13/08/2026
নজির উদ্দিন সরদার স্যারের আজ ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী।
⏩শিক্ষক নজির উদ্দিন সরদার।
শিক্ষকতার সময়কালঃ১৯৫১-২০০০
জন্মঃ ০২ ফেব্রুয়ারী ১৯৩০ইং,মৃত্যুঃ১৩ আগষ্ট ২০০৭ইং
⏩ঘরের পাশেই,রাস্তার সাথেই অন্ধকার মাটির ঘরে তার জায়গা হয়েছে। রোদ,বৃষ্টি,ঝড়,শীত,গরম কোনো কিছুই আজ আর তাকে বিচলিত করে না। এগুলোতে থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্যও নেই তার কোনো আপ্রাণ চেষ্টা। আজ সেসব কিছুর ঊর্ধ্বে।
⏩"হে আমার রব,আব্বা-মা উভয়ের প্রতি রহম করুন, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে লালন-পালন করেছেন।"
সাড়ে তিন হাত মাটির তৈরি কবরে শুয়ে আছেন আমার শ্রদ্ধেয় আব্বা(Sir Alhaj Naziruddin Sarder famous teacher (1951-2000) of Kashiani G C Pilot High School)।
দুদিন আগে আর পরে যেথায় আমারও ঠাঁই হবে। জানি না অন্ধকার কবরে শান্তিতে থাকার জন্য,ক্ষণিকের দুনিয়ায় ভালো কিছু সঙ্গে নিতে পারব কিনা। আব্বা তার প্রিয় চিরচেনা বাড়ীর পাশে,রাস্তার ধারে ঘুমিয়ে আছেন, পৃথিবী ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত থাকবেন সেখানে।
⏩আব্বা নেই,এখন বাড়িতে গেলে, আর ভালো লাগে না। আব্বার অনেক শ্রম আর ঘামে গড়ে তোলা বাড়িটি আজ যেন আব্বা বিহীন রিক্ত, জরাজীর্ণ। ঘরের প্রতিটি জিনিস গুলো অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। খুব যত্ন করে এই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন আমার বাবা। কত মূল্যবান সময়, শ্রম আর ঘামে ভেঁজা এই বাড়ি। তার যত্নে গড়ে তোলা বাড়িতে আজ আর আমার বাবা নেই।
⏩⏩ আমার বাবা আমাদের কাছে ‘দুঃখ করে বলতেন, ‘এখন বুঝবি না, যখন মরে যাব সেদিন থেকে বুঝবি’ সেই দিন বাবা হারানোর ব্যথাটা বুঝতে পারিনি। এখন বুঝি ‘কতটা নিরাপদ আশ্রয় আর ভরসার জায়গাটা আমরা হাত ছাড়া করে ফেলেছি’। এত বড় ক্ষতি কোনোদিন পোষানোর নয়।
🔰বাবার বহু যত্নে গড়ে তোলা ঘরগুলো,বাবাহীন নিষ্প্রাণ দাঁড়িয়ে আছে। যেখানে এখন আর কোনো দরদ নেই,ভালোবাসা নেই,নেই কোনো স্নেহ-মমতার আর নিরাপত্তার এতটুকু স্থান। ওই ঘরে ঢুকলে কষ্টে বুকটা ফেটে যায়। বাবাকে মিস করে ভীষণ। মা এখন মাঝে মধ্যে বাড়ী যান বাবার কবর দেখতে,বাবার ঘরগুলো পরিস্কার করতে,বাবার সম্পত্তিগুলো দেখভাল করতে। আর কয়েকটা বছর বেঁচে থেকে সুখ নিয়ে কি যেতেন পারতেন না আমার বাবা।
🔰আব্বাকে আজ বড্ড মনে পড়ছে- পড়ালেখার জন্য কত শাসন করতো মাঝে-মধ্যে মার দিতো, পরক্ষনেই আবার আদর করত। আব্বা কতদিন হল আপনার হাতের কোন মার খাইনা, খুব ইচ্ছা হচ্ছে মার খেতে,নামাজ আদায় না করার জন্য বকা খাইনা। শুনেছি বাবা-মায়ের হাতে মার খেলে সন্তান ভাগ্যবান হয়। আব্বা আপনার অনুভূতি, ভালোবাসা, অস্তিত্ব সবসময় যেন আমাকে আষ্টেপৃষ্টে ঘিরে আছে, যদিও আপনি আছেন অনেক দূরে, অচীনপূরে,কবরের জগতে।
🔰হে আল্লাহ ! বাবার একজন অধম সন্তান হিসেবে এইটুকু প্রার্থনা করি, বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনায় অন্তত কিছু সৎ কর্ম যেন করে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারি, যে সৎ কর্মের জন্য বাবার আত্মা শান্তি পায়,হাসতে হাসতে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারেন। সন্তান হিসেবে এটুকুই প্রার্থনা রইল আপনার দরবারে।
🔰⏩মহান আল্লাহ,আপনি আমার বাবা-মার হজ্ব কবুল করুন,তার বিনিময়ে তাদের ক্ষমা,জান্নাত দান করুন। মনের মধ্যে একটি শান্তি পাই যখন ভাবি আমি আমার আব্বা- মাকে ২০০৩ সালে হজে পাঠিয়েছিলাম। আব্বার বহুল পঠিত কুরআনের একটি তাফসীর গ্রন্থ আমার নিত্য দিনের সাথী। সৌদি আরব থেকে প্রকাশিত পবিত্র কোরআনুল করীম ( তফসীর মারেফুল কোরান),যেখানে ৫৯৬ পৃষ্ঠা,৫৯৭ পৃষ্ঠায় লেখা আছে,'ইলমে তাছাওউফ শিক্ষা করা ফরজে আইন এর অন্তর্ভুক্ত।"
মহাসত্যের মহাসন্ধান,আকাইদ- তাসাওউফ- ফিকাহ,পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ইসলাম শিক্ষা ও আমল করার চেষ্টা করছি।
⏩হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্র ঘর কাবাতে- -মসজিদে নববীতে, বেহেস্তের বাগানে,মীনা, মুজদালিফা,আরাফাতে,সাফা-মারওয়াতে বাবার মাগফিরাতের জন্য কতো কেঁদেছি-- দোয়া করেছি...আল্লাহ্ আপনি তা কবুল করুন। যতদিন এদেহে প্রাণ আছে ততদিন আব্বা-মার জন্য আল্লাহর দরবারে কেদে-কেটেই যাবো, তাদের পারলৌকিক সুখের জন্য।
🔰⏩আব্বা ! ২৮ জুলাই ২০০৭ সন্ধ্যায় আমাকে মোবাইলে বললেন,শরীরটা ভালো যাচ্ছে না--আগামী শবে বরাতের আগে(২০০৭) ঢাকা আসবো -- রোজার মাস থাকবো--- আব্বা, আপনার জন্য আমি আপনার পছন্দের খাবারগুলো সংগ্রহ করেছিলাম---আপনি চলে গেলেন পরপারে---আর আপনাকে সেবা-যত্ম করার সুযোগ হলো না--প্রতি বছর শবে মেরাজ--শবে বরাত-রমজান মাস আসলে... আপনাকে খুজে ফিরি আমি আমার অস্তিত্বে--কিন্তু পাইনা।.আব্বা..আমি আপনাকে সবসময় খুজে ফিরি..আব্বা, আপনাকে মিস করি ভীষণ...আপনাকে ভালবাসি আব্বা।
⏩⏩ Muhammad Haider Ali Hitlu Al-Hanafi (পূর্ণাঙ্গ দ্বীন ও তাছাওউফ শিক্ষার্থী)----মির্জাপুর তাছাওউফ মাদ্রাসা ও নায়েবে রসুলের দরবার শরীফ, নিকলী,কিশোরগঞ্জ ।