28/11/2025
“জানেন কি?অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ব্যবহার মাটির উর্বরতা তৈরির উপকারী জীবাণু ও অণুজীবগুলোকে ধ্বংস করে, ফলে জমি ধীরে ধীরে শক্তি হারায় এবং আগের মতো ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।অতিরিক্ত কীটনাশক আপনার জমির ভিতরের জীবনটাই নষ্ট করে দেয়।কালবেলার এক রিপোর্টে দেখা গেছে, গত ৫ বছরে বাংলাদেশে কীটনাশক ব্যবহারে ৮১.৫% বৃদ্ধি ঘটেছে। আরেকটি স্টাডিতে দেখা যায়, প্রায় ৪৭% কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কীটনাশক ব্যবহার করেন এবং গড়ে প্রতি ফসল মৌসুমে প্রায় ৩.৪ কেজি অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করেন—যা অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রবণতা কতটা ভয়ংকর তা স্পষ্ট করে। অনেক কৃষক কীটনাশক স্প্রের দিনই বা দু’একদিনের মধ্যে ফসল হার্ভেস্ট করে ফেলেন, যেখানে প্রকৃতপক্ষে কিছু কীটনাশকের ক্ষেত্রে এই সময় ৭–১০ দিন, আবার কিছুতে ১৫–২০ দিন বা তারও বেশি বিরতির পরই ফসল নিরাপদে তোলা উচিত। ফলে ফসলের মধ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থেকে যাচ্ছে, যা সরাসরি আমাদের শরীরে ঢুকছে এবং আমাদের বিভিন্ন অঙ্গ–প্রতঙ্গের ক্ষতি করছে। এসব রাসায়নিক অবশিষ্ট খাদ্যে থেকে মানুষের শরীরে ঢুকে ক্যান্সার, স্নায়ুজনিত সমস্যা ও হরমোনজনিত অসুখের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত স্প্রের কারণে পোকামড় আরও প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, ফলে পরের মৌসুমে বেশি দামের ও শক্তিশালী ওষুধ কিনতে হয়—উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় কয়েক গুণ। আজকের ভুল প্রয়োগ শুধু জমিকেই নয়—স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং কৃষকের অর্থনীতিকেও অদৃশ্য ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়। তাই কৃষকসহ আমাদের সবার এখনই সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।