07/08/2026
বাংলাদেশে প্রচলিত লিজিং ব্যবস্থাকে প্রকৃত ইসলামি অর্থায়নে রূপ দিতে শরিয়াহ বোর্ড ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কী কী বিষয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন?
প্রচলিত লিজিং ব্যবস্থাকে প্রকৃত ইসলামি অর্থায়নে রূপ দিতে শরিয়াহ বোর্ড ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদা আলাদা দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ ব্যাপারে ইন্টারন্যাশনাল শরীয়াহ স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশদভাবে দিক-নির্দেশনা দিয়েছে। সংক্ষেপে কিছু মৌলিক কথা হলো-
শরীয়াহ বোর্ডের দায়িত্ব
-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ-ভিত্তিক লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে। কেবল অর্থ দিয়ে কিস্তিতে পাওনা বুঝে নেয়ার সংস্কৃতি পাল্টে দিতে হবে।
-ইজারা কাঠামো ঠিক করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে অ্যাওফিসহ অন্যান্য শরীয়াহ স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর শরীয়াহ স্ট্যান্ডার্ডের সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে।
-নিয়মিত শরিয়াহ অডিট, কমপ্লায়েন্স রিভিউ এবং বিচ্যুতি (Shariah non-compliance) শনাক্ত ও সংশোধন করে দিতে হবে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব
-সম্পদভিত্তিক লেনদেন করা এবং গ্রাহককে মালিকানা বুঝিয়ে দেয়ার আগে ঝুঁকি বহন করা।
-যদি একাধিক সমঝোতা থাকে, তাহলে প্রত্যেকটির জন্য আলাদা আলাদা চুক্তি করা।
-রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের শরিয়াহসম্মত বণ্টন করা। তথা স্ট্র্যাকচারাল খরচ মালিক দেবে আর অপারেশনাল খরচ ভাড়াগ্রহীতা বহন করবে।
-চুক্তি সম্পাদনের সময়েই ভাড়ার পরিমাণ ও মেয়াদ সুস্পষ্ট হতে হবে। পরবর্তীতে কোনো ইনডেক্স বা বেঞ্চমার্কের ভিত্তিতে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলেও, একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য তা সুনির্দিষ্ট থাকতে হবে এবং ব্যাংক একতরফাভাবে ইচ্ছা অনুযায়ী ভাড়া বাড়াতে পারবে না।
এভাবে প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে, তাহলে প্রচলিত লিজিং ব্যবস্থাকে প্রকৃত ইসলামি অর্থায়নে রূপ দেয়া সম্ভব।
-নদওয়া ফিকাহ একাডেমি