10/05/2022
জীবনে খুব কমই ইন্টারভিউ আমাকে দিতে হয়েছে।
পাশ করার পর এক বিশাল কোম্পানিতে ইন্টারভিউ দিতে গেছি, একবার ইন্টারভিউয়ের পর ফাইনাল ইন্টারভিউ। সবকিছু প্রায় ঠিকঠাক, মনে হচ্ছিল আমাকে তাদের পছন্দ হয়েছে। কথাবার্তা প্রায় শেষ তখন এইচ-আর এর হেড একটু হেসে দিয়ে এক বেশ বুড়া লোকের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, যদি হয়, আপনি ওনার আন্ডারে কাজ করবেন। একটু কেয়ারফুল থাকবেন, উনি কিন্তু কড়া লোক, একটু শর্ট টেম্পার্ড।
যেই লোকের কথা বলছিল তার দিকে তাকিয়ে দেখি উনি হাসতেছেন। যেন এগুলা তার খুব ভালো কোয়ালিটি।
আমি তখন জিজ্ঞাসা করলাম, উনি শর্ট টেম্পার্ট এবং বদরাগী, এই দায়িত্ব আমার নিতে হবে কেন?
আমার পাল্টা প্রশ্ন শুনে এইচ-আর’ এর লোকটা থতমত খেয়ে গেল। আমতা আমতা করে বলল, না মানে লিডারশিপের কথা বলছিলাম, হি ইজ এ টাফ লিডার।
আমি বললাম, আপনাদের উচিৎ তাকে ডাক্তার দেখানো।
তখন আরেক লোক ছিল সম্ভবত মালিকদের পক্ষ থেকে কেউ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, একথা বললেন কেন?
আমার তখন চাকরি করার ইচ্ছা নাই সেখানে। আমি বললাম, মানুষের টেম্পারমেন্টের সমস্যা থাকতে পারে কিন্তু ওনাকে দেখে মনে হচ্ছে উনি বদরাগী শুধু না, নিজের এই বদরাগ নিয়ে তিনি বেশ প্রাউড। তাকে তো মানসিক ডাক্তার দেখানো দরকার। এইচ-আর থেকে আপনারাও দেখি সেটা বেশ রসিয়ে রসিয়ে বলছেন। ইউ শুড টেইক একশন।
সেই লোকের হাসিমুখ কালো কুচকুচে হয়ে গেল। সম্ভবত তিনি কেবল সম্মান আর জি স্যার পেয়ে অভ্যস্থ।
তখন সেই কম কথা বলা লোকটা জিজ্ঞাসা করল, আপনার যদি এখানে হয়, আপনি জয়েন করবেন না?
আমি দুই’দিকে মাথা নাড়িয়ে বললাম, আলবৎ না। আমি মন দিয়ে কাজ করব কোম্পানি আমাকে টাকা দেবে। এর বাইরে যদি কোম্পানি বলে তোমার বস আনপ্রেডিক্টেবল,বদরাগী, তার দায়িত্ব তোমাকে নিতে হবে, সেটা তো আমি করতে পারব না, সরি।
সেই বদমেজাজি ভদ্রলোক একটা কথাও বলেন নাই সেখানে। আমি যখন বেরিয়ে যাই, তখন তার দিকে একবার তাকিয়েছিলাম। তার চেহারা দেখে মনে হয়েছিল তিনি জীবনেও ভাবতে পারেন নাই, এই ধরনের কথা কেউ বলতে পারে।
এই গল্পের অবতারণার কারন হল, আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে আমি দেখেছি কিছু কিছু মানুষ প্রচন্ড রকম শর্ট টেম্পার্ড, বদরাগী এবং বদমেজাজী। তাদের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ এবং বিশ্রি। মানুষের সাথে সুযোগ পেলেই তারা দুর্ব্যবহার করে বসে।
নিজেরদের বদ মেজাজ নিয়ে তাদের আবার বিরাট গর্ব। আড্ডায়-টাড্ডায় আবার বলেও বসে, আমি তো এই করেছি সেই করেছি, **ল ছিঁড়ে তাল গাছে তুলে দিয়েছি, ইত্যাদি। চিন্তাশক্তি বলে যে একটা জিনিস আছে সেটা তাদেরকে দেখলে বোঝা যায় না।
কেউ কেউ আছে তাদের দুর্ব্যবহারকেও আবার ডিফেন্ড করে। যেমন বলে, আমার মুখে যা আসে আমি বলে ফেলি,আমার মুখে যা মনেও তা, আমি তোমাদের মত সুগার কোট করতে পারি না, ইত্যাদি। মনে যা তা মুখে বলতে হবে কেন? মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের না করে অন্তত চুপ যে থাকা যায়, সেটা বিদ্যা তাদের পেটে নাই। ‘আর মনে যা মুখে তা’- এই ফালতু আলাপ তারা করে যারা তাদেরকে সহ্য করে তাদের সাথে। মানে আপনার একটা বদমেজাজী বন্ধু/আত্মীয় আছে, আপনি তাকে সহ্য করে চলেন, আপনার লাইফ মোটামুতি হেল।
বহু বদমেজাজী লোক আমাকে অনেক পছন্দ করেছে জীবনে, সবসময়ই তাদেরকে আমি এভয়েড করে চলেছি। যে মানুষ তার মেজাজের দাস, সে আসলে মূর্খ, তার জানাশোনা, লেখাপড়া সব ব্যর্থ। মেজাজে চলতে চিন্তার দরকার হয় না, একটা বেড়াল কিংবা কুকুরও নিজ মেজাজ অনুযায়ি রিএক্ট করে। আর জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না, সে অভিশপ্ত। তার ভেতরকার ভালোবাসা, অনুরাগ ইত্যাদি সবকিছু মোটামুটি জীবন্ত লাশের মত। তার জিহ্বা পেরিয়ে সেগুলো মানুষের কাছে পৌঁছায় না।
এই দেশে একটা কালচার আছে, বদমেজাজি মানুষের সবকিছু মেনে নেয়া, তাকে একটু ভয় পাওয়া, তার কথায় একটু গুরুত্ব দেয়া, ইত্যাদি। এটা কেন হয়েছে জানি না।
তবে মনে রাখবেন, অতিরিক্ত বদমেজাজি মানুষ বেসিক্যালি পাগল, মানসিক ভাবে অসুস্থ্য। তাকে গুরুত্ব দেবেন না। তার কথাকে পাত্তাই দেবেন না। সবচেয়ে ভালো হয় তাকে এড়িয়ে চলুন। এমন একটা সমাজ তৈরি করবেন না, যেখানে পাগল তার পাগলামি নিয়ে গর্ব বোধ করতে থাকে।
লিখেছেন - গোলাম ফজলুল কবির, এফসিএ
18/07/2018
04/04/2018
21/01/2018
02/01/2018
30/12/2017
30/12/2017
29/10/2017
31/07/2017