06/07/2025
বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এমন এক সত্তার সন্ধান পেয়েছেন যা আমাদের চেনা জীবন আর জড়তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে। নাম Sukunaarchaeum mirabile। নামকরণ করা হয়েছে জাপানি পুরাণের এক ক্ষুদ্র দেবতার নামে।
এই সত্তাটির বৈশিষ্ট্য কিছুটা ভাইরাসের মতো। কিছু জৈবিক কার্যকলাপ হোস্টের ওপর ছেড়ে দেয়। তবে Sukunaarchaeum নিজের রাইবোসোম ও মেসেঞ্জার RNA তৈরির ক্ষমতা রাখে—যা ভাইরাসে দেখা যায় না। এবং পার্থক্যটা এখানেই।
এই অদ্ভুত সত্তার জিনোম মাত্র ২৩৮,০০০ বেস পেয়ার—যা এখন পর্যন্ত এই গ্রুপের (আর্কিয়া) মধ্যে সবচেয়ে ছোট। তুলনামূলকভাবে আর্কিয়া গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের জিনোম প্রায় দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বড়।
এত কম জিনগত উপাদান থাকা সত্ত্বেও Sukunaarchaeum নিজে DNA রিপ্লিকেশন, ট্রান্সক্রিপশন ও ট্রান্সলেশন করতে পারে। তবে বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত, ফলে এটি হোস্টের ওপর নির্ভরশীল।
এই অদ্ভুত সত্তার খোঁজ পাওয়া গেছে সমুদ্রের একধরনের প্ল্যাঙ্কটনের জিন বিশ্লেষণ করতে গিয়ে। গবেষকরা নিশ্চিত করেন এটি Archaea নামের এক প্রাচীন জীবগোষ্ঠীর সদস্য। এই গোষ্ঠী থেকেই একসময় উদ্ভব হয়েছিল ইউক্যারিওটিক কোষ।
এই সত্তার আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের বাধ্য করছে জীবন সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে। এ থেকে বোঝা যায় ভাইরাস ও কোষীয় জীবনের মধ্যকার সীমারেখা আসলে অনেক বেশি জটিল।
গবেষকদের মতে এমন symbiotic system বা পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ক নিয়ে আরও গবেষণা চললে আমরা আরও অদ্ভুত সত্তার দেখা পেতে পারি। যারা হয়তো কোষীয় বিবর্তনের ইতিহাস ও আজকের জীবনের সংজ্ঞাকেই বদলে দেবে। (বিজ্ঞান্বেষী)
সূত্র: bioRxiv , Science | AAAs