Jamia Rahmania Arabia

Jamia Rahmania Arabia

Comments

. আলহামদুলিল্লাহ
বাংলাদেশে এই প্রথম আমরাই নিয়ে আসতেছি
"উসুলে ফিকহ" বুঝার একটি পূর্নাঙ্গ
অনলাইন কোর্স (সম্পূর্ণ ফ্রি)।
এই কোর্স করার দ্বারা আপনি জানতে পারবেন খুব সহজেই উসূলে ফিকহের গভীর আলোচনা
কোর্সটি করাবেন-
শায়েখ হযরত মাওঃ মুফতী ইয়াহইয়া হাফি. এর স্বনামধন্য ছাত্র
🔸 শায়েখ মুফতী বোরহান উদ্দীন (হাফি.)
উসূলে ফিকহের বিষয়ে গভীর পান্ডিত্য অর্জন করতে আপনারা কোর্সটি করতে পারবেন।
আমাদের ইউটিউব চ্যানেল ও পেইজে
নিয়মিত ভাবে কোর্সটি দেয়া হবে।
কোর্সটি করতে আমাদের চ্যানেল ও পেইজের সাথে যুক্ত থাকুন এবং শিক্ষা নিন।
(ইউটিউব লিংক কমেন্ট বক্সে দেয়া হলো)
ইয়া আল্লাহ তুমি এ যুগের রাহবারের মুক্তির ব্যবস্থা করে দাও...
For Detail DM at Humnava
সুখবর সুখবর সুখবর

"কম খরচে"
নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে
যে কোন মাপের, ভালো মানের খাতা তৈরি করে নিন।
( এই খাতার উপকারিতা )
১। এই খাতা দ্বারা আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বড় একটা বিজ্ঞাপন হয়ে যাবে।
২। এই খাতা থেকে আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
কিছু আর্থিক উপকার হবে।
( খাতার বিবরণ )
১। কভার এক কালারের হবে। ( তবে কেউ যদি
{ চার কালারের } করতে চান এর ব্যবস্থা আছে )
২। পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬৪ / ৯৬/ ১২৮/
১৬০ বা আপনার ইচ্ছা মত।
৩। খাতার মাপ { 7" / 6 } ইন্চি বা ( আপনার ইচ্ছা মত )

যোগাযোগ : 01792221373
“মুসলিম” সত্তাকে ‘মাযহাবের’ নামে খন্ডনকারীরা মুশরিক - পর্ব এক
///////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////////
-আবু সাঈদ খান

 একজন নুরুল ইসলাম ওলিপুরীর কুরআন বিরোধী ভয়ংকর বক্তব্যকে কুরআন দ্বারা মোকাবেলা।
 দীন অবিভাজ্য – দীন ইসলামে ‘মুসলিম’ ব্যতীত ‘শিয়া-সুন্নি’ বা ‘হানাফি-জায়েদি’– জাতীয় কোন খন্ডিত পরিচয় গ্রহনযোগ্য নয়।
 মুসলিম উম্মাহর সর্বনাশা আত্মপরিচয় সংকট।
 মুসলিম ব্যতীত কোন ‘হানাফি, মালিকি, শাফিয়ি, হাম্বলি, জাফরি, জায়েদি’ ফেরকা জান্নাতে যাবে না।

https://www.facebook.com/abusayed.khan.31/posts/3267513559947743?__tn__=K-R

জামি'আ রাহমানিয়া আরাবিয়া ১টি কুরআন সু?

জামি আ রাহ মানিয়া আরাবিয়া ১টি কুরান সুন্নাহ মুতাবিক পরিচালিত হক্কানী আলেম এবং দীনের নিরভীক মরদে মুজাহিদ হিসেবে জাতিকে উপহার দেয়ার মারকাজ।

30/11/2022

খেলার নামে শুরু হলো এ কোন খেলা?
মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ (দামাত বারকাতুহুম)
একসময় বলা হতো খেলাধূলা। কেনো বলা হতো? মাঠে খেলতে গেলে ধূলা ওড়ে এজন্য? কিংবা গায়ে ধূলা লাগে? কিন্তু কেউ কি কল্পনাও করেছিলো কখনো, খেলার ধূলা এবং ধূলিঝড় এভাবে অন্ধকার করে দেবে জীবন? জাতি ও মানবজাতির জীবন!
একজন ছাত্র যদি রাত জাগে পড়ার জন্য নয়, খেলার জন্য! না, খেলার জন্য নয়, শুধু খেলা দেখার জন্য! তাহলে শিক্ষার আলোতে কীভাবে আলোকিত হতে পারে তার জীবন! জ্ঞানের প্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে টিভি-স্ক্রিনের আলো কি উজ্জ্বল করতে পারে কারো ভবিষ্যত?
একজন ছাত্র, হোক সে বিদ্যালয়ের, বিশ্ববিদ্যালয়ের, এমনকি – – – হাঁ, লজ্জার সঙ্গে বলছি, এমনকি হোক সে মাদরাসার ছাত্র, এখন সে জানতে চায় না জ্ঞান-বিজ্ঞানের সর্বশেষ তথ্য! কোনো বিষয়ের উপর প্রকাশিত গ্রন্থের সর্বশেষ তালিকা। এখন সবার আগে সে জানতে চায় খেলার সর্বশেষ খবর এবং দেখে নিতে চায় পদতালিকার সর্বশেষ অবস্থান!
আমি যার দিকে তাকিয়ে আছি, আমার জাতি যার দিকে তাকিয়ে আছে তাদের দিনরাতের ভাবনা এখন ফিলিস্তীন, বা ইরাক-আফগানিস্তান নয়! কোথায় হিংস্র হায়েনাদের থাবায় মুসলিম উম্মাহর কত রক্ত ঝরছে তাদের চিন্তা সে সম্পর্কে নয়।
তাদের কৌতুহল শুধু কোন খেলোয়াড়ের কত ঘাম ঝরছে স্বর্ণপদকের জন্য! হায়, কারা হতে
পারতো ‘স্বর্ণজয়ী’, অথচ ছুটছে স্বর্ণজয়ের পিছনে! আর কারা সন্তুষ্ট শুধু স্বর্ণজয়ের খবর শুনে!
গোটা দেশ যখন মেতে ওঠে শুধু খেলার ধূলো গায়ে মাখার জন্য, তখন সে দেশের ভবিষ্যত কী হতে পারে?
এমন যে বাংলাদেশ, খেলার মাঠেও যার কোনো প্রাপ্তি নেই একরাশ লজ্জা ছাড়া; ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে যার নিত্য বাস, যে দেশের সত্যি সত্যি ‘নুন আনতে পান্তা ফুরোয়’, খেলাধূলার নামে সে দেশেরও রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ঢালা হয় কোটি কোটি টাকা, অথচ বিভিন্ন সেবাকর্ম এবং বহু গবেষণা-প্রকল্প থেমে থাকে প্রয়োজনীয় টাকার অভাবে! সেই দেশ, সেই জাতি কীভাবে স্বপ্ন দেখতে পারে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের?
সারা পৃথিবী এখন শুধু মেতে আছে নয়, বরং মত্ত ও উন্মত্ত হয়ে আছে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে। যেনো পৃথিবীতে এখন ক্ষুধা নেই, দারিদ্র্য নেই, রোগ-ব্যাধি নেই, শিক্ষার সমস্যা নেই এবং সম্পদের অভাব নেই। তাই তো নির্মম রসিকতা করে। সম্প্রতি কেউ বলেছেন, ‘মানবজাতির এখন কোনো সমস্যা নেই, তিনশ টুকরো স্বর্ণ ছাড়া।’
এই বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজক দেশের খরচ হচ্ছে হাজার হাজার কোটি ডলার। খেলা চলাকালে দৈনিক খরচ কয়েক শত কোটি ডলার। এছাড়া রয়েছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বিপুল ব্যয়।
অথচ পৃথিবীর দেশে দেশে কোটি কোটি বনি আদম চরম দারিদ্র্যের শিকার। তারা যাপন করছে মানেবেতর জীবন। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিত্সা ও শিক্ষা- এসব মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত পৃথিবীর অন্তত একশ কোটি মানুষ। এই বিপুল অর্থ, মেধা ও শ্রম যদি ব্যয় হতো পৃথিবী থেকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করার কাজে এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে, তাহলে মানবতার জন্য কতো কল্যাণকর হতো!
আমরা হয়ত পারবো না বিশ্বকে সংশোধন করতে, এমনকি আপন দেশ ও জাতিকে সাবধান করতে, কিন্তু আমি কি পারি না অন্তত নিজেকে রক্ষা করতে অর্থের, চিন্তার এবং সময়ের অপচয় থেকে!
নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট পরিমাণে খেলাধূলার অবশ্যই প্রয়োজন আছে, তবে খেলার ধুলা থেকে তো
নিজেকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে, যদি সত্যি আমি পেতে চাই আলোর ভুবন এবং আলোকিত জীবন ।
হে কিশোর! হে তরুণ! ‘আগামীকাল’ বলো না, ‘গতকাল’ আমাকে সতর্ক করা হয়নি।

আবু তাহের মেসবাহ সাহেব দাঃ বাঃ এর বিশেষ কলাম থেকে

Photos from Sazzadur Rahman Sabbir's post 31/10/2022
24/03/2021

ভর্তি তথ্য
জামি'অা রাহমানিয়া আরাবিয়া
আলী অ্যান্ড নূর রিয়েল এস্টেট, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা-১২০৭

১৪৪২-৪৩ হিজরী শিক্ষাবর্ষের ভর্তিতথ্য

(ভর্তিচ্ছুক নতুন ছাত্রদের জন্য প্রযােজ্য)

কার্যক্রম
★ ৭ ই শাওয়াল
মাদরাসা খোলা , সকল জামাতের নতুন ছাত্রদের ভর্তি ফরম সংগ্রহ। তাইসীর থেকে নাহবেমীর পর্যন্ত ছাত্রদের ভর্তি পরীক্ষা ও ভর্তি।

হিদায়াতুন্নাহু থেকে তাখাসুস পর্যন্ত ভর্তিচ্ছুক ছাত্রদের ভর্তি পরীক্ষা (লিখিত ও মৌখিক)।

★ ৯ শাওয়াল
ফলাফল প্রকাশ ও ভর্তি (পরীক্ষায় উত্তীর্ন ছাত্রদের ঐ দিন ভর্তি হওয়া লাযেম, পরে সুযােগ থাকবে না)।

★১০ শাওয়াল
মকতব, নাজেরা ও হিফজ বিভাগের ভর্তিচ্ছুক ছাত্রদের ভর্তি পরীক্ষা ও ভর্তি।

প্রয়ােজনীয় কাগজপত্র ও শর্তাবলী

১. ১৪৪২-৪৩ হিজরী শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছুক নতুন/পুরাতন সকল ছাত্রের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অথবা জন্য নিবন্ধন সনদপত্র এবং পাসপাের্ট সাইজ ২ কপি ছবি লাগবে।

২. নতুন ছাত্রদের লিখিত ভর্তি পরীক্ষায় কোন একটি প্রশ্নের উত্তর উর্দূতে দিতে হবে।

★পরীক্ষার বিষয়

১.তাফসীরুল কুরঅান বিভাগ
জালালাইন, আল-ফাউযুল কাবীর

২.উলূমুল হাদীস বিভাগ
বুখারী ১ম,নুখবাতুল ফিকার।

৩.ইফতা বিভাগ
সহীহ বুখারী ১ম, হিদায়া ৩, নুরুল আনওয়ার(কিতাবুল্লাহ)।

৪.দাওয়া বিভাগ
সহীহ মুসলিম (কিতাবুল ঈমান), আহকামুল কুরআন লিল-জাসসাস ১ম, এবং বাংলা ও আরবীতে সংক্ষিপ্ত প্রবন্ধ।

৫.অারবী ভাষা ও সাহিত্য
আরবী কাওয়াইদ,ইবারত পাঠ, লেখালেখী ও অনুবাদের যােগ্যতা ও আধুনিক আরবীর সাথে সম্পৃক্তি।

৬.তাকমীল
মিশকাত, হিদায়া

৭.নেহায়ী ছানী(মেশকাত)
জালালাইন (পূর্ন) ,হেদায়া ১-২

৮.নেহায়ী অাওয়াল(জালালাইন)।
শরহে বেকায়া(পূর্ন),নুরুল অানওয়ার (কিতাবুল্লাহ)।

৯.ছানুবী ছানী(শরহে বেকায়া)
শরহে জামী,কানযুদ্দাকায়েক।

১০.ছানুবী অাওয়াল(শরহে জামী)।
কাফিয়া,কুদূরী।

১১.উসতানী সালিস (কাফিয়া)
হিদায়তুন্নাহব,ইলমুছ ছীগাহ।

১২.উসতানী সানী(হেদায়তুন্নাহ)
নাহবেমীর,ইলমুছ সরফ ৩-৪,পাঞ্জেগাঞ্জ

১৩.উসতানী অাওয়াল(নাহবেমীর)
মীযান মুইশাইব,ইলমুচ্ছরফ ১-২,অারবী অাদব।

১৪.ইবতিদায়ী ছানী(মীযান)
তাইসির, ফারসি কি পহেলি কিতাব।

১৫.ইবতিদায়ী অাওয়াল(তাইসির)
উর্দূ কায়েদা,নাযেরা (গাইরে হাফেজদের জন্য)

বিঃদ্রঃ উল্লিখিত জামাআতগুলাের লিখিত পরীক্ষার সাথে সাথে মতন খানী ওপরীক্ষা হবে।

★ আত-তাখাসসুস ফিল-ফিকহী ওয়াল-ইফতা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত জরুরী বিজ্ঞপ্তি

১. আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য ভর্তি ফরম ২৪ রমাযান ১৪৪২ হিজরীর আগেই সংগ্রহ করতে হবে।

২. শুধুমাত্র জামি'আ রাহমানিয়া আরাবিয়া, আলী অ্যান্ড নূর রিয়েল এস্টেট, মুহাম্মাদপুর, ঢাকার ফাযেলগণ ফরম সংগ্রহ করবেন।

৩, দাওরায়ে হাদীস/তাকমীল জামাআতে ২য় সাময়িক পরীক্ষার গড় নম্বর মুমতাজ থাকতে হবে এবং নম্বরপত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা দফতর কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে।

৪. লিখিত ও মৌখিক দুই পর্বে ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। লিখিত পরীক্ষা ২৫ রমাযান বাদ যােহর ও মৌখিক পরীক্ষা ২৬ রমাযান বাদ যােহর নেয়া হবে। মৌখিক পরীক্ষায় সুযােগ প্রাপ্তদের তালিকা ২৬ রমাযান সকাল ১১টায় প্রকাশ করা হবে।

|৫. সহীহ বুখারী ১ম খণ্ড, হিদায়া ৩য় খণ্ড, নূরুল আনওয়ার কিতাবুল্লাহ ও কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কিছু জরুরী পরীক্ষা নেয়া হবে।

৬, লিখিত পরীক্ষায় ১ম বিভাগে উত্তীর্ণরাই কেবল মৌখিক পরীক্ষার সুযােগ পাবে এবংউভয় পরীক্ষায় গড়ে ন্যুনতম ৬৫ নম্বরে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে নম্বরের ভিত্তিতে প্রথম ১৫ জন ভর্তির সুযােগ পাবেন।

৭. ২৭ রমাযান সকাল ১১টার মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করা হবে এবং রমাযানের মধ্যেই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যাবে।

-শিক্ষা দফতর
জামি'আ রাহমানিয়া আরাবিয়া
আলী অ্যান্ড নূর রিয়েল এস্টেট, মুহাম্মাদপুর, ঢাকা-১২০৭

18/09/2020

قد مات ابوالامة مرشدالعلماء واستاذالاساتذة و امير حفاظة الاسلام بنغلاديش رءيس الوفاق المدارس العربية بنغلاديش وخليفة الاجل لشيخ العرب والعجم العلامة الشاه احمد شفيع رحمةالله رحمة واسعة ونورالله مرقده وجعل الجنة مثواه اللهم ارحمه وادفع عنه واجعل قبره روضة من رياض الجنة والبسه البسة الجنة واجعل مقامه فى اعلى عليين واجعل مسكنه مع النبيين والصديقين والشهداء والصالحين اللهم اغفر خطاياه برحمتك يا غفور يا كريم

18/09/2020

বাচ্চাদের শাসন করার শর‘ঈ পদ্ধতি

মুফতী মনসুরুল হক দাঃবাঃ
প্রধান মুফতী ও শাইখুল হাদীস
জামি'অা রাহমানিয়া অারাবিয়া মুহাম্মদপুর ঢাকা

চারাগাছটিকে যেমন সার-পানি, আলো-বাতাস দিয়ে পুষ্টি যোগাতে হয়। মানব শিশুকেও তেমন আদব-কায়দা, শিক্ষা-দীক্ষা দিয়ে সভ্যতার উপাদান সরবরাহ করতে হয়। আগাছা তুলে না দিলে, বাড়তি ডালপালা ছেঁটে না দিলে চারাটি যেমন বৃক্ষ পরিণত হতে পারে না। তেমনি আদর-সোহাগের পাশাপাশি অনুশাসনের ছড়িটি না থাকলে মানব-শিশুটিও “মানুষ” হয়ে উঠতে পারে না। তবে সার-পানি, আর ডাল ছাঁটার কথাই বলি, কিংবা শিক্ষা-দীক্ষা আর অনুশাসনের কথাই ধরি- প্রয়োগ করতে হয় সুক্ষ্ণ কৌশলে ও সযত্ন প্রয়াসে। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে পরিচর্যাকারীকে হতে হয় একই সঙ্গে কুশলী ও সদা-সতর্ক। কারণ, চারাগছ ও শিশুর পরিচর্যা এমনই নাযুক যে, সামান্য অবজ্ঞা ও অবহেলায় এবং সামান্য অমনোযোগিতা ও অসতর্কতায় উভয়ের জীবনে নেমে আসে চরম সর্বনাশ।

অনেকে বাচ্চাদের বদ অভ্যাসের প্রেক্ষিতে রাগ বা শাসন করতে নারাজ। তাদের কথা হল, এখন কিছুই বলার দরকার নেই, বড় হলে সব এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। এটা মারাত্মক ভুল। হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী রহ. বলেছেন, বাচ্চাদের স্বভাব-চরিত্র যা গড়ার পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে গঠন হয়ে যায়। এর পর ভাল-মন্দ যেটাই হল তা মজবুত ও পাকাপোক্ত হতে থাকে, যা পরবর্তীতে সংশোধন করা কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং বাচ্চা বুঝুক আর না বুঝুক ছোটবেলা থেকেই বুঝাতে থাকবে। এক সময় সে বুঝবে এবং উত্তম চরিত্র নিয়ে বড় হবে। (ইসলাহে খাওয়াতীন ২৫১-২৫২, তুহফাতুল উলামা-১/৪৮৩)

আজকাল বাসা-বাড়িতে, স্কুল-কলেজে, এমনকি দীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও (যারা শাসনের পক্ষে তাদের থেকে) বাচ্চাদের উপর শাসন নামের নির্যাতন চোখে পড়ে। সে শাসনের না আছে কোন মাত্রা, আর না আছে শাসিতের প্রতি হিতকামনা। এতে একদিকে শাসনকারী নিজেকে আল্লাহ তা‘আলার ধর-পাকড়ের সম্মুখীন করছে। অপরদিকে জুলূমের শিকার শিশু বা ছাত্র রাগে-ক্ষোভে হয়তো পড়া-লেখাই ছেড়ে দিচ্ছে বা আরো ঘোরতর অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, বাচ্চাদের শাসন করার ক্ষেত্রে শরী‘আত নির্দেশিত পন্থা ও সীমা উপেক্ষা করা। (তুহফাতুল উলামা-১/৪৯৩)

চলমান পরচায় পিতা-মাতা ও শিক্ষক কর্তৃক সন্তান ও ছাত্রদের শাসন করার সহীহ পদ্ধতি বাতলে দেয়া হচ্ছে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে বুঝার ও আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

(১) কোন শিশু বা ছাত্র তার সাথীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তা শোনামাত্রই মেজাজ বিগড়ানো যাবে না। কেননা, শরী‘আতে এক পক্ষের অভিযোগের গ্রহণযোগ্যতা নেই। কাজেই উভয় পক্ষের কথা না শুনে কোনরূপ সিদ্ধান্ত নেয়া বা একজনকে শাস্তি দেয়া যাবে না। অন্যথায় খোদ ফায়সালাকারীই জালেম সাব্যস্ত হবে। (ফাতাওয়া আলমগীরী, বৈরুত সংস্করণ-৩/৩০৯)

(২) সবার কথা শোনার পর যখন ফায়সালা করার ইচ্ছা করবে, মনের মধ্যে কোনরূপ রাগ বা গোস্বা স্থান দেয়া যাবে না। কারণ, রাগের সময় বিবেক বুদ্ধি লোপ পায়। ফলে অধিকাংশ সময়ই রাগের মাথায় ফায়সালা ভুল প্রমাণিত হয়। এ কারণেই রাগান্বিত অবস্থায় ফায়সালা দেয়া বা শাস্তি প্রদান করা শরী‘আতে নিষেধ। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৭১৫৮, মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-১৭১৭, তুহফাতুল উলামা-১/৪৮৬, ৪৯৮)

সুতরাং (ক) একেবারে ঠান্ডা মাথায়। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৭১৫৮, তুহফাতুল উলামা-১/৪৯০)

(খ) আল্লাহ তা‘আলাকে হাজির জেনে। (সূরা তাওবা, আয়াত-১০৫)

(গ) হাশরের ময়দানে জবাবদিহিতার কথা স্মরণে রেখে। (সূরা যিলযাল, আয়াত : ৮, বুখারী শরীফ হাদীস নং-৫১৮৮)

(ঘ) স্থান-কাল পাত্র বিবেচনা করে। (ফাতওয়া শামী-৪/৬০-৬১, কিতাবুল ফিকহু আলাল মাজহাবিল আরবা‘আ-৫/৩৫২, তুহাফাতুল উলামা-১/৪৮৫) যেমন পৃথক স্বভাবের কারণে কারো দুই থাপ্পড় আবার কারো জন্য দুই ধমক

(ঙ) অপরাধীর সংশোধনের নিয়তে। (সূরা হুদ, আয়াত-৮৮)

(চ) শরী‘আতের সীমার মধ্যে থেকে। যে শাস্তি সংগত মনে হয়-নির্ধারণ করবে। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৯০)

(৩) শরী‘আতে নাবালেগ বাচ্চাকে বেত বা লাঠি দ্বারা প্রহার করার কোনো অবকাশ নেই। প্রয়োজনে ধমকি-ধামকি দিয়ে, কান ধরে উঠ-বস করিয়ে, এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রেখে বা বিকেলে খেলা বন্ধ রেখে শাস্তি দেয়া যেতে পারে। একান্ত অপরাগতায় হাত দিয়ে প্রহার করার অনুমতি আছে (লাঠি বা বেত দিয়ে নয়)। কিন্তু কোনো ক্রমেই (ক) তার সংখ্যা যেন তিনের অধিক না হয়। (ফাতাওয়া শামী-১/৩৫২)

(খ) চেহারা ও নাযুক অঙ্গে যেমন মাথায় পেটে ইত্যাদিতে আঘাত করা হয়। (আদ দুররুল মুখতার-৪/১৩)

(গ) যখম হয়ে যায় বা কালো দাগ পড়ে যায় এমন জোরে না হয়। (ফাতাওয়া শামী-৪/৭৯) কারণ, নাবালেগ বাচ্চাকে এই অপরাধে তিনের অধিক প্রহার করা এবং (বালেগ, নাবালেগ সবার ক্ষেত্রেই) মুখমন্ডল ও নাযুক অঙ্গে আঘাত করা হারাম। আর বালেগ ছাত্রকে সংশোধনের উদ্দেশ্য তার অপরাধের ধরণ অনুযায়ী শরী‘আতের দন্ডবিধির আওতায় এনে (যা ২নং এ বর্ণিত হয়েছে) বেত ইত্যাদি দ্বারা সীমিত সংখ্যায় (সর্বোচ্চ ১০ (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৬৮৪৮, ৬৮৪৯, ৬৮৫০, কিতাবুল ফিকহ আলাল মাজহাবিল আরবা‘আ-৫/৩৫২)) প্রহার করা জায়িয আছে। উল্লেখ্য, বেত হতে হবে গিঁটহীন, সরল ও মাঝারী ধরনের মোটা, যা ব্যাথা পৌঁছাবে কিন্তু দাগ ফেলবে না। (ফাতাওয়া শামী-৪/১৩)

(৪) কোনো ধরনের অমানবিক শাস্তি দেয়া-যেমন, হাত-পা বেঁধে পিটানো, পিঠমোড়া করে বেঁধে রাখা, সিলিংয়ে ঝোলানো, কপালে পয়সা দিয়ে সূর্যের দিকে মুখ করে রাখা ইত্যাদি বিলকুল হারাম ও নাজায়িয। (সূরা বাকারা আয়াত: ১৯০, বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২৪৪৭, তুহফাতুল উলামা-১/৪৯২)

(৫) ধমকি বা কড়া কথার মাধ্যমে হোক আর শরী‘আত অনুমোদিত প্রহারের মাধ্যমেই হোক- সতর্ক করার উত্তম তরীকা হল- সবার সামনে মজলিসে শাস্তি বিধান করা। যাতে অন্যদের জন্যও তা উপদেশ হয়ে যায়। (সূরা নূর, আয়াত-২)

এ ক্ষেত্রে যাকে শাস্তি দেয়া হবে, প্রথমে তাকে শাস্তি গ্রহণের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করে নেয়া। তাকে একথা বুঝানো যে, মানতে কষ্ট হলেও শাস্তির এই ব্যবস্থা মূলত তার কল্যাণের জন্য। এর দ্বারা শয়তান তার থেকে দূর হবে। তার দুষ্টামীর চিকিৎসা হবে। আর শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ছাত্র হলে এ শাস্তি দ্বারা তার পিতা-মাতা যে মহান উদ্দেশ্যে তাকে উস্তাদের হাতে সোপর্দ করেছেন- তা পূর্ণ হবে এবং শয়তানের চক্রান্ত ব্যর্থ হবে। ঠিক যেমন রোগীর কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ডাক্তাররা তার অপারেশন করে থাকে। এতে কিন্তু রোগী অসন্তুষ্ট হয় না বরং ডাক্তারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং তাকে “ফি” ও দিয়ে থাকে।

(৬) এরপর শাস্তি প্রদানকারী পিতা-মাতা বা উস্তাদ শাস্তি প্রদানের পূর্বে নিন্মোক্ত দু‘আটি অবশ্যই পড়ে নিবেন

اللَّهُمَّ إِنِّي أَتَّخِذُ عِنْدَكَ عَهْدًا لَنْ تُخْلِفَنِيهِ فَإِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَأَيُّ الْمُؤْمِنِينَ آذَيْتُهُ أَوْ شَتَمْتُهُ أَوْ لَعَنْتُهُ أَوْ جَلَدْتُهُ فَاجْعَلْهَا لَهُ زَكَاةً وَصَلَاةً وَقُرْبَةً تُقَرِّبُهُ بِهَا إِلَيْكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ . [مسند أحمد: ١٥ / ٤٩٨ حـ:٩٨٠٢]

[অর্থ:- হে আল্লাহ, আমি তোমার তরফ থেকে অবশ্য পূরণীয় একটি ওয়াদা কামনা করছি, (ওয়াদাটা হল) আমি একজন মানুষ হিসেবে (ভুলবশত) কোন মুমিন বান্দাকে কষ্ট দিলে, গালি দিলে, বদ দু‘আ দিলে, প্রহার করলে তুমি সেটাকে তার জন্য পবিত্রতা, নেয়ামত ও নৈকট্যের ওসীলা করে দিও এবং কিয়ামতের দিন এর দ্বারা তাকে তোমার নৈকট্য দান করো। (মুসনাদে আহমদ-২/৪৪৯, হাদীস নং-৯৮১৬)]

এবং উস্তাদ মনে মনে এই খেয়াল করবে, “এই তালিবে ইলম নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেহমান। (তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং-২৬৫০, ২৬৫৬)

সুতরাং এ হল শাহাজাদা, আর আমি তার শাস্তি বিধানকারী জল্লাদ মাত্র। আমাকে তার সংশোধনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলেই তাকে প্রহার করছি। আল্লাহ তা‘আলার কাছে তার মর্যাদা তো আমার চেয়ে বেশী ও হতে পারে। (তারপর পূর্ব নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করবে)।

(৭) শাস্তি প্রয়োগের সময় রাগান্বিত অবস্থায় শাস্তি প্রয়োগ করবে না। তবে কৃত্রিম রাগ প্রকাশ করতে পারবে। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৭১৫৮, মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-১৭১৭)

(৮) কোন বাচ্চার দ্বারা অন্য বাচ্চাকে বা এক ছাত্রের দ্বারা অপর ছাত্রকে শাস্তি দিবে না। এটা শাস্তি প্রদানের ভুল পন্থা। এতে বাচ্চাদের মধ্যে পরস্পরে দুশমনী সৃষ্টি হয়। (তুহফাতুল উলামা-১/৪৯২)

(৯) শাস্তি প্রদান শেষে অন্যান্য ছাত্রদের বলে দিবে, “এ ব্যাপারে এর সঙ্গে কেউ ঠাট্টা বিদ্রূপ করলে তাকেও কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। তা ছাড়া ঠাট্টা বিদ্রূপ করা অনেক বড় গুনাহ এবং পরবর্তিতে বিদ্রূপকারী নিজেও ঐ বিপদে পড়ে যায়। সুতরাং তোমরা তার জন্য এবং নিজেদের সংশোধনের জন্য আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করতে থাকবে।” (সূরা হুজুরাত, আয়াত-১১, তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং-২৫০৫)

(১০) বাচ্চাদের দায়িত্ব হল, শাস্তিদাতা পিতা-মাতা বা শিক্ষকের শুকরিয়া আদায় করা এবং তার জন্য আল্লাহর দরবারে মঙ্গলের দু‘আ করা। কারণ, তিনি কল্যাণ কামনা করেই শাস্তি দেয়ার কষ্ট বরদাশত করেছেন। সুতরাং কোন অবস্থায়ই সেই মুরুব্বীদের উপর মন খারাপ করবে না ও তার সমালোচনা করবে না। (সূরা আর রাহমান, আয়াত-৬০, তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং-১৯৫৯, ১৯৬০)

(১১) শাস্তির পরিমাণ বেশী হয়ে গেছে আশংকা করলে পরবর্তীতে শাস্তিপ্রাপ্তকে ডেকে আদর করবে এবং ২/৫ টাকা বা অন্য কিছু হাদিয়া দিয়ে অন্য কোন উপায়ে খুশি করে দিবে। যাতে উস্তাদের প্রতি তার সু ধারণা বজায় থাকে, বিতৃষ্ণা সৃষ্টি না হয় এবং আখেরাতে এর জন্য কোন দাবী না রাখে। (তুহফাতুল উলামা-১/৪৯৭)

(১২) প্রতিষ্ঠান-প্রধানের কর্তব্য, হল, সকল শিক্ষককে দুষ্ট ছাত্রদের ব্যাপারে রিপোর্ট দিতে বলবেন, কিন্তু সকলকে প্রহারের শাস্তির অনুমতি দিবেন না। কারণ, সকল শিক্ষক এ কাজের যোগ্য না। অনেকে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। সুতরাং রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এমন দু’একজনকে এ দায়িত্ব দিবেন। যেমন অপারেশনের দায়িত্ব শুধু সার্জারী বিভাগের ডাক্তারকে দেয়া হয়। যে কোন ডাক্তার তা পারেন না। তবে ৩নং বর্ণিত হালকা শাস্তি যে কোন শিক্ষক দিতে পারেন। (মুহিউস সুন্নাহ আবরারুল হক রহ.)

09/08/2020

এসপি মাসুদের ত্রিমুখী নিশ্ছিদ্র ছকেই যেভাবে যেকারণে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় মেজর সিনহাকে?

সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা টানা কয়েকদিন ইয়াবা বাণিজ্যের নেপথ্য কাহিনী নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরিকালেও ‌বিপদমুক্ত' ছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে টেকনাফের ওসি প্রদীপ কুমারের সাক্ষাৎকার রেকর্ড করাটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ক্রসফায়ারের নামে নৃশংসভাবে খুন করা অসংখ্য মানুষের রক্তে রঞ্জিত প্রদীপ কুমারও ভিডিও সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় বারবারই কেঁপে উঠেন। মেজর সিনহা'র তথ্যবহুল প্রশ্নের পর প্রশ্নে চরম অস্বস্তিতে পড়েন ওসি। নানা অজুহাতে ভিডিও সাক্ষাৎকার এড়ানোর সব কৌশল খাটিয়েও ব্যর্থ ওসি প্রদীপ বাধ্য হয়েই প্রশ্নবানে জর্জরিত হতে থাকেন, ভিডিওচিত্রে মেজরের উদঘাটন করা নানা তথ্যের সামনে সীমাহীন নাস্তানাবুদ হন তিনি।
মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের দিন বিকেল চারটার দিকে টেকনাফের বহুল বিতর্কিত ওসি প্রদীপ কুমার দাস ওই ডকুমেন্টারি ভিডিও সাক্ষাৎকারের ফাঁদে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সূত্র জানায়, ক্রসফায়ারে অতিমাত্রায় উৎসাহী ওসি প্রদীপ ও তার সহযোগিরা ইয়াবা বাজারজাত ও পাচারের ক্ষেত্রেও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকার কথা স্বীকার করতেও বাধ্য হন। সফল সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেই মেজর সিনহা আর একদণ্ড সময় ক্ষেপণ করেননি। ঝড়ের বেগে থানা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের গাড়িতে উঠে বসেন। তার সঙ্গে ভিডিও রেকর্ডিংয়ে ব্যস্ত থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতও ক্যামেরা, ট্রাইপড, ব্যাগ গোছাতে গোছাতেই ছুটে গিয়ে গাড়িতে উঠতেই টেকনাফ সদর ছেড়ে গাড়িটি ছুটতে থাকে উত্তর দিকে, বাহারছড়ার পথে। বাহারছড়া সংলগ্ন মারিসঘোণা এলাকাতেই বসবাস করেন চলচ্চিত্রের ফাইটিং গ্রুপ পরিচালনাকারী ইলিয়াস কোবরা। হঠাত তার টেলিফোনে করা আমন্ত্রণ পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে পারেননি মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এদিকে থানা থেকে মেজর সিনহা বেরিয়ে যেতেই ওসি প্রদীপ অচিরেই বড় রকমের বিপদের আশঙ্কায় তৎক্ষনাত কক্সবাজারের এসপি মাসুদকে ফোন করে বিস্তারিত জানিয়ে দেন। সব শুনে এসপি নিজেও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কয়েক মিনিটেই এসপির নির্দেশনায় তৈরি হয় ‌মেজর সিনহা'র নৃশংস হত্যার নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনা।
আলাপ আলোচনা শেষে এসপি-ওসি এমনভাবেই ত্রিমুখী মার্ডার মিশন সাজিয়েছিল- সেই ফাঁদ থেকে মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের প্রাণে বাঁচার কোন সুযোগই ছিল না।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলচ্চিত্রের ফাইটিং গ্রুপের পরিচালক ইলিয়াস কোবরএক দায়িত্ব দেওয়া হয়, আতিথেয়তার নামে নানা কৌশলে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেজর সিনহাকে তার নিভৃত পাহাড়ি গ্রামে আট্কে রাখার। চলচ্চিত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পরিচিতি থাকলেও ইলিয়াস কোবরা ইদানিং ‌‍'ক্রসফায়ার মিট মিমাংসার দালালি' কাজেই সক্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। ক্রসফায়ারের তালিকায় নাম থাকার গুজব ছড়িয়ে অসংখ্য মানুষকে গোপনে ওসি প্রদীপের সঙ্গে সমঝোতা করিয়ে দিয়ে টেকনাফের শীর্ষ দালাল হিসেবে বেশ নামডাক ছড়িয়ে পড়েছে কোবরার। তবে ক্রসফায়ারের কবল থেকে জীবন বাঁচানোর সমঝোতায় ওসি প্রদীপ হাতিয়ে নিয়েছেন ১০ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে দালালির কমিশন হিসেবে ইলিয়াস কোবরাকেও মাথাপিছু এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পাইয়ে দিয়েছেন প্রদীপ।

ওসিসহ পুলিশ প্রশাসনের কাছে পরীক্ষিত দালাল ইলিয়াস কোবরা ঠিকই তার উপর অর্পিত দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। মারিসঘোণায় নিজের বাগানবাড়ি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখার নামে ইলিয়াস কোবরা সেদিন বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত নির্জন পাহাড়েই নিজ হেফাজতে রেখেছিলেন মেজর সিনহাকে। এ সময়ের মধ্যে মেজরের অবস্থান, কতক্ষণ পর কোন রাস্তায় কোথায় যাবেন সেসব তথ্য জানিয়ে কোবরা ৯টি এসএমএস পাঠান ওসিকে।

গণপিটুনিতে হত্যার জন্য প্রস্তুত রাখা হয় গ্রামবাসীকে, ওসি বাহিনী অবস্থান নেয় দক্ষিণের বড়ডিল পয়েন্টে- আর উত্তরদিকের শামলাপুর চেকপোস্টে ওৎ পেতেছিলেন খুনি লিয়াকতের বাহিনী।

মেজর সিনহার প্রাণ নিয়ে ফেরার কোনো উপায় ছিল না। পরিকল্পনা মাফিক সন্ধ্যা ৭ টার দিকেই টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস তার পছন্দের দুই এসআই ও দুই কনস্টেবল নিয়ে নিজের সাদা নোহায় এবং আরো ৫/৭ জন পুলিশ সদস্য অপর একটি মাইক্রোবাসে হন্তদন্ত অবস্থায় থানা থেকে মেরিন ড্রাইভওয়ে ধরে উত্তর দিকে ছুটতে থাকে।

ওসি বাহিনী বাহারছড়া-কক্সবাজারের পথে শামলাপুর পুলিশ ক্যাম্পে যাওয়ার পথেই ইলিয়াস কোবরার নতুন খবর আসে। ওসি প্রদীপকে ফোন করে তিনি জানান, এ মুহূর্তে মেজর সিনহা ও তার ভিডিওম্যান সিফাত মারিসঘোণার পাহাড় চূড়ায় উঠছেন। পাহাড়ের উপর থেকে মেরিন ড্রাইভওয়ে, টেকনাফ সদর, নাফ নদী-মিয়ানমার সীমান্ত এবং দক্ষিণ দিকে সমুদ্রের বিস্তির্ণ অংশ দেখা যায়। গভীর সমুদ্রের দিক থেকে ছোট বড় ইঞ্জিনবোটগুলো সার্চ লাইটের আলো ফেলে ফেলে সমুদ্র সৈকতের দিকে আসতে থাকে, আবার ডজন ডজন ইঞ্জিনবোট সমুদ্র সৈকত ছেড়ে গভীর সমুদ্রের দিকেও যেতে থাকে। পুরো দৃশ্যপটের ভিডিওচিত্র ধারন করাটাই হচ্ছে তার ডকুমেন্টারির শেষ দৃশ্য। এ দৃশ্যপটের সঙ্গে নেপথ্য কন্ঠ জুড়ে দিতে চান মেজর সিনহা। তিনি বলতে চান রাত যত গভীর হয়, আধারে নিমজ্জিত হয় সমুদ্রের মাইলের পর মাইল জলরাশি, ঠিক তখনই টেকনাফ সীমান্ত ঘেষা জনপদের কয়েকশ' মানুষ জেগে উঠেন, তারা মেতে উঠেন অন্যরকম কর্মযজ্ঞে।শত শত ইঞ্জিনবোট হঠাত করেই যেন সমুদ্রের পানি ফুঁড়ে উঠে আসে উপরে, এদিক সেদিক ঘোরাফেরা করেই ট্রলারগুলো অজ্ঞাত গন্তব্যে ছুটে যায় ইঞ্জনের কর্কশ শব্দ তুলে, ধোঁয়া ছেড়ে। তখন এসব ট্রলারের প্রতিটাই হয়ে উঠে কোটি কোটি টাকার দামি। কোনো ট্রলারে থাকে পাচারের শিকার নারী-পুরুষ, কোনোটা আবার ভরাট হয় লাখ লাখ পিস ইয়াবায়। আবার গভীর সমুদ্রে অপেক্ষমাণ মাদার ভেসেল থেকে কোনো কোনো ট্রলারে নামিয়ে আনা হয় একে-৪৭ রাইফেল, থাকে আরজিএস গ্রেনেডের ছড়াছড়ি...
ইলিয়াস কোবরা ফোনে ওসিকে জানান, মেজর সাহেব পাহাড় থেকে নেমে কিছু সময়ের জন্য মেরিন ড্রাইভওয়ে ব্যবহার করে টেকনাফের দিকে যেতে পারেন-তারপর সেখান থেকে ফিরে যাবেন হিমছড়ির রিসোর্টে। এটুকু শুনেই ওসি প্রদীপ তার গাড়ি থামিয়ে দেন বাহারছড়া পৌঁছানোর আগেই। মারিসঘোণা থেকে টেকনাফ যাওয়ার পথে তিন কিলোমিটার দূরের বড়ডিল নামক স্থানে ওসি ও তার সঙ্গীদের দুটি মাইক্রো থামিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতিতে অপেক্ষশাণ থাকেন সবাই। এরমধ্যেই ওসি প্রদীপ কুমার মরিসঘোণা এলাকার দুই জন সোর্স ছাড়াও ক্রসফায়ার বাণিজ্যের টাকা সংগ্রহকারী এজেন্ট বলে কথিত আব্দুল গফুর মেম্বার, হাজী ইসলাম, মুফতি কেফায়েতউল্লাহ ও হায়দার আলীকে ফোন করে জানান, মারিসঘোণা পাহাড়ের চূড়ায় বেশ কয়েকজন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী বিপুল পরিমাণ অঅস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জমা হয়েছে।

তারা কেউ পাহাড় থেকে নামার চেষ্টা করলেই যেন এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাত ডাকাত চিৎকার জুড়ে দেয়া হয় এবং যাদেরকে হাতেনাতে পাবে তাদেরকেই যেন গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলা হয়। বাকি সবকিছু ওসি দেখবেন এবং এজন্য তিনি মারিসঘোণার দিকে রওনা দিয়েছেন বলেও জানানো হয় তাদের। ওসির কাছ থেকে পাওয়া এমন খবর ওসির এজেন্টরা পাহাড় সংলগ্ন চারপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ছড়িয়ে দিয়ে লাঠিসোটায় সজ্জিত হয়ে তারা অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু চৌকষ সেনা অফিসার সিনহা পাহাড়ের চুড়ায় থাকাবস্থায়ই চারপাশে সাজ সাজ রব দেখে সতর্ক হয়ে উঠেন এবং এ কারণেই টর্চ লাইট না জ্বালিয়ে অন্ধকারের মধ্যেই ধীরলয়ে পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসেন। ঠিক তখনই বেশ সংখ্যক গ্রামবাসী ডাকাত ডাকাত চিৎকার জুড়ে দিয়ে তাদের চারপাশ থেকেই ধাওয়া দিতে থাকে। কিন্তু মেজর সিনহা তার সহযেগির হাত চেপে ধরে প্রশিক্ষণের দক্ষতা অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই প্রায় আধা কিলোমিটার জায়গা পেরিয়ে পাকা সড়কে পৌঁছে যান এবং দ্রুত নিজের গাড়িতে উঠেই উত্তরদিকে হিমছড়ির দিকে রওনা হন।
বাহারছড়ার মারিসঘোণা থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরেই শামলাপুরের সেই পুলিশ চেকপোস্ট। ওসির নির্দেশে যেখানে এসআই লিয়াকতসহ একদল পুলিশ আরো আগে থেকেই ওৎ পেতে অপেক্ষায় ছিল-সেখানেই পৌঁছে যায় মেজর সিনহার গাড়িটি। গাড়িটির খুব কাছে অস্ত্র তাক করে মেজরকে হাত তুলে সামনের দিকে মুখে করে নেে আসার নির্দেশ দেন তিনি। আর গাড়ি থেকে নামতেই অব্যর্থ নিশানায় লিয়াকত পর পর চারটি বুলেট বিদ্ধ করেন মেজর সিনহার দেহে। ফলে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

এদিকে বড়ডিল এলাকায় অপেক্ষমান ওসি বাহিনী মেজরের উত্তরদিকে রওনা দেয়ার খবর শুনেই শামলাপুর ক্যাম্পের দিকে রওনা দেন। যে কারণে লিযাকতের গুলিতে মেজর মাটিতে লুটিয়ে পড়ার ১৫/১৬ মিনিটের মধ্যেই ওসি বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হন। কারণ, টেকনাফ থানা থেকে শামলাপুর চেকপোস্ট পর্যন্ত যেতে প্রাইভেটকারে ৪০/৪৫ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু তিনি মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরের বড়ডিল এলাকায় থাকায় ১৫/১৬ মিনিটেই চেকপোস্টে পৌঁছেই মেজর সিনহার লুটিয়ে পড়া দেহখানাকে পা দিয়ে চেপে ধরে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে পর পর দুটি গুলি বর্ষণ করে লাথি মেরে নিথর দেহখানাকে রাস্তার ধারে ফেলে দেন।

ত্রিমুখী হত্যা মিশনের ব্যাখ্যা দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একদিকে মারিসঘোণা গ্রামে ওসি প্রদীপের নিজস্ব এজেন্টদের দ্বারা ডাকাত ডাকাত চিৎকার জুড়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু সেখান থেকে জীবন বাঁচিয়ে মেজর সিনহা যদি টেকনাফের দিকে রওনা হতেন তাহলে তিন কিলোমিটার সামনে বড়ডিলে পৌঁছেই তিনি ওসি বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে বেঘোরে জীবন হারাতেন। অন্যদিকে মেজর তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে হিমছড়ি রিসোর্টের দিকে রওনা দিলেও শামলাপুরে তার জীবন কেড়ে নিতে এসআই লিয়াকতের টিমকেও পূর্ণ প্রস্তুতিতে রাখা হয়। আসলে কোনো বিকল্প উপায় অবলম্বন করেই মেজর সিনহা যাতে প্রাণ নিয়ে ফিরতে না পারেন তা ১০০ ভাগ নিশ্চিত করেই পাকা পরিকল্পনা আঁটেন এসপি মাসুদ। ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে তা বাস্তবায়িত হয়েছে অব্যর্থভাবেই।

-সাইদুর রহমান রিমন
সিনিয়র সাংবাদিক
বাংলাদেশ প্রতিদিন

17/06/2020

"জামি'আ রাহমানিয়া আরাবিয়ার
স্বনামধন্য প্রধান মুফতী ও শাইখুল হাদীস
হযরতুল আল্লাম মুফতী মনসূরুল হক দা.বা.-এর
🌿 সংক্ষিপ্ত জীবনী🌿
পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষের আগমন হয়ে থাকে,যাদের পরশে ধরাপৃষ্ঠ হয় আলোকিত।
যাদের স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় মানুষ পায় হেদায়েতের আলোকবর্তিকা। তাদেরই একজন
হযরতুল আল্লাম মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা.।
১৯৫৩ সালে খুলনার পাইকগাছা থানার অন্তর্গত কমলাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহন করেন। মুফতী সাহেবের সম্মানিত পিতা
মরহুম আব্দুর রহীম গাজী নিজ এলাকায় ধার্মিক ও সজ্জন হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন।
📚তা'লীম -তরবিয়ত 📚
তিনি প্রাথমিকভাবে নিজ গ্রামের স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। ১০ বছর বয়সে সাধারণ পড়াশোনা ছেড়ে উলুমে দ্বীনিয়্যার প্রতি মনোনিবেশ করেন।
কুরআনে কারীম, উর্দু ও ফার্সী ভাষার প্রাথমিক কিতাবাদী ও ফিকহে ইসলামীর কিছু অংশ নিজ গ্রামের মাদরাসা জামি'আ আরাবিয়া খাদেমুল ইসলামে স্নেহশীল উস্তাদ মাওলানা আবুল হাসান রহ. এর কাছে অর্জন করেন। এরপর উচ্চ শিক্ষার মানসে প্রথমে দারুল উলুম খুলনায় কিছুদিন পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে গিয়ে ভর্তি হন সে সময়ে দক্ষিণ বঙ্গের সেরা বিদ্যাপীঠ মুজাহিদে আজম
শামসুল হক ফরিদপুরী রহ.প্রতিষ্ঠিত জামিআ ইসলামিয়া খাদেমুল ইসলাম গওহর ডাঙ্গায়।
এরপর আসাতিযায় কেরামের পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে চলে আসেন রাজধানী ঢাকার সেরা প্রতিষ্ঠান, উপমহাদেশের অন্যতম দ্বীনি মারকায, জামিআ কুরআনিয়া লালবাগে। লালবাগ জামি'আ থেকে সর্বোচ্চ -স্তর তাকমীল অত্যন্ত সুনামের সাথে সম্পন্ন করেন।
🌹 শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন 🌹
হযরত মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ.,
হযরত হেদায়াতুল্লাহ মুহাদ্দিস সাহেব রহ,
মুফতী আব্দুল মুঈয রহ.
মাওলানা আব্দুল মাজীদ ঢাকুবী হুজুর রহ.
মাওলানা সালাহউদ্দীন রহ.
শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রমুখ শীর্ষস্হানীয় আলেমগনের।
তারা আপন মমতা ও তরবিয়তের মাধ্যমে তাকে আজকের মুফতী মনসূরুল হক রুপে গড়ে তোলেন। হযরত মুফতী সাহেব লালবাগ জামি'আয় প্রায় দুই বছর মুফতী আব্দুল মুঈয সাহেবের সাহচর্যে ফিকহ -ফাতওয়ার উপর বিশেষ পড়াশোনা ও অনুশীলন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি লালবাগ জামিআয় নায়েবে মুফতী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
📖 তাদরীস 📖
তা'লিমী জীবন শেষ হবার পর লালবাগের আসাতিযায়ে কেরাম হুজুরকে নিজেদের কাছে রেখে দেন এবং ১৯৭৮ সালে লালবাগ জামিআয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দান করেন। কিছুদিনের মধ্যেই তার দরসের সুখ্যাতি পুরো মাদরাসায় ছড়িয়ে পড়ে। হুজুরের দায়িত্ব যেসব কিতাবের দরস ছিল না সেসব কিতাব বোঝার জন্যও ছাত্ররা হুজুরের কাছে ভিড় করতে থাকে।দরসের পাশাপাশি হুজুর ফিকহ ফাতওয়ার কাজে আন্জাম দিতে থাকেন। ১৯৮২ সালে লালবাগ জামিআর নায়েবে মুফতীর পদে অধিষ্ঠিত হন।
এক এক করে কেটে যায় আটটি বছর। এরপর মুহাম্মাদপুরে জামিআ মুহাম্মাদিয়ায় চলে আসেন। কিছুদিন পর তিনি ও মাওলানা হিফজুর রহমান মুমিনপুরী হুজুর, শাইখুল হাদীস সাহেব রহঃ কে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন জামি'আ রাহমানিয়া আরাবিয়া।
প্রতিষ্ঠানটি হুজুরসহ অন্যান্য আসাতিজায়ে কেরামের সুনিপূণ পরিচালনায় অল্প দিনের মধ্যেই দেশ বিদেশে প্রসিদ্ধি লাভ করে।
২০১০ সালে মুফতী মনসূরুল হক সাহেব দা.বা. ও মাওলানা হিফজুর রহমান মুমিনপুরী হুজুর জামিআর অন্যান্য আসাতিজায়ে কিরামকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন জামিআতুল আবরার রাহমানিয়া। বর্তমানে হুজুর জামিআর শাইখুল হাদীস ও প্রধান মুফতীর দায়িত্ব আন্জাম দিচ্ছেন। এই দীর্ঘ সময়ে হাদীস, তাফসীর, ফিকহ, বালাগাত,মানতেক, আদবসহ উলুমে দ্বীনিয়্যার প্রায় প্রতিটি ফনে খোদাপ্রদও ইসতিহাদের মাধ্যমে দরস প্রদান করেছেন। এবং এখনো নিরলসভাবে দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে সহীহ বুখারী ১ম খন্ড ও
মেশকাত শরীফ ১ম খন্ডের দরস প্রদান করছেন।
পাশাপাশি জামিআর ফাতওয়া বিভাগ পরিচালনা এবং ফাতওয়াসমূহ চূড়ান্ত সম্পাদনার দায়িত্বও অত্যম্ত দক্ষতার সাথে আঞ্জাম দিচ্ছেন। এছাড়াও মুফতী সাহেব হুজুর ঢাকার উওরা, মিরপুর, হাজারীবাগ, ঢাকার বাহিরে গাজীপুর, সিরাজগঞ্জ ও খুলনায় বেশ ক'টি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করছেন এবং বিভিন্ন মাদরাসায় বুখারী শরীফের দরস দিচ্ছেন।
🌹 একজন মুশফিক উস্তাদ🌹
হজরত মুফতী সাহেবের পাঠদান পদ্ধতি এতটাই চমৎকার যে তা ভাষার কারুকার্যে বোঝানো সম্ভব নয়।হুজুর বলে থাকেন "আমার কাছে শুধু একটি মাথা নিয়ে আসলেই হবে, সবক বুঝানোর দায়িত্ব আমার"।
হুজুর দরসকে মালা গাঁথার সাথে তুলনা করে থাকেন। অর্থাৎ একটি মালা সুনিপূণভাবে গেঁথে নিলে যেভাবে সব ক'টি দানা তার অন্তর্গত হয়ে যায়, তেমনি একটি দরসকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে হলে দরসের বিষয়বস্তুকে একটি কল্পমালায় গেঁথে নিতে হয়। তখনই একজন শিক্ষক কর্তৃক দরসের বিষয়বস্তুগুলো সুবিন্যস্তভাবে উপস্হাপিত হতে থাকে এবং শ্রোতার অন্তরেও একটি মালার মতো গেঁথে যেতে থাকে।
এ নীতির প্রতি লক্ষ্য রেখে জটিল কিংবা সহজ যে কোনো বিষয় হুজুর খুবই ধীরে ধীরে এতো সুন্দরভাবে উপস্থাপনা করেন যে, সব শ্রেণীর ছাএই তা অনুধাবন ও আয়ও করে নিতে পারে। ফলে দীর্ঘসময় তার দরসে বসে থাকার পরও ছাএদের মাঝে কোনো ধরনের
ক্লান্তি -অবসাদ আসেনা। বরং শেষ হবার পরও মনে হয়, যদি আরো কিছুক্ষণ হত!
🎤 বাতিল প্রতিরোধ ও বয়ান 🎤
দ্বীনি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বাতিল প্রতিরোধ ও গলত রুসম -রেওয়াজ দূরীকরণে মুফতী সাহেব সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেন। এক্ষেত্রে হুজুর সবসময় নীতি ও আদর্শের উপর অবিচল থাকেন। কোনো সমালোচনা বা দুর্নামে তিনি বিচলিত হন না। বরং সকল ক্ষেএে নিজেকে শান্ত রেখে ধৈর্যের সাথে নিজ দায়িত্ব পালন করে যান। বয়ানের ক্ষেএেও মুফতী সাহেব হুজুরের রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য। হুজুরের বয়ানে এমন এক সহজাত আকর্ষন রয়েছে যে আকর্ষনের সামনে অমনোযোগী শ্রোতাকেও হতে হয় একান্ত মনোযোগী। বৈচিত্র্যময় মেধা মননের অধিকারী প্রত্যেকটি মানুষ খুব সহজেই তার আলোচনা আত্নস্হ করে নিতে সক্ষম হয়।
🌿 আত্মশুদ্ধি 🌿
শরীয়তের অপরিহার্য একটি বিষয় " আত্মশুদ্ধি "।
মুফতী সাহেব হুজুর সহীহভাবে দ্বীনের এ দায়িত্ব পালন করতে প্রথমে হাফেজ্জী হুজুর রহ. ও পরবর্তীতে হযরতওয়ালা হারদূয়ী রহ. এর সাথে ইসলাহী সম্পর্ক কায়েম করেন। এবং হযরতওয়ালা হারদূয়ী রহ. এর কাছ থেকে খেলাফত লাভে ধন্য হন। বর্তমানে সাধারণ মানুষ সহ অনেক আলেম উলামাও হুজুরের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক রেখে উপকৃত হচ্ছেন। আসাতিজা ও বড়দের মূল্যায়ন মুফতী সাহেব হুজুর ছোটবেলা থেকেই বড়দের সুদৃষ্টি অর্জন করতে পেরেছিলেন। ফলে ছোটবেলার উস্তাদ মাওলানা আব্দুর রউফ সাহেব (ঢাকার হুজুর) নিজেই তাঁকে লালবাগ জামিআর মাওলানা হিদায়াতুল্লাহ (মুহাদ্দিস সাহেব হুজুর রহ.)এর হাতে তুলে দেন। মুহাদ্দিস সাহেব হুজুর ও দীর্ঘদিন তাঁকে নিজ কামরার খাদেম বানিয়ে রেখেছিলেন। মুহাদ্দিস সাহেব রহ. যাএাবাড়ী মাদরাসায় থাকাকালিন
মুফতী সাহেব হুজুর তাঁর কাছে মিশকাত শরীফ পড়ানোর ইজাযত আনতে গেলে মুহাদ্দিস সাহেব রহ. খুবই আগ্রহভরে ইজাযত দিয়েছিলেন।এরপর এতটুকুতেই ক্ষ্যান্ত না হয়ে মুফতী সাহেবকে বিদায় জানানোর জন্য তিনি অসুস্থ শরীর নিয়ে নিচে নেমে এসেছিলেন।প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে মুফতী সাহেব হুজুর দৃষ্টির আড়াল না হওয়া পর্যন্ত অপলক চোখে তাকিয়ে ছিলেন। মাওলানা আবরারুল হক হারদূয়ী হুজুর রহ. তাকে নিজের বিশেষ খলীফাদের মধ্যে গণ্য করতেন।একবার হারদূয়ীর হুজুর বাংলাদেশের প্রখ্যাত
আলেমে দ্বীন ফ্বকীহুল মিল্লাত মুফতী আব্দুর রহমান সাহেব রহ. কে আদেশ করেছিলেন যেন তিনি
মুফতী মনসূরুল হক দা.বা. এর সাথে পরিচিত হয়ে একসঙ্গে দাওয়াতুল হকের কাজ করেন।
🖊তাসনীফ 🖊
হযরত মুফতী সাহেব হুজুরের প্রস্তুতকৃত কিতাবসমূহের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। এসব কিতাব উলামা- ত্বলাবা ও সাধারণ মানুষের দ্বীনি পিপাসা নিবারণ করে যাচ্ছে।সাথে সাথে বাতিল প্রতিরোধও রসম- রেওয়াজ দূরীকরণেও রাখছে অগ্রণী ভূমিকা। এর মধ্যে
কিতাবুল ঈমান,
কিতাবুসসুন্নাহ,
নবীজীর নামায,
ফাতওয়ায়ে রাহমানিয়া,
ইসলামী যিন্দেগী,
ইসলামী খেলাফত ধ্বংসের প্রকৃত ইতিহাস,
হাদীসে রাসূল সাঃ,
তুহফাতুল হাদীস,
মাযহাব ও তাকলীদ,
আমালুস সুন্নাহ ইত্যাদি
অধিক উপকারী ও অবশ্য -পঠিতব্য।
বিঃদ্রঃ হযরত ওয়ালা মুফতী মনসূরুল হক সাহেব হুজুর খুবই অসুস্থ, হসপিটালে চিকিৎসাধীন আছেন।
সকলের কাছে হুজুরের জন্য বিশেষ দু'আ চাই,
আল্লাহ তা'আলা যেনো হযরতকে খুবই দ্রুত সুস্থ করে দেন।
এবং হযরতের নেক ছায়াকে আমাদের উপর দীর্ঘায়ু করেন। আমীন

08/06/2020

প্রিয়জনের ইন্তিকালে সান্ত্বনা লাভের উপায়

লেখকঃ মুফতী মানসুরুল হক দাঃবাঃ
শাইখুল হাদীস ও প্রধান মুফতী
জামিঅা রাহমানিয়া অারাবিয়া ঢাকা

আমার প্রিয় শাইখ ও মুরশিদ মুজাদ্দিদে যামান মুহিউস সুন্নাহ হযরত মাওলানা শাহ আবরারুল হক হারদূয়ী রহ. এ প্রসঙ্গে কয়েকটি মূল্যবান কথা ইরশাদ করেছন-

(ক) প্রিয়জনের ইন্তিকালে মানুষ যত দুঃখিত ও মর্মাহতই হোক না কেন তা কমই বটে। এই নাযুক মুহূর্তে বেদনার্ত হওয়া মানুষের প্রকৃতিগত ও স্বভাবজাত বিষয়। এজন্য শরীয়ত এক্ষেত্রে দুঃখ-বেদনার নিন্দা করেনি। বরং মর্মাহত ব্যক্তিকে বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে, যাতে ধীরে ধীরে তার দুঃখ কমে আসে এবং মনোবেদনা লাঘব হয়। মানুষ যদি দুঃখ-বেদনার বৃত্তেই ঘুরপাক খেতে থাকে এবং সবসময় কেবল দুঃখ-বেদনা নিয়েই পড়ে থাকে তাহলে তার দীন-দুনিয়ার যাবতীয় কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়বে। আর এটা মানব জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। অপর দিকে দুঃখ প্রকাশে অশ্রু প্রবাহিত করতে এবং কাঁদতে নিষেধ করাও সমীচীন নয়। কেননা মর্মবেদনা লাঘবের জন্য অনুচ্চস্বরে কান্নার বিরাট ভূমিকা রয়েছে। তাছাড়া উদগত কান্না কষ্ট করে চেপে রাখলে শারীরিক ক্ষতিরও আশংকা থাকে। এজন্য শরীয়ত কাঁদতে নিষেধ করেনি বরং কান্না আসলে মন ভরে কেঁদে নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সশব্দে চীৎকার করে কাঁদা যেহেতু মানুষের আয়ত্তাধীন, এজন্য তা নিষেধ করা হয়েছে। তা ছাড়া সশব্দ কান্না অন্যদের উপরও মন্দ প্রভাব ফেলে। কারণ, কান্না হল সংক্রামক ধাঁচের, একজনের দেখাদেখি অন্যের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনিচ্ছাকৃত চীৎকার ধ্বনি বেরিয়ে গেলে তাতে কোন দোষ নেই। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গুনাহগার হবে না।

(খ) একথা পরম সত্য যে, যার আগমন ঘটেছে তাকে একদিন এখান থেকে বিদায় নিতেই হবে। তবে এর জন্য আল্লাহ তা‘আলা একটি সময় বেঁধে দিয়েছন।কিন্তু সুনিশ্চিত ও অনতিক্রম্য সেই সময়টি আল্লাহ তা‘আলাই জানেন। তিনি ব্যতীত আর কারও তা জানা নেই। তাই তো দেখা যায়- অসুখ-বিসূখ কিচ্ছু নেই; একেবারে সুস্থ-সবল মানুষটি বিলকুল রওয়ানা হয়ে যায়। বস্তুতঃ এটিই তার নিদিষ্ট সময়। আজকাল এটাকে ‘হার্ট অ্যাটাক’ ও ব্রেন স্ট্রোক বলে ব্যক্ত করা হয়।

খাজা আযীযুল হাসান মাজযুব রহ. তাঁর কবিতায় কি পরম সত্যটিই না তুলে ধরেছেন-

ہورہی ہے عمر مثل برف کمٍ ۔ چپکے چپکے رفتہ رفتہ دم بدم

জীবনের বরফখন্ডটি দেখো, গলে গলে কেমন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে । কত নিঃশব্দে, কেমন ধীরে ধীরে, প্রতি নিঃশ্বাসে।

سانس ہے ربرو ملک عدم۔ دفعۃ اکروز یہ جائیگا تھم

শ্বাস-প্রশ্বাস যেন এক ভ্রাম্যমাণ পথিক, হঠাৎ এক বাঁকে থেমে যায় তার চলার গতি

اکدن مرنا ہے آخر موت ہے ۔ کرلے جوکرناہے آخر موت ہے

একদিন তোমাকে মরতেই হবে জেনে রেখো! আয়ু থাকতেই যা করার করে নাও হে!

(গ) মৃত্যু এক চিরন্তন সত্য। কাজেই পৃথিবীর প্রত্যেক জোড়ার এবং প্রতি দু‘জনের একজনকে অবশ্যই অপরজনের বিয়োগ-বিচ্ছেদের সম্মুখীন হতে হবে। স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীকে, স্ত্রীর মৃত্যুতে স্বামীকে, পিতা-মাতার ইন্তিকালে ছেলে-সন্তানকে, সন্তানের মৃত্যুতে পিতা-মাতাকে, ভাইয়ের তিরোধানে বোনকে অনুরূপ প্রত্যেক দুজনের একজনকে। আর একথাও স্পষ্ট যে, দু‘জনার একজনকে ইচ্ছাধিকার দেয়া হলে কেউ-ই মৃত্যুযন্ত্রণা বরণ করতে স্বেচ্ছায় রাজি হতো না। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা মৃত্যুর ব্যাপারটি স্বয়ং তার আয়ত্তাধীন রেখেছেন। বস্তুতঃ তিনিই প্রাণ সঞ্চার করেন এবং তিনিই প্রাণ সংহার করেন।

(ঘ) একজন সাধারণ গ্রাম্য ব্যক্তি হযরত আব্বাস রা. এর ইন্তিকালে তাঁর পুত্র হযরত আব্দুল্লাহ রা. এর খিদমতে- দেখুন কী চমৎকার সান্তনাবাণী পেশ করেছিলেন। এতে আমাদের জন্যে রয়েছে এক চমকপ্রদ শিক্ষা

وخير من العباس أجرك بعد+ والله خير منك للعباس

প্রথম পংক্তিতে বলা হয়েছে- হযরত আব্বাস রা. এর ইন্তেকালে সবর করার বিনিময়ে হে আব্দুল্লাহ! আপনাকে পুরস্কার প্রদান করা হবে। ভেবে দেখুন, পুরস্কার অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অধিক উত্তম, না আপনার নিকট হযরত আব্বাসের জীবিত থাকা? স্পষ্ট যে, আল্লাহর সন্তুষ্টিই উত্তম।

আর দ্বিতীয় পংক্তিতে বলা হয়েছে- হযরত আব্বাস রা. পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে আখিরাতে পাড়ি জমিয়েছেন,তাঁর উপর আল্লাহ তা‘আলার রাশি রাশি নেয়ামত বর্ষিত হচ্ছে এবং তাকে অকল্পনীয় সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা হচ্ছে। তো বলুন, হযরত আব্বাসের জন্য আপনি উত্তম, না আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামত ও সম্মান? জবাব সুস্পষ্ট যে, আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামত ও মর্যাদাই উত্তম।

সারকথা হল, কারো মৃত্যুতে একজন অপরজন হতে পৃথক হয়ে যায় কিন্তু প্রত্যেকেই উত্তম বস্তুর অধিকারী হয় । দেখা যাচ্ছে, মৃত্যু উভয়ের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনছে । অর্থাৎ, প্রত্যেকেই উত্তম বস্তু ও বিনিময় লাভ করছে।

(ঙ) এ কথাও চিন্তা করা দরকার যে, মৃত্যুর মাধ্যমে আলাদা হওয়া বা বিচ্ছেদ ঘটা এটা সাময়িকের জন্য; চিরদিনের জন্য নয়। যেমন দুই বন্ধুর একজন হিজরত করে অন্য কোন দেশে চলে গেল আর অপরজন কোন ওজর বশতঃ তার সঙ্গে যেতে পারল না। কিন্তু রয়ে যাওয়া বন্ধু তার হিজরত করা বন্ধুর দেশে কখনো গেলেই তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবে। এভাবে চিন্তা করলে রয়ে যাওয়া বন্ধুর দুঃখ-পেরেশানীর শিকার হতে হয় না। মৃত্যুরও এই একই অবস্থা মৃত ব্যক্তি তো পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে না, কিন্তু এখানকার ব্যক্তি মুত্যুর মাধ্যমে সেখানে পৌঁছে তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গিটিকে আল্লাহ তাআলা اِنَّا لِلّٰهِ وَ اِنَّا اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ বলে কুরআনে কারীমে ব্যক্ত করেছেন যে, আমরা সকলেই আল্লাহর বান্দা ও গোলাম। (আর মুনীবের জন্য তার গোলামের বাসস্থান পরিবর্তনের অধিকার থাকে। সুতরাং পরিবর্তনের দ্বারা যদি মনে কষ্ট লাগে, তাহলে এভাবে চিন্তা করবে যে,) আমরা সকলেই (মুনীবের নির্ধারিত) সে স্থানে ফিরে যাবো, (যেখানে আমাদের বন্ধু ও প্রিয়জন পূর্বে চলে গেছেন।) (মাজালিসে আবরার, ‘দাফিউল গম্ম’ নামক পুস্তিকা)

হযরত মির্যা মাযহার জানে জানা (রহঃ) তাঁর মৃত্যুর পূর্বে নিজের কামরার মধ্যে একটি কবিতা লিখে রেখেছিলেন। যা পরবর্তীতে তার সমাধি শিয়রে উৎকীর্ণ হয়েছে-

لوگ کہتے ہیں کہ مرزا مرگیا۔ در حقیقت مرزا اپنا گھر گیا

অর্থঃ লোকেরা বলাবলি করছে যে, মির্যা সাহেব মারা গেছেন। কিন্তু আসল কথা হল মির্যা সাহেব নিজ বাড়ীতে ফিরে গেছেন।

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Our Story

জামি আ রাহ মানিয়া আরাবিয়া ১টি কুরআন সুন্নাহ মুতাবিক পরিচালিত হক্কানী আলেম এবং দীনের নির্ভিক মরদে মুজাহিদ হিসেবে জাতিকে নেতৃত্ব উপহার দেয়ার মারকাজ।

Location

Category

Address


Dhaka
1207
Other Schools in Dhaka (show all)
BAF Shaheen College Kurmitola BAF Shaheen College Kurmitola
Dhaka Cantonment , Kurmitola. Dhaka
Dhaka, 1206

Welcome To The Page Of B. A. F. Shaheen College Kurmitola.

mY WiLLeS mY WiLLeS
85, Kakrail
Dhaka

LIGHT MORE LIGHT \m/ WILLES ROKXX \m/

Monipur High School Monipur High School
Mirpur
Dhaka, 1216

Little Jewels Nursery Infant and Junior School Little Jewels Nursery Infant and Junior School
19, Purana Paltan
Dhaka

Little Jewels Nursery Infant and Junior School

Mohammadpur preparatory Higher Secondery school (boy's and girls) Mohammadpur preparatory Higher Secondery school (boy's and girls)
Iqbal Road
Dhaka, 1207

Mohammadpur Preparatory and Higher Secondary School is a higher secondary school located at Mohammad

Mohammadpur Govt. High School Mohammadpur Govt. High School
Humayan Road, Mohammadpur
Dhaka, 1207

HOLY CROSS GIRLS' HIGH SCHOOL & HOLY CROSS COLLEGE HOLY CROSS GIRLS' HIGH SCHOOL & HOLY CROSS COLLEGE
Farmgate, Tejgaon
Dhaka, 1215

Greetings from your Alma Mater! Enjoy walking down the memory lane from our posts and photos. If you

Sher-e-Bangla Nagar Government Boy's High School Sher-e-Bangla Nagar Government Boy's High School
Begum Rokeya Avenue
Dhaka, 1207

Sher-e-Bangla Nagar Govt. Boy's High School is a public school located at Agargaon, Dhaka, Establis

Monipur High School (MUB) Monipur High School (MUB)
Mirpur-2
Dhaka, 1216

Monipur High School is a secondary school located in Dhaka, Bangladesh. Monipur High School is also

Dhaka Collegiate School Dhaka Collegiate School
Loyal Street, Shadarghat
Dhaka, 1100

Dhaka Collegiate School is a secondary school in Dhaka, Bangladesh. The school was established in Dh

Neophyte School & College Neophyte School & College
Luxmibazar Campus: 3/1, Nobodip Bosak Lane, Luxmibazar, Dhaka-1100, Bangladesh.
Dhaka

Our mission is to make skilful & educated manpower by giving world standard education. We provide ea

OBAK school re -union 2010(khilgaon govt. high school) OBAK school re -union 2010(khilgaon govt. high school)
Khilgaon Govt. High School
Dhaka, 1219

15 january 2010,obak school re-unoin will b held,registration is going on............plz reg as soon