05/06/2026
আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস।
পরিবেশ দূষণের কারণ অনুসন্ধান, দূষণ প্রতিরোধের কার্যকর উপায় নির্ধারণ এবং পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এই দিবসের মূল লক্ষ্য। ধরিত্রীমাতার প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে বিশ্বব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে থাকে।
১৯৭২ সালে আয়োজিত স্টকহোম কনফারেন্স অন দ্য হিউম্যান এনভায়রনমেন্টে ৫ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৭৩ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি উদযাপিত হয়, যার প্রতিপাদ্য ছিল “Only One Earth”।
জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬-এর মূল প্রতিপাদ্য “Climate Action” বা “জলবায়ু পদক্ষেপ”। আয়োজক দেশ আজারবাইজান দিবসটির জাতীয় প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে “Inspired by Nature. For Climate. For Our Future.” , যার বাংলা করলে দাঁড়ায় “প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণায়। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।” আর দিবসটির বৈশ্বিক আহ্বান হলো । এই প্রতিপাদ্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই প্রয়োজন দায়িত্বশীল, সুসংগঠিত ও সম্মিলিত উদ্যোগ। পৃথিবী আমাদের একমাত্র আবাসস্থল, তাই এর সুরক্ষা ও সংরক্ষণে দায়িত্বও আমাদের সবার।
আমরা ব্যক্তিগতভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। যেমন গাছ রোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস, পানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়, পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ এ দিনে এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চায় যে, পৃথিবী আমাদের এবং এর সুরক্ষার দায়িত্বও আমাদেরই।
আসুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করি।
সম্মিলিত প্রয়াসে গড়ে তুলি একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য পৃথিবী।
ক্যাপশন: রিফতি আল জাবেদ
30/05/2026
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বাধা প্রদান ও প্রশাসনের নতিস্বীকারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি।
27/05/2026
প্রশান্তি, ত্যাগ ও সৌহার্দ্যে ঘেরা মহিমান্বিত এক উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আযহা।
সকালের ঈদের নামাজের পর কোরবানির মাধ্যমে শুরু হয় এই পবিত্র উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ইসলামের ইতিহাসে এটি হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর মহান আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের এক গৌরবময় স্মারক।
এই ঈদের অন্যতম তাৎপর্য হলো কোরবানির মাধ্যমে আত্মত্যাগের শিক্ষা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা।
আমাদের বাঙালি সংস্কৃতিতেও এই উৎসব গড়ে তোলে এক গভীর সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের আবহ, যেখানে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই আনন্দ ও অংশীদারিত্বে একত্রিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের পক্ষ থেকে জানাই এই পবিত্র উৎসবের আন্তরিক শুভেচ্ছা। ত্যাগের মহিমা ও আনন্দের মেলবন্ধনে কাটুক আপনার ঈদ।
ক্যাপশন: নুসাইবা আহমেদ
ডিজাইন: অরুনাভ পাল স্বপ্ন
25/05/2026
“মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী,
আর হাতে রণতূর্য..”
অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে যার কলম গর্জে উঠেছিল বজ্রকণ্ঠে, আবার প্রেমের স্নিগ্ধতায় যিনি জুড়িয়ে দিয়েছিলেন বাঙালির প্রাণ; আজ ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, বাংলা সাহিত্যের চিরবিদ্রোহী ও সাম্যের কবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী।
১৩০৬ বঙ্গাব্দের এই দিনে বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম, যা পরাধীন ও শোষিত বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক নবজাগরণের মশাল হয়ে আবির্ভূত হয়েছিল। কবিতা, গান, উপন্যাস, নাটক কিংবা ক্ষুরধার সাংবাদিকতা—সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় তাঁর আগমন ছিল ধূমকেতুর মতো দীপ্তিময়। তিনি যেমন আমাদের শিখিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে ‘বিদ্রোহী’ হতে, তেমনই ‘নজরুলগীতি’র সুধা দিয়ে বাঙালির মনকে করেছেন প্রেম ও বিরহে আপ্লুত।
তবে নজরুল কেবল সাহিত্যের পাতা বা সুরের মূর্ছনাতেই সীমাবদ্ধ নন; তিনি আমাদের শিখিয়েছেন অসাম্প্রদায়িকতার চরম পাঠ, যেখানে শোষিত শ্রেণির মানুষের অধিকার রক্ষাই ছিল তাঁর মূল উপাসনা। ব্রিটিশ রাজের কোপানলে পড়ে কারাবরণ করলেও, শিকল ভাঙার গান গেয়ে তিনি নিজের আদর্শে ও বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে দুর্বার ছিলেন।
পরাধীনতার অন্ধকার পেরিয়ে আজও যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে, মিছিলে-স্লোগানে এবং অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নজরুল আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। আমাদের বিপ্লবে, তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে, প্রেমে কিংবা আধ্যাত্মিক চেতনায় তিনি মিশে আছেন প্রতিটি হৃদয়ের স্পন্দনে। নিপীড়িতদের মুখে হাসি ফোটানোর যে গান তিনি গেয়েছিলেন, তা আজও বাঙালির হৃদয়ে চির অম্লান ও চিরভাস্বর।
আমাদের দ্রোহ ও প্রেমের এই মহানায়কের জন্মজয়ন্তীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ-এর পক্ষ থেকে সকলকে নজরুল জয়ন্তীর শুভেচ্ছা।
ক্যাপশন: বৃষ্টি রানী সরকার
ডিজাইন: সৈয়দ তাইছুর রহমান ফাইয়াজ
12/05/2026
বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব, অভিনেতা ও মঞ্চনির্দেশক আতাউর রহমানের প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত এই গুণী শিল্পী ছিলেন স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের মঞ্চনাটক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এই কৃতি শিক্ষার্থী এবং ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’ এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।
08/05/2026
“তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে...”
আজ পঁচিশে বৈশাখ। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী।
১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে তাঁর জন্ম, যা বাঙালির জাতিগত ইতিহাসের একটি বিলক্ষণ সৌভাগ্যমন্ডিত মুহূর্ত। কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক কিংবা সংগীত- সকল সৃষ্টি দিয়েই রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠেছেন আমাদের অতি আপনজন ও একই সাথে পরম শ্রদ্ধাভাজন। তবে রবীন্দ্রনাথ যে কেবলই তার সাহিত্য রচনার মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে উপস্থিত তা নয়। বরং বাঙালির আভিজাত্য ও শিষ্টাচারের মানদন্ডে আজও রবীন্দ্র-কায়দা প্রসংশনীয়।
১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ দিয়ে যেমন তিনি নিজেকে বিশ্বদরবারে মঞ্চস্থ করেছেন, আবার অন্যায়ের প্রতিবাদে ‘নাইট’ উপাধি বর্জন করে নিজের বাঙালি পরিচয়কে গৌরবান্বিত করতেও সময় নেননি।
জন্মের শতবর্ষ পেরিয়ে গেলেও তাই রবীন্দ্রনাথ আছেন আমাদের সুখে-দুঃখে, আনন্দে-বেদনায়- হয়ে আছেন আমাদের চিরন্তন উপাধ্যায়। আমাদের উৎসবের আনন্দে, বিরহের বিষাদে কিংবা একাকিত্বের সঙ্গী হয়ে তিনি বেঁচে আছেন প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে। তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমেই আমাদের ভাবনায় ও চেতনায় তিনি চির অম্লান।
বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তীতে তাঁর চরণে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ-এর পক্ষ থেকে সকলকে রবীন্দ্রজয়ন্তীর শুভেচ্ছা।
লেখা: নুসাইবা আহমেদ
ডিজাইন: অরুনাভ পাল স্বপ্ন
03/05/2026
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জন্মদিন আজ।
অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমামের জন্ম। বাবা আবদুল আলী ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। পারিবারিক অনুকূল পরিবেশের সুবাদে জাহানারা ইমাম রক্ষণশীল নারী সমাজ থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। বিয়ের পর প্রকৌশলী স্বামী শরীফ ইমামও তাকে এ ব্যাপারে যথেষ্ট অনুপ্ররণা যুগিয়েছেন। কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন থেকে বি.এ পাস করে পরবর্তীকালে প্রাইভেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এম.এ করেন জাহানারা ইমাম। কর্মজীবনে তিনি সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল ও ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে শিক্ষকতা করেছেন।
জাহানারা ইমাম সত্তরের দশকের শেষ দিকে শিক্ষকতা ছেড়ে প্রগতিশীল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। একাত্তরে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র শফি ইমাম রুমী দেশের মুক্তিসংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন এবং কয়েকটি সফল গেরিলা অপারেশনের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে নির্মমভাবে শহীদ হন। বিজয় লাভের পর রুমীর বন্ধুরা রুমীর মা জাহানারা ইমামকে সকল মুক্তিযোদ্ধার মা হিসেবে বরণ করে নেন।
একাত্তরের ঘাতক দালাল বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। শুধু তাই নয়, তিনি একজন গুণী কথাসাহিত্যিক এবং শিক্ষাবিদ। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাপঞ্জির মধ্যে রয়েছে: ‘অন্য জীবন’, ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ‘জীবন মৃত্যু’, ‘চিরায়ত সাহিত্য’, ‘বুকের ভিতর আগুন’, ‘দুই মেরু’, ‘নিঃসঙ্গ পাইন’, ‘নয় এ মধুর খেলা’, ‘ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস’, ‘প্রবাসের দিনলিপি’ ইত্যাদি।
ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাকে সমাহিত করা হয়।
জন্মদিনে তাঁর প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা।
02/05/2026
আজ ২রা মে, ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ১০৫ তম জন্মতিথি!
সত্যজিৎ রায় অসাধারণ একজন চলচ্চিত্র পরিচালক এবং তাঁর সৃজনশীল কাজ সর্বদা আমাদের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা ছাড়াও তিনি একাধারে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার, চিত্রকর, চিত্রনাট্যকার, শিল্প নির্দেশক, সংগীত পরিচালক এবং লেখক।
নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপুর সংসার’, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’, ‘জলসাঘর’, ‘নায়ক’, ‘হীরক রাজার দেশে’, ‘মহানগর’, ‘সোনার কেল্লা’ , তাঁর অমর সৃষ্টি।
বাংলা সাহিত্যে সত্যজিৎ রায় রচিত অসংখ্য ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধের মধ্যে ‘বাদশাহী আংটি’, ‘সোনার কেল্লা’, ‘জয়বাবা ফেলুনাথ’, ‘যখন ছোট ছিলাম’, ‘প্রফেসর শঙ্কু’ প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখের দাবিদার!
চলচ্চিত্র নির্মাণে অনন্য প্রতিভায় বাংলা ও বাঙালির নাম পৌঁছে দিয়েছেন সিনেমা জগতের সবচেয়ে বড় আসর অস্কারের মঞ্চে৷ জিতে নিয়েছেন অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার। তাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচিত্র নির্মাতাদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়।
সত্যজিৎ রায়, এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও তাঁর সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে তিনি অমর হয়ে থাকবেন আজীবন।
আজ তাঁর এই বিশেষ দিনে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।
ক্যাপশন কৃতজ্ঞতা: তাসনুভা রুপন্তী
01/05/2026
আজ পালিত হচ্ছে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা।
বৈশাখী পূর্ণিমার এই দিনে গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধি লাভ ও নির্বাণ লাভ ঘটে। 'জগতের সব প্রাণী সুখী হোক’—এই অহিংস বাণীর প্রচারক গৌতম বুদ্ধ রাজপ্রাসাদের বিত্ত-বৈভবের মায়া ত্যাগ করে অজানার পথে সত্যের সন্ধানে বেরোবার পর দীর্ঘ সাধনার বোধিপ্রাপ্ত হন। বুদ্ধের শিক্ষা- মানুষ কর্মের অধীন, জগতে কর্মই সব এবং যার যেমন কর্ম, তিনি ফলও পাবেন তেমন।
বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা গৌতম বুদ্ধের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করেন, মৃত স্বজনদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ-এর পক্ষ থেকে বৌদ্ধধর্মাবল্বীদের জানাচ্ছি বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা।
ডিজাইন: অরুনাভ পাল স্বপ্ন
01/05/2026
‘ওরে ও শ্রমিক, সব মহিমার উত্তর-অধিকারী!
অলিখিত যতো গল্প-কাহিনী তোরা যে নায়ক তারই।’
- কাজী নজরুল ইসলাম
আজ মহান মে দিবস। চারদিকে মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ আর ক্যালেন্ডারের পাতায় লাল হরফে ছুটির দিন। চটকদার বিজ্ঞাপন আর বড় বড় বক্তৃতায় আজ শ্রমিক হয়ে উঠেছে 'উন্নয়নের কারিগর', 'সভ্যতার রূপকার' কিংবা 'অদম্য শক্তির উৎস'। অথচ এই গালভরা বিশেষণের আড়ালে শ্রমজীবী মানুষ থাকতে চেয়েছিলো কেবলই পেটেভাতে; এই স্বাধীন সমাজে। হতে চেয়েছিলো একজন আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মানুষ, যাকে ঘামঝরানো শ্রমের বিনিময়ে ন্যায্য অধিকারের জন্য রাজপথে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে হবে না, যাকে বঞ্চনার শিকার হয়ে অকালে হারিয়ে যেতে হবে না কোনো রানা প্লাজা কিংবা তাজরীন ফ্যাশনের ধ্বংসস্তূপে।
আমাদের সাহিত্য থেকে সংস্কৃতি, নজরুলের 'কুলি-মজুর' থেকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি', সকলেই আমাদের শিখিয়েছেন শ্রমের মর্যাদা আর শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ভাষা। শিকাগোর হে মার্কেটের সেই রক্তরঞ্জিত পথ থেকে আজকের কলকারখানা পর্যন্ত, মেহনতি মানুষ বাঁচতে চেয়েছে নিজ শ্রমের স্বতঃস্ফূর্ততায়; গড়ে তুলতে চেয়েছে এমন এক পৃথিবী যেখানে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই মিলবে তার প্রকৃত পাওনা।
আজকের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে সেইসব অগণিত শ্রমজীবী মানুষকে, যারা নিভৃতে গড়ে তুলেছেন এই সুউচ্চ অট্টালিকা, সড়ক আর আমাদের আধুনিক বিশ্ব। একইসাথে আমরা তীব্র ধিক্কার জানাই সেইসব শোষকদের, যারা মুনাফার লোভে রোজ রোজ লিপ্ত হন শ্রমের অবমূল্যায়নে এবং শ্রমিকের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায়।
আজ, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত আগামীর শুভেচ্ছা।
ক্যাপশন: নুসাইবা আহমেদ
ডিজাইন: অরুনাভ পাল স্বপ্ন