হেদায়েতের পথে

হেদায়েতের পথে heath

11/02/2013

কালজিরার গুণাগুণ

বহু প্রাচীনকাল থেকেই কালজিরা মানবদেহের নানা রোগের প্রতিষেধক এবং প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছিলেন, ‘‘কালজিরা রোগ নিরাময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তোমরা কালজিরা ব্যবহার কর, নিশ্চয়ই প্রায় সকল রোগের নিরাময় ক্ষমতা এর মধ্যে নিহিত রয়েছে।’’ সেজন্য যুগ যুগ ধরে পয়গম্বরীয় ঔষধ হিসেবে সুনাম অর্জন করে আসছে। সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিম চিকিৎসাবিজ্ঞানী ইবনে সিনা তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কানন অব মেডিসিন' এ বলেছেন, ‘‘কালজিরা দেহের প্রাণশক্তি বাড়ায় এবং ক্লান্তি দূর করে।’’ কালজিরাতে প্রায় শতাধিক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এর প্রধান উপাদানের মধ্যে প্রোটিন ২১%, শর্করা ৩৮%, স্নেহ ৩৫%। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। প্রতি গ্রাম কালজিরায় যে সমস্ত পুষ্টি উপাদান রয়েছে তার নিম্নরূপ-

প্রোটিন-২০৮ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি-১৫ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন২-১.০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি৬-৫ মাইক্রোগ্রাম, নিয়াসিন-৫৭ মাইক্রোগ্রাম, ক্যালসিয়াম-১.৮৫ মাইক্রোগ্রাম, আয়রন-১০৫ মাইক্রোগ্রাম, ফসফরাস-৫.২৬ মি. গ্রা., কপার-১৮ মাইক্রোগ্রাম, জিংক-৬০ মাইক্রোগ্রাম, কোলাসিন-৬১০ আইউ।

কালজিরার গুণের শেষ নেই। প্রতিদিন সকালে এক চিমটি কালজিরা এক গ্লাশ পানির সঙ্গে খেলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ভেষজবিদরা কালজিরাকে বিভিন্ন রোগের ঔষুধ হিসেবে অভিহিত করেছেন- হাঁপানি রোগীদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় দীর্ঘদিন কালজিরা সেবনে উপকার পাওয়া যায়। কালজিরা হরমোন সমৃদ্ধ হওয়ায় পুরুষত্ত্বহীনতায় বা নারী পুরুষের যৌন অক্ষমতায় নিয়মিত কালজিরা সেবনে যৌনশক্তি বৃদ্ধি পায়। কালজিরায় রয়েছে ১৫টি এ্যামাইনো এসিড। আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজন ৯টি এসেনসিয়াল এ্যামাইনের এসিড যা দেহে তৈরি হয় না অবশ্যই খাবারের মাধ্যমে এর অভাব পূরণ করতে হয়। আর কালজিরায় রয়েছে ৮টি এসেনসিয়াল এ্যামাইনো এসিড। যদি সর্দি কাশি সারাতে এবং দেহের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কালজিরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসূতি মাতাদের দুগ্ধ বাড়াতে ও নারীদেহের মাসিক নিয়মিত কারণে এবং মাসিকের ব্যথা নিবারণে কালজিরার ভূমিকা রয়েছে। নিয়মিত কালজিরা সেবনে চুলের গোড়ায় পুষ্টি ঠিকমত পায় ফলে চুলের বৃদ্ধি ভাল হয় এবং চুল পড়া বন্ধ হয়। নিয়মিত অল্প পরিমাণ কালজিরা খেলে মস্তিষ্ক এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রক্ত সঞ্চালন ও বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয় এবং সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

11/02/2013

দৈনন্দিন জীবনে মধুর উপকারিতা

মধু হলো মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক অপূর্ব নেয়ামত। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং যাবতীয় রোগ নিরাময়ে মধুর গুণ অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) একে ‘খাইরুদ্দাওয়া’ বা মহৌষধ বলেছেন। আয়ূর্বেদ এবং ইউনানী চিকিৎসা শাস্ত্রেও মধুকে বলা হয় মহৌষধ। এটা যেমন বলকারক, সুস্বাদু ও উত্তম উপাদেয় খাদ্যনির্যাস, তেমনি নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্রও। আর তাই তো খাদ্য ও ওষুধ- এ উভয়বিধ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ নির্যাসকে প্রাচীনকাল থেকেই পারিবারিকভাবে ‘পুষ্টিকর ও শক্তিবর্ধক’ পানীয় হিসেবে সকল দেশের সকল পর্যায়ের মানুষ অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে ব্যবহার করে আসছে। মধুতে যে সকল উপকরণ রয়েছে এর মধ্যে প্রধান উপকরণ সুগার। সুগার বা চিনি আমরা অনেকই এড়িয়ে চলি। কিন্তু মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ এ দুটি সরাসরি মেটাবলাইজড হয়ে যায় এবং ফ্যাট হিসাবে জমা হয় না।

মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, এতে এলুমিনিয়াম, বোরন, ক্রোমিয়াম, কপার, লেড, টিন, জিংক ও জৈব এসিড (যেমন- ম্যালিক এসিড, সাইট্রিক এসিড, টারটারিক এসিড এবং অক্সালিক এসিড), কতিপয় ভিটামিন, প্রোটিন, হরমোনস, এসিটাইল কোলিন, এন্টিবায়োটিকস, ফাইটোনসাইডস, সাইস্টোস্ট্যাটিক্স এবং পানি (১৯-২১%) ছাড়াও অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান রয়েছে। ভিটামিন যেমন- ভিটামিন সি বা অ্যাসকারবিক এসিড, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-এ বা ক্যারোটিন ইত্যাদি বিদ্যমান। মধু এমন ধরনের ঔষধ, যার পচন নিবারক (এন্টিসেপটিক), কোলেস্টেরল বিরোধী এবং ব্যাকটেরিয়া বিরোধী ধর্ম আছে। মধু দ্বারা ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ার জীবাণু চতুর্থ দিনে, টাইফয়েডের জীবাণু পঞ্চম দিনে এবং আমাশয়ের জীবাণু ১০ ঘণ্টায় ধ্বংস হয়।

নিয়মিত ও পরিমিত মধু সেবন করলে নিম্নলিখিত উপকার পাওয়া যায়।

১. দারুচিনি পাউডারের ন্যায় গুড়ো করতে হবে। তারপর মধুর সাথে তা মিশিয়ে পেস্ট করতে হবে। এই পেস্ট দৈনিক ১ চা চামচ সেবন করলে হৃদরোগের সমস্যা, হাড়ের ব্যাথা ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

২.এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে ১ চা চামচ মধু এবং ২ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়া প্রতিদিন ২-৩ বার খেলে ওজন কমাতে সাহা্য্য করে।

৩. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

৪. দাঁতকে পরিষ্কার ও শক্তিশালী করে।

৫. দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে।

৬. মধুর রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা, যা দেহকে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের হাত থেকে রক্ষা করে বার্ধক্য ঠেকাতে সাহায্য করে।

৭. মধুর ক্যালরি রক্তের হিমোগ্লাবিনের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে রক্তবর্ধক হয়।

৮. আন্ত্রিক রোগে উপকারী। মধুকে এককভাবে ব্যবহার করলে পাকস্থলীর বিভিন্ন রোগের উপকার পাওয়া যায়।

৯. দুর্বল শিশুদের মুখের ভেতর পচনশীল ঘা-এর জন্য খুবই উপকারী।

১০. শরীরের বিভিন্ন ধরনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি করে।

১১. ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ মধু স্নায়ু এবং মস্তিস্কের কলা সুদৃঢ় করে।

১২. মধুতে স্টার্চ ডাইজেস্টি এনজাইমস এবং মিনারেলস থাকায় চুল ও ত্বক ঠিক রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করে।

১৩. মধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

১৪. যারা রক্ত স্বল্পতায় বেশি ভোগে বিশেষ করে মহিলারা, তাদের জন্য নিয়মিত মধু সেবন অত্যন্ত ফলদায়ক।

১৫. শিশুদের প্রতিদিন অল্প পরিমাণ মধু খাওয়ার অভ্যাস করলে তার ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি, জ্বর ইত্যাদি সহজে হয় না।

১৬. ক্ষুধা, হজমশক্তি ও রুচি বৃদ্ধি করে।

১৭. রক্ত পরিশোধন করে।

১৮. শরীর ও ফুসফুসকে শক্তিশালী করে।

১৯. জিহ্বার জড়তা দূর করে।

২০. মধু মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।

২১. বাতের ব্যথা উপশম করে।

২২. মাথা ব্যথা দূর করে।

২৩. শিশুদের দৈহিক গড়ন ও ওজন বৃদ্ধি করে।

২৪. কাশি-হাঁপানি এবং ঠাণ্ডাজনিত রোগে বিশেষ উপকার করে।

২৫. শারীরিক দুর্বলতা দূর করে এবং শক্তি-সামর্থ্য দীর্ঘস্থায়ী করে।

২৬. মধু খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, ফলে শরীর হয়ে ওঠে সুস্থ, সতেজ এবং কর্মক্ষম।

২৭. যৌন অক্ষমতা দূর করে এবং অটুট যৌবন ধরে রাখে। যৌন অক্ষমতা দূর করার জন্য বিশ্বের প্রখ্যাত মধু বিজ্ঞানীদের মতে দৈনিক পর্যাপ্ত মধুই যথেষ্ট।

২৮. মধু এবং দুধের সমন্বয়ে তৈরীকৃত পেস্ট ও গোলাপ জল একসাথে মিশিয়ে ত্বকের উপকারিতার জন্য ব্যাবহার উপযোগী। এতে করে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়, ত্বক হয়ে উঠে নরম, কোমল ও স্নিগ্ধ।
২৯ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হেদায়েতের পথে posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category