16/09/2024
বিবিএ(সম্মান) ৪র্থ বর্ষের, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সাংগঠনিক আচরণ বিষয়ে এই বছরে পরীক্ষায় আসা ক-বিভাগের প্রশ্ন ও উত্তর উদাহরণ সহ।
ক) আচরণের সংজ্ঞা দাও।
উত্তরঃ আচরণ হলো একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ড, প্রতিক্রিয়া, বা শারীরিক ভাষা যা সে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে প্রকাশ করে। এটি মানুষে মানুষে আলাপচারিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদাহরণ:
একজন শিক্ষার্থী ক্লাসে সময়মতো আসে, শিক্ষক যখন প্রশ্ন করেন তখন সে যথাযথ উত্তর দেয়, এবং ক্লাসের নিয়ম মেনে চলে। এটি তার ইতিবাচক আচরণের উদাহরণ। অন্যদিকে, যদি সেই শিক্ষার্থী বারবার ক্লাসে দেরি করে আসে, নিয়ম না মানে, এবং ক্লাসের কাজে মনোযোগ না দেয়, তাহলে সেটি নেতিবাচক আচরণের উদাহরণ।
খ) সাংগঠনিক আচরণ বিজ্ঞান না কলা?
উত্তরঃ সাংগঠনিক আচরণ একদিকে মানুষের আচরণ বোঝার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে, অন্যদিকে মানুষের ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে করার জন্য সৃজনশীলতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যা একে একইসঙ্গে বিজ্ঞান এবং কলা উভয় হিসেবেই পরিচিত করে।
উদাহরণ:
ধরা যাক, একটি কোম্পানির কর্মচারীদের কাজের প্রতি উদ্দীপনা কমে গেছে এবং এর ফলে তাদের উৎপাদনশীলতাও হ্রাস পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক আচরণ (OB) এর বিজ্ঞান ও কলা উভয় দিককে ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করা যায়।
গ) জ্ঞান কী?
উত্তরঃ জ্ঞান হলো তথ্য, দক্ষতা, বা অভিজ্ঞতা যা একজন ব্যক্তি শিখন, অভিজ্ঞতা, বা গবেষণার মাধ্যমে অর্জন করে। এটি মানসিকভাবে সংগ্রহ করা তথ্য বা দক্ষতার সমন্বয়, যা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়।
উদাহরণ:
একজন শিক্ষার্থী যখন হিসাববিজ্ঞানের একটি নতুন সূত্র শেখে এবং সেই সূত্র প্রয়োগ করে সমস্যা সমাধান করতে পারে, তখন সে একটি নতুন জ্ঞান অর্জন করেছে। অর্থাৎ, নতুন ধারণা বা তথ্য আত্মস্থ করে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ জ্ঞান হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঘ) যৌথ দর কষাকষি কি?
উত্তরঃ যৌথ দর কষাকষি হলো দুটি বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া, যেখানে তারা নিজেদের চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে আলোচনা করে সমঝোতায় আসে। এটি সাধারণত ব্যবসায়িক চুক্তি, শ্রমিক ইউনিয়ন এবং কর্মসংস্থান চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণঃ
ধরা যাক, একটি কোম্পানি তাদের কর্মচারীদের সাথে বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করছে। কর্মচারীরা বেশি বেতন চাচ্ছে, আর কোম্পানি কম বেতন দিতে চাচ্ছে। দুই পক্ষ আলোচনা করে একটি যৌথ সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে কিছুটা বেশি বেতন দেওয়া হবে কিন্তু কর্মচারীদের কাজের দায়িত্বও বাড়ানো হবে। এটি যৌথ দর কষাকষির উদাহরণ।
ঙ) এনকোডিং কী?
উত্তরঃ এনকোডিং হলো তথ্য বা বার্তাকে একটি সংকেতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া, যাতে তা পাঠানো বা সংরক্ষণ করা যায়। এনকোডিং সাধারণত যোগাযোগ বা তথ্য প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ:
যখন আপনি কারো মোবাইলে একটি মেসেজ পাঠান, তখন সেই মেসেজটি ডিজিটাল সংকেতে এনকোড করা হয় এবং সেই সংকেতই রিসিভারের মোবাইলে পৌঁছায়। রিসিভারের মোবাইল সেই সংকেত ডিকোড করে মেসেজটিকে পুনরায় প্রদর্শন করে।
চ) পরিবর্তন ব্যয় কী?
উত্তরঃ পরিবর্তন ব্যয় হলো সেই অতিরিক্ত খরচ যা একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নতুন পণ্য, পরিষেবা, বা প্রক্রিয়ায় স্থানান্তর করতে হয়। এটি আর্থিক, মানসিক, বা সময়ের ব্যয় হতে পারে।
উদাহরণ:
ধরা যাক, একজন গ্রাহক একটি ব্যাংকের সেবার পরিবর্তে অন্য একটি ব্যাংকে সেবা নিতে চায়। নতুন ব্যাংকে হিসাব খুলতে তাকে কিছু ফি দিতে হবে, এবং তার সমস্ত ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড পরিবর্তন করতে হবে। এই পরিবর্তনের জন্য তাকে কিছু অতিরিক্ত সময় ও খরচ বহন করতে হবে, যা পরিবর্তন ব্যয়ের উদাহরণ।
ছ) সামাজিক পরিবর্তন কী?
উত্তরঃ সামাজিক পরিবর্তন হলো একটি সমাজের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদী বা গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর, যা সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটে। এটি মানবসমাজে নতুন ধারণা, প্রযুক্তি, বা প্রতিষ্ঠান প্রবর্তনের ফলস্বরূপ ঘটে।
উদাহরণ:
ইন্টারনেটের বিস্তৃত ব্যবহার সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পরিবর্তন এনেছে। মানুষ এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ করছে, যা সামাজিক যোগাযোগের প্রথাগত ধরন থেকে ভিন্ন।
জ) প্রতিশ্রুতি কী?
উত্তরঃ প্রতিশ্রুতি হলো একটি অঙ্গীকার বা দায়বদ্ধতা, যা একজন ব্যক্তি কোনো কাজ বা দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য করে থাকে। এটি বিশ্বাসযোগ্যতা ও দায়বদ্ধতার প্রতীক।
উদাহরণ:
একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষককে প্রতিশ্রুতি দেয় যে সে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার প্রকল্প জমা দেবে। এই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিক্ষার্থী তার কাজটি সম্পন্ন করে জমা দেয়। এটি প্রতিশ্রুতি পালন করার উদাহরণ।
ঝ) অলীক প্রত্যক্ষন কী?
উত্তরঃ অলীক প্রত্যক্ষন হলো মনের এমন একটি অবস্থা, যেখানে একজন ব্যক্তি বাস্তবে যা নেই, তা দেখতে বা অনুভব করতে পারে। এটি সাধারণত মানসিক বিভ্রম বা ইলিউশনের মাধ্যমে ঘটে।
উদাহরণ:
একজন ব্যক্তি যদি মনে করে যে তার পাশে একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছে, অথচ বাস্তবে সেখানে কেউ নেই, তবে এটি অলীক প্রত্যক্ষনের উদাহরণ। এটি মানসিক বিভ্রান্তির ফল হতে পারে।
ঞ) শিক্ষন কাকে বলে?
উত্তরঃ শিক্ষন হলো নতুন তথ্য, দক্ষতা, বা আচরণ অর্জনের প্রক্রিয়া, যা অধ্যয়ন, অভিজ্ঞতা, বা নির্দেশনার মাধ্যমে হয়। এটি জ্ঞান বৃদ্ধির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
উদাহরণ:
একজন ছাত্র যখন তার শিক্ষক থেকে একটি নতুন সমীকরণ শেখে এবং তারপর সেই সমীকরণ প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হয়, তখন সে শিক্ষন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ট) দায়বদ্ধ হিসাবরক্ষণ কী?
উত্তরঃ দায়বদ্ধ হিসাবরক্ষণ হলো একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমের সঠিক রেকর্ড রাখা এবং তা যাচাই করে দেখার প্রক্রিয়া, যাতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এটি দাতা সংস্থা বা শেয়ারহোল্ডারদের কাছে আর্থিক রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ:
একটি এনজিও তার সমস্ত অনুদান এবং খরচের হিসাব খুব সঠিকভাবে সংরক্ষণ করে, যাতে তারা দাতা সংস্থার কাছে সঠিক এবং দায়বদ্ধ হিসাবরক্ষণ রিপোর্ট পেশ করতে পারে।
ঠ) এজেন্সি সমস্যা কী?
উত্তরঃ এজেন্সি সমস্যা হলো একটি দ্বন্দ্ব যেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং সেই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালনাকারী ব্যক্তির মধ্যে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের অমিল দেখা দেয়। ব্যবস্থাপকরা তাদের নিজস্ব স্বার্থে কাজ করতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী লাভের ক্ষতি করে।
উদাহরণ:
একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও তার নিজস্ব বোনাস বাড়ানোর জন্য স্বল্পমেয়াদী মুনাফার দিকে মনোযোগ দেয়, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেয় না। এটি এজেন্সি সমস্যার একটি উদাহরণ, যেখানে ম্যানেজারের উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠানের মালিকের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।