বিসিএস প্রস্তুতি- BCS Preparation

বিসিএস প্রস্তুতি- BCS Preparation

Share

We take pride in delivering compelling and credible news coverage to keep you informed. Stay tuned for an immersive news experience.

Trust us to bring you the stories that matter, with accuracy, depth, and a dedication to journalistic excellence.

30/11/2021

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা-

জলবায়ু সম্মেলনে কী পেল বাংলাদেশ-

বাংলাদেশ ছোট দেশ হলেও জলবায়ু সম্মেলনে সব সময় গুরুত্ব পেয়ে আসছে। প্রশ্ন হলো, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি কী কী।

ইফতেখার মাহমুদ

বিশ্বনেতাদের মুখোশ পরে দাতব্য সংস্থা অক্সফামের কর্মীদের বিক্ষোভ। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন চলাকালে
বিশ্বনেতাদের মুখোশ পরে দাতব্য সংস্থা অক্সফামের কর্মীদের বিক্ষোভ। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন চলাকালে
জাতিসংঘের ২৬তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনটি নানা কারণে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। করোনা মহামারিকালে এটিই ছিল রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সবচেয়ে বড় সম্মেলন। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় ১২ নভেম্বর সম্মেলনটি শেষ হয়। এখন এ সম্মেলন থেকে বাংলাদেশ কী পেল, সেই মূল্যায়ন চলছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বনেতৃত্ব প্যারিস চুক্তি করে ২০১৫ সালে। এ চুক্তিতে চলতি শতাব্দী শেষে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। এরপর পেরিয়েছে ছয় বছর। এ সময়ে প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন কতটুকু এগোল, বাস্তবায়ন কোথায় আটকে থাকল, সেই আলোচনাও চলছে।

বৈশ্বিক পরিসরের এ আলোচনায় বাংলাদেশের মতো ছোট একটি দেশ কতটুকুই–বা অবদান রাখতে পারবে, সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে এ প্রশ্ন ওঠা খুবই প্রাসঙ্গিক। কিন্তু ২০০৯ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলন থেকে শুরু করে সর্বশেষ গ্লাসগো সম্মেলন—বাংলাদেশ সব সময়ই বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে।

সম্মেলনের তিন অর্জন
গ্লাসগো সম্মেলনটি পরিচিতি পায় কপ ২৬ নামে। এর সফলতা হিসেবে শুরুতে ‘গ্লাসগো ইমার্জেন্সি ক্লাইমেট প্যাক্ট’ নামে একটি ঘোষণায় সব দেশের সম্মতি পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে অবশ্য ইমার্জেন্সি বা জরুরি শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।

কপ ২৬ সম্মেলনের তিনটি অর্জনের কথা বলছেন বিশ্লেষকেরা। ১. এ সম্মেলনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে নেতারা একমত হন। ২. প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা হিসেবে ‘প্যারিস রুল বুক’ চূড়ান্ত করা হয়। মানে হলো, প্যারিস চুক্তি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার রূপরেখা তৈরি করা। ৩. ‘ক্লাইমেট প্যাক্টের’ আওতায় কোন দেশ কার্বন নিঃসরণ কতটা কমাবে, সে ঘোষণা দিয়েছে।

এর আগে প্যারিস চুক্তিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন দেশ কতটুকু কার্বন নিঃসরণ কমাবে, তা চূড়ান্ত ছিল না। বাংলাদেশ তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে ২০০৯ সালের কোপেনহেগেন সম্মেলন থেকে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। এ সম্মেলনে শেষ পর্যন্ত সব দেশ ঐকমত্যে পৌঁছাল।

সম্মেলনে বাংলাদেশ-
বাংলাদেশ এবারের জলবায়ু সম্মেলনে মূলত ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জোটের মাধ্যমে কথা বলেছে। এ দুই জোটের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রগুলো একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিপন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে। ফলে তাদের ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হচ্ছে।

বাংলাদেশ এ দুই জোটের দেশগুলোর পক্ষে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু তহবিলের পরিমাণ বাড়ানো ও তা পাওয়ার শর্ত শিথিলের পক্ষে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে সম্মেলনে উন্নত রাষ্ট্রগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণকারী খাত কয়লার ব্যবহার কমিয়ে আনার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়। তারা জোর দেয় সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর।

সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশ পরিকল্পনায় থাকা কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনে উল্লেখ করেন, সরকার ১০টি কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা ইতিমধ্যে বাতিল করেছে। ভবিষ্যতের জ্বালানি হিসেবে বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুতের দিকে মনোযোগ বাড়াবে।

কপ ১৫ থেকে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ে
কপ ১৫ হিসেবে পরিচিত জলবায়ু সম্মেলনটি হয় ২০০৯ সালে। কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু বিপন্ন দেশ হিসেবে বাড়তি গুরুত্ব পায়।

ওই সম্মেলনে শিল্পোন্নত ধনী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে স্বল্পোন্নত জলবায়ু বিপন্ন দেশগুলো মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছিল। একদিকে ছিল শিল্পোন্নত রাষ্ট্রের জোট অ্যানেক্স-১, অন্যদিকে ছিল স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোর জোট এলডিসি। মধ্যম অবস্থানে ছিল উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি-৭৭ ও চীন।

শিল্পোন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতির জোটের কয়েকটি দেশের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের দিক থেকে একটি মিল ছিল। ২০০৫ সালের আগপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও কানাডা থেকে শুরু করে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ। ২০০৬ সাল থেকে শীর্ষ কার্বন নিঃসরণকারী দেশের তালিকায় জি-৭৭ ও চীন জোটভুক্ত রাষ্ট্র চীন, ভারত, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর নাম ওঠে। স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র এবং ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর জোট অ্যালায়েন্স অব স্মল আইল্যান্ড স্টেটস (এওসিস) মিলে তখন কার্বন নিঃসরণের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আওয়াজ তোলে।

কোপেনহেগেন সম্মেলন যখন কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হতে যাচ্ছিল, তখন শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী রাস লোকে রাসমুসেন ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন একটি শেষ চেষ্টা চালান। তাঁরা বিশ্বের ২৮টি দেশকে নিয়ে একটি জরুরি আলোচনায় বসেন। সেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও যুক্ত করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের নানা প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ ২৬) নিয়ে আলোচনার শুরু থেকেই রাজপথে সরব তরুণ পরিবেশবাদীরা। জলবায়ু–সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তাঁদের। শুক্রবার গ্লাসগোয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের নানা প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ( কপ ২৬) নিয়ে আলোচনার শুরু থেকেই রাজপথে সরব তরুণ পরিবেশবাদীরা। জলবায়ু–সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তাঁদের। শুক্রবার গ্লাসগোয়।
এরপর এই শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা দেড় থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি যাতে বাড়তে না পারে, সে ব্যাপারে একটি চুক্তির খসড়া তৈরি হয়। যা পরে বিশ্বের সব রাষ্ট্র মিলে সই করে। ‘কোপেনহেগেন অ্যাকর্ড’ নামে এ চুক্তি স্বীকৃত। এর ধারাবাহিকতায়ই ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তি হয়।

অভিযোজন তহবিল দ্বিগুণ হয়েছে
জলবায়ুসংক্রান্ত জাতিসংঘের মূল তহবিল পাঁচটি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির নাম গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)। ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এ তহবিলে ১০ হাজার কোটি ডলার জমা হওয়ার কথা ছিল। যদিও হয়েছিল ৭ হাজার কোটি ডলার। এ তহবিলের অর্থ নিয়ে যায় ঊদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো।

তিনটি তহবিলে বরাদ্দ বাড়লে বাংলাদেশের সুবিধা হয়। একটি হলো অভিযোজন তহবিল। এ তহবিলে মাত্র ৩৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার বরাদ্দ ছিল। বাংলাদেশ তহবিলটিতে বরাদ্দ চার গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। শেষ পর্যন্ত তা দ্বিগুণ করার পক্ষে রাষ্ট্রগুলো একমত হয়। আর ওই তহবিল যাতে সহজে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রস্তাবে যুক্ত করা হয়েছে।

এর বাইরে স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি তহবিল আছে। যেখানে এবার ৬০ কোটি ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ তহবিলও ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বিগুণ করার কথা হয়েছে। জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটি’ নামে একটি তহবিল আছে। সেখান থেকে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ১০টি প্রকল্পে অর্থ পেয়েছে। এ তহবিলও বাড়ানো হয়েছে।

এ তিন তহবিলের বরাদ্দ বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতে অর্থ পাওয়া সহজ হবে। এ বিষয়ে জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বের কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য চাপ তৈরি করা ছিল আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তবে আমরা যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিনিয়ত ক্ষতির শিকার হচ্ছি, তাই আমাদের জন্য দ্রুত ও বেশি পরিমাণে জলবায়ু তহবিল পাওয়া হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সহজে পাওয়া সম্ভব এমন তহবিলগুলোর বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। সফলও হয়েছি।’

অনেক পথ বাকি-
কোপেনহেগেন থেকে গ্লাসগো সম্মেলনে বাংলাদেশ সমঝোতার আলোচনায় অনেক বিষয়ের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। কিন্তু বৈশ্বিক তহবিল পাওয়া এবং বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়টি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এখনো অনেক দূর্বলতা রয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার জাতীয়ভাবে কার্বন নিঃসরণের অঙ্গীকার বা এনডিসি তৈরি করে জাতিসংঘের কাছে জমা দিয়েছে। কিন্তু সেখানে শুধু হাতে গোনা কয়েকটি খাতের কার্বন নিঃসরণের তথ্য উঠে এসেছে। মূলত জ্বালানি, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও শিল্প খাতে কার্বন নিঃসরণ এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেলের মতো বড় অবকাঠামো নির্মাণের ফলে কী পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারবে, সেই হিসাব হয়নি। কার্বন বাণিজ্যসহ নানা খাত থেকে অর্থ পাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তুতি এখনো বেশ কম। বনভূমি রক্ষা ও বনের জমিতে পুনরায় বনায়নের ফলে বাংলাদেশ কী পরিমাণ কার্বন ধরে রাখে, তারও কোনো হিসাব করা হয়নি।

এ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এই শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা যাতে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে, সে জন্য বাংলাদেশ শুরু থেকে শক্ত অবস্থান নিয়েছিল। তবে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক তহবিলগুলো থেকে অর্থ পেতে জলবায়ু প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি ও তা বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

23/11/2021
30/08/2019

বঙ্গবন্ধু মান মন্দিরের পেছনের গল্পঃ মান মন্দিরের কারিগর

বাংলাদেশে একটি বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। শুধু বিরলই নয় একেবারেই অসম্ভব। সারা পৃথিবীতে এরকম আর দ্বিতীয়টি সম্ভব নয়! শুনে অবাক হচ্ছেন?

আমরা সবাই জানি, উত্তর-দক্ষিনে ৪টি ও পূর্ব-পশ্চিমে ৩টি রেখা দিয়ে পুরো পৃথিবীকে ভৌগলিকভাবে ভাগ করা হয়েছে। জ্যোতির্বিদ আবহাওয়াবিদ ও মহাকাশবিজ্ঞনীদের জন্য রেখাগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও যেমন দিনরাত শীত গ্রীষ্ম বসন্তেও রেখাগুলির ভূমিকা অপরিসীম।এই রেখাগুলি সব মিলিয়ে ১২ জায়গায় ছেদ করেছে। নিঃসন্দেহে এই ১২টি বিন্দু হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিন্দু।১২টি বিন্দুর ১০টি বিন্দুই পড়েছে সাগরে-মহাসাগরে, তাই মানুষ সেখানে যেতে পারে না। একটি পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে, সেখানেও মানুষ যায় না।শুধু ১টি বিন্দু (হ্যাঁ, শুধু ১টি মাত্র বিন্দু) পড়েছে শুকনা মাটিতে, যেখানে মানুষ যেতে পারে, সেই বিন্দুটি পড়েছে আমার প্রিয় বাংলাদেশে!

জায়গাটি ফরিদপুরের কাছে ভাঙ্গা উপজেলায়।ব্যাপারটা যে এতোদিন কেউ জানতো না তা হয়তো নয়, তবে ব্যাপারটির গুরুত্ব নিয়ে এতোদিন কেউই সেভাবে ভাবেনি যেমনটি ভেবেছেন আমাদের প্রিয় জাফর ইকবাল স্যার।স্যারের বহুদিনের স্বপ্ন ছিলো পৃথিবীর এই একমাত্র বিরল ছেদবিন্দুতে একটি মানমন্দির নির্মানের যেখানে একবার পা ফেলে বিরল সৌভাগ্যবানদের তালিকায় নিজের নাম তুলতে শুধু দেশ থেকেই নয় সারা পৃথিবী থেকেই পর্যটকরা ছুটে আসবে।শুধু পর্যটকই নয় যেখানে জ্ঞান বিলাতে সারা পৃথিবী থেকে ছুটে আসবে জ্যোতির্বিজ্ঞানী আর মহাকাশবিজ্ঞানীরা।যেখানে জ্যোতির্বিদ্যা ও মহাকাশবিদ্যা নিয়ে জটিল জটিল সব গবেষণা হবে।শিঘ্রই স্যারের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। স্যারের অনুরোধে ও পরামর্শে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মানীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এই বিরল ছেদবিন্দুতে একটি মানমন্দির নির্মানের অনুমোদন দিয়েছেন।শিঘ্রই এই বিরল ছেদবিন্দুতে নির্মিত হতে যাচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধু মানমন্দির’ আর আমরা হতে যাচ্ছি একটি বিরল সৃষ্টির সাক্ষী।এই মানমন্দিরকে ঘিরে কর্কটক্রান্তি বরাবর ও ৯০’ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ বরাবর সারি সারি হাজারো কৃষ্ঞচূড়া গাছ লাগানো হবে। যখন এইসব গাছে ফুল ফুটবে তখন অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতা দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমানের যাত্রীরা দেখতে পাবে অপার সবুজের মাঝে লাল কৃষ্ঞচূড়ার বিরল সেই ছেদবিন্দুটি যা পুরো পৃথিবীতে আর কোথাওই নেই।

এবার পড়ুন জাফর ইকবাল স্যারের লেখাঃ

আমি আজকাল ভাগ্য বিশ্বাস করতে শুরু করেছি। (না, আমি অন্যদেরকেও আমার মত ভাগ্য বিশ্বাস করা শুরু করতে বলছি না!) তবে আমি নিজে কেন ভাগ্য বিশ্বাস করতে শুরু করেছি সেই কাহিনীটা একটু বলি।

সেই ছেলেবেলায়- দেখে যখন পৃথিবী আঁকতে হয়েছে তখন প্রথমে একটা গোল বৃত্ত একেঁছি, তারপর তার মাঝে ডান থেকে বামে এবং উপর থেকে নিচে কয়েকটা রেখা টেনেছি এবং সেটা দেখতে তখন ‘পৃথিবী’, ‘পৃথিবী’ মনে হয়েছে। তবে কেন গোল বৃত্তের মাঝে এরকম রেখা টানলে সেটাকে পৃথিবীর মত মনে হয় সেটা নিয়ে মাথা ঘামাইনি। একটু বড় হয়ে জানতে পেরেছি পৃথিবী তার অক্ষের উপর ঘুরছে বলে দিন রাত হয় এবং সূর্যের সাপেক্ষে এটা একটু বাঁকা হয়ে আছে। (ঠিক করে বলা যায় ২৩-৫ ডিগ্রী) বলে শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম, বর্ষা এসব পাই। তা না হলে সারা বছর একই রকম থাকতো, একঘেঁয়েমিতে আমরা নিশ্চয়ই পাগল হয়ে যেতাম! ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যে দিন ছোট বড় হয় আমরা সবাই সেটা লক্ষ্য করেছি। কিন্তু তার সাথে আরো একটা ব্যাপার ঘটে সবাই সেটা লক্ষ্য করেনি। আমরা ধরেই নিয়েছি সূর্য পূর্ব দিকে উঠে পশ্চিমে অস্ত যায়, কিন্তু তার সাথে সাথে সেটা যে কখনো কখনো ঠিক মাথার উপর দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে যায় এবং কখনো কখনো একটু দক্ষিণে হেলে পড়া অবস্থায় পূর্ব থেকে পশ্চিমে যায়- সেটা কিন্তু সবাই জানে বলে মনে হয় না। সত্যি কথা বলতে কী পৃথিবীর সব মানুষ কিন্তু দাবি করতে পারবে না যে, তারা বছরের কোনো না কোনো সময় সূর্য ঠিক তাদের মাথার উপর দিয়ে যেতে দেখেছে। পৃথিবীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকার ছোট একটা অংশের মানুষের সূর্যকে ঠিক মাথার উপর দিয়ে যেতে দেখার সৌভাগ্য হয়।

সৌভাগ্য শব্দটা ব্যবহার করেছি তার একটা কারণ আছে। কারণ সূর্য যখন ঠিক মাথার উপর থাকে তখন আমরা অবাক হয়ে দেখি মাটিতে আমাদের যেন কোনো ছায়া নেই! বিষুব রেখার আশে পাশে শুধু বিষুবীয় অঞ্চলে সেটা ঘটে এবং সবচেয়ে উত্তরে যেখানে সেটা ঘটে সেটাকে একটা রেখা দিয়ে নির্দিষ্ট করা আছে এবং সেই রেখাটির নাম কর্কট ক্রান্তি। ঠিক সেরকম দক্ষিণে যে পর্যন্ত এটা ঘটতে পারে সেটা আরেকটা রেখা দিয়ে নির্দিষ্ট করা আছে, সেই রেখাটির নাম মকর ক্রান্তি। (কর্কট ক্রান্তি এবং মকর ক্রান্তির মতো আর দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেখা আছে দুই মেরুর কাছাকাছি কিন্তু সেখানে মানুষজন বেশি যায় না বলে আপাতত কিছু বলছি না। অল্প জায়গার ভেতরে অনেক বেশি জ্ঞান দেয়ার ঝুঁকি নিয়ে হলেও আর দুটো তথ্য দিয়ে শেষ করে দিই। কর্কট ক্রান্তি, মকর ক্রান্তি এবং বিষুব রেখা নামে পূর্ব পশ্চিম বিস্তৃত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রেখার কথা বলা হয়েছে। মাপ জোক করার জন্য উত্তর দক্ষিণ বিস্তৃত রেখারও প্রয়োজন। সে জন্য গ্রিন উইচকে শূন্য ডিগ্রি ধরে উত্তর-দক্ষিণ বিস্তৃত একটি রেখা ধরে নেয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তখন ৯০ ডিগ্রি, ১৮০ ডিগ্রি এবং ১৭০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার রেখাগুলোর একটা বাড়তি গুরুত্ব চলে আসে। আমরা যখন পৃথিবী আঁকি তখন একটা বৃত্ত এঁকে তার মাঝখানে এই রেখাগুলো আঁকার চেষ্টা করি এবং তখন বৃত্তটাকে পৃথিবীর পৃথিবী মনে হয়!

যারা এখন পর্যন্ত ধৈর্য ধরে আমার লেখাটি পড়ে এসেছেন এবং আমি কী বলার চেষ্টা করেছি বোঝার চেষ্টা করেছেন- তারা যদি বিষয়টা পুরোপুরি নাও বুঝে থাকেন তাদেরকে আমি খুব শর্ট কাটে মূল কথাটি বলে দিই। ভৌগলিক কারণে পৃথিবীতে তিনটি পূর্ব-পশ্চিম বিস্তৃত রেখা আছে সেগুলো হলো কর্কট ক্রান্তি, মকর ক্রান্তি এবং বিষুব রেখা। ঠিক সেরকম চারটি উত্তর-দক্ষিণ বিস্তৃত রেখা আছে সেগুলো হলো শূন্য ডিগ্রি, ৯০ ডিগ্রি, ১৮০ ডিগ্রি এবং ২৭০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা।এবারে একটা তথ্য দিতে পারি যেটা সবার জন্য নিঃসন্দেহে একটি চমকপ্রদ তথ্য হবে। চারটি উত্তর-দক্ষিণ রেখা এবং তিনটি পূর্ব-পশ্চিম রেখা, সব মিলিয়ে বারো জায়গায় ছেদ করেছে। নিঃসন্দেহে এই বারোটি বিন্দু হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বারোটি বিন্দু। বারোটি বিন্দুর দশটি বিন্দুই পড়েছে সাগরে মহাসাগারে তাই মানুষ সেখানে যেতে পারে না। একটি পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে সেখানেও জন-মানুষ যায় না। শুধু একটি বিন্দু (হ্যাঁ শুধু একটি মাত্র বিন্দু) পড়েছে শুকনো মাটিতে যেখানে মানুষ যেতে পারে, সেই বিন্দুটি পড়েছে আমাদের বাংলাদেশে। জায়গাটি ফরিদপুরের কাছে ভাঙ্গা উপজেলায়। কেউ যদি আমার কথা বিশ্বাস না করে গুগল ম্যাপে গিয়ে 23.5 N 90E লিখতে পারে সাথে সাথে সেটি কর্কট ক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা কোথায় ছেদ করেছে সেটা দেখিয়ে দেবে।সেই শৈশবে যখন বিষুব রেখা, কর্কট ক্রান্তি মকর ক্রান্তি এই বিষয়গুলো পড়েছি আমি তখন থেকে জানি বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কট ক্রান্তি গিয়েছে। সেটা গিয়েছে কুমিল্লা যশোর এই এলাকার উপর দিয়ে। কিন্তু ঠিক কোথায় সেই রেখাটি সেটা জানার অনেক কৌতুহল ছিল কিন্তু জানার কোনো উপায় ছিল না। কেউ একজন বলেছিল এটা নাকি কুমিল্লা শহরের টমসন ব্রিজের উপর দিয়ে গিয়েছে, আমি সেই জায়গাটা বের করে গিয়েছিলাম (আসলে তথ্যটি সঠিক নয়, প্রকৃত কর্কট ক্রান্তি আরও দুই কিলোমটার উত্তরে!)।এখন সস্তা থেকেও সস্তা টেলিফোনে জিপিএস থাকে তাই পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশ বের করে ফেলা যায়। কিন্তু আমি যে সময়ের কথা বলছি তখন পর্যন্ত জিপিএস সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়নি। দুই হাজার সালে সেটা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং বাজারে জিপিএস কিনতে পাওয়া যেতে থাকে। আমি একবার আমেরিকা গিয়েছি এবং সেখানে থেকে একটা জিপিএস কিনে এনেছি। সেই জিপিএসকে সম্বল করে আমি প্রথমবার ঢাকা চট্টগ্রাম রাস্তায় ঠিক কোথায় কর্কট ক্রান্তি পার হয়েছি সেটা বের করে আনন্দে চিৎকার করে উঠেছিলাম। আমার খুব ইচ্ছে হয়েছিল, যে রাস্তার পাশে একটা সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিই সেখানে লেখা থাকবে, “আপনারা এখন পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক রেখা কর্কট ক্রান্তি পার হতে যাচ্ছেন!” তবে আমার ইচ্ছে বাস্তবায়িত হয়নি আমি টের পেয়েছিলাম রাস্তার পাশে ইচ্ছা করলেই সাইনবোর্ড লাগানো যায় না। এবং আমি প্রতিবার কর্কট ক্রান্তি পার হলেই যেভাবে আনন্দে চিৎকার করি অন্য সবাই সেভাবে চিৎকার নাও করতে পারে!

খুব সঙ্গত কারণেই একদিন আমি তারপর একজনকে সাথে নিয়ে কর্কট ক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার ছেদ বিন্দুটি খুঁজে বের করার জন্য বের হলাম। আগেই ম্যাপে জায়গাটি দেখে রেখেছি কিন্তু ঠিক কোন দিক দিয়ে যেতে হবে জানি না। খুঁজে খুঁজে সেই জায়গাটি বের করতে হয়েছে, ভয় ছিল হয়তো গিয়ে দেখব আসলে সেটা একটা নদীর ভেতর কিংবা বিলের ভেতর পড়েছে। তখন আমার দুঃখের শেষ থাকবে না। কিন্তু দেখলাম জায়গাটি ছোট একটা রাস্তার পাশে একটা ক্ষেত। যখন আমি গিয়েছি তখন সেখানে মটরশুটি না হয় কলাই লাগানো হয়েছে। আমি কর্কট ক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমার ছেদ বিন্দুতে দাঁড়িয়ে একটা ছবি তুললাম। আমি নিশ্চিত জমি চাষ করার সময় অনেক মানুষ এই বিন্দুটির উপর দিয়ে হেঁটে গিয়েছে কিন্তু এই জায়গাটির অচিন্ত্যনীয় ভৌগলিক গুরুত্ব অনুভব করে সম্ভবত আর কেউ এখানে পা দেয়নি। প্রতি বছর জুন মাসের ২১ তারিখ (অর্থাৎ ঠিক এক সপ্তাহ আগে) দুপুর বারোটার সময় কেউ যদি বাইরে দাঁড়ায় এবং আকাশে মেঘ না থাকে তাহলে আবিষ্কার করবে সূর্য ঠিক মাথার উপর এবং সেজন্যে সেখানে তার

30/08/2019

বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় পাস নির্ধারণ করা হয় কীভাবে?
বিসিএস পরীক্ষায় তিন ক্যাটাগরিতে আবেদন করা যায়। জেনারেল ক্যাডার, টেকনিক্যাল ক্যাডার, বোথ ক্যাডার। আবেদন করার সময় আপনি যদি জেনারেল ক্যাডারে আবেদন করে থাকেন, তাহলে আপনাকে মোট ৯০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। জেনারেল ক্যাডারে যে ছয়টি বিষয়ের উপর.৯০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে তা নিম্নরূপ।
১। বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
২। ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৩। বাংলাদেশ বিষয়াবলি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৪। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি= ১০০ নম্বর
৫। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (৫০+৫০)= ১০০ নম্বর
৬। সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি = ১০০ নম্বর
প্রতিটি ২০০ নম্বরের পরীক্ষার সময় ৪ ঘণ্টা এবং প্রতিটি ১০০ নম্বরের পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টা। প্রতিটি বিষয়ে পাশ নম্বর ৫০%। মজার বিষয় হলো, প্রতিটি বিষয়ে ৫০% মার্ক না পেলেও আপনি লিখিত পরীক্ষায় পাস করবেন। কীভাবে? ৯০০ নম্বরের মধ্যে সব বিষয় মিলিয়ে ৪৫০ নম্বর পেলেই আপনি ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন।
তবে প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৩০% অর্থাৎ আপনাকে ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬০ নম্বর এবং ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩০ নম্বর পেতে হবে। এখন কথা হলো, কেউ যদি কোন বিষয়ে ৩০% এর কম পান তাহলে তিনি কি ফেল করবেন? না, তিনি ফেল করবেন না। যে বিষয়ে তিনি ৩০% এর কম নম্বর পাবেন সেই বিষয়ের কোন নম্বর উনার মোট নম্বরের সাথে যোগ হবে না। মনে করুন, কোন পরীক্ষার্থী সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ২৯ নম্বর পেলেন, তাহলে উনার এই নম্বর বাকি পাঁচটা বিষয়ের মোট নম্বরের সাথে যোগ হবে না। ফলে সাধারণ বিজ্ঞানের এই ২৯ নম্বর বাদেই যদি পরীক্ষার্থী বাকি পাঁচটা বিষয়ে ন্যূনতম ৪৫০ নম্বর পান, তাহলে তিনি ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন।
আপনি যদি টেকনিক্যাল ক্যাডারে আবেদন করে থাকেন, তাহলেও আপনাকে মোট ৯০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। টেকনিক্যাল ক্যাডারে যে ছয়টি বিষয়ের উপর ৯০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে তা নিম্নরূপ।
১। বাংলা প্রথম পত্র= ১০০ নম্বর
২। ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৩। বাংলাদেশ বিষয়াবলি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৪। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি= ১০০ নম্বর
৫। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (৫০+৫০)= ১০০ নম্বর
৬। স্নাতকে পঠিত বিষয়= ২০০ নম্বর
টেকনিক্যাল ক্যাডারেও ৯০০ নম্বরের মধ্যে সব বিষয় মিলিয়ে ৪৫০ নম্বর পেলেই আপনি ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন। তাছাড়া জেনারেল ক্যাডারের জন্য যেসব নিয়ম প্রযোজ্য, টেকনিক্যাল ক্যাডারের জন্যও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
আপনি যদি বোথ (জেনারেল ও টেকনিক্যাল) ক্যাডারে আবেদন করে থাকেন, তাহলে আপনাকে মোট ১১০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। বোথ ক্যাডারে যে সাতটি বিষয়ের উপর ১১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে তা নিম্নরূপ।
১। বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
২। ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৩। বাংলাদেশ বিষয়াবলি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৪। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি= ১০০ নম্বর
৫। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (৫০+৫০)= ১০০ নম্বর
৬। সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি= ১০০ নম্বর
৭। স্নাতকে পঠিত বিষয়= ২০০ নম্বর
এখন কথা হলো, যারা শুধু জেনারেল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের জন্য পরীক্ষা দিবেন, তাঁরা ৯০০ নম্বরের পরীক্ষা দিবেন এবং ৪৫০ নম্বর পেলেই ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন। কিন্তু বোথ ক্যাডারদের তো ১১০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে সেক্ষেত্রে তাদের পাস নম্বর কত হবে?
বোথ ক্যাডারের ক্ষেত্রে প্রথমে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ৯০০ নম্বর বিবেচনায় নেয়া হবে। এই ৯০০ নম্বরের মধ্যে প্রার্থী যদি ৪৫০ নম্বর পান, তাহলে তিনি জেনারেল ক্যাডারে ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন।
১। বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
২। ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৩। বাংলাদেশ বিষয়াবলি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৪। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি= ১০০ নম্বর
৫। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (৫০+৫০)= ১০০ নম্বর
৬। সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি= ১০০ নম্বর
এরপর উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলোর মধ্যে থেকে বাংলা ২য় পত্র এবং সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মোট ২০০ (১০০+১০০) নম্বর বাদ দিয়ে এগুলোর পরিবর্তে অনার্সে পঠিত বিষয়ের ২০০ নম্বর যোগ করুন। এবার নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ৯০০ নম্বরের মধ্যে প্রার্থী যদি ৪৫০ পান, তাহলে তিনি টেকনিক্যাল ক্যাডারের ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন।
১। বাংলা প্রথম পত্র= ১০০ নম্বর
২। ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৩। বাংলাদেশ বিষয়াবলি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৪। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি= ১০০ নম্বর
৫। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (৫০+৫০)= ১০০ নম্বর
৬। স্নাতকে পঠিত বিষয়= ২০০ নম্বর
এভাবে যদি তিনি একই সাথে জেনারেল ক্যাডার এবং টেকনিক্যাল ক্যাডারে ভাইভার জন্য নির্বাচিত হোন, তাহলে তিনি বোথ ক্যাডারে ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন।
বোথ ক্যাডারে আবেদন করে ১১০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে টেকনিক্যাল পরীক্ষায় (স্নাতকে পঠিত বিষয়) ফেল করলেও আপনার মোট নম্বর যদি ৫৫০ নম্বর হয়, তাহলে আপনি বোথ ক্যাডারেই পাস করবেন। আর ৪৫০ নম্বর হলে শুধু জেনারেল ক্যাডারে পাস করবেন। এভাবে বোথ ক্যাডারে আবেদন করে শুধু টেকনিক্যাল ক্যাডারেও পাস আসা সম্ভব। তবে একটা কথা মনে রাখবেন, সব পরীক্ষায় আপনাকে উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই হবে।
সৈকত তালুকদার
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে কর্মরত!

13/09/2018

বিসিএসে সবচেয়ে ভাল ক্যাডার কোনটি
............................................................
Shamim Anwar
এএসপি (RAB), ৩৪তম বিসিএস (পুলিশ);
[ বর্তমানে র‍্যাব-৯ এর এএসপি পদে সিলেটে কর্মরত ]
............................................................
বিসিএসের আবেদন ফর্ম পূরণের সময় একজন প্রার্থী যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন, তা হল কোন ক্যাডারটি তিনি ফার্স্ট চয়েস হিসেবে দিবেন। দ্বিধা নিরসনে অনেকেই বিভিন্ন ক্যাডারের সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে জানতে চান। আজকের পোস্টে সে সম্পর্কেই আলোচনা থাকছে।
প্রথমত জেনে রাখুন, কোন ক্যাডারই নিরঙ্কুশ ভাল কিংবা মন্দ নয়। প্রতিটারই তুলনামূলক সুবিধা-অসুবিধার দিক রয়েছে। আপনার ব্যক্তিত্ব, চাওয়া,স্বপ্নের সাথে প্রতিটি ক্যাডারের সুবিধা অসুবিধার দিকটি সমন্বয় করেই আপনি আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ ক্যাডার নির্বাচন করবেন।
আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সহজ করতে আলোচিত কিছু ক্যাডারের ইতি ও নেতিবাচকতা সংক্ষপে তুলে ধরছিঃ
পুলিশঃ
ছোটবেলা থেকে মুগ্ধনয়নে হুশ করে বেরিয়ে যাওয়া পুলিশের গাড়ি, পুলিশ সুপারের নয়নাভিরাম বাংলো, ইউনিফরম, র‍্যাংকব্যাজ দেখে আসছেন, দেশী-বিদেশী লেখকদের উপন্যাস /ফিকশন পড়ার সময় নিজেকে পুলিশ অফিসার হিসেবে ভেবে কল্পনার রাজ্যে ভেসে বেড়িয়েছেন। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করে আপনিও হতে পারেন অনেক স্বপ্ন - কল্পনার সেই বাহিনীর একজন উর্ধবতন কর্মকর্তা।
সুবিধাঃ
-----------
১. বিপন্ন মানুষকে সরাসরি সাহায্যের হাত বাড়ানো ও বিপদমুক্ত করার ক্ষমতা।
২. অন্যান্য ক্যাডারের মতো মূল বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার ভাতা।যেহেতু অফিসের বাইরে কাজ থাকে বেশি সেক্ষেত্রে বেতনের অতিরিক্ত দৈনিক ভাতা সবচেয়ে বেশি । ঢাকার বাইরে এর হার ৫০০, ঢাকায় ৬৫০ টাকা ।বিশেষ ভাতাও থাকবে যেমন র্যাবে অতিরিক্ত ৭০%, ট্রাফিকে ৩০%, ডিএমপিতে বিশেষ ভাতা প্রায় ৭০%, সি আই ডি, পুলিশ হেডকোয়াটার্সএ ৫০% ইত্যাদি ।
৩.রেশনঃ ৪ জনের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত রেশন দেওয়া হয়।
৪. সার্কেল বা জেলার দায়িত্ব পেলে সুপরিসর- সুসজ্জিত বাংলো পাওয়া যায়। সম্প্রতি পুলিশের জন্য নতুন নতুন আবাসিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।
৫.প্রচুর বিদেশে প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণের সুবিধা।
৬.অন্যান্য ক্যাডারদের মতো বিপুল সংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তা এখন উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ গমন করছেন। পুলিশে ট্রেনিং শেষে রাজশাহী বিশ্বদ্যিালয় থেকে পুলিশ সাইন্সে মাস্টার্স দেওয়া হয়। পাবলিক ভার্সিটির একটা মাস্টার্স ডিগ্রী!! কম কি! এছাড়া ও এফ বি আই এর মতো সংস্থার সাথেও পড়াশুনা ও ট্রেনিং এর সুযোগ পাওয়া যায়।
৮. ন্যুনতম তিনবার জাতিসংঘ শান্তি মিশনে যেয়ে বিশ্বশান্তি তে অবদান রাখার পাশাপাশি নিজে কোটিপতি হবার সুযোগ।
৯.মেয়েদের অগ্রাধিকারঃ অনেকেই ভুল ধারনা পোষণ করেন যে, পুলিশের চাকুরী মেয়েদের জন্য উপযুক্ত নয়। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি বাংলাদেশ পুলিশে নারী সদস্যরা যে সম্মান এবং অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন, অন্য কোন পেশায় সে মর্যাদা তারা ভোগ করেন না।
১০.আন্তঃবাহিনী পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ
১১.পদোন্নতি ভাল। ভবিষ্যতে উপরের দিকে পদসংখ্যা বাড়লে পদোন্নতি আরো তরান্বিত হবে।
১২. ইউনিফরম ভাল না লাগলে সিভিল ড্রেসে এসবি, ডিবিতে কাজের সুযোগ। তাছাড়া
পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য এনএসআই, দুদক প্রভৃতি সংস্থায় প্রেষণে দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।
১৩.পারিবারিক সুরক্ষাঃআপনি পুলিশ হয়েছেন মানে আপনি ও আপনার পরিবারের সদস্যবর্গ সমাজের খারাপ মানুষদের হাত থেকে নিরাপদ। আপনার বা আপনার স্বজনদের ক্ষতি করার চিন্তা দূরে থাকুক, বরং অতীতে কোন ভুল হয়ে থাকলে সেজন্য এসে ক্ষমা চেয়ে যাবে।
অসুবিধাঃ
---------------
১. কাজের প্রেসার খুব বেশি। শুক্র-শনি বলে কিছু নেই, কখনো কখনো কর্মক্ষেত্রে ঈদও করতে হতে পারে।
২. ছুটি কম
৩. পদোন্নতি বিষয়ক জটিলতা বিদ্যমান। তবে আশা করা যায় শিগগির এই জটিলতা মিটে যাবে।
৪.স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রেশার গ্রুপের চাপের যে বিষয়টি খুব আলোচিত হয়, তবে আমরা বর্তমানে যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের পথে এগিয়ে চলেছি, সেখানে সকল প্রকার চাপমুক্ত কর্মদক্ষ একটি পুলিশ প্রশাসনই বিদ্যমান থাকবে, নিশ্চিত থাকুন।
ক্যারিয়ার প্রসপেক্টসঃ
---------------------------------
আপনি চাকুরিতে যোগদানের পর ট্রেনিং শেষে আপনি দুই/তিনটি থানার সমন্বয়ে গঠিত সার্কেলের দায়িত্ব পাবেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে হবেন এডিশনাল এসপি বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। এরপর একটি জেলার আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব নিতে পুলিশ সুপার পদে দায়িত্ব পাবেন। এরপর যথাক্রমে এডিশনাল ডিআইজি, ডিআইজি, এডিশনাল আইজি, আইজিপি পদে উন্নীত হবার সুযোগ আপনার জন্য অবারিত থাকবে।
প্রশাসনঃ
সুবিধা
----------
১.এই ক্যাডারের দায়িত্ব মাঠ প্রশাসনে অন্য সব ক্যাডারের মধ্যে সমন্বয় সাধন। তাই সহজেই আপনি সবার মধ্যমণি হয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন।
২. সচিবালয়ের উপসচিব ও তার উপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তাবৃন্দের ৭৫% ই এই ক্যাডার থেকে নিয়োগ লাভ করেন।
৩. জনগনের সরাসরি সেবায় আত্মনিয়োগ করতে চাইলে এডমিন ক্যাডারের বিকল্প নেই।
৪. অন্য সব ক্যাডারের মধ্যে এডমিন ক্যাডাররাই সর্বোচ্চ ফরেন ডিগ্রী অর্জনের সুযোগ পান। স্কলারশিপ ও প্রচুর।
৫. লজিস্টিক সুবিধা ভাল।
৬. মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিচারিক দায়িত্ব পালন।
৭.সরকারের পক্ষে এই ক্যাডার মাঠ প্রশাসনে নেতৃত্ব দেয়।
৮. প্রেষণে বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ লাভের সুযোগ।
অসুবিধাঃ
---------------
(পুলিশ ও প্রশাসন ক্যাডারের অসুবিধা প্রায় একই)
১. কাজের প্রেসার খুব বেশি। শুক্র-শনি বলে কিছু নেই, কখনো কখনো কর্মক্ষেত্রে ঈদও করতে হতে পারে।
২. ছুটি কম
৩. পদোন্নতি বিষয়ক জটিলতা বিদ্যমান। তবে আশা করা যায় শিগগির এই জটিলতা মিটে যাবে।
ক্যারিয়ার প্রসপেক্টঃ
------------------------------
চাকুরির শুরুতে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দায়িত্ব পাবেন। সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা থেকে শুরু করে পাবলিক পরীক্ষায় ম্যাজিস্ট্রিয়াল দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজে নিয়োজিত থাকবেন।
দুই তিন বছরের মধ্যে এসি ল্যান্ড হিসেবে এলাকাবাসীর সবচেয়ে জটিল সমস্যা- ভূমি সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আপনার ওপর বর্তাবে।
৫-৬ বছর পর UNO হবেন ( ৩০তম বিসিএসের অফিসারেরা ইউএনও হয়ে গেছেন)। উপজেলা লেভেলে মাননীয় সংসদ সদস্যের অনুপস্থিতিতে আপনি হবেন সকল অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে অটো চয়েস। সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আপনি সকল বিভাগ ও দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর আপনি হবেন একটি জেলার ডিসি। আর ডিসি হিসেবে আপনি বলতে গেলে ওই জেলার রাজা। ( যদিও আমি রাজাপ্রজা এই ধারনার বিপক্ষে,আমরা সবাই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী) সার্বিক প্রশাসনিক দায়িত্ব আপনার হাতে ন্যস্ত থাকবে।
এরপর আপনি সচিবালয়ে যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব এবং সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
ট্যাক্সঃ
সুবিধাঃ
-----------
১.একজন ট্যাক্স ক্যাডার কর্মকর্তা ' এসিসট্যান্ট কমিশনার অব ট্যাক্সেস ' পদে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন।
সরকারের কর রাজস্ব সংগ্রহ করাই তাঁদের দায়িত্ব।
২.ঝামেলামুক্ত কিন্তু আর্থিক স্বাচ্ছন্দে যারা দিনাতিপাত করতে চান, চাকুরী জীবনের মধ্যে ব্যক্তিগত জীবনকে হারিয়ে খুঁজতে যারা অনিচ্ছুক, তাদের জন্য এ ক্যাডার ভাল চয়েস হতে পারে।
৩.এই ক্যাডারে প্রমোশন গ্রোথ সন্তোষজনক। লজিস্টিক সুবিধা, যেমন গাড়ি ইত্যাদি পর্যাপ্ত।
৪.বেতনভাতার বাইরে বৈধ উপায়ে বড় অংকের টাকা নিয়মিত আয় করতে চান, আপনার জন্য ট্যাক্স ক্যাডারের বিকল্প নেই। আয়কর ফাঁকি যদি ধরতে পারেন, সেটার নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজ Grant of Rewards পাবেন। ৫.ট্যাক্সেশন ও কাস্টমস দুটো ক্যাডারই এনবিআরের অধীনে কাজ করলেও ট্যাক্স ক্যাডাররা কাস্টমস ক্যাডারদের তুলনায় NBR এর মেম্বার বেশি হন।
অসুবিধাঃ
-------------
১.উচ্চবিত্ত সমাজ আপনাকে যথেষ্ঠ সমীহের চোখে দেখলেও পুলিশ বা প্রশাসন ক্যাডারের মতো পাওয়ার প্র‍্যাকটিসের সুযোগ নেই।
২.আয়কর রিটার্ন এর সময় খুব ব্যস্ত সময় পার করতে হবে, তখন প্রায়ই নাওয়া খাওয়া ভুলে যাওয়ার মতো অবস্থায় পড়তে হতে পারে।
৩.ঢাকার বাইরে পোস্টিং এর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে।
কাজের সফট পরিবেশ, আর্থিক- অনার্থিক সুযোগ সুবিধা মিলিয়ে এটি সিভিল সার্ভিসের অন্যতম আকর্ষণীয় ক্যাডার হিসেবে পরিগণিত হয়।
আনসারঃ
সুবিধাঃ
-----------
১.অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় এই ক্যাডারের সদস্যরা অনেক নির্ঝঞ্ঝাট, চাপমুক্ত চাকুরী জীবন অতিবাহিত করতে পারেন।
২.রেজিমেন্টাল লাইফ ( স্যালুট, ইউনিফরম, অস্ত্র) যাদের পছন্দ, তারা নিশ্চিন্তে এই ক্যাডারটিকে পছন্দ তালিকার ওপরের দিকে রাখতে পারেন।
৩.লজিস্টিক সুবিধা সন্তোষজনক।
৪.সার্বক্ষণিক গাড়ি ও বাসস্থান সুবিধা পাবেন।
৫.প্রমোশন গ্রোথ খুব ভাল।
৬.র‍্যাব, এসএসএফ সহ সকল আন্তঃবাহিনী ( সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিমান ও নৌবাহিনী) ফোর্সে কাজ করার সুযোগ।
৭. পুলিশের বাইরে একমাত্র এই ক্যাডারের অফিসাররা রেশন ও UN মিশনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
অসুবিধাঃ
-------------
১.উপরের দিকের পদসমূহে সেনাবাহিনীর অফিসাররা দায়িত্ব পালন করেন। তাই প্রমোশন একটা পর্যায়ে এসে আটকে যায়।
২. এ বাহিনী পুলিশের মতো আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ নয়।
নিরীক্ষা ও হিসাবঃ
সুবিধাঃ
-----------
১.পুলিশ ও এডমিন ক্যাডারের মতো আইনপ্রয়োগের ক্ষমতা না থাকলেও বেতনভাতা, পেনশন ও আর্থিক বিষয়াদি নিরীক্ষণের ক্ষমতা থাকায় অন্য সব ক্যাডাররাই এই কাডারকে সম্মানের চোখে দেখে থাকে।
২. এই ক্যাডার খুব ভাল আবাসিক ও পরিবহণ সুবিধা পেয়ে থাকে, যা অন্য অনেক ক্যাডারের জন্যই ঈর্ষনীয়।
৩. কাজের ক্ষেত্রে অনৈতিক চাপ ও তদবির কমই ফেস করতে হয়।
৪.প্রমোশন খুব ভাল।
৫. অফিসারের সংখ্যা অত বেশি নয় বলে লজিস্টিক সুযোগসুবিধা পর্যাপ্ত।
৬. দেশবিদেশে প্রচুর ট্যুর এন্ড ট্রেনিং।
৭. গ্রামে গঞ্জে চাকুরী করার প্রয়োজন পড়বে না।
অসুবিধাঃ
--------------
১. সাধারণ মানুষ এই ক্যাডারের কর্মপরিধি সম্পর্কে কমই অবগত থাকে। তাই প্রায়শ তাদেরকে বলে বুঝাতে হবে যে আপনিও একজন বিসিএস ক্যাডার।
২. বিশেষ বিশেষ সময় ( যেমন জুন ক্লোজিং) ব্যস্ততা প্রচণ্ড রকম বেড়ে যায়।
৩. যেহেতু অন্যের ভুলত্রুটি ধরাই কাজ, তাই সবার কাছে এই ক্যাডার কাবাব মে হাড্ডি, প্রিয়পাত্র হবার সুযোগ কম।
ইকনমিকঃ
সুবিধাঃ
-----------
১. যেহেতু এই ক্যাডারের কর্মকাণ্ড মূলত সচিবালয় কেন্দ্রিক, তাই যারা ঢাকায় থাকাকেই সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেন,তাদের জন্য এটাই হতেই পারে ফার্স্ট চয়েস।
২. পদোন্নতির সুযোগ ভাল।
৩. বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করার সুযোগও হরহামেশাই মিলেলে থাকে।
৪. ফরেন ট্রেনিং, হায়ার এডুকেশন, ট্যুর এত্ত বেশি যে, বিমান চড়তে চড়তে ( সরকারের পয়সায়) বিরক্তি এসে যেতে পারে(!!!)
৫. একাধিক ইকনমিক ক্যাডার কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খুব শিগগির এই ক্যাডার প্রশাসন ক্যাডারের সাথে মার্জ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটা হলে আপনি ইকনোমিক ক্যাডারের মাধ্যমে আসলে প্রশাসন ক্যাডারেই ঢুকলেন।
অসুবিধাঃ
-------------
১.ঊর্ধ্বতন পদ এডমিনের। তাই প্রমোশন একটা পর্যায়ে আটকে যাবে।
পররাষ্ট্র ক্যাডারঃ
আপনি যদি বহির্বিশ্বে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে আগ্রহী হন, পাশাপাশি কূটনীতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশের মাটিতে বিশেষ সম্মান লাভ করতে চান, তাহলে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেওয়ার বিকল্প নেই। তবে এই মহার্ঘ সুযোগটি বগলদাবা করতে হলে বিসিএসের চুড়ান্ত মেধাতালিকায় আপনার স্থান একেবারে শুরুর দিকেই নিশ্চিত করতে হবে।যাদের শুধু দেশ বিদেশ ঘুরেই মন ভরে না, ক্ষমতা প্রয়োগ করতেও মন চায় তাদের এ ক্যাডার চয়েস না দেওয়াই ভাল। এ ক্যাডার চয়েস যারা দিবেন বৈশ্বিক ঘটনাবলি ও ইংরেজিভাষার ওপর আপনার ভাল দখল আছে, বিষয়টি নিশ্চত করুন। এ ক্যাডার থেকে আপনি সচিবও হতে পারবেন।এই সার্ভিসকে বাংলাদেশের গ্ল্যামারাস চাকুরিগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সুবিধাঃ
------------
১. বিদেশে পোস্টিং পেলে কূটনৈতিক সুবিধা, বিশাল অংকের স্যালারির পাশাপাশি উপভোগ্য জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া যায়;
২. আপনি যে দেশে কর্মরত থাকবেন,সেখানে নিজের পরিবার পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারবেন। আপনার পরিবারের সদস্যবর্গ কূটনীতিক না হয়েও কূটনৈতিক সুযোগসুবিধা পাবেন।
৩.আপনার সন্তান বিদেশে পড়াশুনা করে ছোটবেলা থেকেই বিশ্বনাগরিক হয়ে বেড়ে উঠুক, বাবা/মা হিসেবে আপনি তা নিশ্চয়ই চাইবেন।
৪.আপনি যেহেতু বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাই সরকার নিজের গরজেই আপনাকে বিশ্বজোড়া নামীদামী প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করাররার সুযোগ করে দিবে।
৫.এমনকি দেশে কর্মরত থাকলেও বিদেশে অনেক ট্যুর পাবেন।
৬.পোস্টিং প্রাপ্ত দেশের উপরমহলে আপনার যেমন অবাধ যাতায়াত থাকবে, তেমনি আমাদের দেশের রথীমহারথীরা যখন ওই দেশ সফরে যাবেন, তখন তাদের সাথেও ঘনিষ্ঠ ভাবে মেশার সুযোগইপাবেন।
৭.দেশ থেকে আপনি এমনকি আপনার কাজের লোকও বাছাই করে আপনার পোস্টিং প্রাপ্ত দেশে নিয়ে যেতে পারবেন।
৮.যেহেতু বিভিন্ন দেশে নিত্যনতুন এম্ব্যাসি খোলা হচ্ছে, তাই নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র খোলা ও পদ সৃজনের সাথে প্রমোশন গ্রোথ বাড়বে নিঃসন্দেহে।
৯.সৎভাবে মানসম্পন্ন জীবনযাপন করতে পারবেন
১০.জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় পোস্টিং ( প্রেষণ) এর সুযোগ পাবেন।
অসুবিধাঃ
--------------
১.খুব কম পদের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রচার হয়ে থাকে, তাই এই ক্যাডারে সুপারিশকৃত হওয়া অন্য সকল ক্যাডারের তুলনায় কঠিন।
২.যেহেতু জনবল অনেক কম, কাজের চাপ অনেক বেশি;
৩.যাদের উন্নত, উপভোগ্য জীবনেই মন ভরে না, পাওয়ার প্র‍্যাকটিস করার বাসনাও জাগে, তাদের জন্য এই ক্যাডার নয়।
৪.আপনি যে রাতদিন খেটে দেশের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছেন, তার স্বীকৃতি দেশের মানুষের কাছে থেকে কদাচিৎই পাবেন। কারন দেশের মানুষ চোখের সামনে প্রতিনিয়ত এএসপির মাদকবিরোধী অপারেশন বা ম্যাজিস্ট্রেটের মোবাইল কোর্ট দেখে যাচ্ছেন, আপনার ত্যাগের ইতিহাস তাদের কাছে অজানাই রয়ে যায়।
সবার জন্য শুভকামনা রইল।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Dhaka