06/02/2023
ঢাবির ১ম বর্ষের তিন শিক্ষার্থী রাতের বেলা ক্যাম্পাস এলাকায় কাভার্ড ভ্যান আটকিয়ে চালককে মারধর করে ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালানোর সময় পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে, পরে আদালতে সোপর্দ করে৷
১ম বর্ষে ঢাবিতে এসে একটা নম্র-ভদ্র, মেধাবী শিক্ষার্থী কীভাবে রাতারাতি মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারী বনে যায়, সেটার পেছনের দিকটা একটু খতিয়ে দেখার দাবী রাখে।
১ম বর্ষে গণরুমে থাকাকালীন সময়ে আমাদের ইমেডিয়েট সিনিয়ররা রাত ১২ টা পর্যন্ত গেস্টরুম নিতো। তারপর স্রেফ হুকুম জারি করতো, ❝সবগুলা রাতে বাহিরে থাকবি, তিনটার আগে যেনো কাউরে রুমে না দেখি। দেখলে অসুবিধা হবে।❞
ক্যাম্পাসের কোথায় কি লেখা আছে, কতবার লেখা আছে, স্থাপত্যকর্ম, যাবতীয় বিষয়ে এসাইনমেন্ট দিয়ে দিত।
এমনকি কনকনে শীতের রাতেও বাহিরে থাকা বাধ্যতামূলক ছিলো। পরীক্ষা, পড়াশোনা, অসুস্থতার বিষয়টা এক্ষেত্রে ভাইরা আমলে নিতো না, অল্প সময়ের জন্য হলেও বাহিরে থাকতেই হবে।
এক্ষেত্রে ভাইরা আমাদেরকে ঘুরার বিষয়ে তালিমও দিতো- ক্যাম্পাসে আসা ট্রাক আটকিয়ে রাতে ঘুরা এবং ড্রাইভারকে ভাড়া না দেওয়ার ব্যাপারেও কড়া হুশিয়ারি দিয়ে দিতো।
আর একটা কথা সব সময় বলতো, ❝তোরা ফাস্টিয়ার, ক্যাম্পাসে তোদের সাত খুন মাফ, শুধু নারী কেলেংকারী করবি না, তাহলে ভাইদের পাশে পাবি না।❞
তো, আমাদের সাথের পোলাপান প্রথম দিকে সবাই ট্রাক আটকিয়ে রাতের বেলা ঢাকা শহর ঘুরতো। কিছুদিন পরে আলাদা আলাদা সার্কেল হয়ে গেছে। রাতে বের করে দেওয়া পোলাপানদের মধ্যে মাদককেন্দ্রীক একটা সার্কেল গড়ে উঠছে, একাধিক হলের সমমনা ছেলেরা এই সার্কেলে যুক্ত, সার্কেলটাও স্ট্রোং। এরা উদ্যানে যায়, মাদক নেয়, মাদকের টাকা জোগাড় করতে ক্যাম্পাসে ছিনতাই করে- বহিরাগতদের আটকিয়ে মোবাইল - মানিব্যাগ নিয়ে যায়, গাঁজা-ইয়াবার ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে। ক্ষেত্রবিশেষে এরা ধরাও পড়ে, নেতারা গিয়ে নেগোসিয়েশন করে ছাড়িয়ে আনে, কদাচিৎ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এদেরকে হল থেকে বহিষ্কার করে, তারপরও এরা নেতার শেল্টারে হলে থাকে, ক্যাম্পাসে দিব্যি ঘুরে বেড়ায়, আগের চেয়ে অধিকতর দাপুটে ভাব নিয়ে অপরাধ কর্ম করে বেড়ায়, নেতারা নিজেদের স্বার্থেও এদেরকে পোষে...
এমনি করে অজপাড়া গাঁয়ের একটা সহজসরল-মেধাবী ছেলে পরিবেশ, প্রতিবেশের প্রভাবে রাতারাতি মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারীতে রূপ নেয়। নিকৃষ্ট সংস্কৃতি তাদেরকে গ্রাস করে ফেলে...