18/05/2026
বাক্যে নাই, নেই, নি-এর প্রয়োগনীতি সমগ্র
একসময় (২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের পূর্বেও) বাংলা একাডেমির নীতি ছিল: “ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘না, নাই ইত্যাদি ‘না-বাচক’ শব্দ যুক্ত হলে তা
পৃথক বসবে। যেমন: যাব না, খাব না, পাব না, হাসি না, দেখি নাই, বলি নাই, দেখি না, মারি না।” ‘নেই’ শব্দের চলিতরূপ ‘নি’। আনন্দবাজার অনুসৃত বাংলা বানান বিধিতে ক্রিয়াপদের সঙ্গে ‘নেই’ শব্দের চলিত রূপ ‘নি’ সংশ্লিষ্ট শব্দের সঙ্গে সেঁটে বসানোর পক্ষে বলা হয়েছে । কিন্তু বাংলা একাডেমী পৃথক বসানোর পক্ষে।
২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের পূর্ব পর্যন্ত বাংলা একাডেমীর এ নীতি বহাল ছিল। হঠাৎ একদিন বাংলা একাডেমির নজর পড়ল আনন্দবাজার অনুসৃত নীতির দিকে। সঙ্গে সঙ্গে বাংলা একাডেমি ‘নি’-কে শব্দের সঙ্গে সেঁটে লেখার ফরমান জারি করে দিল। যেমন: খাননি, দেননি, পাননি, বলিনি, খেলিনি ইত্যাদি।
না ও নি লেখার আধুনিক প্রমিত নিয়ম: না-বাচক 'না' এবং 'নি' এর প্রথমটি (না) স্বতন্ত্র এবং দ্বিতীয়টি (নি) সমাসবদ্ধ পদ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। যেমন : করি না, কিন্তু করিনি।
এছাড়া শব্দের পূর্বে না-বাচক উপসর্গ 'না' উত্তরপদের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। যেমন: নাবালক, নাহক, নারাজ ইত্যাদি। অর্থ পরিস্ফুট করার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুভূত হলে 'না' এর পরে হাইফেন ব্যবহার করা যাবে। যেমন : না-গোনা পাখি, না-বলা বাণী, না-শোনা কথা। (বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম। সংস্করণ -২০১৬ খ্রি.)।
অতএব, এখন প্রমিত হলো: খাননি, যাননি, বসেননি, বলেননি, করেননি, দেখেননি, চাননি, পাননি, বলিনি, করিসনি। কিন্তু ‘নাই’ হলে লিখতে হবে: লিখি নাই, করি নাই, বলি নাই, দেখি নাই, যাই নাই, দেখ নাই, লেখ নাই, করিস নাই, বলিস নাই ইত্যাদি।