07/02/2025
বিনয়ী নিরহংকারীরএকটি শিক্ষানীয় ঘটনা!
সুলতান মাহমুদ গজনবী ও তাহার মন্ত্রী আয়ায!
আয়ায ছিলেন সুলতান মাহমুদ গজনবী র' সবচেয়ে প্রিয় মন্ত্রী। কারণ তিনি ছিলেন খুব বুদ্ধিমান ও খোদাভীরু।তাই সকল সফরে সুলতান তাঁকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। কিন্তু,
তাঁর প্রতি সুলতানের অধিক ভালোবাসা, এটা রাজ্যের অন্যান্য মন্ত্রীদের সহ্য হতনা।তাই তারা সবাই তাঁর পেছনে লেগে থাকতো এবং সব সময় তাঁর দোষ খোঁজ করতো।
একদিনের ঘটনা!
আয়াযের একটি অভ্যাস ছিল, তিনি প্রতিদিন রাতে সকল কাজ শেষে নিজ কামরায় যেতেন এবং সেখানে একাকী কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন। এ সময় সেখানে কারো টোকা দেয়া বা ভেতরে ঢোকা পুরোপুরি নিষেধ ছিল!
এবিষয়টা রাজ প্রাসাদে সকল মন্ত্রীদের জানা ছিল। এক সময় এটাকেই তারা সুযোগ মনে করলো যে-এর মাধ্যমেই রাজার চোখে তাঁকে ছোট বানানো যাবে।
তখন সকল মন্ত্রীরা সুলতানের দরবারে এসে বিষয় টা এভাবে পেশ করলো।
মহামান্য সুলতান!
আয়ায দৈনিক গভীর রাতে নিজ কামরায় বেশ কিছু সময় অবস্থান করেন, যখন সেখান অন্য কারো প্রবেশ করা বা টোকা দেয়া নিষেধ।আমাদের ধারণা, হয়তো সে রাজ কোষাগার থেকে কিছু চুরি করে প্রতিদিন তা সঞ্চয় করছে এবং গুপ্তধন হিসেবে লুকচ্ছে!
সুলতান মাহমুদ গজনবী তাদের কথা শুনে নিরব রইলেন। তিনি বিষয়টি নিজ চোখে দেখতে চাইলেন। তাই সেদিন সবাই ঘুমিয়ে গেলে আয়ায যখনি কামরায় প্রবেশ গেলেন,সুলতান দরজার ছিদ্র দিয়ে সব দেখতে লাগলেন। তিনি যা দেখলেন তা হল!
আয়ায কামরায় প্রবেশ করে একটি পুরানো ট্রাঙ্ক থেকে অনেক পুরাতন একজোড়া পোশাক বের করে পরিধান করলেন। এরপর সুন্দরভাবে অযু করলেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। তারপর হাত তুলে আল্লাহ তায়ালার কাছে অনেক ক্ষণ কেঁদে কেঁদে দোয়া করলেন। এরপর ঘুমিয়ে গেলেন। সুলতান মাহমুদ গজনবী এটা সচক্ষে দেখে আল্লাহর কাছে শোকর আদায় করলেন যে তিনি ভুল মানুষ কে প্রধান মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন নি এবং অযোগ্য ব্যক্তিকে ভালোবাসেন নি!
পরদিন সকালে!
সুলতান মাহমুদ গজনবী রাজ্যের সকলের উপস্থিতি তে গুরুগম্ভীর হয়ে আয়াযকে প্রশ্ন করলেন। আপনি প্রতি রজনী তে নিজ কামরায় গোপনে কী করেন? এখানে সবার সামনে প্রকাশ করতে হবে!নতুবা রাজভাণ্ডার থেকে চুরির তোহমত আপনাকে দেয়া হবে।
একথা শুনে আয়ায চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বললেন।
"আমি প্রতি রাতে নিজ কামরায় গিয়ে আমার পুরাতন বাক্স থেকে ঐ কাপড় বের করি,যেটা পরিধান করে আমি প্রথম দিন রাজ মহলে এসেছিলাম!এরপর দু'রাকাত শোকরানা নামাজ আদায় করি এবং হাত তুলে আল্লাহ তায়ালা কে বলি।
'হে আল্লাহ আমি এ পোশাকের যোগ্য ছিলাম। আপনি মেহেরবানি করে আমাকে মন্ত্রীর পোশাক পরিধান করিয়েছেন। আমি গোলাম ছিলাম আপনি দয়াকরে মন্ত্রীর পদ দিয়েছেন। সুলতানের 'প্রিয়পাত্র 'বানিয়েছেন!আমি যেন আমার অতীত কে মনে রেখে সারাজীবন এর শোকর আদায় করতে পারি। আল্লাহ! আমি আপনার কাছে তাওফিক চাই। আমি যেনো অহংকারী না হই"
তাঁর একথা গুলো শুনে সকল মন্ত্রী রা লজ্জায় অনুতাপে মাথা নত করে রইলো। আর তিনি সুলতানের আরো প্রিয় হয়ে গেলেন।
(তরজমা-আল কলম আরবী
আবু তাহের মিছবাহ্)
কপি পোস্টFaisal Bin Hafiz🤍