একটি জাতিকে সঠিক ও আদর্শিক ভিত্তির ওপরে দাঁড় করাতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন হয় সেই জাতিকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। এই সুশিক্ষা প্রবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে শিক্ষায়তন, একটি সমৃদ্ধ জাতি ও উন্নয়নকামী রাষ্ট্র গঠনে কারা নেতৃত্ব দেবেন কিংবা কারা দিক নির্দেশনা দেবেন, বুদ্ধিবৃত্তিক মানসিক গঠনের নিয়ামক হবেন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনন্য স্থান থাকবে। আধুনিক বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষের এ যুগে সকল বিষয় চিন্তা ভাবনা করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ এবং দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করে নতুন যুগের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি “উদিতা বিদ্যানিকেতন”। প্রচলিত গতানুগতিক শিক্ষা দিয়ে আমাদের এ উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে না ভেবে নেতিবাচক চিন্তা পেছনে ফেলে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অনেকটা নতুনত্ব এনেছি। শিক্ষা বলতে আমরা বুঝি, আধুনিক শিক্ষা, যুগোপযোগী শিক্ষা এবং মান সম্মত শিক্ষা। যে শিক্ষা, জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তব জীবনে কাজে লাগে না, তা’ অর্থহীন। আমরা জোর করে শিশুদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নয়, আনন্দের সাথে আকর্ষণীয় করে শিক্ষার্থীদের মনে আগ্রহ জন্মানোর লক্ষ্য নিয়ে তাদের চলার পথ মসৃণ করতে বদ্ধ পরিকর ও সংকল্পবদ্ধ।
জ্ঞান আহরণের প্রথম ধাপে আমরা শিশুদের মন মননে চিন্তা-চেতনায়, বাস্তবতার নিরিখে ও স্বপ্নের আকাশে ছড়িয়ে দিতে চাই রঙধনুর সাতটি বর্ণালী রঙ- যা চারদিকে উজ্জ্বলতর করবে এবং বিকীর্ণ করবে আলোকচ্ছটা। শিশুদের মেধা বিকাশে অরুণ আলো ছড়ানোর ঐকান্তিকতায় আমাদের অভিজ্ঞ শিক্ষক, শিক্ষিকাগণ সেই সুদিনের প্রতিক্ষায় রয়েছে। সম্মানিত অভিভাবকগণ, বিদ্যানুরাগী সুধীবৃন্দ স্থানীয় সচেতন জনগণ আমাদের এ প্রচেষ্টায় সাড়া দিয়ে, সুচিন্তিত অভিমত; গঠনমূলক পরামর্শ ও উৎসাহ উদ্দীপনা যুগিয়ে শিশুদেরকে আমাদের এবং আপনাদের এই প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর ব্যবস্থা নেবেন। একথা আপনাদেরকে অবহিত করা ধৃষ্টতা মাত্র, তবুও উল্লেখ না করে তৃপ্তি পাচ্ছিনা যে, শিশুরাই জাতির ভবিষ্যত। বাংলাদেশের বাঙালীদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য মন্ডিত অতীত, ঋদ্ধ বর্তমান ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে লক্ষ্য রেখে শিশুদের মন-মানসিকতা বিকাশের জন্য আমরা কর্মসূচী নিয়েছি। উদিতা বিদ্যানিকেতনকে নিয়ে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা নিয়ে পাঠদানের পাশাপাশি আরও কিছু কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু গাঁদাফুল বা গোলাপের বাগান আমরা করতে চাই না, আমরা উদিতা বিদ্যানিকেতনকে নিয়ে হাজারো ফুলের সমারোহ ঘটাতে চাই। বাংলাদেশের একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতেই আমাদের এ প্রয়াস।