06/05/2021
লাইলাতুল ক্বদর; একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা
# # # #ভূমিকা:
আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তার প্রিয়
হাবিব নবীগনের ইমাম আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা:) এর উম্মত হিসেবে আমাদেরকে দুনিয়ার বুকে প্রেরণ করেছেন । যেহেতু শেষ নবীর উম্মতগণ আগের নবীদের উম্মতদের চেয়ে অনেক কম হায়াত পেয়ে থাকেন, সেহেতু তারা আমল করার জন্য অনেক কম সময়ই পেয়ে থাকেন। তাই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তার প্রিয় হাবিবের (সা:) উম্মতদের এমন কিছু উপহার প্রদান করেছেন যাতে করে এ অল্প সময়েই তারা এর উপর আমল করে পূর্ববর্তী উম্মতদের চেয়ে বেশী আমল নিয়ে কেয়ামতের ময়দানে হাজির হতে পারে। উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য এমনই একটি বিশেষ উপহার হল ""লাইলাতুল ক্বদর বা মহিমান্বিত রাত্রি ""
# # # াইলাতুল_ক্বদর_কি?
"লাইলাতুল ক্বদর বা মহিমান্বিত রাত্রি" হল মহান আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ উপহার যা কেবল উম্মতে মুহাম্মদীর জন্যই খাস, যা উম্মতে মুহাম্মদীর মর্যাদা বুলন্দ করার জন্যই আল্লাহর দান। এ মহিমান্বিত রাত্রি রামাদান মাসের শেষ দশ দিনের কোন এক বিশেষ রাত্রি যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম, যে রাতে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন শরিফ নাজিল করেছেন । মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ
আমি একে (কোরআন) নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। (সুরা দুখান, আয়াত-৩)
আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র এরশাদ করেন-
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে বা কদরের রাতে । ( সুরা কদর, আয়াত-১)
# # # াইলাতুল_কদরের_ফজিলাত :
# #লাইলাতুল কদর এমন একটি মহিমান্বিত রজনী যা কোরআনের ভাষায় হাজার মাসের চেয়েও উত্তম । আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-
لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
কদরের রাত হচ্ছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম । (সুরা কদর, আয়াত-৩)
# #এ রাতের একটি বিরাট বারাকত হল আল্লাহ তায়ালা এ রাতে পবিত্র কোরআন শরিফ অবতীর্ণ করেছেন ।আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে বা কদরের রাতে । ( সুরা কদর, আয়াত-১)
আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা এ রাতকে পবিত্র কোরআনে লাইলাতুল মুবারাকা বলেও আখ্যায়িত করেছেন । আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-
إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ
আমি একে (কোরআন) নাযিল করেছি এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। (সুরা দুখান, আয়াত-৩)
# #ইবনে আব্বাস (রা:) প্রমুখ সাহাবা থেকে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তায়ালা সমগ্র কোরআন শরিফ এ রাতে লাউহে মাহফুয থেকে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ করেন। তারপর সেখান থেকে অল্প অল্প করে ঘটনা অনুযায়ী সুদীর্ঘ তেইশ বছর বসে হজরত মুহাম্মদ (সা:) এর উপর অবতীর্ণ হয় ।
# #এটি এমন একটি মহান রাত্রি, যদি কোন বান্দা এ রাতে একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্টি করার লক্ষে রাত জেগে এবাদত করে, আল্লাহ তায়ালা তার পূর্ববর্তী সমস্ত অপরাধ মাফ করে দিবেন । যেমন হাদিস শরিফে এসেছে-
‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি রমযানে ঈমানের সাথে ও সাওয়াব লাভের আশায় সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয় এবং যে ব্যাক্তি ঈমানের সাথে, সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়।
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَفِظْنَاهُ وَإِنَّمَا حَفِظَ مِنَ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ". تَابَعَهُ سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ.
(সহীহ বুখারী (ইফাঃ),হাদিস নম্বরঃ ১৮৮৭, মান- সহিহ)
# #এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে শান্তি ও বারাকাতের বার্তা নিয়ে হজরত জিব্রাঈল (আ:) সহ বহু সংখ্যক মালাইকা দুনিয়ার বুকে চলে আসে। এ রাতে শুধু শান্তি আর শান্তি, নেই কোন খারাবির লেশমাত্র । এ রাতে শয়তান কারো কোন ক্ষতি করতে পারে না। এ শান্তি বিরাজ করে সারা রাত ব্যাপী যতক্ষণ না ফজর উদয় হয়। আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-
تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ
এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ
এটা নিরাপত্তা বা শান্তি, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।(সুরা কদর)
# #কাতাদাহ (রা:) প্রমুখ গুরুজন বলেন, এ রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা জীবন-মৃত্যু, রিজিক ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সহ সকল কাজের ফায়সালা করে থাকেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-
فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ
এ রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।
(সুরা দুখান, আয়াত-৪)
এখানে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কার ভাগ্যে কি হবে সেটাতো আগেই নির্ধারিত। সুতরাং এ রাতে আবার সেটা কিরূপে নির্ধারিত হয়। জবাব হল, হ্যাঁ নির্ধারিত ! কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এ রাতে পরবর্তী বছরের দায়িত্ব লাউহে মাহফুজ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের মাঝে বন্টন করে দেন ।( ইবনে উমর ( রা:), মুজাহিদ (রহ:), যাহ্হাক (রহ:) প্রমুখ তাফ্সির কারকগণ এরূপ তাফসির করেছেন।)
# # # াইলাতুল_কদর_কোন_রাতে?
# #শবে-কদর বা কদরের রাত কোনটি তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না। কেননা রাসুল (সা:) নিজেই বলেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা আমাকে কদরের রাত কোনটি তা জানিয়ে আবার ভুলিয়ে দিয়েছেন। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে-
মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ... ‘উবাদা ইবনুুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে লাইলাতুল কদরের (নির্দিষ্ট তারিখের) অবহিত করার জন্য বের হয়েছিলেন। তখন দু'জন মুসলমান ঝগড়া করছিল। তা দেখে তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে লাইলাতুল কদরের সংবাদ দিবার জন্য বের হয়েছিলাম, তখন অমুক অমুক ঝগড়া করছিল, ফলে তার (নির্দিষ্ট তারিখের) পরিচয় হারিয়ে যায়। সম্ভবতঃ এর মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যান নিহিত রয়েছে। সুতারং তোমরা নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রাতে তা তালাশ কর।
باب رَفْعِ مَعْرِفَةِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ لِتَلاَحِي النَّاسِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيُخْبِرَنَا بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَتَلاَحَى رَجُلاَنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَقَالَ " خَرَجْتُ لأُخْبِرَكُمْ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَتَلاَحَى فُلاَنٌ وَفُلاَنٌ، فَرُفِعَتْ، وَعَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا لَكُمْ، فَالْتَمِسُوهَا فِي التَّاسِعَةِ وَالسَّابِعَةِ وَالْخَامِسَةِ ".
(সহীহ বুখারী (ইফাঃ),হাদিস নম্বরঃ ১৮৯৬, মান- সহিহ)
# #শবে_কদর রামাদান মাসে
তবে কুরাআন হাদিসের আলোকে আমরা এ রাতের একটি নির্দিষ্ট সীমা পেতে পারি।যেহেতু এ রাতে কোরআন শরিফ নাযিল হয়েছে আর পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে রামাদান মাসে। সেহেতু এটা নিশ্চিত যে, কদরের রাত রামাদান মাসেই। যেমন আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন-
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ .
রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। (সুরা বাকারা, আয়াত-১৮৫)
# #শবে_কদর রামাদানের শেষ দশকে
সহিহ হাদিসের আলোকে এটা বুঝা যায় যে, কদরের রাত রামাদান মাসের শেষ দশকের কোন এক মহিমান্বিত রাতে। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে-
মুহাম্মদ (রহঃ) ... ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং বলতেনঃ তোমরা রামাদানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ কর।
" باب تَحَرِّي لَيْلَةِ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فِيهِ عُبَادَةُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُجَاوِرُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ، وَيَقُولُ " تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ ".
(সহীহ বুখারী (ইফাঃ),হাদিস নম্বরঃ ১৮৯৩, মান-সহিহ)
অন্য হাদিসে এসেছে-
মুহাম্মদ ইবনু মূসান্না (রহঃ) ... জাবালা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমর (রাঃ) কে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যাক্তি কদরের রাত অনুসন্ধান করতে চায় সে যেন (রমযানের) শেষ দশকে তা অনুসন্ধান করে।
باب فَضْلِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَالْحَثِّ عَلَى طَلَبِهَا وَبَيَانِ مَحَلِّهَا وَأَرْجَى أَوْقَاتِ طَلَبِهَا وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ جَبَلَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنْ كَانَ مُلْتَمِسَهَا فَلْيَلْتَمِسْهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ " .
(সহীহ মুসলিম (ইফাঃ),হাদিস নম্বরঃ ২৬৩৭, মান-সহিহ)
# #শবে_কদর রামাদানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে
হাদিস শরিফে এসেছে-
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের সন্ধান কর।
باب تَحَرِّي لَيْلَةِ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فِيهِ عُبَادَةُ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ ".
(সহীহ বুখারী (ইফাঃ),হাদিস নম্বরঃ ১৮৯০, মান-সহিহ)
আরেক হাদিস শরিফে এসেছে-
আমরুন-নাকিদ ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ... সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি (পিতা) বলেন, এক ব্যাক্তি (রমযানের) ২৭ তম রাতে লায়লাতুল কদর দেখতে পেল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাকেও তোমাদের মত স্বপ্ন দেখান হয়েছে যে, তা রমযানের শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব এর বেজোড় রাতগুলোতে তা অনুসন্ধান কর।
باب فَضْلِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَالْحَثِّ عَلَى طَلَبِهَا وَبَيَانِ مَحَلِّهَا وَأَرْجَى أَوْقَاتِ طَلَبِهَا وَحَدَّثَنِي عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، - رضى الله عنه - قَالَ رَأَى رَجُلٌ أَنَّ لَيْلَةَ الْقَدْرِ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَرَى رُؤْيَاكُمْ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فَاطْلُبُوهَا فِي الْوِتْرِ مِنْهَا " .
(সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), হাদিস নম্বরঃ ২৬৩৪, মান-সহিহ)
# #শবে_কদর রামাদানের শেষ দশকে ২১তম রাতে
হাদিস শরিফে এসেছে-
মুহাম্মাদ ইবনু আবূল আলা (রহঃ) ... আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসের প্রথম দশকে ইতিকাফ করলেন। এরপর তিনি মাঝের দশকেও একটি তাঁবুর মধ্যে ইতিকাফ করলেন এবং তাবুর দরজায় একটি চাটাই ঝূলান ছিল। রাবী বলেন, তিনি নিজ হাতে চাটাই ধরে তা তাঁবুর কোণে রাখলেন এরপর নিজের মাথা বাইরে এনে লোকদের সাথে কথা বললেন এবং তারাও তাঁর নিকট এগিয়ে এল। তিনি বললেন, এই রাতের অনুসন্ধানকল্পে আমি (রমযানের) প্রথম দশকে ইতিকাফ করলাম। অতঃপর মাঝের দশকে ইতিকাফ করলাম। এরপর আমার নিকট একজন আগন্তুক (ফিরিশতা) এসে আমাকে বলল, লায়লাতুল কদর শেষ দশকে নিহিত আছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যাক্তি ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন ইতিকাফ করে।
লোকেরা তাঁর সঙ্গে (শেষ দশকে) ইতিকাফ করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেন, স্বপ্নে আমাকে তা কোন এক বেজোড় রাতে দেখনো হয়েছে এবং আমি যেন সেই রাতে কাদা ও পানির মধ্যে ফজরের সিজদা করছি। (রাবী বলেন) তিনি ২১তম রাতের ভোরে উপনীত হয়ে ফজরের সালাতে দাঁড়ালেন এবং আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হল। ফলে ছাদ থেকে মসজিদে পানি বর্ষিত হল এবং আমি কাদা ও পানি দেখতে পেলাম। তিনি ফজরের সালাত শেষে যখন বের হয়ে এলেন তখন তাঁর কপাল ও নাকের ডগা সিক্ত ও কর্দমাক্ত ছিল। আর তা ছিল রমযানের শেষ দশকের প্রথম (বা ২১তম) রাত।
باب فَضْلِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَالْحَثِّ عَلَى طَلَبِهَا وَبَيَانِ مَحَلِّهَا وَأَرْجَى أَوْقَاتِ طَلَبِهَا وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ غَزِيَّةَ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِبْرَاهِيمَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، - رضى الله عنه - قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اعْتَكَفَ الْعَشْرَ الأَوَّلَ مِنْ رَمَضَانَ ثُمَّ اعْتَكَفَ الْعَشْرَ الأَوْسَطَ فِي قُبَّةٍ تُرْكِيَّةٍ عَلَى سُدَّتِهَا حَصِيرٌ - قَالَ - فَأَخَذَ الْحَصِيرَ بِيَدِهِ فَنَحَّاهَا فِي نَاحِيَةِ الْقُبَّةِ ثُمَّ أَطْلَعَ رَأْسَهُ فَكَلَّمَ النَّاسَ فَدَنَوْا مِنْهُ فَقَالَ " إِنِّي اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الأَوَّلَ أَلْتَمِسُ هَذِهِ اللَّيْلَةَ ثُمَّ اعْتَكَفْتُ الْعَشْرَ الأَوْسَطَ ثُمَّ أُتِيتُ فَقِيلَ لِي إِنَّهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَعْتَكِفَ فَلْيَعْتَكِفْ " . فَاعْتَكَفَ النَّاسُ مَعَهُ قَالَ " وَإِنِّي أُرِيتُهَا لَيْلَةَ وِتْرٍ وَأَنِّي أَسْجُدُ صَبِيحَتَهَا فِي طِينٍ وَمَاءٍ " . فَأَصْبَحَ مِنْ لَيْلَةِ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَقَدْ قَامَ إِلَى الصُّبْحِ فَمَطَرَتِ السَّمَاءُ فَوَكَفَ الْمَسْجِدُ فَأَبْصَرْتُ الطِّينَ وَالْمَاءَ فَخَرَجَ حِينَ فَرَغَ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ وَجَبِينُهُ وَرَوْثَةُ أَنْفِهِ فِيهِمَا الطِّينُ وَالْمَاءُ وَإِذَا هِيَ لَيْلَةُ إِحْدَى وَعِشْرِينَ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ .
(সহীহ মুসলিম (ইফাঃ),হাদিস নম্বরঃ ২৬৪২, মান- সহিহ)
@@ইমাম শাফেয়ি (রহ:) এ হাদিসের আলোকে এবং তার ইজতেহাদী জ্ঞানের আলোকে রমজানের ২১তম রাতকে শবে বরাতের রাত বলে মনে করতেন।
# #শবে_কদর রামাদানের শেষ দশকে ২৩তম রাতে
যেমন হাদিস শরিফে এসেছে-
সাঈদ ইবনু আমর ইবনু সাহল ইবনু ইসহাক ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আশআস ইবনু কায়স আল-কিনদী ও আলী ইবনু খাশরাম (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে কদরের রাত দেখান হয়েছিল। অতঃপর তা ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। আমাকে ঐ রাতের ভোর সম্পর্কে স্বপ্নে আরও দেখান হয়েছে যে, আমি পানি ও কাদার মধ্যে সিজদা করছি। রাবী বলেন, অতএব ২৩তম রাতে বৃষ্টি হল এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সাথে (ফজরের) সালাত আদায় করে যখন ফিরলেন, তখন আমরা তাঁর কপাল ও নাকের ডগায় কাদা ও পানির চিহ্ন দেখতে পেলাম। রাবী বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাঃ) বলতেন, তা ছিল ২৩তম।
باب فَضْلِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَالْحَثِّ عَلَى طَلَبِهَا وَبَيَانِ مَحَلِّهَا وَأَرْجَى أَوْقَاتِ طَلَبِهَا وَحَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ سَهْلِ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الأَشْعَثِ بْنِ قَيْسٍ، الْكِنْدِيُّ وَعَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو ضَمْرَةَ، حَدَّثَنِي الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ، - وَقَالَ ابْنُ خَشْرَمٍ عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ، - عَنْ أَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ بُسْرِ بْنِ، سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُنَيْسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أُنْسِيتُهَا وَأَرَانِي صُبْحَهَا أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ " . قَالَ فَمُطِرْنَا لَيْلَةَ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ فَصَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَانْصَرَفَ وَإِنَّ أَثَرَ الْمَاءِ وَالطِّينِ عَلَى جَبْهَتِهِ وَأَنْفِهِ . قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُنَيْسٍ يَقُولُ ثَلاَثٍ وَعِشْرِينَ .
(সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), হাদিস নম্বরঃ ২৬৪৬, মান- সহিহ)
# #শবে_কদর রামাদানের শেষ দশকে ২৪তম রাতে
যেমন হাদিস শরিফে এসেছে-
‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূল আসওয়াদ (রহঃ) ... ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তা শেষ দশকে, তা অতিবাহিত নবম রাতে অথবা অবশিষ্ট সপ্তম রাতে অর্থাৎ লাইলাতুল কদর। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে অন্য সূত্রে বর্ণিত যে, তোমরা ২৪ তম রাতে তালাশ কর।
باب تَحَرِّي لَيْلَةِ الْقَدْرِ فِي الْوِتْرِ مِنَ الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فِيهِ عُبَادَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ، وَعِكْرِمَةَ، قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هِيَ فِي الْعَشْرِ، هِيَ فِي تِسْعٍ يَمْضِينَ أَوْ فِي سَبْعٍ يَبْقَيْنَ ". يَعْنِي لَيْلَةَ الْقَدْرِ. قَالَ عَبْدُ الْوَهَّابِ عَنْ أَيُّوبَ. وَعَنْ خَالِدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ الْتَمِسُوا فِي أَرْبَعٍ وَعِشْرِينَ.
(সহীহ বুখারী (ইফাঃ),হাদিস নম্বরঃ ১৮৯৫, মান-সহিহ)
# #শবে_কদর রামাদানের শেষ দশকে ২৭তম রাতে
যেমন হাদিস শরিফে এসেছে-
মুহাম্মদ ইবনু হাতিম ও ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ... যির ইবনু হুবায়শ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি উবাই ইবনু কা’ব (রাঃ) কে বললাম, আপনার ভাই আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, যে ব্যাক্তি গোটা বছর রাত জাগরণ করে, সে কদরের রাতের সন্ধান পাবে। তিনি (উবাই) বললেন, আল্লাহ তাকে রহম করুন, এর দ্বারা তিনি একথা বুঝাতে চাচ্ছেন যে লোকেরা যেন কেবল একটি রাতের উপর ভরসা করে বসে না থাকে। অথচ তিনি অবশ্যই জানেন যে, তা রমজান মাসে শেষের দশ দিনের মধ্যে এবং ২৭তম রজনী। অতঃপর তিনি শপথ করে বললেন, তা ২৭তম রজনী। আমি (যির) বললাম, হে আবূল মুনযির! আপনি কিসের ভিত্তিতে তা বলছেন? তিনি বললেন, বিভিন্ন আলামত ও নিদর্শনের ভিত্তিতে যে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের অবহিত করেছেন। যেমন, সেদিন সূর্য উঠবে কিন্তু তার আলোতে তেজ থাকবে না।
باب فَضْلِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَالْحَثِّ عَلَى طَلَبِهَا وَبَيَانِ مَحَلِّهَا وَأَرْجَى أَوْقَاتِ طَلَبِهَا وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، كِلاَهُمَا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ ابْنُ حَاتِمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، - عَنْ عَبْدَةَ، وَعَاصِمِ بْنِ أَبِي النَّجُودِ، سَمِعَا زِرَّ بْنَ حُبَيْشٍ، يَقُولُ سَأَلْتُ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ - رضى الله عنه - فَقُلْتُ إِنَّ أَخَاكَ ابْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ مَنْ يَقُمِ الْحَوْلَ يُصِبْ لَيْلَةَ الْقَدْرِ . فَقَالَ رَحِمَهُ اللَّهُ أَرَادَ أَنْ لاَ يَتَّكِلَ النَّاسُ أَمَا إِنَّهُ قَدْ عَلِمَ أَنَّهَا فِي رَمَضَانَ وَأَنَّهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ وَأَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ . ثُمَّ حَلَفَ لاَ يَسْتَثْنِي أَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ فَقُلْتُ بِأَىِّ شَىْءٍ تَقُولُ ذَلِكَ يَا أَبَا الْمُنْذِرِ قَالَ بِالْعَلاَمَةِ أَوْ بِالآيَةِ الَّتِي أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا تَطْلُعُ يَوْمَئِذٍ لاَ شُعَاعَ لَهَا .
(সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), হাদিস নম্বরঃ ২৬৪৮, মান- সহিহ)
অন্যত্র এসেছে-
উবায়দুল্লাহ ইবন মুআয (রহঃ) ..... মুআবিয়া ইবন আবু সুফিয়ান (রাঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে শবে কদর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ রমযানের ২৭ তারিখ হল লাইলাতুল কদর।
باب مَنْ قَالَ سَبْعٌ وَعِشْرُونَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ مُطَرِّفًا، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ قَالَ " لَيْلَةُ الْقَدْرِ لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ " .
(সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ),হাদিস নম্বরঃ ১৩৮৬, মান-সহিহ)
@@ ইমাম আবু হানিফা (রহ:), ইমাম ঈসা (রহ:) প্রমুখ উপরিউক্ত হাদিসের আলোকে এবং ইজতেহাদী জ্ঞানের আলোকে ও তার আকলি দলিলের ভিত্তিতে রমজানের ২৭তম রাতকে কদরের রাত বলে মনে করতেন।
# #শবে_কদর রামাদানের শেষ সাত রাতে
যেমন হাদিস শরিফে এসেছে-
আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতিপয় সাহাবীকে স্বপ্নযোগে রমযানের শেষের সাত রাতে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়। (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমাকেও তোমাদের স্বপ্নের অনুরূপ দেখানো হয়েছে। (তোমাদের দেখা ও আমার দেখা) শেষ সাত দিনের ক্ষেত্রে মিলে গেছে। অতএব যে ব্যাক্তি এর সন্ধান প্রত্যাশী, সে যেন শেষ সাত রাতে সন্ধান করে।
باب الْتِمَاسِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّ رِجَالاً، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُرُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْمَنَامِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ ".
(সহীহ বুখারী (ইফাঃ), হাদিস নম্বরঃ ১৮৮৮, মান-সহিহ)
# #শবে_কদর রামাদানের শেষ দশকে ২৫তম, ২৭তম, ২৯তম বা শেষ রাতে
যেমন হাদিস শরিফে এসেছে-
মুহাম্মদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ... ‘উবাদা ইবনুুস সামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে লাইলাতুল কদরের (নির্দিষ্ট তারিখের) অবহিত করার জন্য বের হয়েছিলেন। তখন দু'জন মুসলমান ঝগড়া করছিল। তা দেখে তিনি বললেনঃ আমি তোমাদেরকে লাইলাতুল কদরের সংবাদ দিবার জন্য বের হয়েছিলাম, তখন অমুক অমুক ঝগড়া করছিল, ফলে তার (নির্দিষ্ট তারিখের) পরিচয় হারিয়ে যায়। সম্ভবতঃ এর মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যান নিহিত রয়েছে। তোমরা নবম, সপ্তম ও পঞ্চম রাতে তা তালাশ কর।
باب رَفْعِ مَعْرِفَةِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ لِتَلاَحِي النَّاسِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِيُخْبِرَنَا بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَتَلاَحَى رَجُلاَنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، فَقَالَ " خَرَجْتُ لأُخْبِرَكُمْ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ، فَتَلاَحَى فُلاَنٌ وَفُلاَنٌ، فَرُفِعَتْ، وَعَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا لَكُمْ، فَالْتَمِسُوهَا فِي التَّاسِعَةِ وَالسَّابِعَةِ وَالْخَامِسَةِ ".
(সহীহ বুখারী (ইফাঃ), হাদিস নম্বরঃ ১৮৯৬, মান- সহিহ)
অন্যত্র হাদিস শরিফে এসেছে-
হুমায়দা ইবনু মাসআদা (রহঃ) ..... আব্দুর রহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বাকরা (রাঃ) এর কাছে একবার লায়লাতুল ক্বাদর সম্পর্কে আলোচনা হল। তিনি বললেন, আমি লায়লাতুল ক্বাদর রামাযানের শেষ দশ দিন ছাড়া অন্য কোন রাতে অনুসন্ধান করব না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে একটি বাণী শোনার কারণে তাকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা এ রাতটিকে রামাযানের নয় দিন বাকী থাকতে বা সাতদিন বাকী থাকতে বা পাঁচ দিন বাকী থাকতে, তিন দিন বাকী থাকতে বা এর শেষ রাতে অণ্বেষন কর। রাবী বলেন, আবূ বাকরা (রাঃ) রামাযানের বিশ দিন পর্যন্ত অন্যান্য সুন্নাতের মতই সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতেন। কিন্তু শেষ দশ দিনের ক্ষেত্রে খুবই প্রয়াস চালাতেন।
باب مَا جَاءَ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ حَدَّثَنَا حُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا عُيَيْنَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، ذُكِرَتْ لَيْلَةُ الْقَدْرِ عِنْدَ أَبِي بَكْرَةَ فَقَالَ مَا أَنَا بِمُلْتَمِسِهَا، لِشَيْءٍ سَمِعْتُهُ مِنْ، رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلاَّ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فَإِنِّي سَمِعْتُهُ يَقُولُ " الْتَمِسُوهَا فِي تِسْعٍ يَبْقَيْنَ أَوْ فِي سَبْعٍ يَبْقَيْنَ أَوْ فِي خَمْسٍ يَبْقَيْنَ أَوْ فِي ثَلاَثٍ أَوْ آخِرِ لَيْلَةٍ " . قَالَ وَكَانَ أَبُو بَكْرَةَ يُصَلِّي فِي الْعِشْرِينَ مِنْ رَمَضَانَ كَصَلاَتِهِ فِي سَائِرِ السَّنَةِ فَإِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ اجْتَهَدَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
(সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), হাদিস নম্বরঃ ৭৯২, মান-সহিহ)
# #মোদ্দাকথা হল সাহাবাদের (রা:) বিভিন্ন প্রকার প্রশ্নের চাহিদা মোতাবেক রাসুল (সা:) জবাব দিয়েছেন । আবার রাসুল (সা:) শবে কদরের যেসব আলামত বর্ণনা করেছেন, সে অনুযায়ী একেক সাহাবী (রা:) একেক রাতের বর্ণনা দিয়েছেন। কেননা তাদের কাছে ঐ রাতটা অনেক বেশী রাসুল (সা:) কর্তৃক বর্ণিত শবে কদরের আলামতের সাথে মিলে যাচ্ছিল । আসল কথা হল একক ভাবে বলা যাচ্ছে না যে কোন রাতটি শবে কদর। তাই এ মহিমান্বিত রজনীর বারাকাত পাওয়ার জন্য উত্তম হল রামাদানের শেষ দশকে অন্তত পক্ষে বিজোড় রাতগুলো অর্থাৎ ২১তম, ২৩তম,২৫তম, ২৭তম এবং ২৯তম রাতে শবে কদর তালাশ করা তথা এ রাতগুলোতে জেগে জেগে বেশি বেশি এবাদত করা।
# # # াইলাতুল_কদরের_আমল:
এ মোবারকময় রাতের বারাকাত লাভের জন্যে রাসুল (সা:) রামাদান মাসের শেষ দশকে এবাদতের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং উম্মতদেরকেও কঠোর উদ্যোগী হওয়ার জোড় তাগিদ প্রদান করেছেন । রাসুল (সা:) এর হাদিস অনুযায়ী যে আমল গুলো পাওয়া যায়, তা হল-
১। রামাদানের শেষ দশ দিন ঈতেকাফ করা।
২। বেশী বেশী সালাত আদায় করা।
৩। রাসুলের (সা:) শিখানো দোয়াটি বেশী বেশী পড়া।
৪। পরিবারের অন্যদেরকেও এবাদতের জন্য জাগিয়ে দেয়া।
যেমন হাদিস শরিফে এসেছে-
কুতায়বা (রহঃ) ...... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রামাযানের শেষ দশ দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেরূপ প্রচেষ্টা চালাতেন অন্যান্য সময়ে সেরূপ প্রচেষ্টা চালাতেন না।
" باب مِنْهُ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مَا لاَ يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ .
(সূনান তিরমিজী (ইফাঃ), হাদিস নম্বরঃ ৭৯৪, মান-সহিহ)
অন্যত্র এসেছে-
‘আলী ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) ... ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রমযানের শেষ দশক আসত তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশী বেশী ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত্রে জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।
باب الْعَمَلِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي يَعْفُورٍ، عَنْ أَبِي الضُّحَى، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ.
(সহীহ বুখারী (ইফাঃ), হাদিস নম্বরঃ ১৮৯৭, মান-সহিহ)
শবে কদরের রাত অন্বেষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করে রা রাসুল (সা:) এরশাদ করেন -
মুহাম্মাদ ইবনুল মূসান্না (রহঃ) ... উকবা ইবনু হুরায়স (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ইবনু উমর (রাঃ) কে বলতে শুনেছি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা রমযানের শেষ দশদিনে কদরের রাত অনুসন্ধান কর। তোমাদের কেউ যদি দূর্বল অথবা অপারগ হয়ে পড়ে, তবে সে যেন শেষ সাত রাতে অলসতা না করে।
باب فَضْلِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَالْحَثِّ عَلَى طَلَبِهَا وَبَيَانِ مَحَلِّهَا وَأَرْجَى أَوْقَاتِ طَلَبِهَا وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عُقْبَةَ، - وَهُوَ ابْنُ حُرَيْثٍ - قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ - يَعْنِي لَيْلَةَ الْقَدْرِ - فَإِنْ ضَعُفَ أَحَدُكُمْ أَوْ عَجَزَ فَلاَ يُغْلَبَنَّ عَلَى السَّبْعِ
الْبَوَاقِي " .
(সহীহ মুসলিম (ইফাঃ),হাদিস নম্বরঃ ২৬৩৬, মান-সহিহ)
# #এ রাতে এবাদতের কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। এ রাতে বেশি বেশি সালাত, তাসবিহ, তাহলিল, জিকির-আযকার, কোরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি আদায়ের মাধ্যমে কাটানো ।
# #তবে আল্লাহর রাসুল (সা:) এ রাতে বেশী বেশী নিম্নের দোয়াটি পাঠ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই আমাদেরও উচিত বেশী বেশী এ দোয়া পাঠ করা। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে-
কুতায়বা ইবন সাঈদ (রহঃ) ..... আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন রাতটি লায়লাতুল ক্বাদর, এ কথা যদি আমি জানতে পারি তবে সে রাতে কি দু-আ করব? তিনি বললেন, বলবেঃ
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
(আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন কারীম তুহিব্বুল ‘আফওয়া ফা‘ফু ‘আন্নী)
হে আল্লাহ! তুমি তো খুবই ক্ষমাশীল, ক্ষমা করাই তুমি ভালবাস। সুতরাং ক্ষমা করে দাও আমাকে।
باب حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ الضُّبَعِيُّ، عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ عَلِمْتُ أَىُّ لَيْلَةٍ لَيْلَةُ الْقَدْرِ مَا أَقُولُ فِيهَا قَالَ " قُولِي اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
(সূনান তিরমিজী(ইফাঃ),হাদিস নম্বরঃ ৩৫১৩,মান-সহিহ)
# # # েষকথা:
এ বরকতময় রাত যেন হাতছাড়া হয়ে না যায়, যেন আমরা এ রাতের ফজিলাত থেকে বঞ্চিত না হই। সে জন্য আমাদেরকে রামাদান মাসের শেষ দশ দিনে এবাদাতের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে। একান্ত সম্ভব না হলে বিজোড় রাত তথা ২১তম, ২৩তম, ২৫তম, ২৭তম এবং ২৯তম রাতকে কোনভাবেই মিস করা যাবে না।যদি এটাও সম্ভব না হয়, তবে ২৭তম রাতকে কোন ভাবেই ত্যাগ করা যাবে না। যেহেতু ২৭তম রাতের ব্যপারে বর্ণিত হাদিসে সাহাবাদের (রা:) জোড় তাগিদ পাওয়া যাচ্ছে, সেহেতু আল্লাহ চাহেতো এ রাতে কদরের রাতের ফ্জিলাত পাওয়া যেতে পারে।যেহেতু নির্দিষ্ট একক কোন রাত যেমন ২১তম বা ২৭তম ইত্যাদি রাতে লাইলাতু কদর হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তাই আসুন আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে এ রাতের বরকত পেতে, জীবনের পূর্ববর্তী গুনাসমূহের ক্ষমা পেতে, রমজানের শেষ দশ দিনই বেশী বেশী এবাদতের মাধ্যমে কাটানোর চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের কবুল করুক। আমীন!