11/05/2026
EPS এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। এর মধ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করে HRD কোরিয়া EPS সেন্টার ইন বাংলাদেশ এবং BOESL
EPS প্রক্রিয়াটি যেভাবে পরিচালিত হয়ঃ-
১) নির্দেশনাঃ
HRD কোরিয়া হেড অফিস থেকে HRD কোরিয়া বাংলাদেশ অফিসে নির্দেশনা আসে।
২) কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষার সার্কুলারঃ
সার্কুলার কোরিয়ান ও ইংরেজি ভার্সনে পাঠানো হয়।
BOESL সেটিকে বাংলা করে প্রচার করে—কোন বিন্দু মাত্র পরিবর্তন বা সংশোধন করার সুযোগ নেই।
৩) EPS অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন/ প্রি-রেজিষ্ট্রেশনঃ
সার্কুলারের পরে প্রথম ধাপই হলো প্রি রেজিষ্ট্রেশন/ অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন BOESL এর Website এ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মীর ছবির স্ক্যান কপি, পাসপোর্টের স্ক্যান কপি ও ইনফর্মেশন দিয়ে প্রি-রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়।
৪) EPS কর্মী বাছাই প্রক্রিয়াঃ
ভাষা পারদর্শী ও লটারি এই ২ পদ্ধতিতে হয়।
ক) ভাষা পারদর্শী হয় (First Come First Served) আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে।
খ) লটারিতে উন্মুক্ত ভাবে আবেদন করে। তার মধ্যে থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর্মী লটারিতে উত্তীর্ণ হয়। BOESL কাগজ পত্র যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত রেজিষ্ট্রেশন করে।
৫) কোরিয়ান ভাষাঃ কোরিয়া ভাষা আগে শিখা থাকলে ভাষা পারদর্শীতে UBT পরীক্ষা দিবেন। ভাষা শিখা না থাকলে লটারিতে উত্তীর্ণ হয়ে যে কোন ভালো কোরিয়ান ভাষা প্রতিষ্ঠানে কোরিয়ান ভাষা শিখবেন।
৬) EPS TOPIK UBT পরীক্ষাঃ
HRD Korea এর তত্ত্বাবধানে হয়, BOESL শুধু সহযোগিতা করে।
৭) Skill Test পরীক্ষাঃ
HRD Korea এর তত্ত্বাবধানে হয়, BOESL শুধু সহযোগিতা করে।
৮) UBT পরীক্ষার রেজাল্টঃ
HRD Korea এর Website এ প্রকাশ করে। কোরিয়া থেকে ডাটা পাঠালে BOESL প্রকাশ করে।
৯) রোস্টার ভুক্তিঃ
BOESL কর্মী থেকে জব এপ্লিকেশন নিয়ে EPS কর্মীর সকল তথ্য কোরিয়ার মূল সার্ভারে আপলোড করে। HRD Korea তথ্য যাচাই-বাছাই করে রোষ্টার ভুক্ত করে থাকে। রোস্টারের মেয়াদ: ১ বছর + ১বছর =২বছর।
(বাংলাদেশসহ ১৭ দেশের জন্য একই নিয়ম।)
১০) EPS কর্মীর জব এপ্লিকেশন/ ফাইল পাঠানোঃ
কোরিয়ান মালিকরা নদোংবো/ জব সেন্টার থেকে কর্মী নিয়োগে প্রথম দেশ সিলেক্ট করেন। তারপর সে দেশ থেকে রেনডম পদ্ধতিতে ১ জনের বিপরীতে ৩ জনের জব এপ্লিকেশন/ ফাইল পান। সেখান থেকে নিয়োগ কর্তা/ মালিক কনফার্ম করেন।
১১) চূড়ান্ত প্রক্রিয়াঃ
প্রশিক্ষণঃ সিলেক্টেড প্রার্থীদের ১০ দিনের প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার - BKTTC তে হয়। ট্রেনিং শেষে সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকে।
ভিসা প্রসেসিংঃ BOESL করে থাকে।
৩ দিনের অনলাইন প্রশিক্ষণ BOESL করে থাকে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা হোটেলে থাকা অবস্থায় BOESL এর মাধ্যমে করানো হয়।
১২) কোরিয়া প্রবেশঃ ফাইনালি EPS কর্মী কোরিয়া প্রবেশ করে থাকে।
১৩) কোরিয়ায় প্রবেশের পরঃ K Biz সেন্টারের প্রতিনিধি এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করে K Biz সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা অবস্থায় মেডিক্যাল করানো হয়। ফাইনালি K Biz সেন্টার থেকে কোরিয়ান কোম্পানির মালিক বা তার প্রতিনিধি এসে EPS কর্মীকে নিয়ে যায়।
**EPS কর্মীদের পারফরম্যান্সঃ
২০২২ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৬,০০০+ কর্মী দক্ষিণ কোরিয়া গিয়েছিলো।
**EPS কর্মীদের চাহিদা হ্রাসঃ
অনেক কর্মীর কোম্পানি পরিবর্তন, মালিকের সাথে খারাপ আচরণ, কোরিয়ার খাবার, কোরিয়ান কালচারে অভ্যস্ত না হওয়া এবং কোরিয়ান মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণে মালিকদের সাথে EPS কর্মীদের মধ্যে খারাপ সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে বেশির ভাগ মালিক বাংলাদেশি কর্মী নিতে অনীহা প্রকাশ করে—ফলে চাহিদা কমে গিয়েছে।
সতর্কতাঃ
ভিত্তিহীন অভিযোগ, আন্দোলন ও বিশৃঙ্খলা করলে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশ থেকে EPS কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে।
**আমাদের দেশের হাজার হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎ EPS এর উপর নির্ভর করছে। তাই সঠিক তথ্য জানা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরী।
উপসংহারঃ
EPS সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, অটোমেটেড ও আন্তর্জাতিক নিয়মে পরিচালিত হয়। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ। তাই সঠিক তথ্য জানুন, অন্যদের জানাতে সাহায্য করুন এবং EPS কে সম্মান করুন।।
28/12/2025
06/12/2025
05/12/2025
08/11/2025
25/10/2025