সংগ্রামের নোটবুক

সংগ্রামের নোটবুক

Share

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ Joy Bangla. Joy Bangabandhu.

‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
এই পেইজে মুক্তিযুদ্ধ এবং তার পূর্বাপর সময়ের সঠিক ইতিহাস সহজভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। তবে এটি একটি স্মৃতিচারণমূলক বা আর্কাইভধর্মী পেইজ নয়। বরং নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসকে সহজভাবে প্রকাশ করা এবং তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করাই মূল লক্ষ্য। এখান থেকে কোন কিছু রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করার আগে পুনঃনিরীক্ষণ করার

05/05/2026

মজমাটা কী?

03/05/2026

জাহানারা ইমাম!
একটি নাম, একটি চেতনা, একটি ভালোবাসার প্রতীক!

কী অসম্ভব ভালোবাসা তিনি ধারণ করতেন দেশের জন্য, কি ত্যাগই না তিনি করেছেন, কি কষ্টই না তিনি সয়েছেন মৃত্যুর আগপর্যন্ত এই দেশের জন্য। মুক্তিযুদ্ধে স্বামী ও পুত্র হারানোর শোক কিংবা মৃত্যুব্যাধি ক্যান্সার, কিছুই তাকে দমাতে পারেনি দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সংগ্রাম থেকে। এই শোক-যন্ত্রণা তাঁকে বরং আরও সাহসী করেছে। আরো সামনে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশবকালে মুসলিম পরিবারের মেয়েদের নিকট আধুনিক শিক্ষালাভের দ্বার উন্মুক্ত ছিল না। তবে তিনি তাঁর ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পিতা আবদুল আলীর তত্ত্বাবধানে রক্ষণশীলতার বাইরে এসে আধুনিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন। ফুলব্রাইট স্কলার জাহানারা ইমাম আমেরিকা থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ১৯৬৬ সালে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৬৮-র দিকে সে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর তিনি জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনে। পাশাপাশি চলতে থাকে সংসার জীবন ও লেখালেখি।

শুরু হয় ৬৯- এর গণঅভ্যুত্থান। এরই ধারাবাহিকতায় ’৭১এ প্রিয় সন্তান রুমী যোগ দেয় মুক্তিযুদ্ধে। ট্রেনিং থেকে ঢাকায় ফিরে রুমী নিয়মিত অংশ নিতে থাকে বিভিন্ন অপারেশনে। রুমী ও তার সঙ্গীদের একজন সহযোদ্ধা হযে যান জাহানারা ইমাম। গাড়িতে অস্ত্র আনা নেয়া, পৌঁছে দেয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের বাসায় আশ্রয় দেয়া, খবর আদান-প্রদান, এসব ছিলো তাঁর নিয়মিত কাজ। যুদ্ধের শেষ দিকে রুমী ধরা পড়েন এবং পাকবাহিনীর নির্মম অত্যাচারে শহীদ হন। জাহানারা ইমামের স্বামী শরিফ ইমাম পুত্র হারানোর শোকে হার্টফেল করে মারা যান। যুদ্ধ বিজয়ের আনন্দটুকু তাঁর বিষাদে ছেয়ে যায়।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি থেকে ডায়েরি আকারে লেখা তাঁর অমর গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি প্রকাশ হয় ১৯৮৬ সালে এ গ্রন্থ দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগায়। তিনি হয়ে ওঠেন স্বনামধম্য লেখিকা।

১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর গোলাম আযমকে জামায়াতে ইসলামী তাদের দলের আমীর ঘোষণা করলে বাংলাদেশে জনবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বিক্ষোভের অংশ হিসাবে ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠিত হয় জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে। তিনি হন এর আহ্বায়ক। এর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী প্রতিরোধ মঞ্চ, ১৪টি ছাত্র সংগঠন, প্রধান প্রধান রাজনৈতিক জোট, শ্রমিক-কৃষক-নারী এবং সাংস্কৃতিক জোটসহ ৭০টি সংগঠনের সমন্বয়ে পরবর্তীতে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠিত হয়। সর্বসম্মতিক্রমে এর আহ্বায়ক নির্বাচিত হন জাহানারা ইমাম। এই কমিটি ১৯৯২ সালে ২৬ মার্চ ‘গণআদালত’ এর মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একাত্তরের নরঘাতক গোলাম আযমের ঐতিহাসিক বিচার অনুষ্ঠান করে। গণআদালাতে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে দশটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ১২ জন বিচারক সমন্বয়ে গঠিত গণআদালতের চেয়ারম্যান জাহানারা ইমাম গোলাম আযমের ১০টি অপরাধ মৃত্যুদন্ডযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রীয় আদালতে বিচারের মাধ্যমে এ রায় বাস্তবায়নের জন্য তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান। কিন্তু জাহানারা ইমামসহ গণআদালতের সাথে জড়িত ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে উল্টো রাষ্ট্রদ্রোহের অজামিনযোগ্য মামলা দায়ের করা হয়। পরে হাইকোর্ট তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

জাহানারা ইমাম ১৯৯২ এর ১২ এপ্রিল গণআদালতের রায় কার্যকরের জন্য লাখো জনতার পদযাত্রার মাধ্যমে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং বিরোধী দলীয় নেতার কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে এরপর তিনি দেশজুড়ে গণসমাবেশ, গণস্বাক্ষর এবং মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন।

১৯৯৩ সালের ১৮ মার্চ জাহানারা ইমাম আন্দোলনরত অবস্থায় পুলিশের আঘাতে আহত হন এবং সে সময়ের পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে জীবন রক্ষা করেন। তাঁর আপসহীন ভূমিকায় দেশ-বিদেশে এ আন্দোলনের জোয়ার তৈরি হয় এবং বিভিন্ন কমিটি গঠন হয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট গোলাম আযমসহ ’৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির আন্দেলনকে সমর্থন দেয়।

গণআদালতের তৃতীয় বার্ষিকীতে অর্থাৎ, ১৯৯৪ এর স্বাধীনতা দিবসে জাহানারা ইমাম ৮ জন যুদ্ধাপরাধীর তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেন এবং নতুন আরও ৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা দেন। ১৯৯৪ এর ৭ মার্চ নারী গ্রন্থ প্রবর্তনা তাঁকে শ্রেষ্ঠ সংগ্রামী নারী হিসেবে জাতীয় সংবর্ধনা দেয়। ১৪০১ সালের পয়লা বৈশাখ ‘আজকের কাগজ’ তাঁকে শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার সম্মান দেয়। তবে এ পুরস্কার গ্রহণের আগেই ১৯৯৪ এর ২ এপ্রিল তিনি চিকিৎসার জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হন। ২২ এপ্রিল ডাক্তাররা জানিয়ে দেন, ক্যান্সারের বিপদজনক বীজ অপসারণ আর সম্ভব নয়। ২৬ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তখনও তাঁর নামে দেশদ্রোহের মামলা ঝুলছিল। জাহানারা ইমাম এর শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী মরদেহ দেশে এনে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ডাক্তাররা মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়ে দেয়ার পরও জাহানারা ইমাম এতটুকু বিচলিত হননি। জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তিনি অন্যদের সাহস দিয়ে গেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের আন্দোলনে তাঁর স্বপ্ন ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন। কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর কাঁপা হাতে লেখা চিঠিতে দেশের মানুষের জন্য তিনি লিখেছেন ‘একাত্তরের ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধী বিরোধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল আন্দোলনের দায়িত্বভার আমি আপনাদের, বাংলাদেশের জনগণের হাতে অর্পণ করলাম। জয় আমাদের হবেই।’

শুভ জন্মদিন মা!

18/04/2026

শেখ মুজিবর রহমানকে বিষ প্রয়োগের হত্যার চেষ্টা
মুজিবনগর ১৮ই আগষ্ট। এখানে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি ন্যায় বিচারের পক্ষপাতী এমন একজন পশ্চিম পাকিস্তানী সেনানীর কাছ থেকে জানা যায়—লায়ালপুরের ভয়াবহ কারাগারের মধ্যে শেখ মুজিবর রহমানকে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

ঘোষনায় প্রকাশ, শেখ মুজিবরকে দেশদ্রোহী হিসাবে জঙ্গী শাসকের গোপন আদালত কক্ষে হাজির হবার জন্যে একখানি লিখিত সমন হাজির করে তাতে সহি করতে বলা হয় কিন্তু মুজিব তাতে অস্বীকৃত হন।

দ্বিতীয় আর একখানি কাগজে তাকে তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্যে নাম সহি করে দিতে বলা হয় কিন্তু শেখ সাহেব দৃঢ় প্রতিবাদ জানিয়ে ইয়াহিয়াখানের প্রেরিত সৈনিকের দিকে কাগজখানি ছুঁড়ে দেন।

এর পরেই জেলখানার মধ্যে এক কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হয়। ডাক্তারের আসা যাওয়া বেড়ে যায়, একঘন্টার মধ্যে তিনবার ডাক্তার এসে বাংলাদেশের নেতাকে জিজ্ঞাসা করেছে—আপনি কেমন বোধ করছেন? মুজিব হেসে জবাব দিয়েছেন ভালো।
এরপরেই ঘটনার কথা ফাঁস হয়ে পড়ে এবং কারাগারে মুজিবের বিশেষ রক্ষী হিসেবে কর্ণেল জুম্মান আবাদির ডাক পড়ে এবং তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় কারণ মুজিবের খাবার এবং পানীয় জলের খাদ্যে বিষ মিশিয়ে দেবার দায়িত্ব ছিল তাঁর। কিন্তু এই মহান সৈনিক বাংলাদেশের এই মহান নেতাকে কাপুরুষের মতো হত্যা করে সৈনিকের অমর্যাদা করতে চান নি। কিন্তু নরাধম ইয়াহিয়া কর্ণেল জুম্মানকে বেশিক্ষণ বাঁচতে দেয়নি।

Ref:
বিপ্লবী বাংলাদেশ
১ম বর্ষ : ৩য় সংখ্যা : ২৯ আগষ্ট ১৯৭১

Photos from সংগ্রামের নোটবুক's post 18/04/2026

কে ছিলেন এই 'এম হোসেন আলী'?
কি কি হয়েছিল ১৯৭১ এর আজকের এই দিনে?

১৯৭১ সালের ১৮ই এপ্রিল তথা বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহনের পরদিন স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে আরো একটি স্মরণীয় দিন। এই দিন সকালবেলা কলকাতা পাক মিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার এম হোসেন আলীসহ প্রায় সকল কর্মকর্তা বাংলাদেশের পক্ষে আনুগত্য প্রকাশ করেন। সার্কাস এভিনিউতে অবস্থিত পাক দূতাবাসে এত দিন ধরে যেখানে পাকিস্তানের পতাকা উড়তো, সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো হল। এই ঘটনায় দেশে বিদেশে এক ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দূতাবাসে সেদিন জনতার ঢল নামে। বিভিন্ন সংগঠন মিছিল করে সার্কাস এভিনিউতে এসে হোসেন আলীকে স্বাগত সম্ভাষন জানায়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলামকে প্রেরণ করেন হোসেন আলীকে অভিনন্দন জানাতে। হোসেন আলীর স্ত্রী, দুই কন্যা এবং এক ছেলে, সকলেই স্বাধীনতা যুদ্ধে শরিক হন। জানা যায়, হোসেন আলীর স্ত্রী খুবই সাহসী মহিলা ছিলেন। তিনি তার স্বামীকে এ ব্যাপারে প্রচণ্ড সাহস যুগিয়েছেন।

বিদেশী বেতারের সাথে বাংলাদেশের পাক দস্যুদের অত্যাচারের করুণ কাহিনীও তিনি বর্ণনা করেন। কান্নাজড়িত তার এই বক্তব্য কলকাতা বেতারে প্রচারিত হয়। এই মহিলার হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য তখন যারা শুনেছেন তারাই মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের বহু লোক ততদিনে পাক বাহিনীর অত্যাচারে কলকাতায় শরণার্থী হয়েছে। তাদের জন্য তখন সাহায্য প্রয়োজন ছিল। যদিও, ১৯শে এপ্রিল থেকে মিশনে কাপড়, অর্থ ইত্যাদি সাহায্য আসতে শুরু করে, কিন্তু হোসেন আলী আগেই পাক মিশনের যে অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে রেখেছিলেন, সেই অর্থ দিয়ে মিশন পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়।

তার মানে আজ, ১৮ই এপ্রিল বিদেশের কোন মাটিতে প্রথম আমাদের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলিত হয়।

17/04/2026

জিয়া বললেন, "আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আমি তাে আওয়ামীলীগেরই।"

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ইতিহাসের পাতা হতে বিস্মৃতির অতলে ঠেলে দেবার চক্রান্ত, জারী হলাে সামরিক ফরমান। বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট আবু সাদাত মােহাম্মদ সায়েম রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রাজনৈতিক দলবিধি জারীর প্রাক্বালে বৈঠক করেন। বৈঠকে জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তিনি আওয়ামীলীগের নেতাদের সঙ্গে আলােচনা কালে বলেন, আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আমি তাে আওয়ামীলীগেরই। আপনারা কাজ চালিয়ে যান। কিন্তু লক্ষ্যণীয় বিষয় হলাে এইযে, গঠনতন্ত্র ও মেনিফেস্টো জমা দেবার কিছুদিনের মধ্যে এক সামরিক ফরমান জারী করা হয়। সামরিক ফরমানে ঘােষণা দেওয়া হয় যে, “জীবিত বা মৃত কোন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে কোন পারসােনালিটি ‘কাল্ট’ প্রচার ও প্রকাশ করা যাবে না।” পিপিআর-এ প্রথমে এ শর্ত ছিলােনা।

বলাবাহুল্য আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্র ও দলিলাদিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম উল্লেখিত ছিলাে। জিয়ার সামরিক সরকার সামরিক ফরমান জারী করে নাম-এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করে। এই মর্মে আওয়ামীলীগের দলিলাদি সরকারী তরফ হতে ফেরত পাঠানাে হয়। কার্যনির্বাহী কমিটিতে ‘বঙ্গবন্ধু’ নাম থাকা না থাকার উপর আলােচনা হয়। আলােচনায় গঠনতন্ত্রে ও ঘােষণাপত্রে নাম রাখা না রাখা নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। বিতর্কে যে সব নেতৃবৃন্দ ‘বঙ্গবন্ধু’র নাম রাখার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন তাদের কিছুদিনের মধ্যে গ্রেফতার করা হয়। এ সম্পর্কে প্রামাণ্য দলিল বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীর লিখিত একটি পুস্তক। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এ-চক্রান্ত সম্পর্কে জ্ঞাত হওয়া যায়।

ক্ষমতায় টিকে থাকা ও ব্যক্তি উচ্চাভিলাস চরিতার্য করার নিমিত্তে জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সনের প্রথমার্ধেই ৬২,০০০ (বাষট্টি) হাজার রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের কারাগারে আটক রাখে, যার মধ্যে অধিকাংশই ছিলাে আওয়ামীলীগ যুবলীগ ছাত্রলীগ শ্রমিক লীগের নেতা ও কর্মীবৃন্দ।

জিয়াউর রহমান আওয়ামীলীগে যােগদানের এবং বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের নিকট ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা ছিলাে সম্পূর্ণ প্রতারণাপূর্ণ এবং ক্ষমতা সংহত করার জন্য সময় ক্ষেপনের কৌশল।

Reference:
জেনারেল জিয়ার রাজত্ব – অধ্যাপক আবু সাঈদ

ভিডিও:
নবম স্বাধীনতা দিবসে জিয়া। জেল থেকে ছাড়া পেলেন খোন্দকার মোশতাক।

Photos from সংগ্রামের নোটবুক's post 17/04/2026

"বিশ্ববাসীর কাছে আমরা আমাদের বক্তব্য পেশ করলাম, বিশ্বের আর কোন জাতি আমাদের চেয়ে স্বীকৃতির বেশি দাবিদার হতে পারে না। কেননা, আর কোন জাতি আমাদের চাইতে কঠোরতর সংগ্রাম করেনি। অধিকতর ত্যাগ স্বীকার করেনি। জয়বাংলা।"
- তাজউদ্দীন আহমদ, ১৭ই এপ্রিল ১৯৭১।

আজ ১৭ই এপ্রিল, আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল যে বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়, তার মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন ১৭ এপ্রিল ১৯৭১, শনিবার। কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহাকুমার মুক্তাঞ্চল ভবের পারায় (বৈদ্যনাথ তলা) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগরে বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়।

সেইদিন, সকাল ১১ টার কিছু পরে, দেশী, ভারতীয় ও বিদেশী ১২৭ জন সাংবাদিক এবং হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সনদ পাঠ করেন আওামীলিগের তৎকালীন চীপ হুইপ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউসুফ আলী। এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের যে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, তা সাংগঠনিক রূপ নেয়।

এই সভাতে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দীন আহমদ স্বাধীনতা সনদের স্বপক্ষে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।

গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেই সব ত্যাগী নেতাদের, যারা বঙ্গবন্ধুর ডাকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই গুরুদায়িত্ব কাধে তুলে নিয়েছিলেন। বাঙ্গালী জাতি গর্বভরে স্মরণ করবে তাদের আজীবন। শুধু দুঃখের বিষয় একটাই - বাঙ্গালী জাতির কাছে মীরজাফর ও বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বিবেচিত খন্দকার মোশতাক আহমেদও সেদিন আইন, বিচার ও পররাষ্ট্র দফতরের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলো। একজন তাজউদ্দীন আহমদ তার নেতার আদর্শকে ধারণ করে তাকে বাস্তব রুপ দিতে লড়ে গেছেন তার সমস্ত স্বত্বা দিয়ে; একই সাথে সহযোগী হয়ে সাথে থাকার ভান করে নীরবে বিনাশের ছক এঁকে গেছে এক কালসাপ...ইতিহাস তাকে কোথায় স্থান দিয়েছে আজ?

Photos from সংগ্রামের নোটবুক's post 10/04/2026

১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল। তাজউদ্দিন আহমদ, মনসুর আলী, শেখ মনি, তোফায়েল আহমেদ, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম জনাব নগেন্দ্র সিং কে সাথে করে একটি ছোট বিমানে করে রওনা দিলেন আগরতলার দিকে। খুব নিচু দিয়ে উড়ে বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি একটা জায়গায় থামলো বিমান।

বিএসএফ-এর মাধ্যমে খবর দেয়া হলো কোন আওয়ামী লীগ নেতার খোঁজ পেলে পরবর্তী কোন বিমানবন্দরে তৈরি রাখতে। উত্তর বঙ্গ তথা রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা অঞ্চলের কোন নেতা খুঁজে পাওয়া গেল না। এদের বেশীর ভাগ কোলকাতা চলে গেছেন। কিছুক্ষণ পর বাগডোগরা বিমান বন্দরে থামে বিমান। সেখান থেকে জীপে করে শিলিগুড়ি। শহর থেকে অনেক ভেতরে সীমান্তের খুব কাছাকাছি একটি বাংলোতে উঠলেন তারা। জনাব গোলক মজুমদার এখানে তাদেরকে অভ্যর্থনা জানান। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচী অনুযায়ী এখানের কোন একটি জঙ্গল থেকে গোপন বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে আজ তাজউদ্দিন আহমদ-এর বক্তৃতা প্রচারিত হওয়ার কথা।

সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু কে হবেন প্রধানমন্ত্রী, তাই নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। দফায় দফায় চলা আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাজউদ্দীন আহমদকে মেনে নিয়ে আর কিছুক্ষন পর প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তার বক্তব্য প্রচারের ব্যাপারে সবাইকে রাজী করানো গেলেও শেখ মনি রাজি হলেন না। তিনি তখনো সরকার গঠনের ব্যাপারে রাজী নন। কিন্তু ততক্ষণে প্রধানমন্ত্রী তথা তাজউদ্দীন আহমদের রেকর্ড করা বক্তৃতার ক্যাসেট গোলক মজুমদারের কাছে দেয়া হয়ে গেছে।

ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম সরকার গঠনের পক্ষে পুনরায় যুক্তি দিয়ে বললেন, “সরকার গঠন করতে বিলম্ব হলে সংকট আরো বৃদ্ধি পাবে এবং এতে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশী। ইতোমধ্যে বন্ধুরাষ্ট্রের সাথে আমাদের যে কিছুটা রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, সরকার গঠনে বিলম্ব হলে তাও নস্যাৎ হবার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার গঠন করার ব্যাপারে ভারত সরকারকে আমরা আশ্বাস দিয়েছি। তাতে বিলম্ব হলে আমাদের নেতৃত্ব সম্পর্কেও তারা সন্দেহ পোষণ করবেন। আমাদের মধ্যে যে কোন্দল রয়েছে কোন অবস্থাতেই তা বাইরে প্রকাশ হতে দেয়া উচিত নয়। ভারত সরকারও জানেন, আমাদের বক্তৃতা শিলিগুড়ির এই জঙ্গল থেকে আজ প্রচারিত হবে।”

এমন এক থমথমে অবস্থায় শেষপর্যন্ত রাত তখন সাড়ে ন’টায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দিন আহমদের বক্তৃতা প্রচারিত হয়। সারা বিশ্ব শুনলো স্বাধীন বাংলা সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বেতার বক্তৃতা। আমাদের সংগ্রামের কথা ছড়িয়ে পড়লো দেশে বিদেশে। সূচনা হল এক নব দিগন্তের।

26/03/2026

স্বাধীনতার ঘোষণাঃ
২৫ মার্চ দিবাগত রাত, তথা, ২৬ মার্চ ১৯৭১ এর প্রথম প্রহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ ঘোষণাটি ইপিআর-এর নিকট পৌছানো হয় এবং তা ইপিআর বেতারের মাধ্যমে সারাদেশে প্রচার করা হয়। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর জাতীয় সংসদে দেয়া ভাষণের কপি এবং বিভিন্ন জনসভায় দেয়া ৪ টি অডিও ভাষণ থেকে এরকম তথ্যই পাওয়া যায়।

সংবিধানে স্বাধীনতার ঘোষণাটি নিন্মরুপ -
“This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved."
Sheikh Mujibur Rahman
26th March 1971”

অনুবাদঃ
“ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছ, যাহার যাহা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।"
শেখ মুজিবুর রহমান
২৬ মার্চ ১৯৭১”

Reference:
ষষ্ঠ তফসিল, ১৫০(২) অনুচ্ছেদ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

25/03/2026

কলকাতার পথে তাজউদ্দীন | সাতমসজিদ রোড, ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা
1971.03.25, Tajuddin Ahmad
২৫ মার্চ ১৯৭১ঃ কলকাতার পথে তাজউদ্দীন
------------------------------
স্থান ৭৫১ নং সাতমসজিদ রোড, ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা। পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত ছিল রাত ১১টার আগেই নারায়ণগঞ্জে পৌঁছে যাব এবং নির্ধারিত গন্তব্য স্থানের উদ্দেশে রওনা দেব। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। এদিকে একটি কাপড়ের থলেতে প্রয়োজনীয় কয়েকটি জিনিস রাখা ছিল, সেই থলেটাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি তখন চরম উত্তেজনায় রীতিমতো কাঁপছি। এক সময় বলেই ফেললাম, এক মিনিটও যেখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই সেখানে বাড়িতে রয়ে যাওয়া, এই দীর্ঘ সময়ের অপচয় নিশ্চয়ই আমার নির্ঘাত মৃত্যুরই ইঙ্গিত বহন করছে। এমন সময় আমাদের দোতলার ভাড়াটে, আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য ও একনিষ্ঠ সমর্থক আব্দুল আজিজ বাগমার আমার সামনে এগিয়ে এসে বললেন, আমরা সামরিক বাহিনীকে প্রতিহত করব। আমি বললাম, সেটা তো আরো পরের কথা। এই মুহূর্তে সেনাবাহিনীকে দাঁতভাঙা জবাব দিতে পারলে উচিত শিক্ষা হতো। বিভিন্নমুখী চিন্তায় উত্তেজিত হয়ে আমি বলেই ফেললাম, আর কোথাও যাব না। কিন্তু এটা আমার উত্তেজনার কথাই ছিল, সিদ্ধান্তের নয়। আমি মন ঠিক করে ফেলেছি, যেতে আমাকে হবেই। বাংলাদেশ ও জাতির এই চরম দুর্যোগের মোকাবিলা করতেই হবে। আমি বেরিয়ে পড়ব এমন সময় ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম ও ড. কামাল হোসেন এলেন। তারা বললেন, শহরের পরিস্থিতি খুব ভালো নয়। কয়েক মিনিট কথা বলে আমরা তিনজন একসঙ্গে দ্রুত বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লাম। বাসা থেকে বেরিয়ে যাবার মুহূর্তে আমি শুধু আমার স্ত্রীকে বলে গেলাম, ‘আমি যাচ্ছি, আর্মি আসছে, তোমরা যেখানে পার চলে যেও।’ বাসা থেকে পথে নেমে দেখি ততক্ষণে সমস্ত পথঘাট আওয়ামী লীগ কর্মীরা বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে প্রতিবন্ধকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খুব বেশি দূর যেতে পারিনি। গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। ড. কামাল হোসেন বললেন, একসঙ্গে তিনজন থাকা নিরাপদ নয়। তিনি এখানেই তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নেমে যাবেন। পরে আবার মিলিত হবেন। ড. কামাল হোসেনকে ধানমণ্ডিতে তার আত্মীয়ের বাড়িতে নামিয়ে, আমীর উল ইসলাম এবং আমি সাতমসজিদ রোডের দক্ষিণে পিলখানার দিকে কিছু এগিয়ে আবার ঘুরে উত্তরে লালমাটিয়ার দিকে পৌঁছেই দেখতে পেলাম মোহাম্মদপুর এবং মানিক মিয়া এভিনিউয়ের দিক থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এগিয়ে আসছে। সামনে এগিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হলো না। পথের পাশেই একজন পরিচিত ভদ্রলোকের বাড়িতে প্রবেশ করলাম। বাড়ির মালিক জনাব আব্দুল গফুর (ইঞ্জিনিয়ার)। এই বাড়ির পাশের বাড়িই ছিল সংগ্রাম পরিষদের দপ্তর। সেখান থেকে ছেলেদের ডাকা হলো। তাদের পতাকা নামিয়ে অফিস বন্ধ করে দিতে বললাম। আরো বললাম, সেনাবাহিনী আসছে, সংগ্রাম পরিষদের অফিস বুঝতে পারলে এখানকার সব শেষ করে দেবে।

প্রতিরোধ করবার মতো শক্তি এখন আমাদের হাতে নেই। সময়ের প্রয়োজন আছে। তাই সেই সময় পর্যন্ত আমাদের সাবধানে কাজ করতে হবে। আওয়ামী লীগ কর্মীরা নির্দেশ মেনে নিল। এদিকে চারদিক থেকে আক্রমণের ভয়াবহ শব্দে আমার ধারণা হলো সামরিক বাহিনী আগামীকাল নদীর ঘাটে, স্টেশনে অনেক লোক মারবে। কারণ, শহর ছেড়ে যেতে হলে ওই দুটো পথেরই আশ্রয় নিতে হয়। আমি তখন ভাবছি, এ পথ বন্ধুর, এ পথ ভারি কঠিন। স্বাধীনতার ‘সূর্য’ বহু রক্ত চায়। কারণ তার আবির্ভাবের রংও রক্তিম। এদিকে আমরা বুঝতে পারছি এখানে কোনো নিরাপত্তা নেই। যে কোনো মুহূর্তে সেনাবাহিনীর লোক এসে পড়তে পারে। তাই প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা ঠিক করলাম আমাদের দুজনের নাম পাল্টে ফেলব। আমার নাম তাজউদ্দীন আহমদের পরিবর্তে হবে মোজাফফর হোসেন এবং আমীর-উল ইসলামের নাম রহমত আলী। আরও ঠিক করলাম আমরা যথাক্রমে চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরে ঠিকাদারের অধীনে চাকরি করি। মালিকের বাড়ি কুষ্টিয়া। টাকার জন্য ঢাকায় এসেছি কিন্তু গণ্ডগোলের কারণে মালিকের বাড়ি যেতে পারিনি, তাই এখানে আশ্রয় নিয়েছি। আপাতত আমাদের এই পরিকল্পনাই স্থির রইল। তারপর সারারাত আমরা গুলির শব্দ শুনলাম এবং আগুনের লেলিহান শিখা প্রত্যক্ষ করলাম। সামনে একটু দূরেই ছিল বস্তি। আমার ধারণা হয়েছিল এখানেও আক্রমণ হবে কারণ বর্বরদের হাতে বস্তি কিংবা বস্তির মানুষ রেহাই পাবার কথা নয়।

নোটঃ রওয়ানা দেয়ার সময় তাজউদ্দীনের কাছে একটি রাইফেল ও একটি পিস্তল ছিল

একাত্তরের মার্চের বিভিন্ন পত্রিকার লিংকঃ
------------------------------
1. দৈনিক ইত্তেফাকঃ https://songramernotebook.com/archives/123248
2. যুগান্তরঃ https://songramernotebook.com/archives/293854
3. দৈনিক আজাদঃ https://drive.google.com/.../1FR7ajpg_HGG182qSCUtET.../view
4. মর্নিং নিউজঃ https://songramernotebook.com/archives/106063
5. দৈনিক পূর্বদেশঃ https://songramernotebook.com/archives/106144
6. The People: https://drive.google.com/.../1yThla7vMleM0CU5XBGnqqr.../view
7. Dawn: https://songramernotebook.com/archives/396648

25/03/2026

২৫ মার্চ রাতে আটক হওয়া নিয়ে ডেভিড ফ্রস্ট ও বঙ্গবন্ধুর আলাপ
------------------------------
ডেভিড ফ্রস্ট : ওরা ঠিক কখন আপনাকে গ্রেফতার করে? সময়টা কি রাত দেড়টা?

শেখ মুজিব : ঘটনার সূত্রপাত মেশিনগানের বৃষ্টি দিয়ে। আমার বাড়ির চারিদিকে অবিরাম আগ্নেয় বৃষ্টি …

ফ্রস্ট: পাক বাহিনী যখন আপনার বাড়িতে পৌঁছে তখন আপনি কোথায় ছিলেন?

শেখ মুজিব : আমি শােবার ঘরে বসেছিলাম। চারদিক থেকে অগ্নিবৃষ্টি হতে থাকে। আগুনের ফুলকির মতাে জানালা দিয়ে গুলি ঢুকে ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে যায়।

ফ্রস্ট: তাহলেতাে ঘরের সব কিছুই বিনষ্ট হয়?

শেখ মুজিব : তাতাে স্বাভাবিক। আমি আমার পরিবারের সাথে ছিলাম। হঠাৎ একটা বুলেট এসে আমার শােবার ঘরে ঢােকে …

ফ্রস্ট: পাকিস্তান বাহিনী কোন পথে এখানে ঢোকে।

শেখ মুজিব : এমনিতাে সারা বাড়ি ঘিরে রেখেছিল। তারপর ঘরের জানালা লক্ষ্য করে অবিরাম গুলিবর্ষণ চলছিল। এই অবস্থায় আমি আমার স্ত্রীকে সন্তানদের কাছে থাকতে বলি এবং এদের রেখে ঐ ঘর পরিত্যাগ করি।

ফ্রস্ট: আসার পথে আপনার স্ত্রী কি আপনাকে কিছু বলেছিলেন?

শেখ মুজিব : না। ঘটনার অকস্মিকতায় সে হতবাক। আমি শুধু তাকে বিদায় চুম্বন দেই। তারপর কপাট খুলে বের হয়ে এসে গুলি থামাতে বলি, “আমি এখানে, তােমরা গুলি বন্ধ কর। আমি জানতে চাই কিসের জন্য এবং কেনই বা গােলাগুলি করছ?” আমার কথা তাদের কানে যেতেই আরাে বিপুল উদ্যোগে অগ্নিবান নিক্ষেপ হতে থাকে এবং কয়েক জন এসে আমাকে ঘিরে ফেলে। আমার উপর বেয়নেট ধরে। একজন অফিসার আমাকে চেপে ধরে বলেন, “একে মেরাে না”।

ফ্রস্ট: মাত্র একজন অফিসার।

শেখ মুজিব : মাত্র একজন। আমার পিঠে এবং সামনে উভয় দিকে অস্ত্র দিয়ে গুতােতে থাকে এবং তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী এদিক ওদিক ঠেলে নিয়ে যেতে থাকে। অফিসারটি আমাকে ধরে রেখেছিল, তবু তারা আমাকে বিশ্রীভাবে নিচের দিকে ঠেলেছিল। আমি তখন তাদের বলি, এভাবে ঠেলবে না, একটু দাঁড়াও, আমি আমার পাইপটি নিয়ে আসি। পাইপ আর তামাক আমার খুব প্রিয় প্রয়ােজনীয়। আমার স্ত্রীর কাছে থেকে ওগুলাে আনার অনুমতি দাও। আমাকে ওরা উপরে যেতে দেয়। আমার স্ত্রীকে বাচ্চা দুটোর সাথে দাঁড়ানাে অবস্থায় চোখে পড়ে। ওরা আমাকে পাইপ আর একটা ছােট স্যুটকেস এনে দেয়। আমি নিঃশব্দে আসি। আমার দৃষ্টিসীমার চারদিকে জুড়ে ছিল একরাশ আগুনের লেলিহান শিখা, উষ্ণ লাভার মতাে।

ফ্রস্ট: আপনিতাে তাদের চোখে অপরাধী; আপনার বিচার কিভাবে করা হয়?

শেখ মুজিব : আমার বিচারের জন্য পাঁচ জন সামরিক অফিসারের সাথে সব অসামরিক অফিসার মিলে আমার বিরুদ্ধে সামরিক আইনের ব্যবস্থা নিতে চেয়েছিল।

ফ্রস্ট: আপনার বিরুদ্ধে তাদের অভিযোেগ?

শেখ মুজিব : রাজদ্রোহের। পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘােষণা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘােষণা ইত্যাদি। সব মিলিয়ে ১২টা অভিযােগ। তার মধ্যে ছয়টার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

ফ্রস্ট: আপনি কি আত্মপক্ষ সমর্থন করেছিলেন?

শেখ মুজিব : বিচারের বাণী যেখানে নীরবে নিভৃতে কাঁদে সেখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযােগ দেয়ার মানে ভাওতার আশ্রয় নেয়া। পাকিস্তান সরকার যেখানে আমার বিচার করতে বদ্ধপরিকর সেখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযােগ কোথায়? কোর্টে নেয়ার পর আমি কোর্টের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য একজন আইনজ্ঞ নিয়ােগের অনুমতি প্রার্থনা করি। কেননা আমি একজন অসামরিক ব্যক্তি। একজন অসামরিক ব্যক্তির বিচার সামরিক আদালতে কখনও হতে পারে না, কিন্তু পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান ইয়াহিয়া খান শুধুমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান নন, প্রধান সামরিক আইন শাসকও। কাজেই সামরিক আদালত ডাকার ক্ষমতা একমাত্র তারই। তাছাড়া সবাই জানে বিচারের নামে একটা প্রহসন চলছিল।

ফ্রস্ট: তাহলে কি আপনার বিচারে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ছিল ইয়াহিয়া খানের।

শেখ মুজিব : হ্যা, তিনি ছিলেন সিদ্ধান্তদাতা।

ফ্রস্ট : তারা কি যথাযথ রায় দিতে সক্ষম হয়েছিল?

শেখ মুজিব : ডিসেম্বর মাসে চারদিন কোর্ট মুলতবী ঘােষণা করে ইয়াহিয়া খান সব বিচারক, লেঃ কর্ণেল, ব্রিগেডিয়ার সবাইকে নিয়ে রাওয়ালপিন্ডিতে এক জরুরি সভায় মিলিত হয়ে বিচারের রায় কি হবে সে সম্বন্ধে তার মতামত ব্যক্ত করেন। সর্বসম্মতিক্রমে আমাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানাের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ফ্রস্ট : আপনি কি তখন আপনার পাশের সেলে আপনার কবর আবিষ্কার করেন?

শেখ মুজিব : হ্যা আমার সেলের খুব কাছেই আমার কবর খোঁড়া হয়। কবরটাকে স্বচোখে দেখেছি।

ফ্রস্ট: ইয়াহিয়া খান যখন আপনাকে হত্যা করার জন্য নিতে আসে তখন জেল প্রশাসক আপনাকে লুকিয়ে রেখেছিলেন বলে আমি খবরের কাগজে পড়েছি। তথ্যটা কি সঠিক?

শেখ মুজিব : ইয়াহিয়া খানের সাগরেদরা জেলের ভেতর একটা তুলকালাম কাণ্ড বাঁধিয়ে ফেলেছিলেন। কিছু কয়েদিকে আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তােলা হয়েছিল। খুব ভােরে আমাকে আক্রমণ করে। হত্যা করার একটি পরিকল্পনা আঁটা হয়েছিল, কিন্তু জেলের একজন অফিসার আমার প্রতি বেশ সদয় ছিলেন। তিনি ইয়াহিয়া খানের জেলে আসার দিনক্ষণ সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখতেন। একদিন রাত ৩টার সময় তিনি আমাকে কারাগারের বাইরে নিয়ে এসে তার বাংলােয় আমাকে মিলিটারি পাহারা ছাড়াই লুকিয়ে রাখেন। দুই দিন পর আমাকে ঐ বাংলাে থেকে সরিয়ে রাখেন। সেখানে তিনি আমাকে চার-পাঁচ কিংবা ছয় দিন লুকিয়ে রাখেন। কেউ আমার অবস্থান জানতাে না। জেলের কয়েক জন অফিসার শুধু আমার সন্ধান জানতাে।

ফ্রস্ট: ইয়াহিয়া খান যখন আপনাকে ভুট্টোর হাতে তুলে দেন তখন তিনি আপনাকে আবার ফাসি দেবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন—এটা কি সত্য?

শেখ মুজিব : নির্ভেজাল সত্য। এ প্রসঙ্গে মিঃ ভুট্টো আমাকে একটা মজার গল্প বলেছিলেন। ভুট্টোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় ইয়াহিয়া খান মিঃ ভুট্টোকে বলেছিলেন, “শেখ মুজিবকে হত্যা না করে আমি একটি বিরাট ভুল করে ফেলেছি।”

ফ্রস্ট: ইয়াহিয়া খান কি ঠিক এ কথাই বলেছিলেন?

শেখ মুজিব : হ্যা, ইয়াহিয়া খান ভুট্টোকে বলেছিলেন ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে মুজিবকে হত্যার অনুমতি দিন। তিনি আরাে বলেছিলেন দিন তারিখ পিছিয়ে দিন, ক্ষতি নেই। কিন্তু দয়া করে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে মুজিবকে হত্যা করার অনুমতি দিন। কিন্তু ভুট্টো মত দেননি। প্রস্তাবটি প্রত্যাখান করেছেন।

ফ্রস্ট: এর জবাবে ভুট্টো কি বলেছিলেন তা কি তিনি আপনাকে বলেছিলেন?

শেখ মুজিব : হ্যা, ভুট্টো বলেছিলেন, তিনি তা পারেন না, কারণ এর প্রতিক্রিয়া সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য। এক লক্ষ বিশ হাজার সৈন্য এবং বেসামরিক ব্যক্তি তখন বাংলাদেশে বন্দি, বাংলাদেশ ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর কজায় তারা দিন কাটাচ্ছে। এ ছাড়া পাঁচ থেকে দশ লক্ষ অবাঙালির অবস্থান বাংলাদেশে। এ অবস্থায় শেখ মুজিবকে যদি হত্যা করা হয় এবং আমি যদি ক্ষমতা দখল করি তাহলে বাংলাদেশ থেকে একজন পাকিস্তানীও পশ্চিম পাকিস্তানে আর কোনােদিন ফিরে আসতে পারবে না। এরা ফেরৎ না এলে পশ্চিম পাকিস্তানে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে এবং আমার অবস্থাও শােচনীয় হবে।

Source:
ফ্যাক্টস্ এন্ড ডকুমেন্টস্ বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড – অধ্যাপক আবু সাইয়িদ

25/03/2026

২৫ মার্চ ১৯৭১ঃ রাতে শেখ মুজিবের তৎপরতা
---------------------
সন্ধ্যায় মতান্তরে রাত ৯টার পর শেখ মুজিব তাঁর বাসভবনে উপস্থিত দলীয় নেতা, কর্মী, সমর্থক, ছাত্র নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমরা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু জেনারেল ইয়াহিয়া খান সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চাচ্ছেন। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট অখণ্ড পাকিস্তানের সমাপ্তি টানতে চলেছেন। সন্ধ্যায় রেহমান সোবহান, পশ্চিম পাকিস্তানী সাংবাদিক, লেখক বাম নেতা তারিক আলীর পিতা মাজহার আলী, রাতে তাজউদ্দিন, কামরুজ্জামান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, রাত নয়টার পর ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম, ডঃ কামাল হোসেন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে শিপিং কর্পোরেশনের এম ডি ক্যাপ্টেন রহমান, প্রাক্তন নৌ বাহিনী কর্মকর্তা কম্যান্ডার ফারুক লেঃ মতিউর রহমান রাত ১১ টায় আব্দুর রাজ্জাক, সিরাজুল আলম খান, আসম আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজ, শেখ মুজিবের সাথে সাক্ষাৎ করেন। জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা জাকারিয়া চৌধুরীর ভাই ঝনটু ৩২ নম্বর রোডের বাসভবনে আসেন। জেনারেল ওসমানী, তোফায়েল আহমেদ,রাতেই শেখ মুজিবের সাথে দেখা করেন। আনসারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এমএ আউয়াল শেখ মুজিবের সাথে দেখা করে আনসারের নামে বরাদ্ধ অস্র যা পুলিশ লাইনে জমা আছে তা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকবাহিনী ও দেশপ্রেমিক আনসার ও পুলিশের কাছে বরাদ্দ এর প্রস্তাব দেন।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Dhanmandi
Dhaka
1209