03/02/2026
*শবে বরাত বিষয়ে সংক্ষেপে মৌলিক কিছু কথা :*
শবে বরাত অর্থ "ভাগ্য রজনী" নয়, বরং "মুক্তির রজনী"। মূল হল, شب براءة। আর ليلة القدر হল ভাগ্য রজনী ।
আর ফারসী শব্দ "শব" অর্থ রাত বা রজনী আর আরবী শব্দ "বারাআত" মানে মুক্তি। যেহেতু কিছু হাদীসে এই রাতে গোনাহ থেকে মুক্তির সুসংবাদ এসেছে তাই এই নামকরণ করা হয়েছে।
আসলে এর মূল নাম হল, ليلة النصف من شعبان তথা শাবান মাসের মধ্যরাত্রি। সাধারণত ৩০ দিনে মাস হয়। ফলে ৩০ এর অর্ধেক হল ১৫। আর ইসলামী গণনায় রাত আগে, দিন পরে।
সুতরাং শাবান মাসের ১৫ তারীখ দিনে রোযা, আর আগের রাত্রি, তথা ১৪ তারীখ দিবাগত রাত হল শবে বরাত।
✅কী কী করতে পারি :
আরবী ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে নির্দিষ্ট কোন আমল বা নামায নেই। বরং যে কোন নফল আমল করা যেতে পারে। নফল নামায পড়ুন। কুরআনে কারীম তিলাওয়াত করুন! সুন্নাহসম্মত বিভিন্ন যিকর করতে পারি,
দু'আ করতে পারি, রাসূল (সা.) এর উপর দরুদ পড়তে পারি, তাওবাহ-ইস্তেগফার করতে পারি, দান-সাদাকাহ্ করতে পারি। উমরি কাযা পড়লে বেশি ভালো তাই কাজা নামাযগুলো আদায় করতে পারি। প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোযা রাখা সুন্নাত। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে রোযা রাখতে পারেন।
❌🚫যা করা যাবে না :
হালুয়া-রুটি করা, হৈ-হুল্লোড়, আতশবাজি ফুটানো, মাসজিদে জমায়েত হওয়া -- এই রাতে গোসল বা মেহেদী লাগানোর কোন কথাও নেই।
============
১.
ইবনে হিববান ‘কিতাবুস সহীহ’ তে (হাদীস ৫৬৬৫) বর্ণনা করেছেন :
عن معاذ بن جبل عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان، فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن.
হযরত মুআয ইবনে জাবাল রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ‘অর্ধ শাবানের রাতে আল্লাহ সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। অতপর শিরককারী ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া তার সমগ্র সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন।’
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে (শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষপোষণকারী ব্যতীত আর সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস ৫৬৬৫; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৩৮৩৩)
এ রাতের আমল সম্পর্কে ‘শুআবুল ঈমান’বায়হাকীর নিম্নোক্ত হাদীসটি লক্ষণীয়।
হযরত আলা ইবনুল হারিছ রাহ. থেকে বর্ণিত, হযরত আয়েশা রা. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে নামাযে দাঁড়ান এবং এত দীর্ঘ সেজদা করেন যে, আমার ধারণা হল তিনি হয়তো মৃত্যু বরণ করেছেন। আমি তখন উঠে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম। তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নড়ল। যখন তিনি সেজদা থেকে উঠলেন এবং নামায শেষ করলেন তখন আমাকে লক্ষ করে বললেন, হে আয়েশা, অথবা বলেছেন, ও হুমায়রা, তোমার কি এই আশংকা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল তোমার হক নষ্ট করবেন? আমি উত্তরে বললাম, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ। আপনার দীর্ঘ সেজদা থেকে আমার আশংকা হয়েছিল, আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন কিনা। নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি জান এটা কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন ইরশাদ করলেন-
هذه ليلة النصف من شعبان، إن الله عز وجل يطلع على عباده في ليلة النصف من شعبان، فيغفر للمستغفرين ويرحم المسترحمين ويؤخر أهل الحقد كما هم.
‘এটা হল অর্ধ-শাবানের রাত। (শাবানের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত।) আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর বান্দার প্রতি মনোযোগ দেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং অনুগ্রহপ্রার্থীদের প্রতি অনুগ্রহ করেন আর বিদ্বেষ পোষণকারীদের ছেড়ে দেন তাদের অবস্থাতেই।’-শুআবুল ঈমান, বায়হাকী ৩/৩৮২-৩৮৩
ইমাম বাইহাকী রাহ. এই হাদীসটি বর্ণনার পর এর সনদের ব্যাপারে বলেছেন-
هذا مرسل جيد
এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, এ রাতে দীর্ঘ নফল নামায পড়া, যাতে সেজদাও দীর্ঘ হবে, শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য।
https://www.alkawsar.com/bn/article/1547/
২.
শবে বরাত উপলক্ষে নির্দিষ্ট কোন নামায বা আমল নেই। সাধ্যানুযায়ী যে কোন নফল আমল করা যাবে
https://www.alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/279/
৩.
শা’বানের এক তারিখ থেকে সাতাইশ তারিখ পর্যন্ত রোযা রাখার বিশেষ ফযীলতের কথা হাদীস শরীফে আছে। তাছাড়া আইয়ামে বীয তথা প্রতি মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রোযা রাখার ব্যাপারে হাদীস শরীফে উৎসাহিত করা হয়েছে। সেই সাথে যয়ীফ সনদে বর্ণিত একটি হাদীসে বিশেষভাবে পনেরো তারিখের রোযা রাখার নির্দেশনাও পাওয়া যায়।
হযরত আলী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (তরজমা) পনেরো শা’বানের রাত (চৌদ্দ তারিখ দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা তা ইবাদত-বন্দেগীতে কাটাও এবং পরদিন রোযা রাখ।-সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ১৩৮৪
আগেই বলা হয়েছে যে, যেহেতু বিভিন্ন সহীহ হাদীসে শা’বান মাসের রোযার সাধারণ ফযীলত এবং আইয়ামে বীযের রোযার ফযীলত উল্লেখিত হয়েছে পাশাপাশি যয়ীফ সনদে উপরোক্ত হাদীসটিও বিদ্যমান রয়েছে তাই কেউ যদি এই সকল বিষয় বিবেচনায় রেখে পনেরো শা’বানের রোযা রাখেন তাহলে তিনি ছওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ।
https://www.alkawsar.com/bn/article/47/
===========
☐ শবে বরাত সম্পর্কে কয়েকটি কথা : প্রথম কথা: "শবে বরাত"পরিভাষাটি মূলত ফারসী ভাষার দুটি শব্দ দ্বারা গঠিত হয়েছে। শব ( شب) অর্থ : রাত, রজনী আর বরাত ( براءت) অর্থ : মুক্তি, রেহাই ও ক্ষমা ইত্যাদি। একত্রে অর্থ হল, "মুক্তির রজনী"। যেহেতু এই রাতে আল্লাহ তাআলা ব্যাপকভাবে স্বীয় বান্দাগনকে (কিছু শর্তসাপেক্ষে) ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা হাদীসে এসেছে। আমাদের উপমহাদেশে একটি সময় পর্যন্ত ফারসী ভাষার শব্দ ব্যবহারের ব্যাপক প্রচলন থাকায় উক্ত নামে এই ফযীলতপূর্ণ রাতটি পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু সহীহ হাদীসে এ রাতটির নাম হল, ليلة النصف من شعبان (লাইলাতুন নিসফি মিন শা'বান) তথা অর্ধ- শাবানের রাত ( শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখের দিবাগত রাত।) দ্বিতীয় কথা : এই শবে বরাত নিয়ে আমাদের সমাজে দুই ধরনের প্রান্তিকতা রয়েছে। ক, এক শ্রেণীর মানুষ এ রাতকে কেন্দ্র করে বাড়াবাড়িতে লিপ্ত। একে উপলক্ষ বানিয়ে নানা অনুচিত কাজকর্ম ও রসম-রেওয়াজে জড়িয়ে পড়ে। খ, আরেক শ্রেণির লোক এ বিষয়ে ছাড়াছাড়ির শিকার। তাদের দাবী হল, 'ইসলামে শবে বরাত বলে কিছু নেই। শবে বরাতকে বিশেষ ফযীলতপূর্ণ রাত মনে করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েয নয়।' আরো এধরণের অবাস্তব কথা বলে বলে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ায়। কিন্তু বাস্তব কথা হল, প্রথম শ্রেণীর বাড়াবাড়িও যেমন সঠিক নয়, তেমনি দ্বিতীয় প্রকারের ছাড়াছাড়িও সহীহ নয়। বরং শবে বরাত সম্পর্কে সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান হল, এ রাতের ফযীলত সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। সম্মিলিত কোন রুপ না দিয়ে এবং এই রাত উদযাপনের বিশেষ কোন পন্থা উদ্ভাবন না করে বেশি বেশি ইবাদত করাও নির্ভরযোগ্য হাদীস ও রেওয়ায়াত দ্বারা প্রমাণিত। এই রাতকে অন্য সব সাধারণ রাতের মতো মনে করা এবং এ রাতের ফযীলত সম্পর্কে যত হাদীস এসেছে সবগুলোকে 'মওযূ' ( বানোয়াট) বা 'যয়ীফ' মনে করা যেমন ভুল, তেমনি এ রাতকে শবে কদরের মতো বা তার চেয়েও বেশি ফযীলতপূর্ণ মনে করাও একটি ভিত্তিহীন ধারণা।
তৃতীয় কথাটি হলো, শবে বরাত সম্পর্কে বেশ কয়েকটি হাদীস রয়েছে। তার মধ্যে একটি হাদীস উলূমুল হাদীসের শাস্ত্রীয় পরিভাষায় 'সহীহ', কয়েকটি 'হাসান' আর কিছু 'যয়ীফ'। অতএব শবে বরাত সম্পর্কিত সকল হাদীস যয়ীফ বা মওযূ তথা অগ্রহণযোগ্য, এ কথা নির্জলা বানোয়াট ও অবাস্তব কথা। শবে বরাত বিষয়ক সেসকল গ্রহণযোগ্য হাদীসের মধ্যে শুধুমাত্র সর্বোত্তম হাদীসটি এখানে উল্লেখ করা হল, عن معاذ بن جبل رضي الله تعالىى عنه عن النبي صلى الله عليه و سلم قال :يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان، فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن.অর্থ : হযরত মুআয ইবনে জাবাল ( রা.) ( মৃত:১৮হি.) থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অর্ধ- শাবানের রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। শিরককারী ও বিদ্বেষপোষণকারী ছাড়া তার সমগ্র সৃষ্টিকে ক্ষমা করে দেন। ( সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস, ৫৬৫৬)। উলূমুল হাদীসে পারদর্শী উলামায়ে কেরাম বলেছেন, শবে বরাতের ফযীলত বিষয়ক আর কোন হাদীস ও আছার না থাকলেও শুধু এই হাদীসটি তার ফযীলত প্রমাণে যথেষ্ট হত। অথচ এছাড়াও গ্রহণযোগ্য একাধিক হাদীসে বিষয়টি এসেছে। যেমন, মুসনাদে আহমাদ (হাদীস ৬৬৪২) ও মুসনাদুল বাযযার (হাদীস ২০৪৫) -এ আবু বকর সিদ্দীক রা.থেকে বর্ণিত হাদীস এসেছে।
চতুর্থ কথাটি হলো, শবে বরাতের রাতে করণীয় : এ রাতে দীর্ঘ নফল নামায এবং তাতে দীর্ঘ সেজদা করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কাম্য। নবীজী এমনটি করেছেন।(দ্রষ্টব্য, শুআবুল ঈমান, বাইহাকী, হাদীস ৩৫৫৪)। এ রাতে করণীয় আমলের ব্যাপারে হাদীস শরীফের বর্ণনা থেকে যতটুকু পাওয়া যায় তা হচ্ছে, বিশেষভাবে তাওবা - ইস্তিগফার, দুআ- কান্নাকাটি এবং নফল ইবাদতে মশগুল থাকা। একা একা যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব সাধারণ নফল ইবাদতে মনোযোগী হওয়া। যিকির - তাসবীহ পড়া, দুআ- দরুদ পাঠ করা, লম্বা লম্বা রুকূ- সিজদায় নফল নামায পড়া, কুরআন মাজীদ তেলাওয়াত করা ইত্যাদি। তবে এ পরিমাণ ইবাদত করা, যাতে এর দ্বারা ফরয আমলে ব্যাঘাত না ঘটে। এমন যেন না হয়, সারারাত নফলে মশগুল থেকে ফজরের জামাত ছুটে গেল বা কাযা হয়ে গেল। তেমনিভাবে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। বিশেষভাবে ওইসব গুনাহ এবং নাফরমানী থেকে গুরুত্বের সাথে বেঁচে থাকা, যেগুলো এ রাতের সাধারণ ক্ষমা থেকে মাহরুম করে দেয়। ( দ্রষ্টব্য : লাতায়েফুল মাআরেফ, ইবনে রজব হাম্বলী রাহ. মৃত্যু ৭৯৫ হি.) আর শাবানের পনেরো তারিখের রোযার বিধান সম্পর্কে ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রাহ. বলেন, শাবানের পনেরো তারিখে রোযা রাখা নিষিদ্ধ নয়। কেননা, এই পনেরো তারিখ তো আইয়ামে বীযেরই ( প্রত্যেক আরবী মাসের ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখ) একটি দিন। যে দিনগুলোতে বিশেষভাবে রোযা রাখার কথা হাদীসে এসেছে। তাছাড়া শাবান মাসে রোযা রাখার ব্যাপারে নবীজী বিশেষ গুরুত্বারোপ করতেন। এ দৃষ্টিকোন থেকে এ দিনে রোযা রাখা হলে ইনশাআল্লাহ সওয়াব পাওয়া যাবে। সাথে সাথে শাবানের ১৫ তারিখে রোযা রাখার ব্যাপারে সুনানে ইবনে মাজাহ ( হাদীস, ১৩৮৪) -এ হযরত আলী ইবনে আবী তালিব রা.( মৃত্যু ৪০ হি.) থেকে বর্ণিত একটি হাদীসও রয়েছে। যদিও তার সনদ দূর্বল। কিন্তু মুহাদ্দিসীনে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হল, ফাযায়েলের ক্ষেত্রে 'যয়ীফ' হাদীস গ্রহণযোগ্য।
৫ম কথাটি হল, শবে বরাতে বর্জনীয় কর্মসমূহ: হযরত মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেব দা. বা. বলেন,....... এ রাতে বিশেষ পদ্ধতির নামায ও এর রেওয়ায়াতসমূহ সবই ভিত্তিহীন।...... খিচুরি বা হালুয়া- রুটির প্রথা, মসজিদ, ঘর- বাড়ি বা দোকান - পাটে আলোক- সজ্জা, পটকা ফুটানো, আতশবাজি, কবরস্থান ও মাজারসমূহে ভিড় করা, ওইসব স্থানে আলোক- সজ্জা করা, মহিলাদের বাইরে যাওয়া, বিশেষ করে বেপর্দা হয়ে দোকানপাট, মাযার ইত্যাদি স্থানে ভিড় করা - এসবকিছুই এ রাতের আপত্তিকর ও গর্হিত কাজ। এর মধ্যে কিছু কাজ তো অন্য সময়েও হারাম। আর কিছু কাজ সাধারণ অবস্থায় জায়েয থাকলেও ( যেমন খিচুরি পাক করে গরীব - মিসকীনদের মধ্যে বন্টন করা) এগুলোকে শবে বরাতের কাজ মনে করা বা জরুরি মনে করা এবং এসবের পিছনে পড়ে, এ রাতের মূল কাজ তথা তাওবা, ইস্তিগফার, নফল ইবাদত ইত্যাদি থেকে মাহরুম থাকা কিভাবে বৈধ হতে পারে? বরং এসব শয়তানের ধোঁকা। মানুষকে মূল কাজ থেকে বিরত রাখার জন্যই শয়তান এসব কাজকর্মে মানুষকে ব্যস্ত করে দেয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে শবে বরাতসহ শাবান মাসে সকল গোনাহ ও পাপরাশি থেকে পবিত্র হয়ে যথাযথভাবে রমযান মাসকে বরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
গ্রন্থপঞ্জি : ১.ইকতিযাউস সিরাতিল মুসতাকীম- ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ.( মৃত্যু ৭২৮ হি.)। ২.লাতায়িফুল মাআরিফ ফীমা লিমাওয়াসিমিল 'আমি মিনাল ওয়াযায়েফ- ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রাহ. ( মৃত্যু ৭৯৫ হি.)। ৩. আলমাদখাল- ইমাম ইবনুল হাজ্ব রাহ. (মৃত্যু ৭৩৭হি.)। ৪.মা সাবাতা বিসসুন্নাহ ফী আইয়ামিস সানাহ-
শাইখ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহ. ( মৃত্যু ১০৫২হি.)। ৫. নির্বাচিত প্রবন্ধ- ২ - মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক হাফিযাহুল্লাহ। ও অন্যান্য।
সংগৃহীত
=======≠=
শবে বরাতের প্রমাণ্যতা,আমাদের করণীয় ও বর্জনীয়।
মুফতী সাঈদ আহমদ পালনপুরী হাফিজাহুল্লাহ।
শাইখুল হাদিস, দারুল উলুম দেওবন্দ।
পনেরোই শাবান সম্পর্কে চারটি বিষয় সঠিক এবং আমল যোগ্য ।
১/ এই রাতে আল্লাহ তা'আলা যে পরিমাণে তৌফিক দান করেন , সে পরিমাণে ঘরে বসে একাকি ইবাদত করা।
কিন্তু, আমরা এই রাতকে হৈ-হোল্লোরের রাত বানিয়ে ফেলেছি। মসজিদ গুলোতে ও করবস্থান সমূহে ভীর করি, রকমারি খাবারের আয়োজন করি, হাক-ডাক করি, এসব অবাঞ্ছনীয় এবং বর্জনীয়, এসবের কোনো প্রমাণ্যতা নেই, বাস্তবতার সাথে কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই।
এ রাতে নফল নামাজ আদায় করা চাই, তবে পূর্ণ রাত জেগে নাফল পড়তে হবে এটি জরুরি নয়। আল্লাহ তা'আলা যতটুকু পড়ার তৌফিক দান করেন, ততটুকুই একাকি ঘরে আদায় করা, দল বেঁধে মসজিদ সমূহে সমবেত না হওয়া। কেননা, এটি ব্যক্তিগত আমল, যৌথ বা সমবেত হয়ে আদায়ের কোনো আমল নয়।
২/ পর দিন রোজা রাখা, এটি একটি মুস্তাহাব আমল।
৩/ এই রাতে নিজের জন্য, আপন আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের জন্য, এবং সমস্ত উম্মতে মুসলিমার জন্যে মাগফিরাতের দোয়া করা। আর এ জন্য করবস্থানে যাওয়া অবশ্যক নয়।
এ রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করবস্থানে গিয়েছেন, কবরবাসীদের জন্যে দোয়া করেছেন, এটি সত্য। তবে প্রকাশ্যে নয় বরং গোপনে গিয়েছেন, আর ঘটনাক্রমে এটি হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাজিয়াল্লাহু আনহা জেনে যান।
কিন্তু, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ রাতে করবস্থানে যাওয়ার জন্যে কোনো প্রকার হুকুম দেননি। এজন্য আমাদের সমাজে যেই তামাশা হয়, কবরস্থান সমূহে উপস্থিত হয়ে দোয়ার হিড়িক জমে, তা সম্পূর্ণরূপে ভুল ও কুসংস্কার প্রথা।
৪/ যে দুজন মুসলমান ভাইয়ের মধ্যে লড়াই-ঝগড়া ও ভেদাভেদ বিদ্যমান, তারা এ রাতে পরস্পরকে ক্ষমা করে সন্ধি করে নিবে। যতক্ষণ পর্যন্ত পরস্পরকে ক্ষমা করে সন্ধিবদ্ধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমা পাবে না।
পনেরোই শাবানের রাতে এই চারটি আমলই যায়িফ হাদীসের দ্বারা প্রমাণিত। আর যায়িফ হাদীসের উপর ততক্ষণ আমাল করা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এর বিপরীতে সহিহ হাদিস পাওয়া যায়। কেননা, সহিহ হাদিসের বিপরীতে যায়িফ হাদিসের উপর আমল গৃহীত নয়।
কিন্তু, যদি কোনো বিধান সম্পর্কে শুধু যায়িফ হাদিসই হয়, সহিহ কোনো হাদিস না থাকে। তখন যায়িফ হাদীসের উপরই আমল করা হবে।
এমন বিধান একটিই নয়, বরং আরও অনেক আছে, যেগুলো সম্পর্কে শুধু যায়িফ হাদীসই বিদ্যমান। এবং যায়িফ হাদীসের মাধ্যমেই সেগুলোর আমল গৃহীত হয়েছে।
যেমন, সালাতুত তাসবীহ্ সম্পর্কিত এগারোটি বর্ণনা, এগুলো সব যায়িফ হাদিস। তা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী সলফে সালেহীনদের থেকে সালাতুত্ তাসবীহ্ এর আমল প্রচলিত।
তবে হ্যাঁ, যায়িফ হাদিস দ্বারা ওয়াজিব, সুন্নাত এর সমপর্যায়ের আমল প্রমাণিত হবে না। সুতরাং যে হুকুম সালাতুত্ তাসবীহ'র ক্ষেত্রে (এটি পড়া মুস্তাহাব) , ঠিক একই হুকুম শাবানের পনেরো তারিখ রাতের ক্ষেত্রেও।
অর্থাৎ এ রাতে একাকি ইবাদত করা মুস্তাহাব। কেননা, এব্যাপারে যে সমস্ত বর্ণনা পাওয়া যায়, সব গুলো যায়িফ বা দুর্বল। তাই এগুলোর দ্বারা মুস্তাহাব আমলই প্রমাণিত হতে পারে।
সুতরাং হাদিস সমূহে বর্ণিত, উপরে উল্লেখিত চারটি আমলই মুস্তাহাব বলে গণ্য করা হবে।
শবে বরাত মানা, এ সম্পর্কিত আমল গুলো করা, এবং এর প্রমাণিকতাকে একেবারেই অস্বীকার করা, আর এগুলোকে ভিত্তিহীন মনে করা কোনো ভাবেই ঠিক নয়।
কেউ কেউ সূরা দুখানের তিন নং আয়াতকে এ রাতের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।
যেমন উল্লেখিত হয়েছে ।
إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ فِى لَيْلَةٍ مُّبَٰرَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ
অর্থঃ আমি একে নাযিল করেছি। এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।
অনেকেই এই আয়াতে উল্লেখিত বরকতময় রাত দ্বারা শবে বরাতকে উদ্দেশ্য করেছেন, এটি ভুল। এই আয়াতের দ্বারা শবে বরাত নয়, বরং শবে ক্বদর উদ্দেশ্য।
কেননা, কুরআনুল কারীম শবে ক্বদরে নাযিল হয়েছে ।
অনুবাদ,
আশরাফুল আলম ক্বাসেমী।
( Ashraful )
আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ,
নদওয়াতুল উলামা, লাক্ষনৌ।
https://chat.whatsapp.com/BMBfPXtXfZ4IvQ5txlB0y2
তথ্যসূত্র : ইলমী খুতুবাত, খন্ড ২. পৃষ্ঠা ২৪৭।
===========
শবে বরাত বিষয়ক মাসিক আল কাউসার এর লেখা সমূহ
শা‘বান-রমযান : রহমত ও মাগফিরাতের মওসুম
https://www.alkawsar.com/bn/article/2002/
শাবান, রমযান, ঈদঃ কিছু প্রশ্নের উত্তর
https://www.alkawsar.com/bn/article/47/
বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির কবলে শাবান ও শবে বরাত
http://ahlehaqmedia.com/2015/05/26/3001-3/
উলামায়ে সালাফের উক্তির আলোকে শবে বরাত
https://www.alkawsar.com/bn/article/2188/
শবে বরাত : কিছু ভ্রান্তি নিরসন
https://www.alkawsar.com/bn/article/1547/
এটি হাদীস নয় : শবে বরাতে হালুয়া-রুটি বানালে আরশের নিচে ছায়া পাবে
https://www.alkawsar.com/bn/article/1163/
আরেকটি ভিত্তিহীন রেওয়ায়েত : শবে বরাতের রাতের গোসল
https://www.alkawsar.com/bn/article/1164/
শবে বরাতে ইবাদতের ফযীলত বিষয়ে ঈসা আ. ও বুযুর্গ বৃদ্ধের কাহিনী
https://www.alkawsar.com/bn/article/2194/
প্রশ্ন:শবে বরাত ও শবে কদর উপলক্ষে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায আছে কি না?
উত্তরঃ https://www.alkawsar.com/bn/qa/answers/?page=94
প্রশ্ন
অনেকে শবে বরাতের পরদিন রোযা রাখেন। এ বিষয়ে শরীয়তের হুকুম কী জানতে চাই।
উত্তরঃ https://www.alkawsar.com/bn/qa/answers/?page=94
প্রশ্ন : শবে বরাত ও শবে কদর উপলক্ষে বিভিন্ন মসজিদ ও দোকানপাটে আলোকসজ্জা করা হয়, পটকা ফুটানো হয় ও আতশবাজি করা হয়। সেই সাথে হালুয়া-রুটি, খিচুড়ি ইত্যাদি খাবারের আয়োজন করা হয়। শরীয়তের দৃষ্টিতে এর হুকুম কী জানতে চাই।
উত্তর : https://www.alkawsar.com/bn/article/47/
প্রশ্ন
পুরান ঢাকায় শবে বরাত উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন পদার্থ দ্বারা বিভিন্ন প্রকার প্রাণীর আকৃতিতে পাউরুটি, কেক, সন্দেশ ইত্যাদি বানাতে দেখা যায়। এসব প্রাণীর মধ্যে হারাম প্রাণী যেমন কুমির, ভোদর, গুই সাপ ইত্যাদি এবং হালাল প্রাণী যেমন বিভিন্ন জাতের মাছও থাকে। এগুলোকে শবে বরাতের বিশেষ খাবার বলে গণ্য করা হয় এবং খুব চড়া মূল্যে তা বিক্রি হয়। প্রশ্ন হল, প্রাণীর আকৃতিতে এসব খাবার তৈরি করা এগুলোর ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয আছে কি না?
উত্তরঃ https://www.alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/151/
আরেকটি ভিত্তিহীন রেওয়ায়েত : শবে বরাতের রাতের গোসল
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1931327170434960&id=100006730879327
শাবানের ১৫ তারিখের রাতের বিষয়ে আরেকটি ভিত্তিহীন বর্ণনা সমাজে প্রচলিত আছে। সেটি শবে বরাতের রাতের গোসল কেন্দ্রিক। এই রাতে ইবাদতের উদ্দেশে যদি কেউ গোসল করে তাহলে তার গোসলের প্রতি ফোটার বিনিময়ে গুনাহ মাফ হবে। আবার কেউ কেউ বর্ণনাটি এভাবে বলে যে, প্রতি ফোটায় ৭০ রাকাত নফল নামাযের সওয়াব হবে।
তো যে যেভাবেই বলুক, এটি যে একটি জাল বর্ণনা বা ভিত্তিহীন কথা তা বলাই বাহুল্য। আল্লাহ আমাদের এ ধরনের জাল বর্ণনা ও ভিত্তিহীন কথা থেকে হেফাজত করুন এবং ফযীলতের প্রতিটি বিষয়কে তার গরি মধ্যে রেখে তাকে কাজে লাগানোর তাওফিক দিন। আমীন
[ মাসিক আলকাউসার » শাওয়াল ১৪৩৫ . আগস্ট ২০১৪ ]
=========
শবে বরাতে ইবাদত
* ইবনে রাজাব হাম্বলি বলেন,
- শামে বসবাসকারী তাবেঈরা শবে বরাতকে বিশেষ সম্মান করতেন, শবে বরাতে গুরুত্ব দিয়ে ইবাদত করতেন। এদের মধ্যে মাকহুল, খালেদ বিন মা’দান ও লুকমান বিন আমেরের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মুসলমানরা তাবেঈদের কাছ থেকেই শবে বরাতের আমলের বিষয়টি গ্রহণ করেছে। ইরাকের তাবেঈদের থেকেও শবে বরাতের গুরুত্ব প্রমাণিত। অবশ্য মক্কা-মদিনার অনেক তাবেঈ এতে দ্বিমত প্রকাশ করেন।
- শামের তাবেঈদের মধ্যেও শবে বরাত নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত ছিল। কেউ কেউ মসজিদে জামাতবদ্ধ ইবাদতে আগ্রহী ছিলেন, সুন্দর কাপড় পরিধান করতেন, মসজিদে রাত কাটাতেন। বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইসহাক বিন রাহবাইহও একই মত পোষণ করতেন। অবশ্য শামের তাবেঈদের আরেকটি ধারা শবে বরাতে মসজিদে জমায়েত হতে অপছন্দ করতেন। তাদের মতে ব্যক্তি শবে বরাতে একাকী নামাজ আদায় করবে, জামাতবদ্ধভাবে নয়। শামের বিখ্যাত আলেম ইমাম আওযায়ীও এই মত পোষণ করতেন।
- ইমাম শাফেয়ী বলেন, পাঁচ রাতে দোয়া কবুল হয়। রজবের প্রথম রাত, দুই ঈদের রাত, জুম্মার রাত ও শবে বরাত। এসব রাত সংক্রান্ত যেসব ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোকে ইমাম শাফেয়ী মুসতাহাব মনে করতেন।
ইবনে রাজাবকৃত লাতায়েফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা ১৩৭
* শবে বরাতে একাকী, জামাতবদ্ধ ইবাদতের বিষয়টি সালাফদের থেকেই প্রমাণিত। যারা এ নিয়ে গালিগালাজ বা তাচ্ছিল্য করে, তারা প্রকারান্তরে সালাফদেরকেই গালিগালাজ করার সাহস দেখায়। শবে বরাত সংক্রান্ত হাদিসের মান নিয়ে আলোচনা হতে পারে। অবশ্য অনেকেই এ সংক্রান্ত কিছু জরুরী কথা ভুলে যান।
জঈফ হাদিস আর জাল হাদিস এক নয়। জাল হাদিস মানে বানানো হাদিস ; জঈফ হাদিস মানে হাদিসের প্রামাণ্যতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে, তবে বানানো হাদিস হিসেবেও ধরা যাচ্ছে না। অনেক বিষয়ে শক্ত ও বহুল প্রচারিত সহি হাদিস না পাওয়া গেলেও আমল ছাড়া হয় না। সর্বসম্মত সহিহ হাদিস নেই মানে হাদিসের সনদটি সর্বসম্মত নয়, তবে সালাফের আমল পাওয়া গেলে জঈফ হাদিসের ওপরেও আমল করা হয়, এর অনেক দৃষ্টান্ত বিদ্যমান। অবশ্য অনেক ইমামের মতে শবে বরাত বিষয়ে বেশ কয়েকটি সহিহ হাদিস রয়েছে।
* শবে বরাতে অনেকে ইবাদত করতে আগ্রহী হয়। তবে ফরজ ছেড়ে শুধু এই রাতের ইবাদতে ধর্মীয় দায়িত্ব পূর্ণ হবে না। অবশ্য যারা এই রাতে ইবাদত করতে আসে, তাদেরকে বাঁধা দেবারও সুযোগ নেই। যেহেতু বিষয়টি সালাফ থেকেই প্রমাণিত, পাশাপাশি এই অঞ্চলের মানুষ এ রাতের ইবাদতে অভ্যস্ত, তাই এ বিষয়ে বাঁধা দেওয়া যাবে না।
মানুষ অনেক বড় বড় গুনাহ করছে, সমাজ ও রাষ্ট্রে সংস্কার করার মতো অনেক বিষয় রয়েছে। এসব কিছু জেনেও কেন আম মুসলমানদেরকে ইবাদত থেকে বিরত রাখতেই সমস্ত শক্তি ব্যয় করা হবে?
শবে বরাত, ‘সালাফি হুজুর’ ও আধুনিক মানুষ
আমি মনে করি, শবে বরাত অজনপ্রিয় হবার পেছনে সালাফিদের চেয়ে আধুনিকতাবাদীদের দায় অনেক বেশী। শবে বরাত আসলেই সালাফি বনাম ধর্মীয় সাংস্কৃতিক চর্চার বয়ানটা আমার পছন্দ না। সালাফিদের সাথে দ্বিমত করতে চাইলে 'ইলমি' বক্তব্য দিন, সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা কখনোই 'ইলমি' বক্তব্যের বিকল্প হতে পারে না।
আধুনিক মানুষের কাছে সালাফ-আকাবিরদের গুরুত্ব কমে গেছে, মানুষ এখন 'টেক্সটভিত্তিক নিশ্চিত ধর্মতত্বের' সন্ধান চায়, তাদের কাছে জীবন্ত সিলসিলার গুরুত্ব নাই। আধুনিক মানুষের কাছে ধর্মটা 'অবসরের' বিষয়, সে ধর্মকে যতটা সম্ভব ছাটাই করে ছোট বানাতে চায়, যাতে তার দৈনন্দিন সেকুলার জীবনে ব্যাঘাত না ঘটে, সে নিজেকে আপ্রাণ 'নিরপেক্ষ', 'অন্য সবার মতোই' প্রমাণ করতে ব্যস্ত।
প্রশ্ন হল, শবে বরাতকে 'কালচার' হিসেবে দেখাটা কি 'সেকুলারাইজেশন' নয়? আপনার বাপ-দাদারা তো কালচারের মিনিংও জানতো না। কার ওপর কী চাপিয়ে দিচ্ছেন?
আপনি মনে করতেছেন, কালচারের প্রবলেম, 'সালাফি হুজুরের' কুৎসা, বাস্তবতা হল এসবই আধুনিক মানুষের বুঝ-বিবেচনার পরিবর্তন। 'সালাফি হুজুরের' কথা শুনে মানুষ শবে বরাত ছাড়েনি, আধুনিক মানুষ নিজের বাইরে অন্য কারো আনুগত্য করে না। 'সালাফি হুজুর' কেবল অসিলা, এর বেশি কিছু নয়।
https://t.me/iftekharjamil/602
=======
শবে বরাত ও শবে মেরাজ নিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা :
1.
শবে বরাত : কিছু ভ্রান্তি নিরসন
-- মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1930434017190942&id=100006730879327
2.
শবে বরাত সম্পর্কিত কয়েকটি প্রশ্ন-উত্তর
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1930433307191013&id=100006730879327
3.
আরেকটি ভিত্তিহীন রেওয়ায়েত : শবে বরাতের রাতের গোসল
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1931327170434960&id=100006730879327
4.
ইসরা ও মিরাজ বিষয়ক কয়েকটি লেখা
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1929394933961517&id=100006730879327
5.
#শবেবরাত_ভিত্তিহীন_নয়_প্রামাণ্যতা_করণীয়_ও_বর্জনীয়
আলোচক : #মাওলানা_তাহমীদুল_মাওলা
আমাদের সমাজে শবে বরাত নিয়ে