বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি

বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি, Dhaka.

08/09/2024

জাতীয় সঙ্গীত 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের' কোন কবিতার অংশ বিশেষ?

08/09/2024

I gained 22 followers and received 3 reactions in the past 90 days! Thank you all for your continued support. I could not have done it without you.

28/04/2024

এই গরমে খাবার স্যালাইন খাচ্ছেন? প্রাণঘাতী হতে পারে খাবার স্যালাইন!
শরীরে পানি স্বল্পতার কোন লক্ষণ না থাকলে খাবার স্যালাইন, উচ্চরক্তচাপ বৃদ্ধি করবে, এবং অতিরিক্ত লবণ কিডনি ফেইলর করবে! এমন কি মৃত্যুও হতে পারে!
(জনস্বার্থে পোস্টটি শেয়ার করুন)

05/04/2024

"চাকা" গ্রন্থটির রচয়িতা কে?

16/08/2022

বাংলাদেশের সংবিধান। মান -০৩

★বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার উপর লেখা আছে -বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম!
★প্রস্তাবনা অনুযায়ী বাংলাদেশর সংবিধান প্রথম গৃহীত হয় -১৯৭২ সালে।
★সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের পার্লামেন্ট -এক কক্ষ বিশিষ্ট।
★সংবিধানে মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে -২৭ থেকে ৪৪ নং অনুচ্ছেদে।
★সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হয় -দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যের সম্মতিতে।
★গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সবোর্চ্চ আইন- সংবিধান।
★ বাংলাদেশ সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য -১২টি।
★বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ রয়েছে -১৫৩ টি।
★বাংলাদেশ সংবিধানের মূলনীতি -৪টি।
★বাংলাদেশ সংবিধানের ভাগ রয়েছে -১১ টি।

07/08/2022

| সাইকোলজি টেস্ট | যেকোনো তিনটি বেছে নিনঃ---
শিক্ষা, টাকা, সম্পদ, সুখ, ক্ষমতা, সুস্বাস্থ্য, মেধা, সুন্দর পার্টনার।

16/10/2020

এই দেশের নাম বাংলাদেশ রাখার পেছনে রয়েছে হাজার বছরের ইতিহাস। কীভাবে এই দেশের নাম বাংলাদেশ রাখা হল - এ বিষয়টিকে ইতিহাসের কয়েকটি পরিক্রমায় ভাগ করে বিশ্লেষণ করেন ইতিহাসবিদরা।

বিবিসি বাংলার সাথে আলাপকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেনও "বাংলাদেশ" শব্দের উৎপত্তিগত ব্যাখ্যা দেন।

যেখানে "বাংলা" শব্দের উৎপত্তি হয়েছে সংস্কৃত শব্দ "বঙ্গ" থেকে। আর্যরা "বঙ্গ" বলে এই অঞ্চলকে অভিহিত করতো বলে ইতিহাস থেকে জানা যায়।

তবে বঙ্গে বসবাসকারী মুসলমানরা এই "বঙ্গ" শব্দটির সঙ্গে ফার্সি "আল" প্রত্যয় যোগ করে। এতে নাম দাঁড়ায় "বাঙাল" বা "বাঙ্গালাহ্"।

"আল" বলতে জমির বিভক্তি বা নদীর ওপর বাঁধ দেয়াকে বোঝাতো।

ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের উদ্ধৃতি দিয়ে সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, "মুসলমান শাসনামলে বিশেষ করে ১৩৩৬ থেকে ১৫৭৬ সাল পর্যন্ত সুলতানি আমলে এবং ১৫৭৬ সালে মোঘলরা বাংলা দখল করার পরে এই অঞ্চলটি বাঙাল বা বাঙালাহ নামেই পরিচিতি পায়।"

তবে বাংলা, বাঙাল বা দেশ - এই তিনটি শব্দই ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে। কোনটিই বাংলা শব্দ নয়।

এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজারা দখলদারিত্বের সময় এই বাংলাকে বিভিন্ন নাম দেন।

শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলাও বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, আসামের মতো কয়েকটি প্রেসিডেন্সি নিয়ে নাম দিয়েছিলেন "বঙ্গ"।

ব্রিটিশ শাসনামলে এই অঞ্চলের নাম হয় বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি।

এরপর ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় গোটা বাংলায় একটা প্রশাসনিক বিভাজন হয়। বাংলার পশ্চিম অংশ হয়ে যায় পশ্চিম বঙ্গ এবং পূর্ব অংশ হয়ে যায় পূর্ব বাংলা।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন অবসানের পর ১৯৪৭ সালে বঙ্গ-প্রদেশ ভারত ও পাকিস্তানে বিভক্ত হল। সে সময় পাকিস্তানিরা পূর্ব বাংলার নাম দিতে চাইলো পূর্ব পাকিস্তান।

কিন্তু এ নিয়ে সেই সময় থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায় বাংলা।

এরপর ১৯৫৭ সালে করাচীতে পাকিস্তানের গণপরিষদের তরুণ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান বক্তৃতা দেয়ার সময় "পূর্ব পাকিস্তান" নামটির প্রতিবাদ করে বলেন যে, পূর্ব বাংলা নামের একটি ইতিহাস ও ঐতিহ্য আছে।

"আর যদি পূর্ব পাকিস্তান নাম রাখতেই হয়, তাহলে বাংলার মানুষের জনমত যাচাই করতে হবে। তারা নামের এই পরিবর্তন মেনে নিবে কিনা - সেজন্য গণভোট নিতে হবে।"

তারপর ১৯৬২ সালে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে নিউক্লিয়াস নামে ছাত্রলীগের একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা পায়। যারা স্বাধীনতার পক্ষে চিন্তাভাবনা করতো। তারা এই অঞ্চলকে বলতেন স্বাধীন পূর্ব বাংলা।

এরপর আসে ১৯৬৯ সাল। শুরু হয় আইয়ূব পতন আন্দোলন। সেসময় গণঅভ্যুত্থানে স্লোগান দেয়া হয় "বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।"

ইতিহাস অনুযায়ী, ওই প্রথম পূর্ব বাংলাকে "বাংলাদেশ" নামে অভিহিত করা হয়।

পরে ১৯৬৯ সালের ৫ই ডিসেম্বর গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, "আমাদের স্বাধীন দেশটির নাম হবে বাংলাদেশ"।

ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করেন। পরে শেখ মুজিবুর রহমান "বাংলাদেশ" নামটি প্রস্তাব করলে তাতে সবাই একবাক্যে সায় দেন।

এই নাম দেয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, ১৯৫২ সালে সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বাংলা ভাষা থেকে "বাংলা", এরপর স্বাধীন দেশের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে দেশ। এই দুটো ইতিহাস ও সংগ্রামকে এক করে "বাংলাদেশ" নামকরণ করা হয়।

এরপরও নথিপত্র-গুলোয় পূর্ব পাকিস্তান লিখতে হলেও কেউ মুখে পূর্ব পাকিস্তান উচ্চারণ করতেন না। সবাই বলতেন বাংলাদেশ।

সেই থেকে এই দেশকে আর কেউ পূর্ব পাকিস্তান বলেনি। সবাই বাংলাদেশ হিসেবেই মনে-প্রাণে স্বীকৃতি দিয়েছিল বলে জানান ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

তারপর মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতার যে ঘোষণা প্রচার করে - তাতেও বলা হয় এই দেশটির নাম হল "বাংলাদেশ"।

এরপর ১৯৭২ এর চৌঠা নভেম্বর যখন প্রথম সংবিধান প্রণীত ও গৃহীত হয় সেই সময়ও দেশটির সাংবিধানিক নাম দেয়া হয় "বাংলাদেশ"।

এছাড়া উনিশ শতকের সাহিত্যে অবিভক্ত বাংলাকে "বঙ্গদেশ" বা "বাংলাদেশ" বলা হতো।

বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্যে "বঙ্গদেশ" শব্দের উল্লেখ আছে। কাজী নজরুল ইসলাম তিরিশের দশকে তার কবিতায় "বাংলাদেশ" নামটি ব্যবহার করেছেন। আবার সত্যজিতের চলচ্চিত্রেও উচ্চরিত হয়েছে "বাংলাদেশ" নামটি।

অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলাকে আখ্যায়িত করেছেন "সোনার বাংলা" বলে আর জীবনানন্দ দাস বলেছেন "রূপসী বাংলা"।



বিবিসি অবলম্বনে

নুরুল ইসলাম

06/10/2020

আসুন পরিচয় হই..... আমি 13 নাম্বারে ! আপনি??

1. Chittagong (চিটাগাং)
2. Bandarban (বান্দরবন)
3. Barguna (বরগুনা)
4. Barisal (বরিশাল)
5. Bagerhat (বাগেরহাট)
6. Bhola (ভোলা)
7. Brahmanbaria (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
8. Chandpur (চাঁদপুর)
9. Sylhet (সিলেট)
10. Chuadanga (চুয়াডাঙ্গা)
11. Comilla (কুমিল্লা)
12. Cox's Bazar (কক্সবাজার)
13. Dhaka (ঢাকা)
14. Dinajpur (দিনাজপুর)
15. Faridpur (ফরিদপুর)
16. Feni (ফেনী)
17. Gaibandha (গাইবান্ধা)
18. Gazipur (গাজীপুর)
19. Gopalganj (গোপালগঞ্জ)
20. Habiganj (হবিগঞ্জ)
21. Jaipurhat (জয়পুরহাট)
22. Jamalpur (জামালপুর)
23. Jessore (যশোর)
24. Jhalakathi (ঝালকাঠী)
25. Jhinaidah (ঝিনাইদাহ)
26. Khagrachari (খাগড়াছড়ি)
27. Khulna (খুলনা)
28. Kishoreganj (কিশোরগঞ্জ)
29. Kurigram (কুড়িগ্রাম)
30. Kushtia (কুষ্টিয়া)
31. Lakshmipur (লক্ষ্মীপুর)
32. Lalmonirhat (লালমনিরহাট)
33. Madaripur (মাদারীপুর)
34. Magura (মাগুরা)
35. Manikganj (মানিকগঞ্জ)
36. Meherpur (মেহেরপুর)
37. Moulavibazar (মৌলভীবাজার)
38. Munshiganj (মুন্সীগঞ্জ)
39. Mymensingh ( ময়মনসিংহ)
40. Naogaon (নওগাঁ)
41. Narayanganj (নারায়ণগঞ্জ)
42. Narsingdi (নরসিংদী)
43. Natore (নাটোর)
44. Nawabgonj (নওয়াবগঞ্জ)
45. Netrokona (নেত্রকোনা)
46. Nilphamari (নীলফামারী)
47. Noakhali (নোয়াখালী)
48. Norail (নড়াইল)
49. Pabna (পাবনা)
50. Panchagarh (পঞ্চগড়)
51. Patuakhali (পটুয়াখালী)
52. Pirojpur (পিরোজপুর)
53. Rajbari (রাজবাড়ী)
54. Rajshahi (রাজশাহী)
55. Rangamati (রাঙ্গামাটি)
56. Rangpur (রংপুর)
57. Satkhira (সাতক্ষীরা)
58. Shariyatpur (শরীয়তপুর)
59. Sherpur (শেরপুর)
60. Sirajgonj (সিরাজগঞ্জ)
61. Sunamganj (সুনামগঞ্জ)
62. বগুড়া
63.Thakurgaon(ঠাকুরগাঁও)
64.Tangail( টাঙ্গাইল)
65. Benapole ( বেনাপোল)

16/07/2020

সিরাজউদ্দৌলার শেষ সময়
'আ হিস্ট্রি অব দা মিলিটারি ট্র্যান্স্যাকশনস্ অব দা ব্রিটিশ নেশন ইন ইন্দোস্তান' বইতে রবার্ট ওরমে বর্ণনা দিয়েছেন সেই দিনটার।

"পদচ্যুত নবাবকে মাঝ রাতে হাজির করা হল মীর জাফরের সামনে। ওই রাজমহলেই কদিন আগেও বাস করতেন সিরাজউদ্দৌলা। মীর জাফরের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁপতে কাঁপতে প্রাণভিক্ষা করেছিলেন সিরাজউদ্দৌলা। সেপাইরা মহলের অন্য দিকে নিয়ে গেল সিরাজউদ্দৌলাকে। ওদিকে মীর জাফর তার পারিষদদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে কী করা উচিত, তা নিয়ে।

"তাদের কাছে তিনটে পথ খোলা ছিল: হয় তাকে মুর্শিদাবাদেই বন্দী করে রাখা হোক, অথবা দেশের বাইরে অন্য কোথায় কয়েদ করা হোক। তৃতীয় বিকল্প ছিল প্রাণদণ্ড। অনেকেই চেয়েছিলেন সিরাজকে বন্দী করে রাখতে। কিন্তু মীর জাফরের ১৭ বছর বয়সী পুত্র মীরান কড়া বিরোধিতা করেছিলেন। মীর জাফরের নিজস্ব কোনও মতামত ছিল না," লিখেছিলেন রবার্ট ওরমে।

তারপরের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন ইতিহাসবিদ সুদীপ চক্রবর্তী, সম্প্রতি প্রকাশিত তার বই 'প্ল্যাসি: দা ব্যাটল দ্যাট চেঞ্জড দা কোর্স অব ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি'তে।

মীর জাফর যেহেতু নিজস্ব কোনও মতামত দেননি সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে কী করা হবে, তাই "মীরান সেটাকেই বাবার সম্মতি বলে ধরে নিয়েছিল," লিখছেন সুদীপ চক্রবর্তী।

তিনি ওই বইতে লিখেছেন, "সে তার বাবাকে বলল আপনি এখন বিশ্রাম নিন। আমি এদিকটা সামলে নেব। মীর জাফর ভাবলেন কোনও হিংসাত্মক কিছু নিশ্চয়ই হবে না। তিনি অনেক রাতে দরবার শেষ করে শয়নকক্ষে চলে যান।"

সৈয়দ গুলাম হুসেইন খানের বইতেও এর পরের ঘটনাক্রম পাওয়া যায়।

মীর জাফরের বাড়ি 'নমক হারাম দেওড়ি'র প্রবেশপথ
তলোয়ার আর ছুরি দিয়ে হত্যা করা হল সিরাজকে

"মীরান তার এক সাথী মোহাম্মদী বেগ-কে দায়িত্ব দিল সিরাজউদ্দৌলাকে হত্যা করার। মোহম্মদী বেগের আরেকটা নাম ছিল লাল মোহম্মদ। মীরান তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে যখন সিরাজউদ্দৌলার কাছে গেল, তখনই সিরাজ বুঝে গিয়েছিলেন কী হতে চলেছে এরপর।

"তিনি আবেদন করলেন মেরে ফেলার আগে যেন তাকে ওজু করে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। নিজেদের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করার তাগিদে হত্যাকারীরা সিরাজের মাথায় এক ঘড়া পানি ঢেলে দেয়। তিনি যখন বুঝলেন যে ঠিকমতো তাকে ওজু করতে দেওয়া হবে না, তখন তিনি খাওয়ার জন্য একটু পানি দিতে বললেন," লিখেছেন সৈয়দ গুলাম হুসেইন খান।

"ঠিক তখনই মোহাম্মদী বেগ ছুরি দিয়ে সিরাজের ওপরে প্রথম আঘাতটা হানলেন। ছুরির আঘাত হানা হতেই বাকিরা তলোয়ার দিয়ে হামলা চালাল সিরাজের ওপরে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের কাজ শেষ হল। মাথাটা ঝুঁকে পড়ল সিরাজের, তিনি গড়িয়ে পড়লেন," নিজের বইতে লিখেছেন রবার্ট ওরমে।

তখন সিরাজউদ্দৌলার বয়স ছিল মাত্র ২৫ বছর।

মরদেহ হাতির পিঠে চাপিয়ে ঘোরানো হল গোটা শহর
পরের দিন সিরাজউদ্দৌলার ক্ষত-বিক্ষত দেহ হাতির পিঠে চাপিয়ে মুর্শিদাবাদের অলি-গলি, বাজারে ঘোরানো হয়েছিল।

যেন সকলের কাছে প্রমাণ করার চেষ্টা যে সিরাজ পরাজিত।

সৈয়দ গুলাম হুসেইন খান এই বর্বরতার কথা জানাতে গিয়ে লিখছেন, "সেই বীভৎস শবযাত্রার মধ্যেই মাহুত জেনে বুঝেই হুসেইন কুলি খাঁয়ের বাসভবনের সামনে মৃতদেহ বহনকারী হাতিটিকে দাঁড় করাল। দু'বছর আগে ওই হুসেইন কুলি খাঁকে হত্যা করেছিলেন সিরাজ।

"এখন তার মৃতদেহ থেকেও কয়েক ফোঁটা রক্ত রাস্তায় গড়িয়ে পড়ল, যেখানে হুসেইন কুলি খাঁকে হত্যা করা হয়েছিল।"

মীরানের নিষ্ঠুরতা কিন্তু ওখানেই শেষ হয়নি।

কিছুদিনের মধ্যেই সে আলিবর্দি খানের বংশের সব নারীদের হত্যা করেছিল।

পলাশীর যুদ্ধ নিয়ে লেখা সুদীপ চক্রবর্তীর বইয়ের প্রচ্ছদ
সিরাজের স্ত্রী লুৎফ-উন-নিসা মীর জাফরকে বিয়ে করতে অস্বীকার করলেন

করম আলি 'দা মুজফ্ফরনামা অব করম আলি' গ্রন্থে আলিবর্দি খানের বংশের সব নারীদের হত্যা করার বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, "প্রায় ৭০ জন নিরপরাধ বেগমকে একটি নৌকায় চাপিয়ে মাঝ-গঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হয় ,আর সেখানেই নৌকাটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়। সিরাজউদ্দৌলার বংশের বাকি নারীদের বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়।

"নৌকাডুবি আর বিষ খাইয়ে যাদের হত্যা করা হল, সবাইকে একই সঙ্গে নদীর ধারেই খুশবাগ নামের একটি বাগানে দাফন করা হয়েছিল।"

শুধু একজন নারীকে মেরে ফেলা হয়নি।

তিনি ছিলেন সিরাজউদ্দৌলার অসাধারণ সুন্দরী স্ত্রী লুৎফ-উন-নিসা।

মীর জাফর আর তার ছেলে মীরান - দুজনেই তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন।

করম আলি লিখছেন, "লুৎফ-উন-নিসা বাবা আর ছেলে - দু'জনের প্রস্তাবই এই বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যে, প্রথমে হাতির পিঠে চড়েছি, এখন গাধার পিঠে চাপা সম্ভব নয়।"

পলাশী যুদ্ধের স্মৃতিসৌধে সিরাজউদ্দৌলার ভাস্কর্য
মীর জাফরের পতন
পলাশীর যুদ্ধের বছরখানেকের মধ্যেই মীর জাফরের তেজ ধীরে ধীরে নিভে আসতে শুরু করে।

কিছুদিন আগেও যে ক্লাইভ মীর জাফরের হয়ে কথা বলতেন, তিনিও তাকে 'দা ওল্ড ফুল' বা 'বোকা বুড়ো' বলে, আর তার ছেলে মীরানকে 'আ ওয়ার্থলেস ডগ' বা 'বেকার কুকুর' বলে উল্লেখ করতে থাকেন।

আলস্য, অক্ষমতা আর আফিমের নেশা মীর জাফরকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল।

১৭৫৮ সালের ১১শে নভেম্বর ক্লাইভ জন পিনকে লেখা এক চিঠিতে বলছেন, "যে ব্যক্তিকে আমি মসনদে বসিয়েছিলাম, সে অহঙ্কারী, লোভী আর কথায় কথায় গালিগালাজ করা এক লোকে পরিণত হয়েছে। তার এই ব্যবহারের জন্য নিজের প্রজাদের কাছ থেকেই সে দূরে সরে যাচ্ছে।"

ক্লাইভ ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার আগে অবধি মীর জাফর তার সৈন্যদের ১৩ মাসের বকেয়া বেতনের মাত্র তিনটে কিস্তি দিতে পেরেছিলেন। বেতন না পেয়ে সৈনিকরাও ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছিল।

স্যার পেন্ডেরল মুন তার বই 'ওয়ারেন হেস্টিংস অ্যান্ড ব্রিটিশ ইন্ডিয়া' গ্রন্থে লিখেছেন, মীর জাফরের বাহিনীর ঘোড়াগুলোর অস্থিচর্মসার হয়ে পড়েছিল আক্ষরিক অর্থেই। তাদের শরীরের হাড় গোনা যেত। সেগুলোর পিঠে যারা চাপত, তাদের অবস্থা সামান্য উন্নত ছিল। এমনকি জমাদাররাও (অফিসার পদের নাম) ছেঁড়া ফাটা পোশাক পড়তে বাধ্য হতেন।

পলাশীর যুদ্ধের তিন বছরের মধ্যেই ভারতের অন্যতম ধনী শহর মুর্শিদাবাদ দুস্থ হয়ে পড়ল।

পলাশীর প্রান্তর, এখানেই হয়েছিল পলাশীর যুদ্ধ
বাংলার সর্বনাশ করে দিয়েছিলেন মীর জাফর
এই পরিণতির জন্য মীর জাফর অনেকাংশেই দায়ী।

গুলাম হুসেইন খান লিখছেন, "সব সময়েই দামী গয়না-জহরত পড়ার একটা শখ ছিল মীর জাফরের। কিন্তু নবাব হওয়ার পরেই নানা রত্ন-খচিত ছয়-সাতটা গয়না পড়তে শুরু করেছিলেন তিনি। গলায় তিন-চারটে মুক্তোর মালা থাকতো সবসময়েই। তার গান শোনা চাই আর নারীদের নাচ দেখা চাই।"

কিছুদিনের মধ্যেই মানুষ বুঝতে পারল যে বাংলা শাসন করার ক্ষমতা মীর জাফরের নেই। তার আচার ব্যবহার একজন অশিক্ষিত আরব সৈন্যর মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিল, যার রাজ্য সামলানোর কোনও দক্ষতাই ছিল না।

স্যার প্যান্ডেরল মুন তার বই 'দা ব্রিটিশ কনকোয়েস্ট অ্যান্ড ডমিনিয়ন অব ইন্ডিয়া' বইটিতে লিখেছেন: "ক্লাইভ ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার জাহাজে ওঠার আগে বলেছিলেন, মীর জাফরের শাসন করার কোনও ক্ষমতাই নেই। প্রজাদের ভালবাসা আর বিশ্বাস জয় করতেও সে অক্ষম। তার কুশাসন বাংলাকে অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।"

তিনশো'র বেশি হত্যা করেছিল মীরান

একদিকে যখন মীর জাফরের রাজ্য শাসনে অক্ষমতা পরিষ্কার হচ্ছে, তখন তার ছেলে মীরান নিষ্ঠুরতা চালিয়েই গেছে।

দয়া বা ঔদার্য - এই শব্দগুলো তার অভিধানে ছিলই না। তার সবথেকে বড় চিন্তা ছিল আলিবর্দি খানের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে - যাতে ভবিষ্যতে কোনওদিন বিদ্রোহের কোনও সম্ভাবনাও না থাকে।

গুলাম হুসেইন খান লিখছেন: "আলিবর্দি খানের পুরো হারেম নদীতে ডুবিয়ে তো দিয়েইছিল মীরান, তারপরে তার নজর পড়ে সিরাজের সবচেয়ে কাছের পাঁচ আত্মীয়ের পরিবারের দিকে। সিরাজের ছোটভাই মির্জা মেহেদীকে দুটো কাঠের তক্তার মাঝে রেখে পিষে মেরেছিল মীরান। ওই হত্যাকাণ্ডের যুক্তি হিসাবে সে বলেছিল সাপ মারার পরে তার বাচ্চাদের বাঁচিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।"

"সিরাজউদ্দৌলার পরিবারের যতজন সদস্যকে সে হত্যা করেছিল, তার একটা তালিকা সে নিজের কাছে রাখত। খুব কম সময়ের মধ্যেই সেই তালিকায় নামের সংখ্যা ৩০০-রও বেশি হয়ে গিয়েছিল," লিখছেন গুলাম হুসেইন খান।

তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা আর আগের প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মীরানকে রাজপ্রাসাদের প্রধান ফটকের কাছেই হয় ছুরি দিয়ে হত্যা করেছিল, বা বিষ খাইয়ে মেরেছিল।

ওয়ারেন হেস্টিংস যখন সিরাজের পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যার ঘটনাগুলো শুনলেন, তারপরে তিনি কলকাতায় পাঠানো এক চিঠিতে লিখেছিলেন: "এই পাশবিক হত্যাকারী যা করেছে, তার পক্ষে কোনও যুক্তি-তর্কই টেকে না।

"আমি এই কথা বলার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী, কিন্তু তবুও বলছি, এরকম একজনকে আমাদের সমর্থন করা কোনওভাবেই সঠিক হবে না।"

বিবিসি অবলম্বনে....

15/07/2020

সজিবতা

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Culinary Team

Attire

Telephone

Address


Dhaka
1000