23/12/2025
আল্লাহ এক
লাইক, শেয়ার দিয়ে আপনিও দ্বীন ইসলাম প্রচারে আপনি ও অংশীদার হয়ে উঠুন
এই পেইজ এ আমরা প্রতিদিন আপনাদের জন্য কুরআনের আয়াত, হাদীশ, বিভিন্ন দুআ & বিভিন্ন মাসআলা দেয়ার চেস্থা করি । তাই আপনাদের সহোযগিতা একান্ত প্রয়োজন । আপনাদের প্রতি আনুরোধ এই পেইজে এ লাইক দিন এবং পেইজে পোস্ট গুলো লাইক, শেয়ার দিয়ে অন্যকেও শিখার,জানার সুযোগ করে দিন। এতে আপনিও সওয়াবের ভাগিদার হবেন।
23/12/2025
শির্ক না করার কারণে, যেসব প্রতিদান পাবেন!
শির্ক অর্থ অংশীদার করা, সহযোগী বানানো, সমকক্ষ করা ও সম্পৃক্ত করা। এমন সব বিশ্বাস, কাজ, কথা ও অভ্যাসকে শির্ক বলা হয়, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত (রব), উলুহিয়্যাত (ইলাহ), নাম ও গুণাবলীতে অপর কারো অংশীদারিত্ব প্রতীয়মান হয়।
ইসলামে সবচেয়ে বড় পাপ হলো শির্ক। এর পরিণাম ভয়াবহ। শিরক থেকে বেঁচে থাকার অনেক পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে কোরআন ও হাদিসে।
মানুষ যত গুনাহই করুক, ক্ষমা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু শিরকের কোনো ক্ষমা নেই। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করার অপরাধ ক্ষমা করবেন না। আর এটি ছাড়া সব গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন।’
(সুরা নিসা আয়াত ৪৭)
আল্লাহ তাআলা শিরক না করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক অতি বড় জুলুম।’ (সুরা লোকমান আয়াত ১৩)
শিরক সংঘটিত হতে শতভাগ অংশীদার সাব্যস্ত করা আবশ্যক নয়; বরং একভাগ অংশীদার করলেও তাকে অংশীদার বলা হয়। তাই আল্লাহ তাআলার হকের সামান্যতম অংশ অন্যকে দিলেই তা শিরকে পরিণত হয়।
সুতরাং মুমিনের জন্য ঈমান-ইবাদতসহ জীবনের সবক্ষেত্রে শিরক পরিহার করা আবশ্যক।
#শিরক_না_করার_প্রতিদান!
শিরকমুক্ত ঈমান ও ইবাদতের অসংখ্য পুরস্কার কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। যেমন—
১. নিরাপত্তা ও হেদায়াত লাভ!
যারা ঈমান আনার পর শিরকে লিপ্ত হয় না, আল্লাহ তাদের চূড়ান্ত হেদায়াত দান করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং তাদের ঈমানের সঙ্গে জুলুমের (শিরকের) সংমিশ্রণ ঘটায়নি তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারা সৎপথপ্রাপ্ত।’
(সুরা আনআম আয়াত ৮২)
২. ক্ষমা লাভ: যারা আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে না, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করার ঘোষণা দিয়ে হাদিসে কুদসিতে বলেন, ‘হে আদম সন্তান, তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আসো এবং আমার সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক না করে থাকো, তাহলে আমিও সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে আসব।’ (সুনানে তিরমিজি নং ৩৫৪০)
৩. কষ্ট ও ভোগান্তি হতে মুক্তি: আল্লাহ মুমিন বান্দাদের যাবতীয় বিপদ থেকে রক্ষা করেন। কোরআনের দলিল- ‘তারা যখন নৌযানে আরোহণ করে তখন তারা বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন স্থলে ভিড়িয়ে তাদের উদ্ধার করেন, তখন তারা শিরকে লিপ্ত হয়।’ (সুরা আনকাবুত: ৬৫)
৪. জান্নাত লাভ! যারা শিরকমুক্ত জীবন নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হবে, আল্লাহ তাদের জান্নাত দান করবেন। রাসুলুল্লাহ (ছা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করে যে সে তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করেনি, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (ছহীহ মুসলিম হাদিস নং ২৮০)
৫. আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ: যারা ঈমান ও ইবাদতে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না পরকালে আল্লাহ তাদের সাক্ষাৎ দেবেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আকাঙ্ক্ষা করে সে যেন নেক আমল করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।’ (সুরা কাহাফ আয়াত ১১০)
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শিরক থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
20/11/2025
আমি, আপনি আমরা কেউই কিন্তু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ফিতনা থেকে নিরাপদ না। হিদায়েতের উপর টিকে থাকার জন্য হিদায়াতের মালিকের (আল্লাহর) বিশেষ অনুগ্রহ প্রয়োজন। অনেক আবেদ (ইবাদাতগুজার) বান্দাও শেষ অব্দি ঈমান নিয়ে কবরে যেতে পারেনি। মায়াযাল্লাহ! (আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই)।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন ; মানুষ একবার হিদায়াত পাওয়ার পর পুনরায় গোমরাহ হয়ে যায় দুইটি কারণে _
(১) হিদায়াত পাওয়ার পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে না।
(২) বাকী জীবন হিদায়াতের ওপর অটল থাকার জন্য দু'আ করে না।
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দু'আ করতেন:
★ يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِى عَلَى دِينِكَ
উচ্চারণ: "ইয়া মুক্বল্লিবাল ক্বুলুব, সাব্বিত ক্বলবি আ'লা দীনিক "
অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর সুদৃঢ় করে দিন।
[তিরমিযি- ২১৪০]।
★ اَللّٰهُمَّ اَصْلِحْ لِيْ دِيْنِيْ.
উচ্চারণ: "আল্লহুম্মা আসলিহ্ লি দীনি "
অর্থ: হে আমার রব, আপনি আমার দ্বীনকে সঠিক করে দিন।
وَلَا تَجْعَلْ مُصِيْبَتِيْ فِيْ دِيْنِيْ.
উচ্চারণ: "ওয়া'লা তাজ'আল মুসিবাতি ফী দীনি "
অর্থ: আপনি আমার দ্বীনের মধ্যে কোন ধরণের মুসিবত দিয়েন না।
[সহিহ মুসলিম : ২০২৭ ]।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা পবিত্র কুরআনে আমাদের যে দু'আ শিক্ষা দিয়েছেন _
★ رَبَّنَا لاَ تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنتَ الْوَهَّابُ
হে আমাদের রব! সৎ পথপ্রদর্শনের পরে আপনি আমাদের অন্তরগুলোকে বক্র করে দিয়েন না, আর আপনার কাছ থেকে আমাদেরকে করুণা দান করুন, নিশ্চয়ই আপনি মহান দাতা।
[সূরা আলে ইমরান, আয়াত :০৮]।
আমরা দু'আগুলো প্রতিদিন নূন্যতম একবার হলেও পড়ার চেষ্টা করবো (ইনশা-আল্লাহ)। এছাড়া যে যত বেশি পারি পড়বো। যেকোন সময় পড়া যাবে, যত খুশি তত বার পড়া যাবে। নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা বা সময় ফিক্সড না। আর হ্যাঁ, আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে আমরা যেন ভুলে না যাই। (আলহামদুলিল্লাহ)।
05/11/2025
যখনই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হবেন,গোপনে সদকাহ্ করে দিবেন। অভাব দেখা দিলে সদকাহ্ করে দিবেন। কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে সদকাহ্ করে দিবেন। আর আল্লাহর কাছে দুআ করবেন,সদকাহ্-র উসিলায় রব্ব যেন আপনার জরুরত পূর্ণ করে দেন। নেক আমলের উসিলা দিয়ে দুআ করলে দুআ কবুল হয়৷
একবার একটা পোস্টের কমেন্টে পড়েছিলাম__এক আপুর খুব চুল পড়তো৷ আপুটা চুল পড়া কমার নিয়্যাতে সদকাহ্ করে দিয়েছিলেন। আল্লাহর রহমতে ওই বোনের চুল পড়া কমে গিয়েছিলো৷ সুবহানআল্লাহ! সদকাহ্ কতই না উপকারী!
সদকাহ্-র উসিলায় আল্লাহ বিপদ ঠেকিয়ে দেন। রোগ থেকে মুক্তি দেন। আয়-রোজাগার,রিজিকে বারাকাহ্ দেন। সদকাহ্ এমন এক আমল,যেই আমলের প্রতিদান আল্লাহ দিবেনই। আল্লাহর জন্য যা করবেন,তার বিনিময়ে আল্লাহ আপনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিবেন। সদকাহ্ এমন এক আমল,যা দুনিয়া ও আখিরাতে নগদ কল্যাণ বয়ে আনে৷
টাকা-পয়সা সদকাহ্ করতে না পারলেও আশেপাশের কুকুর-বিড়ালকে খাবার-পানি দিবেন। এসবও সদকাহ্! তাও না পারলে মানুষের সাথে উত্তম ব্যবহার করবেন। মানুষের উপকার করার চেষ্টা করবেন।
সদকাহ্-র মধ্যে সদকায়ে জারিয়া সবচেয়ে উত্তম। সদকায়ে জারিয়ার কারণে আপনার মৃত্যুর পরও আপনার কবরে নেকি পৌঁছে যাবে৷ সম্ভব হলে গাছ লাগাবেন। গাছের ফল-পাকুড় আপনি খেতে না পারলেও পাখি,পোকামাকড় খাবে। সেটাও সদকাহ্। কেউ না খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলেও সদকাহ্। চুরি হয়ে গেলেও সদকাহ্। গাছ লাগালে লস নেই কোনো।
মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণে সাহায্য করবেন। মানুষকে নেক আমল শেখানোর চেষ্টা করবেন৷ ভালো ভালো বই হাদিয়া দিবেন,যা পড়ে উপকারী ইলম অর্জন করা যাবে৷ উপকারী ইলমও সদকায়ে জারিয়া!
অল্প অল্প করে টাকা জমাবেন কুরআনের জন্য। সেই টাকা দিয়ে কারো তাজউইদ কোর্সের ফি দিবেন। অথবা কুরআন কিনে দিবেন। নিজে যদি শুদ্ধভাবে কুরআন শেখাতে পারেন,তবে কুরআন শেখাবেন। এসবের প্রত্যেকটাই সদকায়ে জারিয়া!
আল্লাহর কাছে দুআ করবেন। উত্তম সম্পদ চাইবেন,যা তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী তাঁর পথে ব্যয় করা যাবে। আল্লাহর পক্ষ থেকেই সব আসে। আমরা যা ব্যয় করি,তাও আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। ব্যয় করার যে তওফিক, সেটাও আল্লাহর পক্ষ থেকেই। তাই আল্লাহর কাছে নেক আমলের তওফিক চাইবেন। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চাইবেন।
01/11/2025
সবাই পড়ুন...
ইয়া রহমান, ইয়া রহিম, ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম,"ইয়া গাফফার" ইয়া সাত্তার, "ইয়া জব্বার "ইয়া ওয়াদুদ" ইয়া আজিজু "ইয়া আজিম "ইয়া হান্নানু "ইয়া মান্নানু, হে আমার রব,"হে আমার সৃষ্টি কর্তা।
আপনার পবিত্র নামগুলোর উছিলায়, আপনার তাওহীদের সাক্ষী " লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু" এর উছিলায়, আপনার বন্ধু ও হাবীব হযরত মুহম্মদ (সঃ) এর উম্মত হিসেবে আমাদের সকলের মনের নেক ইচ্ছা গুলো পূরণ করে দেন।
অভাব,ঋণ দূর করে দিন।
আমার মতো যারা যারা বিপদে আছে তাদের সকল কে আপনি বিপদ থেকে মুক্ত করে দিন।
আমাদের মানসিক কষ্ট দুঃখ দূর করে দিন।আমাদের রিযিকে বরকত দান করুন।বাবা মা পরিবারের সকলকে নেক হায়াত দান করুন।
সকলে বলুন আমিন। 🤲🤲
✅যিক্রের ফযীলত
মহান আল্লাহ বলেন:
فَاذْكُرُوْنِيْۤ اَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوْا لِيْ وَلَا تَكْفُرُوْنِ
“অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর এবং আমার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না।”
সূরা আল-বাকারাহ্ - ২:১৫২
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اذْكُرُوا اللّٰهَ ذِكْرًا كَثِيْرًا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর”
সূরা আল-আহযাব - ৩৩:৪১
وَالذّٰكِرِيْنَ اللّٰهَ كَثِيْرًا وَّالذّٰكِرٰتِ اَعَدَّ اللّٰهُ لَهُمْ مَّغْفِرَةً وَّاَجْرًا عَظِيْمًا
“আর আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণকারী পুরুষ ও নারী: আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও বিরাট পুরস্কার প্রস্তুত করে রেখেছেন।”
সূরা আল-আহযাব - ৩৩:৩৫।
وَاذْكُرْ رَّبَّكَ فِيْ نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَّخِيْفَةً وَّدُوْنَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ وَلَا تَكُنْ مِّنَ الْغٰفِلِيْنَ
“আর আপনি আপনার রব্বকে স্মরণ করুন মনে মনে, মিনতি ও ভীতিসহকারে, অনুচ্চস্বরে; সকালে ও সন্ধ্যায়। আর উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।”
সূরা আল-আ‘রাফ: ২০৫।
তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি তার রবের যিক্র (স্মরণ) করে, আর যে ব্যক্তি তার রবের যিক্র করে না— তারা যেন জীবিত আর মৃত।” [১]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “আমি কি তোমাদেরকে তা জানাবো না— আমলের মধ্যে যা সর্বোত্তম, তোমাদের মালিক (আল্লাহ্র) কাছে যা অত্যন্ত পবিত্র, তোমাদের জন্য যা অধিক মর্যাদা বৃদ্ধিকারী, (আল্লাহ্র পথে) সোনা-রূপা ব্যয় করার তুলনায় যা তোমাদের জন্য উত্তম এবং তোমরা তোমাদের শত্রুদের মুখোমুখি হয়ে তাদেরকে হত্যা এবং তারা তোমাদের হত্যা করার চাইতেও অধিকতর শ্রেষ্ঠ?” সাহাবীগণ বললেন, অবশ্যই হ্যাঁ। তিনি বললেন, “আল্লাহ্ তা‘আলার যিক্র।” [২]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেরূপ ধারণা করে, আমাকে সে তদ্রূপই পাবে; আর যখন সে আমাকে স্মরণ করে, তখন আমি তার সাথে থাকি। সুতরাং যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও আমার মনে তাকে স্মরণ করি। আর যদি সে কোনো সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে এর চাইতে উত্তম সমাবেশে স্মরণ করি। আর সে যদি আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ নিকটবর্তী হয়, তাহলে আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ নিকটবর্তী হই। সে এক হাত পরিমাণ নিকটবর্তী হলে আমি তার দিকে এক বাহু পরিমাণ নিকটবর্তী হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দ্রুতবেগে যাই।” [৩]
আব্দুল্লাহ ইবন বুসর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আরয করল, হে আল্লাহ্র রাসূল! ইসলামের বিধিবিধান আমার জন্য বেশি হয়ে গেছে। কাজেই আপনি আমাকে এমন একটি বিষয়ের খবর দিন, যা আমি শক্ত করে আঁকড়ে ধরব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা জিহ্বা যেনো সর্বক্ষণ আল্লাহ্র যিক্রে সজীব থাকে।” [৪]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ্র কিতাব (কুরআন) থেকে একটি হরফ পাঠ করে, সে তার বিনিময়ে একটি সওয়াব পায়; আর একটি সওয়াব হবে দশটি সওয়াবের সমান। আমি আলিফ, লাম ও মীমকে একটি হরফ বলছি না। বরং ‘আলিফ’ একটি হরফ, ‘লাম’ একটি হরফ এবং ‘মীম’ একটি হরফ।” [৫]
উকবা ইবন আমের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন। আমরা তখন সুফ্ফায় (মসজিদে নববীর আঙ্গিনায়) অবস্থান করছিলাম। তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে কে আছে, যে প্রতিদিন সকালে বুতহান বা আকীক উপত্যকায় গিয়ে সেখান থেকে কোনো প্রকার পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন না করে উঁচু কুঁজবিশিষ্ট দু’টো উষ্ট্রী নিয়ে আসতে পছন্দ করে”? আমরা বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমরা তা পছন্দ করি। তিনি বললেন: “তোমাদের কেউ কি এরূপ করতে পার না যে, সকালে মসজিদে গিয়ে মহান আল্লাহ্র কিতাব থেকে দুটো আয়াত জানবে অথবা পড়বে; এটা তার জন্য দু’টো উষ্ট্রীর তুলনায় উত্তম। আর তিনটি আয়াত তিনটি উষ্ট্রী থেকে উত্তম, চারটি আয়াত চারটি উষ্ট্রী থেকে উত্তম। আর (শুধু উষ্ট্রীই নয়, বরং একইসাথে) সমসংখ্যক উট লাভ করা থেকেও তা উত্তম হবে।” [৬]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: “যে ব্যক্তি এমন কোনো বৈঠকে (মজলিসে) বসেছে যেখানে সে আল্লাহ্র যিক্র করে নি, তার সে বসাই আল্লাহ্র নিকট থেকে তার জন্য আফসোস ও নৈরাশ্যজনক হবে। আর যে ব্যক্তি এমন কোনো শয়নে শুয়েছে যেখানে সে আল্লাহ্র যিক্র করে নি, তার সে শোয়াই আল্লাহ্র নিকট থেকে তার জন্য আফসোস ও নৈরাশ্যজনক হবে।” [৭]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: “যদি কোনো দল কোনো বৈঠকে বসে আল্লাহ্র যিক্র না করে এবং তাদের নবীর ওপর দরূদও পাঠ না করে, তাহলে তাদের সেই বৈঠক তাদের জন্য কমতি ও আফসোসের কারণ হবে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদেরকে শাস্তি দেবেন, অথবা তিনি চাইলে তাদের ক্ষমা করবেন।” [৮]
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন : “যদি কোনো একদল লোক এমন কোনো বৈঠক থেকে উঠল, যেখানে তারা আল্লাহ্র নাম স্মরণ করে নি, তবে তারা যেন গাধার লাশের কাছ থেকে উঠে আসল। আর এরূপ মজলিস তাদের জন্য আফসোসের কারণ হবে”। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদেরকে শাস্তি দেবেন, অথবা তিনি চাইলে তাদের ক্ষমাকরবেন।” [৯]
[১] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ ১১/২০৮, নং ৬৪০৭; মুসলিম, ১/৫৩৯, নং ৭৭৯, আর তার শব্দ হচ্ছে,
«مَثَلُ الْبَيْتِ الَّذِي يُذْكَرُ اللّٰهُ فِيهِ، وَالْبَيْتِ الَّذِي لَا يُذْكَرُ اللّٰهُ فِيهِ، مَثَلُ الْحَيِّ وَالْمَيِّتِ»
“যে ঘরে আল্লাহ্র যিক্র হয়, আর যে ঘরে আল্লাহ্র যিক্র হয় না— তার দৃষ্টান্ত যেন জীবিত আর মৃত।”
[২] তিরমিযী ৫/৪৫৯, নং ৩৩৭৭; ইবন মাজাহ্ ২/১৬৪৫, নং ৩৭৯০; আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ্ ২/৩১৬; সহীহ তিরমিযী ৩/১৩৯।
[৩] বুখারী ৮/১৭১, নং ৭৪০৫; মুসলিম ৪/২০৬১, নং ২৬৭৫। তবে শব্দটি বুখারীর।
[৪] তিরমিযী ৫/৪৫৮, নং ৩৩৭৫; ইবন মাজাহ্ ২/১২৪৬, নং ৩৭৯[৩] আর শাইখ আলবানী একে সহীহ বলেছেন। দেখুন, সহীহ আত-তিরমিযী, ৩/১৩৯; সহীহ ইবন মাজাহ্ ২/৩১৭।
[৫] তিরমিযী ৫/১৭৫, নং ২৯১০। শাইখ আলবানী একে সহীহ বলেছেন; দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/৯; সহীহ জামে সগীর-৫/৩৪০।
[৬] মুসলিম, ১/৫৫৩; নং ৮০৩
[৭] আবূ দাউদ ৪/২৬৪, নং ৪৮৫৬ ও অন্যান্য। দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৫/৩৪২
[৮] তিরমিযী, ৫/৪৬১, নং ৩৩৮০। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৪০।
[৯] আবূ দাউদ ৪/২৬৪, নং ৪৮৫৫; আহমদ ২/৩৮৯ নং ১০৬৮০। আরও দেখুন, সহীহুল জামে‘ ৫/১৭৬।
হিসনুল মুসলিম
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka