Saju's Sphere - Where Ideas Revolve

Saju's Sphere - Where Ideas Revolve

Share

You are the centre of the universe

25/09/2025

General Will (সর্বজনের ইচ্ছা) কী?
Social Contract Theory (সামাজিক চুক্তি তত্ত্ব) কী?

এই লেখায় আমরা General Will বুঝার মাধ্যমে Social Contract theory বুঝার চেষ্টা করবো।
------------

General Will (সর্বজনের ইচ্ছা) সম্পর্কে জ্যঁ জ্যাক রুশো (Jean-Jacques Rousseau) তাঁর The Social Contract (1762)-এ বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। রুশোর মতে, মানুষ প্রকৃতিগতভাবে স্বাধীন ও সমান হলেও ব্যক্তিগত স্বার্থ (Private Interest) ও সম্পত্তির (Property) কারণে সমাজে অসাম্য (Inequality) ও শোষণ(Exploitation) সৃষ্টি হয়। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে মানুষকে ব্যক্তিগত ইচ্ছা (Private Will) অতিক্রম করে সর্বজনের ইচ্ছা (General Will) অনুসরণ করতে হবে। General Will হলো জনগণের সম্মিলিত অভিপ্রায় (Collective Intention), যা ব্যক্তিগত স্বার্থ নয় বরং সাধারণ কল্যাণ (Common Good) বা সমষ্টিগত মঙ্গলকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

রুশোর ধারণা অনুসারে General Will কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছা নয়, বরং এটি জনগণের সার্বিক সম্মতি (Consensus of the People) এবং সমষ্টিগত বিচারবুদ্ধির (Collective Reasoning) প্রতিফলন। এটি ভাগ করা যায় না (Indivisible) এবং কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না (Inalienable)। General Will সবসময় জনগণের সার্বভৌমত্বের (Popular Sovereignty) প্রকাশ এবং এটিই প্রকৃত আইনের (True Law) ভিত্তি। রুশোর মত, প্রকৃত স্বাধীনতা (True Freedom) মানে হলো এমন আইন মানা যা আমরা নিজেরাই তৈরি করেছি- অর্থাৎ General Will-এর ফল।

General Will-এর মূল জায়গাটা হলো এটি ব্যক্তিগত ইচ্ছা (Private Will) থেকে আলাদা। যেখানে ব্যক্তিগত ইচ্ছা একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিজস্ব লাভ-ক্ষতিকে গুরুত্ব দেয়, সেখানে General Will সবার জন্য ন্যায্যতা (Justice) ও সমান সুবিধা নিশ্চিত করতে চায়। উদাহরণস্বরূপ, একটি গ্রামে কিছু মানুষ চাইতে পারে শুধু তাদের রাস্তা মেরামত হোক, যা ব্যক্তিগত ইচ্ছা। কিন্তু যদি সবাই সিদ্ধান্ত নেয় প্রধান রাস্তা সংস্কার করা হবে যাতে পুরো গ্রামের উপকার হয়, সেটিই হবে General Will।

হবস, লক, রুশোর General Will -ধারণার মধ্যে পার্থক্য :

থমাস হবস (Thomas Hobbes) মানুষের ইচ্ছা বা Will-কে মূলত স্বার্থপর (Self-interested) ও সংঘর্ষপ্রবণ (Conflict-prone) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। তাঁর মতে, রাষ্ট্রহীন অবস্থায় (State of Nature) প্রত্যেক ব্যক্তি তার নিজের টিকে থাকা (Self-preservation) ও নিরাপত্তার (Security) জন্য কাজ করে, যা স্বভাবতই অন্যদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ফলে “Private Will” বা ব্যক্তিগত ইচ্ছা সবসময় হিংসা (Violence) ও বিশৃঙ্খলা (Chaos)-র দিকে ধাবিত হয়। এই অবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় হলো সবাই মিলে একটি সামাজিক চুক্তি (Social Contract) করা এবং নিজেদের ইচ্ছা সার্বভৌম শাসকের (Absolute Sovereign) হাতে সমর্পণ করা। হবসের দৃষ্টিতে Will-এর চূড়ান্ত রূপ হলো সার্বভৌমের ইচ্ছা (Will of the Sovereign), যা প্রশ্নাতীত ও সর্বময় ক্ষমতাসম্পন্ন।

জন লক (John Locke) Will বা ইচ্ছাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, প্রাকৃতিক অবস্থায় (State of Nature) মানুষ যুক্তিবাদী (Rational) এবং জন্মগতভাবেই অধিকারসম্পন্ন (Endowed with Natural Rights)। এই অধিকার হলো জীবন (Life), স্বাধীনতা (Liberty) ও সম্পত্তির (Property) অধিকার। য়ার মতে,ব্যক্তিগত Will এখানে কেবল নিজের নিরাপত্তা নয়, বরং এই প্রাকৃতিক অধিকার সংরক্ষণে কাজ করে। তবে মানুষের Will সবসময় নিখুঁত নয়, তাই সংঘাত দেখা দিলে মানুষ সম্মিলিতভাবে সরকার প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু এই সরকার কেবল জনগণের সম্মতির (Consent of the Governed) ওপর নির্ভরশীল। জনগণের সম্মিলিত Will হলো অধিকার রক্ষা (Protection of Rights)-এর ইচ্ছা, আর সরকার যদি এতে ব্যর্থ হয় তবে জনগণের Will আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তারা বিদ্রোহের (Right to Revolt) মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন করতে পারে।

রুশো (Jean-Jacques Rousseau) আবার Will ধারণাকে আরও সমষ্টিগত ও দার্শনিকভাবে ব্যাখ্যা করেন যা আমরা প্রথম অংশেই দেখেছি । তাঁর মতে, ব্যক্তি আলাদাভাবে নিজের স্বার্থসিদ্ধি চায়, যা “Private Will” নামে পরিচিত। কিন্তু সমাজ টিকে থাকে কেবল তখনই, যখন ব্যক্তি নিজের সংকীর্ণ ইচ্ছাকে অতিক্রম করে সর্বজনের ইচ্ছা বা General Will অনুসরণ করে। General Will সবসময় সাধারণ মঙ্গল (Common Good)-এর দিকে লক্ষ্য রাখে এবং এটি জনগণের সার্বভৌমত্বের (Popular Sovereignty) প্রকৃত প্রকাশ। রুশোর ধারণায়, Will কেবল ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং ন্যায়বিচার (Justice), সমতা (Equality) ও সমষ্টিগত স্বাধীনতার (Collective Freedom) প্রতীক।

তুলনা করলে দেখা যায়, হবসের কাছে Will হলো নিয়ন্ত্রণহীন ব্যক্তিস্বার্থ, যা একমাত্র সার্বভৌমের ক্ষমতার মাধ্যমে দমন করা যায়। লকের কাছে Will হলো প্রাকৃতিক অধিকার রক্ষার উপায়, যা সীমিত সরকার (Limited Government) ও জনগণের সম্মতির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। আর রুশোর কাছে Will সর্বোচ্চ রূপে General Will, যা সাধারণ কল্যাণের দিকে লক্ষ্য রেখে জনগণের সার্বভৌমত্বকে প্রতিফলিত করে। এই তিনটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই আধুনিক রাজনৈতিক তত্ত্বে (Modern Political Theory) গভীর প্রভাব ফেলেছে—হবস আইনের শৃঙ্খলা (Order and Authority), লক সাংবিধানিক গণতন্ত্র (Constitutional Democracy), আর রুশো জনগণের সার্বভৌমত্ব (Popular Sovereignty)-এর ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন।

তবে এই ধারণার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, General Will নির্ধারণ সবসময় সহজ নয়, কারণ মানুষের ইচ্ছা ও স্বার্থ ভিন্ন হতে পারে। দ্বিতীয়ত, এটি অনেক সময় সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরতন্ত্রে (Tyranny of the Majority) রূপ নিতে পারে, যেখানে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়। তৃতীয়ত, আধুনিক বৃহৎ রাষ্ট্রে সরাসরি গণতন্ত্র (Direct Democracy) প্রায় অসম্ভব, ফলে General Will বাস্তবে প্রতিফলিত হয় না।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হবস, লক, রুশো:

বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনীতি বিশ্লেষণে হবসের (Hobbes) দৃষ্টিভঙ্গি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে যখন আমরা নিরাপত্তা (Security) ও শৃঙ্খলার (Order) প্রশ্ন বিবেচনা করি। হবসের মতে, মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছা (Private Will) সংঘর্ষপ্রবণ, তাই শক্তিশালী শাসক বা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ছাড়া সমাজ অরাজকতায় (Anarchy) ডুবে যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়, বিশেষত ১৯৭১-৭৫ ও পরবর্তীতে সামরিক শাসনের (Military Rule) সময়কালকে Hobbes-এর ধারণা দিয়ে বিশ্লেষণ করা যায়। তখন রাষ্ট্রের শক্তিশালী কর্তৃত্বকে (Strong Sovereign Authority) আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য হিসেবে দেখা হয়েছিল। এখনও রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সহিংসতার সময় শক্ত হাতে শাসনের দাবি ওঠে, যা Hobbes-এর তত্ত্বের প্রতিফলন।

জন লকের (John Locke) ভাবনা বাংলাদেশের সংবিধান (Constitution of Bangladesh) ও গণতন্ত্র (Democracy)-এর ভিত্তি বোঝাতে সাহায্য করে। লক বলেছিলেন, রাষ্ট্রের মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকের প্রাকৃতিক অধিকার (Natural Rights)—জীবন (Life), স্বাধীনতা (Liberty), সম্পত্তি (Property)—সুরক্ষিত রাখা। বাংলাদেশের সংবিধানে মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) যেমন বাকস্বাধীনতা (Freedom of Speech), সম্পত্তির অধিকার (Right to Property), আইনের সমান সুরক্ষা (Equal Protection of Law) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সরাসরি লকীয় ধারা। তাছাড়া জনগণের সম্মতির (Consent of the Governed) ভিত্তিতে সরকার পরিবর্তনের ব্যবস্থা—অর্থাৎ নির্বাচন (Elections)—জন লকের চিন্তার প্রতিফলন। তবে যখন এই মৌলিক অধিকারগুলো সীমিত হয় বা নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তখন লকের বিদ্রোহের অধিকার (Right to Revolt)-এর কথা স্মরণ করা যায়, যদিও বাংলাদেশে তা সাধারণত রাজনৈতিক আন্দোলনের (Political Movements) আকারে প্রকাশিত হয়।অর্থাৎ বাংলাদেশে যে বিদ্রোহ, আন্দোলন, গণুভ্যুথান হচ্ছে সেগুলো লকের Right to Revolt ধারণার প্রতিফলন।

রুশোর (Jean-Jacques Rousseau) General Will ধারণা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচিত। রুশো বলেছিলেন, জনগণের সার্বভৌমত্ব (Popular Sovereignty) হলো রাষ্ট্রের আসল শক্তি, এবং আইন তখনই বৈধ যখন তা General Will-এর প্রতিফলন। বাংলাদেশের সংবিধানও “সব ক্ষমতার মালিক জনগণ” ঘোষণা করেছে, যা সরাসরি রুশোর দর্শনের প্রতিধ্বনি।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই General Will ধারণাটা ক্লিয়ার হয়েছে। এখন আসি Social Contract-এ।

সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট থিউরির মূল বক্তব্য হলো—মানুষ প্রাকৃতিক অবস্থায় (state of nature) স্বাধীন থাকলেও সেই স্বাধীনতা নিরাপদ নয়। তাই মানুষ পরস্পরের সঙ্গে একধরনের চুক্তি (contract) করে রাষ্ট্র (state) ও সরকার (government) প্রতিষ্ঠা করে যেখানে তারা কিছু ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (Individual Liberty) সরকারের হাতে অর্পণ (Surrender) করে, যাতে নিরাপত্তা (Security) ও শৃঙ্খলা (Order) বজায় থাকে। কিন্তু এই রাষ্ট্র কেবল তখনই বৈধ (legitimate) হবে যখন তা জনগণের ইচ্ছা ও স্বার্থ প্রতিফলিত করবে। এখানেই জ্যাঁ জ্যাক রুশো General Will ধারণা যুক্ত করেন। তাঁর মতে, জনগণ যদি কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ (private interest) অনুসরণ করে তবে সমাজ ভেঙে যাবে। তাই প্রত্যেকে যখন নিজের স্বার্থকে সামগ্রিক স্বার্থের (collective interest) সঙ্গে মিলিয়ে নেবে, তখন যে সাধারণ ইচ্ছা গড়ে উঠবে, সেটিই জেনারেল উইল।

যেখানে হবস (Hobbes) বলেছিলেন রাষ্ট্র ছাড়া মানুষ নিরাপত্তাহীন, তাই শাসকের হাতে সব ক্ষমতা থাকতে হবে। অন্যদিকে লক (Locke) বলেছিলেন জনগণের প্রাকৃতিক অধিকার (natural rights) রক্ষার জন্য রাষ্ট্র তৈরি হয়, আর রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে জনগণ বিদ্রোহ করতে পারে। কিন্তু রুশো বলেন, আসল বৈধতা (legitimacy) নির্ভর করে রাষ্ট্র কতটা জনগণের সাধারণ ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারছে। তাঁর মতে, আইন (law) তখনই বৈধ যখন তা জেনারেল উইল-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে রাষ্ট্র কেবল দমনমূলক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং জনগণের সম্মিলিত ইচ্ছার (collective sovereignty) প্রকাশ।

আধুনিক গণতন্ত্র (modern democracy) ও সাংবিধানিক শাসন (constitutional governance)-এই Social Contract-এর উপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত। এখানে জনগণই সার্বভৌম (sovereign people), এবং রাষ্ট্র তাদের ইচ্ছার প্রতিফলন। অর্থাৎ সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট থিউরি যদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা (justification) দেয়, তবে জেনারেল উইল সেই রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতা (moral legitimacy) নিশ্চিত করে। আমাদের এই General Will এবং Social Contract এই দুইটা জিনিস বুঝতে পারাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

05/05/2025

আসসালামু আলাইকুম।

28/01/2025

সহজ ভাষায় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় জানতে এই পেইজে যুক্ত থাকুন।

03/09/2024
Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Website

Address


Dhaka University
Dhaka