21/09/2017
কোন এক বাদলা দিনে...!
ছবি- Masud Hasan
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ঐতিহ্যবাহ?
স্যার এ এফ রহমান হলের নামকরণ ও স্যার এ এফ রহমান-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
২১/০৮/১৯৭৬ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালী উপাচার্য ও প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ স্যার এ এফ রহমানের নামানুসারে তদানীন্তন ১ নম্বর হোস্টেলের নাম “এ এফ রহমান হল” রাখা হয়। সে সময় হলের নামের সঙ্গে ‘স্যার’ শব্দটি যুক্ত ছিল না। পরবর্তীতে ১৩/০৩/২০১৪ খ্রি. তারিখে ঢা
21/09/2017
কোন এক বাদলা দিনে...!
ছবি- Masud Hasan
18/09/2017
প্রিয় আঙ্গিনা।
ছবি- শিবলী হাসান জয়
11/09/2017
আলোয় ভুবন ভরা!
10/08/2017
যেন মন হারিয়ে যায়, কোন এক রূপকথার দেশে...
বার্ষিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০১৬তে স্যার এ এফ রহমান হল
সেজেছিল এমনই অপরূপ সাজে।
19/03/2017
03/02/2017
১ জুলাই ২০১৬।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে- স্যার এ এফ রহমান হল।
11/08/2016
Inner View! 😍
Photo: Masud Hasan
15/06/2016
বৃষ্টির দিনে হল গেইট!
ছবি - Masud Hasan
19/03/2016
FRDC-এর বিতর্ক উৎসব উপলক্ষে অন্য সাজে স্যার এ এফ রহমান হল!
স্যার এ এফ রহমান হলের নামকরণ ও স্যার এ এফ রহমান-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
২১/০৮/১৯৭৬ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালী উপাচার্য ও প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ স্যার এ এফ রহমানের নামানুসারে তদানীন্তন ১ নম্বর হোস্টেলের নাম “এ এফ রহমান হল” রাখা হয়। সে সময় হলের নামের সঙ্গে ‘স্যার’ শব্দটি যুক্ত ছিল না। পরবর্তীতে ১৩/০৩/২০১৪ খ্রি. তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের একটি সভায় হলের নামের সঙ্গে ‘স্যার’ শব্দটি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে হলটির নাম হয়- “স্যার এ এফ রহমান হল”।
স্যার এ এফ রহমান-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
স্যার এ এফ রহমান ১৮৮৯ সনের ২৮ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি শহরে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর আদি পিতৃ-ভিটা বাংলাদেশের ফেনী জেলায়। তাঁর পুরো নাম আহমেদ ফজলুর রহমান, তাঁর পিতার নাম মৌলভী আব্দুর রহমান এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা।
স্যার এ এফ রহমান ছিলেন প্রখর মেধার অধিকারী। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই তিনি তীক্ষ্ণ মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। ১৯০৮ সালে তিনি জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল থেকে বৃত্তিসহ প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯১২ সালে তিনি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে বিএ (সম্মান) ডিগ্রী অর্জন করেন। তারপর তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকনমিকস্-এ দু’বছর ‘পলিটিক্যাল ইকনমি’ বিষয়ে গবেষণার কাজ করেন।
স্যার এ এফ রহমান ১৯১৪ সালে ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং আলীগড় ‘অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ’এ (যা বর্তমানে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়) ইতিহাস বিভাগের লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। ঐ কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়, তিনি সেটির সদস্য মনোনীত হন, এবং কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হলে তার সংস্কারের জন্য গঠিত কমিটিতে তিনি সচিব নিযুক্ত হন।
‘কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিশন (স্যাডলার কমিশন)’এর একজন সদস্য হিসেবে স্যার এ এফ রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে এর প্রথম উপাচার্য স্যার পি জে হার্টগ এর অনুরোধে স্যার এ এফ রহমান আলীগড় ‘অ্যাংলো ওরিয়েন্টাল কলেজ’এর চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে রিডার (সহযোগী অধ্যাপক) হিসেবে যোগদান করেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হলের (বর্তমানে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল) প্রথম প্রভোস্ট নিযুক্ত হন।
মিষ্টভাষী স্যার এ এফ রহমান ছিলেন একজন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, রাজনীতিবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। তিনি ১৯২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটদের ভোটে তৎকালীন বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯২৭ সালের নভেম্বর মাসে পুনরায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নীলফামারী (বর্তমানে জেলা) আসন থেকে বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। আইন সভার সদস্য হিসেবে কাজের মেয়াদ শেষ হলে ১৯৩২ সালে তিনি বঙ্গীয় ভোটাধিকার কমিটি এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের সদস্য নিযুক্ত হন। ১৯৩৪ সালে স্যার এ এফ রহমান ‘ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড’এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মপটু স্যার এ এফ রহমানের কাজে মুগ্ধ হয়ে ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৪ সালের ১ জুলাই তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বাঙালি উপাচার্য হিসেবে তিনি ১৯৩৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কৃতিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। স্যার এ এফ রহমানের কৃতিত্ব ও গৌরবময় অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৯৩৭ সালে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল’ ডিগ্রী প্রদান করে। ঐবছরই তিনি ভারতের ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য নিযুক্ত হন। ব্রিটিশ সরকার আহমেদ ফজলুর রহমানের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৪২ সালে তাঁকে রাজকীয় ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী স্যার এ এফ রহমান ১৯৪৫ সালের ১০ ডিসেম্বর মাত্র ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্যসূত্র:
১। স্যার এ এফ রহমান হল কার্যালয়
২। বাংলাপিডিয়া
(লেখাটি সম্পাদনা করেছেন: স্যার এ এফ রহমান হলের আবাসিক ছাত্র
- মাসুদ হাসান)