Something Different ll কিছুটা ভিন্ন

Something Different ll কিছুটা ভিন্ন

Share

সকল ধরনের পোস্টের এক দারুণ সমাহার।

23/07/2025

আপনি ফুটপাত দিয়ে হাঁটছেন, অপরিকল্পিত নির্মাণাধীন ভবন থেকে আপনার মাথায় ইট পড়ে আপনি প্রাণ হা'রাবেন।

রেস্টুরেন্টে পরিবারের সঙ্গে এক খুশির উপলক্ষ্য নিয়ে খেতে গেছেন, অননুমোদিত গ্যাস লাইনের বি'স্ফো'রণে আপনি প্রাণ হা'রাবেন৷

নিয়ম মেনে ড্রাইভিং বা রাইডিং করছেন, ধনীর নেশাগ্রস্ত আদুরে দুলাল গাড়িচা'পা দিয়ে আপনার প্রাণ'না'শ করবে৷

প্রভাবশালীদের সাথে দ্ব'ন্দ্বে জড়াবেন, পাথর দিয়ে পি'ষে আপনার প্রাণ'না'শ করা হবে, আপনার লা'শের উপর উঠে নৃত্য করা হবে।

মানুষের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হবেন, আয়না ঘর আপনাকে বলবে, "আহো ভাতিজা, আহো!"

গ্রাম থেকে ঢাকা এসে একটা ফ্যাক্টরিতে কাজ করে ঘষেমেজে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করার চেষ্টা করবেন, ভবন ধ্ব'সে প্রাণ হা'রাবেন।

নারী হয়ে নির্বিঘ্নে লেখাপড়া, চাকরি-বাকরি করতে যাবেন, যৌ'ন হয়'রানির শিকার হবেন একশোতে একশো৷ ধ'র্ষি'তা হওয়ার সুযোগও কম না৷

শাসনযন্ত্রের অপ'শাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলবেন, আপনার পরিবার আপনার মৃ'তদেহটাও খুঁজে পাবে না৷

আপনার সন্তান বাহিরে খেলছে, সিটি কর্পোরেশনের অবহেলিত উন্মুক্ত ম্যানহোলে পড়ে প্রাণ হা'রাবে।

সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাবেন, তার মৃ'তদেহ পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুকুরে।

সর্বশেষ, আপনার সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন, প্রশিক্ষণ বি'মান বি'ধ্ব'স্ত হয়ে আরো দুয়েকশো সন্তানের সাথে আপনার সন্তানেরও প্রাণ নিবে৷

আর হ্যাঁ, এগুলোর ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন? তাহলে বলবো আপনারা বড্ড বোকা৷

জি, এটাই এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ুর মাছে ভাতে বাঙালির বাংলাদেশ।

© মূল লেখকের নাম পাওয়া যায়নি

27/06/2025

এক) অনেক দিন আগে একটা গল্প পড়েছিলাম।
ছোট এক ক্ষুধার্ত শিশু কেকের ছোট একটা টুকরো কুড়িয়ে পেয়ে খুব খুশি। অর্ধেক সে খায় আর বাকি অর্ধেক আরেক শিশুকে খাওয়ায়।
আর দুতলায় অন্য আরেকটা শিশু ভরা পেটে কাঁদছে। কারণ- তার কেকের সাতটি টুকুরো থেকে একটা টুকরো খোয়া গেছে।
দুই) একজন লোক উচ্চ শিক্ষিত হয়েছেন। বড় চাকুরি করেন। সমাজে মর্যাদাবান ব্যক্তি। নামাজ পড়ার আগে ওযু করছেন। এমন সময়- ঘুষের প্যাকেট নিয়ে মক্কেল হাজির। শিক্ষিত অফিসার রেগে গিয়ে বলছেন-আপনার কি এতোটুকু বিবেকবোধ নেই। ওযু করার সময় কেউ কি ঘুষের টাকা স্পর্শ করে? যান, অফিসের ড্রয়ারে রেখে যান।
আরেক ছেলে- পথশিশু। নিরক্ষর। রেলে মানুষের কাছে পানি বিক্রি করে। সেই পানি বিক্রি করা টাকায় খাবার কিনে। অর্ধেক নিজে খায়। বাকি অর্ধেক পথের কুকুরকে খাওয়ায়।
এই দুজনের মাঝে আসলে শিক্ষিত কে ? মর্যাদা কার বেশি হওয়ার কথা ?
তিন) ইসলামে ধনী, গরীব এবং বর্ণবাদের কোনো স্থান নাই।
কথাটি ইসলামের জন্য শতভাগ সত্য। মুসলমানের জন্য সিংহভাগ মিথ্যা।
একটা বিশাল মসজিদ থাকার পরও দুই ভিআইপির পরষ্পর রেষারেষির কারণে অল্প দূরত্বে আরো নতুন দুটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে । দুই ইমামের ঠিক পেছনে এখন দুজন দুই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। হযরত ওমর রাঃ এর পাশে দাঁড়িয়ে মেষ রাখাল নামাজ আদায় করতে পারলেও - এই দেশের অনেক মসজিদে ভিআইপির জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ থাকে।
সব পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার পরও কালো মেয়েটি পত্রিকার পাতায় যখন হন্য হয়ে চাকুরির বিজ্ঞাপন খুঁজে। শুধুমাত্র গায়ের রং ফর্সা হওয়ার কারণে ক্লাসের ডাম্ব সুন্দরী মেয়েটি স্বামীর সাথে সুইজারল্যান্ডে বসে চাপান করে।
"কনে দেখতে গেলে মুখ না দেখে ভালো করে পা দেখো। কারণ পা দেখলেই মেয়ের আসল রং বুঝা যায় "।
-যে সমাজে এইসব কথা এবং ঘটনার প্রচলন আছে সেই সমাজেতো বর্ণবাদ প্রতিটি রন্দ্রে রন্দ্রে আছে।
চার) আমি জিপিএ ফাইভ পেয়েছি- এটার ইংরেজি বলতে না পারা টা কি শিক্ষার্থীর দোষ। নাকি সিস্টেমের দোষ। শিক্ষার্থীর দোষ হলে- সে জিপিএ ফাইভ পায় কেমন করে? তাই, জনসম্মুখে লজ্জাটা কাকে দিবেন-শিক্ষার্থীকে নাকি সিস্টেমকে। দয়া করে ভাবেন।
মাটি দিয়ে মূর্তি বানিয়ে সে যদি মানুষের মতো কথা না বলে- তবে দোষ কার। মূর্তির নাকি মূর্তির কারিগরের?
পাঁচ) পীথাগোরাসের সূত্র জেনেই বা লাভ কি? দুনিয়ার সব নলেজ হজম করে যিনি বিসিএস ক্যাডার হবেন- উনাকেইতো আবার কনস্টিটিউশন আর পার্লামেন্ট বানান করতে গিয়ে যার ত্রাহিমধুসুদন অবস্থা - তারই প্রটৌকল দিবেন।
ছয়) জমজমের পানি সবচেয়ে পবিত্র এবং বিশুদ্ধ- এটা বলে এবং প্রচার করে আপনার লাভ টা কি? আপনি নিজে পবিত্রতো!
ঘুষ খেয়ে, দূর্নীতি করে, সবরকমের অসত কাজ করে হজ্বে গিয়ে জমজমের পবিত্র পানি পান করলেই কি মানুষও পবিত্র হয়ে যায়?
আপনার দাদা দরবেশ ছিলেন। এটা আপনি প্রচারও করেন আবার আপনি চুরিও করেন, ঘুষও খান। এতে কি দাদার মর্যাদা বাড়ে নাকি কমে ?
সাত) জর্জ ফ্লয়েডকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলাটাই শুধু ভায়োলেন্স না। প্রতিটি ঘুষ, প্রতিটি দূর্নীতি, প্রতিটি ভাঙ্গা রাস্তা, প্রতিটি মেয়ের রাতে নিরাপদে ঘরে ফিরতে না পারার ভয়, বেকারের কর্ম নিশ্চিত করতে না পারার ব্যর্থতা, মেছোবাঘ পিটিয়ে মেরে ফেলার উল্লাস, চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাওয়া, কাউকে মালাউন বলে গালি দেয়া, কারো মাথায় সিঁদুর, কারো মুখে হিজাব পরা নিয়ে কটাক্ষ করা ইত্যাদির সবকিছুই একেকটা বায়োলেন্স।

Send a message to learn more

07/08/2024

পুলিশরা চাচ্ছে, প্রশাসনের লোকজন চাচ্ছে, অনেক সেনাবাহিনীও চাচ্ছে, আপামর জনগণ চাচ্ছে, অর্থাৎ দেশের সবাই চায় তরুণরাই রাজনীতিতে আসুক, তরুণরা রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব নিক। অলরেডি অনেক সিনিয়র সিটিজেন, শিক্ষক, বিদেশে অবস্থানরত বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষার্থীও চাচ্ছে তরুণরা আসুক। তাহলে আর বিলম্ব কেন?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবর্তমানে তরুণরাই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে,পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করছে। সবাই যার যার জায়গা থেকে নেমে পড়ুন, জনগণকে তরুণদের নেতৃত্ব সম্পর্কে সচেতন করুন। লেখকরা লিখতে শুরু করুন, কলামিস্টরা কলাম লিখুন, কনটেন্ট ক্রিয়েটররা ভিডিও বানাতে শুরু করুন। গ্রামে গ্রামে তরুণদের চাওয়া নিয়ে বৈঠক করুন। সময় খুবই কম। এখনই শুরু করতে হবে। কেবল তরুণদের মাধ্যমেই এদেশটাকে আগামী ১০ বছরে সিঙ্গাপুর বানানোর সম্ভব।

শুরু হোক #রাষ্ট্র_ক্ষমতায়_তরুণদের_চাই এই হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখালিখি!

06/06/2024

🔴 এই ভুল বেশিরভাগ মা-বাবা করেন!


ধরুন, দুপুরে খাওয়া শেষে একটাই ডিম রয়ে গেছে।

রাতে খাওয়ার সময় ডিমটা কাকে দেবেন? পরিবারে শুধু আপনারা দুজন আর ফুটফুটে এক সন্তান।

কমন যে চিত্রটি আমরা দেখতে পাই:

রাতে খাওয়ার সময় বাচ্চাকে পুরো ডিমটাই দিয়ে দেয়। আর বাবা মা দুজন ড্যাব ড্যাব চোখে শুধু তাকিয়ে থাকবে আর তার খাওয়া দেখে মনটা ভরে যাবে।

আহ কি শান্তি!

আসলে যা করা দরকার ছিলো:

রাতে ৩ জনই একসাথে খেতে বসব। তার সামনেই ডিমটা সমান ৩ ভাগে ভাগ করব। আর ৩ জনেই ৩ টুকরা খেয়ে নিব।

বিশ্বাস করুন, এই ক্ষেত্রে বাচ্চার আস্ত ডিমটা খাওয়ার কোনো ফায়দা নাই।

বরং তার ব্রেইনে একটা ভুল মেসেজ আজীবনের জন্য সেট হয়ে যাবে।

অথচ, ৩ টুকরা ডিম তাকে শেখাবে কীভাবে অল্প জিনিসও সবার সাথে ভাগ করে খেতে হয়। তার অপজিটে থাকা মানুষগুলো খেয়েছে কিনা সেই ব্যপারে খেয়াল রাখার মানসিকতা জাগ্রত হয়। আর এই মেসেজটি আজীবন তার ব্রেইনে খোদাই থাকবে।

এটা একেবারে ছোট্টবেলা থেকেই করা উচিত। বাচ্চা তার বয়স অনুযায়ী যতটুকু বোঝার ঠিকই বুঝবে। বাচ্চারা তাদের মতো করে সবই বুঝে।

ট্রিক্সটা কাজে লাগালেই দেখবেন, তাকে কিছু খেতে দিলে আগে আপনার কথা ভাববে, হাতে দেখবে তার আম্মুর ভাগটা আছে কিনা! আবার, বাবার ভাগটাও রেখে দিবে।

বর্তমান সময়ে অনেক বাচ্চাদের দেখা যায় সবকিছুই নিজের করে পেতে চায়, তার-ই ভাই বা বোন সে পেলো কিনা সেদিকে খেয়ালই রাখে না।

দাদু, চাচা, বাবা, যে যা-ই আনুক না কেন, সবই তার চাই! সম্পত্তিও।

(সংগৃহীত)

01/04/2024

এন্ড্রয়েড ফোন ছাড়া আজকাল আমাদের চলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাকে কল্যাণকর কাজে অধিক ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু এপের লিস্ট নিচে দেওয়া হলো।

১। Nakhtem (نختم)। এটি আশ্চর্যজনক একটা এপ। এটা এন্ড্রয়েড ফোন ওপেন করার সাথে সাথে আপনার সামনে কুরআনের একটি আয়াত নিয়ে আসবে। অর্থাৎ আপনি মোবাইল ওপেন করে কুরআনের একটি আয়াত পড়ে অন্য কাজ করছেন। দিনে রাতে ১০০ বার মোবাইল ওপেন করলে ১০০ আয়াত পড়া হয়ে যাবে।
Download Link:
(https://goo.gl/T82fBr)

২। Al Quran (Tafsir & By Word)।
এখানে কুরআনের শাব্দিক অর্থ, বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ, সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত তাফসির, বিভিন্ন বিখ্যাত ক্বারীর সুললিত কন্ঠের তেলাওয়াত সবকিছুই পাবেন। এক কথায় অসাধারণ এপ।Download Link: https://gtaf.org/apps/quran

৩। হিসনুল মুসলিম (হলুদ কালার) । এখানে কুরআন ও হাদিসের দলিল সহ সকল প্রকার দুয়া একত্রে পাবেন।
Download Link: https://gtaf.org/apps/hisnulbn

৪। Muslim Bangla App. এখানেও কুরআন, হাদিস, দুয়া, বিভিন্ন ওয়াজ, মাসলা-মাসায়েল, নামাজ শিক্ষা, কুরআন শিক্ষা, হজ্জ-ওমরা, নামাজের সময় ইত্যাদি সব পাবেন।
Download Link: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.tos.namajtime

৫। hytoba অসাধারণ একটি এপ, মা-শা-আল্লাহ। যারা এটা লঞ্চ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে উত্তম বিনিময় দিবেন নিশ্চিত। এখানে সোসাল মিডিয়ার ঈমান বৃদ্ধিতে সহায়ক আর্টিকেলগুলো সব একত্রে পাবেন। সাথে বিশ্ব বিখ্যাত বিভিন্ন আলোচকদের আলোচনা ইংরেজি ও বাংলায় ডাবিং একত্রে পাবেন।
Download Link: https://hoytoba.com/download

আল্লাহ তায়ালা যারা এগুলো তৈরী করেছেন, যারা শেয়ার করছেন এবং ব্যাবহার করছেন তাদের সবাইকে আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যমে জান্নাতে একত্রিত হবার তৌফিক দিন। আমিন

(সংগৃহীত)

20/03/2024

খাবার ভর্তি টেবিলে বসে গ@যাকে ভুলে যাচ্ছেন না তো? উম্মাহর এক অংশ উদরপূর্তি করে ঘুমোবে আরেক অংশ না খেয়ে পড়ে থাকবে? এ কি করে হয়! আসুন, আমরা দুয়ায় ও সাহায্যে তাদেরকে না ভুলি। সাদাক্বাহ ও যাকাত পাঠানোর কিছু অথেন্টিক সোর্স:

♦️️ সাদাক্বাহ প্রোজেক্ট ♦️

1. Al- Azhar Online Academy
https://www.facebook.com/share/p/kSMUuKV9E6W2ReLE

2. Sadaqah Made Easy - SME https://www.facebook.com/share/p/rH8RYT8A1YnNsB6c

3. Markazun Nahda:
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=730667702547341&id=100068123520659

4. Al-Aakhirah:
https://www.facebook.com/share/p/eMxDexqz8PjmHxXg

5. As-Sahaba Foundation:
https://www.facebook.com/share/p/6e5BxiwsbUnvF4uk

6. স্বদকায়ে হাসানাহ - صدقة حسنة
https://www.facebook.com/share/p/XWe3XPDCcjYxG4o7

7. 3tk/day for Ummah:
https://www.facebook.com/share/p/uTZMrtEsT4ivFn5X

8. ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশন - Intifada Foundation :
https://www.facebook.com/share/p/DuqhwgP7e6u8b4Uv

9. Ilman Nafia:
https://www.facebook.com/share/v/bSRKsoa28zQaiWLh

10. One nation : https://www.facebook.com/share/r/h9nsKpADtYABwE76

11. Siratul Mistaqim Foundation:
https://www.facebook.com/share/p/nWhyP59dDG4RfkM9

12. Roudromoyee রৌদ্রময়ী
https://www.facebook.com/100064144683768/posts/812517004229782

♦️ যাকাত প্রোজেক্ট ♦️

1. Sab'a Sanabil Foundation : https://www.facebook.com/SabaSanabilFoundation

2. ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশন - Intifada Foundation :
https://www.facebook.com/share/p/DuqhwgP7e6u8b4Uv

3. Markazun Nahda:
https://www.facebook.com/story.php?story_fbid=729143709366407&id=100068123520659

4. রৌদ্রময়ী
https://www.facebook.com/100064144683768/posts/812517004229782

5. Siratul Mistaqim Foundation:
https://www.facebook.com/share/p/nWhyP59dDG4RfkM9

~ Itqaan Ta'leemud Deen Team

(সাওয়াবের নিয়তে বেশি বেশি শেয়ার করুন)

19/07/2023

#ডেঙ্গু_সতর্কতা_কি_করবেন_কি_করবেন_না।

ডেঙ্গুর বর্তমান অবস্থার কথা আমরা সকলেই জানি।
ডেঙ্গু থেকে বাঁচার উপায় কমবেশি সকলেই জানি, কিন্তু ডেঙ্গু হয়ে গেলে আমাদের এপ্রোচ কি হবে সেটা নিয়ে আজকের এই আলোচনা।

মনে করুন আপনার জ্বর হলো। এখন কি করবেন?
* এটা নর্মাল, সিজনাল, এই কথা চিন্তা করা বন্ধ।
* দেখি ১-২দিন, দেখাদেখি বন্ধ।
* আমার তো সর্দি কাশি আছে,তাহলে এটা ডেঙ্গু না, ভাবা বন্ধ করুন।
কারন?
ডেঙ্গু জ্বরের প্যাটার্ন পাল্টেছে। একসময় চিকিৎসকরা সর্দি কাশি থাকলে আর ডেঙ্গু ভাবতো না। এখন আর সেটা নেই। গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে একটা আউটব্রেকের সময় যে কোন ফিভারেই শুরুতেই ভাবতে হবে আমি আউটব্রেকের কবলে পড়েছি। এটাই হচ্ছে নির্দেশিত। একটা সময় র‍্যাশ হতো, এখন র‍্যাশ দেখাই যায়না খুব একটা। এবছর জ্বরের তীব্রতাতেও পরিবর্তন এসেছে, অনেকেরি ১০০-১০১ এ ডেঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড শরীর ব্যথার কারণে এটাকে ব্রেক বোন ফিভার বলতো আগে, এবছর সেই প্যাটার্নেও পরিবর্তন এসেছে, আগে ৫-৬দিনের দিন রোগীর কন্ডিশন খারাপ হতো, এখন ৩দিনের মাথাতেই ইভেন জ্বরের ১-২দিনেও কেউ কেউ ক্রিটিকাল কন্ডিশনে চলে যাচ্ছে।

ডেঙ্গুর ক্লাসিক্যাল সিম্পটম:
তীব্র জ্বর, প্রচন্ড শরীর ব্যথা, বিশে করে কোমর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, মাথা ব্যথা। তবে বর্তমান ডেঙ্গুতে এমনটা নাও থাকতে পারে।

করণী-১:
প্রথম দিনেই হসপিটাল গিয়ে তিনটি টেস্ট করে ফেলা।
১)CBC
2)Dengue NS1
3) SGOT
করার পর কি করবেন? কারণ NS1 positive means আপনার ডেঙ্গু নিশ্চিত। কিন্তু ধরুন কোন কারণে আপনার রিপোর্ট সব নর্মাল আসলো। প্রথম দিনে এটা হতেই পারে। তবে সব নর্মাল আসার সম্ভাবনা কম।
প্রথমেই CBC report এর HCT/PCV নামে একটা টার্ম আছে, হেমাটোক্রিট বা প্যাকড সেল ভলিউম, এটা কত পার্সেন্ট আছে মার্ক করে ফেলবেন বা লিখে ফেলবেন। কারণ এটাই আপনাকে পরবর্তীতে অনেক কিছু গাইড করবে। ধরুন আপনার আসলো ৩৬%, আপনার হিমোগ্লোবিন ১২%, তাহলে নর্মাল এবং প্রথম দিন এটা নর্মাল আসবে। আর নর্মাল রেঞ্জ আপনার কত সেটি জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের দেশে ডেমোগ্রাফিক্যালি হেমাটোক্রিট ক্লাসিফাই করা নেই। তাই নিজের বেজ লাইন জেনে রাখবেন। হেমাটোক্রিট আপনার হিমোগ্লোবিনের ৩গুন সাধারণ অবস্থায়।
যদি দেখেন আপনার SGOT সাধারণ মাত্রার চাইতে ১-২গুন বেশি, তাহলে ওকে, এটাকে সাধারণ অবস্থা ভেবে নেয়া যেতে পারে। কিন্তু যদি SGOT ৪-৫গুন হয়ে যায়, তবে এই রোগী সামনের দিকে খারাপ হওয়ার চান্স অনেক বেশি। তাই সতর্ক হয়ে যেতে হবে আগেই।

করণীয়-২:
প্রথম দিনেই ডাক্তার দেখাবেন। প্যারাসিটামল ছাড়া কোন ব্যথার মেডিসিন খেয়েছেন তো বিপদ আছে। এরপর ডাক্তারের পরামর্শ শুনবেন ও মেনে চলবেন।

করণীয়-৩:
প্রতিদিন CBC টেস্ট করতেই হবে মাস্ট। সিবিসি করে কি চেক করবেন? Platelet? না। HCT বা হেমাটোক্রিট। বিলিভ মি, যত প্যাশেন্ট মারা যাচ্ছেন, সব ডেঙ্গু শক সিন্ড্রমে, কেউ প্লাটিলেট বা ব্লিডিং হয়ে মারা যাচ্ছেন না। হেমোরেজিক ডেঙ্গুর চাইতে এখন আমাদের দেশে ডেঙ্গু শক হচ্ছে বেশি। আর এই হেমাটোক্রিট আপনাকে ইন্ডিকেশন দিবে এই শক সম্পর্কে। CBC থেকে আপনি কিভাবে কি বুঝবেন এবং দ্রুত হসপিটাল যাবেন?
যদি দেখেন আপনা HCT/PCV প্রথম দিনের নর্মাল রেঞ্জের চাউতে অনেক বেড়ে গেছে, ধরুন ছিলো ৩৫%, এখন ৪০%-৪৫%, তাহলে আপনার প্লাজমা লিকেজ হচ্ছে, শক।
যদি দেখেন হিমোগ্লোবিন এবং HCT দুটোই প্রথম দিনের চাইতে অনেক কমে গেছে, তবে আপনার শরীরে কোথাও ব্লিডিং হচ্ছে, সাথে কালো পায়খানা, লাল প্রশ্রাব, দাঁতের মাড়ি থেকে, নাক থেকে রক্ত পড়ছে। দ্রুত হসপিটাল ভর্তি হবেন। এক মুহুর্ত দেরি করা যাবেনা।
আর কী কী বুঝা যাবে CBC থেকে? যদি আপনার WBC count বা হোয়াইট ব্লাড কাউন্ট ৫হাজারের নিচে নেমে যায়, লিউকোপিনিয়া, এবং মনে রাখবেন, WBC count না কমার আগে আপনার প্লাটিলেট কমবে না। WBC count কমার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার Platelet count কমতে শুরু করবে। Platelet count যখন ১লাখের নিচে নেমে যাবে, তার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনার প্লাজমা লিকেইজ শুরু হবে, এবং আপনি শকের দিকে ধাবিত হবেন। তাহলে CBC কতটা গুরুত্বপূর্ণ আশাকরি বুঝতে পেরেছেন। মনে রাখবেন, প্রতিদিন CBC করতে হবে। প্লাটিলেট কমে গেলে মরবেন না, তাই প্লাটিলেট নিয়ে হাহুতাশ করবেন না। প্লাটিলেট ২০হাজারের নিচে না নামলে অন্য কোন প্রব্লেম না থাকলে ব্লিডিং হয়না, কারোর ১০হাজারেও কিছু হয়না। এটা আমাদের দেশে একটা অকারণ আতঙ্ক। পেপে পাতাও খাওয়া লাগবেনা, প্লাটিলেট যখন বাড়বে, একদিনেই কয়েক লাখ বেড়ে যাবে।

ক্রিটিকাল ফেইজ:
--------------------------
মনে রাখবেন, জ্বর থাকা অবস্থায় ডেঙ্গু রোগী মারা যায়না, বরং বিপদ শুরু হয় মূলত জ্বর কমার পর এবং সাধারণত আগে ৫-৬দিনের মাথায় ক্রিটিকাল ফেইজ শুরু হতো, কিন্তু এখন ৩দিনের শুরুতেই রোগীরা শকে চলে যাচ্ছে। ইভেন অনেকে জ্বর থাকা অবস্থাতেই ক্রিটিকাল হয়ে যাচ্ছে। তাই ফিভার কমে গেলে আরও সতর্ক হতে হবে। এই ফেজে আপনার প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাবে। কিন্তু আগেই বলেছি, আপনাকে দেখতে হবে হেমাটোক্রিট।
এই ফেজে আর কী কী করলে বুঝতে পারবেন আপনার রোগী খারাপ হচ্ছে কিনা?
#ব্লাড_প্রেশার মাপবেন। দিনে ৪-৫বার মিনিমাম। বরং প্রথম দিন থেকেই মাপবেন।
এক্ষেত্রে ধরেন অনেকেরি আগে থেকে বিশেষ করে মেয়েদের ব্লাড প্রেশার লো থাকে, সো মাপার সময় আগে কত থাকতো জেনে নিবেন। বাসায় একটা ব্লাড প্রেশার মেশিন রাখবেন, ডিজিটাল মেশিন হলে পর পর দুইবার মাপবেন, আর ম্যানুয়াল হলে একবার মাপবেন।
এতে কি বুঝা যাবে? যদি ব্লাড প্রেশার সিস্টোলিক আইমিন উপরেরটা ১০০ এর নিচে নেমে যায় এবং ডায়স্টলিক মানে নিচেরটা ৬০ এর নিচে নেমে যায়, তবে এলার্ট হয়ে যান।
কিন্তু ধরেন উপরের প্রেশার ১০০-১১০ আর নিচেরটা ৯০। আপনি ভাবলেন নর্মাল। বা ৯০/৭০ বা ১২০/১০০। না, এটা নর্মাল না। দুটোর বিয়োগফল কত আসে? অনেক কাছাকাছি না? এটাকে বলে ন্যারো পালস প্রেশার এবং এই পালস প্রেশার যদি ২০ এর কম হয়, অর্থাৎ দুটোর পার্থক্য যদি ২০ এর কম হউ, ইউ আর ইন শক ওর আপনি শকে যাচ্ছেন।
দ্রুত হসপিটাল।
এই ক্রিটিকাল ফেজে আর কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ?
তীব্র পেটে ব্যথা হচ্ছে কিনা? এটা শকের লক্ষন।
লো প্রেশারের সাথে আপনার রোগীর হাত ও পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে কিনা, এটা শকের লক্ষন।
আপনার রোগী অস্থিরতা দেখাচ্ছে কিনা, একদম নেতিয়ে দূর্বল ফ্যাকাশে হয়ে গেলো কিনা, বিপদ চিহ্ন।
খুব ভালোকরে প্রশ্রাবের দিকে খেয়াল করবেন। কয়বার প্রশ্রাব করছে, কতটুকু প্রশ্রাব হচ্ছে প্রতিবার। যদি প্রশ্রাব কমে যায়, অল্প প্রশ্রাব হয়, হসপিটাল সোজা ভর্তি হয়ে যাবেন।
রোগীর কি শ্বাসকষ্ট হচ্ছে? পেট ফুলে যাচ্ছে? হঠাৎ করে গা ঝাকুনি দিয়ে খিচুনি হচ্ছে? দ্রুত হসপিটাল নিয়ে যান।

আর কি করতে পারেন? হাতের আঙুলের নখে জোরে চাপ দিয়ে ধরুন কিছুক্ষণ, নখ সাদা হয়ে গেলে এবার ছাড়ুন, এবার ভালোভাবে খেয়াল করুন নখের রঙ ফিরে আসতে কত সময় লাগছে, যদি বেশি সময় লাগে, বেশি বলতে কত? ২ সেকেন্ডের বেশি লাগলে আপনার রোগী শকে আছে। এটাকে বলে ক্যাপিলারি রিফিল টাইম।
আর কি করতে পারেন?
ব্লাড প্রেশার মেশিন নিন, এবার হাতের কব্জি মাঝে রেখে যেভাবে ব্লাড প্রেশার মাপবেন সেভাবে বাতাস দিয়ে টাইট করুন, টাইট অবস্থায় ৪-৫মিনিট দিয়ে রাখুন, এবার বাতাস ছাড়ুন, এবং খেয়াল করুন বাহুতে লাল লাল কতগুলো দাগ পড়েছে ছোট ছোট, ছোট্ট একটা বক্স কল্পনা করে যদি মনে হয় অনেক বেশি লাল লাল স্পট, দ্রুত হসপিটাল চলে যান। এটাকে বলে টর্নিকেট টেস্ট। সব রিপোর্ট নর্মাল আসলেও যদি আপনার টর্নিকেট টেস্ট পজিটিভ আসে, নিশ্চিত থাকুন আপনার ডেঙ্গু। এটা একদম প্রথম দিন থেকে প্রতিদিন করবেন।

বমি ও পাতলা পায়খানা:
-----------------------------------
দিনে ৩বারের বেশি বমি করলে, ৩বারের বেশি পাতলা পায়খানা হলে সোজা হসপিটাল চলে যাবেন। একমুহূর্ত দেরি করা যাবেনা।

বাসায় কি করবেন?
---------------------------
প্রচুর পরিমানে তরল খাওয়াবেন। ২-৩লিটার, ডাবের পানি, আধা লিটার পানিতে গোলানো স্যালাইনের পানি, স্যুপ,শরবত লবন চিনি দেয়া খাওয়াবেন। যতক্ষণ মুখে খেতে পারবে খাওয়াবেন, যখন আর পারবেনা, বমি হবে অনেক, পাতলা পায়খানা, হসপিটাল নিয়ে যাবেন।

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকবেন।
বেশিরভাগ রোগী মারা যায় শুরুতেই ডাক্তারের পরামর্শ না নেয়াতে, বিপদ চিহ্ন না জানাতে, বাসায় থেকে রোগী খারাপ করে ফেলে।

******ডায়বেটিস, হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক, কিডনি, লিভার, ক্যান্সার, SLE প্যাশেন্ট হলে প্রথম দিনেই হসপিটাল ভর্তি করে দিবেন।

********আপনার বাড়ির কাছের হসপিটালে আগে যাবেন।
সব সরকারি হসপিটালের ম্যানেজমেন্ট ভালো, বারান্দায় শুয়ে থাকলেও, কারণ সরকারি হসপিটাল এবং মেডিকেল কলেজ গুলোতে ন্যাশনাল গাউড লাইন মেনে চিকিৎসা দেয়া হয়।

*******বাসায় পালস অক্সিমিটার থাকলে অক্সিজেন স্যাচুরেশন চেক করবেন।

********কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে হার্ট ইনভলভ হয়ে যাবে, দেরি করলে অর্গান ফেইলিউর হয়ে যায়। ভাইরাল মায়োকার্ডাইটিস কিংবা একিউট কিডনি ইঞ্জুরির রোগীর জন্য আইসিউ লাগবেই। এসব রোগী বাইরে ম্যানেজ করা যায়না। রোগী খারাপ দেখলে সকল প্রস্তুতি রাখুন। যে কোন ইসিজি চেঞ্জেস, বিশেষ করে ট্যাকিকার্ডিয়া, শ্বাস দ্রুত হওয়া মানে ট্যাকিপেনিয়া বিপদ চিহ্ন। খারাপ হওয়ার আশংকা বেশি। কারো কারো ক্ষেত্রে প্লুরাল ইফিউশন অর্থাৎ লাংসে পানি চলে আসতে পারে।

*******মনে রাখবেন, প্রতিদিন সিবিসি টেস্ট, ডাক্তারের পরামর্শ, হসপিটাল এডমিশনের প্রস্তুতি, প্রচুর তরল খাওয়ানো, ব্লাড প্রেশার মাপা, বিপদ চিহ্ন খেয়াল করা, দেরি না করে হসপিটাল নেয়া, জ্বর কমে গেলে আরও সতর্ক হওয়া, প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোন মেডিসিন ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া না খাওয়ানো।

*******ডেঙু এখন আর শুধু ঢাকাতে সীমাবদ্ধ না, সারা বাংলাদেশে ছড়িয়েছে।

*******দিনে রাতে যে কোন সময় ডেঙ্গু মশা কামড়ায়।
*******পরিষ্কার নোংরা সব পানিতেই ডেঙ্গু হচ্ছে।
*******Dengue NS1 test জ্বর শুরু হওয়ার ৩দিন পর করলে লাভ নেই। সেক্ষেত্রে CBC, SGOT, Dengue Antibody (IgG+IgM) করতে হবে।
*******যারা রক্ত তরল করার মেডিসিন খান, ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেটি বন্ধ রাখবেন কিংবা খাবেন। কোন অবস্থাতেই নিজে নিজে বন্ধ বা খাওয়া যাবেনা।

সবাই সবার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহর কাছে বেশি বেশি সুরক্ষা চাইবেন। চারপাশ পরিষ্কার রাখবেন।
সতর্ক থাকবেন।

তথ্যসূত্র:
------------
Dengue National Guideline
CDC

16/06/2023

ভ্রমণকালীন সালাত- ‘কসর’

ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক প্রয়োজন কিংবা আনন্দ বা শিক্ষার উদ্দেশ্য-সহ বিভিন্ন কারণে দূর-দূরান্তে ভ্রমণ করতে হয়। ভ্রমণে ক্লান্তি হওয়া খুব স্বাভাবিক। তাই, আল্লাহ্‌ তায়ালার পক্ষ থেকে ভ্রমণে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তখন নামাজ সংক্ষেপ করাই ইসলামের বিধান। সংক্ষেপিত নামাজের নামই হচ্ছে ‘কসর’।

নিজ অবস্থানস্থল থেকে ৪৮ মাইল বা ৭৮ কিঃমিঃ দূরত্বে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হয়ে নিজ এলাকা পেরিয়ে গেলেই শরিয়তের দৃষ্টিতে ব্যক্তি মুসাফির হয়ে যায় (জাওয়াহিরুল ফিক্বহ ১/৪৩৬, আহসানুল ফাতওয়া ৪/১০৫)। আর, নিজ এলাকা হচ্ছে নিজ সিটি কর্পোরেশন/ পৌরসভা/ ইউনিয়নের নির্ধারিত সীমা। অনুরূপভাবে, ভ্রমণ থেকে ফিরে আসার ক্ষেত্রেও নিজ এলাকায় প্রবেশের সঙ্গেই তার ভ্রমণের বিধান শেষ হয়ে যাবে (রদ্দুল মুহতার ২/১২৮)।

মুসাফির যদি গন্তব্যে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করেন, তবে চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজসমূহ (যোহর, আসর ও ইশা) নামাজ দুই রাকাত করে পড়বেন। ১৫ দিন বা ততধিক অবস্থানের নিয়ত করলে তিনি সেখানে মুকিম হয়ে যাবেন। প্রস্থানের পূর্ব পর্যন্ত সেখানে পূর্ণ নামাজ পড়বেন এবং মুকিমের বিধান জারি থাকবে (বাদায়েউস সানায়ে ১/১০৪)।

আকাশ পথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে দূরত্বের হিসাব স্থলপথের অনুরূপ হবে, অর্থাৎ ৭৮ কিঃমিঃ দূরত্বের সফর হলে মুসাফির হবে (রদ্দুল মুহতার ১/৭৩৫)। অনুরূপ, পার্বত্য এলাকায় সফরের ক্ষেত্রেও সমতলে চলার হিসেবেই হবে, অর্থাৎ পাহাড়ের উঁচু-নীচু ঢালুসহ দূরত্বের হিসাব হবে (ফাতহুল ক্বাদীর ২/৩১, আল বাহরুর রায়েক ২/২২৯)।

মুসাফির ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত চার রাকাত নামাজ পূর্ণ করলে গুনাহ হবে। এ ক্ষেত্রে নামাজ পুনরায় পড়া ওয়াজিব। যদি ভুলে চার রাকাত পূর্ণ করে এবং প্রথম বৈঠক করে থাকেন, তাহলে সাহু সিজদা করলে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। যদি প্রথম বৈঠক না করে থাকেন, তাহলে ফরজ আদায় হবে না, আবারও পড়তে হবে (বাদায়েউস সানায়ে ১/৯১)। স্থানীয় ইমামের পেছনে ইকতিদা করলে ইমামের অনুসরণে পূর্ণ নামাজ আদায় করতে হবে। (আল মাবসুত, সারাখসি ১/২৪৩)।

মুসাফির যদি ইমাম হন এবং স্থানীয় কোনো ব্যক্তি যদি তাঁর পেছনে ইকতিদা করেন, তাহলে চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজগুলোতে ‘মুসাফির ইমাম’ নামাজ দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরাবেন এবং স্থানীয় মুক্তাদি দাঁড়িয়ে বাকি দুই রাকাত নামাজ পড়ে নেবেন। ভ্রমণে ছুটে যাওয়া নামাজ আবাস্থলে এসে কাজা করলে ‘কসর’ আদায় করতে হবে, আর মুকিম অবস্থায় ছুটে যাওয়া নামাজ ভ্রমণে কাজা করলে তা পূর্ণ আদায় করতে হবে। (হেদায়া ১/৮১)

কেউ স্থায়ী আবাস পরিবর্তন করে অন্যত্র আবাস গড়লে এবং সেখানে স্থায়ী বসবাসের জন্য না যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও আগের আবাসস্থল আর মৌলিক আবাস হিসেবে গণ্য হবে না; এমনকি তার মালিকানা জায়গা-জমিন থাকলেও নয়। বরং সেখানেও ভ্রমণের সীমানা অতিক্রম করে গেলে মুসাফিরই থাকবেন (আল মাবসূত, সারাখসী ১/২৫২)।

নারীরা বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত বাবার বাড়িতে মুকিম থাকবেন। বিয়ের পর যদি স্বামীর বাড়িতে মৌলিকভাবে থাকেন এবং বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন, তাহলে স্বামীর বাড়ি তাঁর মৌলিক আবাস হিসেবে ধর্তব্য হবে এবং বাবার বাড়িতে মুসাফির হবেন। আর, যদি বাবার বাড়িতে মৌলিকভাবে থাকেন, তাহলে সেটাই তার মূল আবাস হিসেবে গণ্য হবে (আল বাহরুর রায়েক ২/১২৮, রদ্দুল মুহতার ২/১৩১)। পুরুষরা শ্বশুরবাড়িতে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে মুসাফির থাকবেন। ঘরজামাই শ্বশুরবাড়িতে মুকিম হিসেবে গণ্য হবেন।

মুসাফির ব্যক্তির জন্য চলন্ত অবস্থায় বা তাড়াহুড়া থাকলে ফজরের সুন্নাত ছাড়া অন্যান্য সুন্নাতে মুয়াক্কাদা না পড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে, স্বাভাবিক ও স্থির অবস্থায় সুন্নাতে মুয়াক্কাদা পড়তে হবে। (এলাউস্ সুনান ৭/১৯১, রদ্দুল মুহতার ১/৭৪২)। মূলত, ভ্রমণে তাড়াহুড়া ও ব্যস্ততার সময় সুন্নত পড়বেন না। তবে, গন্তব্যে পৌঁছার পর সুন্নত নামাজ পড়া উত্তম।

স্মতর্ব্য, স্বাভাবিক অবস্থার মতো ভ্রমণেও জামায়াতে নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। জামায়াতের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকুন।

আল্লাহ্‌ তায়ালাই সর্বোত্তম জানেন। তিনি আমাদেরকে মকবূল ইবাদাতের তৌফিক দিন, আমীন।

15/06/2023

১.

দুইজন সাক্ষী থাকলে মৌখিক বিয়ে বৈধ। কাবিননামা মানে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন কার্ড। বিয়ে করে কেউ কাবিননামা না করলেও বিয়ে বৈধ হবে। ইমাম মালিক এর ফতোয়া হচ্ছে সাক্ষীও দরকার নাই। সমাজের লোকজন যদি তাদেরকে স্বামী স্ত্রী হিসেবে জানে তাহলে সাক্ষী দিয়ে বিয়ে প্রমাণ করতে হয় না।

সাক্ষী থাকলে কাবিননামা ছাড়াও বিয়ে প্রমাণ করা যায়। মুসলমানদের জন্য লিখিত কাবিননামা করা বাধ্যতামূলক কেবল বাংলাদেশী আইনে। যদি কেউ না করে তাহলে তার জন্য শাস্তি হচ্ছে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক তিন হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়ই। এই শাস্তি স্বামী - স্ত্রী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

লিখিত ডকুমেন্টস রেখে বিয়ে করার আইন প্রথম চালু করেন আইউব খান। শরীয়া আইনে এরকম বাধ্যবাধকতা নাই। বাংলাদেশের হিন্দুদের বিয়ে প্রায় সবই মৌখিক। হিন্দুদের বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা ঐচ্ছিক।

মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত হচ্ছে: বিয়ের নন-রেজিস্ট্রেশন বিয়ের বৈধতাকে আঘাত করে না। কিন্তু বিয়ের নন-রেজিস্ট্রেশন বিয়ে নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক সৃষ্টি করে। ( ডা. এ আই এম আবদুল্লাহ বনাম রোকেয়া খাতুন ২১ ডিএলআর ২১৩)

২.

দ্বিতীয় বিয়ে করার ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগে না। আর্বিট্রেশন কাউন্সিল এর অনুমতি লাগে। আর্বিট্রেশন কাউন্সিল আর্বিট্রেশন কাউন্সিল গঠন করবেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অথবা মেয়র। চেয়ারম্যান বা মেয়র এর প্রধান এবং দুই পক্ষের মনোনীত দুইজন সদস্য নিয়ে আর্বিট্রেশন কাউন্সিল গঠিত হবে। তাই দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে অনুমতি চাইবে হবে ইউপি চেয়ারম্যান বা পৌর/সিটি মেয়রের বরাবর।

আর্বিট্রেশন কাউন্সিল এর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সেক্ষেত্রে শাস্তি হচ্ছে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা অথবা দশ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়ই। আর্বিট্রেশন কাউন্সিল এর অনুমতি না নিলে শুধু এই শাস্তি ভোগ করতে হবে কিন্তু দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ হবে না। এটাও আইউব খানের করা আইন। শরীয়া আইনে এরকম শর্ত বা শাস্তি নাই।

Habibur Rahman

15/05/2023

আমি আমার নিজের দাম্পত্য জীবন সহ, আমার আরো বিবাহিত ভাইদের জীবন থেকে যেটা বুঝেছি,
স্বামী স্ত্রী একসাথে থাকলে অনেক সমস্যার সমাধানই হয়ে যায়। অথচ দূরে দুইজন দুই জায়গায় থাকলে দাম্পত্য জীবনে ও পারিবারিক জীবনে নানা রকম সমস্যা দানা বাঁধতে পারে।
ভুল বুঝাবুঝি, ভালবাসা এক্সপ্রেস করতে না পারা, অকারণ সন্দেহ ইত্যাদি। এমনকি শুধু স্বামী স্ত্রীর নিজেদের মধ্যে না, দুজনের দুই পরিবারের মধ্যেও নানাবিধ সমস্যা হতে পারে যদি স্বামী স্ত্রী দুইজন দূরে দুই জায়গায় থাকে।
এই সব গুলোরই সমাধান যতই যা হোক একসাথে থাকা, কাছাকাছি থাকা।

কাছাকাছি থাকলে ঘনিষ্ঠতা যেভাবে বাড়ে, আন্ডার স্ট্যান্ডিং যতটা ডেভেলপ হয়, পারস্পারিক মায়া দরদ যেভাবে বাড়ে, দূরে থেকে শুধুমাত্র মাসে দুই দিন বা সপ্তাহে একদিন একসাথে কাটিয়ে সেভাবে ঘনিষ্ঠতা, আন্ডার স্ট্যান্ডিং, মায়া মমতা বাড়ে না।

কিন্তু যে দুই বছর আমি ঢাকায় ছিলাম (পরিবার রাজশাহীতে) ঐ দুই বছর আমার স্ত্রীকেও আমার বাসায় রাখিনি।
যদিও শ্বশুর শ্বাশুরি আশা করে একটা মাত্র বউ কাছে থাকুক, তাই সে যাওয়া আসা করত, আমি আসলে আসত কিন্তু পার্মানেন্ট রাখিনি।
কারণ স্বামী এমন একজন ব্যক্তি যে কিনা মা এবং স্ত্রীর মধ্যে ম্যানেজমেন্ট করে, ব্যালেন্স করে।
স্বামী যখন দূরে তখন বউ শ্বাশুরির মধ্যে যেকোন সময় ইচ্ছে কিংবা অনিচ্ছেকৃত ভাবে হয়ত ঝামেলা হয়ে যেতে পারে। এখন আমি আসার পর সবাই একসাথে থাকি আলহামদুলিল্লাহ।

বিয়ে করা হয় বউকে কাছে রাখার জন্য, বউ এর থেকে দূরে থাকার জন্য না। যদি সামর্থ্য না থাকে বউকে কাছে রাখার তাহলে কিছুদিন পর বিয়ে করুন।
অনেকে আবার বিয়ে করে বউ রেখে প্রবাসে চলে যান, এরা কোন ক্যাটাগরির আমি মেলাতে পারিনা। দেখুন প্রয়োজন আর বিলাসিতা এক নয়।
অনেকেই আছেন প্রয়োজনে যেতে বাধ্য হয়ে থাকেন, কিন্তু ম্যাক্সিমামই তো বিলাসিতার জন্য, একটু খানি ভাল থাকার জন্য এই কাজ করে থাকেন। নিজেকেই প্রশ্ন করুন তো, আপনার টা প্রয়োজন না বিলাসিতা?
যদি প্রয়োজন হয়, তাহলেও কি খুব প্রয়োজন? পরিবারের কাছে থাকার চেয়েও?

আর সামর্থ্য কেন থাকবেনা? আপনার মেস ভাড়া যদি ১৫০০ টাকা হয়, আর ১৫০০ দিয়ে তিনহাজার টাকায় একটা কুড়েঘর ভাড়া নিন না?
খাবেন কম, পায়ে হেঁটে অফিসে যাবেন, পোশাক কিনবেন না, কিন্তু দিন শেষে একসাথে থাকবেন।
ভাতের ক্ষুধা মিটাবেন দুই কাপ চা একসাথে খেয়ে আড্ডা দিয়ে। স্ত্রী যখন কাঁধে যখন মাথা রাখবে, তখন পেটের ক্ষুধা কাঁধ দিয়েই চলে যাবে।
আর এত চিন্তার তো কিছু নেই। আল্লাহ বরকত দিয়ে দিবেন এই ভরসা, এই বিশ্বাস থাকা লাগে।

শুধুমাত্র ফ্যামিলির টানে, এবং ফ্যামিলির কাছে রিজিকের ব্যবস্থা না করতে পেরে, কিংবা ফ্যামিলিকেও আমার কাছে নিয়ে যেয়ে রাখতে পারিনি (স্ত্রী ছাত্রী ছিল, আর মা বাবা রাজশাহীতে। আর আমি তো বাবা মা ছেড়ে শুধু স্ত্রী নিয়ে থাকব না) ঢাকা থেকে চাকরি ছেড়ে চলে এসেছিলাম।
চারটা মাস বেকার বসে থেকেছি, মাত্র চারটা মাস। তারপর তো আলহামদুলিল্লাহ্‌ বরকতময় অবস্থা যাপন করছি সবাই একসাথে। আল্লাহ সম্মান জনক রিজিক দান করেছেন।
আমি আপনাকে রিস্ক নিতে বলছিনা, তবে তাওয়াক্কুল থাকলে রিস্ক নিন।

জীবিকার আগে পরিবারিক সম্পর্কে প্রাধান্য দিন।
আপনি বলবেন পরিবারের জন্যই তো জীবিকা। হ্যা সত্য। কিন্তু আপনার পরিবার আপনাকে ছেড়ে পোলাও মাংস খেতে চায়না বরং আপনাকে সাথে নিয়েই ডাল ভাত খেতে চায়।
প্রতিনিয়ত য‌দি কা‌ছে থেকে পা‌শে থে‌কে সুখ দুঃখ ভাগাভা‌গি না করা গে‌লো তো সেটা কেমন দাম্পত্য !

শুধু দূর থেকে টাকা পাঠিয়ে দেবার নাম পারিবারিক দায়িত্ব পালন নয়, দাম্পত্যের হক আদায় এভাবে হয়না। আপনি বলবেন আপনার সামর্থ্য নেই?
ভুল। হয়ত এটা বলতে পারেন যে স্বচ্ছল ভাবে চলার সামর্থ্য নেই। কিন্তু গরীবি হালে তো চলার সামর্থ্য আছে?

গরীবি হালে চলুন তবুও একসাথে থাকুন। যৌবনের অনেক সময় নষ্ট করে ফেলেছেন দূরে থেকে। প্রতিটা মিনিট মুল্যবান। এভেন প্রতিটা সেকেন্ড।

আপনি যদি আমাকে খোঁটা দেন, যে বিয়ের প্রথম দুই বছর আমিই তো ছিলাম ঢাকায়।
তাহলে শুনে রাখুন, আমার মত আপনি পারতেন না। আমাদের ছিল মাত্র একদিন ছুটি। শুক্রবার। তবুও প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে বাসায় আসতাম আট ঘন্টার রাস্তা, আবার পর দিন সন্ধায় রওনা দিয়ে শনিবার সকালে অফিস ধরতাম। অর্থাৎ ষোল ঘন্টা ট্রাভেল করে ১০-১৫ ঘন্টা বাসায় থাকতে পারতাম।
দুই বছরে এক বৃহস্পতিবারও মিস যেতনা।
এভাবেই গিয়েছে আমার দুই বছর। প্রতি মাসে চারবার বাসায় আসতাম, এত কষ্ট হতো, কারণ আমি বাস জার্নি পারতাম না (এখন পারি), কত রাতে বাস পাইনি, ট্রাকের উপর উঠে বাসায় এসেছি।
যদিও কম বয়সে (আসলে কম না, বরং আমার বেশিই মনে হয়) বিয়ে করেছি, তবুও ঐ দুই বছরের জন্য নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনা। বিবাহিত জীবনের ঐ দুই বছর কি ফিরে পাবো আর?

বৃদ্ধ বৃদ্ধা হয়ে একদিন বারান্দায় ভাববেন দুজন যে, আজ দুজনের সব আছে, ছেলে পেলে নাতি পুতি। কিন্তু একসাথে হারানো সময় গুলো নেই। খুব মিস করবেন কিন্তু কিছুই করার থাকবেনা। হারানো যৌবন আর দাম্পত্যের মুহুর্ত গুলো ফিরে পাবেন না।
আর সময়ও আপনাদের ক্ষমা করবে না, কারণ আপনি এর মুল্যায়ন করেন নি। সময় শোধ নিবে।
কী করে বুঝাই আপনাকে ! দূরে থেকেন না।

একসাথে থাকুন।
একসাথে থাকুন।
একসাথে থাকুন।

প্রতিদিন দুইবেলা খান, রোজা রেখে খাওয়া খরচ কমান। তবুও একসাথে থাকুন। নাহলে প্রচুর পস্তাবেন, প্রচুর।
আর বিবাহিত হয়েই ব্যাচেলর লাইফ কাটানোতে শতভাগ সুকুনও লাভ করতে পারবেন না। এই সেই অশান্তি লেগেই থাকবে।
//
আমি কেন নিজের উদাহরন দিই?
কারন অনেকেই বলে থাকেন, যে বলা সহজ করা কঠিন। তাই যা বলছি, নিজেও তা যে করেছিও সেটার রেফারেন্স টেনে দিই। আর নিজে যা পারিনা, তা অন্যদের বলিও না।


লেখা: শাহ তন্ময়

17/04/2023

রেইনড্রপস প্রকাশিত সবগুলো অডিও সিরিজের এমপিথ্রি ডাউনলোড লিঙ্ক (হিয়ারদিস)।

------- ------- ------- ------- ------- -------
১. পরকালের পথে যাত্রা - https://tinyurl.com/porokalerpothejatra (২২ পর্ব)
২. পথিকৃৎদের পদচিহ্ন: নবীদের জীবন - https://tinyurl.com/nobiderjibon (৩৩ পর্ব)
৩. সীরাহ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী) - https://tinyurl.com/seerahaudio (৭০ পর্ব)
৪. ধূলিমলিন উপহার: রামাদান - https://tinyurl.com/dhulimolinupohar (২৮ পর্ব)
৫. হৃদয়ের বসন্ত (তাফসীর অডিওবুক) – https://tinyurl.com/hridoyerbosonto (৮টি সূরা)
৬. চেনা অচেনা চেনা (আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহ নিয়ে আলোচনা) – https://tinyurl.com/chenaochenachena (৩৬ পর্ব)
৭. আস-সিদ্দীক্ব (আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনী) – https://tinyurl.com/as-siddeeq (১৭ পর্ব)
৮. আল-ফারুক্ব (উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনী) – https://tinyurl.com/umar-al-faruq (২৬ পর্ব)
৯. যুন-নূরাইন (উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনী) – https://tinyurl.com/dhun-noorain (১০ পর্ব)
১০. হায়দার – আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনী এবং সাহাবীযুগের পরিসমাপ্তি – https://tinyurl.com/alinendofsahaba (১৮ পর্ব)
১১. শেষের গল্প – https://tinyurl.com/sheshergolpo (২০ পর্ব)

প্রকাশিতব্য, ইনশা আল্লাহ
১২. উম্মাহাতুল মু’মিনীন
১৩. ছিলেন যারা উম্মাহর ধ্রুবতারা
১৪. ফেমিনিজম বিষয়ক, নাম চূড়ান্ত হয় নি
------- ------- ------- ------- ------- -------
ইউটিউব চ্যানেলের লিংক - https://tinyurl.com/raindropsmedia

------- ------- ------- ------- ------- -------
আমাদের বইগুলো
সীরাহ ১ম ও ২য় (শেষ) খণ্ড (হার্ডকপি)
প্রাচীর (পিডিএফ লিঙ্ক) - https://tinyurl.com/prachirpdf (হার্ডকপি আনএভেইলেবল)
মুবাশশিরীন (প্রকাশিতব্য)

------- ------- ------- ------- ------- -------
আমাদের ওয়েবসাইট - www.raindrops.media

Copyright: Raindrops Media

12/04/2023

🍀 ঘরে মহিলাদের ইতি'কাফের ব্যাপারে বিস্তারিত নিয়ম কানুন যারা জানতে চান তাদের জন্য এই লিখা-

#ই'তিকাফ অর্থ হচ্ছে, অবস্থান করা, বিচ্ছিন্ন হওয়া, নিঃসঙ্গ হওয়া৷ বান্দা ই'তেকাফে বসবে একমাত্র আল্লাহ পাকের সঙ্গে সুনিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্যে৷

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন।
তাই শেষ ১০ রমজান ইতিকাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কেফায়াহ।
তবে কিছু আলিমদের মতে মহিলাদের জন্য ইতিকাফ মুস্তাহাব (উত্তম)

(ইতিকাফ করার সুযোগ যাদের আছে তারা পুরো লিখা পড়বেন।
যাদের সুযোগ নেই বা কম তারা লাস্টের অংশটা পড়বেন বিশেষভাবে)

◼ রমজানের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করতে চাইলে ইতেকাফের নিয়ত করে ২০ রমজান সূর্য অস্তমিত হওয়ার পূর্বে
অর্থাৎ মাগরীব হবার পূর্বেই ইতেকাফের স্থানে অবস্থান গ্রহণ করতে হবে
এবং ঈদের চাঁদ উঠলে ইতেকাফ শেষ হবে।
(মাগরীব হয়ে গেলে তারপর নির্ধারিত স্থানে প্রবেশ করলে সুন্নত ইতিকাফ হবেনা)

◼ যদি ১০ দিন ইতিকাফ করার সুযোগ না থাকে বরং একদিন বা অল্প কয়েকদিন নফল ই'তিকাফ করতে চান তাইলে করতে পারেন।
সেক্ষেত্রে একদিন করলে ই'তিকাফের নিয়ত করে সূর্যাস্তের আগেই ই'তিকাফের স্থানে অবস্থান শুরু করবেন এবং পরদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত ই'তিকাফ করবেন।
আর যদি আরো অল্প সময়ের জন্য ইতিকাফ করতে চান তাইলে তাও করতে পারবেন। নফল ইতিকাফের কোন সর্বনিম্ন সময় সীমা নেই। ইতিকাফের নিয়ত করে যতক্ষন ইচ্ছে ইতিকাফ করা যায়।

◼ পুরুষদের ইতিকাফ মাসজিদেই করতে হবে। আর নারীরা নিজেদের ঘরের নির্দিষ্ট ইবাদতের স্থানে ই'তিকাফে বসবেন। যেখানে সবসময় নামাজ পড়ে থাকেন।
আর ইবাদতের জায়গা নির্দিষ্ট না থাকলে ই'তিকাফের জন্যে একটি জায়গা নির্দিষ্ট করে নিবেন৷ খাবার-দাবার এখানেই সারবেন৷ শরীয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া এই জায়গা ছেড়ে অন্যত্র যেতে পারবেন না৷ বড় কোন কক্ষ ইতেকাফের স্থান হতে পারবেনা।
ছোট কামরা হতে হবে,
অবশ্য বড় কক্ষের এই পরিমান স্থান নির্দিষ্ট করে নিতে পারবে, যাতে সে নিরাপত্তার সাথে অবস্থান করতে পারে
ই'তিকাফের জায়গা ছেড়ে ঘরের অন্য জায়গাতে গেলেও ই'তিকাফ নস্ট হয়ে যাবে৷ স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থাকতে পারলেও স্বামী-স্ত্রীসূলভ ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থাকতে হবে৷

◼ যে কোনো কারণে ই'তিকাফ ভঙ্গ হয়ে গেলে পরবর্তীতে রোযাসহ কেবল একদিনের ই'তিকাফের কাযা করতে হবে৷

◼ পিরিয়ডের সময় ইতিকাফ নয়:
মহিলাদের ইতিকাফের জন্য হায়েজ, নেফাস থেকে পবিত্র হওয়া শর্ত। হায়েজ নেফাসের অবস্থায় ইতিকাফ সহি হয় না। (বাদায়ে ২/২৭৪,
আলমগীরি ১/২১১, শামী ৩/৪৩০)।

মহিলাদের সুন্নাত ইতিকাফে বসার আগেই হায়েজ-নেফাসের দিন-তারিখের হিসাব-নিকাশ করে বসাই উচিত। যাতে ইতিকাফ শুরু করার পর হায়েজ পিরিয়ড শুরু হয়ে না যায়। তবে কারও যদি রমজানের শেষ দশকে হায়েজ হওয়ার নিয়ম থাকে তাহলে তিনি হায়েজ শুরু হওয়া পর্যন্ত নফল ইতিকাফ করতে পারেন। হায়েজ শুরু হওয়ার আগেই ওষুধ-বড়ি খেয়ে হায়েজ পিরিয়ড বন্ধ রেখে রোজা রাখলে ইতিকাফ করলে রোজা ও ইতিকাফ সহি হবে। কোনো মহিলা ইতিকাফ শুরু করার পর যদি তার হায়েজ পিরিয়ড শুরু হয়ে যায় তাহলে তার ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং পরে শুধু একদিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে। (আহসানুল কাতাওয়া ৪/৫০২)।

◾ মাসিক শুরু হওয়ার কারণে যদি কারো সুন্নত ইতিকাফ ভেঙ্গে যায়। তাহলে যে দিন মাসিক শুরু হয়েছে শুধু সেই একদিনের ইতিকাফ কাযা করে নেওয়া জরুরি। এই এক দিন কাযা করার নিয়ম হল, একদিন সূর্যাস্তের আগে ইতিকাফ শুরু করতে হবে। পরবর্তী দিন রোযা থাকতে হবে। সূর্যাস্তের পর ইতিকাফ শেষ হবে। এভাবে একদিন রোযাসহ ইতিকাফ করলেই কাযা আদায় হয়ে যাবে। পুরো দশ দিনের ইতিকাফ কাযা করতে হবে না।
-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭; জামিউর রুমুয ১/৩৮৫; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৫; আলজাওহারা পৃ. ১৮৬; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৭/২৮৬

◼ মহিলারা ঘরের যে স্থান ইতিকাফের জন্য নির্ধারণ করবে এতেকাফ অবস্থায়, তা পুরুষের ক্ষেত্রে মসজিদের মতো গণ্য হবে। অর্থাৎ মানবিক প্রয়োজন ছাড়া সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে না। মানবিক প্রয়োজন ছাড়া সে স্থানের বাইরে গেলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।
(আলমগীরি ১/২১১, বাদায়ে ২/২৮২)

◼ মানবিক প্রয়োজন বলতে বোঝায় প্রস্রাব-পায়খানা। মহিলারা ইতিকাফ অবস্থায় ঘরের নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে শুরু কেবল প্রস্রাব-পায়খানার জন্য বের হতে পারবেন। অজুর জন্যও বাইরে যেতে পারবেন। খাবার পৌঁছে দেয়ার লোক না থাকলে খাবার আনার জন্য বাইরে যেতে পারবেন।
(বাদায়ে ২/২৮২, হেদায়া /২৩০, শামী ৩/৪৩৫)

◼পানাহার ইতিকাফের জায়গায় অর্থাৎ নামাজের জন্য নির্ধারিত স্থানে করতে হবে। বাইরে করা যাবে না। (হেদায়া ১/২৩০)
ইতিকাফের জায়গায় থেকে অন্যদের সাংসারিক কাজের ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া যাবে। বাইরে যাওয়া যাবে না। রান্না-বান্নার লোক না থাকলে ইতিকাফের স্থান থেকে রান্না-বান্নার কাজ সম্ভব হলে করা যাবে। (মাহমুদিয়া ১৫/৩৩৪)

◼ ইতিকাফরত ব্যক্তি পেশাব-পায়খানার জন্য মসজিদের বাইরে গেলে অর্থাৎ ইতিকাফের স্থানের বাইরে গেলে আসা-যাওয়ার পথে পথ চলতে চলতে সালাম আদান-প্রদান করতে পারবেন। তদ্রূপ এ সময় পথ চলতে চলতে কারও সঙ্গে অল্পস্বল্প কথাও বলতে পারবেন। এতে ইতিকাফের ক্ষতি হবে না। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফ অবস্থায় চলতে চলতে রোগীর কুশলাদি জিজ্ঞেস করতেন। কিন্তু এর জন্য রাস্তায় দাঁড়াতেন না। -সুনানে আবু দাউদ: ২৪৭২

তবে কারও সঙ্গে কথা বলা বা কুশলাদি জিজ্ঞাসার জন্য ইতিকাফের স্থানের বাইরে অল্প সময়ও দাঁড়ানো জায়েজ হবে না।

আর দরকার হলে ওই কক্ষের ভেতর থেকে বাইরের কাউকে ডাকতে পারবেন এবং কেউ ভেতরে এলে তার সঙ্গে কথাবার্তা বলতে পারবেন।
ই'তিকাফ অবস্থায় কেউ সাক্ষাতের জন্যে এলে তার সঙ্গে কথা বলা, কুশল বিনিময় করা জায়েয আছে৷ তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেন অনর্থক কথাবার্তা না হয়৷
ইতিকাফ কক্ষে এমন কেউও অবস্থান করতে পারবেন যারা ইতিকাফ করছেন না।

◼ ফরজ গোসল ব্যতীত সাধারণ গোসল এর জন্য ইতিকাফের স্থান হতে বের হওয়া যাবেনা।
তবে হ্যাঁ, মুফতীয়ানে কেরাম একটি সূরত বলেছেন, সেটি হল এই যে, গোসল খানায় আগে থেকে কাউকে দিয়ে পানি ভরে রাখবে, তারপর ইস্তিঞ্জার জন্য বের হবে, ইস্তিঞ্জা শেষ করে অজু করার সময় দ্রুত গায়ে কিছু পানি ঢেলে চলে আসবে। এতে করে ইতিকাফ ভাঙ্গবে না। তবে গোসল করতে গিয়ে দেরী করবে না।
(ইনআমুল বারী, ৫৫৮)
[নিজের জামাকাপড় ও ধোয়া যাবেনা।
মোটকথা অজু এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারা বাদে আর কোন কিছুর জন্যেই বাথরুম এ দেরী করা যাবেনা মোটেই)


বিবাহিত নারীদের ইতিকাফ:
বিবাহিতা মহিলারা রমজানের শেষ দশকের এতিকাফ বা অন্য সময়ের নফল ইতিকাফের জন্য স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। বিবাহিতা মহিলা স্বামীর অনুমতি ছাড়া ইতিকাফ করা অনুচিত। স্বামীর অনুমতি নিয়ে মহিলারা ইতিকাফ করতে পারবেন। আর স্বামীদের উচিত যুক্তিসঙ্গত, গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া স্ত্রীদের ইতিকাফ বারণ না করা, তাদের ইতিকাফের সওয়াব থেকে বঞ্চিত না করা।
(বাদায়ে ২/২৭৪।
স্বামী স্ত্রীকে ইতিকাফের জন্য অনুমতি দেয়ার পর তাকে আর ইতিকাফে বাধা দিতে পারবে না। যদি বাধা দেয় তাহলে সে বাধা মানা স্ত্রীর কর্তব্য নয়। (শামী ৩/৪২৯, আলমগীরি ১/২১১)।

◼ ইতিকাফ অবস্থায় স্বামী স্ত্রীর মিলন:
ইতিকাফ অবস্থায় দিন-রাতে কোনো সময়ই স্বামী-স্ত্রী মেলামেশা করা যাবে না। করলে ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে। (সূরা বাকারা আয়াত ১৮৭, বাদায়ে ২/২৮৫, শামী ৩/৪৪২, হেদায়া ১/২৩১)।
স্বামী স্ত্রীকে ইতিকাফের জন্য অনুমতি দেয়ার পর তার সঙ্গে সহবাস করতে পারবে না। (শামী, ৩/৪২৯)

◼ ইতিকাফ কক্ষটি যদি শয়নকক্ষ হয় এবং একই কক্ষে বা একই বিছানায় অন্য যে কোনো কেউ অবস্থান করেন, তাতেও কোনো ক্ষতি নেই; এমনকি স্বামীও পাশে থাকতে পারবেন, তবে স্বামী-স্ত্রীসুলভ আচরণ ইতিকাফ অবস্থায় নিষিদ্ধ; এর দ্বারা ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।

◼ কোনো মহিলার স্বামী যদি মাজুর হয় তার সেবা-যত্নের প্রয়োজন হয়, তাহলে সে মহিলার উচিত হচ্ছে ইতিকাফে না বসে বরং স্বামীর সেবা-যত্ন, দেখাশোনা করা। কারণ সওয়াবের নিয়তে স্বামীর খিদমত সেবা-যত্ন করলে ইতিকাফের চেয়ে অধিক সওয়াব পাওয়া যাবে। যে মহিলার
ছোট ছোট সন্তান আছে এবং তাদের লালন-পালন ও দেখাশোনার কেউ নেই এমন মহিলারও উচিত ইতিকাফে না বসে সন্তানের লালন-পালন ও দেখাশোনা করা। যে মহিলার সাবালগ মেয়ে আছে। তাদের দেখাশোনার জন্য কেউ নেই। সে মহিলারও উচিত ইতিকাফে না বসে বরং সাবালগ মেয়ের দেখাশোনা করা।
(আহকামে রমজান ও জাকাত, ৬৪)

◼ ইতিকাফ অবস্থায় যা যা করা বৈধ-

- প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা,
(সরাসরি হোক বা ফোনে)
-খাওয়া, ঘুমানো,
-চুল আঁচড়ানো, নখ কাটা, শরীর হতে ময়লা
পরিস্কার করা, সুগন্ধি লাগানো,
উত্তম পোশাক পরা।

◼ যে যে কারনে ইতিকাফ ভেঙ্গে যাবে-

⚠️ইতিকাফের স্থান হতে শরীয়ত সম্মত প্রয়োজন বা মানবিক প্রয়োজন ব্যতীত বের হলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে।
শরীয়ত সম্মত প্রয়োজন হলে বের হওয়া যায় যেমন - ফরজ গোসলের জন্য বের হওয়া।
আর মানবিক প্রয়োজনেও বের হওয়া যায় যেমন - পেশাব পায়খানার জন্য বের হওয়া।
খাবার এনে দেয়ার জন্য লোক না থাকলে খাওয়ার জন্য বের হওয়া, পানি এনে দেয়ার কেও না থাকলে
উযুর পানির জন্য বাইরে যাওয়া।
যে কাজের জন্য নির্ধারিত স্থানের বাইরে যাওয়া হবে সে কাজ করে দ্রুত ফিরে আসতে হবে, সময় সামান্য ও নস্ট করা যাবেনা। বাইরে গিয়ে বিনা প্রয়োজনে কারো সাথে কথা বলবেন না।

(বিঃদ্রঃ ইতিকাফ অবস্থায় নিজের বা অন্যের জান বাচানোর জন্য অনন্যোপায় অবস্থায় ইতেকাফের স্থান হতে বের হলে গুনাহ নেই বরং তা জরুরী। তবে এতে ইতিকাফ ভেঙে যাবে)

⚠️ সহবাস বা যে কোন ধরনের যৌন সম্ভোগ করলে।
⚠️পিরিয়ড শুরু হলে।

#ইতিকাফ অবস্থায় যা করা উচিত যা অনুচিত -

◼ ইতেকাফ অবস্থায় বিনা প্রয়োজনে দুনিয়াবী কাজে লিপ্ত হওয়া মাকরুহে তাহরীমি।

◼ যদিও ই'তিকাফে ল্যাপটপ বা মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করলে বা ব্যবহার করলে, পত্রিকা কিংবা ইন্টারনেট ব্যবহার করলে ই'তিকাফ নষ্ট হবে না৷ কিন্তু আদবের খেলাফ এবং অনুচিত হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই৷ অযথা সময় নষ্ট হবে৷ ই'তেকাফের মূল উদ্দেশ্য বিঘ্নিত হবে৷ তাই সওয়াবও কম হবে নিঃসন্দেহে৷ বেশ থেকে বেশ মোবাইল সঙ্গে রাখা যেতে পারে৷ শুধু রিসিভ করবেন৷ প্রয়োজনীয় কথা সেরে রেখে দিবেন

◼ নেক কথা ব্যতীত অন্য কথা না বলা উচিত।

◼ বেকার বসে না থেকে ইবাদত এ মশগুল থাকা উচিত

◼ ইতিকাফ অবস্থায় বিশেষ কোন ইবাদত করা শর্ত না। যে ইবাদত মনে চায় করা যাবে।

◼ ইতিকাফের সময় ইবাদাত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। যেমন- কোরআন শরিফ তেলাওয়াত করা, নফল নামাজ পড়া, কাজা নামাজ আদায় করা, দোয়া-দরুদ পাঠ করা, জিকির-আজকার করা, এছাড়াও দ্বীনি কথাবার্তা ও ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা করাও সওয়াবের কাজ। যথা- কোরআন হাদিস, ফিকাহ তাফসির ইত্যাদি পাঠ করা ও তালিম করা।
(মাজমুআ ফাতাওয়া)

[শাইখ মুফতি উছমান গনি,
মুফতি জিয়াউর রহমান, মাওলানা হেমায়েত উদ্দীন, মুফতি আবু সায়েম প্রমুখ আলিমদের লিখা হতে সংগ্রহীত]

বিঃদ্রঃ অনেকে মত দেন যে মেয়েরা মাসজিদ ছাড়া অন্য খানে ইতিকাফ করতে পারবেনা।
কিন্তু হানাফী আলিমদের মতে পারবে
এবং এই মত ই আমরা প্রাধান্য দেই।
নিচে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো-

#মহিলাদের এতেকাফ কি ঘরে করা যাবে না?

#মহিলাদের এতেকাফের অবস্থানস্থল সালাফে সালেহীনদের যুগ থেকেই কয়েকটি মত রয়েছে। সাহাবী হোযায়ফা রা. এর মতে মসজিদে নববী, মসজিদে হারাম ও মসজিদে আকসা। কেবল এই ৩ মসজিদেই এতেকাফ করা যাবে। তাবেয়ী আতা রহ. এর মতে মাত্র দুটি মসজিদে এতেকাফ করা যাবে। মসজিদে নববী ও মসজিদে হারাম! অপর তাবেয়ী ইবনুল মুসায়্যিব এর মতে শুধুমাত্র মসজিদে নববীতেই এতেকাফ করা যাবে।
(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৪/৩৪৯)
এদিকে, অনেক ইমামের মতে কেবল জুময়া হয় এমন মসজিদে এতেকাফ করা যাবে।
#এই জাতীয় বিভিন্ন মতামত সাহাবী তাবেয়ীদের থেকে প্রমাণিত।
হানাফী মাজহাব মতে, মহিলাদের এতেকাফ বাসার যে স্থানে নামাজ আদায় করে।
সে স্থানে বা কক্ষে এতেকাফ করতে হবে। নির্দিষ্ট না থাকলে নির্দিষ্ট করে নিতে হবে।
একই মত ইমাম শাফেয়ী রহ.। এছাড়া মালেকী মাজহাবের অনেক ফকীহদের মতও তাই। কারণ, হাদিসে নফল ঘরকে ইবাদাতের স্থান বলা হয়েছে।

#সম্প্রতি প্রচার করা হচ্ছে যে, মহিলারা মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও এতেকাফ করতে পারবে না। সাথে স্বভাবসুলভ এ দাবীও করা হচ্ছে, মসজিদের বাইরে এতেকাফের কোন দলীল নেই! এই লেখায় কিছু দলীল উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ, যাতে ঘরে মহিলারা এতেকাফ করতে দ্বিধা ও হীনম্মন্যতায় না ভোগেন। যারা মনে করেন মসজিদের বাইরে এতেকাফ হবেই না, তাদেরকে আমাদের মত মানতে বাধ্য করা মোটেও উদ্দেশ্য না।

#দলীল-
১- মেয়েদের মসজিদ হচ্ছে, মেয়েদের ঘর। একাধিক সহীহ হাদিসে মহিলাদেরকে ঘরের কোণে নামাজ আদায় করতে বলা হয়েছে।
ﻋَﻦْ ﺃُﻡِّ ﺳَﻠَﻤَﺔَ ﺃَﻥّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ - ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ - ﻗَﺎﻝَ : " ﺧَﻴْﺮُ ﻣَﺴَﺎﺟِﺪِ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀِ ﻗَﻌْﺮُ ﺑِﻴُﻮﺗِﻬِﻦَّ ".
উম্মে সালাম রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. বলেন
"মেয়েদের উত্তম মাসজিদ হচ্ছে তাদের ঘরের কোণ।"
(মুসনাদে আহমদ- ২৬৫৪২, সহীহ ইবনে খুযাইমা- ১৬৮৩, তাবারানী কাবীর- ৭০৯, মুস্তাদরাক ৭৫৬, (ইমাম যাহাবী, বুসীরী প্রমুখের মতে হাদিসটি সহীহ। শায়খ আরনাউত, শায়খ আলবানি এটাকে হাসান বলেছেন)
এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, ঘরই হচ্ছে মহিলাদের জন্যে উত্তম মসজিদ। মহিলারা ঘরেই একটা স্থান নির্ধারণ করে এতকাফ করবে।

২- আয়েশা রা. মসজিদের বাইরে এতেকাফ করেছিলেন।
ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﻣُﻠَﻴْﻜَﺔَ ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺍﻋْﺘَﻜَﻔَﺖْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔُ ﺑَﻴْﻦَ ﺣِﺮَﺍﺀَ، ﻭَﺛَﺒِﻴﺮٍ ﻓَﻜُﻨَّﺎ ﻧَﺄْﺗِﻴﻬَﺎ ﻫُﻨَﺎﻙَ، ﻭَﻋَﺒْﺪٌ ﻟَﻬَﺎ ﻳَﺆُﻣُّﻬَﺎ »
ইবনে আবী মুলাইকা বলেন, আয়েশা রা. হেরা ও ছাবীর/ছুবাইর পাহাড়ের মাঝে এতেকাফ করলেন। আমরা তাকে সেখানে নিয়ে যেতাম, আর তার এক গোলাম তাকে পথনির্দেশ করত।
(মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক- ৮০২১ সহীহ)

৩- বিখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম নাখয়ী রহ. এর মতেও মহিলারা তাদের ঘরের নির্ধারিত নামাজের স্থানে এতেকাফ করতে পারবে।
ﻋَﻦْ ﻣُﻐِﻴﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ : ﺳَﺄَﻟْﺖُ ﺇِﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ﻋَﻦِ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٍ ﺍﻋْﺘَﻜَﻔَﺖْ ﻓِﻲ ﻣَﺴْﺠِﺪِ ﺑَﻴْﺘِﻬَﺎ، ﺃَﺗَﻤُﺮُّ ﻓِﻲ ﻇُﻠَّﺘِﻬَﺎ؟ ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻧَﻌَﻢْ، ﻫُﻮَ ﻃَﺮِﻳﻖٌ ‏» ﻗَﺎﻝَ : ﻗُﻠْﺖُ : ﺍﻋْﺘَﻜَﻔَﺖْ ﻓِﻲ ﻇُﻠَّﺘِﻬَﺎ، ﺃَﺗَﻤُﺮُّ ﻓِﻲ ﺑَﻴْﺘِﻬَﺎ؟ ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻟَﺎ »
মুগীরা রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন। আমি ইবরাহীম নাখয়ী রহ. কে জিজ্ঞেস করলাম ঐ মহিলা সম্পর্কে যে তার নিজ ঘরে নামাজের স্থানে এতেকাফ করেছে। উক্ত মহিলা কি তাবুতে যেতে পারবে? ইবরাহীম নাখয়ী বললেন, হ্যা পারবে। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, যে মহিলা তাবুতে এতেকাফ করেছে। সে কি ঘরে যেতে পারবে? তিনি বললেন, পারবে না।
(মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক- ৮০২৩ সহীহ)

৪- এছাড়াও শাবী, সুফিয়ান ছাওরী, ইবনে উলাইয়্যাহ প্রমুখ ফকীহ তাবেয়ীদের মতও অনুরুপ!
(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ৮০২৪)

- ইমাম শাফেয়ী রহ. বলেন, 'মহিলাদের ঘরের নির্দিষ্ট নামাজের স্থান এর বাদে মসজিদে এতেকাফ করাকে আমি অপছন্দ করি। কারণ সেখানে মুসাফির থেকে নিয়ে নানারকম পুরুষ রাত্রিযাপন করে।'
(মারেফাতুস সুনানি ওয়াল আছার- তাহাবী ৬/৪০২- ৯১১৪)
ইমাম শাফেয়ীর অন্য একটি মত হচ্ছে, মহিলারা, গোলাম ও মুসাফির যেখানে খুশি এতেকাফ করতে পারবে। কেননা তাদের উপর জুময়া ফরজ নয়। সুতরাং জামে মসজিদে এতেকাফ করা জরুরি না।
(শারহু সাহিহীল বুখারী - ইবনে বাত্তাল ৪/১৬৯
আল এস্তেযকার - ইবনে আব্দিল বার ৩/৩৮৬)
ইমাম শাফেয়ী রহ. এই মতটি দেয়ার পিছনে যে দলীলটি দেন, যে একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতেকাফ এর নিয়ত করেও সেটা বাদ দিয়ে দেন, কারণ উনার তাবুর পাশে একাধিক স্ত্রী তাবু গেড়েছিল এতেকাফের জন্যে। পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাযাও করেন।
এই ঘটনাটি বুখারীসহ বিভিন্ন কিতাবে শব্দের বর্ণনার ভিন্নতাসমেত উদ্ধৃত হয়েছে। (বুখারী ২০৩৩, এতেকাফ অধ্যায়। ফাতহুল বারী এই সংশ্লিষ্ট পুরো আলোচনাটা অধ্যয়ন করা যেতে পারে।)

#এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের এভাবে মসজিদে এতেকাফ করাকে পছন্দ করেন নি।
ﺃﻭﻻ ﻛﺎﻥ ﺫﻟﻚ ﺧﻔﻴﻔﺎ ﺑﺎﻟﻨﺴﺒﺔ ﺇﻟﻰ ﻣﺎ ﻳﻔﻀﻲ ﺇﻟﻴﻪ ﺍﻷﻣﺮ ﻣﻦ ﺗﻮﺍﺭﺩ ﺑﻘﻴﺔ ﺍﻟﻨﺴﻮﺓ ﻋﻠﻰ ﺫﻟﻚ ﻓﻴﻀﻴﻖ ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﺼﻠﻴﻦ ، ﺃﻭ ﺑﺎﻟﻨﺴﺒﺔ ﺇﻟﻰ ﺃﻥ ﺍﺟﺘﻤﺎﻉ ﺍﻟﻨﺴﻮﺓ ﻋﻨﺪﻩ ﻳﺼﻴﺮﻩ ﻛﺎﻟﺠﺎﻟﺲ ﻓﻲ ﺑﻴﺘﻪ ، ﻭﺭﺑﻤﺎ ﺷﻐﻠﻨﻪ ﻋﻦ ﺍﻟﺘﺨﻠﻲ ﻟﻤﺎ ﻗﺼﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺓ ﻓﻴﻔﻮﺕ ﻣﻘﺼﻮﺩ ﺍﻻﻋﺘﻜﺎﻑ .
ইবনে হাজার রহ. কতক কারণ উল্লেখ করেছেন কেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতেকাফ ছেড়ে দিলেন। তার মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে, মহিলাদের এভাবে উপস্থিতির কারণে স্থান সংকীর্ণ হয়ে যাবে মুসল্লীদের জন্যে। অথবা মহিলাদের এভাবে উপস্থিতির ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে মনে হতে পারে যে তিনি মসজিদে নয়, যেন বাড়িতেই অবস্থান করছেন। এতে এতকাফের উদ্দেশ্যই বিঘ্নিত হয়।
(ফাতহুল বারী ৪/২৭৫)

আরো দেখুনঃ
বাদায়েউস সানায়ে' খন্ড ২ পেজঃ১১২ ,কিতাবুল ই'তেকাফ-সিহহাতু শারায়িত্বিল ইতেকাফ; আবুল হাসান আব্দুল্লাহ আল মুবারাকপুরির কিতাব(আহলে হাদিস) ''মিরআতুল মাফাতীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ ৭/১৪৪;উমদাতুল কারি ১১ /২৮৭,কিতাবুল ইতেকাফ

#এখানে একটি অভিযোগের খন্ডন সংযোজন করা হল-

অনেকেই বলে থাকে কুরানে আল্লাহ্‌ বলেনঃ
وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ

ওয়া আনতুম আ'কিফুনা ফি মাসাজিদ.......
সুতরাং এতেকাফের জন্য মাসজিদ জরুরী!

জবাবঃ
আসলে এখানে মাসজিদের সাথে আল্লাহ্‌ ই'তেকাফকে শর্ত করেছেন তার স্পষ্ট কোন কিনায়া(ইশারা) পাওয়া যায়না।
বরং এর ভিন্নই বুঝা যায়।
উপরন্তু মাসজিদ যদি শর্ত হয়েও থাকে তবুও উপরে সহীহ হাদিস প্রদান করা হয়েছে যে মহিলাদের উত্তম মাসজিদ তাদের ঘর।

মূলত উক্ত আয়াতটি ই'তেকাফের স্থানের হুকুম মাসজিদের সাথে আ'ম হয়েছে খাছ হয়নি, যার কারনে এতে এই শর্ত যুক্ত হয়নি যে,মাসজিদ ছাড়া একদমই এ'তেকাফ হবেইনা।

#যাহোক, আলোচনা দীর্ঘ না করে এখানেই থামতে হচ্ছে। যারা প্রচার করছেন যে মহিলারা ঘরে এতেকাফ করবে না। তাদের প্রতি বিনয়াবনত অনুরোধ, অযথা উম্মাহকে পেরেশান করবেন না। এতেকাফের স্থান নিয়ে সালাফে সালেহীনদের থেকেই নানা মত ছিল। আপনার কাছে কোন মত প্রাধান্য পেলে মানতে থাকুন, অন্যকে মানানোর জন্যে জোর করতে গেলেই ফেতনা ও অশান্তি সৃষ্টি হয়। কী দরকার নতুন নতুন পেরেশানি সৃষ্টি করার?

✍ লেখাটি প্রস্তুত করেছেন শাইখ মুফতি Abdullah al mahmud ও
শাইখ Abdullah al mamun যৌথভাবে।

◼ মহিলাদের ইতিকাফের সুযোগ না হলে-

মহিলাদের ইতিকাফের কারণে যদি সন্তান প্রতিপালন, ঘর-সংসারের নিরাপত্তা এবং তার উপর অর্পিত অপরিহার্য কর্তব্য পালনে ব্যাঘাত না ঘটে তবেই তারা স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে ইতিকাফ করতে পারবেন। অন্যথায় তাদের জন্য ইতিকাফ না করে নিজ দায়িত্ব যাথাযথভাবে পালন, সংসার দেখা-শোনা, স্বামীর সেবা ইত্যাদিতেই অগণিত কল্যাণ নিহীত রয়েছে। তারা কাজের ফাঁকে যথাসাধ্য দুআ-যিকির, তাসবীহ, কুরআন তেলাওয়াত, নফল নামায, দ্বীনী বইপত্র পাঠ ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করবেন।
আল্লাহ তাআলা সবাইকে তাঁর ইবাদত বন্দেগিতে সময় ব্যয় করার তাওফীক দান করুন।
[আলিমদের লিখা হতে সংগ্রহীত]

◼ লিখাটা কপি/শেয়ার করতে পারেন।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Whole
Dhaka
1212