06/07/2025
Not related to Bengali learning directly but related to reading and listening Bengali and related to the society and
নৈতিক অবক্ষয়: May read and also listen:
Copy pasted: বেতন কত?
লেখা : খাজা নিজাম উদ্দিন
পুলিশ চেকপোস্টে সিএনজি থামানো হলো।কর্তব্যরত পুলিশ ০৩ বার ব্যাগ চেক করলো। আমি শুধু তাকিয়ে দেখছি। যিনি সিনিয়র ছিলেন,তাকে ডাকলাম। বললাম ভাই, উনি কি সুস্থ আছেন? এক ব্যাগ ০৩ বার চেক করার কারণ কি? যাই হোক, উনি পরিচয় জানতে চাইলেন। পরিচয় দেয়ার পরে কয়েকবার সরি বললেন।জিজ্ঞেস করলেন "আপনি কোন ব্যাচ? বললেন আমার ছোটো ভাই নবম ব্যাচ।" আরো বললেন "আমার ভাই সড়ক ও জনপথে অধিদপ্তরে আছে। ৩ কোটি টাকা খরচ করে গ্রামে বাড়ি নির্মান করেছে!" জিজ্ঞেস করলাম
আপনার ভাইয়ের বেতন কত? গর্বে ভরা চেহারাটা
মুহূর্তে ছাই হয়ে গেলো।
আমরা নাগরিকরা 'সবাই খারাপ, আমি ভালো' এই সিন্ড্রোমে আছি।পাশে বসা বন্ধু বললো দোস্তো বলিস না, এই শালা ট্রাফিক পুলিশ,শালারা দুই টাকাও ঘুষ খায়!বললাম দোস্তো, তোদের ফ্লাটে কত খরচ পড়েছে? এইতো সব মিলে ৯৭ লাখ। আংকেল আয়কর বিভাগে আছেন তাই না?আংকেলের বেতন কত?এতে দোস্তের চেহারাও ছাই হয়ে গেল।ওদিকে লায়লা তার বয়ফ্রেন্ডকে বলছে, কাবিন কিন্তু ৩০ লাখ টাকা হতে হবে (বয়ফ্রেন্ড বেতন পায় সাকুল্যে ২৮ হাজার টাকা)। না হলে আমার প্রেস্টিজ পাংকচার! আবার স্মরণ করে দিয়ে ফেবুতে পোস্ট দিয়েছে, "যে ছেলে যৌতুক চায়, তাদেরকে না বলুন!"
এদিকে মেয়ের জন্য বিয়ের তিনটি প্রস্তাব এসেছে। একজন কলেজের শিক্ষক, আরেকজন বন বিভাগ, অপরজন পুলিশ বিভাগে কর্মরত। মেয়ের বাবা পরের দু'জনের মধ্যে যে কোনো একজনকে নির্বাচনের মত দিলে মেয়ে বলছে, "বাবা, তোমার পছন্দ সেরা"!
এক আত্মীয়ের বাসায় গেলাম। সারা জীবন সততার বুলি আউড়িয়েছেন। হাতে সবসময় তজবিহ এবং মুখে ধর্মকর্মের কথা।উনার একমাত্র মেয়ের জামাই চাকুরি করেন একটি সরকারি বিভাগে। খুব গর্ব করে বললেন, তার মেয়ে ৪/৫ বছর পরপরই ঘরের ফার্নিচার পালটায়। মেয়ে খুব সৌখিন। ৮০ লাখ টাকায় ফ্লাট কিনে আরও ৫০ লাখ টাকা খরচ করছে ইন্টেরিয়র কাজে!শাশুড়ির জন্য পাঠায় মাসে ৬০ হাজার টাকা ।দু'টো সরকারি গাড়ি,বাসায় ৩/৪ জন সরকারি লোক কাজ করে।মেয়েকে কিছুই করতে হয় না।আবার মেয়ের জামাই খুব ভালো মানুষ, ধার্মিক,ঘুষও খায় না। জিজ্ঞেস করলাম, আপনার মেয়ের স্বামীর বেতন কতো? সাথে সাথে মুখটা ছাই হয়ে গেলো।বললাম- সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাও দু'টো গাড়ি পায় না,বাসায় কাজ করার জন্য কোনো সরকারি কর্মচারী নিয়োজিতকরণের আইন বা নিয়ম নেই। কিন্তু আপনার মেয়ের জামাই ছোট চাকরি করে এতো সুযোগ সুবিধা কিভাবে পায়?
দু'জন সরকারি কর্মকর্তা।তাদের গ্রেড,পদ মর্যাদা ও বেতন-ভাতা এক ও অভিন্ন।তারা পাশাপাশি দু'টো সরকারি বাসায় বসবাস করেন।একজনের উপরি আয় আছে। অন্যজন প্রাপ্ত বেতনের ভিত্তিতে সততার সাথে জীবন যাপন করেন।তার পরিবারের সদস্যদের নেই কোনো বিলাসিতা। সন্তানগণ পায়ে হেঁটে স্কুলে যায় এবং নেই কোনো দামী পোষাক পরিচ্ছদ। অতি সাধারণ জীবন যাপন। আর অপরজন অবৈধভাবে অফিসের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার,বাসার কাজে অফিসের লোক নিয়োজিত করন,পরিবারের বিলাস বহুল জীবন যাপন,একাধিক জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয়।সন্তানদের দামী স্কুল,কলেজ ও বিদেশে অধ্যয়ন।উক্ত অবস্থার জন্য প্রথমোক্ত পরিবারের সদস্যদের সামাজিক মর্যাদা ও মানসিক অবস্থা কি হতে পারে তা সহজেয় অনুমেয়।
আমরা এতোই নষ্ট হয়েছি এবং আমাদের মানসিকতা এতোই নীচে নেমেছে যে,আমাদের কোন লজ্জা-শরম নেই। ঘুষ আমাদের অধিকার হয়ে গেছে। কিন্তু বাস কন্ডাকটর ৫ টাকার ভাড়া ৭/৮ টাকা চাইলে, যাত্রীগণ বলেন "এরা মানুষ না। এই টাকা খেয়ে এরা কিছুই করতে পারবে না। মানুষের টাকা মেরে কিছুই করা যায় না।" অথচ একটি ছোট গ্রেডের চাকরির জন্য ঘুষ দিতে হয় ১০/১২ লাখ টাকা।বাস কন্ডাকটর গলা কাটছে, গলা কাটছে শিক্ষিত নামে কলঙ্কিত দুর্বৃত্তরা। শিক্ষিতদের গলাকাটা বড়ই নির্মম,তারা দেশটাকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দেয়।বাস কন্ডাকটররা একটা নিদারুণ সত্যি কথা বলে,"আফনেরা যে কলমের খোঁচায় কোটি কোটি টাকা মাইরা খান, হেই হিসাব তো আমরা নেই না!"কথা সত্যি এবং নিদারুণ সত্যি।এর মধ্যে কোনো ভেজাল নেই"।
সম্পতি সরকারি চাকরি আইন সংশোধন এবং এনবিআর'কে ভেঙ্গে দু'টো বিভাগে বিভক্ত করার ইস্যূ নিয়ে সচিবালয় এবং এনবিআর-এ চরম আন্দোলন হয়েছে।অর্থ বছরের শেষ পর্যায়ে এসে আন্দোলন করার কারনে সেবা গ্রহীতা সীমাহীন দুর্ভোগের কবলে পড়েছে।আবার সরকারও কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।সরকার জনস্বার্থে যে কোনো সংস্কার,পরিবর্তন,
সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে।সেখানে কর্মচারীদের কোনো বক্তব্য থাকতে পারে না।তবে অযৌক্তিক বা জনস্বার্থের পরিপন্থী কিছু হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার অধিকার সংরক্ষণ করে।অবশেষে সরকারি এ্যাকশন ও দুদকের অভিযান শুরু হলে আন্দোলন শেষ।এখন তারা চাকরি,অবৈধভাবে উপার্জিত ধন সম্পদ ও মান মর্যাদা রক্ষার তৎপরতা লিপ্ত রয়েছে।দেশের প্রতিটি সেক্টরে ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধে অবিলম্বে দুদকের কার্যকর অভিযান শুরু করা না হলে সরকারি সে্ক্টরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে না।তবে অভিযান হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ।
কিছু শ্রমিক দাবী দাওয়ার আন্দোলনে রাস্তা বন্ধ ও অ্যাম্বুলেন্স আটকিয়ে রাখে। এটা অন্যায় তবে মনে পড়ে এর চেয়ে ভয়াবহ অসভ্য গোষ্ঠীর কথা, বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির দালালদের কথা, যারা অতি উচ্চ শিক্ষিত এবং যাদের পেছনে রাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলার খরচ হয় এবং মেয়াদউত্তীর্ণ ঔষধ আইসিইউ'তে রাখা গলা কাটার সেই সব অমানুষদের কথা।ভালো মানুষ নেই এটা সঠিক নয়। হ্যাঁ,আছে তবে সংখ্যায় কম।না থাকলে পৃথিবীটা ঠিকে থাকতো না।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লক্ষাধিক ছেলে ইটালি, লন্ডন, ইউএসএ বা ইউরোপর বিভিন দেশে বসবাস করেন।তাদের জন্য কোন মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব আসলে তখন অভিভাবকের চেহেরা খুশিতে চকচক করে (ছেলে বয়স্ক, বিপত্নীক, সন্তানের পিতা হলেও সমস্যা নেই )। তবে এই মানুষগুলো খুব সাধারণ।আর কিছু চকচকে চেহারা মানুষ আছেন যারা অসাধারণ!! মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে কোথায় হলো,ছেলে কী করে? যদি ঘুষের বা উপরি আয়ের সুযোগ থাকে তখন বাবা- মা, ভাই-বোন আর মেয়ের চেহারা খুশিতে চকচক করে!!
এই যে অরাজকতা, চারদিকে ভেজাল জিনিস, উচ্চমূল্য, গলাকাটা সেবা,যে কোনো নাগরিক সেবার জন্য দিনের পর দিন সরকারি অফিসে গমনাগমন, পেনশনের টাকা তুলতে ফাইলের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে জুতার তলা ক্ষয় করা, পরীক্ষায় ভালো ফল করেও চাকুরি না পাওয়া, এই সবের মূলে রয়েছে যেখান থেকে বিয়ের প্রস্তাব এলে জিহবা চকচক করে, চেহারায় (নোংরা) খুশির ঢেউ উঠে, সেই দুর্নীতিবাজ শুয়োরদের কারণে।বিখ্যাত এক অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন, "শুয়োরের বাচ্চাদের অর্থনীতি"! এই শুয়োরের বাচ্চারা কারা? লেখাটি পড়ে যাদের চেহারা মলিন ও ছাই হয়ে যাবে, তারা।
https://www.facebook.com/share/v/1C5FaZca4w/?mibextid=wwXIfr