Genius Jannat . Planopolis . The URP Studio

Genius Jannat . Planopolis . The URP Studio

Share

Explaining cities, planning, and urban failures in simple human language. Accidentally fell into Urban & Regional Planning—now hopelessly in love with it.

From struggling with function, differentiation to dreaming of turning Bangladesh into Singapore (maybe just a bit). Currently surviving final year with the help of amazing friends, lots of reality checks, and a little bit of humor. Trying to share what I’ve learned—if it helps even one person, Alhamdulillah, that’s enough. 💜

23/01/2026

Urban Planning পড়ে তো কোনো কূল পাই না, এটা তো একটা scam! 😭

১৯৪০-এর দশকে planner রা নিজেদেরকে scientist and artist দুটোই মনে করতেন। তখন Sir Charles Reilly এর মত planner রা “environmental determinism”এ বিশ্বাস করতেন। তাঁদের ধারণা ছিল, মানুষের আশেপাশে বা physical space নতুনভাবে ডিজাইন করলে সমাজের সমস্যাগুলোও সমাধান করা সম্ভব। (যেটা আসলে আমিও ভাবি ☺️, সব নতুন করে সাজাতে পারলে ভালো হতো 🤲🏻 নিজেকে এখন ১৯৪০ এর প্ল্যানার প্ল্যানার লাগছে UwU)

তবে এই utopian ideal ১৯৮০-এর দশকে এসে ভেঙে পড়ে, যার প্রধান কারণগুলো ছিল—
- economic recession
- high-rise development–এর মতো অজনপ্রিয় policy র জন্য planner দের দোষারোপ করা হওয়া
- সামাজিক সমস্যা সমাধানে environmental determinism–এর ব্যর্থতা (আরেকটুর জন্যে প্ল্যানার হয়েই গেছিলাম -.-)

এর ফলে urban planning profession–এর ভেতরে একটি identity crisis তৈরি হয় (আমার কোনো আইডেন্টিটি নেই, তাই আমি এই ক্রাইসিস থেকে মুক্ত) এবং একই সঙ্গে “New Right” political ideology থেকে বাহ্যিক চ্যালেঞ্জ আসে। যেখানে free-market thinkers রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছিলেন, সেখানে traditional conservationists স্থানীয় চরিত্র (local character) রক্ষার জন্য সরকারের ভূমিকার পক্ষে যুক্তি দেন। ব্রিটেনে এই conservationist দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়, ফলে development–এর ওপর কোনো না কোনো ধরনের state control এর প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালো হয়।

শেষ পর্যন্ত, urban planning একটি নতুন কিন্তু তুলনামূলকভাবে সীমিত ভূমিকা গ্রহণ করে, যা হলো “development control”। এর মূল উদ্দেশ্য হলো private interest ও public good এর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা, যেমন—
- construction rules নির্ধারণ করা
- অনাকাঙ্ক্ষিত বা undesirable development প্রতিরোধ করা
- historic areas সংরক্ষণ করা
- rural landscapes রক্ষা করা

তাহলে আমরা যেই mess গুলো create করছি, যেখানে সেখানে যা তা বানিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি, সেগুলো contol করার দায়িত্ব টা আসলে কার? আমাদের ক্রমাগত পরিবর্তনশীল পৃথিবীর চেহারা কেমন হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আসলে কার হাতে থাকা উচিত? আপনার নয় কি?

18/01/2026

শুধু বড় প্রকল্প নয়, নাগরিক সমস্যা সমাধান ও অংশগ্রহণই মূল চাবিকাঠি।

"ঢাকাসহ দেশের নগর এলাকার বাসযোগ্যতা ক্রমান্বয়ে কমছে। নাগরিকদের প্রত্যাশা মেটাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার: আইপিডি।"
*********
"২০২৫ সালে বাংলাদেশের নগর এলাকার পরিকল্পনা, উন্নয়ন, পরিবেশ ও ন্যায্যতা : নাগরিকদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি"

।। আইপিডির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিশ্লেষণী অনুষ্ঠান।।
=========

গণঅভ্যুত্থান এর পর আমাদের নগর এলাকাগুলোকে বাসযোগ্য, ন্যায্য ও টেকসই করবার ব্যাপারে রাষ্ট্র ও সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে, এটা নাগরিকদের প্রত্যাশা ছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলা ও পৌর এলাকার নগর উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, পরিকল্পনা ও পরিবেশের ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যবসায়ীদের চাপে ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ড্যাপের পরিবর্তন করেছে। নদী-খাল, জলাশয়-জলাভূমি দখলকারী কিংবা নগর এলাকায় বিপদজনক শিল্প-কারখানার মাধ্যমে বায়ু দূষণকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। শহরের যানজট-জলজট-শব্দ দূষণ দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি। স্থানীয় পর্যায়ে ওয়ার্ড কাউন্সিল ছিল না। এলাকার সমস্যা সমাধানে সরকার পাড়া-মহল্লার মানুষ কিংবা কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। বিশেষত নগরে নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক এলাকায় বসবাসরত মানুষের দূ:খ-দূর্দশা আরও বেড়েছে। তথাপি বিগত বছর ২০২৫ এ অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় নগর নীতি এবং স্থানিক পরিকল্পনা অধ্যাদেশ অনুমোদন দিয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে নগর এলাকার ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে। আগামী নির্বাচিত সরকারকে বড় প্রকল্পে মনোযোগ না দিয়ে নগর এলাকার সমস্যা সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগ, উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা ও জনঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অদ্য ১৬ জানুয়ারী, শুক্রবার, ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) কর্তৃক অনলাইনে আয়োজিত পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিশ্লেষণী অনুষ্ঠানে বক্তারা উপরোক্ত মতামত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল
"২০২৫ সালে বাংলাদেশের নগর এলাকার পরিকল্পনা, উন্নয়ন, পরিবেশ ও ন্যায্যতা : নাগরিকদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি"।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বিগত বছর অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পনা, ইমারত নির্মাণ, নগরায়ন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা তৈরি করেছে। কিন্তু নগর এলাকায় নাগরিকদের সমস্যা সমাধানে তেমন কোন কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি। মাঠ-পার্কের দখলদারিত্ব আগের মতোর রয়ে গেছে। নগর এলাকায় অনেক মাঠেই জনগণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত। ময়মনসিংহ, বরিশাল, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে, যা আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা বাড়াবে। বিপরীতে নগর সরকার গঠন এর ব্যাপারে নীরব থেকেছে। পান্থকুঞ্জ পার্ক ধ্বংস করে ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ সড়ক বাতিলে নাগরিক আন্দোলনে কর্ণপাত করেনি। অথচ গণপরিবহনভিত্তিক গাজীপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্প বাতিল করেছে। বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করলেও খাল দখল, বেআইনি ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত অপরাধে মাত্র দুই বছরের জেলদন্ডের বিধান রেখেছে, যাতে আগের আইনে শাস্তি আরও বেশি ছিল। দূর্বল শাস্তির বিধান অপারাধ দমন করতে ব্যর্থ হবে।

আইপিডির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, নাগরিক আন্দোলনের ব্যাপারে সরকার ছিল নির্লিপ্ত।নগর ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ এর ঘাটতি ছিল। নগর সংস্থাসমুহের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে পারেনি। নগর এলাকায় রাজনৈতিক দূর্বৃত্তপরায়ণতার ব্যাপারে সরকার ছিল উদাসীন।

অনুষ্ঠানে আইপিডির পরিচালক ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এর সভাপতি ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও আমরা সামগ্রিকভাবে দেশের জাতীয় পর্যায়ের স্থানিক্নপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে পারিনি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাবে যা তৈরি হয়েছে, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকে প্রয়োজনীয় অগ্রগতি নেই। ফলে সারা দেশে একটিও পরিকল্পিত শহর দেশে নেই। বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সহ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে যারা আছেন, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমলা বা প্রশাসক। পেশাজীবিদের অন্তর্ভুক্ত করা অতীব জরুরি। বিশেষ করে পরিকল্পনাবিদদের নেতৃত্বে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে এটাই কাম্য।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়র নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরহাদুর রেজা বলেন, অন্তর্বতীকালীন সরকার থেকে পরিকল্পনা বিষয়ক প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বড় একটি ফাঁক রয়ে গিয়েছে। ড্যাপের সংশোধনের জন্য ঢাকা শহরে জনঘনত্ব বেড়ে যাবে, তাতে শহর আরও স্থবির হয়ে পড়বে। রাজউক উন্নয়ন নিয়ন্ত্রন এর কাজ থেকে সরে গিয়ে আবাসন বাণিজ্যে লিপ্ত আছে। ঢাকা শহরের অল্প কিছু পার্ক আছে। পান্থকুন্জ পার্ক এই সরকারের সময়েও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। পার্ক রক্ষার ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ জোরদার করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। জলাবদ্ধতার মত বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। উন্নয়নের সাথে ন্যায্যতা ও পরিবেশকে উপেক্ষা করবার কোন সুযোগ নেই।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর শিক্ষক এবং আইপিডি রিসার্চ ফেলো কে এম আসিফ ইকবাল আকাশ বলেন, আমাদের নগর বিষয়ক সমস্যাগুলো ভুল নীতিকৌশলের কারণে সৃষ্ট। বিদ্যমান নীতিমালাগুলো নগর এলাকায় অবাধে শিল্পায়ন ও পরিবেশ দূষন রোধ করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেনি। পরিবেশ আইনভঙ্গকারী ব্যক্তিরা সহজেই অল্প ক্ষতিপূরণে দায়মুক্তি পায়। ফলে ব্যবসায়ী গোষ্ঠীরা পরিবেশ সংক্রান্ত আইনের কোন তোয়াক্কা করেন না।।

আইপিডি সদস্য প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ সজীব বলেন, রাজউকসহ রাষ্ট্রের নগর সংস্থাগুলো বিএনবিসি কোড এর এনফোর্সমেন্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। দেশে অনুমোদনহীন ভবন নির্মানের প্রবনতা এখনো আছে, যার ফলে আমাদের ক্রমাগত ঝুঁকি বাড়ছে। নাগরিক জীবনের ঝুঁকি কমাতে পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণ সংশ্লিষ্ট আইনের বাস্তবায়নে সরকার সফল হতে পারেনি।

পরিকল্পনাবিদ সাজিদ ইকবাল বলেন, ঢাকাভিত্তিক সরকার দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। আইনি কাঠামো, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন না থাকলে কোনো পরিকল্পনা কার্যকর হবে না। বিকেন্দ্রীকরনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান ও ভবিষ্যত সরকারের কাছে দাবি এটাই যে অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে এমন একটি নগর কাঠামো গড়ে তোলা হোক, যা দেশের নগরায়নের বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করবে।

আইপিডির গবেষণা সহযোগী জিনিয়াস জান্নাত বলেন, বস্তিবাসী যারা আছেন, তাদের জীবন মান উন্নয়নে সেভাবে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখনো দীর্ঘসূত্রতা রয়ে গিয়েছে। সরকারকে সব সময় প্রতিক্রিয়াশীল পরিকল্পনা করে যাচ্ছে, অথচ আমাদের প্রয়োজন সঠিক চাহিদা চিহ্নিত করবার মাধ্যমে টেকসই ও ন্যায্যতাভিত্তিক নগর পরিকল্পনা।

আইপিডির গবেষণা সহযোগী কাজী তাসনিয়া তাবাসসুম বলেন, পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইন প্রয়োগে সরকারের সফলতা কম। যে সকল নগর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সমন্বয় বাড়াতে হবে। বড় শহরের বাইরে বাংলাদেশে প্রায় ৩৩০ টা পৌরসভা আছে। এইসকল পৌরসভার ক্ষমতায়ন এখনো পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। পরিকল্পনাবিদসহ বিভিন্ন পেশাজীবি নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় নগর সরকারসমূহের সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।

=======
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাসহ,

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।।

15/12/2025

Urban Planning in Bangladesh is not failing. It was never meant to serve people.

29/11/2025

ঢাকা আজ ক্লান্ত, আমরাও। তবু হতাশার ভেতরেই লুকিয়ে আছে বদলে দেওয়ার শক্তি। ভূমিকম্পের ক্ষণিক কাঁপন আমাদের অসহায়তা মনে করিয়ে দেয়, কিন্তু নীরব থাকা কোনো সমাধান নয়। আমাদের শহর, আমাদের জীবন, এটা আমাদেরই দায়িত্ব। সচেতন হই, নিজের অধিকার বুঝে নিই। খোলা মাঠ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সাশ্রয়ী বাসস্থান আর মানবিক সেবা, এসবই আমাদের অধিকার। আমরা যদি না জাগি, কোনো সরকারই ঢাকা বদলাতে পারবে না। পরিবর্তন শুরু হোক আমাদের থেকেই।

ঢাকার ভূমিকম্প–অগ্নিকাণ্ড ঝুঁকি কমাতে কার্যকর পরিকল্পনা, জোনিং ও বিল্ডিং কোড মানবার পাশাপাশি উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন: আইপিডি
==============

ভূমিকম্প, অগ্নিকান্ডসহ নানা দূর্যোগের কারণে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর ঢাকা অনিরাপদ ও অবাসযোগ্য। শহরের পরিকল্পনাকে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে অগ্রাহ্য করে নগরায়ন হয়েছে নিয়ন্ত্রণহীন। পাশাপাশি ঢাকামুখী জনস্রোতকে ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে। ভবন নির্মাণ ও আবাসন প্রকল্পগুলোতে বিল্ডিং কোড ও বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগের অভাব রয়েছে। জলাশয়, জলাভূমি, প্লাবনভূমির উপর ভরাট করা দূর্বল মাটির উপর নির্বিচারে অনিরাপদ বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাব, ভূমি মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা ও লোভ এবং সরকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দূর্নীতি ও দায়িত্বে গাফিলতির কারণে ঢাকার নগর এলাকায় জীবন এখন মারাত্মকভাবে অনিরাপদ। ঢাকার অনিয়ন্ত্রিত, অপরিকল্পিত ও অপরিণামদর্শী নগরায়ন রোধ না করতে পারলে ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দূর্যোগ থেকে রক্ষা করবার কার্যকর কোন উপায় নেই।

উপরোক্ত মতামতগুলো উঠে এসেছে অদ্য শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) কর্তৃক অনলাইনে আয়োজিত সমসাময়িক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন বিশ্লেষণ বিষয়ক "ভূমিকম্প, অগ্নিকান্ডে বিপর্যস্ত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ঢাকার পরিকল্পনাগত সংকট ও করণীয়" শীর্ষক অনুষ্ঠানে।

বক্তারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্প ও শহরের বাসযোগ্যতা বিবেচনায় না নিয়েই ব্যবসায়ীদের চাপে ড্যাপ পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এই সকল পরিবর্তনে বিবেচনায় নেয়া হয়নি মাটির ভূতাত্ত্বিক গঠন, মাটির ভার বহন ক্ষমতা ও ঢাকার সিসমিক মাইক্রোজোনেশন ম্যাপ। ফলে ঢাকাকে বাঁচাতে ড্যাপ পরিবর্তন এর মাধ্যমে অযাচিতভাবে এফএআর ও জনঘনত্ব পরিবর্তন করতে গ্যাজেট প্রকাশের উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। মাটির ভূতাত্ত্বিক গঠন, ভূমির শ্রেণিবিন্যাস ও শহরের ভারবহন ক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে শহরের বিশদ পরিকল্পনা করতে হবে। বিএনবিসি কার্যকর করতে বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ) অতি দ্রুত গঠন করতে হবে।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে আইপিডির পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ঢাকাকে টেকসই ও নিরাপদ করতে হলে ভূমি ব্যবহার জোনিং, বিল্ডিং কোড, মাটির ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষা, কাঠামোগত মূল্যায়ন, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কমিউনিটির প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে। নয়তো বড় ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ড বা বড় দূর্যোগে রাজধানীর ওপর বিপর্যয় নেমে আনতে পারে।

মূল প্রবন্ধের সুপারিশে আইপিডির পক্ষ থেকে অধ্যাপক আদিল বলেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। এজন্য জরুরি কঠোরভাবে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড ও নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ) গঠন করে দ্রুত বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সিসমিক মাইক্রো জোনেশন ম্যাপ অনুযায়ী নগরায়ন করতে হবে। জলাধার, জলাভূমি ভরাট করে কোনো সরকারি-বেসরকারি উন্নয়নই অনুমোদন করা যাবে না। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করতে হবে। দুর্যোগ মোকাবেলায় কমিউনিটিকে প্রস্তুত করতে প্রশিক্ষণ, ড্রিল ও গণসচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। স্বল্প আয়ের লোকদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসন এর জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করতে হবে। ভবন সংশ্লিষ্ট অনিয়মে যুক্ত কর্মকর্তা, সংস্থা বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি কার্যকর করতে হবে।

আইপিডি আরও বলেছে, এখনই ঢাকাকেন্দ্রিক উন্নয়ন এর বিকেন্দ্রীকরণ এর মাধ্যমে বিভাগীয় ও জেলা শহরে পরিকল্পিত নগরায়ণ, নিরাপদ আবাসন, পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা এবং কর্মসংস্থানের সমান্তরাল নীতি নেওয়া যায়– তাহলে আগামী ১৫-২০ বছরে আমরা ঢাকাকে কিছুটা চাপমুক্ত করতে পারব।

আইপিডি উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, চিলি-হাইতি-তুরস্কের ভূমিকম্পের উদাহরণগুলোই আমাদের স্পষ্ট দেখিয়ে দেয় ভূমিকম্প থেকে বাঁচতে বিল্ডিং কোড অনুসরণ এর গুরুত্ব কতটুকু। আমাদের যে কোন ভবন কিংবা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে দূর্যোগ ঝুঁকি কমানোর বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। ইমারত নির্মাণে সকল পর্যায়ে দূর্নীতি মুক্ত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, ঠিক তেমনি ভবন মালিক ও পেশাজীবিদেরকেও দায়বদ্ধ করতে হবে আমাদের।

বিআইপির সহসভাপতি পরিকল্পনাবিদ সৈয়দ শাহরিয়ার আমিন বলেন, ঢাকা চট্টগ্রাম করিডোরে যেভাবে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বেড়েছে, দেশের অন্য এলাকায় সেভাবে বাড়ছে না। ঢাকার উপর চাপ কমাতে দেশের স্থানিক পরিকল্পনা তৈরি করে দেশের অন্য অঞ্চলগুলোতে উন্নয়ন ছড়িয়ে দিতে হবে। মুনাফাকেন্দ্রিক নগরায়ন মডেল থেকে রাষ্ট্রকে বের হয়ে আসতে হবে।

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর শিক্ষক ও আইপিডির রিসার্চ ফেলো কে এম আসিফ ইকবাল আকাশ বলেন, "ঢাকাতে জনস্রোত না থামার অন্যতম কারণ অধিকাংশ বিভাগীয়, জেলা শহর ও প্রান্তিক জনপদে যথেষ্ট কর্ম ও মৌলিক চাহিদা পূরণের অপ্রতুলতা। জনসংখ্যার ভারে ন্যুব্জ ঢাকাকে শুরু থেকেই বিকেন্দ্রীকরণ ও টেকসই উন্নয়নের ভিতর দিয়ে নিয়ে গেলে আজ তা মৃত্যুকূপে পরিণত হতোনা। জলাশয় ভরাট করে নির্মিত উত্তরা দিয়াবাড়ি ৩য় প্রকল্পে মাইলস্টোন স্কুলের বিমান দূর্ঘটনা তারই সাক্ষ্য দেয়। ঢাকা যদি মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় তার দায় যতটা নাগরিকের, তার ঠিক ততখানি সরকারেরও।"

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী ড. ফরহাদুর রেজা বলেন, ঢাকায় হোটেল–রেস্তোরাঁসহ বাণিজ্যিক এলাকা নির্ধারণে জোনিং যথাযথ অনুসরণ করা হয় না। ফলে অগ্নিকাণ্ড বা ভূমিকম্প ঝুঁকি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি বলেন, “ঢাকার জন্য বিস্তারিত সিসমিক জোনিং ও ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট চিহ্নিত করা জরুরি। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম গড়ে তোলা উচিত।”

একিউমেন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ তাহের বলেন, ঢাকার ঝুঁকিপুর্ণ ভবনগুলোর কাঠামোগত, ইলেকট্রিক্যাল ও অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক বিশদ প্রকৌশল নিরীক্ষা অবিলম্বে করা প্রয়োজন। ইটের বাড়িগুলোর মাঝারি থেকে বড় ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশংকা রয়েছে।

শেলটেক কনসালট্যান্টের পুর প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ সজীব বলেন, ঢাকা শহরের জলাশয় জলাভূমি ভরাট করে গড়ে উঠা জোনের নরম ও দূর্বল মাটিতে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে উন্নত ডিজাইন প্রটোকল অনুসরণ করতে হবে। মাটির লিকুইফিকশন ও অ্যামপ্লিফিকেশন বিবেচনায় নিয়ে ফাউন্ডেশন মজবুত করতে হবে। আইপিডি গবেষণা সহকারী জিনিয়াস জান্নাত বলেন, এখন থেকে পরিকল্পনামাফিক নগর গড়তে পারলে ঢাকা শহরকে নিরাপদ করা সম্ভব। আইপিডির অপর গবেষণা সহকারী কাজী তাসনিয়া তাবাসসুম বলেন, শহরের পরিকল্পনা যেন ফাইলে বন্দী না থাকে, সেটা হলে আমাদের ধ্বংস অনিবার্য।

08/10/2025

Lekin sukoon ka jazeera mil na paaye 🙂🔪

Gomen for the spelling mistakes 🫩

07/10/2025

আমার chatGPT মনে হয় চিটাগংয়ের কেউ কিনে নিসে।

ফহুতর বফন !?

07/10/2025

Thanks for being a top engager and making it on to my weekly engagement list! 🎉 Ferdousi Ara, Nafiz Al Mamun, Tania Bahar, Nafis Ahammed, Mohammad Ishaque, Tasnia Tabassum

-.- zucu বলেছে appreciate করতে। আরিগাতো গোজাইমাসু 🤍

29/09/2025

Bachaaaooo bacchaaoooo

A periodic reminder for all car drivers:
You are not stuck in traffic.
You are traffic!

29/09/2025

🚦 ঢাকা: জ্যামের শহর নাকি স্বপ্নের শহর?

প্রতিদিন জ্যামে বসে আমরা বুঝি—সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণ করছে, আমরা সময়কে না। গাড়ির দাসত্বে আটকানো এই শহরে Transit Oriented Development (TOD) হতে পারে মুক্তির পথ।

ভাবুন তো—আপনার বাসা মেট্রোরেলের পাশে, অফিস কয়েক কদম হাঁটার দূরত্বে, বাজার-স্কুল পাড়ার ভেতরেই। তখন কি আর রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হবে?

TOD বলে—
🚶‍♀️ হাঁটা হবে প্রধান,
🚲 সাইকেল হবে সঙ্গী,
🚇 পাবলিক ট্রান্সপোর্ট হবে সবার প্রথম পছন্দ।

Density, Connectivity, Walkability আর Land Value Capture—সব মিলে গড়ে উঠবে মানুষ-কেন্দ্রিক ঢাকা।

🛑 যানজট শুধু ট্রাফিক নয়, এটা এখন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। TOD সেই অভিশপ্ত নাটক থেকে বের হওয়ার নতুন দরজা।

🌱 আসুন, আমরা সবাই মিলে বলি—
✨ “যানজট মুক্ত ঢাকার স্বপ্ন দেখি, সচেতনতা দিয়ে নতুন ঢাকা গড়ি।”

29/09/2025

Send নির্বাচন ASAP!!!

নির্বাচন তো আর দিতে পারবো না, তবে একটা স্মার্ট সলিউশন নিয়ে আসছে আমার বান্ধবী কাজী তাসনিয়া তাবাসসুম, ঠিক সন্ধ্যা সাড়ে আটটায় (৮:৩০)!

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Jahangirnagar University, Savar
Dhaka
1342