09/07/2020
★★মুমিন কখনো আশাহত বা হতাশ হয় না★★
"অধ্যক্ষ হাফেজ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম"
আলহামদুলিল্লাহ! আসসালাতু ওয়াসসালামু আ'লা রাসুলিল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম!) জীবনের নানা বাঁকে মুমিনের জীবনে হতাশ হবার মতো পরিবেশ পরিস্থিতি প্রতি পদে পদেই আসতে পারে। দুঃখ-কষ্ট জীবনেরই অংশ। এসব এলেই হতাশ হয়ে পড়া কোনো মুমিনের লক্ষ্যণ নয়। এগুলো দেখা দিলে কি করতে হবে তা-ও মহান রাব্বে কারিম বলে দিয়েছেন। পবিত্র মহাগ্রন্থ আল কুরআনে বলা হয়েছে, মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে আমাকে ডাকতে শুরু করে। এরপর আমি যখন তাকে আমার পক্ষ থেকে নেয়ামত দান করি, তখন সে বলে- এটাতো আমি পূর্বের জানা মতেই প্রাপ্ত হয়েছি। অথচ এটা এক পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বুঝেনা। ( সূরা আল- যুমার, আয়াত- ৪৯)
অন্যত্র মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এরশাদ করেছেনঃ- তারা আল্লাহ তায়ালার কাছে তাওবা করে না কেন এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে না কেন? আল্লাহ পাক যে ক্ষমাশীল অতীব দয়ালু। (সূরা মায়েদা, আয়াত-৭৪)
আর যখন মানুষ কষ্টের সম্মুখীন হয়, শুয়ে বসে, দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। তারপর আমি যখন তা থেকে মুক্ত করে দেই, সে কষ্ট যখন চলে যায় তখন মনে হয় কখনো কোনো কষ্টেরই সম্মুখীন হয়ে যেন আমাকে ডাকেইনি। এমনিভাবে মনঃপুত হয়েছে নির্ভয় লোকদের যা তারা করেছে। (সূরা ইউনুস, আয়াত : ১২)।
হে প্রিয় মাহবুব! আপনি বলুন, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া যাদের তোমরা উপাস্য মনে করো, তাদেরকে আহবান করো। অথচ ওরা তো তোমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করার ক্ষমতা রাখেনা এবং তা পরিবর্তনও করতে পারে না। (সূরা বণী ইসরাঈল, আয়াত : ৫৬)।
আর আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে- বস্তুত আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার বিধান মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে করে তারা সৎপথে আসতে পারে। (সূরা বাকারাহ, আয়াত : ১৮৬)
প্রিয় মাহবুব! আপনি বলে দিনঃ মহান আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে তা থেকে মুক্তি দেন এসব দুঃখ-বিপদাপদ থেকে। তথাপি তোমরা শিরক বা অংশীবাদ স্থাপন করো। (সূরা আল-আনয়াম, আয়াত :৬৪)। এবং স্মরণ করুন হযরত আইয়ুব নবীর (আঃ) কথা, যখন তিনি তাঁর পালনকর্তাকে আহবান করে বলেছিলেনঃ আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান। (সূরা আম্বিয়া, আয়াত:৮৩)।
হে ঈমানদারগন! ধৈর্য্য ধারণ কর এবং মোকাবিলায় দৃঢ়তা অবলম্বন করো। আর মহান আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করতে থাক যাতে তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হতে পার। (সূরা আল ইমরান, আয়াত :২০০)।
রাতের পর যেমন দিন, ঠিক তেমনি দুঃখের পর আছে সুখ। কবির এই কথাটি আসলেই সত্যি, মেঘ দেখে তুই করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য্য হাসে। কাজেই কোনো দুঃখে মুষড়ে পড়া মুমিন মুসলমানের জন্যে একেবারেই বেমানান।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। (সূরা আল ইনশিরাহ, আয়াত :৬)। মানুষ যতবড় পাপীই হোক,আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লাকে বিনীতভাবে ডাকলে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। আপনি যতবড় পাপীই হোন, বরং যত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে থাকুন না কেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে স্মরণ করুন। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন : তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দেব। যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।(সূরা আল মুমিন, আয়াত :৬০)
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি মুমিনের বিশ্বাস থাকে অটল-অবিচল, আর শীশা ঢালা প্রাচীরের মতো। দুনিয়ার কোনো দুঃখ-যন্ত্রণা এ বিশ্বাসে চির ধরাতে পারে না। আর যারা অবিশ্বাসী তারা সত্যিই হতভাগা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, এবং যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কেয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। (সূরা ত্বােহা, আয়াত :১২৪)। যে সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং সে ঈমানদার, পুরুষ হোক কিংবা নারী আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং বিনিময়ে তাদেরকে তাদের উত্তম কাজের কারণে প্রাপ্য পুরস্কার প্রদান করবো, যা তারা করত। (সূরা আন- নাহল, আয়াত :৯৭)
যারা প্রকৃত অর্থে মুমিন, তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং প্রত্যেকটি দিক ও বিভাগে কেবলমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ওপরই ভরসা করবে। আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। যে আল্লাহ তায়ালার উপর বিশ্বাস রাখে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই তার জন্যে যথেষ্ট। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা বলেন, এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দিবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ তায়ালা সবকিছুর জন্য একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন। (সূরা আত তালাক্ব, আয়াত :৩)।
পরিশেষে বলতে চাই আসুন! মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিননের বিধান ও তাঁর প্রিয় নবী হযরত রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করি। এই পৃথিবীর বর্তমান পরিস্থিতি এবং মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্যে হতাশ না হয়ে খালেস তাওবা করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার দরবারে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করি। হে আরশের মালিক! রাব্বে কারিম, আমাদের উপর রহম করো। এই বালা-মুসিবত থেকে মেহেরবানী করে আপনার প্রিয় মাহবুব! আমাদের প্রাণের আ'ক্বা- মওলা নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উসিলায় ক্ষমা করুন। আমিন।।