Password-পাসওয়ার্ড

Password-পাসওয়ার্ড

Share

PASSWORD-পাসওয়ার্ড
~Your secret of success...! Founder and Chief instructor: Md. Kamrul Hasan, Dept. of F&T (9th batch), Jagannath University, Dhaka
01627312889

04/03/2026

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিশেষায়িত বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা ২৫-২৬ এর প্রশ্ন।

01/06/2025

এইচএসসি অর্থনীতি প্রথম পত্র প্রথম অধ্যায়
পর্ব: ০১
ইন্সট্রাক্টর: মোঃ কামরুল হাসান,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

03/05/2025

ভাইবা অভিজ্ঞতা:

ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল।
ক্যান্ডিডেট: মো: কামরুল হাসান, পজিশন: ১০ তম।

বোর্ডে মোট ৬ জন বিজ্ঞ সদস্য ছিলেন। তিনজন ম্যাম এবং ৩ জন স্যার ছিলেন। আমি যথারীতি প্রবেশের অনুমতি নিলাম। সবার সাথে আই কন্টাক্ট রেখে সালাম দিলাম। মনোজ প্রামানিক স্যার ছিলেন। উনি বসতে বললেন।

মনোজ স্যার: আপনার নাম মোঃ কামরুল হাসান?
আমি: জি, স্যার।
বাড়ি কোথায়?
আমি: স্যার, নোয়াখালী, সুবর্ণচর।

রুমে ডিন স্যার আসছেন এমন খবর পেয়ে স্যাররা সবাই উঠে যায় উনাকে এগিয়ে আনতে, আমিও উনাদের সাথে দাঁড়িয়ে যাই। উনারা আসার আগ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে ছিলাম। ডিন স্যার সহ আসার পর একজন ম্যাম, “একি, আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কেন? বসেন”।

আমি বসলাম।

দুই/তিন মিনিট উনারা গল্প করেছেন নিজেরা। এরপর গ্রুপ ছবি তুলেছেন। ডিন স্যারকে অন্যন্য স্যাররা বলেছেন আমাকে প্রশ্ন করতে, উনি বলেছেন, “না আপনারাই করুন।”

আমি বসে আছি।

ছবি তোলার সময় মনোজ প্রামানিক স্যার আমাকে ইশারায় বলেছেন, “সরি ভাই, একটু বসুন। একটু পরেই শুরু করবো।”
আমি: (মৃদু হেসে) জি, ঠিকাছে স্যার।

আমাকে বসিয়ে রেখে উনারা গল্প করছেন, ছবি তুলছেন, তাই স্যার আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তবে সব স্যার ম্যাম আমার দিকে দৃষ্টি রাখছেন। বডি ল্যাঙ্গুয়েজ খেয়াল করছেন।

এরপর ডিন স্যার চলে যান। আমার ভাইবা শুরু হয়। আমার অভিজ্ঞতার কাগজপত্র, সনদ দিয়েছি। সেগুলো সবাই দেখছেন।

মনোজ স্যার: আচ্ছা, আপনি কেন ফিল্মে পড়তে চান?

আমি: স্যার ফিল্ম মিডিয়া সম্পর্কিত শৈল্পিক সকল অনুষঙ্গে আমার প্রবল আগ্রহ। বিশেষ করে অভিনয়।

স্যার: এই ডিপার্টমেন্টেতো অভিনয় শেখানো হয়না। আপনার অভিজ্ঞতা দেখে মনে হচ্ছে আপনি অভিনয় ভাল পারবেন। আপনি বরং থিয়েটারে ভর্তি হতে পারেন। সেটা সবচেয়ে বেশি ভাল হবে। থিয়েটারে ভাইবা দিয়েছেন?

আমি: না, স্যার। এটা শেষ করে দেব।

স্যার: আচ্ছা।

আরেকজন স্যার: আপনি বলছেন অভিনয়টাতেই বেশি আগ্রহী, এখানেতো ফিল্ম বানানো বেশি ফোকাস করা হয়।

আমি: স্যার অভিনয় ছাড়াও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হতে চাই। সংবাদ উপস্থাপনা, সাংবাদিকতায়ও বেশ আগ্রহ আছে স্যার। আমি আশা করি এ বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেলে আমি নিজেকে বিকশিত করতে পারব।

একজন ম্যাম: আচ্ছা, ৯০ দশকের কয়েকটা চলচ্চিত্রের নাম বলুন।
আমি: দুঃখিত, স্যার। জানা নেই। (ঈষৎ লজ্জার হাসি মুখে বলেছি)

ম্যাম: চেষ্টা করুন, মনে করে দেখুন।

আমি: ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ বলেছি।

ম্যাম: এটা কি নব্বয়ের দশকের?

আমি: চুপ করে আছি। যেহেতু জানিনা। সরি বলেছি।

আরেকজন ম্যাম: আপনিত সেকেন্ড টাইমার। ভর্তি আছেন কোথায়?

আমি: স্যার, নোয়াখালী সরকারি কলেজে, বাংলা বিভাগ। [উল্লেখ্য, আমি মূলত জগন্নাথে ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগে ভর্তি ছিলাম। সেটা বললে আমাকে বিবেচনা করতেন না। সঙ্গীতের ভাইবায় মুখ ফশকে বলে ফেলেছি জগন্নাথে ভর্তি আছি, বোর্ডের স্যাররা আমাকে একটা ঝারি মেরে বলেছেন, “মিয়া, তাহলে এখানে কি ঘুরতে আসছো? যাও।”

আরেকজন স্যার: সাম্প্রতিক কোন মুভি দেখেছেন? নাম কি?

আমি: স্যার অতিসম্প্রতি ‘প্রিয়তমা’ মুভি দেখেছি।

মনোজ স্যার: আচ্ছা, ঠিকাছে। আপনি আসতে পারেন।

উনাদের এপ্রোচ দেখে মনে হইলো আমাকে নেবেন না। কয়েকজন থিয়েটারে ভর্তির পরামর্শ দিলেন বোর্ডেই।

আমি যথারিতি সবার সাথে আই কন্টাক্ট রেখে সালাম দেয়া পূর্বক চলে আসলাম।
সর্বসাকুল্যে আমাকে ৩ মিনিটেরও কম সময় রেখেছেন।

বাইরে আসার পর সিনিয়র ভাই আপুদের জিগ্যেস করেছি, ম্যাক্সিমাম বলেছেন, হয়তো আপনাকে নেবেন না।

কিন্তু রেজাল্টের পর দেখি ১০ তম হয়েছি! একদিন মনোজ প্রামানিক স্যারকে আমাদের ভার্সিটিতে দেখার পর জিগ্যেস করেছি, “স্যার আমাকে ৩ মিনিটেরও কম সময় রাখলেন, কিন্তু রেজাল্ট দেখি চান্স পেয়েছি, কিভাবে? আমিত কোন আশাই করিনি।”

স্যার মুচকি হেসে বলছেন, “আমরা চিনিতো, যে চান্স পাওয়ার মত, তারে বেশিক্ষণ রাখা লাগেনা। অল্পনেই বোঝা যায়।”

আমার সাথে অনেককেই আরও বেশি সময় রেখেছেন, কিন্তু তাদের অনেকেই চান্স পায়নি। অতএব, ভাইবাতে আপনার উপস্থাপনশৈলী এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, কনফিডেন্ট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাকে চলচ্চিত্র সম্পর্কে দুটো প্রশ্ন করছে। একটাও কিন্তু পারিনি। অথচ চান্স পেয়েছি। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে আমার বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা।

উল্লেখ্য, আপনার যে কাজটা আপনার কাছে খুব ছোট মনে হচ্ছে, অশৈল্পিক, অগোছালো সেই কাজটাও একটা সময় অনেক বড় শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

01/05/2025

থিয়েটারের ভাইবা পরামর্শ:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা বিভাগে ভাইবার মাধ্যমে ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভাইবার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

যা জানতে চাইবেন বোর্ড:

১। আপনার সম্পর্কে। আপনার নাম, বাড়ি, জেলা ইত্যাদি। এডমিট কার্ড আর নম্বরপত্র দেখবেন।

২। আপনার নামের সাথে যদি কোন বিখ্যাত মানুষের নামের হুবহু মিল থাকে, তবে ঐ বিখ্যাত মানুষ সম্পর্কে জিগ্যেস করবেন বিজ্ঞ বোর্ড।

উদাহরণ, আমার নাম মো: কামরুল হাসান। তাই পটুয়া কামরুল হাসান সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।
অতএব, নিজের নামের সাথে হুবহু মিলে এমন বিখ্যাত লোকের সম্পর্কে জেনে নেবেন।

৩। আপনার জেলার বিখ্যাত কোন নাট্যকার যদি থাকে, উনার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা রাখবেন। তাঁর কয়েকটি সৃষ্টিকর্ম মনে রাখবন। একাধিক থাকলে সবারটা জেনে যাবেন।

উদাহরণ, আমার জেলা নোয়াখালী, তাই নাট্যকার মুনীর চৌধুরী সম্পর্কে আমাকে প্রথমে জিগ্যেস করেছেন।

এছাড়াও জেলার ব্যাপারে কিছু জিগ্যেস করতে পারেন বিজ্ঞ বোর্ড। জেলার উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান, ফল, পিঠাপুলী, ঐতিহ্যবাহী কোন কিছু ইত্যাদি।

৪। কয়েকজন নাট্যকারের নাম জানতে চাইবেন।
সেই নাট্যকারগণের কয়েকটি নাটকের নাম জিগ্যেস করবেন।

৫। আপনি কেন নাট্যকলায় পড়তে চান? এত শিক্ষার্থী প্রতিযোগী– আমরা আপনাকে কেন নেব? এ প্রশ্ন করবেন বোর্ড।

উত্তর দেবেন, আপনি অভিনয়কে ধারণ করেন। অভিনয় শিল্পের প্রতি আপনার প্রবল আগ্রহের কথা বলবেন আত্মবিশ্বাসের সাথে। অভিনয় শিখতে চান বলবেন।

যদি জিগ্যেস করেন বোর্ড, কেন এত আগ্রহ?
আপনি উত্তর দেবেন, ‘স্যার আমি এখানে আনন্দ পাই।’ আনন্দের জন্যই আমি এ শিল্পে হৃদয় দিয়ে অনুভব করি। (নার্ভাস হবেন না)

অতিতে করেছেন অভিনয় : করলে হ্যাঁ বলবেন। না করলেও বলবেন করেছি। স্কুল কলেজের কোন পোগ্রামের কথা বলে দেবেন। যদি কনফিডেন্টের সাথে এ ছোট্ট মিথ্যা না বলতে পারেন, তবে করেন নি তাই বলবেন। হ্যাঁ বলাটা উত্তম।

Note: এমন সময় আপনাকে কিছু নেতিবাচক কথা বলতে পারেন বোর্ড। যেমন, নায়ক/নায়িকা হবেন? সুপার স্টার হইতে নাট্যকলায় পড়তে চান নাকি? ভাইরাল হতে?

আপনি ভয় পাবেন না, আপনি শান্ত স্বভাবের মৃদু হাসিভাব মুখ অবয়বে রাখবেন। নার্ভাস হবেন না। মাথায় রাখবেন, ভাইবা হইলো এমন পরিস্থিতি– আপনার হাতে তিন বল, জিততে লাগবে মাত্র ছয় রান। পুরো দেশ তাকিয়ে আছে, টানটান উত্তেজনা। প্রতিপক্ষের দর্শক, খেলোয়াড়রা আপনাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, এখন আপনি যদি নার্ভাস হন, কাঁপতে থাকেন তবে বল ব্যাটে লাগবেনা।

৭। মঞ্চনাটক করেছেন কখনো এমন প্রশ্ন করা হবে। না করলেও দেখেছেন কিনা জিগ্যেস করা হবে। অতএব কয়েকটি মঞ্চ নাটক দেখে রাখুন। মঞ্চনাটকে অভিনয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয় এখানে।

৮। আপনার বাংলা প্রমিত/শুদ্ধ উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি ও স্মার্টনেস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্মার্টনেস বলতে রুচিশীল পোশাক, বিনয়, ভদ্রতা এবং টু দ্য পয়েন্ট উত্তর দেয়া। কোন চালাকি না করে কোন প্রশ্নের উত্তর না পারলে বিনয়ের সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করবেন– জেনে নেব, ভুলে গেছি, মনে করতে পারছিনা– এসব বলবেন না। আন্দাজে ঢিল মারবেন না।

৯। আপনার উচ্চারণ দেখতে আবৃত্তি করতে বলবেন বা কোন একটি বইয়ের একটা পৃষ্ঠা পড়তে দেবেন। অতএব আপনার উচ্চারণ, শব্দচয়ন যেন স্মার্ট হয়।

১০। গান গাইতে বলবেন। তাৎক্ষণিক অভিনয় করে দেখাতে হবে। কখনো বলে দেবেন চাষার, রিক্সাওয়ালা, শিক্ষক, অফিফিসারে চরিত্রে। কখনো আপনার ইচ্ছেমত। কোন বাদ্যযন্ত্র ,ঢোল বাঁশি তবলা বাজাতে যদি পারেন সেটা দেখবেন, আর না পারলে কোন অসুবিধা নাই। আমিও কিছুই পারিনা। কিন্তু কোন প্রভাব পড়েনি।

১১। আপনার পূর্বের কোন অভিজ্ঞতা (স্কুল, কলেজে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ইত্যাদির সনদ) থাকলে নিয়ে আসবেন। ভাল কাজে দেবে। আর না থাকলেও অসুবিধা নাই। বোর্ডে যথাযথভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারলেই হবে।

১২। পোশাক বা ড্রেসকোড স্পেসিফিক নেই। ক্যাজুয়াল। তবে চেষ্টা করবেন যাতে রুচিশীল, পরিচ্ছন্ন, দেখতে ভাল লাগবে এমন পোশাক পরতে। ছেলে মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই।

সাজেশন:

নাট্যকার:

১। সেলীম আল দীন (১৯৪৯ - ২০০৮)
উল্লেখ্যযোগ্য কাজ: এগুলো মুখস্থ করে যাবেন। আর দুটি নাটকের সারাংশ জেনে যাবেন। যদি বলে কোন নাটক পড়েছেন, তাহলে বলবেন পড়েছি। যে দুটো পড়েছেন সেগুলো সম্পর্কে বলবেন। সেলিম আল দীন খুব গুরুত্বপূর্ণ।

কিত্তনখোলা (১৯৮৬) (এটার সাংরাংশ পড়বেন)
কেরামতমঙ্গল (১৯৮৮)
চাকা (১৯৯১) (এটার সারাংশ পড়বেন)
হরগজ (১৯৯২)
যৈবতী কন্যার মন (১৯৯৩)
হাতহদাই (১৯৯৭)
প্রাচ্য (২০০০)
নিমজ্জন (২০০২)

পুরস্কার বা সম্মাননা:

স্বাধীনতা পুরস্কার (সাহিত্য) (২০২৩)
বাংলা একাডেমি পুরস্কার (সাহিত্য) (১৯৮৪)
একুশে পদক (২০০৭)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩, ১৯৯৪)
শ্রেষ্ঠ টেলিভিশন নাট্যকার (১৯৯৪)
মুনীর চৌধুরী সম্মাননা (২০০৫)

২। সৈয়দ শামসুল হক (১৯৩৫-২০১৬)
৩। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
তাঁর রক্তকরবী, ডাকঘর এ দুটি নাটকের সারাংশ জেনে যাবেন। ইউটিউবে পাবেন।
৪। জহির রায়হান
৫। সিকানদার আবু জাফর
৬। মুনীর চৌধুরী
৭। মামুনুর রশিদ

মঞ্চনাটক: পশ্চিমের সিঁড়ি (১৯৭২), গন্ধর্ব নগরী (১৯৭৪), ওরা কদম আলী (১৯৭৬), ওরা আছে বলেই (১৯৮১), ইবলিশ (১৯৮৩)
পুরস্কার: বাংলা একাডেমি (১৯৮২), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একুশে পদক (২০১২)। স্বৈরশাসনের প্রতিবাদ সরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার বাদ প্রত্যাখ্যান করেন।

৭। মমতাজউদ্দিন আহমেদ

উনাদের নাম ও বিখ্যাত নাটকগুলো জেনে যাবেন। সেলিম আল দীন স্যার সম্পর্কে নিশ্চিত জিগ্যেস করা হবে।

Note: বাংলাদের বেসিক কিছু সম্পর্কে প্রসঙ্গক্রমে জিগ্যেস করতে পারেন। জাতীয় পতাকা, সম্প্রতি জুলাই বিপ্লব, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি। এগুলো পারবেন।

ফুটনোট: ভাইবাতে আপনার জ্ঞানের গভীরতা নয় উপস্থাপনশৈলী দেখা হবে। কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজে শুধু ভাইবা হয়, এবং সেটা বলা চলে যথেষ্ট কঠিন হয়। আমাকে মাত্র ২ মিনিট রেখেছেন। তিনটা প্রশ্ন করেছেন, দুটো পারিনি। অথচ আমি ১০তম হয়েছি। একমাত্র কারণ, কনফিডেন্ট, উপস্থাপনশৈলী এবং বাচনভঙ্গি। সুতরাং কি পড়তে হবে, জানতে হবে সেসবের চেয়ে কিভাবে আত্মবিশ্বাসী থাকবেন, নার্ভাস হবেন না সেটার অনুশীলন করা উচিত।

বিনীত:

মোঃ কামরুল হাসান, জবি নাট্যকলা ২৫ তম, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যকলা ৪র্থ তম।

Photos from Password-পাসওয়ার্ড 's post 29/04/2025

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের বিগত তিন বছরের রিটেন প্রশ্ন।

28/04/2025

আগামী ৫ ই মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের ব্যাবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য বিগত তিন বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করে এবং নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে পরামর্শ ও সাজেশন। আজকের পর্বে থাকবে লিখিত অংশের বিস্তারিত। পরবর্তী পর্বে ভাইবার জন্য পুরো গাইডলাইন দেয়া হবে।

প্রশ্ন: কোন পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়?

উত্তর: ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগ একটি বিশেষায়িত বিভাগ। অতএব, এর পরীক্ষা পদ্ধতি বিশেষ। দুটি ধাপে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন করা হবে। প্রথমে লিখিত ৪০ মার্ক এবং পরীক্ষা শেষে উত্তীর্ণদের থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যককে মৌখিক বা ভাইবার জন্য বিবেচনা করা হবে। সংখ্যাটা কত হবে নিশ্চিত করা বলা কঠিন। ভাইবার মার্কস বরাদ্দ ১০। তাহলে মোট ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হচ্ছে।

Note: কখনো কখনো ভাইবা ছাড়াই শুধু লিখিত পরীক্ষার নিরিখে চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত করা হয়। এক্ষেত্রে লিখিত ৫০ মার্কসের পরীক্ষা হয়। বিগত বছর ২৩-২৪ সেশন থেকে ভাইবা বাদেই হচ্ছে, বলা যায় এবারেও শুধু রিটেনই হবে।

৫০ মার্কের রিটেনে প্রাপ্ত নম্বর এবং মূল পরীক্ষায় প্রাপন্ত নম্বর যোগ করে মেরিট দেয়া হবে।

প্রশ্ন: প্রশ্ন প্যাটার্ন বা মানবন্টন কেমন হবে?

উত্তর: যেহেতু এটি বিশেষায়িত বিষয়ের পরীক্ষা, সেহেতু প্রশ্ন প্যাটার্ন কেমন হবে সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। একেক বছর একেক রকমের প্রশ্ন হয়। তবে মৌলিক কিছু যায়গা একই। একটু ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলা যায় একই ধাঁচের প্রশ্ন হয়। খুব আহামরি কঠিন কিছু আসেনা, তবে যেহেতু প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, অবশ্যই সেই স্টান্ডার্ড প্রশ্ন হবে। একেবারেই সহজ ভাবার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন: প্রশ্নে কি কি আসবে? মানবন্টনের ধরণ কেমন হবে?

উত্তর: এক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপে উত্তর দেয়া যাক।

ধাপ- ১: এ ধাপে পরীক্ষার হলে সরবরাহকৃত প্রশ্নের শুরুতে ১০/১৫/২০ মার্কসের প্রশ্ন থাকবে। এটাও কয়েকটি ধরণের হতে পারে।

ধরণ-১:

প্রথমে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকতে পারে ১০/১৫ টি, প্রতিটি প্রশ্নের জন্য ১ নম্বর করে বরাদ্দ থাকবে। এক্ষেত্রে এক কথায় উত্তর ও অনুধাবনের মতো লিখতে হতে পারে।

উদাহরণ:

প্রশ্ন: অস্কার বিজয়ী প্রথম বাঙালি চলচ্চিত্রকার কে? (জ্ঞানমূলক)

প্রশ্ন: স্টপ জেনোসাইড বলতে কি বুঝো? (অনুধাবন মূলক)

সাজেশন: সাম্প্রতিক বিষয়, বাংলাদেশ বিষয়াবলি (চলচ্চিত্র অংশ ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা: যেমন ৭ই মার্চ, কনসার্ট ফর বাংলাদেশ, সাত জন বীরশ্রেষ্ঠ, জাতীয় ৪ নেতা, জুলাই বিপ্লব ইত্যাদি), মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে চলচ্চিত্র, উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র পরিচালক, মানসিক দক্ষতা (২/৩ টি প্রশ্ন থাকবে)।

ধরণ-২: চলচ্চিত্র সম্পর্কিত (চলচ্চিত্রের সামগ্রিক উন্নয়ন, গুরুত্ব, সম্ভবনা, সমস্যা ইত্যাদি যেকোন বিষয়বস্তুর আলোকে) একটি ইংরেজি প্যাসেজ থাকতে পারে। অন্য যেকোন গুরুত্বপূর্ন, বহুল আলোচিত ইস্যু, বিষয়বস্তুও হতে পারে। প্যাসেজ থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকবে ১০/১৫ টি। প্রতিটির জন্য বরাদ্দ ১ নম্বর।

→ True or False টাইপের: প্যাসেজের আলোকে ২/৩ টি প্রশ্ন থাকতে পারে।

→ Fill in the Gap টাইপের: ২/৩ টি।

→ MCQ: এরকম ৫/৬ টি প্রশ্ন হতে পারে। according to pssage, সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য ইত্যাদি।

Note: এক্ষেত্রে ১ টি রচনামূলক প্রশ্ন থাকতে পারে। নম্বর বরাদ্দ ৫। অর্থাৎ ১০ টি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (১ নম্বর করে বরাদ্দ) আর ১ টি রচনামূলকে ৫ নম্বর।

সাজেশন: চলচ্চিত্র সম্পর্কিত কয়েকটি ইংরেজি আর্টিকেল চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।

ধরণ-৩: এক্ষেত্রে সরবরাহকৃত প্রশ্নের প্রথমেই ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকতে পারে।

ছোট্ট করে একটি গল্প দেয়া থাকবে। বলা হবে গল্পটি অনুসারে ক,খ,গ,ঘ ও ঙ নং প্রশ্নের উত্তর দাও। এক্ষেত্রে ক নং অংশের আগে একটি গল্প লিখা থাকবে। সেটি অনুসারে ক নং প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। ক নং প্রশ্ন হতে পারে এমন: উপর্যুক্ত গল্পের আগের ও পরের অংশের সাথে মিল রেখে মাঝের অংশ পূরণ করুন। এভাবে অন্য ৪ টি প্রশ্নের আগেও ঐ একই গল্পের বিভিন্ন ঘটনাপরম্পরা থাকবে, আপনাকে আগের ও পরের অংশের সাথে মিল রেখে মাঝখানের অংশ নিজেের মত করে পূরণ করতে হবে।

সাজেশন: গল্পটি আপনার আশেপাশ, চারপাশের সাথে খুবই পরিচিত মনে হবে। কিন্তু হুবহু কমন পাবেন না। আর এ অংশে গল্প থাকলে পরবর্তীতে সংলাপ লিখতে হতে পারে। মূলত, সংলাপ রচনা ও গল্প রচনা আসবেই। কারণ, যেহেতু ফিল্মে স্ক্রিপ্ট লিখবেন, গল্প লিখবেন। এজন্য উপস্থিত বুদ্ধিতে আপনি কেমন লিখতে পারেন, সেটা দেখা হবে।

ধাপ-২: ১০/১৫ মার্কসের ইংরেজিতে রচনা/অনুচ্ছেদ/স্মৃতিকথা লিখতে বলা হবে।

ধরণ-১: সম্প্রতি OTT প্লাটফর্মে আপনার দেখা কোন কন্টেন্ট (over the top) / আপনার পঠিত কোন মুক্তিযুদ্ধ/জুলাই বিপ্লব সম্পর্কিত বই, গল্প, চলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি ইত্যাদি সম্পর্কে ইংরেজিতে লিখতে বলা হবে। এক্ষত্রে আপনার ইংরেজি গুছিয়ে লেখার হাত কেমন সেটা দেখা হবে।

পরামর্শ:

→ গ্রামার ও স্পেলিং ভুল এড়ানোর চেষ্টা করবেন। যথাসম্ভব চেষ্টা করবেন Starting point developing point → ending এ তিন ধাপে লিখলে ভাল। প্রথম দু/তিনটি বাক্য সমৃদ্ধ শব্দ প্রয়োগ এবং গ্রামার মিসটেক এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকতে হবে।

→ বই বা চলচ্চিত্রের নাম লিখলে ব্রাকেট এ মুক্তি বা প্রকাশের সাল লিখবেন। বইয়ের লেখক / চলচ্চিত্র পরিচালকের নাম লিখলে তাঁর নামের পাশে ব্রাকেটে জন্ম ও মৃত্যু সাল লিখবেন।

সাজেশন: উল্লেখযোগ্য কিছু বই, চলচ্চিত্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখবেন।

চলচ্চিত্র: দিপু নম্বর ২, আগুনের পরশ মনি, মেঘে ঢাকা তারা, সুবর্ণ রেখা, গোলাপী এখন ট্রেনে, স্টপ জেনোসাইড, ওরা ১১ জন, আবার তোরা মানুষ হ ইত্যাদি।

বই: একাত্তরের দিনগুলো, দ্য এলকামিস্ট, আমার বন্ধু রাশেদ, দেয়াল, জোছনা ও জননীর গল্প ইত্যাদি।

Note: বইয়ের রিভিউ লিখতে বললে “A BCS AB” এটি অনুসরণ করে লিখতে পারেন।

A for The Author: লেখের নাম, জন্মস্থান, জাতীয়তা, পেশা, সোশাল ঠিকানা ইত্যাদি।

B for The Book: বইয়ের শিরোনাম, প্রকাশকাল, ধরণ, লেখক, লক্ষ্য ইত্যাদি।

C for The characters: বইয়ের চরিত্রগুলো।

S for Summary: সামগ্রিক সারাংশ।

A for Archetypical symbols: রুপক বা মেটাফোরগুলো।

B for Believe: নৈতিক বার্তা যা আপনাকে প্রভাবিত করেছে বা করে।

ধাপ-৩: এক্ষেত্রে ১০/১৫ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। একটি অনুগল্প/সংলাপ লিখতে বলা হবে। গল্পটা অতিসম্প্রতি কোন ঘটনা অবলম্বনে হতে পারে অথবা আংশিক বর্ণনা করে বাকিটা লিখতে বলা হবে। তবে কমন পড়বেনা হুবহু। আমাদের সময় ঘুর্ণিঝড় রিমাল সম্পর্কে একটি অনুগল্প লিখতে বলা হয়েছিল। তাই সাম্প্রতিক ব্যাপারগুলোতে চোখ রাখবেন।

পরামর্শ: একটি অনুগল্প বা ছোটগল্পের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।

→ একটি আকর্ষণীয়, সাবলিল কিন্তু অর্থবহ শিরোনাম বা টাইটেল। যেমন, ঘুর্ণিঝড় রিমাল নিয়ে লিখতে বললে, শিরোনাম হতে পার:

১। রিমালের মধ্যরাত

২। রিমালে ভাঙনের মিছিল

৩। রিমাল এল আর নিয়ে গেল সব

৪। রাক্ষুসে রিমাল ইত্যাদি।

জুলাই নিয়ে লিখতে বললে–

১। মধ্য জুলাইয়ের দিনগুলো (স্মৃতিকথার ক্ষেত্রে)

২। ৩৬ জুলাই এবং জেন-জি

৩। জুলাইয়ের লাল কৃষ্ণচূড়া ইত্যাদি।

Note: শিরোনামে কোন কোটেশন মার্ক জুড়বেন না।

→ গল্পের প্রথম বাক্যটাও আকর্ষণীয় হওয়া উচিত।

→ উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র নির্মাণ করতে হবে। যা পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা তুলে ধরবে। চরিত্রগুলোতে সংলাপ রাখতে পারলে ভাল। এতে সংলাপ এবং গল্প বলার দক্ষতা নিরূপণ হবে। ভাল মার্কস পাবেন।

→ গল্পের শেষটা মিলনান্তক না হলে ভাল। খাতা যিনি কাটবেন উনি কিন্তু পুরোটা পড়বেন। সুতরাং উনি যদি আনন্দ পান, মুগ্ধ হন, এবং পড়া শেষে কিছু না কিছু জানার আগ্রহ তৈরী হয় বা হৃদয়কে নাড়া দিতে পারে, তবে ভাল মার্কস পাবেন।

সামগ্রিক দিক থেকে পরামর্শ:

১। এর প্রস্তুতির নির্দিষ্ট কোন সিলেবাস নেই। বাংলাদেশে স্পেসেফিক কোন বইও নেই।

২। আপনার জ্ঞানের গভীরতার চেয়ে উপস্থাপনশৈলী দেখা হবে। যেহেতু এটি ক্রিয়েটিভ ডিপার্টমেন্ট তাই– গল্প রচনা, সংলাপ রচনা, বা অনুচ্ছেদ রচনায় আপনার সৃষ্টিশীলতা দেখা হবে মূলত। সুতরাং নিজের মত করে গুছিয়ে লিখতে হবে।

৩। ৮০/৯০ দশকের এবং বর্তমান সময়ের উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র, সেগুলোর মুক্তির সাল এবং মুক্তিযুদ্ধে সম্পর্কিত চলচ্চিত্র ও মুক্তির সাল দেখে যাবেন। উল্লেখ্যযোগ্য পরিচালকের নাম ও জন্ম মৃত্যু সাল দেখে যাবেন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল সহ বিখ্যাত বাঙালি লেখকদের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর নাম ও প্রকাশকাল জেনে যাবেন।

৪। আত্মবিশ্বাসী থাকবেন। সময়জ্ঞান রেখে হলে যাবেন। মিনিমাম ৩০ মিনিট পূর্বে হলে উপস্থিত থাকবেন। এক মিনিট সময়ও নষ্ট করবেন না। প্রশ্ন পেয়েই সময় ভাগ করে নেবেন। ফুল আন্সার করে আসবেন।

পরিশেষে, সবার জন্য প্রাণখোলা দোয়া রইলো। পরম করুণাময় সবার মঙ্গল করুক। আনন্দে বাঁচুন।

27/04/2025

নাট্যকলাঃ ভাইবা অভিজ্ঞতা
জবি, পজিশন: ২৫ তম
পরীক্ষার্থী: মোঃ কামরুল হাসান
সেশন: ২৩-২৪

১.

রুমে ৪ জন পরিক্ষক ছিলেন। হাতের ডান পাশে দুজন নারী, বামপাশে দুজন পুরুষ শিক্ষক ছিলেন। ডান দিক থেকে প্রথমজন রাগান্বিত ভাবে ছিলেন, পরেরজনও কিছুটা এমন ছিলেন। বাম দিক থেকে প্রথমজন একদমই শান্ত ছিলেন, পরেরজন সবার সিনিয়র ছিলেন, খুবই হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন।

আমিঃ সালাম দিয়ে হাসি মুখে সবার সাথে আই কন্টাক্ট রেখে প্রবেশের অনুমতি চাইলাম।
বোর্ড সদস্যগণ: হাস্যোজ্জ্বল মুখে আসতে বললেন।
ঢুকে তাঁদের সামনে দাঁড়ালাম। আবারও সালাম দিলাম।
২য় স্যার: আপনার এডমিট কার্ডটা দিনতো।
(দিলাম। স্যার এডমিট কার্ড দেখে প্রশ্ন করলেন।)
“আপনার নাম মোঃ কামরুল হাসান?”
আমি: জি, স্যার।
স্যার: বাংলাদেশ আপনার নামে একজন বিখ্যাত লোক আছেন, যাকে পটুয়া বলা হয়, শুনেছেন?
আমি: জি স্যার। তাঁর নাম পটুয়া কামরুল হাসান। স্যার: তাঁর অবদান কি? কেন বিখ্যাত?
আমি: স্যার, তিনি আমাদের জাতীয় পতাকার রূপকার। এজন্য তিনি অমর হয়ে আছেন।
স্যার: বেশ। আচ্ছা, জাতীয় পতাকার প্রথম ডিজাইনার কে ছিলেন?
আমি: শিব নারায়ণ দাস।
স্যারঃ বাহ্, সাব্বাস, ভেরি গুড…! আচ্ছা, পটুয়া কামরুল হাসানের সর্বশেষ চিত্রকর্মের নাম কি, জানেন?
আমি: দুঃখিত স্যার। জানা নেই।
স্যার: একটু মনে করার চেষ্টা করুন, পারবেন। (উনি একটু হিঙ্স দিলেন, তবুও মনে পড়েনি)
আমি: (কিছুক্ষণ চিন্তা করে) সরি স্যার, মনে পড়ছেনা।
এরপর ১ম ম্যাম: কিছুটা বিরক্তের সাথে, আপনার মার্কসিটে পিতা ও মাতার নামে কলম দিয়ে কাটা কেন?
আমি: উত্তর দিয়েছি। কিছুটা উৎকন্ঠ হয়ে জিগ্যেস করেছেন, “সার্টিফিকেটেও কি ভুল?”
আমি: “না স্যার, সার্টিফিকেট, এনআইডি সংশোধন করেছি, সার্টিফিকেটের প্রেশ কফি নিয়েছি, মার্কসিটের প্রেশ কফির আবেদন করেছি। দ্রুত পেয়ে যাব।”
২য় ম্যাম: অভিজ্ঞতার কোন কিছু আছে?
আমি: জি, স্যার। আছে।
(স্কুল, কলেজ জীবনের সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সনদ, আমাদের নিজদের নির্মিত টেলিভিশন নাটকে অভিনয়, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতার স্থীরচিত্র সংবলিত ফাইল দিলাম।)
১ম ম্যাম: তাহলে এখানে রাখুন। আর আপনি আরও একটু পেছনে গিয়ে দাঁড়ান।
(কেউ সনদ দেখছেন, কেউ নাটক, অনুষ্ঠানের স্থিরচিত্রগুলো দেখছেন।)
১ম ম্যাম: আপনি অনলাইনে আবৃত্তি করেছেন, অনুষ্ঠান করেছেন, টেলিভিশন নাটকও করেছেন, এগুলো প্রিন্ট করে নিয়ে এসেছেন। কে বলেছে এভাবে এগুলো আনতে?
আমি: স্যার, আমি নিয়ে এসেছি।
ম্যাম: নাট্যকলায় পড়ে এমন কারো সাথে কথা হয়েছে? পরিচয় আছে?
আমি: সেরকম পরিচয় নেই স্যার। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে যোগাযোগ করেছি কয়েকজন সিনিয়র ভাইয়ের সাথে।
ম্যাম: কার সাথে যোগাযোগ করেছেন? নাম কি?
আমি: নাম মনে আসছিলো না। আমতা আমতা করে একজনের নাম বলেছি।
ম্যাম: বিরক্তের সাথে ওতো গ্রাজুয়েশন শেষই করেনি, থার্ড ইয়ার শেষ করে চলে গেছে। ওর থেকে কি বুদ্ধি নিয়েছেন? আর কারো সাথে কথা হয়েছে?
আমি: আমি যে ভাইয়ের সাথে বেশি কথা বলেছি এবার তার নাম মনে পড়েছে। বললাম।
ম্যাম: আচ্ছা। ও বলেছে এগুলো প্রিন্ট করে আনতে?
আমি: না, স্যার। আমিই এনেছি।
ম্যাম: দেখছিতো সব টেলিভিশন নাটক করেছেন! এসব করে কি সুপার স্টার হয়ে যাবেন? নায়ক হবেন, এত সহজ? (উনি শুরু থেকেই রাগ রাগ মেজাজে ছিলেন)
টেলিভিশন নাটক করেছি শুনামাত্র দ্বিতীয় ম্যাম বিস্ময়ের চোখে বললেন, “টেলিভিশন নাটক!” পরে ১ম ম্যাম আমার কাগজগুলো উনাকে দিলেন, এবার ঐ ম্যাম মনোযোগের সাথে দেখছিলেন। অন্য স্যারগণ সনদগুলো দেখছেন। ধাপে ধাপে সবাই খুব গুরুত্বের সাথে সবগুলো দেখেছেন)
২য় স্যার: সনদগুলো দেখছেন আর জিগ্যেস করেছেন, “ইসলামিক ফাউন্ডেশনে আপনার পরিচিত কেউ আছে?”
আমি: না, স্যার।
১ম ম্যামের মেজাজ দেখে ততোক্ষণে আমার হাঁটু কাঁপা শুরু করেছে। ভয় পাইছি রীতিমতো যদিও আমি শুরু থেকেই খুবই কনফিন্ট ছিলাম, অন্তত নার্ভাস হবোনা। আমি ভেবেছি উনি খুবই বিরক্ত হয়েছেন এগুলো দেখে! তবুও মনোবল ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।
ম্যাম: সুবর্ণ নাট্যদল। এটা আপনাদের সংগঠন?
আমি: জি, স্যার। আমাদের সংগঠন। আমরা অবসর সময়ে শখের বশে নিজেরা নাটক নির্মাণ করি।
ম্যাম: টেলিভিশন নাটকি করেছেন শুধু? কোন মঞ্চ নাটক দেখেছেন সরাসরি বা নিজে অভিনয় করেছেন? করলে কোথায় করেছেন?
আমি: স্যার, ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়ে নিজেরা করি সংগঠনের আয়োজনে বিভিন্ন ভুমিহীন সমাবেশে অভিনয় করেছি। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসে মঞ্চ নাটক করেছি। যখন যেটার সুযোগ পাই। স্যার, কিছুদিন আগে স্থানীয় সরকার দিবসে উপজেলা শিল্পকলা মঞ্চে আমার রচনা ও নির্দেশনায় “বিজয়ের পথে” নাটকটি মঞ্চায়ন করেছি। আমি মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার চরিত্র অভিনয় করেছি।
ম্যাম: আচ্ছা।
এবার দ্বিতীয় ম্যাম: গান গাইতে পারেন?
আমি: জি, স্যার।
ম্যাম: তাহলে শুনানতো একটা। কি গান শোনাবেন?
ম্যাম: ভাওয়াইগা গান। বন্দে মায়া লাগাইসে পিরিতি শিখাইসে– গাইতে লাগলাম।
কিছুক্ষণ পর থামিয়ে বললেন, “এ গানটি কে লিখেছেন?
আমি: বাউল শাহ আব্দুল করিম।
বামদিক থেকে ২য় স্যার: একটা বইয়ের পৃষ্টা খুলে বললেন, “এটা পড়ুনতো।”
আমি: যথোচিতভাবে পড়লাম। উচ্চারণ, বাচনভঙ্গিতে বেশ সন্তোষ্ট হয়েছেন বুঝেছি। কিন্তু ভুল করেছি ‘ভগ্নী’ শব্দকে ভাগ্নি পড়েছি। পড়া শেষে স্যার আবার পড়তে বললেন, আবারও এ ভুল করেছি। এবার বললেন, “শব্দটা কি ভাগ্নি?”
আমি: লজ্জা পেলাম। দুঃখপ্রকাশ করেছি।
এবার বাম পাশ থেকে ১ম স্যার: আচ্ছা, আপনার বাড়িতো নোয়াখালী, মুনীর চৌধুরীর কয়েকটি নাটকের নাম বলুন।
আমি: বলতে পারছিলাম না। পরে মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল, “কপালকুণ্ডলা”
স্যার: এটা কি নাটক?
আমি: আমি নার্ভাস হয়ে যাই, “হ্যাঁ” বলেছি!
১ম ম্যাম: এটা উপন্যাস, নাটক না!
স্যার: নাট্যকলায় পড়তে চান। আচ্ছা, কয়েকজন নাট্যকারের নাম বলুন।
আমি: (চট করে মাথা থেকে চলে গেছে। অবাক হয়েছি একজনের নামও মনে পড়েনি!) ২০ সেকেন্ড পর সেলিম আল দীন স্যারের নাম বলেছি। পরে মুনীর চৌধুরীর নামও বলেছি।
(মুনীর চৌধুরীর নাম বলায় ম্যাম একজন হাসলেন, কারণ উনার নাম স্যার আগেই জিগ্যেস করেছেন)
স্যার: আচ্ছা, সেলিম আল দীনের কয়েকটি নাটকের নাম বলুন।
আমি: ‘চাকা’ নাটকের নাম বলেছি। আরগুলো মনে পড়েনি।
স্যার: আচ্ছা, ‘চাকা’ নাটকটি পড়েছেন?
আমি: দুঃখিত স্যার, পড়া হয়নি।
(এ মুহূর্তে খুবই নার্ভাস ছিলাম, কারণ, এ সহজ প্রশ্ন উত্তর না দিতে পেরে আত্মবিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে গেছে)
২য় ম্যাম: আচ্ছা, নাট্যকলায় কেন পড়তে চান?
আমি: স্যার আমার আবাল্য শখ অভিনয়। শৈশব থেকেই অভিনয় শিল্পকে গভীরভাবে অনুভব করি, হৃদয়ে ধারণ ও লালন করি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস এখানে আমি ভাল করবো ইনশাল্লাহ।
ম্যাম: (উনি শুরু থেকেই মেজাজি ছিলেন। উত্তর দিতে পারি বা না পারি প্রশ্ন সব রাগান্বিত কন্ঠে করেছেন।) আচ্ছা দেখি, করে দেখানতো অভিনয়। পারবেন এখন?
আমি: জি, স্যার। পারবো।
ম্যাম: তাহলে শুরু করেন, দাঁড়ায় আছেন কেন? দ্রুত শুরু করুন।
আমি অপ্রস্তুত ছিলাম। তবু হুট করে অভিনয় শুরু করলাম।
লায়ালগ দিচ্ছিলাম: সৃজিতা, আমি তোমাকে শেষবারের মতো অনুরোধ করছি। তোমার পিতার আত্ম অহমিকা, ভাব-গাম্ভীর্যের কাছে আমার সত্য, স্বতসিদ্ধ, বিশুদ্ধ ভালোবাসাতে কলঙ্ক লেপন করোনা। আমি তোমাকে ভালোবাসি। এটা সত্য। তুমি না চাইলে জোর করবোনা, কাপুরুষের মতো পালাতেও বলোবনা, কিন্তু তোমার বাবার ধন সম্পদ ঐশ্বর্যের কাছে আমার প্রেমের কবর রচনা করোনা প্লিজ, সৃজিতা, প্লিজ, প্লিজ। বিশ্বাসের সাথে আমার হাত ধরো, তোমার সাথে আমি আজীবন থাকতে চাই। (এভাবে হবহু এ ডায়ালগ দিতে দিতে শেষ করেছি)
উনারা সবাই একচু চুপসে গেলেন। একজন আরেকজনের সাথে চোখাচোখি করছেন।
পরে ২য় স্যার বললেন: আচ্ছা, আপনি যার সাথে সারাজীবন থাকতে চান, তার নামটা যেন কি বললেন?
আমি: স্যার, সৃজিতা।
উনি খাতায় কি যেন লিখলেন, সৃজিতা নাম লিখলেন না নম্বর দিলেন বুঝিনি।
১ম ম্যাম: বাম দিকের স্যারকে ঈশারা করে জিগ্যেস করলেন, “আপনি আর কিছু জিগ্যেস করবেন স্যার?” স্যার বললেন, “না, থাক”।
ম্যাম বললেন, “ আপনি আসতে পারেন” তাও রাগ মেজাজে।
ততোক্ষণে আমি চান্স পাবার আশা ছেড়ে দিয়েছি।
চলে আসছিলাম, দরজার কাছাকাছি এসে সবেমাত্র দরজা টান দেব এমন সময় ঐ রাগ রাগ মেজাজের ম্যাম জোরে হাঁকলেন, “১ মিনিট…”।
আমি স্বাভাবিক হাস্সোজ্জল কন্ঠে পেছন ফিরে, “জি, স্যার”।
ম্যাম: না, আপনাকে না। আপনি আসতে পারেন।

27/04/2025

পাসওয়ার্ডের শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষী বৃন্দ। আস্সালামুয়ালাইকুম।

২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশেষায়িত বিষয় (ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন, সঙ্গীত, নাট্যকলা ও চারুকলা) বিভাগে ভর্তি প্রস্তুতির একটি অনলাইন কোর্স আয়োজন করতে যাচ্ছি।

"সুপার প্রক্ষেপণ ব্যাচ-১" নামে অচিরেই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবো। রিটেন, ভাইবা পরীক্ষার কার্যকর দিকনির্দেশনা, গোছালো ও কৌশলী প্রস্তুতি নিলে চান্স পাওয়া সম্ভব। সবার জন্য দোয়া ও শুভকামনা থাকল।

22/02/2025

স্বরবর্ণের শুদ্ধ উচ্চারণ

21/02/2025

বাংলা বর্ণমালার ব্যাঞ্জনবর্ণের শুদ্ধ, প্রমিত উচ্চারণ।

20/02/2025

অসুস্থতার কারণে গত কয়েকদিন কোন ক্লাস নিতে পারছিনা। আজ ২১ শে ফেব্রুয়ারি। মায়ের ভাষার দিবস। তাই বিনম্র শ্রদ্ধায় বাংলা বর্ণমালাগুলোর শুদ্ধ উচ্চারণ নিয়ে ক্লাস নেব। সব বয়সের, সব ক্লাসের মানুষদের জন্য এ ক্লাস। কেননা আমরা বেশিরভাগ মানুষ এগুলো ভুল উচ্চারণ করি। মা, মাটি আর ভাষার প্রশ্নে আপোষহীন। শ্রদ্ধা।

07/02/2025

বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ শেষ পর্ব। এ পর্বের মধ্য দিয়ে বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতাটা শেষ হলো। আশা করি এ সবগুলো ভিডিও দেখলে বিন্দুমাত্র কনফিউশন থাকবেনা। এরপরের পর্ব থাকবে শুধু প্রশ্ন সমাধানের। নৈর্ব্যক্তিক ও সৃজনশীল যত প্রশ্ন, সব আলোচনা করা হবে। শুধু ভিডিওই যথেষ্ট!

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Dhaka