03/08/2024
দৃষ্টি আকর্ষণ!
যেকোন বড় জমায়াতের পরপরই তারা সিরিয়াস লেভেলে সন্ত্রাস করেছে, ম্যাসাকার করেছে। ৫মে, কিশোর বিদ্রোহ, বিএনপির বড় বড় সমাবেশ, কোথাও ব্যতিক্রম দেখিনি। তাই সবাইকে সঙ্ঘবদ্ধ থাকার, সতর্ক থাকার পরামর্শ দেই।
আজ থেকে আগামী কয়েকদিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওবায়দুল কাদের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছাত্রলীগ যুবলীগকে মহড়া দিতে বলেছে। যুবলীগ কাল-পরশুর মধ্যে মাঠ সাফের টার্গেট নিয়েছে। তাদেরকে যাবতীয় অস্র-পুলিশের ড্রেস সরবারহ করে, ম্যাসাকারের ওর্ডার দেয়া হইয়েছে বলে (আনভেরিফাইড) অভিযোগ শুনেছি। এদিকে জনতাকে বিভ্রান্ত রাখতে আর্মিকে নিয়ে আবারও আশাবাদ তৈরির ফাঁদ পাতা হচ্ছে।
অর্থাৎ হতে পারে তারা আরেক দফা গণহত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব ভয় দেখানোর জন্য পরিকল্পিত গুজবও হতে পারে। ভয় পাওয়া যাবে না, কিন্তু পাল্টা প্রস্তুতি নিতে হবে- এটাই মেসেজ। জনতার সুনামির সামনে তারা পারবে না বলেই মনে করি। তারা সংখ্যায় নগণ্য, মোরাল পজিশানে দুর্বল- স্রেফ উড়ে যাবে। তথাপি, আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। যার যা আছে, প্রস্তুতি নিয়েই নামতে হবে। আগামীকাল কেউ খালি হাতে আসবেন না। নিজের সেইফগার্ড হিসেবে সাথে কিছু প্রটেকশন নিয়ে আসবেন। আপনারা আঘাত করবেন না, আত্মরক্ষা করবেন। জনতার মহাস্রোতে তারা ভেসে যাবে।
পুলিশ কিছুটা টায়ার্ড, তবে তারা হাল ছেড়ে দিয়েছে এটা বলা যাবে না। ছাত্রলীগ যুবলীগকে কয়েকদিন বিশ্রাম দিয়ে অস্র সজ্জিত করে আবারও মাঠে নামানো হচ্ছে। এমতাবস্থায়, আমাদের ছাত্রদের যুবাদের শ্রমিকদের শিক্ষক ও পেশাজীবীদের নুন্যতম প্রিপারেশনে মাঠে নামা চাই। লাঠির মাথায় পতাকা লাগিয়ে বের হবেন, খালি হাতে নয়, টিয়ারশেলের ইফেক্ট কমাতে ম্যাচবক্স সাথে রাখতে হবে, টিয়ারশেলের মুখে আগুন ধরানোর মত কিছু কাগজপত্র পকেটে রাখবেন। পানি রাখবেন প্লিজ।
ইতিমধ্যেই বিএনপি নেতাদের বাড়ি বাড়ি হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, আরও ঘটবে। কিন্তু তাতে বিএনপি ও ইসলামি দলগুলো যাতে ঘরে বসে না থাকে। ঘরে বসে থাকলে কারও শেষ রক্ষা হবে না। ঘরে ঘরে হামলার আগেই তাদের প্রতিহত করুন। মাদ্রাসার ছেলেরাও নামুন, দরকারে শার্ট প্যান্ট পড়ে নামুন, আর বসে থাকার সময় নেই। দেশের মুক্তিতে ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিন সবাই। আপনারাই এই সময়ের হিরো।
কাল থেকে ১ দফার অসহযোগ চলবে। আওয়ামীলীগ ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পাল্টা কর্মসূচী দিয়েছে। যেকোন পাল্টা কর্মসূচির অর্থই হচ্ছে ব্যাপক সন্ত্রাসের প্রস্তুতি এবং আন্দোলন দমনের রক্তক্ষয়ী বর্বরতা। কবি ও চিন্তক ফারুক ওয়াসিফ বলেছেন, 'অবিশ্বাস্য বর্বরতাকে অলৌকিক সাহস দিয়েই জয় করতে হবে। নিষ্পাপের মৃত্যু বৃথা যায় না।' এসময় ছাত্রনেতাদেরকেও তারা টার্গেট করবে, আজ ও কালের কালোরাতে তারা ব্যাপক স্যাবটাজ করবে।
আগামীকাল ব্যানার ছাড়া ঐক্যবদ্ধ গ্রুপ গ্রুপ করে বিএনপি, গণসংহতি, গণ অধিকার, এবিপার্টি, গণতন্ত্র মঞ্চ, হেফাজত, চরমোনাই সহ সবাইকে মাঠে নামতে হবে। এই পিক সময়ে আমাদের ছাত্রদের গুলি ও হামলার মুখে ছেড়ে দেয়া যাবে না। বিএনপির কর্মীরা পেশাজীবী শিক্ষকরা সবাই ছাত্রদের সাথে মাঠে থাকবেন, কোন ব্যানারে নিবেন না। অভিভাবকরা, শ্রমিক ভাইদেরও সাথে রাখতে হবে।
*************
গণ আন্দোলনের পিক মোমেন্টাম অতি দীর্ঘ হয় না। এটা আনলিমিটেড ইলাস্টিসি রাখে না। মানুষ বহুদিন সংগ্রামের দীর্ঘ পথ মার্চ করে অবশ্যই। আবার নিশ্চয়ই লাগাতার অসহযোগ করা যায় না। তাই এই সর্বোচ্চ মোমেন্টামে ১ দফাকে পরিণতির দিকে পৌঁছাতে হবে। খুব তাড়াহুড়া যেমন করা যাবে না, তেমনি ধীরেসুস্থের কথাবলে খুব দেরিও করা যাবে না।
*************
এই বিপ্লব অভূতপূর্ব। আমাদের জয় হবেই, ইনশাআল্লাহ্।
- ফাইয়েজ তৈয়ব আহমেদ