26/08/2024
আলহামদুলিল্লাহ।
বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকার পেয়ে আমরা ছাত্র-জনতা অনেক আনন্দিত। যদিও এখন আমাদের অতি সংকটকাল এবং দেশ বন্যায় প্লাবিত। বন্যার্তদের জন্য সকলকে সহযোগিতার করা সবিনয় অনুরোধ করছি।
গত ফ্যাসিস্টবাদী সরকার, জনগণের সব অর্থ প্রচার করে নিয়ে গেছে। এমন সময় আমাদের কারো কোন দাবি থাকা উচিত নয়।
বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকারকে অবশ্যই আমাদের সময় দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। নয়তো এ স্বাধীনতা আমরা ধরে রাখতে পারবো না। জাতীয় বীর শহীদ আবু সাঈদ সহ সকল শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এ স্বাধীনতা রক্ষা করা প্রয়োজন। এ মুর্হূতে আমাদের যত দাবি-দাওয়া, সেগুলো হয়তো আমরা সরাসরি আন্দোলনে না গিয়ে স্মারকলিপি, সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুক পোস্ট অথবা বিভিন্ন গণমাধ্যম তথা জাতীয় পত্রিকার মাধ্যমে সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারি। একই সঙ্গে, আমরা ছাত্র-জনতা বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকার উদ্দেশ্য নিকট কিছু কথা উপস্থাপন চাই যে,
আমরা যেহেতু আপনাদের বিশ্বাস করে ক্ষমতা দিয়েছি, সেহেতু আপনারা (বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকার) আমাদের পূর্ণ বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবেন। এটাই আমরা আপনাদের কাছে আশাবাদী।
আপনারা ছাত্র-জনতার চাহিদা বুঝেন এবং জানেন। আমরা আপনাদের কাছে একটা বৈষম্যমুক্ত শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ চাই। যেখানে সুশাসন, সুবিচার, সুশিক্ষা, সুচিকিৎসা, ইত্যাদির ব্যবস্থা থাকবে।
সেখানে দূর্নীতি মুক্ত থাকবে।
সকল পর্যায়ের সামরিক-বেসামরিক সরকারি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিটি ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা থাকবে।
দূর্যোগকালীন সময়ের জন্য দূযোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সকল ধরনের সহযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে।
স্বাস্থ্যখাতে অর্থাৎ সরকারি হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সুচিকিৎসার ব্যবস্থার থাকবে। সরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত প্রতিদিন আট ঘন্টা কর্মে নিযুক্ত থাকবে-এটা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে, বহিঃবিভাগেও মেডিক্যাল অফিসার থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত রোগীকে সেবা প্রদানে নিশ্চিত করা।
নতুন একটা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন থাকবে। যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিমূলক থাকবে। সেখানে নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা থাকবে সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিক।
আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থার জন্য থাকবে একটা আইন শৃঙ্খলা কমিশন। যেখানে প্রতিটি অপরাধের তদন্ত কমিটি থাকবে। সেখানে দায়িত্ব থাকবে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। কাকে দায়িত্ব বা নিয়োগ দেওয়া হবে সেটা শুধু জানবে সরকার।
একটা অস্থায়ী নির্বাচন কমিশন থাকবে। যখন ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হবে, তখন বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক-বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে দায়িত্ব প্রদান করা যেতে পারে। এখন যে নির্বাচন কমিশন আছে। যেখানকার স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা যেতে পারে।
ভোট গ্রহণের ক্ষমতা ছাত্র-জনতার নিকট ফিরিয়ে দিতে এ সরকার অঙ্গীকারভূক্ত। যেখানে গণতন্ত্র থাকবে। যেহেতু আমরা ১৫ বছর ভোট দিতে পারি নাই, সেহেতু আমরা আরো ততদিন ভোট দিতে চাই না। যতদিন না আমাদের এসব দাবি বা ব্যবস্থা পুরোপরি পূরণ না হয়।
এই মুহূর্তে আমাদের ভোটের প্রয়োজন নাই। এখন আমাদের প্রয়োজন একটা জবাবদিহিমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করা।
যেহেতু ছাত্র-জনতা কাছে আপনারা (বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকার) বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে অঙ্গীকারবদ্ধ। সেহেতু আপনারা একটা আত্মনির্ভরশীল সমৃদ্ধ্বশীল বাংলাদেশ গড়বেন-ইনশাআল্লাহ।
এটাই আপনাদের নিকট আমাদের প্রত্যাশা।
আমার লেখার মধ্যে কোন ভুল-ক্রুটি হলে, ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সঠিক কথা কমেন্টে উপস্থাপন করবেন।
ধন্যবাদ।