Dr. Yousuf Mahbubul Islam

Dr. Yousuf Mahbubul Islam Professor Yousuf M. Islam, PhD,
Former Vice Chancellor,
Daffodil International University, www.facebook.com/yousuf.islam

Our beloved professor Dr. Ahmed Shamsul Islam sir, father of Dr. Yousuf M Islam   sir has passed away.Inna lillahe wa in...
14/04/2025

Our beloved professor Dr. Ahmed Shamsul Islam sir, father of Dr. Yousuf M Islam sir has passed away.

Inna lillahe wa inna elaihe ragiun.

Verily we are from Allah SWT and verily we will go back to Him.

The Janaza namaz will be held today at Gulsan Azad Masjeed after Zuhur Salat in Sha Allah. Let us try our best to join in Sha Allah.

May Allah SWT forgive our beloved sir's father and us and grant us janntul ferdous

May Allah grant him Jannah..(Allahumma-ghfir lahu wa-rhamhu wa-'aafih wa-'afu `anh). "O Allah, forgive him, have mercy on him, protect him and pardon him."

https://www.du.ac.bd/notableAlumni/15/425
Admin Post

13/05/2024

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশ....

মাশাআল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ।
13/05/2024

মাশাআল্লাহ। আলহামদুলিল্লাহ।

Reflection on the occasion of Eid-ul-Fitr, 2024! May the Almighty grant peace, blessings, happiness and success to you a...
11/04/2024

Reflection on the occasion of Eid-ul-Fitr, 2024! May the Almighty grant peace, blessings, happiness and success to you always. May we continue to seek and derive benefit from Al-Quran.

10/03/2024

হঠাৎ বড় কোন মুসিবতে পড়ে গেলে আমরা সবাই সৃষ্টিকর্তার শরণাপন্ন হই এবং তার কাছে প্রার্থনা করি। আমরা কি সাথে সাথে অন্যদের কাছেও সাহায্যের জন্য প্রার্থনা করি? আমরা কি কখনো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের গুনাবলী সম্পর্কে চিন্তা করেছি এবং তিনি ছাড়া অন্যরাও কি কোন আমাদেরকে সাহায্য করতে পারে বা তাদের পারার ক্ষমতা রয়েছে?

সূরা আল ইসরা পর্যালোচনা (আয়াতঃ ৫৬-৫৯)

জীবন চলার পথে হঠাৎ আমরা কি এমন কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হই যেখানে আমাদের বাইরে থেকে সাহায্যের অবশ্যই প্রয়োজন হয়ে পরে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যখন আমরা ইন্টারভিউ বোর্ড ফেস করি কিংবা যখন আমরা পরীক্ষার হলে বসি অথবা প্রচন্ড ঝড়ে ডুবতে যাওয়া নৌকায়, কিংবা হতে পারে মধ্য আকাশ থেকে হঠাৎ করে প্লেনটি নিচে পড়ে যাচ্ছে, এই সমস্ত পরিস্থিতিতে আমরা কার কাছে সাহায্য চাই, এরকম পরিস্থিতিতে এমন কি কেউ আছে যে আমাদেরকে সাহায্য করতে পারে?

বেশিরভাগ মানুষই উত্তর দেবে তিনি হচ্ছেন মহান সৃষ্টিকর্তা অর্থাৎ মহান আল্লাহ তা'আলা। এবার আসুন আমরা একটু ধর্মগ্রন্থের দিকে তাকাই। পবিত্র কোরআনে প্রথম সাতটি আয়াতের ভেতরে আমরা মহান আল্লাহ তাআলার অনেকগুলো গুণের কথা জানতে পারি।

“শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা, যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু, আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি, আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।” (সুরা ফাতিহাঃ ১-৭)

আয়াতগুলো থেকে আমরা কি মহান আল্লাহর কিছু গুণাবলীর সন্ধান পেলাম? প্রথমে তিনি নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন আল্লাহ নামে, তিনি আরো বলছেন যে তিনি সব থেকে দয়াবান এবং ক্ষমাশীল আর তিনি এই দুনিয়া এবং এর পরবর্তী দুনিয়ার একচ্ছত্র অধিপতি। তিনি বলছেন, তিনি শেষ বিচারের দিনে আমাদের প্রত্যেকটি কাজের হিসাব নিবেন এবং তিনি দেখবেন আমরা কি একমাত্র তারই ইবাদত করেছিলাম এবং তারই কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম? আমরা কি সহজ সরল সঠিক পথটি খুঁজে পেতে একমাত্র তার কাছেই সাহায্য চেয়েছিলাম? সর্বোপরি প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি শুধুমাত্র তারই ইবাদত করেছিলাম?

পবিত্র কুরআনে আমাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে এই বলে যে,
“বলুনঃ আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা উপাস্য মনে কর, তাদেরকে আহবান কর। অথচ ওরা তো তোমাদের কষ্ট দুর করার ক্ষমতা রাখে না এবং তা পরিবর্তনও করতে পারে না।” (সুরা ইসরাঃ ৫৬)

মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারোরই কোন ক্ষমতা নেই - তিনিই সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং সৃষ্টি করেছেন একেবারে শূন্য থেকে। তাই আমরা কি আমাদের সমস্যা সমাধানের জন্য অন্য কারো সাহায্য চাইবো? আল্লাহ বলেন,
“যাদেরকে তারা আহবান করে, তারা নিজেরাই তো তাদের পালনকর্তার নৈকট্য লাভের জন্য মধ্যস্থ তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে নৈকট্যশীল। তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় আপনার পালনকর্তার শাস্তি ভয়াবহ।” (সুরা ইসরাঃ ৫৭)

অনেক সময়ই দেখা যায় আমরা নবী এবং অন্যান্য পীর ফকির দরবেশদের মাজারে যাই, আমরা কি মনে করি তারা যেহেতু সৃষ্টিকর্তার নিকটবর্তী সেহেতু তারা আমাদের হয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সুপারিশ করবেন? উপরের আয়াত অনুযায়ী আমরা বুঝতে পারলাম যে, তারা নিজেরাই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে এবং তার ক্ষমার আশা করে। সেই অর্থে বলা যায় যে, এই পৃথিবীর সকল মানুষ আসলে সমান। সকলেই চাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে এবং তার ক্ষমা পেতে - তাই সকলেরই উচিত সরাসরি আল্লাহ কাছেই চাওয়া। কবরে যারা শুয়ে আছে তাদের সম্পর্কে নিচের আয়াতটি পাঠ করলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে,

“আরও সমান নয়, জীবিত ও মৃত। আল্লাহ শ্রবণ করান যাকে ইচ্ছা। আপনি কবরে শায়িতদেরকে শুনাতে সক্ষম নন।” (সুরা ফাতিরঃ ২২)

যারা কবরে শুয়ে আছেন তারা আমাদের কথা শুনতে পান না -তাই তাদের কাছে কোন কিছু চাওয়া বৃথা। আমাদের কেন মহান আল্লাহর রাগের ব্যাপারে ভয় করা উচিত নিচের আয়াতে সেটা উল্লেখ করা রয়েছে,
“এমন কোন জনপদ নেই, যাকে আমি কেয়ামত দিবসের পূর্বে ধ্বংস করব না অথবা যাকে কঠোর শাস্তি দেব না। এটা তো গ্রন্থে লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে।” (সুরা ইসরাঃ ৫৮)

মহান আল্লাহ অনেক জনগোষ্ঠীকে সমূলে ধ্বংস করেছিলেন শুধুমাত্র এই জন্য যে তারা অবিশ্বাস প্রদর্শন করেছিল,
“তাদের পূর্বে যেসব জনপদ আমি ধবংস করে দিয়েছি, তারা বিশ্বাস স্থাপন করেনি; এখন এরা কি বিশ্বাস স্থাপন করবে?” (সুরা আম্বিয়াঃ ৬)

বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি বিশ্বাসী হব? যদি না হই তাহলে আমাদেরও কি পূর্ববর্তী প্রজন্মের মত সমূলে ধ্বংস হবার সম্ভাবনা রয়েছে?

“আকাশ পৃথিবী এতদুভয়ের মধ্যে যা আছে, তা আমি ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি।” (সুরা আম্বিয়াঃ ১৬)

মহান আল্লাহ তায়ালা চান মানুষ সৃষ্টি জগতের বিভিন্ন সৃষ্টি সম্পর্কে গবেষণা করবে, সেগুলো বিশ্লেষণ করবে এবং সেগুলোর ভেতর স্রষ্টার নিদর্শনগুলো খুঁজে বের করবে এবং কিভাবে মহান আল্লাহতা’লা এগুলো সৃষ্টি করেছেন সে ব্যাপারে নিজের মনের ভেতর স্রষ্টার অস্তিত্বের ব্যাপারে একটি বিশ্বাস ধারণ করবে। বর্তমান সময়ে আল্লাহ তায়ালা অতিরিক্ত লক্ষণ অর্থাৎ মুজেজা কিংবা অলৌকিক ঘটনা মানুষের সামনে দেখানো বন্ধ করে দিয়েছেন কেননা পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছে মোজেজা দেখানো সত্ত্বেও তারা ঈমান আনেনি।
‘'পূর্ববর্তীগণ কতৃক নিদর্শন অস্বীকার করার ফলেই আমাকে নিদর্শনাবলী প্রেরণ থেকে বিরত থাকতে হয়েছে। আমি তাদেরকে বোঝাবার জন্যে সামুদকে উষ্ট্রী দিয়েছিলাম। অতঃপর তারা তার প্রতি জুলুম করেছিল। আমি ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশেই নিদর্শন প্রেরণ করি।’ (সুরা ইসরাঃ ৫৯)

একটি অলৌকিক ঘটনার উদাহরণ এই যে, সামুদ জাতি নবী সালেহ’র কাছে দাবি করল, তার স্রষ্টা যদি একটি পাহারের মধ্য থেকে গর্ভবতী উটনি বাহির করতে পারে- তাহলে তারা ঈমান আনবে। এই অলৌকিক ঘটনাটি ঘটে যাবার পরেও, এমনকি তারা তাদের নিজ চোখের সামনে দেখার পরেও মহান আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেনি বরং তারা উটনিটিকে হত্যা করেছিল। সুতরাং তিন দিন সতর্ক করার পর সামুদ জাতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়া হলো। (সুরা হুদঃ ৬১-৬৮)

পরিপূর্ণ বিশ্বাস গড়ে তোলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আর এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বদিউজ্জামান সাঈদ নূরসি তার রিসালায় নূর বইটি লিখেছেন। একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় তিনি এই বইতে উল্লেখ করেছেন। তিনি দেখান যে, প্রকৃত অর্থে মুসলিম হওয়াটা একটি স্বতন্ত্র প্রক্রিয়ার সাথে জড়িতঃ প্রক্রিয়াটি শুরু হয় জ্ঞান অন্বেষণ করার মাধ্যম, তারপর সেই অর্জিত জ্ঞান থেকে আসে প্রত্যয় আর সেই প্রত্যয় পরিণত হয় বিশ্বাসে আর তারপর নিজেকে পরিপূর্ণভাবে স্রষ্টার নিকট সমর্পণ। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, ঠিক এমনটাই করেছিলেন নবী ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তার পিতা অনেক কিছুর উপাসনা করতো সাথে সাথে আল্লাহর ও উপাসনা করতো। প্রথম যে প্রশ্নটি শিশু বয়সে নবী ইব্রাহিম এর মাথায় এসেছিল তা হচ্ছে সকল কিছুই কিভাবে খোদা হতে পারে? তারপর থেকে সে প্রত্যেক খোদা যার উপাসনা তার বাবা করতো সেগুলোকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে শুরু করে। প্রত্যেকের গুনাবলীসমূহ যাচাই-বাছাই করতে থাকে এবং একসময় সে বুঝতে পারে আসলে এগুলো কিছুই করতে পারে না, কেবলমাত্র এক আল্লাহ ছাড়া। তখন তার বিশ্বাস দৃঢ় হয় এবং মহান আল্লাহর দরবারে সে নিজেকে সমর্পন করে দেয় আর দোয়া করে এই বলে যে,

“পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর, আমাদের হজ্বের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী ও দয়ালু।” (সুরা বাকারাঃ ১২৮)

04/09/2023

আমরা যখন কাউকে রিপ্রেজেন্ট করার সুযোগ পাই, বিষয়টি কি আমাদের জন্য সম্মানের? যদি উচ্চ অবস্থানে থাকা কোনো ব্যক্তি আমাদেরকে তার প্রতিনিধিত্ব করতে বলে তাহলে আমাদের অনুভূতি আসলে কেমন হবে? তখন আমাদের প্রতিক্রিয়াই বা কেমন হবে? এই বিষয়টি নিয়েই সুরা বনী ঈসরাইল থেকে পর্যালোচনা করেছেন ডঃ ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম।

ধরুন আপনি যে কোম্পানিতে চাকরি করেন সেই কোম্পানির মালিক আপনাকে খুবই বিশ্বাস করেন এবং তিনি চান যাতে আপনি তার ডেপুটি হিসেবে তাকে রিপ্রেজেন্ট করেন। এই বিষয়টি কি আপনাকে সম্মান আর মর্যাদা প্রদান করবে না? এমন বিশেষ সম্মান পেয়ে আপনার প্রতিক্রিয়াই বা কেমন হওয়া উচিত?

এখন যদি বলা হয়, একজন সত্ত্বা যিনি আপনার কোম্পানির মালিকের থেকেও বিশাল বড় এবং যিনি সকল মালিকেরও মালিক অর্থাৎ আল্লাহ; তিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন তার ডেপুটি হিসেবে, তখন আপনার মনের অনুভূতি আসলে কেমন হবে? এটা কি আরো বড় সম্মানের নয়? আপনি কি আপনার প্রাপ্ত সম্মানের জন্য ন্যায়বিচার করতে আগ্রহী হবেন? আসলেই কি আল্লাহ আমাদেরকে তার প্রতিনিধি হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন? আমরা কিভাবে নিশ্চিত হবো? পবিত্র গ্রন্থে কি এই ব্যাপারে কিছু বলা হয়েছে? সুরা বাকারার ৩০ নাম্বার আয়াতে উল্লেখ আছে,

“(হে নবী, স্মরণ করো,) যখন তোমার মালিক (তাঁর) ফেরেশতাদের (সম্বোধন করে) বললেন, আমি পৃথিবীতে (আমার) খলীফা বানাতে চাই; তারা বললো, তুমি কি এমন কাউকে (খলীফা) বানাতে চাও যে (তোমার) ) যমীনে (বিশৃংখলা ও) বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং (স্বার্থের জন্যে) তারা রক্তপাত করবে, আমরাই তো তোমার প্রশংসা সহকারে তোমার তাসবীহ পড়ছি এবং (প্রতিনিয়ত) তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি; আল্লাহ তায়ালা বললেন, আমি যা জানি তোমরা তা জানো না।“

একজন মানুষ যদি এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করতো যে কেন তাকে এই রকম সম্মান মহান আল্লাহতায়ালা দিলেন এবং এখন তাহলে তার দায়িত্বই বা কি হবে?

এই প্রসঙ্গে সুরা আল-আনামে উল্লেখ আছে,
“১৬৫. তিনিই সেই (মহান) সত্তা, যিনি তোমাদের এ যমীনে তাঁর খলিফা বানিয়েছেন এবং (এ কারণে তিনি তোমাদের একজনকে অন্য জনের ওপর (কিছু বেশী) মর্যাদা দান করেছেন, এর উদ্দেশ্যে হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সবাইকে যা কিছু দিয়েছেন তা দিয়েই তিনি তোমাদের কাছ থেকে (কৃতজ্ঞতার) পরীক্ষা নিতে চান; (জেনে রেখো,) তোমার মালিক শাস্তি দানের ব্যাপারে অত্যন্ত (কঠোর ও) তৎপর, (আবার) তিনিই বড়ো ক্ষমাশীল ও পরম দয়াময় |”

যে সম্মান ও মর্যাদা আমরা পেলাম সেটা আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার সরুপ। তবে মর্যাদার সাথে সাথে দায়িত্ব ও চলে আসে। আল্লাহ বলেন,
“হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা আল্লাহর জন্যে (সত্য ও) ন্যায়ের ওপর সাক্ষী হয়ে অবিচলভাবে দাঁড়িয়ে থাকো, (মনে রাখবে, বিশেষ) কোনো সম্প্রদায়ের দুশমনী যেন তোমাদের এমনভাবে প্ররোচিত না করে যে, (এর ফলে) তোমরা (তাদের সাথে) ন্যায় ও ইনসাফ করবে না। তোমরা ইনসাফ করো, কারণ এ (কাজ)-টি (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করে চলার অধিক নিকটতর; তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে পূর্ণাংগ ওয়াকেফহাল রয়েছেন।“ (সুরা আল-ইমরানঃ ৮)
একজন মুমীনের জন্য ন্যায়বিচার প্রয়োগ করা এবং সত্যকে সমর্থন করা খুবই গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব। আমাদের প্রত্যেকের এই দায়িত্বের প্রতি কিভাবে সাড়া দেয়া উচিত? সুরা বনী ইসরাইলে আল্লাহ আমাদের মনে করিয়ে দেন,
“৭০. আমি অবশ্যই আদম সন্তানদের মর্যাদা দান করেছি, স্থলে ও সমুদ্রে আমি ওদের চলাচলের বাহন দিয়েছি এবং তাদের পবিত্র (জিনিসসমুহ দিয়ে) আমি রেযেক দান করেছি, অতপর আমি অন্য যতো কিছু সৃষ্টি করেছি তার অধিকাংশের ওপরই আমি তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।”

এই সৃষ্টিজগতে মানুষই হচ্ছে একমাত্র সৃষ্টি যারা প্রশ্ন করতে জানে এবং বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে মহান আল্লাহর অস্তিত্বের ব্যাপারে সাক্ষ্য দিতে পারে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সম্মান ও মর্যাদা দেয়ার পাশাপাশি গাইডও করেছেন এবং সর্তক করেছেন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে, শয়তান আমাদের ইমোশনকে কাজে লাগিয়ে সহজেই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে পারে। ইমোশনের ফাদে আমরা যাতে না পরি সেই ব্যাপারে আল্লাহ আমাদের সতর্ক করেছেন।

সুরা আল-আরাফে আল্লাহ বলেন,

“২৭. হে আদমের সন্তানরা, শয়তান যেভাবে তোমাদের পিতা মাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে, তেমনি করে তোমাদেরও সে যেন প্রতারিত করতে না পারে, শয়তান তাদের উভয়ের দেহ থেকে তাদের পোশাক খুলে ফেলেছিলো, যাতে করে তাদের উভয়ের গোপন স্থানসমুহ উভয়ের কাছে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে, (মুলত) সে নিজে এবং তার সংগী-সাথীরা তোমাদের এমন সব স্থান থেকে দেখতে পায়, যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না, যারা (আমাকে) বিশ্বাস করে না তাদের জন্যে শয়তানকে আমি অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি।”

শয়তান যে ধরনের ইমোশনাল লজিক দেয়, সেগুলো বোঝা কি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ? উদাহরনসরুপ বলা যায়, শয়তান এমন কোন প্ররোচনা দিয়েছিলো আদম এবং হাওয়াকে, যে, তারা উভয়েই নিষিদ্ধ গাছ থেকে ফল খেলো?
এই ঘটনাও আমরা সুরা আল-আ’রাফ থেকে জানতে পারি,
“২০. অতঃপর শয়তান তাদের দু'জনকেই কুমন্ত্রণা দিলো যেন সে তাদের নিজেদের লজ্জাস্থানসমুহ, যা তাদের পরস্পরের কাছ থেকে গোপন করে রাখা হয়েছিলো প্রকাশ করে দিতে পারে, সে (তাদের আরো) বললো, তোমাদের মালিক তোমাদের এ গাছটির (কাছে যাওয়া) থেকে তোমাদের যে বারণ করেছেন, তার উদ্দেশ্যে এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, (সেখানে গেলে) তোমরা উভয়েই ফেরেশতা হয়ে যাবে, অথবা (এর ফলে) তোমরা (জান্নাতে) চিরস্থায়ী হয়ে যাবে |
২১. সে তাদের কাছে কসম করে বললো, আমি অবশ্যই তোমাদের উভয়ের জন্যে (তোমাদের) হিতাকাংখীদের একজন ।
২২. এভাবে সে এদের দুজনকেই প্রতারণার জালে আটকে ফেললো, অতঃপর (এক সময়) যখন তারা উভয়েই সে গাছ (ও তার ফল) আস্বাদন করলো, তখন তাদের লজ্জাস্থানসমুহ তাদের উভয়ের সামনে খুলে গেলো, (সাথে সাথে) তারা জান্নাতের কিছু লতা পাতা নিজেদের ওপর জড়িয়ে (নিজেদের গোপন স্থানসমুহ) ঢাকতে শুরু করলো, তাদের মালিক (তখন) তাদের ডাক দিয়ে বললেন, আমি কি তোমাদের উভয়কে এ গাছটির ( কাছে যাওয়া) থেকে নিষেধ করিনি এবং আমি কি তোমাদের একথা বলে দেইনি যে, শয়তান হচ্ছে তোমাদের উভয়ের প্রকাশ্য দুশমন?”

শয়তানের এইসব প্ররোচনা যা সে উভয়ের মাথার ভিতর ঢুকিয়ে দিয়েছিলো, এর প্রতিক্রিয়ায় আদম ও হাওয়া কি করতে পারতেন? তারা যদি এই চিন্তার উপর লজিকাল কিছু প্রশ্ন করতেন তাহলে কি তারা শয়তানের ফিসফিসানিটা ক্রস এক্সামিন করতে পারতেন? লজিকাল প্রশ্নগুলো কেমন হতে পারতো? উদাহরনসরুপ, আল্লাহ কি আমাদেরকে (আদম ও হাওয়া) কোনো ক্ষেত্রে বঞ্চিত করতে পারেন? – যিনি কিনা আমাদের চাওয়ার আগেই অজস্র নেয়ামত দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছেন? কে সৃষ্টি করে এবং জীবন দেয় - ফল কি আমাদের অনন্ত জীবন দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? কোনটা হওয়া বেশি উত্তম, বুদ্ধি বিবেক জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ নাকি জ্ঞান বুদ্ধিহীন ফেরেশতা? কে বেশি জানেন, আল্লাহ-যিনি আমাদের সবাইকে সৃষ্টি করেছেন নাকি শয়তান-যে কিনা নিজেই একটা সৃষ্টি? আমরা যদি কনফিউজড হয়ে যাই, তাহলে আমরা কার কাছে গাইডেন্স চাই-আল্লাহর কাছে নাকি শয়তানের কাছে?

এই প্রশ্নগুলো কি আদম ও হাওয়াকে শয়তানের ফাদ বুঝতে সাহায্য করতে পারতো?
আসুন আমরা একটু নিজেদের দিকেই তাকাই, শয়তান আমাদের চিন্তাভাবনাকে আল্লাহ এবং তার আদেশ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য কি কি ধরনের প্ররোচনা দিয়ে থাকে? উদাহরনসরুপ, নামাযের সময় সে কি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কোনও কাজের কথা মনে করিয়ে দেয়? অথবা সে কি আমাদেরকে খেলার শেষ অংশটুকু দেখার জন্য উৎসাহ দেয়? শয়তানের এইসব ফিসফিসানি যা সে আমাদের চিন্তার মধ্যে দিয়ে থাকে তাকে মোকাবেলা করাটা কি গুরুত্বপূর্ন নয়? আল্লাহ আমাদেরকে সুরা আল-আ’রাফে গাইড করছেন এভাবে যে,

“৩৫. হে আদম সন্তানরা (শুরুতেই আমি তোমাদের বলেছিলাম), যখনি তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকে রসুলরা আসবে, যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াত পড়ে শোনাবে, তখন যারা (সে অনুযায়ী) আমাকে ভয় করবে এবং (নিজেদের) সংশোধন করে নেবে, তাদের কোনোই ভয় থাকবে না, তারা কখনো দুশ্চিন্তাগ্রস্থও হবেনা ৷
৩৬. আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এবং বড়াই করে এ (সত্য) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরদিন অবস্থান করবে |
৩৭. যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে মিথ্যা আরোপ করে কিংবা তাঁর আয়াতকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে, তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে? এরা হচ্ছে সেসব ব্যক্তি, যারা কেতাবে (বর্ণিত দুর্ভাগ্য থেকে) তাদের নিজেদের অংশ পেতে থাকবে, এমনিভাবে (তাদের মৃত্যুর সময়) তাদের কাছে আমার ফেরেশতারা যখন এসে হাযির হবে তখন তারা বলবে (বলো), তারা (এখন) কোথায় যাদের তোমরা আল্লাহ তায়ালার বদলে ডাকতে, তারা বলবে আজ সবাই (আমাদের ছেড়ে) সরে গেছে, তারা (সেদিন) সবাই নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, তারা সত্যিই কাফের ছিলো.”

আমদেরকে মহান আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং শয়তান ও তার দোসরদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা আল্লাহর কাছে নামাযের সময়/প্রার্থনার সময় নিম্মলিখিতভাবে দোয়া করতে পারি যেমনটা তিনি আমাদের শিখিয়েছেন,

“৮০. তুমি বলো, হে আমার মালিক (যেখানেই আমাকে নিয়ে যাও না কেন), তুমি আমাকে সত্যের সাথে নিয়ে যেও এবং (যেখান থেকেই আমাকে বের করো না কেন) সত্যের সাথেই বের করো এবং তোমার কাছ থেকে আমার জন্যে একটি সাহায্যকারী (রাষ্ট্র) শক্তি প্রদান করো |”

যখন আমরা আল্লাহর কাছে সত্য চাই এবং তিনি আমাদের যে সম্মান দিয়েছেন তার যোগ্য হতে চাই, তখন তিনি সাহায্য করেন এবং শয়তান অদৃশ্য হয়ে যায় এবং তখন আল্লাহ আমাদের জ্ঞান দেখতে/উপলব্ধি করতে সহায়ত করেন। আর আমাদের সামনে তখন বাস্তবতা প্রকাশিত হয়ে যায়, আল্লাহ বলেন,
“৮১. তুমি বলো সত্য এসে গেছে এবং মিথ্যা (চিরতরে) বিলুপ্ত হয়ে গেছে; অবশ্যই মিথ্যাকে বিলুপ্ত হতে হবে |
৮২. আমি কোরআনে যা কিছু নাযিল করি তা হচ্ছে ঈমানদারদের জন্যে (তাদের রোগের) উপশমকারী ও রহমত, কিন্তু এ সত্ত্বেও তা যালেমদের জন্যে ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না |

বিশ্বাসীরা আল-কোরানকে তেমনভাবেই মেনে চলে, যেমনভাবে কেউ একটি জটিল প্রোডাক্টের ম্যানুয়াল মেনে চলে। মহা গ্রন্থ আল-কোরআনের উদ্দেশ্য কি?
সুরা সাদ এর ২৯ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন,

“আমি এই মোবারক গ্রন্থটি তোমাদের উপর নাযিল করেছি, যাতে করে মানুষ এর আয়াত সমূহের ব্যাপারে চিন্তা গবেষণা করতে এবং জ্ঞানবান লোকেরা তা থেকে উপদেশ গ্রহন করতে পারে”

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Yousuf Mahbubul Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Dr. Yousuf Mahbubul Islam:

Shortcuts

Share

Category