হরমুজ প্রণালী
*****---******
সোনালী সাগর বুকে পথে চলে ধারা,
হরমুজ প্রণালী, বাণিজ্যের বসুন্ধরা।
নৌকো হেঁটে যায় পাথরের পথ ধরে,
তেল আর স্বপ্ন বয়ে চলে দূরে দূরে।
ছোট্ট স্রোতের মাঝে বিশাল শক্তির ঘূর্ণনে,
রাজনীতি, বাণিজ্য সব বাঁধে একটিই ঘ্রাণে।
দূর থেকে বাজে জাহাজের গান,
হরমুজ যেন মধ্য সাগরে দুখের কলতান।
হুমায়ূন আফতাব
০৪-০৫-২৬
কণ্ঠস্বর উচ্চতর আবৃত্তিশালা
কবি, কবিতা ও আবৃত্তি
22/04/2026
বৈশাখ আমার ফিরে দেখার আলোক সময়...
বৈশাখ এলে পহেলা জীবন ঘুরতে থাকে স্মৃতিময়।
31/03/2026
কপোতাক্ষের ঘাটে
****************
কপোতাক্ষের ঘাটে আজো দাঁড়িয়ে থাকে মন,
শৈশবের রৌদ্র-মাখা দুপুরের ছায়াঘেরা দিন;
বাদামগাছ ডালে ডালে ঝুলে থাকা সেই ক্ষণ,
যেখানে প্রথম শিখি হৃদয়ের গোপন ঋণ।
নদীর জলে কাঁপে মুখ—যেন হারানো প্রেম,
নামহীন এক বেদনা ডাকে নির্জন পাড়ে;
গ্রামের হাওয়া জানে সে প্রথম বিরহের ক্ষেম,
যা ভাষা পায়নি তখন, কেবল নীরব আঁধারে।
আজ দূর বিদেশে বসে স্মৃতি হয়ে আসে সে ঘাট,
শেকড় টানে বুকের ভেতর অদৃশ্য টানে টানে;
ভাষা বদলায়, দেশ বদলায়, বদলায় না সেই পাঠ—
ভালোবাসা জন্ম নেয় যে মাটিরই প্রাণে।
বিরহই প্রেমের সত্য, মধু জানতো তাই—
কপোতাক্ষ বয়ে যায়, হৃদয় বয়ে যায় ছায়ায়।
----- হুমায়ূন আফতাব
আমি যশোহর জংশনে নামবো, তুমি..?
**********************************
সমাপ্তি- আমি সেই সামান্য কবি,
শব্দের ফাঁকে তোমার স্মৃতিকে লুকিয়ে ভাসতাম,
যে প্রতিদিন তোমাকে আকাশ বানাতে চাইতাম।
রেলের কামরায় হঠাৎ তোমাকে দেখে
মনে হলো— সমস্ত রেললাইন
হঠাৎ থেমে গেল যেন এক নিস্তব্ধ ধাক্কায়
সমস্ত স্টেশন, শহর এক মুহূর্তে থেমে গেল বুঝি!
তোমার চোখের নিচে সাজানো
জীবনের ক্ষুদ্র ছায়া,
আর আমার চোখে সেই পুরোনো অগ্নি—
তোমার চোখে ছিল না কোনো কৌতুক।
কেমন আছো বলতেই শব্দের আগেই
গলায় জমে গেল বছরের পর বছর
অপ্রকাশিত সমস্ত আকুলতা।
সমাপ্তি,
তুমি এখন অন্য জীবনের অভিজাত অধ্যায়,
আর আমি যত্নহীন ভালোবাসার ক্যানভাসে
জীবন দ্বীপে সংসারী নাবিক।
তবুও তোমাকে দেখলেই মনে হয়
আমার অক্ষরগুলোর ভিতর
এখনো সেই উচ্চারণের অনুরণন।
ক্যালেন্ডারের তারিখ কাটতে কাটতে
কবির ভিতরের দেয়ালে ক্ষতের নকশীকাঁথা।
তুমি কেমন আছো সমাপ্তি ......?
এক সামান্য কবির অনিশ্চিত স্বপ্ন ছেড়ে
নিয়মজড়ানো অভিজাত পৃথিবীতে—
ট্রেনের এই কম্পনে তোমার নিশ্চুপ অবয়বে বুঝলাম—
ম্যাজিস্ট্রেটের সংসার আর কবির হৃদয়ের দূরত্ব
শুধু সমাজ নয়, ব্যক্তি- পরিবার নয়,
এক গভীর অনুচ্চারিত ব্যথা।
সেই সিদ্ধান্তের ভিতর কি
একটুও ছিল না আমার শ্বাসের উষ্ণতা?
যে নিজের ভাঙা বাক্য জোড়া দিয়ে
বাঁচানোর চেষ্টা করতো কত শত দিন।
তুমি বললে,“ভালো আছি”—
কিন্তু সেই কণ্ঠে ছিল অদৃশ্য এক দীর্ঘশ্বাসের দাগ।
আমি বলতে চাইলাম, কিন্তু না...
“আমার ভেতরের সমস্ত নীরবতা
সকল অসমাপ্ত ভাবনার জবাবদিহি।
আমি যশোহর জংশনে নামবো, তুমি..?
----- হুমায়ূন আফতাব
১০/১২/২৫
04/10/2025
20/09/2025
ভালোবাসার সহযাত্রা
*******************
ক্যালেন্ডারের পাতায় শুধু তারিখ নয়,
আমাদের অন্তর্লোকের প্রতিটি ভাঁজে জমেছে
ভালোবাসার নীরব মনস্তত্ত্ব।
প্রথম দিনের অনুভব আজও মনের গভীরে
অচেনা কম্পন জাগায়,
আজ সেই কম্পনের সঙ্গে মিশে গেছে
বিশ্বাসের ধীর ছায়া,
সহযাত্রার নিঃশব্দ প্রতিজ্ঞা।
ভালোবাসা—কেবল আবেগের ঝলক নয়,
মানসিক ভ্রমণ,
যেখানে তুমি আমার ভয়ের ভেতর অনন্ত আলো,
আমি তোমার নিঃসঙ্গতার গোপন আশ্রয়ে ভালো।
কত ঝড় এল, কত অচেনা রাত—মনের ভিতর দ্বন্দ্ব,
তবু প্রতিবারই আমরা শিখেছি
কীভাবে ভাঙনের ভেতর গড়ে ওঠে
আরও গভীর এক সংযোগ।
আজ এই অতিক্রান্ত যুগান্তরে দাঁড়িয়ে বুঝি,
বিবাহ মানে শুধু সামাজিক বন্ধন নয়,
এ এক মানসিক মিলন স্পন্দন,
যেখানে আমি আছি তোমার অসম্পূর্ণতায়,
তুমি আছো আমার শূন্যতার ভেতরে পূর্ণতা হয়ে।
এই পথচলা আমাদের সময়কে শুধু বাঁচিয়ে রাখেনি
বরং অবচেতন মনে গড়ে উঠেছে
এক চিরন্তন ভালোবাসার মানসিক আশ্রয়।
----- হুমায়ূন আফতাব
২০/০৯/২৫
28/07/2025
বৃষ্টিস্নাত কদমের মতো একাকী
***********************-------
আকাশেরও দুঃখ জমে গেছে বহুকাল।
কদম গাছে একে একে ঝরে পড়ছে পাপড়ি,
ঠিক তেমনি করে তুমি ঝরে পড়েছিলে আমার জীবনের আকাশ থেকে—একটা নির্দয় বিকেলে,
যেখানে প্রেমের ভাষা হারিয়েছিল অর্থ, আর নীরবতাই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে কর্কশ চিৎকার।
তুমি বলেছিলে, কদম ফুলের মতো জীবন তোমার—সুন্দর, কোমল, কিন্তু ক্ষণস্থায়ী। আমি হেসেছিলাম, অবহেলায়, বুঝিনি, সেই হাসির মধ্যে লুকিয়ে ছিল তোমার যাবতীয় বিদায়।
এখন বুঝি, প্রতিটি পাপড়ি ছিল তোমার অনুচ্চারিত বিদ্রোহ, ছিল নিঃশব্দ আত্মঘাত।
আজ বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে আমি দেখি সেই গাছ,
যেখান থেকে তুমি ভালোবেসে কদম তুলতে
আমার জন্য, নিজেকে একটু একটু করে নিঃশেষ করেছিলে… ভালোবাসা দিয়ে, অনাহার দিয়ে,
অভিমান দিয়ে। কেউ দেখেনি তোমার ক্লান্তি,
তোমার কাঁপা কণ্ঠের ভিতরের থেমে যাওয়া সুর,
কেউ শোনেনি।
তোমার আত্মহত্যা ছিল একটি প্রশ্নচিহ্ন,
আমি আজো যার উত্তর খুঁজি কদমের ভেজা গন্ধে। আমি ছুঁয়ে দেখি সেই বৃষ্টিস্নাত পাপড়ি,
ভাবি—এটা কি তোমার শেষ চিঠি?
না কি তুমি এখানেই আছো, প্রতিটি কদম ফুলে,
প্রতিটি বৃষ্টিধারায়, আমার অপরাধবোধে?
তুমি কেবল চলে যাওনি, আমাকে রেখে গেলে
ভাঙা আয়নার মতো এক জীবন, যার প্রতিচ্ছবিতে প্রতিবার দেখি—তুমি, ভেজা, ক্লান্ত, অথচ শান্ত…
যেন আত্মহত্যা ছিল তোমার শেষ প্রেমপত্র।
যার ঠিকানায় আমি আজো দাঁড়িয়ে আছি—
বৃষ্টিস্নাত, নিঃশব্দ, কদমের মতো একাকী।
------- হুমায়ূন আফতাব
২৮/০৭/২৫
18/07/2025
উপহার: মিসাইল
ঽπππππππππππ
পৃথিবীতে এতো কিছু থাকতে—
ফুল, বই, কবিতা, প্লাটিনাম ঘড়ি বা হীরার আংটি,
বন্ধু আমার জন্মদিনে উপহার দিলো একটি মিসাইল।
হাইপারসনিক bramos NG-2 মিসাইল।
সকালের চায়ের কাপে ধোঁয়ার বদলে বিস্ময়ের গন্ধ,
ডেলিভারির বাক্সটা খুলতেই লাল-কালো ধাতব শরীর,
নাকে ধারালো চুম্বন নিয়ে শুয়ে আছে সে,
যেন বিশ্রামে যাওয়া এক নিষ্ক্রিয় যুদ্ধ।
আমি জিজ্ঞেস করলাম— তুই কি পাগল?!
সে হেসে বলল, “না রে বন্ধু, তোর মনের রাগগুলা কোথাও না কোথাও তো ফাটাতে হবে!
তারপর সে বুঝিয়ে দিলো,
এই মিসাইল শব্দে ফোটে না, নিঃশব্দে উড়ে গিয়ে
লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে—
স্মৃতির মতো, প্রতিশোধের মতো, প্রেমভাঙার মতো নিঃশেষ এক বিস্ফোরণ।
আমি তাকিয়ে রইলাম…
একটা জন্মদিনে এতটা শক্তি কী প্রয়োজন ছিল?
তবুও ধন্যবাদ বন্ধুকে—
সে অন্তত বিশ্বাস করে
আমি এখনো এমন কিছু বহন করতে পারি,
যা পৃথিবীর মানচিত্র বদলে দিতে পারে।
আর আমি, জন্মদিনে কেক না কেটে
মনে মনে কাটলাম
নিজের ভেতরের একেকটা বিস্ফোরক চিহ্ন—
বন্ধুত্ব, বিশ্বাস, বিদ্রোহ।
পৃথিবীতে এতো কিছু থাকতে,
সত্যিই… একটা হাইপারসনিক মিসাইল
অনেক কথা বলে ফেলে।
--- হুমায়ূন আফতাব
১৮/০৭/২৫
14/01/2025
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Tsc
Dhaka
DHAKA