27/08/2024
দাদুমনি যখন গল্পটা বলছিলেন, তখন সবার মনে উত্তেজনা বাড়ছিল। ঘরের মোমের আলো, বাইরে বৃষ্টির আওয়াজ, আর মাঝে মাঝে বাজ পড়ার শব্দ যেন আমাদের চারপাশে একটা রহস্যময় পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল।
দাদুমনি থেমে গিয়ে এক মুহূর্তের জন্য আমাদের দিকে তাকালেন, যেন আমাদের প্রতিক্রিয়া পরখ করছেন। তারপর তিনি ধীরে ধীরে আবার বলার শুরু করলেন...
"তখনই আমি সেই বাড়ির দিকে তাকালাম, আর মনে হলো যেন বাড়িটা আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ সরাতে পারছিলাম না। বাড়িটার জানালায় যেন কারও একটা সাদা ছায়া দেখতে পেলাম। আমি প্রথমে ভাবলাম হয়তো এটা আমার কল্পনা, কিন্তু বারবার তাকিয়ে দেখলাম, সেটা কল্পনা ছিল না। সে সময় মনের মধ্যে একটা ভয় ঢুকে গেল, কিন্তু একই সাথে একটা কৌতূহলও কাজ করছিল।
আমি কলেজে গিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারছিলাম না। সেই বাড়ির ছায়াটা আমার মাথায় ঘুরছিল। ছুটি হওয়ার পর আমি আর অপেক্ষা করলাম না। সোজা সেই বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগলাম। বাড়িটার সামনে পৌঁছে গিয়ে দেখলাম দরজাটা হালকা খোলা। সাহস করে দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকে গেলাম।
---
"যখন দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম, তখন একটা ঠান্ডা বাতাস আমার মুখে আছড়ে পড়ল। ভেতরের পরিবেশ ছিল অস্বাভাবিক শান্ত, যেন সময় থমকে গেছে। চারপাশে তাকিয়ে দেখি, ধুলো জমে আছে, এবং দেয়ালের উপর ফাটল ধরেছে। হঠাৎ করেই, আমার পেছনে কিছু একটা নড়াচড়ার শব্দ হলো। আমি ভয়ে পিছনে ঘুরে তাকালাম, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলাম না।
তবে এই অনুভূতি ছিল খুবই অদ্ভুত—যেন কেউ আমার ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে। আমি কাঁপতে কাঁপতে আয়নার সামনে পৌঁছালাম। আয়নার উপর জমে থাকা ধুলো পরিষ্কার করে যখন নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে চাইলাম, তখন দেখি সেখানে আমার জায়গায় অন্য কারও মুখ! সেই মুখটা ছিল সাদা, চোখের চারপাশে কালো দাগ, আর মুখটা ছিল অস্বাভাবিকভাবে বিকৃত।
আমার মনে হলো, মুখটা যেন আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছে, কিন্তু তার মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছিল না। হঠাৎ করেই সেই মুখটা ভয়ানকভাবে চিৎকার করল, আর আমি আর কিছু বুঝে ওঠার আগেই অন্ধকারে তলিয়ে গেলাম।
যখন আমার জ্ঞান ফিরল, তখন আমি দেখলাম আমি বাড়ির বাইরে শুয়ে আছি। আমার বন্ধুরা আমাকে খুঁজতে এসে দেখেছে, আর আমাকে বাইরে নিয়ে এসেছে। আমি তখন বুঝতে পারলাম, সেই বাড়িটা কেবল একটা পুরানো বাড়ি নয়—ওখানে কোনো এক অশুভ আত্মা বাস করে, যা কারও অপেক্ষায় ছিল। তারপর থেকে আমি কখনোই সেই বাড়ির দিকে আর ফিরে তাকাইনি।"
তারপর থেকে আমার মনে হয়েছে, কিছু জায়গা অশুভ।"
দাদুমনির গল্প শুনে আমরা সবাই নীরব হয়ে গেলাম। ঝড়ের শব্দ যেন আরও জোরালো হয়ে উঠল, আর মোমের আলোতে আমাদের নিজেদের প্রতিচ্ছবি যেন একটু ভীতিকর মনে হচ্ছিল। গল্পের মধ্যে হারিয়ে গিয়ে আমরা একে অপরের দিকে তাকালাম। ভয়ের অনুভূতিটা ধীরে ধীরে আমাদের মনে ছেয়ে গেল, এবং সেই রাতে আর কেউ ভূতের গল্প করার সাহস করল না।