কুরআন ও হাদিসের আলো

কুরআন ও হাদিসের আলো

Share

Quran and Hadith form the basis of life. আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী

21/03/2020

আয়াতগুলো, মনে হচ্ছে, যেন নাজিল হল মাত্র! যদিও তা দেড় হাজার বছর আগের। 😥😥

-সূরা আহযাব-৯
-৯/ আর তারপর আমি তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলাম এক ঝঞ্ঝা বায়ু এবং এক বাহিনী । এমন এক বাহিনী যা তোমরা চোখে দেখতে পাওনি ।

-সূরা আন‌আম-৪২
-৪২/ তারপর আমি তাদের উপর রোগব্যাধি, অভাব, দারিদ্র্য, ক্ষুধা চাপিয়ে দিয়ে ছিলাম, যেন তারা আমার কাছে নম্রতাসহ নতি স্বীকার করে।

-সূরা ইয়াসীন-২৮-২৯
-২৮-২৯/ তারপর ( তাদের এই অবিচার মূলক জুলুম কার্য করার পর ) তাদের বিরুদ্ধে আমি আকাশ থেকে কোনো সেনাদল পাঠাইনি । পাঠানোর কোনো প্রয়োজন‌ও আমার ছিল না । শুধু একটা বিস্ফোরণের শব্দ হলো, আর সহসা তারা সব নিস্তব্ধ হয়ে গেল ( মৃত লাশ হয়ে গেল )

-সূরা আ'রাফ-১৩৩
-১৩৩/ শেষ পর্যন্ত আমি এই জাতিকে পোকামাকড় বা পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ, রক্ত, প্লাবন ইত্যাদি দ্বারা শাস্তি দিয়ে ক্লিষ্ট করি ।

-সূরা বাকারা-২৬
-২৬/ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ মশা কিংবা এর চাইতেও তুচ্ছ বিষয় ( ভাইরাস বা জীবাণু ) দিয়ে উদাহরণ বা তাঁর নিদর্শন প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করেন না ।

-সূরা আ'রাফ-৯৪
-৯৪/ ওর অধিবাসীদেরকে আমি দুঃখ, দারিদ্র্য রোগ-ব্যধি এবং অভাব-অনটন দ্বারা আক্রান্ত করে থাকি । উদ্দেশ্য হলো তারা যেন, নম্র এবং বিনয়ী হয় ।

-সূরা মুদ্দাসসির-৩১
-৩১/ তোমার "রবের" সেনাদল বা সেনাবাহিনী ( কত প্রকৃতির বা কত রূপের কিংবা কত ধরনের ) তা শুধু তিনিই জানেন ।

-সূরা আন'আম-৬৫
-৬৫/ তুমি তাদের বলো যে, আল্লাহ্ তোমাদের ঊর্ধ্বলোক হতে বা উপর থেকে এবং তোমাদের পায়ের নিচ হতে শাস্তি বা বিপদ পাঠাতে পূর্ণ সক্ষম ।

-সূরা আ'রাফ-৯১
-৯১/ তারপর আমার ভূমিকম্প তাদেরকে গ্রাস করে ফেললো । ফলে তারা তাদের নিজেদের গৃহেই মৃত অবস্থায় উল্টো হয়ে পড়ে রইল ।

-সূরা কামার-৩৪
-৩৪/ তারপর আমি এই লূত সম্প্রদায়ের ওপর প্রেরণ করেছিলাম প্রস্তর বর্ষণকারী এক প্রচন্ড ঘুর্ণিবায়ু ।

-সূরা ইউনুস-১৩
-১৩/ অবশ্যই আমি তোমাদের পূর্বে বহু জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যখন তারা সীমা অতিক্রম করেছিলো।

-সূরা নং-৩৪ , আয়াত নং-১৬
-১৬/ তারপর প্রবল বন্যার পানি তৈরি করলাম এবং ফসলি জমিগুলো পরিবর্তন করে দিলাম। অকৃতজ্ঞ অহংকারী ছাড়া এমন শাস্তি আমি কাউকে দিই না ।

-সূরা বাকারা-১৪৮
-১৪৮/ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ প্রতিটি বস্তুর উপর (অর্থাৎ আরশ, পঙ্গপাল কিংবা ভাইরাস) সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান, সব‌ই তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন ।

-সূরা বাকারা-১৫৫
-১৫৫/ আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে কিছু ভয়, ক্ষুধা, জান-মালের ক্ষতি এবং ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে পরীক্ষা করব । তবে তুমি ধৈর্যশীলদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও ।

-সূরা সাফফাত-১৭৩
-১৭৩/ আর আমার বাহিনীই হয় বিজয়ী ( আমার পরিকল্পনা পূর্ণ করে )

-সূরা আন'আম-৪৪-৪৫
-৪৪-৪৫/ অতঃপর যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে উপদেশ এবং দিক-নির্দেশনা দেওয়া হলো, তারা তা ভুলে গেল ( আল্লাহর কথাকে তুচ্ছ ভেবে প্রত্যাখ্যান করলো ) তাদের এই সীমালংঘনের পর আমি তাদের জন্যে প্রতিটি কল্যাণকর বস্তুর দরজা খুলে দিলাম অর্থাৎ তাদের জন্যে ভোগ বিলাসিতা, খাদ্য সরঞ্জাম, প্রত্যেক সেক্টরে সফলতা, উন্নতি এবং উন্নয়ন বৃদ্ধির দরজা সমূহ খুলে দিলাম । শেষ পর্যন্ত যখন তারা আমার দানকৃত কল্যাণকর বস্তু সমূহ পাওয়ার পর আনন্দিত, উল্লাসীত এবং গর্বিত হয়ে উঠলো, তারপর হঠাৎ একদিন আমি সমস্ত কল্যাণকর বস্তুর দরজা সমূহ বা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দরজাসমূহ বন্ধ করে দিলাম । আর তারা সেই অবস্থায় হতাশ হয়ে পড়লো । তারপর এই অত্যাচারী সম্প্রদায়ের মূল শিকড় কর্তিত হয়ে গেল এবং সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্যেই র‌ইলো, যিনি বিশ্বজগতের কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনকারী বা সবকিছুর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী "রব" ।

-সূরা ত্বা'হা-১৪
-১৪/ নিশ্চয়ই আমিই হলাম "আল্লাহ" । অতএব আমার আইনের অধীনে থাকো ।

-সূরা মূলক্-১৬-১৭
১৬/ তোমরা কি ভাবনা মুক্ত হয়ে গিয়েছো যে , আকাশে যিনি আছেন , তিনি তোমাদের সহ ভূমিকে ধ্বসিয়ে দিবেন না ?? অথবা তোমাদেরকে ভূ'গর্ভে বিলীন করে দিবেন না ?? এমন অবস্থায় যে ভূ'ভাগ তথা জমিন ( আল্লাহর নির্দেশে ) আকস্মিক ভাবে থরথর করে কাঁপতে থাকবে বা ভূমিকম্পকে চলমান করে দেওয়া হবে ।

১৭/ নাকি তোমরা ভাবনা মুক্ত হয়ে গিয়েছো যে , আকাশে যিনি আছেন , তিনি তোমদের উপর কংকরবর্ষী ঝঞ্ঝা বৃষ্টি কিংবা প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করার হুকুম দিবেন না ?? ( যদি আমি এমন করার হুকুম করি ) তখন তোমরা জানতে পারবে বা উপলব্ধি করবে , কেমন ছিল আমার সতর্ক বাণীর পথ-নির্দেশ ।

-সূরা আ'রাফ-১৩০
-১৩০/ তারপর আমি ফেরাউনের অনুসারীদেরকে কয়েক বছর পর্যন্ত দুর্ভিক্ষে রেখেছিলাম এবং অজন্ম ও ফসলহানি দ্বারা বিপন্ন করেছিলাম । ( সংকটাপন্ন এবং বিপদগ্রস্থ অবস্থায় রেখেছিলাম ) উদ্দেশ্য ছিল, তারা হয়তো আমার পথ-নির্দেশ গ্রহণ করবে এবং আমার প্রতি বিশ্বাস আনয়ন করবে আনবে । ( আমার আধিপত্য স্বীকার করে নিবে )

-সূরা আ'রাফ-৯৭-৯৮
-৯৭-৯৮/ জনপদের অধিবাসীরা কি ভাবনা মুক্ত হয়ে গিয়েছে সেই আল্লাহর বিষয়ে যে, তিনি তাদের উপর ঘুমন্ত অবস্থায় শাস্তি পাঠাবেন না ? যে শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে ! নাকি জনপদের অধিবাসীরা চিন্তা মুক্ত হয়ে গিয়েছে এই বিষয়ে যে, আমি তাদের উপর শাস্তি পাঠাবো না, এমন অবস্থায় যে যখন তারা আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত ছিল ??

-সূরা ফাজর্-৬-১৪
-৬-১৪/ আপনি কি দেখেননি, আপনার "রব" আদ বংশের ইরাম গোত্রের সাথে কি আচরণ করেছিল ?? যাদের দৈহিক গঠন ছিল, স্তম্ভ এবং খুঁটির ন্যায় দীর্ঘ এবং তাদেরকে এত শক্তি ও বলবির দেওয়া হয়েছিল যে, সারা বিশ্বের শহরসমূহে অন্য কোন মানব গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়নি । এবং সামুদ গোত্রকে যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করতো এবং বহু সৈন্যবাহিনীর অধিপতি ফেরাউনের সাথে, যারা দেশের সীমা সমূহ লঙ্গন করেছিলো । অতঃপর সেখানে বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি করেছিল । তারপর আপনার "রব" তাদের উপর শাস্তির কশাঘাত করলেন । নিশ্চয়ই আপনার "রব" প্রতিটি বিষয়ের উপর সতর্ক দৃষ্টি রাখেন ।

-সূরা আল-ইমরান-১৭৮
-১৭৮/ আমি জালিমদেরকে সুযোগ দিই বা বেঁচে থাকার সময় দে‌ই, তাদের পাপকে পাকাপোক্ত করার জন্য। ( এই বেঁচে থাকার সুযোগে তারা নিজেদের পাপের বোঝা বা পরিমাণকেই বৃদ্ধি করে থাকে ) অতঃপর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন অপমানকর শাস্তি।

-সূরা কাসাস্-৪
-৪/ নিশ্চই ফেরাউন তার দেশে প্রচন্ড উদ্ধত সভাব দেখিয়ে ছিল এবং সে তার দেশের মানুষকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বা বিভিন্ন দলে বিভক্ত করে দিয়েছিল । তারপর সে এক শ্রেণীর উপর অন্য শ্রেণী বা দলকে প্রাধান্য দিয়ে কোন কোন দল বা শ্রেণীকে ( ক্ষমতার অপব্যাবহারের মাধ্যমে বা অবিচার মূলক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ) দূর্বল করেছিল ।

-সূরা মূলক্ -৩০
-৩০/ তুমি তাদেরকে বলো যে , তোমরা কি ভাবনা বা চিন্তা করে দেখেছো কি ?? যদি আল্লাহ্ তোমাদের ভূগর্ভের পানি সরিয়ে ফেলেন বা ভূগর্বের পানি তোমাদের নাগালের বাহিরে নিচে নামিয়ে দেন, তবে তোমাদেরকে কে এনে দেবে পানির স্রোতধারা ??

-সূরা ইব্রাহিম-৪২
-৪২/ জুলুমকারী বা ক্ষমতার অপব্যাবহার কারীদের সম্পর্কে তুমি কখনোও মহান আল্লাহকে উদাসীন মনেকরবে না ।

-সূরা ইব্রাহীম / আয়াত নং-১৩
-১৩/ এবং এইসব মিথ্যার উপর আশ্রয়গ্রহণকারী জালিমরা অর্থাৎ কফিররা বলেছিল, আমরা তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কার করব । অন্যথায় তোমার আমাদের মতাদর্শে ফিরে এসো । তারপর আল্লাহ্ অহী পাঠালেন, আর বললেন আমি অবশ্যই জুলুমকারী শক্তিগুলোকে সমূলে বিনাশ করে দেব ।

-সূরা আন'আম-১৩৪
-১৩৪/ তোমরা আল্লাহকে কখনোও অক্ষম বা দুর্বল করতে পারবে না। তোমাদের জন্য নির্ধারিত সময় ঠিক করে রাখা কর্মফল দিবস অবশ্যম্ভাবী ।

-সূরা আ'রাফ-১৮৩
-১৮৩/ আমি (জুলুমকারী শক্তি গুলোকে) প্রচুর সময় সুযোগ দিয়ে যাচ্ছি, নিশ্চয়ই আমার কৌশল অত্যন্ত জটিল ।

-সূরা মার‌ইয়াম-৭৪
-৭৪/ আমিতো তাদের পূর্বে বহু মানব গোষ্ঠীকে ( তাদের সীমা লঙ্ঘনের কারণে ) সমূলে বিনাশ করে দিয়েছিলাম । তারা তাদের চাইতেও সম্পদে এবং জাঁক-জমকে শ্রেষ্ঠ ছিল ।

সূরা নাহল্ / আয়াত ৪৫-৪৭
-৪৫/ যারা কুচক্র বা কু'কর্ম করে বা বিভিন্ন ধরণের অপরাধ , অবিচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা কি চিন্তা মুক্ত হয়ে গিয়েছে যে "আল্লাহ্" তাদেরকে সমূলে বিনাশ করে দিবেন না কিংবা তাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দিবেন না ?? কিংবা তাদের উপর এমন সব দিক থেকে বিপদ বা শাস্তি এনে হাজির করানো হবে না, যে দিকগুলোর বিষয়ে এর আগে তাদের কোন ধারণাই ছিল না ??

৪৬/ কিংবা তাদের সাধারণ চলাফিরা করার মধ্যেই তাদেরকে আকস্মিক ভাবে পাকড়ও করে ফেলা হবে না ?? ( আমি এমন করলে ) তারা তো তা কখনোই ব্যর্থ করতে পারবে না । ( তা থেকে বেঁচে যেতে পারবে না )

৪৭/ কিংবা তাদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় পাকড়াও করবেন না ?? আসলে তোমাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী "রব" তো অত্যন্ত নম্র-দয়া পরায়ণ , পরম দয়ালু ।

-সূরা ত্বাহা-১১১
-১১১/ সেদিন ( কর্মফলের দিন ) শুধু তারাই পরাজিত বা ব্যর্থ হবে যারা জুলুম করার পাপের বোঝাগুলো বহন করতে করতে তাদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনকারী "রবের" সামনে দাঁড়াবে ।

-সূরা হূদ- ১১৩
-১১৩/ তোমাদেরকেও জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে, যদি তোমরা ক্ষমতার অপব্যবহার কারীদের বা অবিচারমূলক শক্তি প্রয়োগকারীদের সাথে সাথে থাকো কিংবা তাদের সহযোগী হও !!

-সূরা নং-৭৮, আয়াত-২১
-২১/ নিশ্চয়ই জাহান্নাম ওঁৎ পেতে আছে ( মিথ্যার উপর আশ্রয় গ্রহণকারী জালেমদের জন্যে )

-সূরা নং-২৯, আয়াত-৫৩
-৫৩/ নিশ্চয় যারা জালেম তথা কাফের তাদের উপর চূড়ান্ত শাস্তি আসবে আকস্মিকভাবে, যেন তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি ।

-সূরা হজ্জ-৪৮
-৪৮/ আমি বহু জনপদকে এমন অবস্থায় বেঁচে থাকার সুযোগ দিয়েছিলাম যে তারা ছিল অপরাধী, সীমালংঘনকারী সম্প্রদায় । তারপর ( নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ) আমি তাদেরকে পাকড়াও করি ।

-সূরা নং-৮৫, আয়াত-১৫-১৬
-১৫-১৬/ আমি "আল্লাহ্" আমার যা খুশি আমি তাই করি, আমিই আরশের মালিক ।

-সূরা মারইয়াম--৬৮ ও ৭২
-৬৭ ও ৭২/ আমি আল্লাহ্ জুলুম কারীদেরকে নতজানু অবস্হায় জাহান্নামের চতুর্দিকে উপস্থিত করাবই এবং নতজানু অবস্হায় তাদের এতে রেখে দেব ।

-সূরা ফালাক্-২-৩
-২. আমি আরও আশ্রয় চাচ্ছি তাঁর ( আল্লাহর ) সকল সৃষ্টির ক্ষতি বা অনিষ্ট থেকে যা তিনি সৃষ্টি করেছেন ( হোক তা জীবজন্তু, জীবাণু, ভাইরাস, ডেঙ্গু, কিংবা পোকামাকড় অথবা তাঁর অন্য কোন সৃষ্টি ) -
-৩. এবং আরও আশ্রয় চাচ্ছি রাত্রি থেকে, যখন তা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ( অর্থাৎ গভীর অন্ধকারে আমাদের অজান্তেই যেসব ক্ষতি চলে আসতে পারে তা থেকেও আশ্রয় চাচ্ছি )

--- চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং কৃষি বিজ্ঞান সম্পর্কে আরো কিছুটা জ্ঞান হে আল্লাহ্ তুমি আমাদের এই পৃথিবী নামক গ্রহটির বাসিন্দাদেরকে দিয়ে দাও ।

--- তোমরা স্থলে বা আকাশে আল্লাহকে কখনো অক্ষম বা দুর্বল করতে পারবে না, তিনি ব্যতীত হিতাকাঙ্খী অভিভাবকও পাবে না এবং পাবে না সাহায্যকারীও...

( ভাবার্থ- আল কোরআন )

20/03/2020

অতি ধার্মিকতা দেখাতে গিয়ে অনেকে হাদীস অস্বীকার করছেন। যাঁরা বলছেন, মাদরাসা বন্ধ করলে ও মসজিদে নামায সংক্ষিপ্ত করলে দুর্যোগ আরো বাড়বে, তারা ঠিক বলছেন না। যাঁরা বলছেন, মাদরাসায় দ্বীনি ইলমচর্চার কারণে দুর্যোগ আসবে না— তাদের এই দাবি অযৌক্তিক তো বটেই; ধর্মীয় দৃষ্টিকোণেও ঠিক নয়। স্বয়ং রাসূলের জীবদ্দশায় তাঁর উপস্থিতিতে দুর্যোগ-মুহূর্তে নামায ঘরে পড়ার আদেশ দিয়েছেন। আমাদের সকলের সম্মিলিত দোয়ার চেয়ে একা রাসূলের দোয়ার ক্ষমতা কম, এমনটা মনে করা বড়ই খতরনাক। তিনি ঘরে নামায পড়তে না বলে দোয়া করলেই তো পারতেন।

মাদরাসা বন্ধ করে দিলে দুর্যোগ আসলেই বাড়বে কি না, তা আল্লাহই ভালো জানেন। তবে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া সুন্নাহ-সম্মত। সুন্নাহ আমাদের জন্য সুযোগ রেখেছে বাহ্যিক পরিস্থিতি অনুযায়ী আমল করার। আমরা আমাদের সামর্থ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব। জাগতিক উপকরণের পাশাপাশি দোয়া ও তেলাওয়াত করব; আমরা যতই উপকরণ গ্রহণ করি, হবে তা-ই, যা আল্লাহ ফয়সালা করবেন। এটাই তাকদীরের মর্মবাণী। জাবারিয়্যাহদের মতো সবকিছু আল্লাহর হাওলা করা ও ক্বাদারিয়্যাহদের মতো সম্পূর্ণ উপকরণ-নির্ভরতা এর কোনোটাই ইসলামের শিক্ষা নয়।

তবে যা-ই হোক, মসজিদ বন্ধ করার যৌক্তিকতা এখনো তৈরি হয় নি। দোয়া করি, যেন যৌক্তিকতা তৈরি না হয়। অস্বাস্থ্যকর গণপরিবহন এখনও বন্ধ হয় নি, গলি-ঘুপচিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এখনও হামেশা আড্ডা চলে, পর্যটকেন্দ্রগুলো সচল, গার্মেন্টসসহ শ্রমিকঘন কলকারখানা চলমান, মার্কেটে আগের মতোই ভিড়, রাস্তায় জ্যাম— এই অবস্থায় মসজিদ বন্ধ করতে বলা হাস্যকর। বরং এই সব জায়গা থেকে মসজিদ স্বাস্থ্যকর, পরিচ্ছন্ন। তারপরও ইমাম সাহেবদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তাঁরা যেন কিরাত খাটো করেন, খুতবা সংক্ষিপ্ত করেন ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখেন।

20/03/2020

আলহামদুলিল্লাহ। এখনো পর্যন্ত আমরা বোধহয় সেই অল্প কয়েকটি জাতির মধ্যে একটি, যারা আজকের জুমআর নামাজ মসজিদে জামাাতে আদায় করার সুযোগ পাচ্ছি। পৃথিবীর বহু দেশের মুসলমানরাই আজ এ হক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

গতকাল যখন কনফার্ম হয়েছে যে, অনেক দেশে সংক্ষিপ্ত পরিসরেও জুমআ পড়তে দেওয়া হবে না, তারপর থেকে সে সব দেশে থাকা পরিচিতদের অনেকেই মেসেজ দিয়েছেন। তাদের কান্না পাচ্ছে। আমিও যেন মানুষগুলোর বুক ভাঙা আওয়াজ শুনতে পেলাম। কারণ আমাদের জীবদ্দশায় এ ধরনের পরিস্থিতি আমরা দেখিনি।

আমরা যে আজ জুমআ পড়তে পারছি, এই বিষয়টুকু, এই নেয়ামতটুকু আমাদের অনুধাবন করা দরকার। জানিনা আমরা এই অবস্থায় কতদিন থাকতে পারবো। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই, আল্লাহ যেন এ কঠিন পরীক্ষা থেকে আমাদেরকে হেফাজত করেন।

আজ যারা জুমআ পড়তে পারছেন না, তাদের জন্য শুধু দোয়াই যথেষ্ট নয়। বরং আমি মনে করি, তাদের তরফ থেকেও আমরা আজ আল্লাহর দরবারে হাত তোলার দায়িত্ব পেয়েছি।

বিশ্বজগতের প্রতিপালক, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি আমাদের আকুতি, তিনি যেন আমাদেরকে ক্ষমা করেন। আমাদের পাপের শাস্তি এভাবে না দেন। নিজ হাতে যে গুনাহ কামাই করেছি, তার বিনিময় হিসেব করলে আমরা শেষ হয়ে যাবো। আল্লাহ গাফরুর রাহীম হিসেবে আমাদের জন্য এ পরীক্ষাকে যেন আর দীর্ঘায়িত না করেন। আমাদের অন্তরে তিনি যেন আফিয়া দান করেন। আস সালাম হিসেবে তিনি যেন পৃথিবীতে আবার শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত করে দেন।

আল্লাহ যেন পরের জুমআ গোটা পৃথিবীর সব মুসুল্লীকে জামাতে আদায় করার তাওফিক দান করেন। মক্কায় মসজিদুল হারাম, মদিনায় মসজিদে নববি আর মসজিদুল আকসাকে যেন আবার লোকে লোকারণ্য করে দেন।

এ জমিনকে আল্লাহ যেন মুসলমানদের পদচারণায় মুখর করে দেন। আমাদেরকে এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে যেন ইতিবাচকভাবে সাজাতে পারি। সত্যিকারের মুমিন হিসেবে ভুমিকা পালন করতে পারি। আমিন।

© আলী আহমদ মাবরুর

16/03/2020

[[ জরুরি একটা মাস'আলাহ ! ]]

বর্তমান মহামারী অবস্থায় বিভিন্ন দেশে মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জামাতে নামাজ আদায় বা জুম'আর নামাজে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী ?

উত্তর -

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুক। সকলের ভুল ত্রুটি ও অপারগতা ক্ষমা করুক। বর্তমান সময়ের আলোচিত মহামারী রোগ সর্বত্রে চরম গতীতে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন দেশে মসজিদ ও জামাতে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কী করণীয়, অনেকে জানতে চেয়েছেন৷ জাযাহুল্লাহু খাইরান!

উপরোক্ত পরিস্থিতিতে আমরা চারটি অবস্থায় বিবরণ করতে পারি। চারটি কারণেই একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ মসজিদে নামাজ না পড়ে নিজ গৃহে নামাজ আদায় করবে। জুম'আর নামাজে বাঁধা প্রদান করলে নিজ গৃহে জুহরের চার রাকা'আত নামাজ আদায় করবে ৷

প্রথম অবস্থা -

কেউ যদি এই মহামারী রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তার জন্য মসজিদে গমণ বা জামাতে গিয়ে নামাজ আদায় করা হারাম।

দলীল -

১.
لقوله صلى الله عليه وسلم ( لا يورد ممرض على مصح ) متفق عليه،
২.

ولقوله عليه الصلاة والسلام: ( إذا سمعتم الطاعون بأرض فلا تدخلوها وإذا وقع بأرض وأنتم فيها فلا تخرجوا منها ) متفق عليه.

দ্বিতীয় অবস্থা -

কেউ যদি কোয়ারেন্টাইনে থাকেন এবং অন্যকে ক্ষতি করার সম্ভাবনা রাখেন। তাহলে মসজিদে গমন থেকে বিরত থাকা উচিত । চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে চলে ওয়াজীব৷

দলীল -

لما رواه الشريد بن سويد الثقفي رضي الله عنه قال: (كان في وفد ثقيف رجل مجذوم فأرسل إليه النبي صلى الله عليه وسلم إنا قد بايعناك فارجع) أخرجه مسلم

তৃতীয় অবস্থা -

অথবা কেউ যদি অন্য থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার নিজের উপর ভয় করে থাকেন, তাহলে নিজ গৃহে নামাজ পড়ার রুখসত বা অবকাশ রয়েছে। চাইলে জামাতে না গিয়ে ঘরে নামাজ আদায় করে নিতে পারেন।

দলীল -
لقوله صلى الله عليه وسلم: ( لا ضرر ولا ضرار) رواه ابن ماجه

চতুর্থ অবস্থা -

কেউ যদি পূর্ণাঙ্গ সুস্থ সবল আছেন, কোন ধরণের আশংকা কিংবা আতংক নেই। কিন্তু, সরকার মসজিদে বন্ধ করে দিয়েছে কিংবা নামাজে গমনে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে। এ ক্ষেত্রে সরকারী বাধ্যবাধকতা মেনে নেওয়াতে কোন অসুবিধা নাই।

দলীল -

عن ابن عباسٍ رضي الله عنهما: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ((إن الله تـجاوز لي عن أمتي الـخطأ والنسيان وما استكرهوا عليه))؛ حديث حسن، رواه ابن ماجَهْ والبيهقي وغيرهما.

আল্লাহ'ই সর্বজ্ঞানী !
প্রশ্নটি সৌদি আরবের ফতোয়া বোর্ডে উত্থাপিত হলে সম্মানীত মুফতিয়ানে কেরাম এই ফতোয়া দেন। এরই ভিত্তিতে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

আমাকে প্রশ্ন করেছেন ও এ বিষয়ে লিখতে অনুরোধ জানিয়েছেন শ্রদ্ধেয় Abdul Fatthah ভাই৷ আল্লাহ সবাইকে ক্ষমা করুক। এই মহামারী রোগ থেকে হেফাজত করুক!

ما صحة حديث: ((اللهم بارك لنا في رجب وشعبان وبلغنا رمضان))؟ | الموقع الرسمي لفضيلة الشيخ عبد الكريم بن عبد الله الخضير - حفظه الله تعالى - 07/03/2020

রজব মাসের বিশেষ দুআ : বিশ্লেষণ ও বিধান

আমাদের দেশে রজব মাস আসলে সাধারণত “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রমাজান” দুআটি নিয়মিত পড়া হয় এবং অন্যদেরকেও পড়তে উৎসাহিত করা হয়। আমরা সংক্ষিপ্ত এ প্রবন্ধটিতে রজব ও শাবান মাসে পঠিত প্রসিদ্ধ দুআটি নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখব যে, এ দুআটি আদৌ আমাদের পড়া উচিত নাকি উচিত নয়। আলোচনার প্রথমে আমরা এ দুআসংবলিত হাদিসটির নস (ভাষ্য) ও তার তাখরিজ (বর্ণনাসূত্র) উল্লেখ করব। দ্বিতীয় পর্যায়ে হাদিসটির শুদ্ধতা-অশুদ্ধতার মান নিয়ে কথা বলব যে, হাদিসটি গ্রহণযোগ্য নাকি অগ্রহণযোগ্য। তৃতীয় পর্যায়ে আমাদের আলোচনা হবে এ দুআটি পড়ার বিধান নিয়ে। ক্রমধারানুসারে আমরা আলোচনা তিনটি পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করছি।

হাদিসটির তাখরিজ :
এ হাদিসটি ইমাম আহমাদ রহ., ইমাম বাইহাকি রহ., ইমাম বাজ্জার রহ.-সহ অনেক ইমাম স্ব স্ব গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তবে একাধিক কিতাবে উল্লেখ থাকলেও সবাই এক সনদেই হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ হাদিসটির বর্ণনাকারী সাহাবি হলেন আনাস রা.। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন জিয়াদ এবং জিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন জায়িদা। এ হাদিসটির সব সনদেই এ দুজন রাবি আছে; অথচ এ দুজনকেই নিয়ে যত সমস্যা। রাবি দুজনের সমস্যা নিয়ে আমরা দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

রজবের দুআসংবলিত হাদিসটির ভাষ্য :
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الرَّازِيُّ قَالَ: نا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ عُمَرَ الْجِنِّيُّ قَالَ: نا زَائِدَةُ بْنُ أَبِي الرُّقَادِ قَالَ: نا زِيَادٌ النُّمَيْرِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ رَجَبٌ قَالَ: «اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ، وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
‘আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রজব মাস আসত তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শাবান ওয়া বাল্লিগনা রমাজান” অর্থাৎ হে আল্লাহ, আপনি রজব ও শাবান মাসে আমাদের বারাকাহ দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি : ৪/১৮৯, হা. নং ৩৯৩৯, প্রকাশনী : দারুল হারামাইন, কায়রো)

আরও যেসব কিতাবে হাদিসটি সনদসহ বর্ণিত হয়েছে :
(১) মুসনাদু আহমাদ : ৪/১৮০, হা. নং ২৩৪৬, প্রকাশনী : মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত (২) মুসনাদুল বাজ্জার : ১৩/১১৭, হা. নং ৬৪৯৬, প্রকাশনী : মাকতাবাতুল উলুমি ওয়াল হিকাম, মদিনা (৩) আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলা, ইবনুস সুন্নি : ১/৬১০, হা. নং ৬৫৯, প্রকাশনী : দারুল কিবলা, জিদ্দা (৪) শুআবুল ইমান, বাইহাকি : ৫/৩৪৮, হা. নং ৩৫৩৪, প্রকাশনী : মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ (৫) আদ-দাওয়াতুল কাবির, বাইহাকি : ২/১৪২, হা. নং ৫২৯, প্রকাশনী : গিরাস, কুয়েত (৬) আমালি ইবনি বিশরান : পৃ. নং ২৮২, হা. নং ১৫১০, প্রকাশনী : দারুল ওয়াতন, রিয়াদ) (৭) আদ-দুআ, তাবারানি : ১/২৮৪, হা. নং ৯১১, প্রকাশনী : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা, বৈরুত (৮) হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নুআইম : ৬/২৬৯, প্রকাশনী : দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত (৯) মুজামু ইবনি আসাকির : ১/২৬৪, হা. নং ৩০৯, প্রকাশনী : দারুল বাশাইর, দিমাশক (১০) ফাজাইলুল আওকাত, বাইহাকি : ১/১০৪, হা. নং ১৪, প্রকাশনী : মাকতাবাতুল মানারা, মক্কা)

হাদিসটির মান :
হাদিসটি মুনকার বা অত্যাধিক দুর্বল। কেননা, এ হাদিসে তিনটি সমস্যা রয়েছে। এক : একজন মুনকার রাবি আছে। দুই : একজন দুর্বল রাবি আছে। তিন : হাদিসটি গরিব বা এককভাবে বর্ণিত হয়েছে। বিস্তারিত বলছি-

এক : হাদিসটির সনদে জায়িদা বিন আবু রাক্কাদ নামক মুনকার পর্যায়ের একজন রাবি আছে, যার বর্ণিত হাদিস অগ্রহণযোগ্য হয়। তার ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের মন্তব্য দেখুন :

‘ইমাম আবু হাতিম রহ. বলেন, সে জিয়াদ বিন নামিরি সূত্রে আনাস রা. থেকে অনেক মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) মারফু হাদিস বর্ণনা করে।’ (আল-জারহু ওয়াত-তাদিল : ৩/৬১৩, জীবনী নং ২৭৭৮, প্রকাশনী : দারু ইহইয়াইত তুরাসিল আরাবিয়্যি, বৈরুত)

ইমাম ইবনে হিব্বান রহ. বলেন, জায়িদা বিন আবু রাক্কাদ প্রথিতযশা মুহাদ্দিসদের থেকে মুনকার হাদিস বর্ণনা করে, তার বর্ণিত হাদিস দলিলযোগ্য নয়। (কিতাবুল মাজরুহিন : ১/৩০৮, জীবনী নং ৩৬৭, প্রকাশনী : দারুল ওয়ায়ি, হালব)

ইমাম বুখারি রহ. বলেন, সে মুনকারুল হাদিস (যার হাদিস প্রত্যাখ্যাত হয়)। ইমাম আবু দাউদ রহ. বলেন, তার হাদিসের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। ইমাম নাসায়ি রহ. বলেন, সে মুনকারুল হাদিস। ইমাম আবু আহমাদ হাকিম রহ. বলেন, সে সুদৃঢ় নয়।’ (তাহজিবুল কামাল : ৯/২৭১-২৭২, জীবনী নং ১৯৪৯, প্রকাশনী : মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত- তাহজিবুত তাহজিব : ৩/৩০৫-৩০৬, জীবনী নং ৫৭০, প্রকাশনী : দায়িরাতুল মাআরিফ, ভারত)

হাফিজ জাহাবি রহ. ইমাম বুখারি রহ.-এর উক্তি নকল করে বলেন, সে মুনকারুল হাদিস অর্থাৎ যার বর্ণিত হাদিস প্রত্যাখ্যাত হয়। (আল-কাশিফ : পৃষ্ঠা নং ৪০০, জীবনী নং ১৬০৩, প্রকাশনী : দারুল কিবলা, জিদ্দা)

হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বলেন, সে মুনকারুল হাদিস অর্থাৎ যার বর্ণিত হাদিস প্রত্যাখ্যাত হয়। (তাকরিবুত তাহজিব : পৃ. নং ২১৩, জীবনী নং ১৯৭৬, প্রকাশনী : দারুর রশিদ, সিরিয়া)

প্রমাণ হলো যে, এ রাবি মুনকারুল হাদিস । আর হাদিস শাস্ত্রবিদদের মতে এ ধরনের রাবির বর্ণিত হাদিস জইফে শাদিদ বা মারাত্মক দুর্বল বলে বিবেচিত হয়।

দুই : জিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ নামিরি নামক একজন দুর্বল রাবি আছে। তার ব্যাপারে ইমামদের মন্তব্য দেখুন :
‘ইমাম ইয়াহইয়া বিন মাইন রহ. বলেন, সে দুর্বল রাবি। ইমাম আবু হাতিম রহ. বলেন, তার হাদিস লেখা যাবে, তবে তা দলিলযোগ্য নয়। ইমাম আবু দাউদ রহ. তাকে দুর্বল রাবি বলে আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম ইবনে হিব্বান রহ. বলেন, সে মুনকারুল হাদিস, তার বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল দেওয়া যাবে না।’(দেখুন : তাহজিবুল কামাল : ৯/৪৯২, জীবনী নং ২০৫৫, প্রকাশনী : মুআসসাসাতুর রিসালা, বৈরুত- তাহজিবুত তাহজিব : ৩/৩৭৮, জীবনী নং ৬৮৭, প্রকাশনী : দায়িরাতুল মাআরিফ, ভারত)

হাফিজ জাহাবি রহ. বলেন, সে দুর্বল রাবি। (আল-কাশিফ : পৃষ্ঠা নং ৪০০, জীবনী নং ১৬০৩, প্রকাশনী : দারুল কিবলা, জিদ্দা)
হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বলেন, সে মুনকারুল হাদিস। (তাকরিবুত তাহজিব : পৃ. নং ২২০, জীবনী নং ২০৮৭, প্রকাশনী : দারুর রশিদ, সিরিয়া)

সাব্যস্ত হলো যে, এ রাবিও দুর্বল। যদিও কেউ কেউ তাকে মুনকারুল হাদিস বলেও অভিহিত করেছেন। তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস তাকে শুধু দুর্বল বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন; তাই আমরা তাকে মুনকার রাবি না বললেও ন্যূনতম দুর্বল রাবি বলে গণ্য করছি। আর হাদিস দুর্বল হওয়ার জন্য এমন একজন রাবি থাকাই যথেষ্ট।

তিন : হাদিসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে দুজনের সমস্যা থাকার পাশাপাশি এটা আবার গরিবও বটে। অর্থাৎ হাদিসটি এক সনদে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদিসটির যতগুলো সনদ আছে, সব সনদেই জায়িদা ও জিয়াদ নামক উক্ত দুই রাবি আছে। আর উভয়ের অবস্থা কেমন, তা তো পূর্বে গত হয়েছে। তাই এমন দুর্বল রাবির এককভাবে বর্ণিত হাদিস যে মারাত্মক দুর্বল হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। হাদিসটি গরিব হওয়ার ব্যাপারে ইমামদের মন্তব্য দেখুন :

ইমাম তাবারানি রহ. বলেন :
لَا يُرْوَى هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَّا بِهَذَا الْإِسْنَادِ، تَفَرَّدَ بِهِ: زَائِدَةُ بْنُ أَبِي الرُّقَادِ
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ হাদিসটি শুধু এই সনদেই বর্ণিত হয়েছে। জায়িদা বিন আবু রাক্কাদ এককভাবে হাদিসটি বর্ণনা করেছে।’ (আল-মুজামুল আওসাত, তাবারানি : ৪/১৮৯, হা. নং ৩৯৩৯, প্রকাশনী : দারুল হারামাইন, কায়রো)

ইমাম বাইহাকি রহ. বলেন :
تَفَرَّدَ بِهِ زِيَادٌ النُّمَيْرِيُّ، وَعَنْهُ زَائِدَةُ بْنُ أَبِي الرُّقَادِ "، قَالَ الْبُخَارِيُّ: زَائِدَةُ بْنُ أَبِي الرُّقَادِ، عَنْ زِيَادٍ النُّمَيْرِيِّ مُنْكَرُ الْحَدِيثِ
‘জিয়াদ নামিরি এককভাবে হাদিসটি বর্ণনা করেছে। আর তার থেকে জায়িদা বিন আবু রাক্কাদও এককাভাবে বর্ণনা করেছে। ইমাম বুখারি রহ. বলেন, জায়িদা বিন আবু রাক্কাদ, যে জিয়াদ নামিরি থেকে বর্ণনা করে থাকে। আর সে (জায়িদা বিন আবু রাক্কাদ) একজন মুনকারুল হাদিস রাবি।’ (শুআবুল ইমান, বাইহাকি : ৫/৩৪৯, হা. নং ৩৫৩৪, প্রকাশনী : মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ)

সুতরাং প্রমাণ হলো যে, হাদিসটি মুনকার বা অত্যাধিক দুর্বল। আর এ ধরনের হাদিস না আকাইদের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য, না আহকামের ক্ষেত্রে আর না ফাজায়িলের ক্ষেত্রে। তাই এ ধরনের হাদিস দ্বারা ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো কিছুই সাব্যস্ত হবে না।

দুআটি পড়ার বিধান :
এ দুআটি পড়ার বিষয়ে বিধান হলো, হুবহু এ দুআকে নির্দিষ্ট মনে করা যাবে না, অনুরূপ শুধু রজব ও শাবান মাসে পড়াকেই ফজিলতপূর্ণ মনে করা যাবে না। অর্থাৎ এটাকে রজব ও শাবান মাসের বিশেষ দুআ মনে করা এবং এটাকে সুন্নাত বা মুসতাহাব বলে পড়া ঠিক নয়। তবে দুআটিকে নির্দিষ্ট মনে না করে এবং এর কোনো বিশেষ ফজিলতের আকিদা না রেখে এমনিতেই রমজান পর্যন্ত হায়াত দারাজ করার জন্য আল্লাহর কাছে এ দুআটির মাধ্যমে প্রার্থনা করা যাবে। শুধু এ দুআটিই নয়; বরং ভিন্ন বাক্যে এ জাতীয় অন্য কোনো দুআও করা যাবে। সালাফে সালিহিন থেকে এক্ষেত্রে বিভিন্ন বাক্যে দুআ করার কথা বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম মুআল্লা বিন ফজল রহ. বলেন :
كانوا يدعون الله تعالى ستة أشهر أن يبلغهم رمضان يدعونه ستة أشهر أن يتقبل منهم
‘ছয় মাস পর্যন্ত সালাফে সালিহিন আল্লাহর কাছে এ দুআ করতেন যে, তিনি যেন তাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। আর ছয় মাস তাঁর কাছে এ প্রার্থনা করতেন যে, তিনি যেন তাদের পক্ষ থেকে রমজান মাস কবুল করেন।’ (লাতাইফুল মাআরিফ : পৃ. নং ১৪৮, প্রকাশনী : দারু ইবনি হাজাম)

ইমাম ইয়াহইয়া বিন আবু কাসির রহ. বলেন :
كان من دعائهم: اللهم سلمني إلى رمضان وسلم لي رمضان وتسلمه مني متقبلا.
‘সালাফদের একটি দুআ এরূপ ছিল, হে আল্লাহ, আমাকে রমজান পর্যন্ত নিরাপদ রাখুন, আমার জন্য রমজানকে নিরাপদ করুন এবং আমার পক্ষ থেকে এটাকে কবুল করে নেবেন।’ (লাতাইফুল মাআরিফ : পৃ. নং ১৪৮, প্রকাশনী : দারু ইবনি হাজাম)

হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. বলেন :
لم يرد في فضل شهر رجب، ولا في صيام شيء منه معين، ولا في قيام ليلة مخصوصة فيه حديث صحيح يصلح للحجة
‘রজব মাসের ফজিলত, এ মাসে নির্দিষ্ট রোজা ও নির্দিষ্ট রাতের নামাজ সম্পর্কে এমন কোনো বিশুদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়নি, যা দলিলের উপযুক্ত হতে পারে।’ (তাবয়িনুল আজব বিমা ওরাদা ফি শাহরি রজব : পৃ. নং ২৩ )

শাইখ আব্দুল কারিম খুজাইর বলেন :
هذا حديث لا يثبت لكن إن دعا المسلم بأن يبلغه الله -عز وجل- رمضان، وأن يوفقه لصيامه وقيامه، وأن يوفقه لإدراك ليلة القدر أي بأن يدعو أدعية مطلقة فهذا إن شاء الله لا بأس به.
‘এ হাদিস বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নয়। কিন্তু মুসলমানের এভাবে দুআ করা যে, আল্লাহ যেন তাকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেন, তাকে রমজানের রোজা ও তারাবিহ পড়ার তাওফিক দেন এবং লাইলাতুল কদর পাওয়ার সৌভাগ্য দান করেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। অর্থাৎ (দিন, মাস বা দুআ নির্দিষ্ট না করে) এমন সাধারণভাবে দুআ করতে কোনো অসুবিধা নেই ইনশাআল্লাহ।’ (শাইখ খুজাইরডটকম : ফতোয়া নং ১৫৮২, দেখুন : https://shkhudheir.com/fatawa/224855973

সারকথা :
এসব বর্ণনা ও ফতোয়া থেকে অনুমেয় হয় যে, এ দুআটি মাসুর (হাদিসে বর্ণিত দুআ) হিসাবে নয়; বরং সাধারণ দুআ হিসাবে পড়া যাবে। শাস্ত্রীয় নিয়মানুসারে মুনকার হাদিসের ওপর আমল করার অনুমোদন না থাকলেও হাদিসে বর্ণিত উক্ত দুআটি যেহেতু সাধারণ দুআ হিসাবে পড়ারও সুযোগ আছে, তাই অন্তরে এ দুআ পড়াকে সুন্নাত বা মুসতাহাব বিশ্বাস না রেখে পড়লে বস্তুত তা মুনকার হাদিসের ওপর আমল বলা যায় না; বরং রমজান পাওয়ার জন্য অন্যান্য সাধারণ দুআ করার মতোই এটাও একটি দুআ হয়। আর এজন্যই এ দুআটির মধ্যে কোনো শব্দ বা বাক্য বৃদ্ধি করা বা দুআটি রজব মাস আসার আগেই পড়া; সবই অনুমোদিত। মোটকথা, স্বাভাবিকভাবে আমরা দুআটি পড়তে পারব। তবে এটাকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ বা কোনো মাসের সাথে নির্দিষ্ট মনে করা যাবে না।

ما صحة حديث: ((اللهم بارك لنا في رجب وشعبان وبلغنا رمضان))؟ | الموقع الرسمي لفضيلة الشيخ عبد الكريم بن عبد الله الخضير - حفظه الله تعالى - هذا حديث لا يثبت لكن إن دعا المسلم بأن يبلغه الله -عز وجل- رمضان، وأن يوفقه لصيامه وقيامه، وأن يوفقه لإدراك ليلة القدر أي بأن يدعو أدعية مطلقة فهذا إن شاء الله لا بأس ب...

04/03/2020

*★*
“মহিলাদের জিহাদ”
..
জিহাদ কয়েক প্রকার, আমি শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে যে জিহাদ করা হয় সেই জিহাদ সম্পর্কে বলছি। বর্তমানে অনেক জায়গায় অনেক দেশে দেখা যায় যে মহিলারাও পুরুষের সাথে জিহাদে যাচ্ছে শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য, শহিদ হওয়ার জন্য। হাতে অস্ত্রসস্ত্র কিছু একটা নিয়ে জিহাদে চলছে, দেখে অনেক অবাক লাগে কারণ হাদিসে তো এরকম কোন কিছু প্রমাণিত নেই যে উম্মুল মুমিনীন বা কোন মহিলা সাহাবি পুরুষদের সঙ্গে জিহাদে গিয়ে জিহাদ করার অনুমতি দিয়েছেন বা শত্রুর উপর হামলা করেছেন। না! এরকম কোন কিছুই নেই বরং হাদিসে আছে যে মহিলা সাহাবিরা পুরুষদের সঙ্গে জিহাদে গিয়ে জিহাদিরা আহত হলে তাদের পানি পান করাতেন, সেবা-চিকিৎসা করতেন।

রুবাইয়ি’ ‘বিনতু মআববিয (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ‘আমরা (যুদ্ধের ময়দানে) নবী (সাঃ)-এর সঙ্গে থেকে লোকদের পানি পান করাতাম, আহতদের পরিচর্যা করতাম এবং নিহতদের মদীনায় পাঠাতাম।’ (সহিহ বুখারী ২৮৮২, ২৮৮৩)

আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উহুদের দিন আমি ‘আয়িশা বিনত আবূ বাকর এবং উম্মু সুলায়ম (রাঃ)-কে দেখেছি, তাঁরা দু’জনেই পায়ের কাপড় গুটিয়ে নিয়েছিলেন। আমি তাঁদের পায়ের তলা দেখতে পেয়েছি। তারা মশক ভর্তি করে পিঠে পানি বয়ে আনতেন এবং (আহত) লোকেদের মুখে ঢেলে দিতেন। আবার ফিরে যেতেন এবং মশক ভর্তি পানি এনে লোকেদের মুখে ঢেলে দিতেন। (সহিহ বুখারী ২৮৮০, ৪০৬৪নং)

কিন্তু শত্রুর উপর হামলা করেছেন, শত্রুর সঙ্গে জিহাদ করেছেন, এরকম কোন কিছুই কোন মহিলা সাহাবি করেছেন বলে হাদিসে কোন প্রমাণ নেই। হা, জিহাদ হল শ্রেষ্ঠ আমলের মধ্যে এক আমল, খুবই উচ্চ ফজিলতের আমল এটা, এই আমলের ফজিলত শুনলে খুশিতে সঙ্গে সঙ্গে শহীদ হওয়ার ইচ্ছা হয়, কিন্তু নিজের মন যা বলবে তা করলেই তো ফজিলত পাওয়া যাবেনা, বরং আল্লাহ যা করতে বলেছেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যেভাবে করেছেন সেভাবেই করতে হবে। জিহাদের শাহাদাতের ফজিলত এতো বড় এত বেশি তাই উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট জিহাদের অনুমতিও চেয়েছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নারীদেরকে পুরুষের মত জিহাদের অনুমতি দেননি বরং হজ্জকে তাদের জন্য শ্রেষ্ঠ জিহাদ বলেছেন ও তা পালন করার আদেশও দিয়েছেন।

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল, জিহাদকে তো সর্বোত্তম আমল হিসেবে মনে করা হয়, আমরা কি জিহাদ করবো না? তিনি বললেন, «لَكُنَّ أَفْضَلَ الْجِهَادِ حَجٌّ مَبْرُورٌ» ‘তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হচ্ছে মাবরূর হজ।’ (বুখারী ২৮৭৫)

অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আয়েশা রা. বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা কি আপনাদের সাথে জিহাদে ও অভিযানে যাব না’? তিনি বললেন, «لَكُنَّ أَحْسَنُ الْجِهَادِ وَأَجْمَلُهُ الْحَجُّ حَجٌّ مَبْرُورٌ» ‘তোমাদের জন্য উত্তম ও সুন্দরতম জিহাদ হল ‘হজ’- মাবরূর হজ।’ (ফাতহুল বারী : ৪/১৮৬১)

উম্মুল মুমিনীন ‘আয়িশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রসূল (সাঃ)-এর নিকট তাঁর স্ত্রীগণ জিহাদের অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি বললেন, (মহিলাদের জন্য) উত্তম জিহাদ হলো হজ্জ। (বুখারী ২৮৭৬)

আয়িশাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! মহিলাদের জন্য কি জিহাদ বাধ্যতামূলক? তিনি বলেনঃ হাঁ, তাদের উপরও জিহাদ ফারদ, তবে তাতে অস্ত্রবাজি নাই। তা হচ্ছে হজ্জ ও উমরা। (ইবনে মাজাহ ২৯০১)

শুধু নবী পত্নী হযরত আয়েশা (রাঃ) নয়, উম্মু সালামাহ (রাঃ)ও মহিলাদের জিহাদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞাস করেছিলেন।

উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি অভিযোগের সুরে বলেছিলেনঃ পুরুষরা যুদ্ধ করে, আমরা মহিলারা যুদ্ধ করতে পারি না তদুপরি আমাদের জন্য মীরাসের অর্ধেক। তখন আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেন। (মুসনাদে আহমাদঃ ৬/৩২২, তিরমিযীঃ ৩০২২) এ প্রসঙ্গেই কল্যাণময় আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেনঃ

وَلَا تَتَمَنَّوْا مَا فَضَّلَ اللَّهُ بِهِۦ بَعْضَكُمْ عَلٰى بَعْضٍ ۚ لِّلرِّجَالِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبُوا ۖ وَلِلنِّسَآءِ نَصِيبٌ مِّمَّا اكْتَسَبْنَ ۚ وَسْئَلُوا اللَّهَ مِن فَضْلِهِۦٓ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمًا
“আল্লাহ তা’আলা যদ্দারা তোমাদের কাউকে অপর কারো উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা তার লোভ করো না। যা পুরুষ অর্জন করেছে তা তার প্রাপ্য অংশ আর নারী যা অর্জন করেছেন তা তার প্রাপ্য অংশ। তোমরা আল্লাহ তা’আলার নিকট তার অনুগ্রহ প্রার্থনা কর। আল্লাহ তা’আলা নিশ্চয়ই সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।” (সূরা আন-নিসা ৩২)।

ইসলামের সর্বপ্রথম শহীদ ছিলেন একজন নারী যার নাম সুমাইয়া (রাঃ)। তিনি কিভাবে শহীদ হলেন? তিনি কি কাফিরের বিরুদ্ধে জিহাদে গিয়ে শহীদ হয়েছেন? আবু জাহলের বাড়িতে তাকে মারতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন? না, বরং দুর্বৃত্ত আবু জাহল সুমাইয়া (রাঃ) এর লজ্জাস্থানে তীর দিয়ে আঘাত হানলে তৎক্ষণাৎ তিনি শাহাদত বরণ করেন। আর এর কারণ ছিল তিনি ইসলাম কবুল করে মুসলিম হয়েছিলেন। (আল-ইছাবাহ, সুমাইয়া, ক্রমিক ১১৩৩৬)

যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হননি। তাহলে এই যে দেখা যাচ্ছে পর্দাকরে হাতে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে জিহাদে পুরুষের সঙ্গে যাচ্ছে এরা এই হুকুম কোথায় পেলো? কে দিলো এদেরকে এসবের হুকুম? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যে জায়গায় নিজের স্ত্রীকে এই জিনিসের হুকুম দিলেননা তাহলে এদেরকে তো এই হুকুম দেয়ার প্রশ্নই আসেনা! এরা কি বাইরে বের হয়ে পুরুষের সঙ্গে জিহাদ করে উম্মুল মুমিনীনদের থেকে বেশি সওয়াব পেয়ে যাবে বা পেতে যায়? মহিলা সাহাবী থেকে বেশি সওয়াব পেয়ে যাবে? সাহাবাগণের মর্তবা ও মর্যাদায় পৌঁছানো কোনক্রমে সম্ভব নয়। যেহেতু মহানবী (সঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম যুগ হল আমার (সাহাবীদের) যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী (তাবেয়ীদের) যুগ। অতঃপর তৎপরবর্তী (তাবে-তাবেয়ীনদের) যুগ।’ তিনি আরও বলেন, কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ আল্লাহ্‌র রাস্তায় ব্যয় করে, তথাপিও সে তাঁদের কোনো একজনের পূর্ণ এক মুদ্দ (প্রায় অর্ধ কেজি) বা অর্ধ মুদ্দ দান সমপরিমাণ পর্যন্তও পৌঁছতে পারবে না। (বুখারী ও মুসলিম)

আল্লাহ তা'আলা কোরআনে নারীদেরকে কি বলেছেন? পুরুষের মতো দুশমনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে বলেছেন? নাকি স্বগৃহে অবস্থান করার কথা বলেছেন?

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلاَ تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الأُولَى- ‘তোমরা স্বগৃহে অবস্থান কর, প্রাচীন জাহেলী যুগের নারীদের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করো না’ (আহযাব ৩৩)। (এই আয়াতের তাফসীর দেখেন তাহলে আরও জানতে পারবেন)।

আল্লাহ কিভাবে নারীদেরকে সওয়াব দেন কোন কাজে কত বড় ফজিলত রেখেছেন তা শুধু আল্লাহই জানেন আর আল্লাহরই হুকুম যে নারীরা ঘরেই থাকবে তাহলে এতেই বুঝা যায় যে নারীদের সর্বোচ্চ সওয়াবের স্থান বাইরে নয় বরং ঘরে আর নারীদের জিহাদ হল হজ্জ যা আয়েশা (রাঃ) এর বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত, আয়েশা (রাঃ)-কে এই হুকুম দেয়া মানে প্রত্যেক নারীকেই এই হুকুম দেয়া।

তাই হুকুম লঙ্ঘন করে সীমা অতিক্রম করা মানে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের অবাধ্য হওয়া আর এই অবাধ্যতায় মৃত্যুবরণ করলে তো পরকালে এর পরিণতি খুব মন্দ হবে যদিনা আল্লাহ ক্ষমা করেন। জান্নাত থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি বড়, আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া কেউই জান্নাতে যেতে পারবেনা।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের কাউকে তার আমল জান্নাতে পৌঁছাতে পারবে না এবং তাকে জাহান্নাম হতেও বাঁচাতে পারবে না, এমন কি আমাকেও নয়, আল্লাহর রহমত ছাড়া (মুসলিম, মিশকাত হা/২৩৭২)।

আল্লাহর সীমা অতিক্রম করে আল্লাহর অবাধ্য হয়ে আমল করলে সে আমল কোন কাজেই আসবেনা। বরং এটা হয়ে যাবে আমল ইবাদত নিয়ে সীমালঙ্ঘন।

قُلْ يٰٓأَهْلَ الْكِتٰبِ لَا تَغْلُوا فِى دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوٓا أَهْوَآءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِن قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَن سَوَآءِ السَّبِيلِ
“বল, হে কিতাবধারীগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীন সম্বন্ধে অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করো না, আর সেই সম্প্রদায়ের খেয়াল খুশির অনুসরণ করো না যারা ইতোপূর্বে পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে আর সোজা পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।” (সূরা আন-নিসা ৭৭)

بَلِ اتَّبَعَ الَّذِينَ ظَلَمُوٓا أَهْوَآءَهُم بِغَيْرِ عِلْمٍ ۖ فَمَن يَهْدِى مَنْ أَضَلَّ اللَّهُ ۖ وَمَا لَهُم مِّن نّٰصِرِينَ
“বরং সীমালঙ্ঘনকারীরা কোন জ্ঞান ছাড়াই তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে; কাজেই আল্লাহই যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে সৎপথ দেখাবে কে? তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরা আর-রুম ২৯)

يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبٰتِ مَآ أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوٓا ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ
“আর সীমালঙ্ঘন করো না, অবশ্যই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালবাসেন না।” (সূরা আল-মায়িদাহ ৮৭, আশ-শুরা ৪০)

নবী (সাঃ) বলেন, “অতিরঞ্জনকারীগণ ধ্বংস হোক। অতিরঞ্জনকারীগণ ধ্বংস হোক। অতিরঞ্জনকারীগণ ধ্বংস হোক।” তিনি আরো বলেন, “তোমরা দ্বীনের ব্যপারে অতিরঞ্জন করা থেকে দূরে থেকো। কেননা অতিরঞ্জনই পূর্ববর্তী বহু উম্মতকে ধ্বংস করেছে।” (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ৩০২৯)

আর এসব সীমালঙ্ঘন ও ফিতনা ব্যতিত অন্য কিছুই নয়, অন্ধকারাচ্ছন্ন ফিতনা যা বুঝা যায় না। দ্বীনি দুনিয়াবি উভয় প্রকার মানুষকেই ঘ্রাস করছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ফিতনা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার আদেশ আমাদেরকে দিয়ে গেছেন।

আবূ কাবশাহ (রঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু মূসা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “নিশ্চই তোমাদের সামনে অন্ধকার রাতের টুকরার ন্যায় একের পর এক বিপদ আসতে থাকবে। সেই বিপদের সময় সকালবেলা যে লোকটি ঈমানদার ছিলো, বিকেলবেলা সে কাফির হয়ে যাবে। আর সন্ধ্যাবেলা যে লোকটি ঈমানদার ছিলো, সকালে সে কাফির হয়ে যাবে। সে সময়ের বসে থাকা ব্যাক্তি দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে এবং দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাক্তি হেঁটে চলা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম এবং হেঁটে চলা ব্যাক্তি দৌড়ে চলা ব্যাক্তির চাইতে উত্তম হবে। লোকজন বললো, আপনি আমাদের কি করতে আদেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের ঘরের পর্দার ন্যায় হয়ে যাও (বের হয়ো না)।” (আবু দাউদ ৪২৬২)

আল-আহনাফ ইবনু ক্বাইস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি যুদ্ধে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হলাম। আবূ বাক্‌রাহ (রাঃ) আমার সঙ্গে সাক্ষাত করে বললেন, তুমি ফিরে যাও। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছি; দুই মুসলিম তরবারি নিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হলে হত্যাকারী ও নিহত উভয়েই জাহান্নামে যাবে। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হত্যাকারী তো জাহান্নামে যাবেই, তবে নিহত ব্যক্তি কেন যাবে? তিনি বলেনঃ নিশ্চয়ই সেও তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করতে সংকল্পবদ্ধ। (আবু দাউদ ৪২৬৮)

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “মানুষের উপর এমন এক যুগ আসছে, যখন মুসলিমের জন্য শ্রেষ্ঠ সম্পদ হবে ভেঁড়া-ছাগল; তাই নিয়ে পর্বত-শিখরে ও পানির জায়গাতে চলে যাবে; ফিতনা থেকে নিজ দ্বীন নিয়ে পলায়ন করবে।” (বুখারী ৩৬০০, হাদিস সম্ভার ১৮৮০)

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, সময় ছোট হয়ে আসবে, দ্বীনি জ্ঞান হ্রাস পাবে, ফিতনা প্রকাশ পাবে, কৃপণতা মানুষের অন্তর দখল করবে, হারাজ বেড়ে যাবে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! ‘হারাজ’ কি? তিনি বলেন, গণহত্যা। (আবু দাউদ ৪২৫৫)

তাই ফজিলত দেখেই দৌড় দিলে হবেনা বরং আগে হুকুম আহকাম সব জানতে হবে বুঝতে হবে। উম্মুল মুমিনীররা অবশ্যই জিহাদ করতে পারতেন। তাদের জিহাদ করার ক্ষমতাও ছিল। কিন্তু তারা আল্লাহর সীমালঙ্ঘন করেননি। আল্লাহ তা'আলা যেভাবে তাদেরকে আদেশ দিয়েছেন সেভাবেই জীবন কাটিয়ে গেছেন।

আল্লাহ তা'আলা কি বলেছেন, মহিলা সাহাবিরা তা কিভাবে করেছেন তার কোন খবরই নেই। বরং হুজুর যা বলছে, মুফতি যা বলছে, দল নেতা যা বলছে তাই অনুসরণ করতে হবে তাই মেনে চলতে হবে যদিও তা কোরআন হাদিসের বিরুদ্ধে যায়, অন্ধ অনুসরণ চলছে। এরা এমন শ্রেণীর লোক যাদের ব্যাপারে ইমাম তিরমিযী ও অন্যরা আদী বিন হাতেম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (হাতেম) বলেন, আমি নবী (সাঃ) কে পাঠ করতে শুনেছি:

﴿اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ﴾
“তারা আল্লাহ্‌কে ছেড়ে তাদের পণ্ডিতগণ ও সংসার-বিরাগীদের রব হিসেবে গ্রহণ করেছে” (তাওবা-৩১)। ফলে আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)! তারা তো তাদের ইবাদাত করে না। তখন আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বললেন:

إِذَا أَحَلُّوا لَهُمْ شَيْئًا اسْتَحَلُّوهُ وَإِذَا حَرَّمُوا عَلَيْهِمْ شَيْئًا حَرَّمُوهُ
“তারা যখন তাদের জন্য কোন কিছু হালাল করে তখন তারা সেটাকে বৈধ মনে করে। আর তারা যখন তাদের জন্য কোন কিছু হারাম করে তখন তারা সেটাকে হারাম মনে করে। সুতরাং এটাই তাদের ইবাদাত করা হলো।” (আলবানী হাসান বলেছেন, তিরমিযী ৩০৯৫)

যা দিয়েছি সব দলিল সহ দিয়েছি, দলিলের বাইরে কিছু দেইনি। তাই কেউ পোস্টের বিপক্ষে কিছু বলতে চাইলে বা কোন ভুল হলে পরিষ্কার দলিল প্রমাণ সহ দিবেন, খারেজির মতো কোরআনের আয়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে বললে হবেনা। “তোমাদের কাছে কোন প্রমাণ আছে কি? যদি থাকে তবে তা আমাদের সামনে পেশ কর; তোমরা তো শুধু ধারনা-অনুমানের পেছনেই চলছো এবং কেবল আন্দাজ করে কথা বলছ।” (সূরা আল-আন’আম ১৪৮)

খারেজিরা কোরআন এর আয়াতের মনগড়া ব্যাখ্যা করে পথভ্রষ্ট হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, “কাফিরদের বিষয়ে যে সকল আয়াত নাযিল হয়েছে এরা সেগুলিকে নিয়ে মুসলিমদের উপর প্রয়োগ করে।’’ (বুখারী, আস-সহীহ ৬/২৫৩৯) আপনারা যদি খারেজির ইতিহাস পড়েন, তাহলে দেখবেন প্রায় অনেক কিছুই এদের সঙ্গে মিলে যায়।

“যারা নিজেদের (পূর্ণ পরিণত) দ্বীনকে খন্ডে খন্ডে বিভক্ত করে নিয়েছে আর (আপন আপন অংশ নিয়ে) দলে দলে ভাগ হয়ে গেছে তাদের কোন কাজের সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নেই। তাদের ব্যাপারটি পুরোপুরি আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। (সময় হলেই) তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেবেন তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে।” (সূরা আল-আন'আম ১৫৯)

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Dhaka