29/04/2024
স্যালাইনকে শরবত বা জুস ভাবা বন্ধ করুন এবং অবশ্যই ঔষধ মনে করুন।
আজকে সোনাগাজীতে ২১ বছর বয়সের একজন ছেলের রক্তে সোডিয়াম লবণ পেয়েছি ১৬০ (স্বাভাবিক হল ১৩৫ -১৪৫ )। তার ইতিহাস থেকে জানলাম পড়শু দিন গরম বেশি লাগায় সে ৩ টি স্যালাইন একসাথে মিশিয়ে এক গ্লাসে খেয়েছে। এরপর থেকে তার অস্থিরতা , মাংস ব্যথা ,মাথা ঘুরানো এবং তীব্র বমি ভাব হচ্ছে।
জটিলতায় চরম পর্যায়ে ব্রেইন কোমায় যেতে পারে , অতঃপর মৃত্যু । মৃত্যুর কারণ কেউ জানবেনা , বলবে কিভাবে কিভাবে যেন মরে গেল!!!!
কি করতে হবে ?
স্যালাইন খেতে হলে অবশ্যই ৫০০ মিলি পানিতে একটি স্যালাইন মিশিয়ে খেতে হবে।
-ডাঃ তানভীর মাহমুদ তৌহিদ
10/03/2024
ছবির এই লোক অসীম কুমার তালুকদার।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এডমিশন টেস্ট ছিল। এই লোক ৭০০ স্টুডেন্টের উপকার করেছেন। ঢাকা থেকে আসা একটি ট্রেনের ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়। থ্যাংকফুলি পশ্চিমাঞ্চল ট্রেনের এই মহাব্যবস্থাপক সেটা মনিটর করছিলেন।
নিজে রাবির ভিসি স্যারের সাথে কথা বলে পরীক্ষায় লেট এন্ট্রির ব্যবস্থা করেন এবং ওই নষ্ট ট্রেনের কাছাকাছি থাকা অন্য ট্রেনের ইঞ্জিন খুলে এটায় লাগিয়ে দ্রুত রাজশাহী পৌছানোর ব্যবস্থা করেছেন।
এত কষ্ট না করে নাকে তেল দিয়ে ঘুমালেও কারও কিছু করার ছিলনা। তবু একটু সহমর্মিতা দেখিয়েছেন বলে অন্তত ৭০০ স্টুডেন্টকে কাল চোখের পানি ফেলতে হয়নি।
অসংখ্য ধন্যবাদ অসীম কুমার তালুকদারকে
07/03/2024
দেশের ১০% মানুষের কাছে ৪০% ধনসম্পদ আছে। এরা যে সমাজব্যবস্থা সৃষ্টি করে সেটাকে বলে Plutarchy।
এই সমাজব্যবস্থায় ধনীরা ধনী হতে থাকবে, গরীব আরো গরীব হতে থাকবে আর মিডলক্লাস হলে মিডলক্লাসই থাকবে। এর উপরে যেতে পারবে না।
একজন Plutocrat নিজের ধনসম্পদ ব্যবহার করে পলিটিক্যাল পাওয়ার কিনে নেয়। এরা মানুষের সিম্প্যাথি অর্জন করার জন্য, ২০ কোটি টাকার হাত ঘড়ি পরে মানুষকে দান করে বেড়ায় আর সেটা প্রচার করে।
প্লুটোক্রাটরা সমাজকে Corrupt করে দুইটা উপায়ে একটা হল Greed আরেকটা হচ্ছে Hedonism।
'লোভ সব অনিষ্টের মূল'। আমরা ভাবি লোভ শুধু সম্পদের হয়। এটা ভুল। লোভ অনেক বিষয় নিয়ে হতে পারে যেমন কারো সম্মানের লোভ থাকে,কারো নারীর প্রতি লোভ থাকে।
ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে, আপনি যদি ক্ষমতাবান হন তাহলে আপনি সাধারণ মানুষের মনেও এই লোভ তৈরী করতে পারেন। এরা এই লোভ তৈরী করে মানুষকে বস্তুবাদী জীবন-যাপনে উৎসাহ দিতে। অথচ বেশিরভাগ মানুষের কাছে বস্তুবাদের সাফল্য নাগালের বাইরে থাকে কিন্তু লাভ হয় প্লুটোক্রাটদের।
মানুষকে সম্পদের লোভ তো দেখানো হয় কিন্তু মানুষ Tantalus এর মতই সেটা অর্জন করতে পারে না। Tantalus এর অর্থ হচ্ছে 'এমন কিছু থাকা বা প্রদর্শন করা যা প্রত্যাশা, আগ্রহ বা আকাঙ্ক্ষাকে উস্কে দেয় বা জাগিয়ে তোলে, বিশেষত যা অপ্রাপ্ত থেকে যায় বা কারও নাগালের বাইরে থাকে'।
এবার আসি Hedonism এর বিষয়টা নিয়ে। হিডোনিজম হচ্ছে এমন এক মতবাদ যেখানে বিনোদনকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। হিডোনিজমে শর্ট টাম সুখকে, লংটার্ম শান্তির থেকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। জীবনের উদ্দেশ্য ভুলিয়ে দেয় হিডোনিস্টিক চিন্তা-ভাবনা। প্লুটোক্রাটরা হচ্ছে সবচাইতে বড় হিডোনিস্ট।
এজন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা এদের গ্লোরিফাই করেন, দয়া করে মাথা খাটিয়ে চিন্তা করে দেখুন, আপনার জীবনের ও সমাজের কতটা ক্ষতি এদের দ্বারা হচ্ছে।
সংগৃহীত
05/03/2024
দীর্ঘ ২৭ বছর জেল খাটার সময় , নেলসন ম্যান্ডেলা সূর্য কি জিনিস চোখে দেখেননি । তারপর তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর একদিন তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে বললেন : -
চলো আজ শহর দেখি । চার দেয়ালের ভিতর বন্দি থেকে , জীবনের দীর্ঘ সময় কেটে গেলো । এখন নিজের শহরটি কেমন হয়েছে , নিজের চোখে না দেখলেই নয় ।
সহকর্মীদের সাথে নিয়ে নেলসন ম্যান্ডেলা শহরের অলিতে গলিতে হাঁটলেন । তাঁর খুব ক্ষিদে পেলো । ক্ষিদে লাগার পর ম্যান্ডেলা বললেন : -
চলো , সামনের মোড়ে যদি কোনো রেস্তোরাঁ পাই ,
সেখানেই কিছু খেয়ে নিতে চাই । সহকর্মীরা তো অবাক ! বুঝতে পেরে ম্যান্ডেলা বললেন , অবাক হওয়ার কিছুই নেই , ক্ষিদে পেয়েছে , খাবো । জেলখানার ওই বিভৎস খাবার খেয়েও যেহেতু মরিনি , তাই এতো সহজে মরবো না ।
সবাই মিলে টেবিলে খেতে বসেছেন ।
অল্পদূরে আরেকজন ভদ্রলোক বসে আছেন , বেশ বয়ষ্ক । হোটেলের ওয়েটারকে ডেকে ম্যান্ডেলা বললেন , একটা চেয়ার এনে আমার পাশে রাখো এবং ওনাকে বলো , আমার টেবিলে বসে খেতে ।
ভদ্রলোক আসলেন । এসে তাঁর পাশের চেয়ারটায় বসলেন । খেতে খেতে সবাই গল্প করছেন । কিন্তু পাশে বসা ভদ্রলোকটি কিছুই খেতে পারছেন না । ওনার হাত কাঁপছে । চামচ থেকে খাবার প্লেটে পড়ে যাচ্ছে । ম্যান্ডেলার সহকর্মীদের একজন বললেন ,
আপনি মনে হয় অসুস্থ । ভদ্রলোক চুপচাপ রইলেন । কিছুই বললেন না ।
ম্যান্ডেলা নিজ হাতে ওনাকে খাবার খাইয়ে দিলেন এবং ওয়েটারকে ডেকে বললেন , ওনার খাবার বিলটা আমরা পরিশোধ করবো ।
খাবার শেষে সেই বয়স্ক ভদ্রলোক বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন । কিন্তু সবাই অবাক চোখে দেখলো , লোকটি ভালো করে দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারছেন না । শরীরের কাঁপুনি ক্রমবর্ধমান ।
ম্যান্ডেলা নিজ হাতে ওনাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করলেন এবং সহকর্মীদের একজনকে বললেন , ওনাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসতে ।
সহকর্মীদের মধ্যে আরেকজন বললেন , এতো অসুস্থ শরীর নিয়ে উনি বাড়ী পৌঁছাতে পারবেন তো ! এই সময় ম্যান্ডেলা বলতে শুরু করলেন ,
আসলে উনি অসুস্থ না । আমি জেলের যে সেলে বন্দি ছিলাম উনি ছিলেন সেই সেলের গার্ড । প্রচন্ড মার খেয়ে আমার খুব তৃষ্ণা পেতো । পিপাসায় কাতর আমি যতবার জল জল বলে আর্তনাদ করতাম , ততবার উনি আমার সমস্ত শরীরে প্রসাব করে দিতেন । আজ আমি দেশের প্রেসিডেন্ট ।
দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মানুষ হওয়ার পর , আমি ওনাকে আমার টেবিলে একসাথে খাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করেছি ! তাই সেই সব দিনগুলোর কথা মনে করে উনি খুব ভয় পেয়েছেন ।
কিন্তু ক্ষমতাবান হয়েই ক্ষমতাহীন মানুষকে শাস্তি দেয়া তো আমার আদর্শের পরিপন্থী । এটা আমার জীবনের এথিকসের অংশ নয় । তাই শাস্তি পাওয়ার পরিবর্তে উনি ভালোবাসা পেয়েছেন । আমার মুখে আর শরীরে উনি প্রসাব করেছেন । কিন্ত ওনার মুখে আমি খাবার তুলে দিয়েছি । আমি আপনাদের যেমন প্রেসিডেন্ট , তেমনি ওনারও প্রেসিডেন্ট ।
প্রতিটি নাগরিককে সম্মান জানানো আমার নৈতিক দায়িত্ব । শুধুমাত্র প্রতিশোধ নেয়ার মানসিকতা'ই একটি তৈরী রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিতে পারে ।
আর সহনশীলতার মানসিকতা একটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রকে তৈরী করতে পারে ।
সংগৃহীত
03/03/2024
টানা ৩২ বছর টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরগড়ে অবস্থিত কালিয়াকৈরে গ্রামের দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ার পর মারা যান নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী ৭৪ বছর বয়স্ক ডাক্তার এড্রিক বেকার। গ্রামের সবার কাছেই যিনি ডাক্তার ভাই হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হলে অনেকেই চেয়েছিলেন- উনাকে ঢাকাতে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দিতে। তিনি ঢাকা যাননি। তাঁর তৈরি করা মধুপুরের ওই হাসপাতালেই তিনি ২০১৫ সালে মারা যান এবং হাসপাতালের পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়।
মৃত্যুর পূর্বে তিনি চেয়েছিলেন- এই দেশের কোনো মানবতবাদী ডাক্তার যেন গ্রামে এসে তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালের হাল ধরে। ডা: বেকার তার শেষ ইচ্ছা পোষণ করে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, প্রতি বছর বাংলাদেশে কয়েক হাজার ছেলেমেয়ে ডাক্তার হয়ে বের হচ্ছে। এদের মধ্য থেকে অন্তত একজন ডাক্তার চলে আসবেন আমাদের এই গরিবের হাসপাতালে। নিজেকে নিয়োজিত করবেন গ্রামের অসহায় দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবায়।
কিন্তু হানিফ সংকেতের ইত্যাদিতে প্রচারিত প্রতিবেদন অনুসারে - ডাঃ বেকারের মৃত্যুর ৭ বছর হয়ে গেলেও এ দেশের একজন ডাক্তারও তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দেয়নি।
দেশের কেউ সাড়া না দিলেও তাঁর আহ্বানে সূদর আমেরিকা থেকে ছুটে এসেছেন- আরেক মানবতাবাদী ডাক্তার দম্পতি জেসিন এবং মেরিন্ডি। যে দেশে যাওয়ার জন্য দুনিয়ার সবাই পাগল। শুধু নিজেরা যে এসেছেন তা না। নিজেদের সন্তানদেরও সাথে করে নিয়ে এসেছেন। ভর্তি করে দিয়েছেন গ্রামেরই স্কুলে। গ্রামের শিশুদের সাথে খেলছে। ডাক্তার জেসিন কী সুন্দর করে লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
অথচ আমরা সুযোগ পেলেই গ্রাম থেকে শহরে ছুটি। শহর থেকে বিদেশ পাড়ি দেই। শিশু জন্মের পর থেকেই চিন্তা থাকে কত দ্রুত সন্তানকে আধুনিক মিডিয়াম ইংরেজি স্কুলে বাচ্চাকে পড়াবো। লুঙ্গি পরাতো আমাদের রুচির সাথে আজ বড়ই বেমানান। লুঙ্গি পরতে পারিনা বলতে পারলে- আমাদের আভিজাত্যের পারদ শুধু একটুকু না অনেকটুকুই বাড়ে।
সেই জায়গায় ডাঃ এড্রিক বেকারের মতো ডাঃ জেসন এবং মেরিণ্ডা দম্পত্তি আমাদের এক বিশাল লজ্জায় ফেলে দিলেন।
তারা বলেন, ‘প্রথমে ভাষা শিখতে শুরু করি। ভাত আর পাঙ্গাশ মাছ খাওয়া রপ্ত করেছি। বাঙালি পোশাক পরতে আমরা দুজনেই ভালোবাসি। ডাক্তার ভাই যে পদ্ধতিতে হাসপাতাল চালাতেন, আমরা সে পদ্ধতিই অনুসরণ করছি। এখানে সবাই আন্তরিক।'
এই দম্পতিরও ইচ্ছে বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা করতে চান জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত, মরতে চান এই দেশের মাটিতেই....
অথচ, আমাদের দেশে প্রতিবছর হাজার হাজার ডাক্তার তৈরি হচ্ছে যারা সরকারি/বেসরকারি বড় বড় হাসপাতাল রেখে উপজেলা/ইউনিয়ন পর্যায়ের হাসপাতালেই যায় না! ট্রান্সফার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলেও তিন মাসের বেশি থাকেন না, তবদির করে ফিরে যান ঢাকার বড় কোন হাসপাতালে||
আর হৃদয়বান এই দম্পতি সম্পদ আর সুখের মোহ ত্যাগ করে আমেরিকা ছেড়ে স্থায়ীভাবে চলে এসেছেন টাঙ্গাইলের মধুপুরে। এখন গ্রামের মানুষের কাছে জেসিন হয়ে উঠেছেন নতুন ডাক্তার ভাই
জাতি উন্নত হয় মানসিকতায়, কি হবে অনেক টাকা পয়সা দিয়ে যদি বিবেক হয় পশুর মতো?
সংগৃহীত
08/12/2022
ইন্টারভিউ বোর্ডে বেশ কয়েকটি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হয়। যেমন -
১. স্কিল
২. উপস্থাপনা ক্ষমতা
৩. ইতিবাচক মানসিকতা
৪. লিডারশিপ কোয়ালিটি
৫. সংশ্লিষ্ট পদে কাজের যোগ্যতা
৬. অঙ্গভঙ্গি
৭. কনভারসেশন
৮. পোশাক-পরিচ্ছদ
৯. সেলারি নেগোসিয়েশন
১০. আত্মবিশ্বাস
এছাড়াও আরও অনেক বিষয় রয়েছে। তবে তার মধ্যে এগুলো অন্যতম। আত্মবিশ্বাস কিংবা বডি ল্যাংগুয়েজ একটি বিরাট বিষয়। কাজটি করার ব্যাপারে যদি আপনার আত্মবিশ্বাস সঠিক জায়গায় না থাকে তাহলে চাকরিটি পাওয়া আপনার জন্য কঠিন হবে। আর আত্মবিশ্বাস তখনই আসবে যখন আপনার ভিতরে অন্যান্য গুণের সমন্বয় ঘটবে।
ইন্টারভিউ বোর্ডে কাকুতি মিনতি করলে সেটি জব প্রার্থীর বিপক্ষেই যায়। ইন্টারভিউ বোর্ড দয়া দেখানোর জায়গা নয়। এখানে দয়া প্রত্যাশা করাও ঠিক নয়। ইন্টারভিউ বোর্ড আপনার ক্যাপাবিলিটি প্রমাণের জায়গা। এখনও সময় আছে নিজেকে বিভিন্নভাবে প্রস্তুত করুন। লেট হলে দেরি হয়ে যাবে।
collected