25/11/2024
আপনারা দীর্ঘ ৩০/৩৫ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। কখনো আপনাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন অনিয়মের অভিযোগ তুলতে পারেনি। আপনাদের সামনে গলা উচিয়ে কথা বলার সাহস আজ পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থীর হয়নি।(অন্তত আমাদের যুগ পর্যন্ত)
আপনারা যে ক্লাসের বারান্দা দিয়ে হেটে গেছেন, আমরা অন্য ক্লাস রুম থেকে আপনাদের আসার শব্দ পেলে ভয়ে চুপ হয়ে বসে থাকতাম। আপনারা ক্লাস রুমে আসলে মনেহত দুনিয়ায় সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষদের সামনে আমরা দাড়িয়ে। আপনাদের সামনে আমরা ভয়ে মুখস্ত পড়াও ভুলে যেতাম।
আপনাদের বেত আমাদের প্রতিদিন স্কুলে আসতে বাধ্য করেছে। শিখিয়েছে পরীক্ষার নম্বর কম হলেও মানুষ হিসেবে যাতে আমাদের নম্বর কখনো কম না হয়।
আপনারা আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ, বড়দের শ্রদ্ধা ও ছোটদের স্নেহ করতে হয়।
এই যে এই বিদ্যালয়ে ৫ বছর পড়াশোনা করেছি কখনো আমরা কিংবা আমাদের পূর্ববর্তী কোন ব্যাচ আপনাদের বিরুদ্ধে কখনো কোন অনিয়ম বা অভিযোগ তুলতে পারেনি। বরং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াও একজন সৎ মানুষের কী কী গুণাবলি থাকা প্রয়োজন তা কিন্তু আমরা আপনাদের থেকে শিখেছি।
এসব বলার কারণ হচ্ছে গত বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখছি এই বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে নাকি প্রশ্নফাঁস, কোচিং বাণিজ্য এমনকি শ্লীলতাহানিরও অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় ছেড়েছি আজ ৮/৯ বছর হলো। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা নতুন হওয়ায় ঠিকমতো চিনতে পারিনি। বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও নাকি শিক্ষার্থীসহ অবিভাবকদের রয়েছে হাজারো অভিযোগ।
শুনলাম স্কুলের ২ পক্ষের গ্রুপের সাথে নাকি দেশীয় অস্র নিয়ে ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টা দুঃখজনক। একজন প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে কখনোই বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটুক তা কখনোই আমরা চাই না। অপরাধী যেই হোক সেটা শিক্ষক হোক বা ছাত্র, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি।
পরিশেষে বলতে চাই, ভালো থাকুক প্রাণের বিদ্যাপিঠ❤️
নাজমুল হাসান শাওন।
বিজ্ঞান বিভাগ। ১৬ ব্যাচ।