتَ مِنْ صَلَاتِك { فَانْصَب } أَيْ بَالِغٍ فِي الدُّعَاءِ وَسَلْه حَاجَتُك
অর্থ : ‘হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও কাতাদাহ (রা . ) বলেন- যখন আপনি নামাজ থেকে অবসর পাবেন , তখন দোআয় মনোনিবেশ করুন এবং আপনার প্রয়োজন আল্লাহর কাছে তলব করুন।’ [তাফসীরে কুরতুবী , সূরা ইনশিরাহ , আয়াত- ৭]
তাফসীরে জালালাইনে এসেছে-
تفسير الجلالين
" فَإِذَا فَرَغْت " مِنْ الصَّلَاة " فَانْصَبْ " اِتْعَبْ فِي الدُّعَاء
অর্থ : যখন আপনি নামাজ থেকে অবসর গ্রহণ করবেন , তখন আপনি দোআয় মনোনিবেশ করুন। [তাফসীরে জালালাইন , সূরা ইনশিরাহ , আয়াত- ৭]
الدر المنثور — جلال الدين السيوطي (٩١١ هـ)
﴿فَإِذَا فَرَغۡتَ فَٱنصَبۡ (٧) وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَٱرۡغَب (٨)﴾ [الشرح ٧-٨]
قَوْلُهُ تَعالى: ﴿فَإذا فَرَغْتَ فانْصَبْ﴾ الآيَةُ.
وأخْرَجَ عَبْدُ بْنُ حَمِيدٍ، وابْنُ جَرِيرٍ، وابْنُ المُنْذِرِ، وابْنُ أبِي حاتِمٍ، وابْنُ مَرْدُويَهَ مِن طُرُقٍ عَنِ ابْنِ عَبّاسٍ في قَوْلِهِ: ﴿فَإذا فَرَغْتَ فانْصَبْ﴾ الآيَةُ. قالَ: إذا فَرَغْتَ مِنَ الصَّلاةِ فانْصَبْ في الدُّعاءِ واسْألِ اللَّهَ وارْغَبْ إلَيْهِ.
مفاتيح الغيب — فخر الدين الرازي (٦٠٦ هـ)
﴿فَإِذَا فَرَغۡتَ فَٱنصَبۡ (٧) وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَٱرۡغَب (٨)﴾ [الشرح ٧-٨]
ثُمَّ قالَ تَعالى: ﴿فَإذا فَرَغْتَ فانْصَبْ﴾ وجْهُ تَعَلُّقِ هَذا بِما قَبْلَهُ أنَّهُ تَعالى لَمّا عَدَّدَ عَلَيْهِ نِعَمَهُ السّالِفَةَ، ووَعَدَهم بِالنِّعَمِ الآتِيَةِ، لا جَرَمَ بَعَثَهُ عَلى الشُّكْرِ والِاجْتِهادِ في العِبادَةِ، فَقالَ: ﴿فَإذا فَرَغْتَ فانْصَبْ﴾ أيْ فاتْعَبْ يُقالُ: نَصَبَ يَنْصِبُ، قالَ قَتادَةُ والضَّحّاكُ ومُقاتِلٌ: إذا فَرَغْتَ مِنَ الصَّلاةِ المَكْتُوبَةِ ﴿فانْصَبْ وإلى رَبِّكَ﴾ [الشَّرْحِ: ٧] في الدُّعاءِ وارْغَبْ إلَيْهِ في المَسْألَةِ يُعْطِكَ، وقالَ الشَّعْبِيُّ: إذا فَرَغْتَ مِنَ التَّشَهُّدِ فادْعُ لِدُنْياكَ وآخِرَتِكَ، وقالَ مُجاهِدٌ: إذا فَرَغْتَ مِن أمْرِ دُنْياكَ فانْصَبْ وصَلِّ، وقالَ عَبْدُ اللَّهِ: إذا فَرَغْتَ مِنَ الفَرائِضِ فانْصَبْ في قِيامِ اللَّيْلِ، وقالَ الحَسَنُ: إذا فَرَغْتَ مِنَ الغَزْوِ فاجْتَهِدْ في العِبادَةِ، وقالَ عَلِيُّ بْنُ أبِي طَلْحَةَ: إذا كُنْتَ صَحِيحًا فانْصَبْ، يَعْنِي اجْعَلْ فَراغَكَ نَصَبًا في العِبادَةِ يَدُلُّ عَلَيْهِ ما رُوِيَ أنْ شُرَيْحًا مَرَّ بِرَجُلَيْنِ يَتَصارَعانِ، فَقالَ: الفارِغُ ما أُمِرَ بِهَذا إنَّما قالَ اللَّهُ: ﴿فَإذا فَرَغْتَ فانْصَبْ﴾ وبِالجُمْلَةِ فالمَعْنى أنْ يُواصِلَ بَيْنَ بَعْضِ العِباداتِ وبَعْضٍ، وأنْ لا يُخَلِّيَ وقْتًا مِن أوْقاتِهِ مِنها، فَإذا فَرَغَ مِن عِبادَةٍ أتْبَعَها بِأُخْرى.
* * *
تفسير البيضاوي---البيضاوي (٦٨٥ هـ)
﴿فَإذا فَرَغْتَ﴾ مِنَ التَّبْلِيغِ. ﴿فانْصَبْ﴾ فاتْعَبْ في العِبادَةِ شُكْرًا لِما عَدَدْنا عَلَيْكَ مِنَ النِّعَمِ السّالِفَةِ وَوَعَدْناكَ مِنَ النِّعَمِ الآتِيَةِ. وقِيلَ: إذا فَرَغْتَ مِنَ الغَزْوِ فانْصَبْ في العِبادَةِ، أوْ فَإذا فَرَغْتَ مِنَ الصَّلاةِ فانْصَبْ بِالدُّعاءِ.
ইমাম জালালুদ্দিন মুহাল্লী (رحمة الله عليه) ও আল্লামা আহমদ ছাবী (رحمة الله عليه) স্ব স্ব তাফছিরের কিতাবে উল্লেখ করেন,
إِذَا فَرَغْت مِنْ الصَّلَاة {فَانْصَبْ} اِتْعَبْ فِي الدعاء
-“যখন নামাজ থেকে বের হবে দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ কর।”(তাফছিরে জালালাইন শরীফ, ৫০২ পৃঃ; তাফছিরে ছাবী, ৪র্থ খন্ড, ৫২৫ পৃঃ;)
প্রিয় নবীজি (ﷺ)’র আপন চাচাত ভাই ও র’ইছুল মুফাচ্ছেরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه)’র অভিমত,
قال ابن عباس: إذا فرغت من الصّلاة المكتوبة، فانصب إلى ربك في الدعاء،
-“হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) বলেন: যখন ফরজ নামাজ থেকে বের হবে, তখন রবের প্রতি দোয়া দ্বারা মনোনিবেশ কর।”(তাফছিরে রুহুল মায়ানী, ৩০তম জি: ৪৯৬ পৃঃ; তাফছিরে খাজিন শরীফ, ৪র্থ খন্ড, ৪৪৩ পৃঃ; তাফছিরে তাবারী শরীফ, ৩০তম জি: ২৫৭ পৃঃ; তাফছিরে নাসাফী, ৪র্থ জি: ৪৪৭ পৃঃ; তাফছিরে ইবনে কাছির, ৪র্থ খন্ড, ৬৪৪ পৃঃ;)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) ও কয়েকজন বিশিষ্ট তাবেঈগণের তাফছির লক্ষ্য করুন,
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَقَتَادَةُ، وَالضَّحَّاكُ، وَمُقَاتِلٌ، وَالْكَلْبِيُّ: فَإِذَا فَرَغْتَ مِنَ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ فَانْصَبْ إِلَى رَبِّكَ فِي الدُّعَاءِ
-“ফকিহ্ সাহাবী হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه), তাবেঈ কাতাদা, দ্বাহ্হাক, মুকাতিল ও কালবী (رضي الله عنه) বলেন: যখন ফরজ নামাজ থেকে বের হবেন তখন দোয়া দ্বারা প্রভূর প্রতি মনোনিবেশ কর।”(তাফছিরে মায়ালেমুত্তানজিল, ৫ম খন্ড, ৩৭৩ পৃঃ; তাফছিরে রুহুল বয়ান, ১০ম খন্ড, ৫৪২ পৃঃ; তাফছিরে মাজহারী, ১০ম খন্ড, ২৭১ পৃঃ; তাফছিরে কবীর, ৩২তম জি: ৮ পৃঃ; তাফছিরে কুরতবী শরীফ, ২০তম জি: ৮৩ পৃঃ;)
এ বিষয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তাফছির হচ্ছে,
فإذَا فرغتَ من صلاتِك فاجتهدْ في الدُّعاءِ
-“যখন নামাজ থেকে বের হবেন তখন দোয়ার দ্বারা চেষ্টা করুন।”(তাফছিরে আবু সাউদ, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৫৫৬ পৃঃ;)
হাফিজুল হাদিস, ইমাম আবু জাফর ইবনু জারির আত-তাবারী (رحمة الله عليه) {ওফাত ৩১০ হি.} উল্লেখ করেন,
فَإِذَا فَرَغْتَ مِنْ صَلَاتِكَ، فَانْصَبْ إِلَى رَبِّكَ فِي الدُّعَاءِ، وَسَلْهُ حَاجَاتِكَ
-“এর অর্থ হল: যখন তোমার নামাজ থেকে বের হবে তখন প্রভূর প্রতি দোয়া দ্বারা মনোনিবেশ কর ও তোমার হাজতের কথা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো।”(তাফছিরে তাবারী শরীফ, ৩০তম জি: ২৫৭ পৃঃ;)
এ আয়াতের তাফছিরে আল্লামা কাজী নাছিরুদ্দিন বায়জাবী (رحمة الله عليه) {ওফাত ৬৮৫ হিজরী} তদীয় কিতাবে বলেন
, فَإِذا فَرَغْتَ من الصلاة فانصب بالدعاء
(ফা
ইজা ফারাগতা মিন ছালাতি ফানছাব বিদ দোয়া) -“যখন নামাজ থেকে বের হবে তখন দোয়ায় মনোনিবেশ কর।”(তাফছিরে বায়দ্বাবী, ২য় জি: ৬৯৭ পৃঃ;)
এই আয়াতের তাফছিরে হাফিজুল হাদিস, ইমাম জালালুদ্দিন ছিয়তী (رحمة الله عليه) {ওফাত ৯১১ হিজরী} তদীয় কিতাবে উল্লেখ করেন,
عَن قَتَادَة فَإِذا فرغت فانصب قَالَ: إِذا فرغت من صَلَاتك فانصب فِي الدُّعَاء
-“হযরত কাতাদা (رحمة الله عليه) বলেন: যখন নামাজ হতে বের হবে তখন দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ কর।”(তাফছিরে দূর্রে মানছুর, ৬ষ্ঠ খন্ড, ৬৫৯ পৃঃ;)
قوله : ( فإذا فرغت فانصب وإلى ربك فارغب ) أي : إذا فرغت من أمور الدنيا وأشغالها وقطعت علائقها ، فانصب في العبادة ، وقم إليها نشيطا فارغ البال ، وأخلص لربك النية والرغبة . ومن هذا القبيل قوله صلى الله عليه وسلم في الحديث المتفق على صحته : " لا صلاة بحضرة طعام ، ولا وهو يدافعه الأخبثان " وقوله صلى الله عليه وسلم : " إذا أقيمت الصلاة وحضر العشاء ، فابدءوا بالعشاء " .
قال مجاهد في هذه الآية : إذا فرغت من أمر الدنيا فقمت إلى الصلاة ، فانصب لربك . وفي رواية عنه : إذا قمت إلى الصلاة فانصب في حاجتك ، وعن ابن مسعود : إذا فرغت من الفرائض فانصب في قيام الليل . وعن ابن عياض نحوه . وفي رواية عن ابن مسعود : ( فانصب وإلى ربك فارغب ) بعد فراغك من الصلاة وأنت جالس .
وقال علي بن أبي طلحة عن ابن عباس : ( فإذا فرغت فانصب ) يعني : في الدعاء .
وقال زيد بن أسلم والضحاك : ( فإذا فرغت ) أي : من الجهاد ( فانصب ) أي : في العبادة . ( وإلى ربك فارغب ) قال الثوري : اجعل نيتك ورغبتك إلى الله عز وجل .
تفسير ابن كثير
সুতরাং পবিত্র কোরআনের এই আয়াতের নির্ভরযোগ্য তাফছিরসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়, ফরজ নামাজের পর দোয়া করা বা দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ করা স্বয়ং আল্লাহ পাকের নির্দেশ। বিশিষ্ট সাহাবী র’ইছুল মুফাচ্ছেরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه)সহ হযরত কাতাদা, মুকাতিল, দ্বাহ্হাক, কালবী (رضي الله عنه) প্রমূখ তাবেঈগণ ফরজ নামাজের পর দোয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাই সাধারণ নিম মোল্লাদের কথা বাদ দিয়ে সাহাবী ও তাবেঈগণের পথে চলাই মু’মীন লোকের কাজ। অতএব, ফরজ নামাজের পর দোয়া অস্বীকার করার কোন রাস্তা নেই, যেহেতু বিষয়টি পবিত্র কোরআন দ্বারা প্রমাণিত।
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে-
١٣٠٣ - أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ حَيْوَةَ يُحَدِّثُ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ الصُّنَابِحِيّ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: أَخَذَ بِيَدِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «إِنِّي لَأُحِبُّكَ يَا مُعَاذُ»، فَقُلْتُ: وَأَنَا أُحِبُّكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فَلَا تَدَعْ أَنْ تَقُولَ فِي كُلِّ صَلَاةٍ: رَبِّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ "
[حكم الألباني] صحيح
অর্থ: ‘হযরত মু’আজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত ধরলেন, আর বললেন, হে মু’আজ, আমি অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসি। হযরত মু’আজ (রা.) আরজ করলেন, (ইয়া রাসুলাল্লাহ!) আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক। আমিও আপনাকে অত্যধিক ভালোবাসি। অতঃপর হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে মু’আজ! আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যে প্রত্যেক নামাজের পর এ দোআ করবে, কখনো বাদ দেবে না: ‘হে আল্লাহ্! আপনার জিকির, আপনার শোকর এবং সুষ্ঠুভাবে আপনার ইবাদত করার ব্যাপারে আপনি আমাকে সাহায্য করুন’। [সুনানে নাসায়ী, হাদীস- ১২২৬]
١٢ - كِتَابُ التَّطْبِيقِ
نَوْعٌ آخَرُ مِنَ الدُّعَاءِ
২. ফরজ নামাজবাদ মুনাজাত:
____________________________________________
٣٤٩٩ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى الثَّقَفِيُّ الْمَرْوَزِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، قَالَ: قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ: أَيُّ الدُّعَاءِ أَسْمَعُ؟ قَالَ: جَوْفَ اللَّيْلِ الآخِرِ، وَدُبُرَ الصَّلَوَاتِ الْمَكْتُوبَاتِ.
অর্থ: ‘হযরত আবূ উমামা (রা:) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন সময়ে দুয়া কবুল হওয়ার বেশী সম্ভাবনা? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন, ‘শেষ রাতে এবং ফরয নামাযের পরে।’ [তিরমিযী শরীফ, ২ : ১৮৭, হাদীস নং ৩৪২১]
٤٥ - أَبْوَابُ الدَّعَوَاتِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
শিক্ষা: এ হাদীস থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, ফরজ নামায শেষে মুনাজাত করা হলে তা কবূল হয়।
ফরজ নামাজবাদ মুনাজাত প্রসঙ্গে সূরা ইনশিরাহ-এর ৭নং আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে মাজহারীতে এসেছে-
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَقَتَادَةُ وَالضَّحَّاكُ وَمُقَاتِل وَالْكَلْبِيّ إذَا فَرَغَتْ مِنْ الصَّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ أَوْ مُطْلَقُ الصَّلَاةِ فَانْصَبْ إِلَى رَبِّكَ فِى الدُّعَاءِ وَأَرْغَبُ إلَيْهِ فِى الْمَسْأَلَة
অর্থ : ‘হযরত ইবনে আব্বাস (রা . ) কাতাদাহ , দ্বাহ্হাক , মুকাতিল ও কালবী (রহ . ) বলেন , যখন তুমি ফরজ নামাজ অথবা সাধারণ যে কোন নামাজ হতে অবসর হবে , তখন তুমি দোআয় আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করো এবং প্রার্থনায় আগ্রহ প্রকাশ করো। [তাফসীরে মাজহারী , ১০/২৯৪]
৩ . সম্মিলিত মোনাজাত : __________________________________________
عَنْ حَبِيبِ بْنِ مَسْلَمَةَ الْفِهْرِيِّ قَالَ لِلنَّاسِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّم يَقُول : لَا يَجْتَمِعُ مِلْء فَيَدْعُو بَعْضُهُم وَيُؤَمِّن سَائِرُهُم إلَّا أَجَابَهُم اللَّهِ ثُمَّ إنَّهُ حَمْدٌ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ فَقَالَ : اللَّهُمّ احْقِن دِمَاءَنَا وَاجْعَل أجورنا أُجُور الشُّهَدَاء
অর্থ: ‘হযরত হাবীব ইবনে মাসলামা আল-ফাহরী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি মানুষদের উদ্দেশ্যে বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন- কোন সম্প্রদায় একত্র হয়ে যখন তাদের কতিপয় লোক দোআ করে এবং বাকী সকলে আমীন আমীন বলে, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের দোআ কবুল করেন। অতপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.) আল্লাহর প্রসংশা ও গুণকীর্তন করলেন, এরপর বললেন- হে আল্লাহ! আমাদের রক্তকে নিবৃত্ত করে দাও এবং আমাদের প্রতিদানকে শহীদগণের প্রতিদানের ন্যায় করে দাও।’ [মুজামুল কাবীর, হাদীস- ৩৫৩৬]
শিক্ষা: এ হাদীস থেকে সম্মিলিত মুনাজাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।
৪. ইমাম-মুক্তাদীর একত্রে সম্মিলিত মুনাজাত:
_____________________________________________
٢٦٥ - بَابُ مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ أَنْ يَخُصَّ الإِمَامُ نَفْسَهُ بِالدُّعَاءِ
٣٥٧ - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ قَالَ: حَدَّثَنِي حَبِيبُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ شُرَيْحٍ، عَنْ أَبِي حَيٍّ الْمُؤَذِّنِ الحِمْصِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ يَحِلُّ لاِمْرِئٍ أَنْ يَنْظُرَ فِي جَوْفِ بَيْتِ امْرِئٍ حَتَّى يَسْتَأْذِنَ، فَإِنْ نَظَرَ فَقَدْ دَخَلَ، وَلاَ يَؤُمَّ قَوْمًا فَيَخُصَّ نَفْسَهُ بِدَعْوَةٍ دُونَهُمْ، فَإِنْ فَعَلَ فَقَدْ خَانَهُمْ، وَلاَ يَقُومُ إِلَى الصَّلاَةِ وَهُوَ حَقِنٌ.
অর্থ: ‘হযরত সাওবান (রা:) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তির জন্য উচিত নয় অন্য কারোর ঘরের ভিতরে তাকানো তাদের থেকে অনুমতি নেওয়ার আগে। যদি সে (অনুমতি নেওয়ার আগে) তাকায়, তাহলে সে খেয়ানত করলো। কোন ব্যক্তি লোকদের ইমাম হয়ে এমন হবে না যে, সে তাদেরকে বাদ দিয়ে দোয়াতে শুধু নিজের জন্যই দোয়া করবে। যদি এরূপ করে, তাহলে সে তাদের সাথে খেয়ানত করল।’ [তিরমিযী শরীফ ১/৮২, হাদীস নং-৩২৫]
শিক্ষা: এ হাদীস থেকে বোঝা যায় যে, ইমাম যখন দোআ করবে তখন মুক্তাদীদেরকে সাথে নিয়ে দোআ করবে। এরূপ না করে যদি সে একা একা দোআ করে, তাহলে সে যেন খেয়ানত করল।
৫. হাত তুলে মুনাজাত:
___________________________________________
٣٥٥٦ - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، قَالَ: أََخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ مَيْمُونٍ، صَاحِبُ الأَنْمَاطِ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ سَلْمَانَ الفَارِسِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ اللَّهَ حَيِيٌّ كَرِيمٌ يَسْتَحْيِي إِذَا رَفَعَ الرَّجُلُ إِلَيْهِ يَدَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا خَائِبَتَيْنِ.
هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَرَوَاهُ بَعْضُهُمْ وَلَمْ يَرْفَعْهُ.
٤٥ - أَبْوَابُ الدَّعَوَاتِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: ‘হযরত সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বড় দয়ালু দাতা। যখন বান্দা তাঁর কাছে দোয়ায় হাত উঠায়, তখন তিনি তা খালি ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন। [তিরমিযী শরীফ, ২/১৯৫, হাদীস নং-৩৪৭৯]
শিক্ষা: এ হাদীস থেকে বোঝা যাচ্ছে, হাত তুলে মুনাজাত করলে তা কবূলের সম্ভাবনা বেশি।
عَنْ مَالِكِ بْنِ يَسَارٍ السَّكُونِىِّ ثُمَّ الْعَوْفِىِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- قَالَ إِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ بِبُطُونِ أَكُفِّكُمْ وَلاَ تَسْأَلُوهُ بِظُهُورِهَا .
١٤٨٦ - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْبَهْرَانِيُّ، قَالَ: قَرَأْتُهُ فِي أَصْلِ إِسْمَاعِيلَ يَعْنِي ابْنَ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنِي ضَمْضَمٌ، عَنْ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنَا أَبُو ظَبْيَةَ، أَنَّ أَبَا بَحْرِيَّةَ السَّكُونِيَّ، حَدَّثَهُ عَنْ مَالِكِ بْنِ يَسَارٍ السَّكُونِيِّ ثُمَّ الْعَوْفِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَاسْأَلُوهُ بِبُطُونِ أَكُفِّكُمْ، وَلَا تَسْأَلُوهُ بِظُهُورِهَا»، قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَقَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ: «لَهُ عِنْدَنَا صُحْبَةٌ - يَعْنِي مَالِكَ بْنَ يَسَارٍ»
[حكم الألباني] : حسن صحيح
অর্থ: ‘হযরত মালেক ইবনে ইয়াসার আস-সাকুনী (রা.) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.) বলেন- যখন তোমরা আল্লাহর কাছে কোন কিছু চাইবে, তখন তোমরা তোমাদের হাতের তালুর পেট দিয়ে চাইবে; এবং তোমরা তোমাদের হাতের তালুর পিট দিয়ে চাইবে না। [সুনানে আবু দাউদ, ১/২০৯, হাদীস নং ১৪৮৮]
١٤٨٧ - حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُكْرَمٍ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ قُتَيْبَةَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ نَبْهَانَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو هَكَذَا بِبَاطِنِ كَفَّيْهِ، وَظَاهِرِهِمَا»
আবু দাউদ, ১/২০৯, হাদীস নং ١٤٨٧
١٤٨٨ - حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا عِيسَى يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ يَعْنِي ابْنَ مَيْمُونٍ، صَاحِبَ الْأَنْمَاطِ، حَدَّثَنِي أَبُو عُثْمَانَ، عَنْ سَلْمَانَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ رَبَّكُمْ تَبَارَكَ وَتَعَالَى حَيِيٌّ كَرِيمٌ، يَسْتَحْيِي مِنْ عَبْدِهِ إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ إِلَيْهِ، أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا»
[حكم الألباني] : صحيح
আবু দাউদ, ১/২০৯, হাদীস নং١٤٨٨
৬. নামাজবাদ হাত তুলে মুনাজাত:
_________________________________________
عَنْ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلاةُ مَثْنَى مَثْنَى تَشَهَّدُ فِي كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَتَخَشَّعُ وَتَضَرَّعُ وَتَمَسْكَنُ وَتَذَرَّعُ وَتُقْنِعُ يَدَيْكَ يَقُولُ تَرْفَعُهُمَا اِلَى رَبِّكَ مُسْتَقْبِلًا بِبُطُونِهِمَا وَجْهَكَ وَتَقُولُ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَنْ لَمْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَهُوَ كَذَا وَكَذَا،
অর্থ: ‘হযরত ফযল ইবনে আব্বাস (রা:) থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, নামায দুই রাকাত; প্রত্যেক দুই রাকাতে আত্ত্যাহিয়্যাতু পাঠ করতে হয়। ভয়-ভক্তি সহকারে কাতরতা ও বিনীতভাবে নামায আদায় করতে হয়। আর (নামায শেষে) দুই হাত তুলবে এভাবে যে, উভয় হাত আল্লাহ তাআলার দিকে উঠাবে এবং চেহারা কিবলামুখী করবে। অতপর বলবে, হে আল্লাহ! হে আল্লাহ ! (এভাবে দোয়া করবে।) যে ব্যক্তি এরূপ করবে না, সে অসম্পূর্ণ নামাযী। [তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং-৩৫১]
শিক্ষা: এ হাদীস থেকে বোঝা যায় যে, নামাজের পর হাত তুলে মুনাজাত না করলে সে নামাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
৭. সম্মিলিত হাত তুলে মুনাজাত:
____________________________________________
عَنْ سَلْمَانَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:"مَا رَفَعَ قَوْمٌ اَكُفَّهُمْ اِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يَسْاَلُونَهُ شَيْئًا، اِلا كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ اَنْ يَضَعَ فِي اَيْدِيهِمُ الَّذِي سَاَلُوهُ".
অর্থ: ‘হযরত সালমান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন কিছু লোক হাত তুলে আল্লাহ তাআলার কাছে চায়, তখন আল্লাহ তাআলার কাছে (তাদের) হক হয়ে যায় যে, আল্লাহ তাআলা তাদের হাতে তাদের চাওয়ার জিনিস দান করেন। [মুজামুল কাবীর লিত ত্ববরানী-৬০১৯, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/১৬৯]
শিক্ষা: এ হাদীস থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, কিছু মানুষ যখন আল্লাহর দরবারে হাত তুলে মুনাজাত করেন, তখন তা কবূল হওয়ার অধিক সম্ভাবনা থাকে।
৮. নামাজবাদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.)-এর মুনাজাত:
_____________________________________________
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّم رَفَعَ رَأْسَهُ بَعْدَ مَا سَلَّمَ وَهُوَ مُسْتَقْبِلُ الْقِبْلَةِ فَقَالَ : اللَّهُمّ خَلَص سَلَمَةَ بْنِ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنُ أَبِي رَبِيعَةَ وَالْوَلِيدَ بْنُ الْوَلِيدِ وَضَعَّفَه الْمُسْلِمِينَ الَّذِينَ لَا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةً وَلاَ يَهْتَدُونَ سَبِيلاً
অর্থ : ‘হযরত আবু হুরায়রা (রা . ) হতে বর্ণিত , নিশ্চয়ই হযরত রাসূলুল্লাহ (সা . ) সালাম ফিরানোর পর কিবলামুখী হয়ে মাথা উঁচু করে দোআ করতেন , অতপর বলতেন- হে আল্লাহ ! মুক্তি দান করুন সালামা ইবনে হিশাম , আইয়াশ ইবনে আবি রাবিআ , ওয়ালিদ ইবনে ওয়ালিদ এবং দুর্বল মুসলমানদেরকে যারা কৌশল অবলম্বন করতে সক্ষম নয় এবং সঠিক পথ প্রাপ্ত হয় না। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ , হাদীস- ১৭২৩৭ , মুসনাদে বায্যার , হাদীস- ৭৮৪৫]
শিক্ষা : এ হাদীস থেকে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম . )-এর নামাজবাদ মুনাজাত প্রমাণ পাওয়া যায়।
৯ . ফরজ নামাজবাদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম . )-এর মুনাজাত :
_____________________________________________
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ مَقَامِي بَيْنَ كَتِفِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّم فَكَانَ إذَا سَلَّمَ قَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْ خَيْرٌ عُمْرِي آخِرِهِ اللَّهُمَّ اجْعَلْ خَوَاتِيم عَمَلِي رِضْوَانِك اللَّهُمَّ اجْعَلْ خَيْرٌ أَيَّامِي يَوْمَ أَلْقَاكَ
অর্থ: ‘হযরত আনাস বিন মালেক (রা.) বলেন, (নামাজে) আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বরাবর পেছনে দাঁড়াতাম। তিনি যখন সালাম ফিরাতেন, বলতেন; হে আল্লাহ্! আমার জীবনের শেষ অংশটি উত্তম করে দিন। হে আল্লাহ্! আমার শেষ আমল আপনার সন্তুষ্টি দ্বারা সমৃদ্ধ করুন। হে আল্লাহ্! আমার দিবসগুলোর মধ্যে ওই দিবসকে উত্তম করুন, যে দিবসে আমি আপনার সাথে মিলিত হবো। [তাবরানী, আল মু’জামুল আওসাত, হাদীস- ৯৪১১]
শিক্ষা: এ হাদীস থেকে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.)-এর ফরজ নামাজ বাদ মুনাজাতের প্রমাণ পাওয়া যায়।
১০. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.)-এর হাত তুলে মুনাজাত:
٦٣٤٠ - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يُسْتَجَابُ لِأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ، يَقُولُ: دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي "
_____________________________________________
وَقَالَ أَبُو مُوسَى الأَشْعَرِيُّ: «دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ رَفَعَ يَدَيْهِ، وَرَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ» وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: رَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ وَقَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَبْرَأُ إِلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ خَالِدٌ»
অর্থ : ‘হযরত আবু মুসা আশ’আরী (রা . ) বলেন , রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোআ করলেন , আর নিজের দুই হাত উত্তোলন করলেন ; এমনকি আমি তাঁর উভয় বাহু মূলের শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করেছি। [সহীহ আল-বুখারী , কিতাবুদ্ দাওয়াত , হাদীস- ২৩৩৫]
بَابُ رَفْعِ الأَيْدِي فِي الدُّعَاءِ
٦٣٤١ - قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَالَ الأُوَيْسِيُّ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، وَشَرِيكٍ: سَمِعَا أَنَسًا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «رَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ»
অর্থ : ‘হযরত আনাস (রা . ) বলেন , নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোআর উদ্দেশ্যে হাত তুলেছেন , এমনকি আমি তাঁর উভয় বাহুমুলের শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করেছি। [সহীহ আল বুখারী , কিতাবুদ দাওয়াত , হাদীস- ২৩৩৫]
٣٣٨٦ - حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ يَعْقُوبَ، وَغَيْرُ وَاحِدٍ قَالُوا: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ عِيسَى الجُهَنِيُّ، عَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ الجُمَحِيِّ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَفَعَ يَدَيْهِ فِي الدُّعَاءِ، لَمْ يَحُطَّهُمَا حَتَّى يَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى فِي حَدِيثِهِ: لَمْ يَرُدَّهُمَا حَتَّى يَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَهُ.
অর্থ: ‘হযরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দোআর জন্য হাত তুলতেন, তা নিজের চেহারা মুবারকে বুলিয়ে নেওয়ার পূর্বে নামিয়ে নিতেন না। [সুনানে তিরমিজী, কিতাবুদ দাওয়াত, হাদিস- ৩৩৮৬]
٤٥ - أَبْوَابُ الدَّعَوَاتِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
١١ - بَاب مَا جَاءَ فِي رَفْعِ الأَيْدِي عِنْدَ الدُّعَاءِ
শিক্ষা: উপরোক্ত হাদিস শরীফসমূহ দ্বারা দোআর সময় হাত উঠানো ও মুখে মাসেহ করা সুন্নত বলে প্রমাণিত। এ ছাড়াও অনেক হাদীস ও ফকীহবৃন্দের উদ্ধৃতি বিদ্যমান। কিন্তু জ্ঞানীদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট বলে মনে করি।
১১. নামাজবাদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাত তুলে মুনাজাত:
_____________________________________________
عَنْ مُحَمَّدُ بن اَبِي يَحْيَى، قَالَ: رَأْيَتُ عَبْدَ اللَّهِ بن الزُّبَيْرِ، وَرَاَى رَجُلًا رَافِعًا يَدَيْهِ يَدْعُو قَبْلَ اَنْ يَفْرَغَ مِنْ صَلاتِهِ، فَلَمَّا فَرَغَ مِنْهَا، قَالَ:" اِنَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يَرْفَعُ يَدَيْهِ، حَتَّى يَفْرَغَ مِنْ صَلاتِهِ"
অর্থ: ‘হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আবু ইয়াহইয়া (রহ.) বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.)-কে দেখলাম যে, তিনি একজন নামাজীকে দেখলেন, সে নামাজ শেষ করার আগেই হাত তুলে দোয়া করছেন। তখন তিনি তাকে বললেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ শেষ হওয়ার আগে হাত তুলে দোয়া করতেন না। [মাজমাউয যাওয়াইদ-১০/১৬৯, আলমুজামুল কাবীর তাবারানী, হাদীস নং ৯০]
শিক্ষা: এ হাদীস থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.) নামাযের পর হাত তুলে মুনাজাত করতেন।
১২. ফরয নামাজবাদ সম্মিলিত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.)-এর হাত তুলে মুনাজাত:
________________________________________________
عَنْ جَابِرٍ بْنِ يَزِيْدٍ الاَسْوَدِ الْعَامِرِيِّ عَنْ اَبِيْه قَالَ : صَلَّيْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْفَجْرَ فَلَمَّا سَلَّمَ اِنْحَرَفَ وَ رَفَعَ يَدَيْهِ وَدَعَا .
অর্থ: ‘হযরত জাবের ইবনে ইয়াযিদ আল আসওয়াদ আল-আমেরী (রা.) তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ফজরের নামাজ পড়লাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম ফিরিয়ে ঘুরে বসলেন এবং দুই হাত তুলে দোয়া করলেন। [মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা-১/৩৩৭]
ابو داؤد-جلد-١-صفحة-٢٠٩حديث--١٤٧٩
١٤٧٩ - حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ ذَرٍّ، عَنْ يُسَيْعٍ الْحَضْرَمِيِّ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " [ص: ٧٧] الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ، {قَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} [غافر: ٦٠] "
[حكم الألباني] : صحيح
শিক্ষা: এ হাদীস থেকে বোঝা যায় যে, হযরত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম.) ফরজ নামাজবাদ সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করেছেন।
পক্ষান্তরে যারা ফরজ নামাজবাদ সম্মিলিত হাত তুলে মুনাজাতকে বিদয়াত বা নাজায়েয বলে থাকেন, তারা কিন্তু ফরজ নামাজবাদ সম্মিলিত মুনাজাতের নিষেধের পক্ষে কোন হাদীস দেখাতে পারেননি। সুতরাং মুনাজাতের স্বপক্ষে এত হাদীস থাকতে তারা কিভাবে বিষয়টিকে নাজায়েয বা বিদয়াত বলে। কিভাবে তারা সপ্রমাণিত বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে যায়, তা আমাদের বোধগম্য নয়।
Hok Kotha-হক কথা
قال لله تعال "جاء الحق وزهق الباطل"
★★★নবী প্রেমই ঈমানের মূল★★★
Islam is the complete code of life. সত্য সন্ধানে শান্তির পথে প্রতিদিন।
اَلسَلامُ عَلَيْكُم وَرَحْمَةُ اَللهِ وَبَرَكاتُهُ
ইকামতের সময় কখন দাঁড়ানো সুন্নত ۔۔۔۔۔۔۔۔۔۔
--নামাজের জন্য দাঁড়ানোর প্রকৃত সুন্নাত সময় কোনটি বর্তমান মানুষের তা অজানা থেকে যাচ্ছেন এবং মহান সুন্নাত বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে একশ্রেণীর আলেমরা প্রকাশ করছেন না তাই নামাজের জন্য একামত চলাকালে দাঁড়ানোর প্রকৃত সুন্নাত সময় সর্বস্তরের মানুষকে জানা নোর ও আমলের আহ্বান জানিয়ে ক্ষুদ্রাকারে এটি প্রকাশ করা হলো আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন।
১।দয়াল নবীজি ﷺ এর আমল
عَن أنس قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: سَوُّوا صُفُوفَكُمْ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصُّفُوفِ مِنْ إِقَامَةِ الصَّلَاةِ . إِلَّا أَنَّ عِنْدَ مُسْلِمٍ: مِنْ تَمَامِ الصَّلَاةِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
১০৮৭-[৩] উক্ত রাবী [আনাস (রাঃ)] থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের সলাতের কাতার ঠিক করে নাও। কারণ সলাতের কাতার সোজা করা নামাজ) ক্বায়িম করার অন্তর্ভুক্ত। সহীহ : বুখারী ৭২৩, মুসলিম ৪৩৩।
হাদীস শরীফে কাতার সোজা করার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে এছাড়া অন্য হাদীস শরীফে আরো বিভিন্ন ভাবে কাতার সোজা করার ব্যাপারে জোর তাগিদ এসেছে সবগুলো হাদিসের সমন্বয় সাধন করে ফুকাহায়ে কেরাম কাতার সোজা করা কে সুন্নতে মুয়াক্কাদা বলেছেন। বর্তমানে কেউ এটাকে ওয়াজিব মনে করেন এটা ভুল ধারণা। দ্বিতীয় খন্ড ৭২৪ হাদিসের ব্যাখ্যা ৩৪
তাকবীরে তাহরীমা বলার পূর্বে কাতার সোজা করতে হয় কাতার সোজা করার জন্য মুক্তাদি ইমাম কখন দাঁড়াবে ইকামত শুরুর পূর্বে না পড়ে এ বিষয়ে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে নবী ﷺ কোন সাহাবী ও তাঁর দাবি বিষয়ে অত্যন্ত সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।
নবীজি ﷺ স্বয়ং যে আমল করতেন۔
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي رَجَاءٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ: حَدَّثَنَا زَائِدَةُ بْنُ قُدَامَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ حَدَّثَنَا أَنَسٌ قَالَ:"أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ -ﷺ بِوَجْهِهِ فَقَالَ: أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا، فَإِنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي".بَابُ تَسْوِيَةِ الصَّفِّ
২۔অর্থাৎঃ- খাদেমে রাসূল হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "নামাযের ইকামত হয়ে গেছে। অতঃপর প্রিয় রাসূল [ﷺ] আমাদের দিকে সামনা-সামনি হয়ে ফিরে গেলেন এবং বললেনঃ- তোমাদের কাতার বা লাইনসমূহ সোজা কর এবং একে অন্যের সাথে লাগিয়ে মিলিয়ে দাঁড়াও। কেননা নিশ্চয়ই আমি আমার পিছনের দিক থেকেও তোমাদেরকে দেখতে পাই।" [বুখারী শরীফ; ১ম খন্ড, পৃ.১০০, হাদীস: ৭১৯]→[1] সহীহ : বুখারী ৭১৮, ৭১৯, মুসলিম ৪৩৪।
٧٢ - باب إِقْبَالِ الإِمَامِ عَلَى النَّاسِ عِنْدَ تَسْوِيَةِ الصُّفُوفِ. طرفاه ٧١٨، ٧٢٥ - تحفة ٦٥٨
হাদীস নং ৬৮৭ প্রথম খন্ড হাদিস ,১০০ পৃষ্ঠা হতে প্রমাণিত হয় ইকামত হওয়ার পর কাতার সোজা করা সুন্নাতে রাসূল ﷺ
৩।অনুরুপ হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আরও বর্ণনা করেন নামাজের একামত হওয়ার পর তাকবীরে তাহরীমা বলার আগে রাসূল ﷺ তাঁর চেহারা মোবারক ফিরিয়ে বললেন তোমরা তোমাদের কাতারকে সুজা করো এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াও কেন না নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে আমার পিছন দিক হতে দেখি তিনি বলেন অতঃপর আমি দেখলাম ব্যক্তি নামাজে দাঁড়ানোর সময় তার কাঁধ ভাইয়ের কাঁধে মিলাদ শরীফ হাদিস নং ২১২১, ২৩৮১এ হাদীসে পাকেও প্রমাণিত হয় ইকামতের পরে কাতার সোজা করার সুন্নাতে নববী।
৪।হযরত উম্মে হাবিবা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন
أَبُو الشَّيْخِ فِي الأذان) . ٢٣٢٧٣ يُو أيضاً هُوَ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ ِﷺ كَانَ فِي بَيْتِهَا فَسَمِع الْمُؤَذِّن فَقَالَ كَمَا يَقُولُ فَلَمَّا قَالَ
حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ نَهَضَ رَسُولُ اللَّهِ إِلَيَّ الصَّلَاة كَنْزِ الْعُمَّالِ - ج 8 الْمُصَنِّف لِعَبْد الرَّزَّاق - ج 1 - 1 - 2244
. . أُمَّ حَبِيبَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ فِي بَيْتِهَا فَسَمِع المؤذّن فَقَالَ كَمَا يَقُولُ ، فَلَمَّا قَالَ : حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ ، نَهَضَ رَسُولُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ [ إلَى الصَّلَاةِ ]
নিশ্চয়ই রাসূল ﷺ তাঁর হুজরা শরীফে ছিলেন তিনি মুয়াজ্জিনের একামত শুনে তার জবাব দিলেন ।অতঃপর যখন বললেন _حي علي الصلاةতখন রাসূল ﷺ নামাজের জন্য উঠে দাঁড়ালেন মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ১৮৫১ইমাম আব্দুর রাজ্জাক উক্ত হাদীস দ্বারা ইকামতের সময় দাঁড়ানোর অর্থ গ্রহণ করেছেন তাছাড়া মোয়াজ্জিনের আওয়াজ শুনে নামাজের জন্য দাঁড়ানো হয় ইকামতের সময় আজানের সময় নয় তাই এখানে অন্য কোন আপত্তি চলবেনা। হাদিসে প্রমাণিত হয় যে নবীজী ﷺবলার সময় নামাজের জন্য দাঁড়াতেন।
সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম গণ এর আমল--
فتح الباري لابن حجر - (2 / 451)وَعَنْ أَنَس أَنَّهُ كَانَ يَقُوم إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّن " قَدْ قَامَتْ الصَّلَاة " رَوَاهُ اِبْن الْمُنْذِرِ وَغَيْره ، وَكَذَا رَوَاهُ سَعِيد بْن مَنْصُور مِنْ طَرِيق أَبِي إِسْحَاق عَنْ أَصْحَاب عَبْد اللَّه" انتهى
১।হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত বর্ণনা করেন হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত মোয়াজ্জেন যখন বলতেন قد قامت الصلاة
তখন তিনি দাঁড়াতেন।
২।এবং অনুরূপ বর্ণনা ইমাম আবু ইসহাক হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণনা করেছেন হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন সুনানুল কুবরা হাদীস নং ২১২০
الْكُتُب - الْمُصَنِّف - كِتَابِ الصَّلَاةِ - بَابُ قِيَامِ النَّاسِ عِنْدَ الإقامة- الْجُزْء رقم1
1937 عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ حُسَيْنِ بْنُ عَلِيٍّ بْنُ . . . يَوْمَئِذٍ بَيْنَ الرُّكْنِ وَزَمْزَم فَأَقَامَ الْمُؤَذِّنُ بِالصَّلاةِ ، فَلَمَّا قَالَ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ ، قَام حُسَيْن
৩।হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবি ইয়াজিদ হযরত হুসাইন বিন আলী রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন ,তিনি বলেন আমি ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জমজমের হাউসে দেখেছি। যেখানে হাজীগণ পানি পান করেন তখন ও জমজমের মাঝামাঝি। মুয়াজ্জিন নামাজের ইকামত শুরু করলেন। যখন তিনি কামাতিস সালাহ বললেন তখন ইমাম হুসাইন রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর দাড়ালেন মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ১৯৩৭ সুনানে বায়হাকী হাদিস নং ২৩৮০
مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ عَطِيَّةَ قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ فَلَمَّا أَخَذَ المؤذّن فِى الْإِقَامَة قُمنا ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ : اجْلِسُوا فَإِذَا قَالَ : قَدْ قَامَتْ « الصَّلَاة فَقُومُوا )" .
الْكُتُب - مُصَنَّفِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ - كِتَابُ الصَّلاةِ - بَابُ قِيَامِ النَّاسِ عِنْدَ الْإِقَامَةِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنُ عُبَيْدِ الله" عَنْ عَطِيَّةَ قَالَ : إذَا أَخَذَ الْمُؤَذِّنُ فِي الْإِقَامَةِ , أَن . . . قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ ابْنِ عُمَرَ , فَلَمَّا أَخَذَ الْمُؤَذِّنُ فِي الإِقَامَةِ قُمْنَا ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ : " اجْلِسُوا , فَإِذَا . . . قَال : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ فَقُومُوا جَمْعِ الْجَوَامِعِ 1-15 الْجَامِعِ الْكَبِيرِ فِي الْحَدِيثِ وَالْجَامِعِ الصَّغِيرِ وَزَوَائِدِه ج15
جَلَالُ الدِّينِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بكر/السيوطي ·· الْمُصَنِّف لِعَبْد الرَّزَّاق - ج 1 - 1 - 2244
৪।হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হযরত হাতিয়াহ হতে বর্ণিত তিনি বলেন আমরা হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর এর নিকটে বসা ছিলাম ।অতঃপর যখন মোয়াজ্জিনের শুরু করলেন। তখন আমরা দাঁড়ালাম যখন ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন তোমরা বসো ।যখন তিনি_قد قامت الصلاة
বলবেনঃ তোমরা দাঁড়াও। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদিস নং হা ১৯৪০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُسَوِّي صُفُوفَنَا، فَخَرَجَ يَوْمًا فَرَأَى رَجُلاً خَارِجًا صَدْرُهُ عَنِ القَوْمِ، فَقَالَ: لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللَّهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ.
وَفِي البَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، وَالبَرَاءِ، وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ، وَأَنَسٍ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَائِشَةَ.حَدِيثُ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ: مِنْ تَمَامِ الصَّلاَةِ إِقَامَةُ الصَّفِّ.وَرُوِيَ عَنْ عُمَرَ: أَنَّهُ كَانَ يُوَكِّلُ رِجَالاً بِإِقَامَةِ الصُّفُوفِ، وَلاَ يُكَبِّرُ حَتَّى يُخْبَرَ أَنَّ الصُّفُوفَ قَدِ اسْتَوَتْ.وَرُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ، وَعُثْمَانَ، أَنَّهُمَا كَانَا يَتَعَاهَدَانِ ذَلِكَ، وَيَقُولاَنِ: اسْتَوُوا.وَكَانَ عَلِيٌّ يَقُولُ: تَقَدَّمْ يَا فُلاَنُ، تَأَخَّرْ يَا فُلاَنُ.١٦٧ - بَابُ مَا جَاءَ فِي إِقَامَةِ الصُّفُوف
অর্থ: হযরত উমর বিন খাত্তাব (রাঃ) (কিছু লোককে) কাতার সোজা করার আদেশ দিতেন। যখন তারা এসে সংবাদ দিত কাতার সোজ হয়ে গিয়েছে তিনি তাকবীর দিতেন। – বাইহাক্বী, সুনানে কুবরা, হাদীস নং ২৩৮৫; সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং ২২৭অনুরূপভাবে তিরমিজী (রহঃ) উল্লেখ করেছেন হযরত উসমান এবং আলী (রাঃ) কাতার দুরস্ত করার প্রতি খুব গুরুত্ব দিতেন এবং তারা বলতেন হে অমুক সামনে আস অমুক পিছনে যাও।আর রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবায়ে কেরামের কাতার সোজা না হওয়া পর্যন্ত তাকবীর বলতেন না।
হযরত আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান রা: হতে বর্ণিত-
٨٠٩ - أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَقُمْنَا، فَعُدِّلَتِ الصُّفُوفُ قَبْلَ أَنْ يَخْرُجَ إِلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ، فَأَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِذَا قَامَ فِي مُصَلَّاهُ قَبْلَ أَنْ يُكَبِّرَ فَانْصَرَفَ فَقَالَ لَنَا: «مَكَانَكُمْ». فَلَمْ نَزَلْ قِيَامًا نَنْتَظِرُهُ حَتَّى خَرَجَ إِلَيْنَا قَدِ اغْتَسَلَ يَنْطُفُ رَأْسُهُ مَاءً، فَكَبَّرَ وَصَلَّى[حكم الألباني] صحيح
৮১০। মুহাম্মদ ইবনু সালামা (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। সালাতের ইকামত বলা হলে আমরা দাঁড়ালাম। রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের নিকট বের হয়ে আসার পূর্বেই কাতার ঠিক করা হলো। তারপর রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের নিকট এসে মুসাল্লায় দাঁড়ালেন। তাকবীর বলার পূর্বে আমাদের দিকে ফিরে বললেন, তোমাদের নিজ নিজ স্থানে স্থির থাক। আমরা তার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম, তিনি গোসল করে আমাদের নিকট আসছিলেন তখন তাঁর মাথা থেকে পানি ফোঁটা ফোঁটা করে পড়ছিল। তখন তিনি তাকবীর বললেন এবং সালাত আদায় করলেন।সহিহ, বুখারি ও মুসলিম।তিনি আবু হুরায়রা রা: কে বলতে শুনেছেন, যখন ইকামত বলা হয়েছে।সাথে সাথে আমরা দাঁড়িয়ে গেলাম। সুত্র:-সুনান নাসায়ী- ﺑﺎﺏ ﺍﻗﺎﻣﺔ ﺍﻟﺼﻔﻮﻑ ﻗﺒﻞ ﺧﺮﻭﺝ ﺍﻻﻣﺎﻡ ১/৪৩০; সহীহ মুসলিম ২১০;সুনান নাসায়ী ২য় খন্ড,৮৯০ পৃ:।
সুনানে বায়হাকীতে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত,
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ : إذَا قِيلَ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ وَثَب فَقَام » كِتَابِ السُّنَنِ الْكُبْرَى 1-11 مَع الفهارس ج 2
مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْقَادِرِ عَطا , أَبِي بَكْرٍ أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ بْنُ علي/البيهقي
অর্থাৎ , যখন ' ক্বাদক্বামাতিস সালাহ ' বলা হত , তখন তিনি লাফদিয়ে দাঁড়িয়ে যেতেন। { সুনানে বায়হাকী ,
ইবন মুনজির ; আল আওসাত)
তাবিয়ীগণের রাদিয়াল্লাহু আনহু এর আমল---
الْكُتُب - الْمُصَنِّف - كِتَابِ الصَّلَاةِ - الْإِمَامَ مَتَى يُكَبِّرُ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصلاة- الْجُزْء . . . ( 6 ) حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى عَنْ هِشَامِ عَنْ الْحَسَنِ كَرِهَ أَنْ يَقُومَ الْإِمَامُ حَتَّى يَقُولَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ وَكَرِهَ أَنْ يُكَبِّرَ حَتَّى يَفْرُغَ الْمُؤَذِّنُ مِنْ إقَامَتِهِ
১।হযরত হাসান বসরী রহমাতুল্লাহ আলাইহিহযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি হতে বর্ণিত নিশ্চয়ই তিনি মোয়া জ্জিনের একামত বলার পূর্বে ইমামের দাঁড়ানোর কে মাকরূহ মনে করতেন আর মোয়াজ্জিনের একামত শেষ হওয়ার পূর্বে ইমামের তাকবিরে তাহরিমা বলা কেউ মনে করতেন মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদিস নং ৪০৯০
الْمُصَنِّف لِابْنِ أَبِي شَيْبَةَ - ج 2
٢٢٩ – مَنْ قَالَ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ فَلْيُقِمْ ٤١١٧ – حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيينة عَن . . . عُمَرَ بْنِ عَبْدالعَزِيز بخناصرة" يَقُولُ حِينَ يَقُولُ الْمُؤَذِّنُ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ : قُومُوا ، قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ
২।হযরত ওমর বিন আব্দুল আজিজ রাহমাতুল্লাহি হযরত আজলান হতে বর্ণিত তিনি আবু ওবায়েদ হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন আমি তাকে বলতে শুনেছি তিনি ওমর বিন আব্দুল আজিজ রহমাতুল্লাহ আলাইহি খানাপারা নামকস্থানে বলতে শুনেছেন তিনি বলেন যখন মুয়াজ্জিন বলবেন তখন তোমরা তখন দাঁড়াবে কারণ প্রকৃত নামাজ আরম্ভ হল।মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাদিস নং ৪৮৯৮
عَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ بْن جُرَيْجٍ قَالَ قُلْتُ لِعَطَاءٍ أَنَّهُ يُقَالُ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ فَلْيُقِمْ النَّاسَ حِينَئِذٍ قَالَ نَعَمْ . وكرههذا الْفِعْل أَصْحَاب .
৩।হযরত আতা রহমাতুল্লাহ আলাইহি হযরত ইবনে জুরাইজ হতে বর্ণিত তিনি বলেন আমি হযরত আতা রাহমাতুল্লাহি কে বললাম বলা হচ্ছে মুয়াজ্জিন যখন কাদ কামাতিস সালাহ বলবেন মুক্তাদির তখন দাঁড়াবেন তিনি বললেন হ্যাঁ।
الِاخْتِلَاف الْفِقْهِيّ بَيْنَ مَالِكٍ وَمُحَمَّدٍ بْنُ حَسَنٍ الشَّيْبَانِيّ مِنْ خِلَالِ رِوَايَتِه . قَالَ مُحَمَّدٌ : يَنْبَغِي لِلْقَوْمِ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ : حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ ، أَنْ يَقُومُوا فيصفوا وَيُسَوُّوا الصُّفُوف ، ويحاذوا بَيْنَ الْمَنَاكِبِ ، وَإِذ أَقَامَ الْمُؤَذِّنُ الصَّلَاةُ كَبَّرَ الْإِمَامُ
৪।হযরত ইমাম আবু হানিফা রহমাতুল্লা আলাইহি হযরত ইমাম মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ আলাইহি বলেন মুক্তাদীর জন্য মুক্তাদীদের জন্য করণীয় হলো যখন মোয়াজ্জিন হাইয়া আলাল ফালাহ বলবেন তখন তারা দাঁড়িয়ে নামাজের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাতার সোজা করবে আরে এটা ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি এর মুয়াত্তায়ে মোহাম্মদ হাদিস নং ৯৮
تَمَام الْمِنَّةِ فِي التَّعْلِيقِ عَلَى فِقْهِ السُّنَّةِ - 2
فَمَا جَاءَ فِي « الْآثَار » لِلْإِمَامِ مُحَمَّدٍ (ص١٣) : « عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ : (حي عَلَى الفلاح) فَإِنَّهُ يَنْبَغِي لِلْقَوْمِ أَنْ يَقُومُوا فيصفوا ، فَإِذَا قَالَ : (قد قَامَتْ الصَّلَاةُ . . .
فَتْح المغطا شَرْحِ الْمُوَطَّأِ بِرِوَايَة الشَّيْبَانِيّ 1-3 ج1
نُورُ الدِّينِ عَلِيٌّ بْنُ مُحَمَّدٍ الهروي/الملا عَلِيٌّ الْقَارِيّ , تَسْلِيم الدِّين · نُورُ الدِّينِ عَلِيٌّ بْنُ مُحَمَّدٍ الهروي/الملا عَلِيٌّ الْقَارِيّ تَسْلِيم الدِّين . . . قَال مُحَمّد : يَنْبَغِي لِلْقَوْمِ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ : حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ أَنْ يَقُومُوا إلَى الصَّلَاةِ فيصفّوا
মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবায় ইবরাহীম নাখায়ী রহ. এর আমল বর্ণিত হয়েছেঃ
كَانَ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ قَامَ ، فَإِذَا قَالَ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ كَبَّرَ » الْمُصَنِّف لِابْنِ أَبِي شَيْبَةَ - ج 2 -المصنف لِابْنِ أَبِي شَيْبَةَ - ج 3 - تَابِعٌ 3الصلاة - 2999 - 5025
অর্থাৎ, যখন মুয়াজ্জিন حي على الصلاة বলত তখন তিনি (ইবরাহীম নাখায়ী রহ.) দাঁড়াতেন। আর যখন قد قامت الصلاة বলত তখন তাকবীর দিতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা)সম্মানিত ইমাম সাহেবান মুসল্লীবৃন্দ উপরোক্ত সংক্ষিপ্ত আলোচনা হতে প্রমাণিত হলো যে নবীজী সাঃ সাহাবী কেউ ইকামত শুরুর পূর্বে কাতার সোজা করার জন্য নির্দেশ দেননি কিংবা নিজেরাও করেননি বরং যারা ইকামত শুরু হওয়ার সাথে সাথে দাঁড়িয়েছেন তাদেরকে তারা নিষেধ করেছেন তাই কাতার সোজা করার দোহাই দিয়ে ইকামতের পূর্বে মুক্তাদির দাঁড় করানো সম্পূর্ণরূপে হাদিস শরীফের বিপরীত সুন্নতে সাহাবা ও সুন্নত ইসলামী শরীয়তের সাথে চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ।তাই আমরা সকলে উক্ত সুন্নতের প্রতি আমল করে একটি মৃতপ্রায় বা বিলুপ্ত সুন্নতকে জিন্দা করে অশেষ সোয়াবের ভাগী হই।
كَنْزِ الْعُمَّالِ - ج 8
( ش أَبُو الشَّيْخِ فِي الأذان) . ٢٣٢٧٣ يُو أيضاً هُوَ أَنْ رَسُولَ اللَّهِ ِ كَانَ فِي بَيْتِهَا فَسَمِع الْمُؤَذِّن فَقَالَ كَمَا يَقُولُ فَلَمَّا قَالَ
حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ نَهَضَ رَسُولُ اللَّهِ إِلَيَّ الصَّلَاة
فِي فَتْحِ الْبَارِي لِابْنِ حَجَرٍ - (2 / 451)
وَعَنْ أَنَس أَنَّهُ كَانَ يَقُوم إِذَا قَالَ الْمُؤَذِّن " قَدْ قَامَتْ الصَّلَاة " رَوَاهُ اِبْن الْمُنْذِرِ وَغَيْره ، وَكَذَا رَوَاهُ سَعِيد بْن مَنْصُور مِنْ طَرِيق أَبِي إِسْحَاق عَنْ أَصْحَاب عَبْد اللَّه" انْتَهَى
عَنِ الْحَسَنِ أَنَّهُ كرِه أَن يقومَ الإمامُ حَتَّى يقولَ المؤذِّنُ : قَد قامتِ الصلاةُ • •
مصنّف ابْنُ أَبِي شيبة(443/1) دَار الْفِكْر { 1414هـ1994م
420 ( 184 ) فِي الْإِمَامِ مَتَى يُكَبِّرُ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ
( 1 ) حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ : كَانَ سُوَيْدُ بْنُ غَفَلَةَ يُكَبِّرُ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ .
( 2 ) حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسِ أَنَّهُ كَانَ يُكَبِّرُ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ يَعْنِي فِي الْأُولَى .
( 3 ) حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ عَنْ مُغِيرَةَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : إنْ كُنْت لأَسْمَع الْمُؤَذِّن يُصَوِّت بَعْدَمَا يُكَبَّرُ إِبْرَاهِيم لِلصَّلَاة .
( 4 ) حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ مِسْعَرٍ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : إنْ شَاءَ كَبَّرَ إذَا قَالَ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ وَإِنْ شَاءَ انْتَظَرَ حَتَّى يَفْرُغَ .
( 5 ) حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ مَحَلِّ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : كَانَ يُكَبِّرُ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ فِي الثَّانِيَةِ .
( 6 ) حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى عَنْ هِشَامِ عَنْ الْحَسَنِ كَرِهَ أَنْ يَقُومَ الْإِمَامُ حَتَّى يَقُولَ الْمُؤَذِّنُ قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ وَكَرِهَ أَنْ يُكَبِّرَ حَتَّى يَفْرُغَ الْمُؤَذِّنُ مِنْ إقَامَتِهِ .
( 7 ) حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ خَالِدِ عَنْ أَبِي مَعْشَرٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ قَالَ : كَانَ إذَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ : حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ قَامَ فَإِذَا قَالَ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ كَبَّرَ .
( 8 ) حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ هِشَامِ قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ يَحْيَى بْنُ وَثَّابٍ قَال : كَانَ يَسْكُتُ حَتَّى يَفْرُغَ الْمُؤَذِّنُ ثُمَّ يُكَبِّرُ وَكَانَ إبْرَاهِيمُ يَقُولُ إذَا قَالَ : قَدْ قَامَتْ الصَّلَاةُ كَبَّرَ .
যুগ শ্রেষ্ঠ মুফতি ও মুহাদ্দিস দের
আমল ও মতামত ---=
♥ ইকামাতের সময় মুসল্লিগন কখন দাঁড়াবে
তার সংক্ষিপ্ত বিবরন দেওয়া হলো ♥
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
الْحَمْدُ للَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ شَهَادَةً تَكُونُ لِلنَّجَاةِ وَسِيلَةً، وَلِرَفْعِ الدَّرَجَاتِ كَفِيلَةً، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ،
→ মহান আল্লাহতালা পবিত্র কালামে পাকে এরশাদ করেন:-
حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ
অর্থাৎ, সমস্ত নামাযের প্রতি যত্নবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী নামাযের ব্যাপারে। আর আল্লাহর সামনে একান্ত আদবের সাথে দাঁড়াও।
(সূরা বাকারাঃ ২৩৮)
→ নামাযের যে সকল হুকুম আহকাম রয়েছে সেগুলো যথাসময় সঠিকভাবে পালন করার মাধ্যমেই নামাযের আদব বা বিনয় প্রকাশ পায়। তেমনি নামাযে ইকামত এবং কাতার সোজা করার ব্যপারেও কিছু আদব রয়েছে। আমরা এখানে যা সংক্ষেপে আলোচনা করব তা হল:-
→ক) নামাযের কাতার সোজা করা সুন্নাতে মুয়াককাদাএই সুন্নাত আদায়ের সুন্নাত পদ্ধতি কখন..?
→খ) ইকামতের কোন সময় দাড়াঁনো মুস্তাহাব/(উত্তম)।
→গ) ওয়াজিব ও মুস্তাহাব উভয় আমল রক্ষা করা কি আমাদের জন্য সাংঘর্ষিক নাকি সামঞ্জস্যপূর্ণ।প্রশ্নঃ- ইকামতের সময় মুসল্লিগণ কখন দাঁড়াবেন?
কেউ কেউ ইকামতের পূর্বেই দাঁড়িয়ে যায় কেউ বা "হাইয়্যা য়া'লা চ্ছালাহ্" বলার পরে দাঁড়াতে দেখা যায়; কোনটি সঠিক প্রদ্ধতি?
→ রাসূলাল্লাহ (ﷺ) কে দেখার পূর্বে দাঁড়ানো নিষেধঃ-
★→ হযরত আবু কাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম [ﷺ] ইরশাদ ফরমায়েছেনঃ-
604) وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَعُبَيْدُ اللهِ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَا: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَعَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ«إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَقُومُوا حَتَّى تَرَوْنِي» وَقَالَ ابْنُ حَاتِمٍ: «إِذَا أُقِيمَتْ أَوْ نُودِيَ»،تخريج الحديث --صحيح البخاري - (4636)
صحيح مسلم - المساجد ومواضع الصلاة (604) سنن الترمذي - الجمعة (592) سنن النسائي - الأذان (687)
سنن النسائي - الإمامة (790) سنن أبي داود - الصلاة (539) (5/296)مسند أحمد - باقي مسند الأنصار
(5/303) (5/304) (5/307) (5/308)(5/309) (5/310)
سنن الدارمي- الصلاة (1261) سنن الدارمي الصلاة (1262)
[1] সহীহ : বুখারী ৬৩৭, মুসলিম ৬০৪, আবূ দাঊদ ৫৩৯, নাসায়ী ৬৮৭, তিরমিযী ৫৯২, আহমাদ ২২৫৩৩, দারেমী ১২৯৬, সহীহ আল জামি‘ ৩৭০; শব্দবিন্যাস ্য যেঃ-
১:- প্রিয় নবীজী [ﷺ] ইকামত শুরু হওয়ার পর হুজরা মোবারক থেকে বের হতেন।
২:- হুজুর [ﷺ] বেরিয়ে আসার পূর্বে মুসল্লিদের দাঁড়াতে নিষেধ করেছেন।
৩;- ইকামতে দাঁড়ানোর বিষয়টি ইমামের সাথে সম্পৃক্ত।
→ প্রকাশ থাকে যে, প্রিয় নবীজী [ﷺ]'র হুজরা মোবারক মসজিদে নববী'র মেহরাবের অতি নিকটবর্তী ছিল। অতি সামান্য ব্যবধানেই তিনি মেহরাবে তাশরীফ নিতেন।[(ক) আবূ দাউদ; খন্ড-০১, পৃ.১৪৮, হাদীস: ৫৩৯, ৫৪০; (খ) তিরমিযী; খন্ড-০২, পৃ.৪৮৭, হাদীস: ৫৯২;(গ) নাসাঈ; খন্ড-২, হাদীস: ৬৮৭;(ঘ) সহীহ ইবনু হিব্বান; খন্ড-৫, পৃ.৬০১, হাদীস:২২২৩(ঙ) শুয়াবুল ঈমান; খন্ড-২, পৃ.২০, হাদীস: ২১২০;(চ) সহীহ মুসলিম; খন্ড-০১, পৃ.৪২২, হাদীস: ৬০৪মিশকাত শরীফ ৬৭পৃঃ ৫নং লাইন ৬৮৫]
★→ রাসূলাল্লাহ [ﷺ] হুজরা শরীফ থেকে ইকামতের কোন মুহূর্তে মেহরাবে আসতেন?
→ এ ব্যাপারে মোল্লা আলী ক্বারী (রাহঃ) "মিরকাতুল মাফাতীহ" গ্রন্থে লিখেনঃ-
وَلَعَلَّهُ عَلَيْهِ السَّلَامُ كَانَ يَخْرُجُ مِنَ الْحُجْرَةِ بَعْدَ شُرُوعِ الْمُؤَذِّنِ فِي الْإِقَامَةِ، وَيَدْخُلُ فِي مِحْرَابِ الْمَسْجِدِ عِنْدَ قَوْلِهِ، حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ،
"আর সম্ভবত নবী করিম [ﷺ] হুজরা শরীফ থেকে বের হতেন মুয়াজ্জিন ইকামত শুরু করার পর এবং 'হাইয়্যা আলাছ ছালাহ' বলার সময় তিঁনি মেহরাবে প্রবেশ করতেন।" [মিরকাতুল মাফাতীহ লিল মোল্লা আলী ক্বারী]
، وَلِذَا قَالَ أَئِمَّتُنَا: وَيَقُومُ الْإِمَامُ وَالْقَوْمُ عِنْدَ حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ، وَيَشْرَعُ عِنْدَ قَدْ قَامَتِ الصَّلَاةُ. وَقَالَ ابْنُ حَجَرٍ: وَكَانَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْرُجُ عِنْدَ فَرَاغِ الْمُقِيمِ مِنْ إِقَامَتِهِ فَأَمَرَهُمْ بِالْقِيَامِ حِينَئِذٍ لِأَنَّهُ وَقْتُ الْحَاجَةِ إِلَيْهِ، وَلِهَذَا قَالَ أَصْحَابُنَا: السُّنَّةُ أَنْ لَا يَقُومَ الْمَأْمُومُ حَتَّى يَفْرُغَ الْمُقِيمُ مِنْ ج
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Website
Address
Dhaka