Splendor Zone
মহানবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্ল?
‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর (রাদি আল্লাহু তায়ালা আনহু) হতে বর্ণিতঃ মহানবী (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমার কথা পৌছিয়ে দাও, তা যদি একটি আয়াতও হয়। আর বনী ইসরাঈলের ঘটনাবলী বর্ণনা কর। এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু যে কেউ ইচ্ছে করে আমার উপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামকেই তার ঠিকানা নির্দিষ্ট করে নিল। (৩৪৬১ নং হাদিস-সহীহুল বূখারী/প্রকাশনায়-তাওহীদ পাবলিকেশন্স)
নারীদের জান্নাতে যাওয়া সহজ
কিন্তু বেশিরভাগ নারীই জাহান্নামে যাবে...
04/06/2020
সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫+২৮৬) পড়ার ফযীলতঃ
আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ একদিন জিবরাঈল (আঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বসেছিলেন। সেই সময় তিনি উপর দিক থেকে দরজা খোলার একটা প্রচন্ড আওয়াজ শুনতে পেয়ে মাথা উঠিয়ে বললেনঃ এটি আসমানের একটি দরজা। আজকেই এটি খোলা হলো ইতিপূর্বে আর কখনো খোলা হয়নি। আর এই দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা পৃথিবীতে নেমে আসলেন। আজকের এই দিনের আগে আর কখনো তিনি পৃথিবীতে আসেননি। তারপর তিনি সালাম দিয়ে বললেনঃ আপনি আপনাকে দেয়া দু'টি নূর বা আলোর সু-সংবাদ প্রহণ করুন। আপনার পূর্বে আর কোন নবীকে তা দেয়া হয়নি। আর ঐ দুইটি নূর হলো ফাতিহাতুল কিতাব বা সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষাংশ। এর যে কোন হরফ আপনি পড়বেন। তার মধ্যকার প্রার্থিত বিষয় আপনাকে দেয়া হবে। (সহীহ মুসলিম - ১৭৫৪)
- এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিল-ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ) ! কুরআন শরীফের কোন সূরাটি সর্বশ্রেষ্ঠ? মহানবী (সাঃ) বলিলেন, “সূরা এখলাস”।
ঐ ব্যক্তি আবারও জিজ্ঞাসা করিল-কুরআন শরীফের কোন আয়াতটি সর্বশ্রেষ্ঠ? মহানবী (সাঃ) বলিলেন, “আয়াতুল কুরসী”।
ঐ ব্যক্তি আবারও জিজ্ঞাসা করিল-ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাঃ)! কুরআন মজীদের কোন আয়াতটি আপনার এবং আপনার উম্মতের অধিক উপকার করিবে? মহানবী (সাঃ) বলিলেন, “সূরা বাকারার শেষ অংশ”। আল্লাহ তায়ালার আরশের নিম্নস্হ রহমতের ভান্ডার হইতে উহা আসিয়াছে। তিনি উম্মতকে উহা দান করিয়াছেন। দুনিয়া ও আখিরাতে এমন কোন নিয়ামত নাই যাহা উহাতে নাই। (মিশকাত)
* রাতে ঘুমের আগে সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করলে রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামায পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে
* বালা-মুসিবত ও যেকোনো ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে।
* জিন ও শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে।
* আয়াতগুলো পড়ে শেষ “আমিন” বললে আয়াতগুলোতে যেই দুয়া আছে সেইগুলো আল্লাহ তাআ’লা কবুল করে নেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি রাতের বেলা সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বে সেটা তার জন্য যথেষ্ঠ হবে”। সহীহ বুখারিঃ ৫০১০, সহীহ মুসলিমঃ ৮০৭।
বিখ্যাত হাদীস গ্রন্থ “রিয়াদুস সালেহীন” এর লেখক ও সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার, ইমাম আন- নববী (রহঃ) বলেন, “এর অর্থ কেউ বলেছেনঃ কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেনঃ শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেনঃ বালা- মুসিবত থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে। তবে সবগুলো অর্থ সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শারহুন নববী আ’লা সহিহ মুসলিমঃ ৬/৩৪০, হাদীস ৮০৭।
সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার, আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদীস, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহঃ) এই অভিমত সমর্থন করে বলেন, উপরের সবগুলো অর্থ নেওয়া সঠিক। আল্লাহ ভালো জানেন। প্রথম অর্থটি (তাহাজ্জুদের সমান সওয়াব পাওয়া) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউ’দ (রাঃ) থেকে একটি মারফু হাদীসে স্পষ্ট উল্লেখ আছে। ফাতহুল বারী ৮/৬৭৩, হাদীস ৫০১০।
এ কারণেই আলী (রাঃ) বলেনঃ “আমার মতে যার সামান্যও বুদ্ধিজ্ঞান আছে, সে এ দুটি আয়াত পাঠ করা ছাড়া নিদ্রা যাবে না”। মানাকিবুস সাহাবা।
ইমাম নববী এটাকে সহীহ বলেছেন, আল-আযকার।
২৮৫- আমানার রাসুলু বিমা- উনযিলা ইলাইহি মিররাব্বিহি ওয়াল মু’মিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়ামালা-ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহী। লা নুফাররিকু বাইনা আহাদিমমির রুসুলিহি। ওয়া ক্বালু’সামি’না ওয়া আ তয়া’না গুফরানাকা রাব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসিরু
২৮৬- লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফছান ইল্লা উস’আহা লাহা মা কাসাবাত ওয়া ‘আলাইহা মাকতাসাবাত। রাব্বানা লাতুআখিজনা- ইন নাসিনা আও আখ তয়ানা। রাব্বানা ওয়ালা তাহ্ মিল ‘আলাইনা- ইসরান কামা ‘হামালতাহু ‘আলাল্লাযি না মিন ক্বাবলিনা রাব্বানা ওয়ালা তুহাম-মিলনা মালা তয়া ক্বাতা লানা বিহী ওয়া’ ফু ‘আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ার ‘হামনা আনতা মাওলানা ফানসুরনা ‘আলাল ক্বাও মিল কাফিরিন।
01/05/2020
যে ব্যক্তি দিনে (সকালে) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ ইস্তিগফার পড়বে আর সন্ধ্যা হবার আগেই সে মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে (সন্ধ্যায়্) দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দু‘আ পড়ে নেবে আর সে ভোর হবার আগেই মারা যাবে, সে জান্নাতী হবে।
اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لآ إِلهَ إلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّمَا صَنَعْتُ، أبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ فَاغْفِرْلِىْ، فَإِنَّهُ لاَيَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلاَّ أَنْتَ-
উচ্চারণ : ‘‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী, লা-ইলা-হা ইল্লা- আন্তা খলাকতানী, ওয়া আনা- ‘আবদুকা, ওয়া আনা- ‘আলা- ‘আহদিকা, ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্তাত্ব‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা- সনা‘তু, আবূউলাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফিরলী, ফাইন্নাহূ লা- ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা- আনতা’’
অর্থ - হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রভু, তুমি ছাড়া কোন মা‘বূদ নেই; তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা, আমি আমার সাধ্যানুযায়ী তোমার চুক্তি ও অঙ্গীকারের উপর প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি আমার কৃতকর্মের মন্দ পরিণাম হতে তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমি স্বীকার করি, আমার প্রতি তোমার দানকে এবং স্বীকার করি আমার গুনাহকে। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার আর কেউ নেই।
- সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৬৩০৬; [৬৩২৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৮৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫৪)
#সাইয়েদুল_ইস্তিগফার #সাইয়েদুল_ইস্তেগফার
14/04/2019
কুরআনের কোন কোন সুরার ফজিলত সহি হাদিস দারা প্রমানিত?
সুরা ফাতিহার ফজিলত ➖
✔ আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’আমি কি তোমাদেরকে কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সুরা-এর সংবাদ দিবনা? অতঃপর তিলাওয়াত করলেনঃ ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’ (অর্থাৎ সুরা ফাতিহা) [মুস্তাদরাক হাকিম; সহীহ; হাদীস নঃ ২০৫৬; ইবন হিব্বান; সহীহ; হাদীস নঃ ৭৭১; সহীহ আত-তারগীব; হাদীস নঃ ১৪৫৪]
✔ সূরা ফাতিহা কে আল্লাহ তাআলা তার ও বান্দার
মাঝে ভাগ করে নিয়েছেন । বান্দা যখন নামাজে সূরা
ফাতিহা পাঠ করে প্রতিটি আয়াতের জবাব আল্লাহ
তাআলা দেন । { মুসলিম হা/৯০৪, মিশকাত হা/৮২৩ }
✔ আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) বলেছেনঃ ‘’সুরা ফাতিহা হল উম্মুল কুরআন, উম্মুল কিতাব এবং বারবার পঠিত সাতটি আয়াত’’ আবু দাউদ; সহীহ; হাদীস নঃ ১৪৫৭; তিরমিযি; সহীহ; হাদীস নঃ ৩১২৪; আহমাদ সহীহ; হাদীস নঃ ৯৭৯০; দারেমী; সহীহ হাদীস নঃ ৩৩৭৪
✔ আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসুল (সাঃ) উবাই বিন কাব (রাঃ)-এর নিকট গেলেন, তাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি সুরা শিখাব যার মত সুরা তাওরাত, ইনজিল, যাবুর এমনকি কুরআনেও অবতীর্ণ হয়নি? তিনি বললেন, হাঁ, হে আল্লাহর রাসুল! রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি সলাতে কি পাঠ কর? উবাই (রাঃ) বললেন, উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহ) পাঠ করি। রাসুল (সাঃ) বললেনঃ ‘’সেই সত্তার কসম করে বলছি, যার হাতে আমার প্রান! সুরা ফাতিহার মত মর্যাদাসম্পন্ন কোন সুরা তাওরাত, ইনজিল, যাবুর এমনকি কুরআনেও অবতীর্ণ হয়নি। এটা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত সম্বলিত সুরা এবং মহান কুরআন যা আমাকে দেয়া হয়েছে’’ (বুখারী ৪১১৪, ৪৩৩৪, ৪৬২২; তিরমিযি ২৮৭৫; আবু দাউদ ১৪৫৮; নাসাঈ ৯১৩; আহমাদ ৯৩৪৫; মুস্তাদরাক হাকিম ২০৫১)
✔আবু সাইদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) আমাদেরকে একটি সামরিক অভিযানে প্রেরন করলেন। আমরা একটি জনপদে পৌঁছে তাদের কাছে মেহমানদারী প্রার্থনা করলাম। কিন্তু তারা আমাদেরকে মেহমানদারী করলো না। এমতাবস্থায় তাদের গোত্র প্রধানকে বিছা দংশন করে। তারা আমাদের কাছে এসে বলে, তোমাদের মাঝে বিছা দংশনকারীকে ঝাড়ফুঁক করার মত লোক আছে কি? আমি বললাম, হাঁ আমি নিজেই। কিন্তু তোমরা আমাদেরকে এক পাল বকরী না দিলে আমি ঝাড়ফুঁক করতে রাজি নই। তারা বলল, আমরা তোমাদেরকে ত্রিশটি বকরী দিবো। আমরা এ প্রস্তাবে সম্মত হলাম। আমি সাতবার সুরা ফাতিহা পড়ে তাকে ঝাড়ফুঁক করলাম। ফলে সে দংশনমুক্ত হলো এবং আমরা বকরীগুলো হস্তগত করলাম। কিন্তু এ ব্যাপারে আমাদের মনে সন্দেহ জাগলো। কাজেই আমরা রাসুল (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে আমারা তাড়াহুড়া করবো না। অতঃপর আমরা তার কাছে উপস্থিত হয়ে আমি যা করেছি তা তাঁকে বললাম। রাসুল (সাঃ) বললেনঃ ‘’এটা যে পড়ে ফু দেয়ার সুরা তা তুমি কিভাবে জানলে? বকরীগুলো হস্তগত করো আর তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটি অংশ দিও’’ (বুখারী ২১১৫, ৪৬২৩; মুসলিম ৫৮৬৩; আবু দাউদ ৩৪১৮; তিরমিযি ২০৬৩; ইবন মাযাহ ২১৫৬; ইরওয়াউল গালীল ১৫৫৬)
✔ ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুল (সাঃ) আমাদের মাঝে বসা ছিলেন। আর তার কাছে ছিলেন জিবরীল (আঃ); হঠাৎ জিবরীল (আঃ) তাঁর মাথার উপর এক বিকট শব্দ শুনলেন, তখন তিনি আকাশের দিকে চোখ তুলে বললেন, আকাশের একটি দরজা খুলে দেয়া হয়েছে, যা কখনও খোলা হয়নি। তিনি বললেন, এরপর একজন ফেরেশতা রাসুল (সাঃ)-এর কাছে এসে বললেন, আপনি এমন দু’টি নুরের সুসংবাদ গ্রহন করুন, যা শুধুমাত্র আপনাকেই প্রদান করা হয়েছে। আপনার পূর্বে অন্য কোন নবীকে তা প্রদান করা হয়নি। একটি হল, সুরা ফাতিহা এবং অন্যটি হল, সুরা বাকারার শেষ অংশ। এতদুভয়ের একটি অক্ষর পাঠ করলেও তা (তার প্রতিদান) আপনাকে দেয়া হবে’’ নাসাঈ ৯১২
সুরা বাকারার ফজিলত ➖
✔ আবু হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন :
“যে ঘরে সূরা আল-বাকারা তিলাওয়াত করা হয়, সে ঘরে শয়তান প্রবেশ করে না।” [মুসলিম]
আয়াতুল কুরসির ফজিলত ➖
✔ উবাই বিন কা’ব রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ উবাই বিন কা’বকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার কাছে কোরআন মজিদের কোন আয়াতটি সর্ব মহান? তিনি বলেছিলেন, (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল্ হাইয়্যূল কাইয়্যূম…) তারপর রাসূলুল্লাহ্ ﷺ নিজ হাত দ্বারা তার বক্ষে আঘাত করে বলেন, আবুল মুনযির! এই ইলমের কারণে তোমাকে ধন্যবাদ। (মুসলিম ১৩৯৬)
✔ উবাই বিন কা’ব রাযি. থেকে বর্ণিত, তাঁর এক খেজুর রাখার থলি ছিল। সেটায় ক্রমশ তার খেজুর কমতে থাকত। একরাতে সে পাহারা দেয়। হঠাৎ যুবকের মত এক জন্তু দেখা গেলে, তিনি তাকে সালাম দেন। সে সালামের উত্তর দেয় । তিনি বলেন, তুমি কি? জিন না মানুষ? সে বলে, জিন। উবাই রাযি. তার হাত দেখতে চান। সে তার হাত দেয়। তার হাত ছিল কুকুরের হাতের মত আর চুল ছিল কুকুরের চুলের মত। তিনি বলেন, এটা জিনের সুরত। সে (জন্তু) বলে, জিন সম্প্রদায়ের মধ্যে আমি সবচেয়ে সাহসী। তিনি বলেন, তোমার আসার কারণ কি? সে বলে, আমরা শুনেছি আপনি সাদকা পছন্দ করেন, তাই কিছু সাদকার খাদ্যসামগ্রী নিতে এসেছি। সাহাবী বলেন, তোমাদের থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? সে বলে, সূরা বাকারার এই আয়াতটি (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহ হুআল হাইয়্যূল কাইয়্যূম), যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পড়বে, সকাল পর্যন্ত আমাদের থেকে পরিত্রাণ পাবে। আর যে ব্যক্তি সকালে এটি পড়বে, সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের থেকে নিরাপদে থাকবে। সকাল হলে তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে আসেন এবং ঘটনার খবর দেন। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেন, খবীস সত্য বলেছে। (সহীহ ইবন হিব্বান ৭৯১)
✔আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যাকাতের সম্পদ পাহারা দেয়ার দায়িত্ব এক রমজান মাসে দিয়েছিলেন। তখন দেখতে পেলাম একজন আগন্তুক সদকার মাল চুরি করছে তখন আমি আগন্তুকের হাত ধরে ফেললাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম ,আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব। তখন আগন্তুক বলল, আমি খুব অভাবী আর আমার অনেক প্রয়োজন। তার এ কথা শুনে দয়া করে তাকে ছেড়ে দিলাম। পরদিন সকালে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, গতকাল তোমার অপরাধী কী করেছে? আমি উত্তর দিলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, লোকটি নাকি অনেক অভাবী তাই তাকে দয়া করে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে। পরদিন আমি আবার অপেক্ষা করতে লাগলাম। যখন সে আবারও চুরি করতে আসল তখন তাকে পাকড়াও করে বললাম, এবার অবশ্যই ,আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি খুব অভাবী, আমার পরিবার আছে, আমি আর আসব না। তখন আমি তাকে দয়া করে এবারও ছেড়ে দিলাম। পরদিন আবারও রাসূল রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, গতকাল তোমার অপরাধী কী করেছে? আমি এবারও উত্তর দিলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, লোকটি নাকি অনেক অভাবী তাই তাকে দয়া করে ছেড়ে দিয়েছি। এবারও রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে। তৃতীয় দিনও আমি চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। যখন সে আবারও চুরি করতে আসল তখন তাকে পাকড়াও করে বললাম, এবার অবশ্যই ,আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব, তুমি বার বার ওয়াদা কর আর চুরি করতে আস। তখন (অবস্থা বেগতিক দেখে) সে বলল, আমাকে মাফ কর। আমি তোমাকে এমন কিছু কথা বলে দিব যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন। আমি বললাম, সেগুলো কী? তখন সে বলল, যখন ঘুমাতে যাবে তখন আয়াতুল কুরসী পড়ে ঘুমাবে তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন পাহারাদার নিযুক্ত করবেন যে তোমার সাথে থাকবে আর কোন শয়তান সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে আসতে পারবে না। এটা শুনে আবু হুরায়রা রাযি. তাকে ছেড়ে দিলেন । পরদিন রাসূলﷺ আবার অপরাধীর কথা জানতে চাইলে তিনি আগের রাতের কথা বললেন। তখন রাসূল ﷺ বললেন, যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে । রাসূল ﷺ আবু হুরায়রা রাযি. কে আরো বললেন, তুমি কি জান সে কে? আবু হুরায়রা রাযি. বললেন, না । রাসূলﷺ আবু হুরায়রা কে বললেন , সে হচ্ছে শয়তান । (সহীহ বুখারী ২৩১১)
✔আবু উমামাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا أَنْ يَمُوتَ
যে ব্যাক্তি প্রতেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ব্যতিত আর কোন বাঁধা থাকবে না। (নাসায়ী ৯৪৪৮ তাবারানী ৭৮৩২, শায়খ আলবানীর মতে সহীহ, সিলসিলা আস-সহীহাহঃ ২/৬৯৭, সহীহ আল্ জামে :৬৪৬৪)
✔ যে ব্যক্তি ঘুমানোর সময় ইহা পাঠ করবে তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত করা হবে এবং সকাল পর্যন্ত তার কাছে শয়তান আসতে পারবে না । { বুখারী হা/২৩১১ }
সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াতের ফজিলত ➖
✔ রাসুলুলাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতের বেলা
সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বে সেটা তার জন্য
যথেষ্ঠ হবে”। [বুখারি ৫০১০, মুসলিম ৮০৭।
বিখ্যাত হাদীস গ্রন্থ “রিয়াদুস সালেহীন” এর লেখক ও সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার, ইমাম আন- নববী (রহঃ) বলেন,“এর অর্থ কেউ বলেছেনঃ কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেনঃ শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে। কেউ বলেছেনঃ বালা- মুসিবত থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে। তবে সবগুলো অর্থ সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
[শারহুন নববী আ’লা সহিহ মুসলিমঃ ৬/৩৪০, হাদীস
৮০৭।]
✔ আবু মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ)
বলেন,“যে ব্যক্তি সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত
রাতে পাঠ করবে,তার জন্য এ দুটি আয়াত যথেষ্ট
হবে। (অর্থাৎ সারারাত সে জিন ও মানুষের অনিষ্ট
থেকে নিরাপদ থাকবে এবং প্রতিটিঅপ্রিয় বিষয়
থেকে তাকে হেফাজত করা হবে)।
(সহীহ বুখারি, মুসলিম)
সুরা বাকারা সুরা এবং আলে ইমরান এর ফজিলত ➖
✔রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : “তোমরা দু’টি যাহরাবীন তথা পুষ্প পাঠ কর, যথা সূরা আল-বাকারা ও সূরা আলে ইমরান। কারণ এ দু’টি সূরা কেয়ামতের দিন মেঘমালার মত অথবা দু’দল পাখির ঝাঁকের ন্যায় সারিবদ্ধভাবে উড়বে। এরা উভয়ে পাঠকের পক্ষ গ্রহণ করবে। তোমরা সূরা বাকারা পাঠ কর। কারণ তার পাঠ করা বরকতের কারণ, তার পাঠ ত্যাগ করা হতাশা। অলসরা তা করতে পারবে না। মুআবিয়া বলেন, আমার শ্র“ত হয়েছে যে, বাতালার অর্থ জাদু।”*[মুসলিম]
সুরা মুলকের ফজিলত ➖
✔আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “নিশ্চয় পবিত্র কুরআনে একটি সূরা, যাতে আছে তিরিশটি আয়াত। উহা পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে, যে পর্যন্ত তাকে ক্ষমা না করা হয়। সূরাটি হচ্ছে “তাবারাকাল্লাযী বি ইয়াদিহিল মুল্কু..”। (হাদীছটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান এবং হাকেম। হাদীছের বাক্য তিরমিযীর, তিনি হাদীছটিকে হাসান বলেছেন। আর হাকেম বলেছেন, এর সনদ সহীহ)
✔আবদুল্লাহ্ বিন মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি
বলেন, “কবরস্থিত ব্যক্তির নিকট পায়ের দিকে দিয়ে
ফেরেশতারা শাস্তির জন্য আসতে চাইবে। তখন তার
পদদ্বয় বলবে, আমার দিক দিয়ে আসার রাস্তা নেই।
কেননা সে সূরা ‘মুলক’ পাঠ করত। তখন তার সীনা
অথবা পেটের দিক দিয়ে আসতে চাইবে। তখন
সীনা অথবা পেট বলবে, আমার দিকে দিয়ে আসার
কোন রাস্তা তোমাদের জন্য নেই। কেননা সে
আমার মধ্যে সূরা ‘মুলক’ ভালভাবে ধারণ করে
রেখেছিল। অতঃপর তার মাথার দিক দিয়ে আসার
চেষ্টা করবে। মাথা বলবে এ দিক দিয়ে আসার রাস্তা
নেই। কেননা সে আমার দ্বারা সূরা ‘মুলক’ পাঠ
করেছিল। সূরা মুলক হচ্ছে বাধাদানকারী। কবরের
আযাব থেকে বাধা দিবে। তাওরাতেও সূরা ‘মুলক’ ছিল। যে ব্যক্তি উহা রাত্রে পাঠ করে, সে অধিক ও
পবিত্র-উৎকৃষ্ট আমল করবে।”
(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন হাকেম, তিনি বলেন,
এর সনদ সহীহ।)
✔নাসাঈতে হাদীছটি সংক্ষিপ্তভাবে এসেছেঃ
“যে ব্যক্তি প্রতি রাতে তাবারাকাল্লাযী বি ইয়াদিহিল
মুলকু.. পাঠ করবে, আল্লাহ্ তাকে কবরের আযাব
থেকে রক্ষা করবেন।”
✔ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে সূরাটিকে মানেআ’ অর্থাৎ বাধাদানকারী সূরা বলে আখ্যা দিতাম। উহা আল্লাহ তা’আলার কিতাব কুরআনের মাঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে উহা পাঠ করবে সে অধিক ও উৎকৃষ্ট আমল করবে। (শায়খ আলবানী বলেন, হাদীছটি হাসান। দ্র: সহীহ তারগীব ও তারহীব, হা/ ১৪৭৫ ও ১৪৭৬)
✔সূরা মুলক তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি পাঠক কে ক্ষমা করে দেওয়া হবে । {আবু দাউদ হা/১৪০০ , ইবনু মাজাহ হা/৩৭৮৬ }
সূরা কাহাফ এর ফযিলত ➖
✔ হযরত বারা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাতে
সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করছিলেন। তার কাছে দুটি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। এরই মধ্যে
একটি মেঘখণ্ড এসে তাকে ঢেকে ফেলল।
এরপর যখন মেঘখণ্ডটি তার কাছে চলে আসছিল,
তখন তার ঘোড়া ছোটাছুটি করতে লাগল। অতঃপর
সকালে ওই ব্যক্তি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লামের কাছে এসে রাতের ঘটনা বললেন। তিনি বললেন, ওটা ছিল সাকিনা (রহমত), যা কোরআন তেলাওয়াতের বরকতে নাজিল হয়েছিল। (সহিহ বুখারি ৫০১১, ৩৬১৪; সহিহ মুসলিম ৭৯৫)
✔ আবু সাইদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে, আল্লাহ তা‘আলা এ জুমু‘আ থেকে পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত তার
জন্য নূরের আলো দ্বারা আলোকিত করে রাখবেন”। বাইহাকী, হাদিস: ৬০৬, ইমাম নাসাঈ
✔ হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত
আছে, যে সূরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্ত
করে সে দাজ্জালের ফিৎনা হতে নিরাপদ
থাকবে। তাঁর থেকে আরেকটি রেওয়ায়েতে
শেষ ১০ আয়াতের ব্যাপারে উল্লিখিত ফজিলতের
বর্ণনা রয়েছে। (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ ও মুসনাদে আহমদ)
সুরা ইখলাসের ফজিলত ➖
✔ আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ তাঁর সাহাবীদেরকে বলেছেন, أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ ثُلُثَ الْقُرْآنِ فِي لَيْلَةٍ তোমাদের কেউ কি এক রাতে কোরআনের এ-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে অসাধ্য মনে কর? এ প্রশ্ন তাদের জন্য কঠিন ছিল। এরপর তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কার সাধ্য আছে যে, এমনটি পারবে? তখন তিনি বললেন, اللَّهُ الْوَاحِدُ الصَّمَدُ ثُلُثُ الْقُرْآنِ “কুল হুআল্লাহু আহাদ” অর্থাৎ সূরা ইখ্লাস কোরআন শরীফের এক-তৃতীয়াংশ। (বুখারি ৪৬৪৬, সহীহুল বুখারী ৫০১৫, নাসায়ী ৯৯৫, আবু দাউদ ১৪৬১, আহমাদ ১০৬৬৯)
✔ আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ এক সাহাবিকে একটি মুজাহিদ দলের আমীর করে জিহাদে পাঠালেন। তিনি যখন নামাজে ইমামতি করতেন, তখনই (প্রত্যেক রাকআতে সূরা পড়ার পর) ‘কুল হুআল্লাহু আহাদ’ (সূরা ইখলাস) দিয়ে (কিরাআত) শেষ করতেন। মুজাহিদগণ সেই অভিযান থেকে প্রত্যাবর্তন করে নবি ﷺ এর খিদমতে বিষয়টি আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, سَلُوهُ لأَيِّ شَيْءٍ يَصْنَعُ ذٰلِكَ؟ ‘তাকে জিজ্ঞাসা কর, কেন সে এ কাজটি করেছে?’ সুতরাং তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তরে বললেন, لأَنَّهَا صِفَةُ الرَّحْمٰنِ فَأَنَا أُحِبُّ أنْ أقْرَأ بِهَا ‘এই সূরাটিতে পরম করুণাময় (আল্লাহ)র গুণাবলী রয়েছে। এই জন্য সূরাটি তেলাওয়াত করতে আমি ভালবাসি।’ তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, أخْبِرُوهُ أنَّ اللهَ تَعَالَى يُحِبُّهُ ‘তাকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাআলাও তাকে ভালবাসেন।’ (বুখারি ৭৩৭৫, মুসলিম ৮১৩, নাসায়ি ৯৯৩)
✔ আবু হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ব্যক্তিকে সূরা ইখলাস পড়তে দেখে বলেন, وَجَبَتْ ‘অবধারিত হয়ে গিয়েছে’। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ‘কী অবধারিত হয়ে গিয়েছে?’ রাসূলুল্লাহ ﷺ উত্তর দিলেন, وَجَبَتْ له الجنة‘তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গিয়েছে’। (মুসনাদ আহমদ ৭৬৬৯)
✔ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
من قرأ { قل هو الله أحد } عشر مرات بنى الله له بيتا في الجنة
‘যে ব্যক্তি সুরা ইখলাস দশ বার পড়বে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি প্রাসাদ তৈরী করবেন।’ (সহিহ জামে সগীর ৬৪৭২)
✔ উবাই ইবনু কাব রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُوتِرُ بِـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى} وَ {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} وَ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}
রাসূলুল্লাহ ﷺ বিতরের নামাযে সূরাহ আলা, সূরাহ কাফিরূন ও সূরাহ ইখলাস পড়তেন। (ইবন মাজাহ ১১৭১)
✔এক সাহাবী এসে বলল, “হে আল্লাহর রসূল! আমি
এই (সূরা) ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদকে ভালবাসি”। তিনি
বললেন, “এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ
করাবে”।) বুখারীর ৭৭৪নং হাদীসের পরবর্তী অধ্যায়,
তিরমিযী ২৯০১, আহমাদ ১২০২৪, মুসলিম হা/৮১২)
সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাসের ফজিলত ➖
✔ প্রতি ফরজ সালাতের পর সূরা ইখলাস ফালাক ও নাস এ তিনটি সূরা একবার করে পাঠ করতে হবে । ফজর আর মাগরিবের ফরজ সালাতের পর এ তিনটি সূরা তিনবার করে মোট নয়বার পাঠ করা সুন্নত আর বাকী ফরজ সালাতের পর একবার করে পড়তে হবে ।(আবু দাউদ হা:১৩৬৩)
✔ আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত,
أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَثَ فِيهِمَا فَقَرَأَ فِيهِمَا قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ وَ قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلاثَ مَرَّاتٍ
নবী ﷺ প্রত্যেক রাতে যখন ঘুমাবার জন্য শয্যা গ্রহণ করতেন তখন দু’ হাতের তালু একত্রে জমা করতেন এবং তাতে তিন ক্বুল পড়ে ফুঁ দিতেন। তারপর তার দ্বারা দেহের ওপর যতদূর সম্ভব বোলাতেন; মাথা, চেহারা ও দেহের সামনের অংশ থেকে শুরু করতেন। এরূপ তিনি তিনবার করতেন। (বুখারি ৪৪৩৯, সহি বুখারি ৫০১৭, সুনানে আবু দাউদ : ৫০৫৮, জামে তিরমিজি, হাদিস নং-৩৪০২)
✔ সকাল-সন্ধ্যায় ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ (সুরা ইখলাস) এবং ‘ক্বুল আঊযু বিরাবিবল ফালাক্ব’ (সুরা ফালাক্ব) ও ‘ক্বুল আঊযু বিরাবিবন্নাস’ (সুরা নাস) তিনবার করে পড়লে যেকোন(ক্ষতিকর) জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য এটা যথেষ্ট হবে।
[তিরমিযী ৩৫৭৫, আবূ দাউদ ৫০৮২, নাসায়ী ৫৪২৮, ৫৪২৯; হাসান সহীহ বলেছেন, ইমাম তিরমিযী, শায়খ
আলবানী।]
আল্লাহ আমাদের আমল করার তাওফিক দিন , আমীন।
সর্বাবস্থায়, এমনকি সহবাসের সময়েও বিসমিল্লাহ্ বলা।
ইবনু ‘আববাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে মিলনের পূর্বে যদি বলে, আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। আল্লাহ্! তুমি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখ এবং যা আমাদেরকে দান করবে তাকেও শয়তান থেকে দূরে রাখ)- অতঃপর (এ মিলনের দ্বারা) তাদের কিসমতে কোন সন্তান থাকলে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।
(বুখারী ৩২৭১, ৩২৮৩, ৫১৬৫, ৬৩৮৮, ৭৩৯৬; মুসলিম ত্বলাক অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ১৭ হাঃ ১৪৩৪, আহমাদ ১৯০৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১৩৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ১৪৩)
সুস্থতা লাভের জন্য রাসুল [সা.] যে দোআটি পড়তেন!
যে ব্যক্তি উপরোক্ত দোয়াটি সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়বে আশা করা যায় যে আল্লাহ আয়ালা তাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা এ দোয়াটি তিনবার পড়তেন। [আবু দাউদ:৫০৯২ নাসায়ি কুব [রা.]৯৮৫০]
আরবি দোআ-
اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ.
বাংলা উচ্চারণ-
আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাময়ি আল্লাহুম্মা আফিনি বাসারি। লা ইলাহা ইল্লা আনতা আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবারি লা ইলাহা ইল্লা আনতা।
বাংলা অর্থ-
হে আল্লাহ! আমার শরীরে সুস্থতা দান করো, হে আল্লাহ! আমার শ্রবণশক্তিতে সুস্থতা দান করো, হে আল্লাহ! আমার দৃষ্টিশক্তিতে সুস্থতা দান করো, তুমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কুফুরি ও দরিদ্রতা থেকে, এবং তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি কবরের আজাব থেকে। তুমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।
ভুমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, আকর্ষিক দূর্ঘটনা (এ্যক্সিডেন্ট)!
যে দোআটি পড়লে কোনো বিপদে আপনার ক্ষতি হবে না!
কোনো ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় এই দোয়াটি তিনবার পড়বে আর কোনো কিছু তাকে কোনো ধরণের ক্ষতি করবে এমনটি হতে পারে না ।
অন্য এক বর্ণনায় আছে: সকালে পড়লে সন্ধ্যা পর্যন্ত অতর্কিত কোনো বিপদে সে আক্রান্ত হবে না। আর সন্ধ্যায় পড়লে পরদিন সকাল পর্যন্ত অতর্কিত কোনো বিপদে সে আক্রান্ত হবে না। [আবু দাউদ:৫০৯০,তিরমিজি: ৩৩৮৮,ইবনে মাজাহ:৩৮৬৯]
দোআঃ
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِى لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَىْءٌ فِى الأَرْضِ وَلاَ فِى السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
বাংলা উচ্চারণঃ
বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়া দুররু মাসমিহি শাইয়ূন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।
বাংলা অর্থ -
[আমি আমার দিন বা রাত] ওই আল্লাহর নামে শুরু করছি যার নামের সম্মুখে আসমান জমিনের কোনো কিছু কোনো ধরণের ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বাজ্ঞ।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Dhaka
1212