90th Batch, Department of Economics, University of Dhaka

90th Batch, Department of Economics, University of Dhaka

Share

We are from the 90th batch of the Department of Economics, University of Dhaka, Bangladesh

23/11/2017

নোবেল বিজয়ী #রিচারড_থ্যালার সম্পর্কে আপনার যা জানা দরকার

২০১৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রিচারড থ্যালার ছাত্রজীবনে সঙ্গে একটা ডায়েরি রাখতেন, যেখানে তিনি মানুষ তার ব্যক্তিস্বার্থের বিপরীতমুখী কোনো আচরণ করতে দেখলে তা নোট করে রাখতেন।

সময়টা ছিল তখন র‍্যাশনাল সেলফিশ ম্যান বা যুক্তিপূর্ণ স্বার্থপর মানুষের। এই র‍্যাশনাল সেলফিশ ম্যান বা যুক্তিপূর্ণ স্বার্থপর মানুষ বাজার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় চরিত্র। কারণ, অর্থনীতির যে স্ট্যান্ডার্ড মডেল মান আদল, যার ওপরে মুক্তবাজার অর্থনীতির নিওক্ল্যাসিক্যাল স্কুল দাঁড়ানো, তাতে ধরে নেওয়া হয়, একজন মানুষ প্রতিটা অর্থনৈতিক লেনদেনের সময়ে তার জন্য সবচেয়ে যৌক্তিক এবং সবচেয়ে লাভজনক সিদ্ধান্তটি নেবে। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ থেকে বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী দেখা, বাচ্চার স্কুলের সিদ্ধান্ত থেকে মাছের বাজার—সব ক্ষেত্রেই এই যুক্তিপূর্ণ স্বার্থপর মানুষ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, নিজের জন্য সবচেয়ে লাভজনক এবং সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবে—এই ধারণার ভিত্তিতেই অর্থনীতির স্ট্যান্ডার্ড মডেল, নিওক্ল্যাসিক্যাল স্কুল এবং তার সব অর্থনৈতিক তত্ত্ব ও মডেল দাঁড়িয়ে থাকে।

এই ধারণাটি বলে, যদি বিনিয়োগের সময় বা যেকোনো অর্থনৈতিক লেনদেনের সময় আপনি আপনার জন্য অলাভজনক সিদ্ধান্ত নেন, তবে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং জেনে-শুনে আপনি নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করার সিদ্ধান্ত নেবেন না। তাহলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে আপনি পিছিয়ে পড়বেন এবং বাকিরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাবে এবং আপনার ডারউইনিয়ান অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। ফলে বাজার অর্থনীতির মূল ভাবনা হচ্ছে, যুক্তিপূর্ণ স্বার্থপর প্রাণী হিসেবে ব্যক্তি সব সময়েই তার জন্য সবচেয়ে লাভজনক সিদ্ধান্ত নেবে।

কিন্তু রিচারড থ্যালার এবং তাঁর সহকর্মীরা দেখিয়েছেন, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ব্যক্তি শুধু ব্যক্তিস্বার্থ দিয়ে চিন্তা করে না, ব্যক্তি অনেক সময় অযৌক্তিক সিদ্ধান্তও নেয়। থ্যালারের নোটবুকে এমন কিছু উদাহরণ আছে। থ্যালার এবং তাঁর একজন বন্ধু অন্য একটি শহরে বেজবল খেলা দেখার দুটি টিকিট উপহার পেয়েছিলেন। কিন্তু খেলার দিন তাদের এলাকায় ঝড় উঠল। তিনি এবং তাঁর বন্ধু সিদ্ধান্ত নিলেন, এই ঝড়ের মধ্যে এত দূর গিয়ে খেলা দেখতে যাবেন না। তখন তাঁর বন্ধু মন্তব্য করলেন, টিকিটটা যদি আমরা নিজের টাকায় কিনতাম, তাহলে হয়তো যেতাম।

আচরণগত কারণে মানুষের বিপরীতমুখী বা নিজের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে স্কুল, তাকে এখন অর্থনীতির পরিভাষায় বলা হয় বিহেভারিয়াল ইকোনমিকস বা আচরণগত অর্থনীতি। বিহেভারিয়াল ইকোনমিকসের ওপরে দীর্ঘ ৩০ বছরে গবেষণার স্বীকৃতিতে রিচারড থ্যালার ২০১৭ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। অনেকে মনে করেন, আরও আগেই তাঁর নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল।

খোদ অর্থনীতি বিষয়টিকেই বিজ্ঞান হিসেবে মর্যাদা পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তাই আচরণগত অর্থনীতির মতো সম্পূর্ণ অঙ্কহীন, সূত্রহীন একটি ধারাকে মূলধারা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মূলধারার অর্থনীতিবিদেরা রাজি ছিলেন না। কিন্তু থ্যালারের নোবেল পুরস্কার পাওয়া প্রমাণ করে, সেই ধারণার অনেক পরিবর্তন হয়েছে।

এমন নয় যে থ্যালার প্রথম দেখিয়েছেন যে ব্যক্তি অযৌক্তিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়; বরং থ্যালারের কৃতিত্ব হচ্ছে, তিনি এই অযৌক্তিক আচরণগুলোকেও আবার একটা ছকে ফেলে ব্যক্তি কী ধরনের অযৌক্তিক আচরণ করবে, তার একটা মডেল দাঁড় করিয়েছেন, যার ভিত্তিতে র‍্যাশনাল সেলফিশ প্রাণীর বদলে মানুষকে এখন বলা হচ্ছে প্রেডিক্টেবলি ইরেশনাল বা অনুমেয় অযৌক্তিক প্রাণী।

দীর্ঘ ৩০ বছরের গবেষণায় থ্যালার দেখিয়েছেন, যেকোনো অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানুষ তিনভাবে প্রভাবিত হয়।

১. লিমিটেড র‍্যাশনালিটি বা যুক্তির সীমিত প্রয়োগ
২. ফেয়ারনেস পারসেপশন বা ন্যায্যতার ধারণা
৩. ল্যাক অব সেলফ কন্ট্রোল বা ব্যক্তির আত্মনিয়ন্ত্রণের অক্ষমতা।

এর মধ্যে লিমিটেড র‍্যাশনালিটি বা যুক্তির সীমিত প্রয়োগ স্ট্যান্ডার্ড মডেলের বুকে গিয়ে আঘাত করে। কয়েকটা পূর্বধারণার ওপরে স্ট্যান্ডার্ড মডেল দাঁড়ানো। যেমন: ১. মানুষ তার কাছে থাকা সব তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়, ২. মানুষ নিজের যুক্তি ব্যবহার করে, তার কাছে থাকা সুযোগগুলোর মধ্যে তার জন্য সবচেয়ে ভালো থেকে সবচেয়ে খারাপ সুযোগের একটা ক্রম তৈরি করে এবং ৩. এই সুযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক পছন্দই সে বেছে নেয়।

এই ধারণাগুলোর ভিত্তিতে বাজার, পলিসি, ম্যাক্রো, মাইক্রো সব ধরনের অর্থনীতিতে ব্যক্তি কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, তার একটা অনুমান করা যায় এবং তার ভিত্তিতে অর্থনীতির মডেলগুলো তৈরি করা হয়।

লিমিটেড র‍্যাশনালিটি নামে এই তত্ত্বের জনক মূলত আরেকজন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ হারবারট সাইমন। তাঁর এই গবেষণাকে রিচারড থ্যালার একটা প্রায়োগিক রূপ দিয়েছেন, যার নাম হচ্ছে মেন্টাল অ্যাকাউন্টিং। থ্যালার বলেন, সামগ্রিক লাভ-ক্ষতি চিন্তা না করে মানুষ বেশ কিছু রেফারেন্স পয়েন্টের ভিত্তিতে সরলভাবে বা আলাদা আলাদাভাবে লাভ-ক্ষতির হিসাব করে এবং সেই অনুসারে সিদ্ধান্ত নেয়।

মনে করুন, কেউ তার পরিবারের মাসিক খরচের টাকা একটি চলতি হিসাব (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) রাখতে পারে। আবার ভবিষ্যতের বিপদে কাজে আসবে বলে সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে কিছু টাকা জমা রাখতে পারে। দেখা গেছে, অনেকেই পরিবারের মাসিক খরচের টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও জমানো টাকায় হাত দিচ্ছে না বরং আরেকজনের কাছে টাকা ধার করছে বা ক্রেডিট কার্ড দিয়ে বিল দিচ্ছে, যা তার জন্য ক্ষতিকর হচ্ছে এবং যা একটি অযৌক্তিক আচরণ।

রিচারড থ্যালারের মতে, আমরা বিভিন্ন বিষয়ে অনেক রকম মেন্টাল অ্যাকাউন্টিং তৈরি করি এবং সেই হিসেবে সিদ্ধান্ত নিই। এর একটি উদাহরণে রিচারড থ্যালার দেখান যে বিভিন্ন শহরে যাঁরা ক্যাব চালান, তাঁদের অনেকেই প্রতিদিনের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেন এবং সেই টাকা উপার্জন হয়ে গেলে ক্যাব চালানো বন্ধ করে বাসায় ফিরে যান। ফলে যেসব দিনে ক্যাবের চাহিদা বেশি সেসব দিনে আগেভাগেই ভাড়ার টাকা তুলে ফেলার কারণে অনেকেই সময়ের আগেই বাড়ি ফিরে যান এবং তাতে ক্যাবের সংকট তৈরি হয়। অথচ এই সময়ে টিপস বেশি পাওয়ার কারণে তাঁর অতিরিক্ত সময় কাজ করার কথা ছিল। থ্যালারের মতে, এর কারণ হচ্ছে, মেন্টাল অ্যাকাউন্টিং, যা মনের একটা নির্দেশক, যার ভিত্তিতে ব্যক্তি তার লাভ-ক্ষতির হিসাব করে। এভাবে অসংখ্য উদাহরণ দিয়ে রিচারড থ্যালার মেন্টাল অ্যাকাউন্টিং এবং অর্থনৈতিক লেনদেনে ব্যক্তির অযৌক্তিক আচরণের প্রমাণ দিয়েছেন।

এ ছাড়া সহযোগী অর্থনীতিবিদ কাহম্যান এবং নেচের সঙ্গে থ্যালার দেখিয়েছেন, মানুষ ক্ষতি এড়ানোর জন্য যতটুকু খরচ করতে প্রস্তুত, তার সমপরিমাণ খরচ একই পরিমাণ লাভ করার জন্য করতে প্রস্তুত থাকে না। থ্যালার এর নাম দিয়েছেন এনডাউমেন্ট ইফেক্ট। এনডাউমেন্ট ইফেক্ট বলে, ব্যক্তি তার নিজের যে সম্পদ রয়েছে, তার যে মূল্য হিসাব করে, সেই একই সম্পদ তার হাতে না থাকলে সে তুলনায় কম মূল্য হিসেবে করে। এন্ডাউমেন্ট ইফেক্টের একটা প্রভাব হচ্ছে, আজ যদি আপনার কাছে ২০ টাকার পণ্য থাকে, তবে এর বদলে যদি আগামী কাল ৩০ টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা সত্ত্বেও আপনি ২০ টাকার দ্রব্যটি হাতছাড়া করতে চাইবেন না। এন্ডাউমেন্ট ইফেক্টের পরিমাণ অনেক ক্ষেত্রে তিন থেকে চার গুণও হয়ে থাকে।

এন্ডাউমেন্ট ইফেক্ট শুধু অর্থনীতি নয়, আইন, রাজনীতি, ভূমি দখল থেকে শুরু করে অনেক কিছুতেই ব্যক্তির আচরণকে ব্যাখ্যা করে। রাষ্ট্রের কৌশলগত দিকেও তার অনেক প্রভাব রয়েছে। রাস্তা, ইপিজেড বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সরকার বা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মৌজা মূল্যে জোর করে জমি কিনে নিতে চাইলে ভূমির মালিকেরা অনেক সময়ে তা দিতে চান না। কারণ, এন্ডাউমেন্ট ইফেক্টের কারণে ভূমির মালিকের কাছে জমির মূল্য অনেক বেশি থাকে, যা অনেক সময়ে মৌজা মূল্য থেকে চার বা পাঁচ গুণও বেশি হতে পারে। থ্যালারের এই ভাবনাগুলো রাষ্ট্রের পলিসিগত সিদ্ধান্তের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্ভবত রিচারড থ্যালারের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী থিওরি হচ্ছে নাজ থিওরি (Nudge Theory) বা হালকা ধাক্কা দেওয়ার থিওরি। নাজ থিওরি বলে, ভোক্তার সিদ্ধান্তকে বেছে নেওয়ার সুযোগ কমিয়ে বা হালকা ধাক্কা দিয়ে সহজেই প্রভাবিত করা যায়। যেমন চাকরিতে নিয়োগের সময়ে কোম্পানির মানবসম্পদ বিভাগের দেওয়া ফরমে যদি ১০ শতাংশ বেতন সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা করা ডিফল্ট অপশন হিসেবে থাকে তবে, অধিকাংশ মানুষই সেই সিদ্ধান্ত বেছে নেয়। কিন্তু যদি তাকে প্রশ্ন করা হয়, ১০ শতাংশ সেভিংস রাখবে কি না, তখন সে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়। এই নাজ থিওরি এত সফল হয়েছে যে মরণোত্তর চক্ষুদান, সরকারি পেনশন থেকে শুরু করে অনেক বিষয়েই এর বহুল ব্যবহার করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে অর্থনীতি বিভাগ নাজ ইউনিট তৈরি করেছে থ্যালারের গবেষণার ফলাফলকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার থ্যালারের গবেষণাকে কাজে লাগাতে তৈরি করেছে বিহেভারিয়াল ইনসাইট টিম।

কিন্তু নাজ থিওরি সমালোচনার বাইরে নয়। রিচারড থ্যালারের নাজ থিওরির সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, নাজ থিওরি প্রয়োগ করতে গিয়ে কিছু আমলা বা রাজনীতিবিদ বাস্তবতার বাইরে গিয়ে ব্যক্তির মানবিক দুর্বলতাগুলো ব্যবহার করে মানুষকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ধাক্কা দিয়ে প্রভাবিত করতে পারে। এইটা সামগ্রিকভাবে অমঙ্গল বয়ে আনতে পারে।

ভারতের বিতর্কিত মোদি ইকনোমিকসের একটি মূলনীতি হচ্ছে নাজ থিওরি। সাম্প্রতিক কালে রুপির ডিমনিটাইজেশনকে নাজ থিওরির চরম রূপ হিসেবে দেখা যায়।

মানুষ অর্থনৈতিক লেনদেন কীভাবে করবে, তার সুযোগ গুলো সীমিত করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণি। মানুষের সামর্থ্যের বাস্তবতা না বুঝে কিছু আমলা এবং রাজনীতিবিদ ডিমোনেটাইজেশনের মাধ্যমে পুরো রাষ্ট্রকে ব্যাংকিং সিস্টেমের দিকে ধাবিত করেছে, এইটা মূলত ধাক্কা দিয়ে মানুষের অর্থনৈতিক আচরণকে একদিকে প্রভাবিত করা। রিচারড থ্যালার ডিমোনেটাইজেশানের পরে টুইট করে তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এবং থ্যালারের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়কে বিজেপির নেতারা তাঁদের বিজয় হিসেবে দেখিয়েছেন।

শুধু অর্থনীতি নয়, সোশ্যাল মিডিয়া, প্রযুক্তি থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপন, বাণিজ্যসহ অনেক ক্ষেত্রেই নাজ থিওরিকে ব্যবহার করা হয়। এই বহুল প্রশংসিত নাজ থিওরিই সবার শেষে রিচারড থ্যালারের বিহেভারিয়াল অর্থনীতির সীমাবদ্ধতা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, লুটেরা রাষ্ট্র, রাজনীতি, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ যখন মানুষের আচরণের মধ্যে একটা ছক বা ধরন খুঁজে বের করে সেটাকে নিয়ন্ত্রণের উপায় বের করে ফেলে, তখন সে আবিষ্কার সামগ্রিক মঙ্গলের জন্য ব্যবহৃত না হয়ে ক্ষমতাশীলের স্বার্থ রক্ষাতেই ব্যবহৃত হয়।

হয়তো এর জন্য আমরা রিচারড থ্যালারকে দায়ী করতে পারব না কারণ, থ্যালার মানুষের অযৌক্তিক আচরণের কারণ এবং ধরন খুঁজে বের করেছেন মাত্র। বরং দায়টা পড়বে তাদেরই ওপর, যারা থ্যালারের এই সূত্রগুলোকে মঙ্গলজনক কাজে ব্যবহার না করে মানুষকে নাজ করে বা হালকা ধাক্কা দিয়ে সংকীর্ণ গোষ্ঠী স্বার্থ রক্ষা করে।

© জিয়া হাসান: প্রাবন্ধিক ও ডেভেলপমেন্ট অ্যাকটিভিস্ট।

10/10/2017

রোহিঙ্গা সংকট
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিপদ কোথায়?

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী-সংক্রান্ত সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পুরোপুরিভাবেই অনাকাঙ্ক্ষিত। এটা অনস্বীকার্য যে এ ঘটনা দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ ও সার্বিক নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ চাপ আরও বাড়তে পারে। স্বাভাবিকভাবেই, বাংলাদেশ এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত ছিল না। মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা এবং বিশালসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণের ঘটনায় বাংলাদেশ যে ধরনের মানবিক সাহায্যের পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশ সীমিত সম্পদ নিয়ে এই সংকটের মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে। তবে রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, যার বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

এই সংকটের এই মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যে বিশাল শরণার্থীর ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা। বিশ্বব্যাংকের ‘মাঝারি’ দারিদ্র্য আয়সীমা অনুযায়ী এক ব্যক্তির পেছনে প্রতিদিন যদি ৩ দশমিক ১ মার্কিন ডলার খরচের হিসাব করা হয় এবং বর্তমানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা যদি ১০ লাখ হয়, তবে বছরে তাদের পেছনে খরচ হবে ন্যূনতম প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা। এটা কোনোমতেই সহজ কোনো বিষয় নয়।

এখন হয়তো বিশ্বের অনেক দেশই ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এগিয়ে আসছে। তবে যে পরিমাণ সাহায্য বা ত্রাণের কথা বলা হচ্ছে, তা নিতান্তই সীমিত। এক হিসাবে এই ত্রাণের অর্থের পরিমাণ বছরে প্রয়োজনীয় অর্থের ৫ শতাংশও নয়। স্বল্প মেয়াদে অর্থনীতির বিশ্লেষণে বড় ধরনের বোঝা মনে হবে না এই অর্থে যে মোট জনগোষ্ঠীর তুলনায় ১০ লাখ লোক হয়তো শতকরা হিসাবে তেমন উল্লেখযোগ্য নয়, কিন্তু যখন আমরা দীর্ঘ মেয়াদে চিন্তা করব, তখন একটা বড়সড় প্রভাব আমাদের চোখে পড়বে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, এই মুহূর্তে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্ববাসীর যে দৃষ্টি রয়েছে অথবা সংবাদমাধ্যমগুলোর শিরোনামে যা লক্ষ করা যাচ্ছে, তা কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস পাবে বা হারিয়ে যাবে। তাতে ক্রমবর্ধমানভাবে বহির্বিশ্ব থেকে যে পরিমাণ ত্রাণ বা সাহায্য আসছে, তা কমে যাবে বা একটা সময়ের পর থেমে যাবে। এর অর্থ হচ্ছে, এ সংকটের নিরসন না হলে দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশকেই এর ব্যয়ভার বহন করতে হবে। একটি বড় চিন্তার বিষয় হলো, এই শরণার্থীদের মধ্যে একটা বিশাল অংশ শিশু এবং আগামী এক বছরে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার শিশু জন্ম নেবে। এই শিশুদের স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার ব্যবস্থা বাংলাদেশকেই করতে হবে।

অদূর ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা সংকটে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আসন্ন পর্যটন মৌসুমেই এর প্রভাব স্পষ্ট হবে। নিরাপত্তার সংকট তৈরি হলে কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রেও তার বিরূপ প্রভাব পড়বে। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণসহ প্রস্তাবিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বাস্তবায়নের ওপর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ভর করছে। এসব প্রকল্পে বড় ধরনের দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়, তবে তা প্রকল্পগুলোতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করতে পারে, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এটা সমগ্র দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বৃহত্তর পরিসরে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। চীনের সঙ্গে প্রস্তাবিত বিসিআইএম অর্থনৈতিক করিডর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এই উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে রাস্তা ও রেলপথের যোগাযোগ, যার সবই মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে গিয়েছে। অতএব, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হলে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।

স্বাধীনতার পর থেকে গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যে ধারা, তা অনেক ঈর্ষণীয় এবং অনেক দেশের তুলনায় তা অনেক এগিয়ে। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে একটি বিষয় কাজ করেছে আর তা হলো বাংলাদেশ এই সময়ে প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গে কোনো ধরনের বাহ্যিক সংঘর্ষে জড়ায়নি অথবা জড়ানোর মতো কোনো আশঙ্কা তৈরি হয়নি। দক্ষিণ এশিয়ার দুটি বড় রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বিভিন্ন সময়ে চরমে পৌঁছেছে এবং এই দুটি দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এই রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নানাভাবে বাধার সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্ত। এখন মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে একধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় একধরনের কালো ছায়া ফেলতে পারে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশে সামরিক ব্যয়বৃদ্ধির ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে, যা দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় জিডিপির অনুপাত ১ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ভারত ও পাকিস্তানে যথাক্রমে ২ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অথচ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় এই দেশগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। দেশের সীমিত সম্পদ যদি সামরিক খাতের ব্যয়বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়, তবে অবধারিতভাবে তা দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে খরচ কমাবে। এটা বাংলাদেশের ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাধার সৃষ্টি করবে।

উল্লেখ্য, বেশ কিছু দেশ, যারা আমাদের বন্ধুপ্রতিম ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুতে পক্ষাবলম্বনে ইতস্তত করছে, তাদের সঙ্গে কুশলতার সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে সম্পর্ক বিনির্মাণ প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে চীন, রাশিয়া ও ভারত। কারণ, মিয়ানমারে তারা বিনিয়োগ করেছে এবং আরও বিনিয়োগ করতে চায়। রাখাইন রাজ্যে খনিজ সম্পদ এবং দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের ওপর আধিপত্য বিস্তারে চীন, ভারত, রাশিয়ার মধ্যে প্রতিযোগিতা রয়েছে।

আর এ রকমই একটা প্রতিযোগিতার ফাঁদে পড়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু বাংলাদেশের এখন বুঝতে হবে বাংলাদেশের জন্য শক্তিশালী দর-কষাকষির জায়গাটি কোথায়। বাংলাদেশ প্রায় ১৬ কোটি মানুষ নিয়ে ভূরাজনীতির এমন একটা অঞ্চলে অবস্থান করছে, যেখানে ভারত, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এই দেশগুলোর একই সঙ্গে মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে প্রয়োজন। বিষয়টিকে পুঁজি করে বাংলাদেশের উচিত কূটনৈতিক কুশলতা দেখানো এবং চীন, ভারত ও রাশিয়াকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করা।

সেলিম রায়হান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং সানেমের নির্বাহী পরিচালক।
[email protected]

প্রথম আলোঃ http://bit.ly/2ycv608
১০ অক্টোবর, ২০১৭

22/09/2017

অর্থনীতি
কঠিন বাঁকের মুখে বাংলাদেশের অর্থনীতি

আড়াই দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির উন্নতির ধারা দেশটির মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর এবং নিকট ভবিষ্যতে অনুন্নত দেশের (এলডিসি) অবস্থা থেকে উত্তরণের বিষয়ে আশা জাগিয়ে তুলেছে। ১৯৯০ সালে পৃথিবীতে দেশগুলোর শীর্ষ অর্থনীতির আকারের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৫০তম। সাফল্যের সঙ্গে ২০১৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ এই তালিকায় ৩১তম স্থানে চলে আসে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পৃথিবীতে ২৮তম বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ২৩তম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে।

বাংলাদেশের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২০ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার কথা। সরকারি অন্যান্য দৃশ্যকল্প অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধির হার ৯-১০ শতাংশ হবে। এর পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) আলোকে ২০৩০ সালের মধ্যে অনেক কঠিন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনের কর্মসূচি রয়েছে।

আড়াই দশক ধরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে নানাবিধ অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উপাদান এবং তাদের মিথস্ক্রিয়ার
ভূমিকা রয়েছে। প্রধান অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে স্থিতিশীল সামগ্রিক অর্থনীতি, ব্যক্তি খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ, তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শক্তিশালী অবস্থান, বড় আকারের রেমিট্যান্সের প্রবাহ, কৃষি খাতের অগ্রগতি, সাধারণভাবে স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা (যদিও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষ হয়েছে), সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি সংস্থাগুলোর (এনজিও) অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির বিস্তৃতি।

গুরুত্বপূর্ণ বাহ্যিক কারণের মধ্যে রয়েছে প্রধান রপ্তানি বাজারসমূহে অনুকূল প্রবেশাধিকার, প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোতে কমবেশি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক অবস্থা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল রাজনৈতিক সম্পর্ক, যা বিভিন্ন মাত্রায় আঞ্চলিক এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের ‘দুর্বল’ আর্থিক সংযোগ, যা বাংলাদেশকে গত দশকের শেষ দিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট (গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইসিস) থেকে রক্ষা করেছে।

বাংলাদেশে আড়াই দশক ধরে চলমান প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নপ্রক্রিয়া অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক অবদান রেখেছে এবং অর্থনীতিতে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এখন মৌলিক প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কি গতানুগতিক পথে সামনের দিনগুলোতে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের উপর্যুক্ত লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জন করতে পারবে? উপরন্তু কঠিন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে শুধু অর্থনীতির আকারের তালিকার ওপরের দিকে ওঠা বাংলাদেশের জন্য কতটুকু অর্থ বহন করে? এই উদ্বেগের বাস্তবতা আছে। কারণ, বাংলাদেশ বর্তমানে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে সামগ্রিক অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্যহীনতা, দুর্বল অবকাঠামো, অনুন্নত কর্মপরিবেশ, শ্রমের নিম্ন উৎপাদনশীলতা, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, অতিমাত্রায় অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত দুর্বলতা, হতাশাজনক নিম্নমাত্রার কর-জিডিপির অনুপাত, মন্থর ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ ও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে খুবই উচ্চ অদৃশ্য খরচ।

উপরন্তু বৈশ্বিক পর্যায়ে উদীয়মান ‘নব্য সংরক্ষণবাদের’ কারণে—যার উদাহরণ হচ্ছে ব্রেক্সিট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন—বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থার মধ্যে অনেক অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক নয়। সম্প্রতি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কে অবনতির যে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে, তা বাংলাদেশের সঙ্গে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

প্রথমত, সামগ্রিক ও খাতভিত্তিক উভয় ক্ষেত্রেই অবকাঠামো নির্মাণে বড় আকারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। নীতিনির্ধারকেরা সাধারণভাবে বড় আকারের অবকাঠামোর উন্নতির দিকে আগ্রহী থাকেন। এর বিপদ হচ্ছে যে অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ খাতভিত্তিক অবকাঠামোর উন্নয়ন উপেক্ষিত হয়। ফলস্বরূপ, অর্থনীতি ও রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণের জন্য সহায়ক এ রকম গুরুত্বপূর্ণ অনেক সম্ভাব্য খাতই বড় আকারের অবকাঠামোগত উন্নতির সুবিধা নিতে ব্যর্থ হতে পারে। এটাও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, যদিও অবকাঠামোগত বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য প্রয়োজন, মন্দ, অপরিকল্পিত ও বিলম্বিত অবকাঠামোগত বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য নীতিমালা প্রণয়নপ্রক্রিয়ায় সাহসী ও বাস্তবধর্মী পরিবর্তন প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উন্নতির ধারা কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রবৃদ্ধির ধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। সরকারি হিসাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রবৃদ্ধির হার যথেষ্ট কম। এই অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ, এ রকম একটি ‘কর্মসংস্থান’বিমুখ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নানা রকম অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসাম্য বৃদ্ধি এবং সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে সহায়ক। শ্রমবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর খাতসমূহে কীভাবে আরও বিনিয়োগে আকৃষ্ট করা যায় এবং এ ধরনের বিনিয়োগের বাধাগুলো কীভাবে অপসারণ করা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, দেশের বর্তমান দুর্বল কর-জিডিপি অনুপাতকে (প্রায় ১০ শতাংশ) উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। বিশ্বের সর্বনিম্ন কর–জিডিপি অনুপাতের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বাংলাদেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ (যারা কর দিতে সক্ষম) এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের একটি বৃহৎ অংশ কর আওতার বাইরে। এ ছাড়া দেশের বৃহৎ অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি এবং কর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় শিক্ষার অভাবের মতো কাঠামোগত কারণগুলোও কর সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়।

যদিও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ কর কাঠামোতে কিছু কিছু সংস্কার করেছে। কিন্তু বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও কায়েমি স্বার্থের পক্ষে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এসব সংস্কারের সাফল্য কম। সম্প্রতি মূল্য সংযোজন কর-সংক্রান্ত নতুন আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যর্থতা এর একটি বড় উদাহরণ। অতএব, রাজস্ব নীতিতে কিছু সাহসী পদক্ষেপ এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন, যা কর–ব্যবস্থাকে সরলীকরণ করবে, কর প্রশাসনকে শক্তিশালী করবে এবং কর-ভিত্তির বড় ধরনের সম্প্রসারণ ঘটাবে। এসব কিছুই দেশের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি এবং আনুষ্ঠানিক খাতের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বৃহত্তর সংস্কার কর্মসূচির আওতাধীন হওয়া উচিত।

চতুর্থত, মুদ্রানীতিতেও সাহসী পরিবর্তন প্রয়োজন। যদিও কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি সাধারণভাবে অর্থনীতিতে তথাকথিত স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার জন্য তা বড় ধরনের উদ্যম সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে সম্প্রতি ঋণ কেলেঙ্কারি ও খেলাপি ঋণের বড় উত্থান আর্থিক খাতের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার চিত্রকে প্রকট করেছে। উপরন্তু শুধু সুদের হার কমানো বেসরকারি খাতের ঋণ সম্প্রসারণের জন্য যথেষ্ট নয়। বেসরকারি খাত ব্যবসার পরিবেশবিষয়ক অন্যান্য অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন এবং ওপরে বর্ণিত বৃহত্তর সংস্কার কর্মসূচির আওতায় এসবের সমাধান করা প্রয়োজন।

পঞ্চমত, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ, বিশেষত বিদেশি বিনিয়োগ, আকৃষ্ট করতে দৃশ্যমান ‘সাফল্য’ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দুর্বল অবকাঠামো, প্রতিকূল ব্যবসা পরিবেশ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঝুঁকি বাংলাদেশে দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে কাজ করে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) খুব শিগগির নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে এই প্রকল্পগুলোর সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা বাস্তবে রূপান্তর করার জন্য অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ের কাছ থেকে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাফল্য নিশ্চিত করতে পারে।

ষষ্ঠত, বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশের জন্য দক্ষিণ-দক্ষিণ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা-বিষয়ক অ্যাজেন্ডা আরও বেশি মাত্রায় অনুসরণ করা দরকার। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের মানসিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন প্রয়োজন, যাতে দেশটি এ ধরনের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার আলোচনার ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রায়োগিক সমাধান করার জন্য বাংলাদেশকে সক্রিয়ভাবে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কূটনীতি প্রয়োগে আরও কুশলতা অর্জন করতে হবে।

২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অধীনে সামাজিক ও পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন প্রয়োজন, যেহেতু গতানুগতিক প্রক্রিয়া কোনোভাবেই বাংলাদেশকে এসব লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে না। বোঝা উচিত, কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অধীনে সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত নয়। কার্যকর অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি এবং কর্মসূচির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের উন্নতি প্রয়োজন, যা এখন আগের চেয়ে আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।

ড. সেলিম রায়হান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক।

[email protected]

Prothom-alo: http://bit.ly/2wHMeeM
23/09/2017

অর্থনীতি বিভাগে তিনিই প্রথম 20/09/2017

অর্থনীতি বিভাগে তিনিই প্রথম প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ চালু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শুরুর প্রথম দিকেই। এ বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে এখন দায়িত্ব পালন করছেন ড. নাজমা বেগম। অর্থনীতি বিভাগ চালু হওয়ার ৯৬

Bangladesh’s GDP per person is now higher than Pakistan’s 14/09/2017

East overtakes west: Bangladesh’s GDP per person is now higher than Pakistan’s

WHEN Bangladesh won independence from Pakistan in 1971, it was much poorer than the country it left. Industry accounted for only 6-7% of its GDP, compared with over 20% in Pakistan. The battle for independence had killed or displaced millions, damaged roads and railways, and severed ties with Pakistan’s bankers and industrialists (including the owner of one of the world’s biggest jute mills). Even before the war, Bangladesh had been trampled by another apocalyptic horseman: a cyclone killed hundreds of thousands in 1970. The country’s independence leader, Sheikh Mujibur Rahman, complained that West Pakistan had not promptly shared its bumper wheat crop or “given a yard of cloth for our shrouds”.

Last month revealed a remarkable turnaround. Bangladesh’s GDP per person is now higher than Pakistan’s. Converted into dollars at market exchange rates, it was $1,538 in the past fiscal year (which ended on June 30th). Pakistan’s was about $1,470.

Strange as it may sound, Bangladesh jumped ahead because of an advance in Pakistan. On August 25th Pakistan released the results of its census, updating earlier population estimates. They showed that the country has 207.8m people, more than 9m more than previously thought. It may now have the fifth biggest population in the world, surpassing Brazil’s. But the new count also lopped 4-5% off Pakistan’s GDP per person, the arithmetic consequence of revealing so many more people.

A caveat should be noted. A dollar stretches further in Pakistan than in Bangladesh because prices in the former tend to be lower. So Pakistan’s $1,470 per person actually has more purchasing power than Bangladesh’s $1,538.

This is nonetheless a good moment to celebrate Bangladesh’s economic progress. Its annual growth has averaged more than 6% over the past ten years and has run above 7% over the past two. Industry accounts for 29% of its GDP. A country that once lacked cloth for shrouds now exports more ready-made garments than India and Pakistan combined. Working conditions are still far worse than they should be. They are also far better than they once were.

Bangladesh’s GDP per person received a boost from another source. Its last census, in 2011, led to a large revision of the country’s population, larger even than Pakistan’s. But in Bangladesh’s case, the revision was downwards.

Bangladesh’s GDP per person is now higher than Pakistan’s At market exchanges rates, at least

Photos 31/03/2017

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্রী নাজনীন সুলতানা। লেখাপড়া শেষ করে যখন চাকরিজীবনে প্রবেশের চিন্তা করছেন, সেই মুহূর্তে জীবনের সব হিসাব এলোমেলো হয়ে গেল। গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা গেল, দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে তাঁর। বর্তমানে তিনি শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নাজনীনকে বাঁচাতে জরুরিভিত্তিতে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। এ জন্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা প্রয়োজন। নাজনীনের বাবা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। পরিবারটির পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব। তাই নাজনীন ও তাঁর পরিবার সমাজের সবার কাছে আর্থিক সাহায্য কামনা করেছে।

নাজনীনকে সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা: হিসাব নম্বর ১২৩.১০১.০১৬০.২৯২, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, এলিফ্যান্ট রোড শাখা, ঢাকা। বিকাশ নম্বর ০১৭১০০১৮০৪৫।

Photos 11/01/2016

আমাদের সহপাঠী Rubaiya Murshed ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ-শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ লাভ করেছে। ৯০তম ব্যাচের সকলের পক্ষ থেকে রুবু'কে শুভেচ্ছা। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি :)

Photos 13/12/2015

Happy Birthday to you, Sir.
Many many happy returns of the day and all the best wishes for you.

Syed Naimul Wadood
Associate Professor
Department of Economics
University of Dhaka

Photos 13/12/2015

গত ২০১৪ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে ভোট নিচ্ছেন আমাদের অর্থনীতি বিভাগের দুইজন সম্মানিত শিক্ষক অরণি ম্যাডাম এবং নাজমুল স্যার।

সৌজন্যেঃ Saikat Saha
ছবিঃ bdnews24.com

Photos 25/11/2014

90th signs off! :)

Photos 02/09/2014

Pride of Family!

Photos 13/07/2014

Congratulations Germany The World Cup 2014 Brazil, Champion !

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Dhaka
1200