Islamic Reception

Islamic Reception

Share

Islamic Reception (ইসলামিক রিসিপশন)
"বাংলা ভাষায় দ্বীন শিক্ষা "
www.facebook.com/IslamicReception Please like our to keep update yourself.

Islamic Reception (ইসলামিক রিসিপশন) is a Islamic channel in Bangla language. Here you can find Bangla waz, Lecture, Documentary, Tutorial and more. "যারা দ্বীন কে খন্ডে খন্ডে বিভক্ত করে বহু দলে বিভক্ত হয় (হে নবী) তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই।" সূরা আনআম 159

05/05/2026

#ইসলামি_শরিয়তে_ধর্ষণের_বিচারে_স্বাক্ষী
শরিয়তে সাধারণত দুই ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে: ১. হদ (নির্ধারিত শাস্তি) এবং
২. তাজির (বিচারের মাধ্যমে নির্ধারিত শাস্তি)।

#হদ: জিনা বা ব্যভিচারের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তি (অবিবাহিত হলে ১০০ দোররা; বিবাহিত হলে রজম/পাথর ছুড়ে হত্যা) দিতে হলে ৪ জন নির্ভরযোগ্য পুরুষ সাক্ষীর প্রয়োজন হয় যারা সরাসরি অপরাধটি প্রত্যক্ষ করেছেন।

#তাজির: যদি ৪ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী পাওয়া না যায় (যা সাধারণত ধর্ষণের ক্ষেত্রে হওয়া কঠিন), তবে ধর্ষিতাকে বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয় না। এক্ষেত্রে ৪ জন সাক্ষীর শর্ত প্রযোজ্য নয়। বিচারক অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ধর্ষককে শাস্তি দিতে পারেন, যথা:
→ পারিপার্শ্বিক প্রমাণ এবং ফরেনসিক রিপোর্ট।→ডিএনএ পরীক্ষা।
→ ভুক্তভোগীর একক সাক্ষ্য যদি তা যুক্তিসঙ্গত ও নির্ভরযোগ্য হয়।
→ অপরাধীর স্বীকারোক্তি।

#প্রচলিত_ভুল_ধারণা_হলো- ধর্ষণের শিকার নারীকেও ৪ জন সাক্ষী উপস্থাপন করতে হবে নতুবা তাকে ব্যভিচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হবে।

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, অভিযোগকারী (ধর্ষিতা) যদি প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের শিকার হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তার ওপর কোনো শাস্তি বর্তায় না।

৪ জন সাক্ষীর বিধান মূলত ব্যভিচারের অপবাদ থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য।

ইমাম মালিক বলেন, আমাদের মতে যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে ধর্ষণ করে, হোক সে মহিলা কুমারী অথবা না, যদি সে একজন মুক্ত মহিলা হয় তাকে অবশ্যই দাবি অনুযায়ী অর্থ দিতে হবে, আর যদি ঐ মহিলা কোন দাসী হয়, তবে তাকে অবশ্যই এমন কিছু দিতে হবে যা দ্বারা সে নিজের উপর সংঘটিত উক্ত দুর্ঘটনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। ধার্য শাস্তি ধর্ষকের উপর প্রযুক্ত হবে এবং যে মহিলা ধর্ষিত হয়েছে তাঁর জন্য কোন শাস্তি নেই, মামলা যাই হোক না কেন।

ওয়ায়েল ইবনু হুজর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে জনৈকা মহিলা মসজিদে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হন। একজন লোক তাকে একা পেয়ে কাপড়ে ঢেকে নেয় এবং তাকে ধর্ষণ করে। মহিলা চিৎকার শুরু করলে লোকটি চলে যায়। সেখান দিয়ে মুহাজিরদের একদল লোক যাচ্ছিলেন। মহিলাটি তাদেরকে বললেন যে, ঐ লোক আমার সাথে এরূপ আচরণ করেছে। তখন লোকেরা তাকে ধরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে নিয়ে আসলে তিনি মহিলাকে বললেন, তুমি চলে যাও। আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি ঐ ধর্ষণকারী পুরুষকে রজম করার আদেশ দিলেন

সারাংশ- এই. আই.

রেফারেন্স:
১ম কমেন্টে

04/06/2025

ইয়াওমে আরাফার রোযার ফজিলত
--------------------------------------------------

হযরত আবু কাতাদা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السّنَةَ الّتِي قَبْلَهُ، وَالسّنَةَ الّتِي بَعْدَهُ.

আরাফার দিনের (নয় যিলহজ্বের) রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করি যে, (এর দ্বারা) আগের এক বছরের এবং পরের এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬২

প্রকাশ থাকে যে, উক্ত হাদীসে বর্ণিত ইয়াওমে আরাফা দ্বারা যিলহজ্বের নয় তারিখ উদ্দেশ্য। এই তারিখের পারিভাষিক নাম হচ্ছে ইয়াওমে আরাফা। কেননা এই রোযা আরাফার ময়দানের আমল নয় বরং আরাফার দিন তো হাজ্বীদের জন্য রোযা না রাখাই মুস্তাহাব। হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ،أَنّ نَاسًا تَمَارَوْا عِنْدَهَا يَوْمَ عَرَفَةَ، فِي صِيَامِ رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: هُوَ صَائِمٌ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَيْسَ بِصَائِمٍ، فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ بِقَدَحِ لَبَنٍ، وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى بَعِيرِهِ بِعَرَفَةَ، فَشَرِبَهُ.

উম্মুল ফযল বিনতে হারেছ বলেন, তার নিকট কতক লোক ইয়াওমে আরাফায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রোযার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করছিল। কেউ কেউ বলছিল, তিনি রোযা আছেন। আর কেউ কেউ বলছিল, তিনি রোযা নেই। উম্মুল ফযল একটি পেয়ালাতে দুধ পাঠালেন। নবীজী তখন উটের উপর ছিলেন। তিনি দুধ পান করলেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১২৩

আরাফার দিন আল্লাহর রাসূল রোযা রাখেননি। একারণে ফকীহগণ হাজ্বীদের জন্য আরাফার দিন রোযা না রাখা উত্তম বলেছেন। আবু কাতাদা রা.-এর হাদীস দ্বারা ইয়াওমে আরাফায় রোযা রাখা মুস্তাহাব প্রমাণিত হয়। সুতরাং বুঝা গেল, আবু কাতাদাহ রা.-এর হাদীসে ‘ইয়াওমে আরাফা’ দ্বারা নয় যিলহজ্ব অর্থাৎ ঈদের আগের দিনই উদ্দেশ্য। সুতরাং আমাদের দেশের চাঁদের হিসেবে যেদিন নয় তারিখ হয় সেদিনই রোযা রাখা হবে। সৌদির হিসাবে আরাফার দিন অনুযায়ী নয়।

উল্লেখ্য, তাকবীরে তাশরীক সংক্রান্ত হাদীসেও ইয়াওমে আরাফা দ্বারা নয় যিলহজ্বই উদ্দেশ্য। কেননা এ আমলও আরাফার সাথে নির্দিষ্ট কোনো আমল নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, মাসিক আলকাউসার, জানুয়ারি ২০১৩ ঈ. (দুটি প্রশ্ন ও তার উত্তর : ইয়াওমে আরাফার রোযা ও কুরবানীর সাথে আকীকা)

*****

ইয়াওমে আরাফা : গুরুত্ব ও ফযীলত
--------------------------------------------------

এ দিন আল্লাহর কাছে অনেক মহিমান্বিত। এদিনেই আল্লাহ তাআলা এ দ্বীনকে পূর্ণতা দানের ঘোষণা দিয়েছেন এবং বান্দাদের প্রতি তাঁর নিআমতকে পূর্ণ করেছেন। এদিনেই হজ্বের মূল আমল উকূফে আরাফা। কুরআনে কারীমে আল্লাহ এ দিনের কসম করেছেন। এ দিনের দুআ আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ দুআ। এ দিনের রোযার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার দুই বছরের গুনাহ মাফ করেন। এদিন আল্লাহ সবচেয়ে বেশি পরিমাণ বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।

যে আয়াত নাযিল হয়েছে ইয়াওমে আরাফায়

আরাফার দিনেই ঐ আয়াত নাযিল
হয়েছে, যে আয়াতে আল্লাহ তাআলা এ দ্বীনের পূর্ণতাদানের ঘোষণা দিয়েছেন। তারেক ইবনে শিহাব বর্ণনা করেন, এক ইহুদী ওমর ইবনে খাত্তাব রা. কাছে এল এবং বলল-

يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ آيَةٌ فِي كِتَابِكُمْ تَقْرَءُونَهَا، لَوْ عَلَيْنَا نَزَلَتْ، مَعْشَر الْيَهُودِ، لَاتّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدًا، قَالَ: وَأَيّ آيَةٍ؟ قَالَ: اَلْیَوْمَ اَكْمَلْتُ لَكُمْ دِیْنَكُمْ وَ اَتْمَمْتُ عَلَیْكُمْ نِعْمَتِیْ وَ رَضِیْتُ لَكُمُ الْاِسْلَامَ دِیْنًا .

হে আমীরুল মুমিনীন! আপনাদের কিতাবে (কুরআনে) একটি আয়াত রয়েছে, উক্ত আয়াত যদি আমরা ইহুদীদের উপর নাযিল হত তাহলে আমরা ঐ দিনকে ঈদের দিন হিসেবে গ্রহণ করতাম। ওমর রা. জিজ্ঞেস করলেন, কোন্ আয়াত? সে তখন বলল-

اَلْیَوْمَ اَكْمَلْتُ لَكُمْ دِیْنَكُمْ وَ اَتْمَمْتُ عَلَیْكُمْ نِعْمَتِیْ وَ رَضِیْتُ لَكُمُ الْاِسْلَامَ دِیْنًا .

[আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নিআমত পরিপূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম। -সূরা মায়েদা (৫) : ৩]

ওমর রা. বলেন-
إِنِّي لَأَعْلَمُ الْيَوْمَ الّذِي نَزَلَتْ فِيهِ، وَالْمَكَانَ الّذِي نَزَلَتْ فِيهِ، نَزَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِعَرَفَاتٍ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ.
আমি খুব ভালো করে জানি, এ আয়াত কবে নাযিল হয়েছে, কোথায় নাযিল হয়েছে। এ আয়াত নাযিল হয়েছে এক জুমার দিন, আরাফায় (আশিয়্যাতা আরাফা-আরাফার বিকেলে)। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩০১৭; সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৮৮

ইয়াওমে আরাফায় বান্দাকে মুক্তি দেওয়া হয় জাহান্নাম থেকে

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ ইরশাদ করেন-

مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النّارِ، مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَإِنّهُ لَيَدْنُو، ثُمّ يُبَاهِي بِهِمِ الْمَلَائِكَةَ، فَيَقُولُ: مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ؟

আরাফার দিনের মত আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটবর্তী হন এবং বান্দাদের নিয়ে ফিরিশতাদের সাথে গর্ব করেন। আল্লাহ বলেন, কী চায় তারা? -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪৮
জাবের রা. থেকে বর্ণিত আরেক বর্ণনায় রয়েছে-

يَنْزِلُ اللهُ إِلَى السّمَاءِ الدّنْيَا فَيُبَاهِي بِأَهْلِ الْأَرْضِ أَهْلَ السّمَاءِ، فَيَقُولُ: انْظُرُوا إِلَى عبادي شعثا غبرا ضاحين، جاؤوا مِنْ كُلِّ فَجٍّ عَمِيقٍ يَرْجُونَ رَحْمَتِي، وَلَمْ يَرَوْا عَذَابِي، فَلَمْ يُرَ يَوْمٌ أَكْثَرُ عِتْقًا من النار من يوم عرفة.

আল্লাহ তাআলা নিকটতম আসমানে আসেন এবং পৃথিবীবাসীকে নিয়ে আসামেনর অধিবাসী অর্থাৎ ফিরিশতাদের সাথে গর্ব করেন। বলেন, দেখ তোমরা- আমার বান্দারা উস্কোখুস্কো চুলে, ধুলোয় মলিন বদনে, রোদে পুড়ে দূর-দূরান্ত থেকে এখানে সমবেত হয়েছে। তারা আমার রহমতের প্রত্যাশী। অথচ তারা আমার আযাব দেখেনি। ফলে আরাফার দিনের মত আর কোনো দিন এত অধিক পরিমাণে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয় না। -সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩৮৫৩

আরাফার দুআ শ্রেষ্ঠ দুআ

ইয়াওমে আরাফায় যে দুআ-যিকির করেছেন নবীগণ
যিলহজ্বের দশকের মধ্যে ইয়াওমে আরাফা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ দিনে দুআ-যিকিরের গুরুত্ব আরো বেশি। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও নবীগণ এ দিনে যে দুআ-যিকির করেছেন তা হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

خَيْرُ الدّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَخَيْرُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي: لَا إِلَهَ إِلّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.

শ্রেষ্ঠ দুআ (-যিকির) আরাফার দুআ। এ দিনের দুআ-যিকির হিসেবে সর্বোত্তম হল ঐ দুআ, যা আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ করেছেন। তা হল-
لَا إِلَهَ إِلّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
-জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৫৮৫; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৩৭৭৮

*****

প্রশ্ন : এবার ঈদুল আযহা হয়েছে শনিবার। শুক্রবার আমাদের এখানে অনেকেই রোযা রেখেছিলেন। কিন্তু জুমআর বয়ানে খতীব সাহেব বললেন, আজকে যারা রোযা রেখেছেন তারা হারাম কাজ করেছেন। রোযা রাখতে হবে আরাফার দিন, যেদিন আরাফার ময়দানে হাজিরা উকূফ করেন। কারন হাদীস শরীফে ‘ইয়াওমে আরাফা’র রোযার কথা বলা হয়েছে। নয় যিলহজ্বের কথা বলা হয়নি। যারা ‘ইয়াওমে আরাফা’কে নয় যিলহজ্ব বলে ব্যাখ্যা করে তারা ভুল ব্যাখ্যা করে।

তাঁর এসব বক্তব্যে মুসল্লীদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। তর্ক-বিতর্কও হচ্ছে। কুরআন-হাদীসের দলীলসহ সঠিক সমাধান জানালে উপকৃত হব।

উত্তর : যিলহজ্বের প্রথম দশ দিন অতি ফযীলতপূর্ণ। এই দশদিনের আমল ও ইবাদত আল্লাহর কাছে অতি প্রিয়। বিখ্যাত সাহাবী আবু হুরায়রা রা. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লামের ইরশাদ বর্ণনা করেছেন-

ما من أيام العمل الصالح فيهن أحب إلى الله من هذا الأيام، قيل : ولا الجهاد في سبيل الله؟ قال : ولا الجهاد في سبيل الله إلا من خرج بنفسه وماله فلم يرجع من ذلك بشيء.

অর্থাৎ এমন কোনো দশক (দশদিন) নেই, যার নেক আমল আল্লাহর কাছে এই দিনগুলোর চেয়েও বেশি প্রিয়। আরজ করা হল, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি নয়? বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও নয়, তবে যে তার প্রাণ ও সম্পদ নিয়ে বের হয়েছে এবং কোনো কিছু নিয়েই ফিরে আসেনি (অর্থাৎ শাহাদাত বরণ করেছে)। আলমুসনাদ, আহমদ, হাদীস : ১৯৬৮

হাদীসটি সহীহ বুখারীতে আছে। (দ্র. হাদীস : ৯৬৯, কিতাবুল ঈদাইন); ফতহুল বারী, ইবনে রজব ৬/১১৩
এ হাদীসে যিলহজ্বের দশ দিনের আমল-ইবাদতের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। রোযাও একটি নেক আমল। তবে যেহেতু ঈদের দিন রোযা রাখা নিষেধ তাই ঈদের দিন বাদ দিয়ে তার আগের নয় দিন রোযা রাখাও এ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত।

আল্লামা ইবনে হায্ম জাহেরী রাহ.ও এই হাদীসের কারণে যিলহজ্বের প্রথম নয়দিন রোযা রাখা মুস্তাহাব বলেছেন।

তো যারা ঈদের আগের দিন রোযা রেখেছেন (যা ছিল নয় যিলহজ্ব) তারা হারাম কাজ করেছেন বলে দাবি করা উপরোক্ত হাদীসের সরাসরি বিরোধী।
তেমনি ‘ইয়াওমে আরাফা’র রোযা সম্পর্কে প্রশ্নে যে বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে তা-ও সঠিক নয়। এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ হাদীসে-

(صيام يوم عرفة أحتسب على الله أن يكفر السنة التي قبله والسنة التي بعده)

‘ইয়াওমে আরাফার রোযার বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী, তিনি এর দ্বারা এর আগের এক বছরের ও পরের এক বছরের গোনাহ মাফ করবেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৬২
‘ইয়াওমে আরাফা’অর্থ নয় জিলহজ্ব। এটিই সঠিক ব্যাখ্যা। কারণ এই রোযা আরাফা বা উকুফে আরাফার আমল নয়; তা ঐ তারিখের আমল। ‘ইয়াওমে আরাফা’হচ্ছে ঐ তারিখের (নয় যিলহজ্বের) পারিভাষিক নাম। যেহেতু ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রোকন হজ্বের প্রধান রোকন উকুফে আরাফা ঐ স্থানের তারিখ হিসাবে নয় যিলহজ্বে আদায় করা হয় তাই এ তারিখেরই নাম পড়ে গেছে ‘ইয়াওমে আরাফা’। একারণে যেসব আমল আরাফা বা উকূফে আরাফার সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট নয়; বরং যিলহজ্বের নয় তারিখের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেগুলোকেও ‘ইয়াওমে আরাফা’র আমল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য, নয় তারিখে বা ঈদের আগের দিন আমলটি করতে হবে।
এ প্রয়োগের কারণে (নয় যিলহজ্বকে ‘ইয়াওমে আরাফা’বলা) আরাফা ও তার নিকটবর্তী অঞ্চলে তো কোনো বিভ্রান্তি হয় না, কিন্তু দূরত্বের কারণে ঐ অঞ্চলের সাথে যেসব অঞ্চলের তারিখের পার্থক্য হয় সেখানে-যারা এই প্রয়োগের সঠিক অর্থ সম্পর্কে অবগত নয় তাদের-বিভ্রান্তি ঘটে। যেমনটা প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঘটেছে।

এ প্রয়োগের (ইয়াওমে আরাফা অর্থ নয় যিলহজ্ব) আরেকটি দৃষ্টান্ত ‘তাকবীরে তাশরীক’। এটি আরাফা বা উকুফে আরাফার বিশেষ আমল নয়। এটি শুরু হয় নয় যিলহজ্ব ফজর থেকে, অথচ যে দলীল দ্বারা নয় তারিখ থেকে তাকবীরে তাশরীক শুরু হওয়া প্রমাণিত তাতেও ‘ইয়াওমে আরাফা’শব্দই আছে। দলীলের আরবী পাঠ এই-
عن علي رضي الله عنه : أنه كان يكبر بعد صلاة الفجر يوم عرفة، إلى صلاة العصر من آخر أيام التشريق، ويكبر بعد العصر.
رواه ابن أبي شيبة في مصنفه وإسناده صحيح كما في الدراية.
আলমুসান্নাফ, ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৫৬৭৭, ৫৬৭৮

এখানেও কি ‘ইয়াওমে আরাফা’অর্থ নয় যিলহজ্ব করা ভুল?

দ্বিতীয়ত, গোটা মুসলিম উম্মাহর ইজমা আছে যে, ইয়াওমে আরাফার পরের দিনটিই ইয়াওমুন নাহর।
এটি প্রমাণ করে, ‘ইয়াওমে আরাফা’একটি তারিখের নাম, আর তা হচ্ছে নয় যিলহজ্ব, যেমন ‘ইয়াওমুন নাহর’একটি তারিখের নাম, আর তা হচ্ছে দশ যিলহজ্ব। কোনো অঞ্চলের অধিবাসীরা যদি ঐ অঞ্চলের তারিখ অনুযায়ী ইয়াওমুন নাহরের অর্থ দশ জিলহজ্ব ধরে ইয়াওমে আরাফার এমন কোনো অর্থ করেন, যদ্বারা সেখানের তারিখ হিসেবে তা হয়ে যায় আট যিলহজ্ব, তাহলে সেটা হবে এক উদ্ভট, হাস্যকর ও ইজমা বিরোধী কথা। কারণ ইয়াওমে আরাফা ও ইয়াওমুন নাহরের মাঝে আরেকটি দিন স্বীকার করে নেওয়া ইজমার সরাসরি বিরোধী।

তো এ জাতীয় বিচ্ছিন্ন চিন্তা ও বক্তব্য আরো কিছু ক্ষেত্রেও বিচ্ছিন্নতাকে অনিবার্য করে তুলবে, যা নিয়ে এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনার অবকাশ নেই।
উল্লেখ্য, আমাদের অঞ্চলে এবার নয় যিলহজ্ব ছিল শুক্রবার। একারণে শুক্রবারকে রোযার জন্য নির্দিষ্ট না করার হাদীসটিও কেউ উদ্ধৃত করতে পারেন। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, বাইতুল্লাহর তাওয়াফকালে হযরত জাবির রা.কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল,

‘শুক্রবারে রোযা রাখতে কি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।’তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, এই ঘরের মালিকের কসম!’

এই হাদীসে শুধু নিষেধের কথা বর্ণিত হয়েছে। তার ক্ষেত্র, পর্যায় ও তাৎপর্য সঠিকভাবে বুঝতে হলে এ হাদীসের অন্যান্য বর্ণনা এবং এ বিষয়ের অন্যান্য হাদীস সামনে রাখতে হবে। কিছু হাদীস লক্ষ্য করুন :

১. আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা কেউ জুমুআর দিন রোযা রেখো না তবে যদি তার আগের বা পরের দিন রোযা রাখো (তাহলে অসুবিধা নেই)।
لا يصم أحدكم يوم الجمعة إلا أن يصوم قبله أو يصوم بعده. رواه البخاري ومسلم واللفظ له.
-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৯৮৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৪৪/১৪৭, কিতাবুস সিয়াম

২. অন্য বর্ণনায় আবু হুরায়রা রা. থেকে আছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা জুমার রাতকে অন্যান্য রাত থেকে আলাদা করে ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করো না। এবং জুমার দিনকে অন্যান্য দিন থেকে আলাদা করে রোযার জন্য নির্ধারণ করো না। তবে তা (জুমার দিন) যদি তোমাদের কারো রোযায় পড়ে যায় তাহলে অসুবিধা নেই।
لا تختصوا ليلة الجمعة بقيام من بين الليالي، ولا تختصوا يوم الجمعة بصيام من بين الأيام، إلا أن يكون في صوم يصومه أحدكم.
-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৪৪/১৪৮

৩. খোদ জাবির রা.-এর হাদীসটির মূল পাঠ, যা নাসায়ীর সুনানে কুবরায় রয়েছে-
محمد بن عباد بن جعفر قال : قلت لجابر : أسمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينهى أن يفرد يوم الجمعة بصوم؟ قال : إي ورب الكعبة.
এতে জুমআর দিন রোযা রাখা নয়; বরং শুধু জুমআর দিনকে রোযার জন্য নির্দিষ্ট করে নেওয়াকে নিষেধ করা হয়েছে।
(দ্র. আসসুনানুল কুবরা নাসায়ী, হাদীস : ২৭৬০-২৭৬২ ফাতহুল মুলহিম ৩/১৫৪)

এই সকল রেওয়ায়েত ও হাদীসের কারণে সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. বলেন, এসব হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়, জাবির রা.-এর হাদীসের কোনো বর্ণনায় যে নিষেধ সাধারণভাবে বর্ণিত হয়েছে তা বিশেষ অবস্থার মাঝে সীমাবদ্ধ।

আরো প্রমাণিত হয় যে, যারা জুমার আগের বা পরের দিনও রোযা রাখে, কিংবা জুমার দিনটি পড়ে যায় তার সাধারণ অভ্যাসের রোযার তারিখে, যেমন কারো আইয়ামে বীযের রোযা রাখার অভ্যাস আছে (আর এর কোনো দিন জুমার দিন হল) কিংবা বিশেষ কোনো দিবসের যেমন ইয়াওমে আরাফার রোযা রাখার অভ্যাস আছে আর ঐ তারিখটি জুমার দিন হল, তার জন্য এ দিন (আলাদা করেও) রোযা রাখা বৈধ (হারাম নয়)। তেমনি কেউ মান্নত করল, অমুক যেদিন আসবে কিংবা অমুক যেদিন সুস্থ হবে সে দিন রোযা রাখব আর (ঘটনাক্রমে) দিনটি জুমার দিন হল, তার জন্যও (শুধু) এদিন রোযা রাখা জায়েয।-ফাতহুল বারী ৪/২৭৫ (সংক্ষেপিত)

হাদীস শরীফে জুমার দিনকে রোযার জন্য আর জুমার রাতকে ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করতে কেন নিষেধ করা হল-এ বিষয়ে আলিমগণ বিভিন্ন তাৎপর্য উল্লেখ করেছেন। শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রাহ.-এর ভাষায় এর একটি তাৎপর্য হল, শরীয়ত যখন এ দিবসকে বিশেষ কিছু ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করেছে এবং এর ফযীলত বর্ণনা করেছে তখন আশঙ্কা ছিল অতিউৎসাহীরা নিজেদের পক্ষ হতে এদিনের রোযাকেও বাড়িয়ে নিবে। এই বাড়াবাড়ির পথ বন্ধ করার জন্য এ আদেশ জারি করা হয়েছে। (এ থেকে জুমার রাতকে ইবাদতের জন্য নির্ধারণ না করার আদেশের তাৎপর্যও বোঝা যায়)। (দ্র. হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ; ফতহুল মুলহিম ৩/১৫৫-১৫৬)
যাহোক, উপরের আলোচনা থেকে অন্তত এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে, ইয়াওমে আরাফা (নয় যিলহজ্বের) রোযার উদ্দেশ্যে যারা এদিন রোযা রেখেছেন তাদের ক্ষেত্রে জুমার দিন রোযা না-রাখার আদেশ সম্বলিত হাদীস প্রয়োগ করার সুযোগ নেই।

[ মাসিক আলকাউসারের বিভিন্ন সংখ্যা থেকে সংগৃহীত ]

#ইয়াওমে_আরাফা_মাসিক_আলকাউসার

02/07/2024

প্রশ্নঃ - আসসালামুআলাইকুম। ওযুর সময় ঘাড় মা‌সেহ করার বিধান কি? আমা‌দের অনেক আহ‌লে হাদীস ভাইরা ব‌লে থা‌কেন যে,হাদী‌সে না‌কি ঘাড় মা‌সেহ করার কথা নেই। এই সর্ম্প‌কে জান‌তে চাই।
দয়াকরে একটু তাড়াতাড়ি বল্লে খুবই ভালো হয় ।

জাযাকাল্লাহু খাইর ।

মাহবুব লস্কর , গড়িজেলা , দক্ষিণ 24 পরগনা , পঃবঃ

উত্তর :

*وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته*

*بسم الله الرحمن الرحيم*

এটা উক্ত ভাইরা না জানার কারণে বলে থাকেন। হাদীসে এ সংক্রান্ত বিধান এসেছে। বাকি এটি কোন জরুরী বিষয় নয়। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা মোটেও উচিত নয়।

গর্দান মাসাহ করা মুস্তাহাব।

১ .

*"عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: “مَنْ تَوَضَّأَ وَمَسَحَ بِيَدَيْهِ عَلَى عُنُقِهِ وُقِيَ الْغُلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ”*

হযরত ইবনে উমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি অজু করে এবং উভয় হাত দিয়ে গর্দান মাসাহ করে, তাহলে তাকে কিয়ামতের দিন [আযাবের] বেড়ি থেকে বাঁচানো হবে।

ইমাম আবুল হাসান ফারেছ রহঃ বলেছেনঃ

وَقَالَ هَذَا إنْ شَاءَ اللَّهُ حَدِيثٌ صَحِيحٌ

ইনশাআল্লাহ হাদীসটি সহীহ। [তালখীসুল হাবীর-১/৯৩, দারুল কুতুব প্রকাশনী-১/২৮৮,মুআসসা কুরতুবিয়্যাহ প্রকাশনী-১/১৬৩]

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন-বর্ণনাটি সম্পর্কে একথা বলা যায় যে, যদিও তা একজন তাবেয়ীর কথা হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে তা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর হাদীস গণ্য হবে। কেননা, তিনি ছাড়া অন্য কারো পক্ষে এমন সংবাদ দেওয়া সম্ভব নয়। {আত তালখীসুল হাবীর-১/৯২, হাদীস নং-৯৭}

২ .

*"عَنِ ابْنِ عُمَرَ ” أَنَّهُ كَانَ إِذَا مَسَحَ رَأْسَهُ مَسَحَ قَفَاهُ مَعَ رَأْسِهِ “*

হযরত ইবনে উমর রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি যখনি মাথা মাসাহ করতেন, তখন মাথা মাসাহের সাথে গর্দানও মাসাহ করতেন। [সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২৭৯]

৩ .

*"عَنْ طَلْحَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: «رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ فَمَسَحَ رَأْسَهُ هَكَذَا، وَأَمَرَّ حَفْصٌ بِيَدَيْهِ عَلَى رَأْسِهِ حَتَّى مَسَحَ قَفَاهُ"*

হযরত তালহা তিনি তার পিতা, তিনি তার দাদারসূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি, তিনি অজু করছেন। তখন তিনি এভাবে মাথা মাসাহ করেছেন। উভয় হাতকে জমা করে পাস কাটিয়ে তা দিয়ে গর্দান মাসাহ করতেন। [মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৫০]

এছাড়া আল্লামা বাগাভী রহঃ, ইবনে সাইয়িদুন্নাস রহঃ,লা-মাযহাবী, আহলে হাদীস ভাইদের কাছে মান্যবর ইমাম শাওকানী রহঃ প্রমূখও অযুতে গর্দান মাসাহ করার কথা বলেছেন। {নাইলুল আওতার-১/২০৪}

কথিত আহলে হাদীসদের বড় ইমাম নওয়াব সিদ্দীক হাসান খান এ মতকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন-গর্দান মাসাহ করাকে বিদআত বলা ভুল। আত তালখীসুল হাবীর গ্রন্থের উপরোক্ত বর্ণনা ও অন্যান্য বর্ণনা এ বিষয়ের দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া এর বিপরীত বক্তব্য হাদীসে আসেনি। {বুদূরুল আহিল্যাহ-২৮}

সুতরাং গর্দান মাসাহকে প্রমাণহীন, ভিত্তিহীন বলার কোন সুযোগ নেই ।

বিস্তারিত দেখুন হাদীসের কিতাবে , *"ই'লাউস সুনান" , খ. 1 পৃষ্ঠা . 120 .*

*فقط : والله اعلم بالصواب*

✍️ ইতি :
মুফতী মোঃ রবিউল ইসলাম কাজী কাসেমী সাহেব সংগ্রামপুরী
২ , মার্চ , ২০২১

15/06/2024

৯ জিলহজ্জ ফজর--১৩ জিলহজ্জ আছর পর্যন্ত
প্রতি ফরয নামাযের পর একবার তাকবীরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব।

14/06/2024
09/04/2024

ঈদের জামাতে মহিলাদের উপস্থিতি মাসআলা

ঈদের নামায প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষের উপর ওয়াজিব। মেয়েদের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়। এবং মেয়েরা ঈদের নামাযের জন্য ঈদগাহে যাবে না। সাহাবায়ে কেরাম অনেকেই মেয়েদের ঈদগাহে যেতে নিরুৎসাহিত করেছেন।

عَنْ نَافِعْ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أنَّهُ كَانَ لَا يُخْرِجُ نِسَائَهُ فِي الْعِيْدَيْنِ.

অর্থাৎ নাফে রাহ. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর পরিবারের নারীদেরকে দুই ঈদে ঈদগাহে যেতে দিতেন না। -আলআওসাত ৪/৩০১

অন্য বর্ণনায় এসেছে-

عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنّهُ كَانَ لَا يَدَعُ امْرَأَةً مِنْ أَهْلِهِ تَخْرُجُ إِلَى فِطْرٍ، وَلَا إِلَى أَضْحَى.

উরওয়া তাঁর পিতা (যুবাইর রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নিজ পরিবারের নারীদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযাহাতে যেতে দিতেন না। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ৫৮৪৬

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আলআনসারী রাহ. বলেন-

لَا نَعْرِفُ خُرُوْجَ الْمَرْأةِ الشَّابَّةِ عِنْدَنَا فِي الْعِيْديْنِ.

আমাদের সময়ে দুই ঈদের জন্য যুবতী নারীদের বের হওয়ার প্রচলন ছিল না। -আলআওসাত ৪/৩০২; উমদাতুল কারী ৩/৩০৫

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন-

يُكْرَهُ خُرُوجُ النِّسَاءِ فِي الْعِيدَيْن.

উভয় ঈদে মহিলাদের (নামাযের জন্য) বাইরে যাওয়া মাকরূহ। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ৫৮৪৬


[ মসিক আলকাউসার || যিলহজ্ব ১৪৪৩ || জুলাই ২০২২ ]

াসিক_আলকাউসার
#রমাযানুল_মুবারক_মাসিক_আলকাউসার

08/04/2024

ঈদের নামায : জরুরি মাসায়েল

✍ মাওলানা তাহের বিন মাহমুদ

আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের দুটি ঈদ দান করেছেন; ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। মুসলিমদের ঈদ ও উৎসব অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর উৎসব থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। আল্লাহর যিকির ও তাঁর বড়ত্বের ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় মুসলিমদের ঈদ। ঈদের দিনে মুসলিমদের প্রথম ও প্রধান আমল হল ঈদের নামায। ঈদুল আযহার বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِنّ أَوّلَ مَا نَبْدَأُ بِهِ فِي يَوْمِنَا هَذَا أَنْ نُصَلِّيَ، ثُمّ نَرْجِعَ، فَنَنْحَرَ...

আজকের দিনে আমরা সর্বপ্রথম ঈদের নামায আদায় করব। এরপর কুরবানী করব...। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৬৮

আজকের নিবন্ধে ঈদের দিনের প্রধান আমল ঈদের নামায-এর কিছু জরুরি মাসআলা আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

ঈদের নামায কাদের উপর ওয়াজিব
==========================

মাসআলা : যাদের উপর জুমার নামায ফরয, তাদের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব। অর্থাৎ, প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, যেসকল মুসলিম পুরুষ, জামাতে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামায আদায়ের সক্ষমতা রাখে তাদেরকে ঈদের নামায পড়তে হবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৭৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৭; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬৫

মাসআলা : মহিলাদের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়। অনুরূপ এমন অসুস্থ পুরুষ, যে ঈদগাহে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামায আদায়ের সক্ষমতা রাখে না, তার উপরও ঈদের নামায ওয়াজিব নয়। -কিতাবুল আছল ১/৩২৩; মাবসূত, সারাখসী ২/৪০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৮৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৭

মাসআলা : মুসাফির তথা যে ৪৮ মাইল বা ৭৮ কি. মি. দূরত্বে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ এলাকা ত্যাগ করেছে- এমন ব্যক্তির উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়। তবে সে যদি ঈদের নামায পড়ে তাহলে তা সহীহ হবে এবং এর সওয়াবও পাবে। -আততাজরীদ, কুদুরী ২/৯৮১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৭; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ২/৩৯৬

মাসআলা : হজ্বের সফরে থাকা লোকদের জন্য ঈদুল আযহার নামাযের বিধান নেই। -আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ২/৩৯৪

ঈদের নামাযের ওয়াক্ত
=================

মাসআলা : ঈদের নামাযের ওয়াক্ত হচ্ছে- সূর্য উদিত হয়ে (নামাযের) নিষিদ্ধ সময় শেষ হওয়ার পর থেকে শুরু করে যাওয়াল তথা সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার আগ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যেই ঈদের নামায পড়তে হবে। যাওয়ালের পর আর ঈদের নামায সহীহ হবে না। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১১৩৫; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া, পৃ. ৬৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৭৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৯

মাসআলা : ঈদুল আযহার নামায ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর দেরি না করে একটু তাড়াতাড়ি পড়া মুস্তাহাব। যাতে কুরবানীর কাজ দ্রুত শুরু করা যায়। আর ঈদুল ফিতরের নামাযও ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি আদায় করে নেবে। -মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৫৬৫১; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া, পৃ. ৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া; ১/১৫০

ঈদের নামাযের স্থান
===============

মাসআলা : ঈদের নামায ঈদগাহে ও খোলা মাঠে পড়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং খোলাফায়ে রাশেদীন সকলেই ঈদের নামায ঈদগাহে পড়তেন। হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِ وَالأَضْحَى إِلَى المُصَلّى.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন (ঈদের নামাযের জন্য) ঈদগাহে যেতেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৬৫

হযরত আলী রা. বলেন-

الْخُرُوجُ إِلَى الْجَبّانِ فِي الْعِيدَيْنِ مِنَ السّنّةِ.

দুই ঈদে (ঈদের নামাযের জন্য) খোলা মাঠে যাওয়া সুন্নত। -আলমুজামুল আওসাত, তবারানী, হাদীস ৪০৪০

মাসআলা : মাঠে ঈদের নামায পড়ার ব্যবস্থা থাকলে বিনা ওযরে মসজিদে ঈদের জামাত করবে না। তবে কোথাও বিনা জরুরতে এমনটি করা হলে ঈদের নামায আদায় হয়ে যাবে।

প্রকাশ থাকে যে, বর্তমানে শহরে ঈদগাহ কম, বিধায় অধিকাংশ মসজিদে ঈদের জামাত হয়। জায়গা সংকুলান না হওয়া বা বৃষ্টি ইত্যাদির কারণে মসজিদে ঈদের নামায পড়লে সুন্নতের খেলাফ হবে না। ওযরের সময় মসজিদে পড়া হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

أَصَابَهُمْ مَطَرٌ فِي يَوْمِ عِيدٍ، فَصَلّى بِهِمُ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ صَلَاةَ الْعِيدِ فِي الْمَسْجِدِ.

কোনো এক ঈদের দিন বৃষ্টি তাঁদেরকে পেয়ে বসে। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে ঈদের নামায আদায় করেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১১৫৩

ঈদের নামাযে তায়াম্মুম
=================

মাসআলা : নামাযে শরীক হওয়ার আগ মুহূর্তে কারো ওযু না থাকলে এবং ওযু করতে গেলে জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হলে তায়াম্মুম করে ঈদের নামায আদায় করা যাবে।

হযরত আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

يَتَيَمّمُ وَيُصَلِّي إِذَا خَافَ.

(ঈদের নামায) ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হলে তায়াম্মুম করে নামায পড়ে নেবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা ৫৮৬৯)

হযরত ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন-

يَتَيَمّمُ لِلْعِيدَيْنِ وَالْجِنَازَةِ.

ঈদ ও জানাযার ক্ষেত্রে (ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায়) তায়াম্মুম করা যাবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা ৫৮৬৮) -কিতাবুল আছল ১/৩২০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০২

তবে জুমা ও ওয়াক্তিয়া নামাযে জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুমের উক্ত বিধান প্রযোজ্য নয়।

ঈদের নামাযে আযান-ইকামত নেই
=========================

মাসআলা : ঈদের নামাযে আযান-ইকামতের বিধান নেই। হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

صَلّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ الْعِيدَيْنِ، غَيْرَ مَرّةٍ وَلَا مَرّتَيْنِ، بِغَيْرِ أَذَانٍ وَلَا إِقَامَةٍ.

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে একাধিকবার ঈদের নামায পড়েছি এবং আযান-ইকামত ছাড়া পড়েছি। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৭৮

তবে কেউ অজ্ঞতাবশত ইকামত দিয়ে দিলে এর কারণে নামায মাকরূহ হবে না। -কিতাবুল আছল ১/৩১৯; আলহাবীল কুদসী ১/২৪২; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬৭

নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা
==================

মাসআলা : ঈদ বা যে কোনো নামায, রোযা বা অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে অন্তরের সংকল্পই নিয়ত হিসাবে যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করে বলা জরুরি নয় এবং এর প্রয়োজনও নেই। তবে অন্তরের নিয়তের সাথে মুখে উচ্চারণ করা নিষেধও নয়। কেউ ইচ্ছার দৃঢ়তার জন্য মুখেও উচ্চারণ করে নিলে তা দূষণীয় হবে না। মুখে নিয়ত উচ্চারণ করলে নিজের মাতৃভাষায়ই করবে। প্রচলিত আরবী নিয়তের পেছনে পড়ার দরকার নেই। -উমদাতুল কারী ১/৩৩; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ২৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪১৫

ঈদের নামাযের নিয়ম
================

মাসআলা : ঈদের নামায দুই রাকাত। নিয়ত করে তাকবীরে তাহরীমা বলে নামায শুরু করে ছানা পড়বে। ছানা পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আরো তিনটি তাকবীর বলবে। প্রথম দুই তাকবীর বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। তৃতীয় তাকবীর বলার সময় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠিয়ে বেঁধে নেবে। অতঃপর সূরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাবে। দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে সূরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে আগের নিয়মে তিনটি তাকবীর বলবে। তবে দ্বিতীয় রাকাতে তৃতীয় তাকবীর বলার সময়ও হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবীর বলে রুকু করবে। এরপর অন্যান্য নামাযের ন্যায় যথারীতি নামায শেষ করবে। -কিতাবুল আছল ১/৩১৯; আলহাবীল কুদসী ১/২৪৩

ঈদের নামাযের কেরাত
=================

মাসআলা : ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতে ‘সূরা আ‘লা’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সূরা গাশিয়াহ’ বা প্রথম রাকাতে ‘সূরা কফ’ এবং দ্বিতীয় রাকাতে ‘সূরা কমার’ পড়া সুন্নত। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের নামাযে এ সূরাগুলো পড়তেন। তবে অন্য যে কোনো সূরাও পড়া যেতে পারে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৭৮; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ১৫৬৭; কিতাবুল আছল ১/৩২১; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০০

মাসআলা : জুমার নামাযের ন্যায় ঈদের নামাযের কেরাতও উচ্চৈঃস্বরে পড়া ওয়াজিব। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَجْهَرُ بِالْقِرَاءَةِ فِي الْعِيدَيْنِ وَفِي الِاسْتِسْقَاءِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদ ও ইস্তেসকার নামাযে কেরাত উচ্চৈঃস্বরে পড়তেন। (সুনানে দারাকুতনী, হাদীস ১৮০৩) -জামে সগীর, পৃ. ১১৪

তাই ইমাম সাহেব উভয় রাকাতেই কেরাত উচ্চৈঃস্বরে পড়বেন।

ঈদের দ্বিতীয় রাকাতের রুকুর তাকবীর
============================

মাসআলা : ঈদের দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর তাকবীরও অন্যান্য নামাযের রুকুর তাকবীরের মতো সুন্নত।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা দেখার জন্য মাসিক আলকাউসার জানুয়ারি ২০১১ সংখ্যায় প্রকাশিত ‘দৃষ্টি আকর্ষণ’ শিরোনামের লেখাটি পড়া যেতে পারে।



ঈদের নামাযের অতিরিক্ত তাকবীর সংক্রান্ত মাসায়েল
======================================

তাকবীরের সংখ্যা

মাসআলা : অন্যান্য নামাযের চেয়ে ঈদের নামাযে আরো কিছু বেশি তাকবীর রয়েছে। এ তাকবীরগুলোর সংখ্যা কতটি- এ ব্যাপারে হাদীস-আছারে একাধিক সংখ্যার কথা এসেছে। কোনো কোনো বর্ণনায় যেমন দুই রাকাতে মোট বারো তাকবীরের কথা এসেছে, অন্য বর্ণনায় দুই রাকাতে মোট ছয় তাকবীরের কথা এসেছে। এ দুটি ছাড়াও আরো দু-একটি সংখ্যার কথা কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে। হাদীসে বর্ণিত এসব সংখ্যার সবগুলোই সঠিক ও আমলযোগ্য। বারো তাকবীরের নিয়ম যেভাবে হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, তেমনি ছয় তাকবীরের নিয়মও হাদীস ও আছার দ্বারা প্রমাণিত। একাধিক জলিলুল কদর সাহাবী এই পদ্ধতির উপর আমল করছেন। ইমাম আহমাদ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

اخْتَلَفَ أَصْحَابُ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي التّكْبِيرِ وَكُلّهُ جَائِزٌ.

তাকবীরের সংখ্যা নিয়ে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। (সাহাবীদের থেকে প্রমাণিত এ) সবগুলো সংখ্যাই জায়েয ও আমলযোগ্য। -আলফুরুউ, মাকদিসী ৩/২০১

সুতরাং আমাদের দেশে ফিকহে হানাফীর অনুসরণে যে ছয় তাকবীরে ঈদের নামায পড়া হয় সেটাকে কোনো কোনো গায়রে মুকাল্লিদ ভাই কর্তৃক খেলাফে সুন্নত ও ভিত্তিহীন আখ্যা দেয়া হাদীস ও আছারের স্বল্প পড়াশোনাকেই প্রমাণ করে। এ সম্পর্কে দলীলভিত্তিক বিস্তারিত জানার জন্য মাসিক আলকাউসার অক্টোবর-নভেম্বর ২০০৫ সংখ্যা অথবা মাকতাবাতুল আশরাফ কর্তৃক প্রকাশিত ‘সহীহ হাদীসের আলোকে তারাবীর রাকাত সংখ্যা ও সহীহ হাদীসের আলোকে ঈদের নামায’ পুস্তিকাটি পড়া যেতে পারে।

মাসআলা : ঈদের অতিরিক্ত তাকবীরের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে কম সংখ্যা ধরে বাকি তাকবীর আদায় করবে। যেমন, তিন তাকবীর হয়েছে, নাকি দুই তাকবীর- এ নিয়ে সন্দেহ হলে দুই তাকবীর ধরে অবশিষ্ট একটি তাকবীর বলে নেবে।

মাসআলা : ইমাম যদি প্রথম রাকাতে ভুলে অতিরিক্ত তাকবীর না বলে কেরাত শুরু করে দেয় তাহলে কেরাত অবস্থায় তাকবীরের কথা স্মরণ হলে কেরাত ছেড়ে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নেবে। অতঃপর পুনরায় কেরাত পড়ে নেবে। কেরাত শেষ হওয়ার পর তাকবীরের কথা স্মরণ হলে তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাবে। -আততাজরীদ, কুদুরী ২/৯৮৪; আলমুহীতুর রেযাবী ১/৪১৭; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৭২

মাসআলা : ইমাম ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর ভুলে রুকুতে চলে গেলে (চাই প্রথম রাকাতের তাকবীর হোক বা দ্বিতীয় রাকাতের) তাকবীর বলার জন্য আর রুকু থেকে ফিরে আসবে না। এবং বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী রুকুতেও তাকবীর বলবে না। এক্ষেত্রে নামায শেষে সিজদায়ে সাহু করে নেবে। (যদি জামাত ছোট হয়) -আততাজরীদ, কুদুরী ২/৯৮৬; আলমুহীতুর রেযাবী ১/৪১৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬১; মিনহাতুল খালিক ২/১৪৭; রদ্দুল মুহতার ২/১৭৪

মাসআলা : ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর ভুলে রুকুতে চলে যাওয়ার পর তাকবীর আদায়ের জন্য রুকু থেকে ফিরে আসলে যদিও কোনো কোনো ফকীহ নামায ফাসেদ হয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন তবুও বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী কাজটি ভুল হলেও এ কারণে নামায নষ্ট হবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/১৭৪

মাসআলা : হানাফী মাযহাবের কেউ অন্য মাযহাবের ইমামের পেছনে নামায পড়লে (এবং ইমাম সাহেব বারো তাকবীর বা অন্য কোনো সংখ্যা অনুযায়ী নামায পড়ালে) ইমামের অনুসরণে সেও অতিরিক্ত তাকবীর ইমামের মতোই বলবে। -কিতাবুল আছল ১/৩২৪; মাবসূত, সারাখসী ২/৪২; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৭২



ঈদের নামাযে মাসবুক হওয়া সংক্রান্ত মাসায়েল
=================================

মাসআলা : কেউ প্রথম রাকাতে ঈদের অতিরিক্ত তাকবীর বলার পর ইমামের সাথে শরীক হলে সে তাকবীরে তাহরীমা বলে নামাযে শরীক হওয়ার পর নিজে নিজে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নেবে; চাই এক্ষেত্রে ইমাম সাহেব কেরাত পড়া অবস্থায় থাকুন না কেন। সুফিয়ান ছাওরী রাহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন-

وَلَوْ وَجَدَ الْإِمَامَ يَقْرَأُ كَبّرَ كَمَا يُكَبِّرُ الْإِمَامُ.

ইমামকে কেরাত অবস্থায় পেলে সে (নিজে নিজে) ইমামের ন্যায় তাকবীর বলে নেবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৫৭১৪)

কিন্তু এক্ষেত্রে নামাযে শরীক হওয়ার পর দাঁড়ানো অবস্থায় (রুকুর আগে আগে) তাকবীর আদায়ের সুযোগ থাকা সত্তে¡ও যদি আদায় না করে তাহলে পরে আর রুকুতে তাকবীর বলবে না। -আলবাহরুর রায়েক ২/১৬১; রদ্দুল মুহতার ২/১৭৪

মাসআলা : ইমামকে রুকুতে পেলে সেক্ষেত্রে যদি প্রবল ধারণা হয়, দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বললেও ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হতে পারবে তাহলে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হবে।

আর যদি প্রবল ধারণা হয়, দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত তাকবীর বলতে গেলে ইমামকে রুকুতে পাওয়া যাবে না, তাহলে তাকবীরে তাহরীমা বলে রুকুতে চলে যাবে। রুকুতে গিয়ে ছুটে যাওয়া অতিরিক্ত তাকবীরগুলো হাত উঠানো ছাড়া বলে নেবে। এরপর যদি সময় থাকে তাহলে রুকুর তাসবীহ আদায় করবে। -আততাজরীদ, কুদুরী ২/৯৮৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৮৮-৮; আলহাবীল কুদসী ১/২৪৩; আলবাহরুর রায়েক ১/১৬১; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ২/৪০০; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৭২

মাসআলা : ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হওয়ার পর অতিরিক্ত তাকবীর বলার মত সময় না পেলে আর তাকবীর বলতে হবে না। ইমামের সাথে রুকু পাওয়ার কারণে সে ঐ রাকাত পেয়েছে এবং সাথে সাথে তাকবীরও পেয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬১৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫১

মাসআলা : কেউ দ্বিতীয় রাকাতে ইমামের সাথে শরীক হলে ইমামের সালাম ফেরানোর পর ছুটে যাওয়া রাকাত আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে প্রথমে সূরা-কেরাত পড়ে তারপর রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবীর বলবে। অর্থাৎ ছুটে যাওয়া রাকাতেও দ্বিতীয় রাকাতের ন্যায় রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবীর বলবে। হাসান বসরী রাহ. বলেন-

يكَبِّرُ فِيهَا مِثْلَ تَكْبِيرِ الْإِمَامِ فِي الرّكْعَةِ الثّانِيَةِ.

ঈদের নামাযে মাসবুক ব্যক্তি ছুটে যাওয়া রাকাত আদায়ের সময় ইমামের দ্বিতীয় রাকাতের ন্যায় তাকবীর বলবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা ৫৮১৩

অবশ্য যদি কেউ এক্ষেত্রে সূরা-কেরাতের আগে অতিরিক্ত তাকবীর বলে নেয় তাহলেও তার নামায আদায় হয়ে যাবে। -কিতাবুল আছল ১/৩২২; আলহাবীল কুদসী ১/২৪৪

মাসআলা : দ্বিতীয় রাকাতের রুকুর পর এমনকি শেষ বৈঠকের তাশাহহুদের পরও কেউ জামাতে শরীক হলে সে ঈদের জামাত পেয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। এক্ষেত্রে ইমামের সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই উভয় রাকাত আদায় করবে। অর্থাৎ প্রথম রাকাতের পর দাঁড়িয়ে কেরাতের পূর্বে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলবে। আর দ্বিতীয় রাকাতে কেরাতের পর অতিরিক্ত তাকবীর বলবে। -কিতাবুল আছল ১/৩২২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০০

ঈদের নামাযে সাহু সিজদা
===================

মাসআলা : অন্যান্য নামাযের ন্যায় ঈদের নামাযেও জামাত ছোট হলে এবং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা না থাকলে ওয়াজিব ছুটে গেলে সিজদায়ে সাহু দিতে হয়। তবে যেহেতু ঈদের জামাতে সাধারণত অনেক বড় জমায়েত হয়ে থাকে, অনেক মানুষ সিজদায়ে সাহুর নিয়ম-কানুন সম্পর্কে জ্ঞাত থাকে না, তাই সিজদায়ে সাহু আদায় করতে গেলে অনেক সময় বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এজন্য কোনো কোনো ফকীহের মতে ঈদ, জুমা বা এরকম বড় কোনো জামাতের ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব সিজদায়ে সাহু করতে গেলে যদি মুসল্লীদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে সিজদায়ে সাহু মাফ হয়ে যাবে। ইমাম স্বাভাবিক নিয়মে নামায শেষ করবে। -কিতাবুল আছল ১/৩২৪ ; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫০১

ঈদের নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক
============================

মাসআলা : ঈদুল আযহার নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক বলা যেতে পারে। তবে ফরয নামাযের মত ঈদের নামাযের পর তাকবীর বলা ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় নয়। -আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; রদ্দুল মুহতার ২/১৮০



ঈদের খুতবা সংক্রান্ত মাসায়েল
======================

মাসআলা : ঈদের নামাযের পর খুতবা দেয়া সুন্নত। আর উপস্থিত মুসল্লীগণের জন্য তা শ্রবণ করা ওয়াজিব। মুসল্লীগণ মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনবেন। -কিতাবুল আছল ১/৩১৮; আলহাবীল কুদসী ১/২৪২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৮; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬৬

মাসআলা : জুমার নামাযের ন্যায় ঈদের নামাযেও দুই খুতবা। এবং দুই খুতবার মাঝে বসাও সুন্নত। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে উতবা রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

السّنّةُ أَنْ يَخْطُبَ الْإِمَامُ فِي الْعِيدَيْنِ خُطْبَتَيْنِ يَفْصِلُ بَيْنَهُمَا بِجلُوسٍ.

সুন্নত হচ্ছে, ইমাম ঈদে দুটি খুতবা দেবে। দুই খুতবার মাঝখানে বসার দ্বারা একটিকে আরেকটি থেকে আলাদা করবে। (সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস ৬২১৩) -মাবসূত, সারাখসী ২/২৬২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৯

কোনো কোনো গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়েরা যে বলে থাকেন- ‘দুই ঈদে একটি করে খুতবা হবে’ তাদের এ কথা সহীহ হাদীস ও মুসলিম উম্মাহর যুগ পরম্পরায় চলে আসা আমলের পরিপন্থী।

মাসআলা : ঈদের খুতবার আগে আযানের কোনো বিধান নেই।

মাসআলা : খুতবার সময় ইমাম তাকবীর বললে মুসল্লীগণ চুপ থেকে খুতবা শুনবেন। নিজেরা তাকবীর বলবেন না। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

وَجَبَ الْإِنْصَاتُ فِي أَرْبَعَةِ مَوَاطِنَ: الْجُمُعَةِ، وَالْفِطْرِ، وَالْأَضْحَى، وَالِاسْتِسْقَاءِ.

চারটি স্থানে চুপ থাকা ওয়াজিব। জুমা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা এবং ইসতিসকার খুতবার সময়। -মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৫৬৪২

ঈদের নামায ছুটে গেলে
=================

মাসআলা : ঈদের নামাযে কাযার বিধান নেই। তাই কারো ঈদের নামায ছুটে গেলে সে আশপাশের অন্য কোনো ঈদের জামাতে শরীক হওয়ার চেষ্টা করবে। এমনটি সম্ভব না হলে তওবা-ইস্তেগফার করবে। -শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/১৬১; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৯৮; আলহাবীল কুদসী ১/২৪৪

ঈদের নামাযের আগে-পরে নফল পড়া
===========================

মাসআলা : হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন-

أَنّ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ صَلّى يَوْمَ الفِطْرِ رَكْعَتَيْنِ لَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلاَ بَعْدَهَا.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন দুই রাকাত ঈদের নামায পড়ছেন। ঈদের নামাযের আগে বা পরে কোনো নামায পড়েননি। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৬৪)

এজাতীয় হাদীসের আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, ঈদের নামাযের আগে বাড়িতে বা ঈদগাহে/মসজিদে পুরুষ মহিলা সকলের জন্যই নফল নামায পড়া মাকরূহ। তাই এসময় কেউ ইশরাক বা অন্য কোনো নফল নামায পড়বে না। -কিতাবুল আছল ১/৩২৮; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ২/৩৮১-৩৮২; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬৭



বিবিধ মাসায়েল
============

ঈদ ও জুমা একই দিনে হলে
====================

মাসআলা : জুমার দিন ঈদ হলে ঈদ ও জুমা উভয়টিই পড়তে হবে। ঈদের নামায পড়লে জুমা পড়তে হবে না- এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কেননা ঈদের নামায ও জুমার নামায দুটি পৃথক পৃথক আমল। অন্যদিকে ঈদের নামায ওয়াজিব আর জুমার নামায ফরয। সুতরাং একটি আদায় করে আরেকটি বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর স্বপক্ষে হাদীসের অনেক সুস্পষ্ট প্রমাণও রয়েছে। জুমার দিন ঈদ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উভয় নামাযই পড়তেন। সহীহ হাদীস দ্বারা এটিই প্রমাণিত। এক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে জুমার নামায না পড়ার কোনো প্রমাণ নেই। (দেখুন : সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৭২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৭৮; মুসনাদুশ শাফেয়ী, হাদীস ৫০০; শরহু মুশকিলিল আছার ৩/১৮৭; আততামহীদ ১৪/২৭৪)

এ সম্পর্কে মাসিক আলকাউসার মে ২০২২ (প্রশ্ন নং ৫৬৭৯)-এ একটি বিস্তারিত ফতোয়া প্রকাশিত হয়েছে। আগ্রহী পাঠকগণ চাইলে তা দেখে নিতে পারেন ।



ঈদের জামাতে মহিলাদের উপস্থিতি মাসআলা
=================================

ঈদের নামায প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষের উপর ওয়াজিব। মেয়েদের উপর ঈদের নামায ওয়াজিব নয়। এবং মেয়েরা ঈদের নামাযের জন্য ঈদগাহে যাবে না। সাহাবায়ে কেরাম অনেকেই মেয়েদের ঈদগাহে যেতে নিরুৎসাহিত করেছেন।

عَنْ نَافِعْ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أنَّهُ كَانَ لَا يُخْرِجُ نِسَائَهُ فِي الْعِيْدَيْنِ.

অর্থাৎ নাফে রাহ. আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর পরিবারের নারীদেরকে দুই ঈদে ঈদগাহে যেতে দিতেন না। -আলআওসাত ৪/৩০১

অন্য বর্ণনায় এসেছে-

عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنّهُ كَانَ لَا يَدَعُ امْرَأَةً مِنْ أَهْلِهِ تَخْرُجُ إِلَى فِطْرٍ، وَلَا إِلَى أَضْحَى.

উরওয়া তাঁর পিতা (যুবাইর রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নিজ পরিবারের নারীদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযাহাতে যেতে দিতেন না। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ৫৮৪৬

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আলআনসারী রাহ. বলেন-

لَا نَعْرِفُ خُرُوْجَ الْمَرْأةِ الشَّابَّةِ عِنْدَنَا فِي الْعِيْديْنِ.

আমাদের সময়ে দুই ঈদের জন্য যুবতী নারীদের বের হওয়ার প্রচলন ছিল না। -আলআওসাত ৪/৩০২; উমদাতুল কারী ৩/৩০৫

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন-

يُكْرَهُ خُرُوجُ النِّسَاءِ فِي الْعِيدَيْن.

উভয় ঈদে মহিলাদের (নামাযের জন্য) বাইরে যাওয়া মাকরূহ। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদীস ৫৮৪৬

সৌদি আরবে ঈদ করে ঐ দিনই দেশে চলে এসে দেশে ঈদের জামাত পেলে

মাসআলা : কেউ যদি এক দেশে ঈদের নামায পড়ার পর পূর্ব দিকের কোনো দেশে গিয়ে পরের দিন ঈদের জামাত হতে দেখে যেমন, কেউ সৌদি আরবে ঈদ করে ঐ দিনই বাংলাদেশে চলে আসে এবং এখানে পরের দিন ঈদ হয় তাহলে ঐ ব্যক্তির জন্য দ্বিতীয়বার দেশের ঈদের জামাতে শরীক হওয়া আবশ্যক নয়। -ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ১৮

[ মসিক আলকাউসার || যিলহজ্ব ১৪৪৩ || জুলাই ২০২২ ]

াসিক_আলকাউসার
#রমাযানুল_মুবারক_মাসিক_আলকাউসার

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Address


Road 2, Shyamoli
Dhaka
1207

Opening Hours

Monday 09:00 - 20:00
Tuesday 09:00 - 20:00
Wednesday 09:00 - 20:00
Thursday 09:00 - 20:00
Friday 09:00 - 11:50
14:30 - 20:00
Saturday 08:00 - 21:00
Sunday 09:00 - 20:00