Madrasa Nafiul Quran

Madrasa Nafiul Quran

Share

Our Arabic school named "Madras Nafiul Quran ".It is not so large but its environment so religious w

03/01/2022

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কওমি মাদ্রাসা!! ছাত্র উস্তাদের মধ্যে রুহানিয়াত নেই। শুধু ক্ষমতা আর প্রতি হিংসার আগুন জলছে -শিক্ষক তলাবাদের মধ্যে!!!
...........................................................................
মূল: মুফতি তাকি উসমানী হাফি.
অনুবাদ: ইবনে নাজ্জার
সূত্র: "শাহ রাহে ইলম"

এই লেখাটা মুফতি তাকি উসমানী সাহেব হাফি. কওমি মাদ্রাসার বর্তমান এই দুরাবস্থা দেখে, নিজের শত শত তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন। মনের গভীরে চেপে রাখা অনেক দিনের কষ্ট আর আফসোস গুলো কলমের ভাষায় প্রকাশ করেছেন।

তাই প্রত্যেকটা কওমি মাদ্রাসার সম্মানিত শিক্ষক মন্ডলী ও পরিচালনা কমিটির কাছে, এই লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত মনোযোগের সাথে পড়ার আন্তরিক নিবেদন রইল।

আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন।)
--------------------
তিনি বলেন, অনেক চিন্তা ভাবনা করার পর যতোটুকু আমি বুঝতে পারলাম তা হল; কওমি মাদ্রাসার অধঃপতনের মূল কারণ হল "আস্তে আস্তে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থাটা গতানুগতিক একটি প্রথায় পরিণত হয়েছে। আর এর আসল উদ্দেশ্য আমরা ভুলে গিয়েছি"। যদিও আমাদের মুখে এখনো এ কথাই শোনা যায় যে, "এই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল ইসলাম ধর্মের খেদমত করা"। তবে তিক্ত বাস্তবতা হল, এগুলো শুধু মুখেই বলা হয় অন্তরে থাকে অন্য কিছু। কেননা বাস্তবেই যদি আমাদের অন্তরে এই উদ্দেশ্য থাকত, তাহলে আমাদের সার্বক্ষণিক ব্যস্ততা এটাই থাকত। আকাবির ও আসলাফদের মত সর্বদা আমাদের মাথায় ঘুরত, আমাদের কোনো কাজে আল্লাহ তা'আলা অসন্তুষ্ট হচ্ছেন কিনা?
আমাদের কাজে-কর্মে দ্বীনের কতটুকু খেদমত হচ্ছে?
আমরা আমাদের মূল উদ্দেশ্যে কতটুকু সফল হয়েছি?

বরং উল্টো আমরা আমাদের সম্পূর্ণ মনোযোগ মাদ্রাসার বাহ্যিক উন্নতিতে লাগিয়েছি, যা আমাদের আসল উদ্দেশ্য নয়। বেশিরভাগ মাদ্রাসার পরিচালকরা সর্বদা এটাই চেষ্টা করেন যে, কিভাবে আমার মাদ্রাসাটা প্রসিদ্ধতা লাভ করবে? কিভাবে ছাত্রের সংখ্যা বাড়ানো যাবে? কিভাবে দেশের নামকরা শিক্ষকদের এখানে জমায়েত করা যাবে?

এক কথায় কিভাবে জনসাধারণের মাঝে মাদ্রাসা এবং মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির ভালোবাসা আর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে? আর এগুলোর পিছনে আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর রাত-দিনের দৌড়ঝাঁপ দেখলে তো মনে হয়, এগুলোই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। আবার এই উদ্দেশ্য পূরণ করার জন্য আমরা এমন পন্থাও অবলম্বন করি, যা একজন আলেমের জন্য কখনো সমিচীন নয়। বরং কখনো কখনো তো আমরা স্পষ্ট নাজায়েজ আর অবৈধ-পন্থা অবলম্বন করতেও দ্বিধাবোধ করি না।

অন্যদিকে যদি কোনো মাদ্রাসা মোটামুটিভাবে এগুলো অর্জন করে ফেলে, তাহলে মনে করা হয় আসল উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেছে। অথচ আমাদের ছাত্রদের শিক্ষা, চারিত্রিক ও ধর্মীয় অবস্থা কেমন? আমরা মুসলিম সমাজ পরিচালনা করার জন্য কেমন মানুষ তৈরি করেছি?
আমাদের চেষ্টা ও মুজাহাদার দ্বারা বাস্তবে ইসলামের কতটুকু উপকার হচ্ছে? সেগুলোর কোন খবরই থাকে না।

আর আস্তে আস্তে তো এসব বিষয়ের খোঁজখবর নেওয়া, চিন্তাভাবনা করার মানুষও কমে যাচ্ছে।

মোটকথা এই অধঃপতনের মূল কারন হল, "খিদমতে দ্বীন আমাদের আসল উদ্দেশ্য" এটা একবার মুখে উচ্চারণ করার পর কর্মজীবনে আমরা তা ভুলে যাই। আর এই বাহ্যিক জিনিসগুলো ঘিরেই চলতে থাকে আমাদের মেহনত-মুজাহাদা, শ্রম-সাধনা সবকিছুই।
অথচ এগুলো আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। বরং এগুলোর সাথে তো ইসলামের কোনো সম্পর্কই নেই আর থাকলেও এই শর্তে যে, আমাদের মূল উদ্দেশ্য ইসলামের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য নিয়ত শুদ্ধ রেখে এগুলোকে শুধু মাত্র মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু অত্যন্ত আফসোস ও পরিতাপের বিষয় হল, আমরা এগুলোকেই মূল উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলেছি।

এমনিভাবে কওমি মাদ্রাসার গৌরবময় ইতিহাসের এক উজ্জল বৈশিষ্ট্য হল, এখানের শিক্ষক ছাত্রদের পারস্পরিক সম্পর্কটা গতানুগতিক সাধারণ কোন সম্পর্ক নয়, যা শুধু মাত্র শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বরং এটা পরস্পরের মধ্যে আত্মার পবিত্র সম্পর্ক। যা শিক্ষা জীবন থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত অটুট থাকত। উস্তাদ শুধুমাত্র কিতাব পড়ানোর জন্য নিযুক্ত কোন শিক্ষক ছিল না, বরং নিজ ছাত্রদের জন্য তাঁরা ছিলেন কল্যাণকামী দরদী এক মহান পিতা।

আর ছাত্রদের চারিত্রিক ও আধ্যাত্মিক দিক নির্দেশনা প্রদান কারী। ইলম ও আমলের ময়দানে ছাত্রদের শুভাকাঙ্ক্ষী এক অভিভাবক। সাথে সাথে তাঁরা ছাত্রদের নিজস্ব বিষয়গুলোও দেখাশোনা করতেন। ফলে ছাত্ররা শিক্ষকদের থেকে পুঁথিগত শিক্ষা পাওয়ার সাথে সাথে চারিত্রিক শিক্ষাও গ্রহণ করত। তাঁদের থেকে জীবন পরিচালনা করা শিখত। শিখত ধার্মিকতা, একনিষ্ঠতা, বিনয়-নম্রতাসহ উত্তম চরিত্রের আরো অনেক গুণাবলী। আর এভাবেই ছাত্ররা শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় শিক্ষকদের সাদৃশ্য হয়ে উঠত।

বিশেষ করে "দারুল উলুম দেওবন্দ" যেই মৌলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বিশ্বের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এক ভিন্নরকম উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তা হল, এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় বরং আদর্শ মানুষ গড়ার এক বিশাল কারখানা। যেখানে শিক্ষার চেয়ে দীক্ষার পরিমাণই বেশি থাকে। ফলে তৈরি হয় সঠিক শুদ্ধ আকিদায় বিশ্বাসী একনিষ্ঠ একজন পাক্কা মুসলমান। যারা কথার চেয়ে বেশি নিজেদের সুন্দর আচার-ব্যবহার আর উত্তম চরিত্রের মাধ্যমেই ইসলামের প্রচার-প্রসার করে।
কিন্তু আফসোসের বিষয় হল আস্তে আস্তে এ বিষয় গুলো আদিম যুগের ইতিহাসের মতো হয়ে যাচ্ছে।

আর এর মূল কারণ হচ্ছে শিক্ষকরা নিজেদের মূল উদ্দেশ্য এটা কে বানিয়েছেন যে, শ্রেণিকক্ষে এমন ভাবে পড়ানো যাতে ছাত্ররা খুশি হয়ে যায। তাঁরা সব সময় ভাবতে থাকে, পড়ানোর জন্য তাঁদেরকে কেমন প্রবন্ধ বা কিতাব দেওয়া হয়েছে? কিভাবে ছাত্রদের ওপর নিজের জ্ঞানের প্রভাব পড়বে?

কোন পদ্ধতি অবলম্বন করলে ছাত্রদের মাঝে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে? আর এই গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গিয়ে কোন পদ্ধতিতে পড়ালে ছাত্রদের বেশি উপকার হবে, সেটা ভুলে যায়। বরং কখনো তো তাঁরা খুঁজতে থাকে যে, কোন পদ্ধতিটা ছাত্রদের প্রবৃত্তির চাহিদা অনুযায়ী হবে? ফলে শিক্ষকগণ ছাত্রদেরকে দিক-নির্দেশনা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের প্রবৃত্তির অনুগত হয়ে যায়। আর ছাত্ররা শিক্ষকের পিছনে চলে না বরং শিক্ষকরা ছাত্রদের চাহিদার পিছনে দৌড়াতে থাকে।
কিন্তু কিভাবে পড়ালে ছাত্রদের উপকার হবে?
কী কী শেখালে ছাত্ররা ধর্ম, দেশ ও জাতির জন্য আরও উপকারী হিসেবে গড়ে উঠবে?
ছাত্রদের কী ধরনের আগ্রহ-উদ্দীপনা, চাহিদা তাদের জন্য ক্ষতিকর?
কিভাবে ক্ষতিকর জিনিস থেকে তাদের আগ্রহ দূর হবে?
শ্রেণীকক্ষের বাইরে তারা কিভাবে চলা ফেরা করছে?

এগুলো বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করা, ছাত্রদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য পূরণে এগিয়ে আসার মতো লোকেরাও আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে।
তাই এখন সর্বপ্রথম আমাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ এলাকায় কওমি মাদ্রাসার মৃত্যুপ্রায় এই "প্রাণ" পুনরায় তাজা করার প্রয়োজন। কেননা এটি ছাড়া আমাদের কওমি মাদ্রাসাগুলো বেশির থেকে বেশি আক্ষরিক জ্ঞানের "কেন্দ্র" হতে পারবে। ইসলামের সবচেয়ে বড় ভয়ঙ্কর শত্রু ইউরোপ আমেরিকার মুশরিক প্রাচ্যবিদদের মতো মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা এবং নির্দিষ্ট কিছু বিষয় পড়াশোনা করানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য হয়ে যাবে। আর আস্তে আস্তে একদিন আমরা দ্বীনি শিক্ষার অপরিহার্য ও আবশ্যকীয় এই বৈশিষ্ট্যগুলি হারিয়ে, অবশেষে একদিন দ্বীনহারা হয়ে পড়ব।

কওমি মাদ্রাসার এই প্রাণ যা সময়ের ঘূর্ণিপাকে আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে, এটাকে পুনর্জীবিত করতে সবচেয়ে বড় গুরুদায়িত্ব হল প্রত্যেকটি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যের উপর। তাদের উচিত হল সর্ব প্রথম তাঁরা নিজেদের আমল-আখলাকের দিকে নজর দিবে। তাঁরা দেখবে ইসলামী শিক্ষা তাদের জীবনে কোনো পরিবর্তন এনেছে কি না?
আল্লাহর ভয় আর আখেরাতের চিন্তায় তাঁদের অন্তর কেঁপে ওঠে কি না?
রবের সাথে তাঁদের নৈকট্য বৃদ্ধি পেয়েছে কি না?
ইবাদতের প্রতি তাঁদের আগ্রহ কতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছে?
আমলের যেই ফজিলতগুলো দিনরাত তাঁরা অন্যকে শোনাচ্ছেন, নিজেরা তার উপর কতটুকু আমল করছেন?

আল্লাহর রাস্তায় দান সদকা করার জন্য অন্যদেরকে কুরআন হাদীস শুনিয়ে যেই উৎসাহ উদ্দিপনা দেওয়া হয়, নিজেরা তাতে কতটুকু অংশ গ্রহণ করেছে?

ইসলামের জন্য জান ও মালের কুরবানী দেওয়ার জন্য কতটুকু প্রস্তুতি নিয়েছে? সমাজের এই অধঃপতনে তাঁরা অস্থির হয়ে ছটফট করছে কি না?
সুন্দর সুশীল সমাজ বিনির্মাণের চিন্তা-চেতনা তাদের মন-মস্তিস্কে কতটুকু প্রভাব ফেলেছে?

যদি এ বিষয় গুলো নিয়ে আমরা চিন্তা করি, বাস্তবতা আর সততার সাথে নিজেদের মাঝে এগুলোর উত্তর খুঁজি তাহলে লজ্জায় শরমে মাথা নিচু করে আফসোস আর অনুতাপ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
তাই এখন সময়ের দাবি, এই আফসোস আর অনুতাপ থেকে শিক্ষা নিয়ে আর লজ্জা-শরমকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎ সুন্দর করা।

তবে এটা সাময়িক হলে, তাতে কোন উপকার হবে না। বরং সর্বদা এটা মনেপ্রাণে ধারণ করে নিতে হবে, আর নিজেদের ভবিষ্যৎকে চোখের সামনে ভাসিয়ে তুলতে হবে। তাহলেই হয়ত আবার ফিরে যেতে পারি আমাদের হারিয়ে যাওয়া সেই সোনালী অতীতে।
আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের জন্য কবুল করুন।

28/12/2021

দারুল উলুম দেওবন্দের উস্তাদগণের কাছে মুফতী আব্দুল মালেক সাহেব দা. বা. এর গুরুত্ব ৷ লিখেছেন, রাশীদ আহমদ কাসেমী।
=============================
২০১৭ ইং সাল, আমরা তখন দারুল উলুম দেওবন্দের দাওরায়ে হাদীসের ছাত্র, বিকালবেলা মাতবাখ থেকে গোশ্ত-রুটি নিয়ে রুমের দিকে ফেরার পথে দারুল উলুম দেওবন্দের সদরগেটে একটি এলান দেখলাম, এলানকারীরা হলো ভারতের আসাম, ২৪ পরগণা, ও কলকাতার বাংলাভাষী ছাত্ররা, এলানে লেখাছিল, বাংলাদেশ থেকে আগত বর্তমান বিশ্বের অন্যতম হাদীস বিশারদ প্রখ্যাত মুফতী ও মুহাদ্দিস আব্দুল মালেক সাহেব দাঃবাঃ দারুল উলুম দেওবন্দে আগমন উপলক্ষে খানকাহ মসজিদে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে ৷
এই এলান থেকেই সর্বপ্রথম জানতে পারলাম হযরতের আগমন সম্পর্কে, এরপর বাংলাদেশী ছাত্রদের থেকে আগমনের তারিখ ও সময় সহ বিস্তারিত জানলাম ৷

যাহোক, হযরত আসার আগেই দারুল উলুম দেওবন্দের মেহমানখানায় বিশেষ একটি কামরা বুক করা হল, হযরতের আগমন বাংলাদেশী ছাত্রদের জন্য বিরাট আনন্দ ও গর্বের কারণ মনে হল, তাই সমস্ত বাংলাদেশী ছাত্র সহ অনেক ইন্ডিয়ান ছাত্ররাও বাবে কাসেমের সামনে হযরতের ইস্তিকবালরর জন্য অপেক্ষা করছিল, হযরত ছাত্রদের ভিড়াভিড়ির কথা টের পেয়ে মসজিদে রশীদের সামনে হয়ে মাদ্রাসার ভিতর দিয়ে প্রবেশ করলেন যেন ছাত্ররা ভিড়াভিড়ি করতে না পারে ৷ আমরা আগে থেকেই মেহমানখানার সামনে উপস্থিত ছিলাম, রাত প্রায় সাড়ে নয়টায় একটি হাইসে করে আসলেন, ঐ সফরে হুজুরের সাথে মাওলানা তাহমীদুল মাওলা সাহেবও ছিলেন ৷

আমরা সবাই শুধু সালাম মুসাফাহা করতে পারলাম, এরপর হুজুরকে নিয়ে যাওয়া হল মেহমানখানায়, প্রচন্ড ভিড়াভিড়ির আশংকায় বিশেষ কয়েকজনকে ভিতরে রেখে মেহমানখানার গেট বন্ধ করা দেওয়া হল, আমরাও সাক্ষাত করে আমাদের কামরায় চলে আসলাম ৷
এরপর শুরু হল দেওবন্দের উস্তাদগণের সাথে সাক্ষাতের মারহালা, প্রথমই আসি দেওবন্দের শাইখুল হাদীস মুফতী সাঈদ আহমাদ পালনপুরী রহঃ এর সাথে সাক্ষাতের কথা ৷

যারা পালনপুরী সাহেব সম্পর্কে সামান্যও জানেন, তারা অবশ্যই জেনে থাকবেন, পালনপুরী সাহেব হুজুর সময়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রক্ষনশীল, আসরের পর ব্যতিত কারো সাথে সাক্ষাত করেননা, এমনকি একবার দারুল উলুম দেওবন্দে মুফতী তাকী উসমানী সাহেব আসলে দেওবন্দের সমস্ত হুজুররা মুফতী তাকী উসমানী সাহেবের সাথে মেহমানখানায় সাক্ষাত করতে আসলেও পালনপুরী সাহেব হুজুর আসেননি সময়ের সাথে না মেলার কারণে, অতঃপর মুফতী তাকী উসমানী সাহেব দা.বা. নিজে হুজুরের বাসায় গিয়ে সাক্ষাত করেন ৷
যাহোক, বলতে চাচ্ছিলাম হুজুরের নির্ধারিত সময় ব্যতিত যত বড় ব্যক্তিই হোক সাক্ষাতের কোনো চান্স নেই ৷

আমাদের মুফতী আব্দুল মালেক সাহেব হুজুরের আগমনের কথা শুনে পালনপুরী সাহেব প্রথমে সময় দিলেন ফজরের পর, এমন সময়ে সাক্ষাতের কথা আমরা সারা বছরেও কারো ব্যপারে শুনিনি, এরপর পালনপুরী সাহেব হুজুরের খুব কাছের একজন ছাত্রকে দিয়ে খবর দিলেন যে, মুফতী আব্দুল মালেক সাহেব হুজুর যেন এশার পরেই সাক্ষাত করেন, লম্বা কথা হবে ৷ পালনপুরী সাহেবের সাথে এশার পরে সাক্ষাত তো প্রায় অসম্ভব ব্যপার৷ কিন্তু পালনপুরী সাহেব নিজেই এই সময় দিলেন, তাই করা হল, এক দেড় ঘন্টা নয় প্রায় তিন ঘন্টা কথা বললেন বিভিন্ন বিষয়ে, প্রথমে এক ঘন্টার মত সফরসঙ্গী সহ কয়েকজন ছাত্রও ছিলেন, কিন্তু পরে সবাইকে বিদায় দিয়ে শুধু তাহমীদুল মাওলা সাহেব ছিলেন, এই দুইজনকে নিয়ে আরো দুই ঘন্টা কথা বললেন ৷

এরপর হল মজার কাহিনী! মেহমানখানায় এসে দেখা গেল দারোয়ান গেট বন্ধ করে দিছে, দারোয়ানকে বলা হল, আমাদের মেহমান এতক্ষন পর্যন্ত মুফতী পালনপুরী সাহেব হুজুরের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন, তাই দেরী হয়েছে, দারোয়ান গেট খুলে দিল কিন্তু সে বিশ্বাসই করেনা যে রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত পালনপুরী সাহেব কারো সাথে সাক্ষাত করবেন!? দারোয়ান সরাসরি বলেই ফেললো, আপনারা পাগল নাকি? মুফতী সাহেব জিবনেও কারো সাথে রাতের বেলা সাক্ষাত করেননা, আর এত রাত তো সম্ভবইনা ৷

এই আশ্চর্য ঘটনাটি থেকেই জানা যায়, পালনপুরী সাহেব হুজুরের কাছে মুফতী আব্দুল মালেক সাহেবের গুরুত্ব কত্ত বেশী! ৷
এরপর আসি বৃহঃবারের কথা! দেওবন্দের তাখাসসুস ফী উলুমিল হাদীস বিভাগে উলুমুল হাদীসের ছাত্রদের উদ্দেশ্যে দিরাসাহ পেশ করার জন্য মুফতী আব্দুল্লাহ মা'রূফী সাহেব দাঃবাঃ আরজি পেশ করেন ৷
কিন্তু মুফতী আব্দুল মালেক সাহেব উজর পেশ করে 'না' করে দেন, কিন্তু উলুমুল হাদীসের ছাত্ররা নাছোরবান্দা! তারা যেভাবেই হোক মুফতী সাহেবের দরসে বসবেই, তো তারা সবাই মিলে দেওবন্দের উলুমুল হাদীস বিভাগের প্রধান মুশরিফ, আমাদের তিরমিযী শরীফ ১ম খন্ডের উস্তাদ, বাহরুল উলুম, আল্লামা নেয়ামতুল্লাহ আ'যমী সাহেবের কাছে গেলো ৷
অতঃপর বাহরুল উলুম সাহেব নিজে খবর দিয়ে বলার পর হুজুর উলুমুল হাদীস বিভাগে গেলেন, এবং শুক্রবার সকালে প্রায় আড়াই ঘন্টা পর্যন্ত উলুমুল হাদীসের ছাত্রদেরকে উদ্দেশ্য করে দিরাসাহ পেশ করেন, এবং ছাত্রদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব প্রদান করেন ৷
এই হল উলামায়ে দেওবন্দের কাছে মুফতী আব্দুল মালেক সাহেব দাঃ বাঃ এর গুরুত্ব ৷

এই কথা গুলো আজকে বলতে বাধ্য হলাম, কারণ কয়েকদিন থেকে মুফতী আব্দুল মালেক সাহেব হুজুরকে নিয়ে "জুহালা ও সুফাহাদের" একটি জামাত উঠেপড়ে লেগেছে৷
যদিও এই সমস্ত সুফাহা জুহালাদের জাহালাতপূর্ণ মন্তব্যে মুফতী আব্দুল মালেক সাহেব হাফি. এর কোনো কিছু যায় আসে না ৷
অবশেষে তাদের উদ্দেশ্যে এই উর্দূ কবিতাটি দিয়েই শেষ করছি,
فانوس بن كے جس كي حفاظت هوا كرے
وه شمع كيا بجهے جسے روشن خدا كرے۔
অর্থ: ফানূস হয়ে স্বয়ং বাতাস যে আলো সংরক্ষন করে, সেই আলোকে কিভাবে নেভাবে যাকে স্বয়ং আল্লাহ প্রজ্জলন করে৷
আশা করি অচিরেই এই বিষধর সাপগুলোর বিষদাঁত ভেঙ্গে যাবে ইনশাআল্লাহ ৷

কারণ মিথ্যা কখনও স্থায়িত্ব লাভ করেনা ৷
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বুঝার তাওফীক দান করুন, এই সমস্ত সমালোচনাকারীদেরকে হেদায়াত দান করুন, সত্য মিথ্যা যাচাই করার তাওফীক দান করুন, আমীন৷

01/06/2021

মাদ্রাসা নাফিউল কুরআনে একজন হাফেজ সাহেব আবশ্যক।

আগ্রহী প্রার্থীগন যোগাযোগ করতে পারেন।

আলাপন: ০১৯১৩৩৭৫১৫১

18/11/2020

বেশ গুরুত্যপূর্ণ
https://www.facebook.com/bijutoha/posts/10215857591907257

সফরের বিরতিতে হোটেলে প্রবেশ করে নাস্তা খাচ্ছি। আমাদের পিছনেই এক ধার্মিক পরিবারোও প্রবেশ করলেন, তারা বসার জন্যে বেছে নিলেন ছোট্র হাফ কেবিন ঘরটি। আমরা ঝাপসা গ্লাসের ঝাপসা অবয়বে বুঝতে পারছি তার স্ত্রী-কন্যারা তার উল্টো পার্শ্বে বসেছেন।

01/12/2019

এহতেশামুল হক উজানী সাহেবের পক্ষ হতে ওলিপুরি সাহেবের ব্যাপারে মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন আল্লামা ওলিপুরি সাহেব।

03/11/2019

১৯৮০ সালে করা দারুল উলুম দেওবন্দের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে একটি দূর্লভ ডকুমেন্টারী।

Log In or Sign Up to View 18/09/2019

সা'দ সাহেব সম্পর্কিত বিষয় সমূহ নির্ভরযোগ্য সূত্রে। যা একজন সঠিক বুঝদার মুসলিমের জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ্।

✔ মুফতী আ: মালেক সাহেব (দা: বা:) এর সাদ সাহেব সম্পর্কে আরবী বক্তব্য। http://bit.ly/2O8rt3s

✔ মুফতী আ: মালেক সাহেব দা: বা: এর বাংলা বক্তব্য।
https://www.youtube.com/watch?v=B0BQyunty24

✔ সাদ সাহেবের ভুলগুলো কী এবং তা কোন পর্যায়ের ? || মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব দাঃ বাঃ
https://www.youtube.com/watch?v=j2g7P63UlE4

✔ সাদ সাহেবের "ভুলগুলোর" নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ https://www.youtube.com/watch?v=klFgIxFQzhU

✔ সাদ সাহেবের ব্যাপারে দারুল উলূম দেওবন্দের নায়েবে মুহতামিমের আবারো স্পষ্ট ঘোষণা
https://www.youtube.com/watch?v=kKExUbnb0z8

✔ সাদের দাদার শশুর মওঃজাকারিয়া (রাহ:) এর খাদেম সন্দিপী হুজুরের জামাতা মাওলানা ওমর ফারুক সন্দিপী সাহেবের বক্তব্য।
http://bit.ly/2OdQfPH

Log In or Sign Up to View See posts, photos and more on Facebook.

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Merajnagar, Kadamtoli
Dhaka
1362