03/11/2025
লেখাটি শুরু করি একটি বাস্তব প্রশ্ন দিয়ে – আপনি কি কখনো নিজের বাড়ির মধ্যে থেকেই অবহেলিত, ভুল বোঝাবুঝি বা হ্যারেজ হয়েছেন?
অনেকেই হয়তো বলবেন, “পরিবার মানেই ভালোবাসার জায়গা, মা-বাবা কখনো সন্তানের খারাপ চান না।” ঠিক কথা। কিন্তু বাস্তবতা একটু অন্যরকমও হতে পারে। প্রতিদিন হাজারো সন্তান এমন এক মানসিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যায়, যেখানে তারা পরিবারের ‘সাইলেন্ট পলিটিক্স’-এর শিকার হয়ে পড়ে। এ এক অদৃশ্য খেলা—মাইন্ড গেম, যা বাবা-মা নিজেরাও অনেকে বুঝে খেলেন, আবার অনেকে না বুঝেই।
বিশ্বাস করুন, পৃথিবীর সবচেয়ে ক'ষ্ট'দায়ক যু*দ্ধটা হয় তখন, যখন আপনাকে লড়তে হয় তাদের বিরুদ্ধেই, যাদের ছায়া হয়ে থাকার কথা ছিল সবসময়।
একটা প্রশ্ন অনেকেই করেন, বাবা-মায়েরা কি ভুল করেন না?
সমাজের চিরাচরিত ধারণা আছে, “মা-বাবা সবসময় ঠিক, সন্তানেরই ভুল।” কিন্তু এই ধারণা শতভাগ সঠিক নয়। বয়সের ভারে মানসিক পরিণতিও বাড়ে, কিন্তু ভুল করার প্রবণতা তো শেষ হয় না। দুঃখের বিষয়, এই সমাজ সন্তানকে খুব সহজেই দোষী বানিয়ে দেয়, কিন্তু বাবা-মায়ের আচরণ প্রশ্নবিদ্ধ হলে চুপ করে যায়।
ভার্বাল অ্যাবিউজ, সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট, এক সন্তানকে তোল্লাই দেওয়া, আরেকজনকে নীচে নামানো—এই চিরপরিচিত খেলা বহু পরিবারেই প্রতিদিন চলতে থাকে।
অনেক বাবা মায়ের কাছে যে সন্তান মাথা নিচু করে সবকিছু মেনে নেয়, সবার মন রক্ষা করে—সে হয়ে ওঠে আদর্শ সন্তান। আর যে প্রতিবাদ করে, নিজের জায়গা থেকে অন্যায়ের বিরোধিতা করে—সে হয় “অহংকারী”, “অসহিষ্ণু”, এমনকি “অযোগ্য”। অথচ এর পেছনে কত আবেগ, কত সহ্য, কত অবহেলার ক্ষত জমে থাকে, তা কেউ জানে না।
মা-বাবার সামনে “সেরা সন্তান” তৈরি করতে গিয়ে অন্য সন্তানের ইমেজ ধ্বংস করা হয়—ইচ্ছে করে হোক বা অজান্তে। একসময় সেই সন্তানটি নিজেকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে নেয়। মানসিকভাবে দূরে সরে যায়, কারণ আত্মমর্যাদার প্রয়োজন হয়। আর তখনই শুরু হয় "তুমি তো কিছুই করো না"- টাইপ অপমান।
মা-বাবা সন্তানের জীবনের প্রথম পথপ্রদর্শক, সঠিক হলে আশীর্বাদ; ভুল হলে, জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ। সবার জীবনে এমন ভাগ্য থাকে না যে, সে সহানুভূতিশীল, মানসিকভাবে পরিপক্ক মা-বাবা পাবে।
কখনো কখনো মা-বাবার ভেতরে জমে থাকা অতৃপ্তি, হীনমন্যতা, বা কারো প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব সন্তানের জীবনের দিক পরিবর্তন করে দেয়। সম্পর্কের ভিত নড়ে যায়, সন্তানের আত্মবিশ্বাস চূর্ণ হয়, তারা নিজেদের অসফল ভাবতে শুরু করে।
তবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে—পৃথিবীতে সবচেয়ে স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক জীবনসঙ্গীর সঙ্গে। যিনি পাশে দাঁড়ান, বুঝতে চান, আগলে রাখেন—তিনি-ই প্রকৃত বন্ধু, পরিবার, আশ্রয়। যদি সঠিক মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া যায়, তবে পুরো পৃথিবীটাই যেন আপন হয়ে ওঠে।
আর যদি না পাওয়া যায়? তাহলে কপালের দোষ। তখন জীবন হয়ে পড়ে এক নিঃসঙ্গ লড়াই।
তবে, সব মা-বাবা খারাপ নয়, যেমন সব সন্তানও দুশ্চরিত্র নয়। কিন্তু আমাদের সমাজে একপাক্ষিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বহু সন্তান মানসিকভাবে ক্ষ'ত-বি'ক্ষত হয়ে বেড়ে ওঠে। অভিভাবকত্ব একটা দায়িত্ব, সেটা শুধুই জন্মদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর সন্তানেরাও মানুষ, তাদেরও সম্মান, অনুভব, মনের জায়গা আছে।
নিজের সন্তানের আত্মসম্মান ভাঙলে, সে একদিন আপনাদের আর মনে রাখবে না—যতই আপনি তার জন্য গর্বের গল্প বলেন না কেন।
09/10/2024
09/10/2024
07/10/2024
07/10/2024