07/08/2021
একটি মানবিক ও মানবিকতার বাস্তব গল্গদিনটি ছিল ১৪ অক্টোবর ২০১৩,কুরবানির ঈদের ২ দিন বাকি।আমার যতটুকু মনে পড়ে তখন মনে হয় আমরা 3rd ইয়ারে। আমি ভোর ৪ঃ৩০/৫ঃ০০ টার দিকে বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। সকাল আনুমানিক ৬ঃ৩০ /৭ঃ০০ টার দিকে আমার মোবাইলে একটা কল আসলোবললেন বাবা আমার ছেলেটা আর নেই.........আমি বললাম আঙ্কেল কে বলছিলেন?? বললেন আমি ওর বাবা বলছি.......আমি কিছুক্ষণের জন্য কিংকর্তব্য বিমুর হয়ে গেলামজিজ্ঞেস করলাম কিভাবে কি হয়েছে? আঙ্কেল বললেন গাড়ি থেকে নেমে CNG দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিল পিছন থেকে ট্রাক এসে লাগিয়ে দিয়েছে। ওর ছোট ভাই সহ আরোও ৪ জন ছিল তাদের তেমন কিছু হয় নাই .....ওর মাথায় প্রচন্ডভাবে আগাত লেগেছে। জামালপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা এই রুগী রাখতে রাজি হয় নাই তাই আমরা মোমেনশাহী মেডিকেলে নিয়ে আসতেছি। বললেন বাবা আমার ছেলেটাকে বাঁচাও বাবা আমার ছেলেটাকে বাঁচাও .....আমি বললাম আঙ্কেল আল্লাহকে ডাকেন,তার কাছে চান। কিছু হবে না ইনশাআল্লাহ আমি মাত্র বাড়িতে পৌঁছানোর সাথে সাথেই আঙ্কেল বললেন আমরা মোমেনশাহী মেডিকেলের কাছাকাছি চলে এসেছি। আমি বললাম আমিও এখনি আসছি। মোমেনশাহী মেডিকেলে আনার পর ডাক্তাররা বললেন যে তারা এই রুগী এখানে রাখতে পারবেন না, তারা DMC তে রেফর করে দিলেন। তাই বাধ্য হয়ে রুগীকে ঢাকা নিয়ে যেতেই হবে। আমি যেহেতু মাত্র বাড়িতে আসলাম তাই আমি আর ঢ়াকায় আসলাম না। রুগীর সাথে ছিল ওর বাবা আর ছোট ভাই.... এদিকে আমি ফোনে যোগাযোগ করা শুরু করলাম। আওয়ালকে ফোন দিয়ে বিস্তারিত সব বললাম এবং বললাম DMC তে একটু খোঁজখবর নিতে, আব্দুস সালাম স্যারকে ফোন দিলাম উনি কোনো কিছু করতে পারে কি না। পরে স্যার জানালেন ঈদের আগে তো তাই উনি কাউকে পাচ্ছন না। আমি আমার কয়েকজন বড় ভাইয়ের সাথে কথা বললাম কি করা যায়?? তারা বললেন ধানমন্ডি ইবনে সিনায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। পরে ভাবলাম ইবনে সিনায় নেওয়ায় ভালো হবে। এদিকে সবুজ, মামুন, মাসুমকে ফোন দিলাম আঙ্কেলের সাথে এম্বুলেন্সে হাউস বিল্ডিং, খিলখেত থেকে উঠার জন্য, সবাই বিনা বাক্যে আন্কেলের সাথে এম্বুলেন্সে করে ইবনে সিনায় গেল।এদিকে যেহেতু কুরবানি ঈদের আগের সময় ভালো ভলো ডাক্তাররা অধিকাংশই ঢাকার বাহিরে। তখন ইবনে সিনার যিনি চেয়ারম্যান ছিলেন তার নাতিনের সাথে আমার খুব ভালো পরিচয় ছিল, তাকে ফোন দিয়ে বিস্তারিত বললাম এবং বললাম যেভাবেই হোক ডাক্তারের ব্যাবস্হা করতেই হবে। যাইহোক ইবনে সিনায় পৌঁছার পর কোনো ধরনের ভর্তির ফরমালেটিস না করেই তারা রুগীকে ওটিতে নিয়ে ড্রেসিং করালো......(কোনো বিল দেওয়া হলো না)আরো কয়েকজনের সাথে কথা বললাম তারা বললেন কাকরাইল ইসলামি ব্যাংক সেন্ট্রাল হসপিটালে একজন ভালো নিওরো সার্জন আছে। আওয়াল সহ ওদের সকলের সাথে কথা বললাম...বললো যদি ভালো হয় তাহলে নেওয়া যায়। আমার এক বড় ভাই থেকে নাম্বার নিয়ে সেন্ট্রাল হসপিটালের পরিচালককে ফোন দিলাম এবং আমার পরিচয় দিলাম উনি বললেন তোমার রগী কোথায়?? বললাম ইবনে সিনায়...বললেন এখনি রুগী নিয়ে আসো।ওরা রুগী নিয়ে হসপিটালে যাওয়ার পর রুগীকে ওটিতে নিতে হলে ভর্তি করাতেই হবে। আঙ্কেলকে জিজ্ঞেস করলাম আপনার কাছে কতো টাকা আছে? মনে হয় বলেছিলেন ২০০০/২৫০০ হাজার টাকা। আমি বললাম ঠিক আছে তাহলে ৫০০ টাকা দিয়ে ভর্তি করান (যেটা হসপিটাল কখনই করে না এরকম রুগীকে ৫০০ টাকা দিয়ে ভর্তি করানো) । যাইহোক ঈদের ২ দিন পর আমি বাড়ি থেকে ঢাকায় এসে হসপিটালে দেখতে গেলাম এবং ডাক্তারের সাথে কথা বললাম। ডাক্তার অপারেশন করার জন্য করার জন্য যেই টাকার পরিমান বলেছিলো তা শুনে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা মোটামুটি ৭ /৮ লাখ টাকার মতো। আমি ওর ছোট ভাইয়ের সাথে কথা বললাম তাদের এবিলিটি কতটুকু আছে সে যা বললো সেটা শুনেও খুব চিন্তিত হলাম.......যাইহোক চিকিৎসা তো করাতে হবে এভাবে তো রুগীকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আমি আমার পরিচিত কয়েকজনের সাথে কথা বললাম এবং আমাদের ইয়ারের অনেকের সাথেই কথা বললাম। বললাম কিছু একটা তো করতেই হবে। এদিকে প্রতিদিন ওর ঔষধ +হসপিটালের ICU এর খরচ হচ্ছিলো। হসপিটালের পরিচালক বললেন কাওছার কিছু টাকা তো পে করা উচিত..... বললাম ভাই এখন আমাদের কাছে কোনো টাকা নেই, আমরা চেষ্টা করছি পে করার জন্যে। সকলের সাথে তথা চেয়ারম্যান মেডাম, প্রিন্সিপাল মেডাম, আমাদের ডিপার্টমেন্টের সকল স্যার এবং আমাদের সকলের সাথে। সিদ্ধান্ত হলো আমরা টাকা উঠাবো। আমরা ফয়সাল এর বাসার ছাদে বসে প্রায় ২৫ টা বাক্স বানালাম টাকা উঠানোর জন্য। ঐ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটা ইউনিটের পরীক্ষা ছিলো। আমরা TSC তে বসে সিদ্ধান্ত নিলাম কোন গ্রুপ কোন দিকে যাবে? মোট ২৫ টি গ্রুপ হলো প্রতি গ্রুপে ৩/৪ জন করে ছিলো। আমি ছিলাম ঢাকা কলেজ যাওয়ার গ্রুপে....সেদিন অনেকেই ছিলো(ছেলে-মেয়ে) মিলে প্রায় ৭০/৮০ জন এর মতো। একটা কথা মনে পড়ে ফয়সালের সাথে বনানী থানার এস আই /ওসির wife সাথে একটু কথা কাটাকাটি হয়, বলে যে তোমরা এতদূর চলে আসছো?? ফয়সাল মনে হয় বলেছিলো এখানে না শুধু আমরা পুরো ঢাকা শহরেই আছি। আরোও অনেক ঘটনা..... ঐ দিন আমাদের টাকা উঠেছিল প্রায়= ৮২/৮৩০০০/= এর মতো। আর আমাদের ইয়ার থেকে উঠানো হয়েছিল প্রায় =৯২/৯৩০০০/= টাকাআমাদের ডিপার্টমেন্টের অন্য ইয়ার থেকে মনে হয় উঠানো হয়েছিল সবমিলিয়ে ৩০/৩৫০০০ টাকা। কলেজ থেকে প্রিন্সিপাল মেডাম দিয়েছিলেন =২০০০০/=টাকা আমাদের মেডাম এবং স্যারেরা মিলে মনে হয় =৩০/৩৫০০০/= হাজার টাকা দিয়েছিলেন। আর ওদের থেকে পেয়েছিলাম =১,৫০০০০/= হজার টাকা। সর্বমোট টাকা পেয়েছিলাম =৪,৫০,০০০/= হাজার এর মতো। ওর চিকিৎসা বাবদ (ডাক্তার + হসপিটালের) বিল হয়েছিল প্রায় ৮,৫০,০০০/= এর মতো। এর বাইরে ওর ঔষধের বিল এবং জাপান থেকে ওর মাথার স্কাল আনা হয়েছিল ২/৩ বার এগুলোর ও বিল ছিলো প্রায় ১,৫০/২ লাখ এর মতো। ১ মাস পর মনে হয় আব্দুর রহিমের জ্ঞান ফিরেছিলো আর ICU তে মনে হয় প্রায় ১/১.৫ মাসের মতো ছিলো। যাইহোক অনেক দিন হসপিটালে থাকার পর যখন রিলিজ দিবে তখন আন্কেল জিজ্ঞেস করলেন বাবা বিল কতো হয়েছে?? আমি বললাম আঙ্কেল সমস্যা নেই আমরা আছি। ওর ছোট ভাই রনির হাতে কিছু নগদ টাকা দিয়ে একটা এম্বুলেন্স ভাড়া করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলাম। হসপিটালের পরিচালকের সাথে কথা বলে কিছু টাকা পরিশোধ করলাম। আর বাকি টাকার ব্যাপারে বললাম পরে আপনার সাথে কথা বলবো। যাইহোক আমরা কিভাবে যে এই অসাধ্যকে সাধন করেছিলাম আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি আমাদের প্রতিটি ভালো কাজকে কবুন করে নিন এবং এর উত্তম যাযা দান করুন। আব্দুর রহিম বিয়ে করছে এবং নভেম্বরের দিকে বাবা হতে যাচ্ছে.....এই Covid-19 এর কারণে ওদের দিনগুলো ভালো যাচ্ছেনা............
মনে হয় শব্দের লিমিট শেষ হয়ে গিয়েছিলো.....একটু বুঝে নিতে হবে
Courtesy By - Kawsar