Microbes BD

Microbes BD

Share

MICROBES BD.DISCOVER THE INVISIBLE WORLD.

04/10/2022

মাক্রোবিয়াল বিনোদন

"মাক্রোবিয়াল বিনোদন" কথাটি শুনেই কেমন অন্যরকম মনে হচ্ছে তাই না??
আসলে অবাক হওয়ার কিছু নাই। আমরা যারা মাইক্রোবাইয়োলজি পড়ি বা যারা পড়ান তাদের অনেকেই জানেন যে মাইক্রোবায়োলজিতেও কিছু মজার মজার বিষয় আছে যেগুলো বিনোদনের খোরাক যোগায়।
চলুন জেনে নেই কিছু ওয়েবসাইটের নাম যেগুলো বিনোদনের মাধ্যম তো বটেই পাশাপাশি মাইক্রোবায়োলজিকে সম্পৃক্ত করেছে তাদের সাথে যারা ভালবাসে মিউজিক,আর্ট,কমিকস্ বা কোনো গেমে মত্ত থাকতে।

১. মিউজিকঃ
Food Safty Music নামের ওয়েব সাইটটিতে আছে সব ধরনের Food born pathogens নিয়ে গান,আর সাথে কিছু animation ও যুক্ত করা আছে যেগুলো খুবই মজার।
আবার Youtube এ আছে A-Z Epidemiology নামে একটি ফানি ভিডিও। বোরিং থাকলে এখনই একটা গান শুনে আসুন।

২.Funny decorationঃ
ভাবছেন মাইক্রোবস্ দিয়ে আবার Decoration হয় কেমনে??
তাহলে শুনুন Giantmicrobes নামের ওয়েবসাইটটিতে ঢু মারলেই দেখা মিলবে হরেক রকমের খেলনা (টয়) পুতুল, যেগুলোর সব তৈরী হয়েছে কোন না কোনো পরিচিত Pathogen এর আকার- আকৃতি দিয়ে।চাইলে ঘর বা অফিস সাজাতে পারেন, আবার যেকোনো সময় জড়িয়ে ধরে আদরও করতে পারেন।
অন্তত ল্যাবে তো জড়িয়ে ধরতে পারেন না তাইনা??

৩. কমিক্সঃ
যখন একটু বেশিই হাসির দরকার তখন ঘুরে আসতে পারেন Cartoon stock অথবা Microbiology and cells এইদুটি সাইট থেকে। আশা করি আপনাকে হাসিয়েই ছাড়বে এরা। বিশেষ করে যারা কমিক্স ভালবাসেন তাদের জন্য আরো অনেক সাইট থাকলেও এই দুটি Best.

৪.আর্টঃ
আর্ট কার না ভাল লাগে তাও যদি আবার তৈরী করে Microorganism তাহলে তো কথাই নেই! তেমনি একটি আকর্ষনীয় সাইটের নাম হলো Microbial Art ।এটি আপনাকে পরিচয় করাবে সত্যিকার কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের কালচার প্লেটের শৈল্পিক কারুকার্যের সাথে। যা দেখলে আপনারও মনে হবে আমি কবে এমন শৈল্পিক প্লেট বানাব !!

৫.গেইমঃ
মজার বিষয় হলো যা নিয়ে পড়ছি তা নিয়েই গেইম।যারা গেইম পাগল তাদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতায় বটে।
Pandemic 2 একটি চমৎকার গেইম যা দিয়ে আপনি নিজের মত করে Microbes দের Grow করে মানুষর উপর Attack করাতে পারবেন। বলতে গেলে আপনিই পরিকল্পিত ভাবে আপনাকেই আক্রমণ করবেন, ক্রিমিনলি হচ্ছে কী ?
আরেকটি ফানি গেইম হলো Microbe Kombat,এটাতে আপনি খেয়ে-দেয়ে বড় ও শক্তিশালী হয়ে রোগ সৃষ্টিকারী Microbes দের সাথে যুদ্ধ করতে পারবেন।আমরা জানি মাত্র ৫% অনুজীব রোগ ছড়ানোর জন্য দায়ী (কিন্তু এদের জালাতনেই কাহিল আমরা )। না হয় Gaiming এর মাধ্যমেই দমন করবেন এদের! বিষটা সিরিয়াস হলেও মজাদার।
এখন অাপনি Funded Virology Researcher তাই গনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার খরচ ও উপকারীতা সম্পর্কে অবশ্যই আপনার ধারনা থাকতে হবে।এমন ধারনা দিতেই উদ্ভব ঘটেছে একটি গেইমের। কী অবাক লাগছে?
এই গেইমের নাম হলো The Great Flu. এর মাধ্যমে পৃথিবীব্যাপী ছড়ানো একটি ভাইরাসকে কীভাবে Control করবেন, কোন কোন অবস্থায় আপনার Fund ব্যবহার করবেন, এসব বিষয়ে ধারনা পাবেন।

&_Love_Microbiology.

মো: হাসিবুর রহমান
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ,জবি

SourceঃReview of: A Selected Set of Non-Technical Online Microbial Resources. by: Heather M. Seitz

04/10/2022

Our first inspiration comes from our honorable teacher Professor Dr. Zakaria Mia.So Microbes BD team are greatly thankfull to you Sir for your great appreciation......

04/10/2022

"এ কেমন নাম!!"

এমন কিছু ইনফেকশন সৃষ্টিকারী রোগের সাধারন নাম সম্পর্কে আমরা এখন জানব যাদের নামের সাথে তাদের বৈজ্ঞানিক নাম বা রোগ সৃষ্টির কারনের (Etiology) মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই। এই রোগের নাম গুলো সত্যিই অনেক মজার ও অদ্ভুত...

১.Darling disease:
না না খালি প্রিয়তমার রোগ নয়, হতে পারে সবার। হ্যা Histoplasmosis
একধরনের ফুসফুস ইনফেকশন যা Histoplasma capsulatum নামক ছত্রাকের আক্রমনে হয়ে থাকে। এই Histoplasmosis কেই Darling Disease বলা হয়।

২. Kissing Disease (চুম্মন রোগ)ঃ
এ কেমন নাম রে বাবা!!! যা হোক Epstein–Barr virus (EBV) এক ধরনের ইনফেকশন ঘটায় যাকে Infectious mononucleosis বলা হয়। অধিকাংশ সময় এই রোগটি Saliva বা লালার মাধ্যমে ছড়ায় বলে এর নাম Kissing Disease.

৩.Farmer’s lung disease (FLD):
এটি এক ধরনের ফুসফুস প্রদাহ যা শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ধুলাবালির সাথে Mold Spore গ্রহন করলে হয়ে থাকে। হতে পারে সবার খালি খালি কৃষকদের রোগ বলার কী হলো বুঝলাম না!!!

৪.Rose Gardner’s disease:
Sporotrichosis মূলত ছত্রাকজনিত রোগ যা স্কিনে আক্রমন করে। এ রোগটির জন্য দায়ী Sporothrix schenckiii নামক ছত্রাক।

৫.Fifth Disease(পঞ্চম রোগ):
Erythema infectiosum এই রোগটিকেই বলা হয় পঞ্চম রোগ বা Fifth Disease.এটি মূলত মানুষের প্যাপিলোমা ভাইরাস ইনফেকশন বি১৯ এর একটি সাধারন প্রাদুর্ভাব। শিশুদের চামড়ায় ফসকুরি সৃষ্টিকারী পাঁচটি রোগের লক্ষণকে একত্র করে বলতেই এই 'পঞ্চম রোগ' নামের উদ্ভব। আবার
ষষ্ঠ রোগ বা Sixth disease ও কিন্তু আছে।
মনে হয় আর নাম ছিল না দুনিয়ায়!!

৬.Chicken pox:
পরিচিত একটি রোগের নাম। কিন্তু মজার বিষয় হলো এই রোগের সাথে Chicken (মুরগি) ও Pox viruse এর লেশমাত্র সম্পর্ক নাই। এটি Varicella zoster virus এর অাক্রমনে সৃষ্টি হওয়া একটি বিশেষ ছোয়াচে রোগ।

আপনিও যদি এমন কোন মজাদার-অদ্ভুত রোগের নাম জেনে থাকেন তাহলে শেয়ার করতে পারেন আমাদের সাথে,আমরা আপনার দেওয়া রোগের নাম এই লিস্টে যুক্ত করব।

MicrobeOnline অবলম্বনে
মোঃ হাসিবুর রহমান
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জবি।

04/10/2022

মাইক্রোবায়োলজি কি ?

আপনি কি কখনো চিন্তা করেছেন- পুচকে ব্যাকটেরিয়াগুলো, বিশালদেহী মানুষ, প্রানী কিংবা বড় বড় উদ্ভিদগুলোকে খেয়ে ফেলতে পারে?
যদি সত্যিই খেয়ে ফেলে, তাহলে এর পিছনে অবশ্যই একটা রহস্য আছে। আর এর রহস্যটাই হল মাইক্রোবায়োলজি বা অনুজীববিজ্ঞান।
মাইক্রোবায়োলজি বা অনুজীববিজ্ঞান হল বিজ্ঞানের এমনই একটি শাখা, যেখানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুজীব (ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, শৈবাল, ছত্রাক ইত্যাদি) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
প্রকৃতিতে তাদের বিস্তৃতি, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, অন্য প্রানীদের সাথে সম্পর্ক, মানুষ প্রানী এবং উদ্ভিদের উপর তাদের প্রভাব, পরিবেশে ভৌত ও রাসায়নিক এজেন্টদের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া- ইত্যাদি সবকিছু জানার নামই হল মাইক্রোবায়োলজি বা অনুীববিজ্ঞান।
মুলত অনুজীব থেকে ভ্যাক্সিন ও অ্যান্টিবায়োটিক, প্রোটিন, ভিটামিন ও বিভিন্ন এনজাইম তৈরীর পদ্ধতি জানা,আবার কোন্ সংক্রামক রোগ কোন্ জীবাণুর আক্রমনে হয়, কিভাবে এরা জীবদেহে রোগ সৃষ্টি করে, কিভাবে এরা মৃতদেহ পচিয়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে,এরা কিভাবে খাবারে পচন ধরায় বা খাবার নষ্ট করে, এবং কোন খাবারকে কিভাবে জীবাণুর আক্রমন থেকে রক্ষা করা হয় এসব কিছু জানার নামই হল অনুজীববিজ্ঞান।
সারা বিশ্বে অনুজীদের সংখ্যা হল – ৫X(১০^৩০) টি বা ৫,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০টি। কথায় বললে – ৫ মিলিয়ন ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন। অর্থাৎ এই অনুজীবরাই গোটা পৃথিবীকে ঢেকে রেখেছে। যেমন এরা ছড়িয়ে আছে বাতাসে, নদীতে, পুকুরে, মাটিতে, বৃক্ষ-বনে। আপনার হাতে পায়ে নাকে চুলে, ফুসফুস-পাকস্থলী তথা আপনার শরীরের স্কিনের ভিতরে ও বাইরে সর্বত্র এদের আধিপত্য। এমনকি আপনার কাপড়ে, মানিব্যাগে, টাকার গায়ে, এটিএম বুথ কার্ডেও এদের রাজত্য।
কি! আশ্চর্য কিংবা রহস্যময় মনে হচ্ছে নিশ্চয়??
এই রহস্যের অনুজীবজগতে হারিয়ে যাওয়ার নামই হল অনুজীববিজ্ঞান ।
তাই অনুজীববিজ্ঞান মানেই ভালোবাসুন অদেখা কিছুকে.........

04/10/2022

.............ব্যাকটেরিয়ার কাজ কারবার...........

অণুজীব বা মাইক্রোঅর্গানিসম বলতেই প্রথমে ব্যাক্টেরিয়ায়ার নাম মনে আসে,তাইনা? অণুজীব জগতের অধিকাংশ জুড়েই আছে ব্যাক্টেরিয়া,যা তুমি খালি চোখে দেখতে পাচ্ছো না,কিন্তু তোমাতেই তার বসবাস।
ঠিক তাই, মানবদেহ হচ্ছে ব্যাক্টেরিয়ার প্রাকৃতিক আবাদভূমি।এই অণুজীব নরমাল ফ্লোরা হিসেবে ত্বক,চোখ,মুখ,নাক,শ্বাসনালী,পাকস্থলি,অন্ত্র -দেহের সর্বত্র বিরাজমান।কখনো ভেবেছো,আমাদের দেহকোষের সংখ্যার দশগুণ ব্যাক্টেরিয়া নিয়ে আমরা চলছি? আমাদেরকে রোগ থেকে বাঁচাতে তারা প্রতিনিয়ত ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছে,আমরা কখনো বুঝতেই পারিনা।
মানুষের অন্ত্রের ভিতরে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া আছে উদাহরণ স্বরূপ-Escherichia coli,Lactobacillus,Bifidobacterium,Methanogenes,তারা খাবারকে হজম করতে, ভিটামিন তৈরি করতে,সেরাম কোলেস্টেরল কমাতে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করে।Bifidobacterium ব্যাকটেরিয়া ডায়রিয়া, আলসারী কোলাইটিস, অ্যাটোপিক অ্যাকজিমা, ছত্রাক সংক্রমণ এবং Bowel Syndrome এর চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে।
জানোই তো, ব্যাক্টেরিয়ার কারণে আমাদের কত রোগে ভুগতে হচ্ছে।ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের কমন উদাহরণগুলো- টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার (Clostridium tetani), যক্ষা(Mycobacterium tuberculosis),টাইফয়েড(Salmonella Typhi),নিউমোনিয়া(Streptococcus pnneumoniae) এবংEscherichia coli এর কারণে ডায়রিয়া, শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতা, মূত্রনালীর সংক্রমণের কারণ হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া সরাসরি একজন অসুস্থ বা বাহক ব্যক্তির থেকে অন্য ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, তার রক্ত,স্পর্শ,হাচি,কাশির মাধ্যমে অন্যকে আক্রান্ত করতে পারে অথবা খাদ্য, জল, বা বস্তুর মাধ্যমেও ব্যাক্টেরিয়া পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এছাড়াও আমদের নিত্যদিনের জীবনযাপনে ব্যাক্টেরিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে,তা আমরা দেখতেই পাচ্ছি।এরা আমাদের উপকার ও ক্ষতিসাধন একসাথেই করছে।
আমাদের বেঁচে থাকার প্রধান উপাদান খাদ্য বা বিভিন্ন রকমের খাবার-যার মাঝে ব্যাক্টেরিয়া সুযোগ পেলেই জন্মাতে চায়।খাদ্যের গুণাগুণ বা পুষ্টিকর উপাদান নষ্ট করা থেকে শুরু করে নানা স্বাদের খাদ্য তৈরিতে ব্যাক্টেরিয়ার প্রধান ভূমিকা আছে।
ব্যাক্টেরিয়ার সাহায্যে অনেক খাবার উৎপাদন সম্ভব।যেমন,চিজ,দই,বাটার-দুগ্ধজাত খাবারগুলো Lactobacillus bulgaricus, Streptococcus thermophilus, Lactococcus lactis subsp. lactis.ব্যাক্টেরিয়ার দ্বারা ফারমেন্টেশন বা গাঁজন করে তৈরি হয়।এরা দুধের শর্করা ল্যাক্টোজকে ল্যাকটিক এসিডে পরিণত করে।ফারমেন্টেশন পি-এইচ হ্রাস করে প্রোটিনকে জমাট বাঁধে একইসাথে গন্ধ ও স্বাদ প্রদান করে।
কফি,চকলেট তৈরিতে Acetobacter aceti,Acetobacter fabarum,Leuconostoc spp.,Lactobacillus spp. ব্যবহৃত হচ্ছে।সয়া বীজ ও চালের মিশ্রণকে বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়ার সাহায্যে ফারমেন্টেশন করে সয়া সস তৈরি করা হয়।
বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়া দেহে ইনফেকশন করছে,খাবারে বিষাক্ত উপাদান সৃষ্টি করছে,যেমন,Clostridium botulinum,Staphylococcus aureus,Salmonella,Shigella,Escherichia coli,Listeria monocytogenes,
Bacillus cereus,Yersinia enterocolitica –আরো অসংখ্য ব্যাক্টেরিয়া।যার ফলে আমরা প্রায়ই ডায়রিয়া,বমি বা বমির ভাব,ব্যথা-রোগের লক্ষ দেখতে পাই।
আমরা জানি,বর্তমানে ব্যাক্টেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসায় প্রচুর এন্টিবায়োটিক ব্যবহৃত হচ্ছে।অধিকাংশ এন্টিবায়োটিকের মূল উপাদান হলো একটি নির্দিষ্ট রোগের জন্য দায়ী নির্দিষ্ট ব্যাক্টেরিয়ার মৃত বা নিষ্ক্রিয় কোষ।Streptomyces spp.,Bacillus spp. Neomycin, Chloramphenicol, Cypemycin,Teracycline,Lincomycin সহ অনেক এন্টিবায়োটিকের উৎস।
ডায়াবেটিস রোগীদের প্রয়োজনে রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ টেকনোলজিতে ইনসুলিন উৎপাদনে ব্যাকটেরিয়াল প্লাজমিড ব্যবহৃত হচ্ছে।এটি ব্যাক্টেরিয়ার উপকারিতার অন্যতম মাইলফলক।
ব্যাক্টেরিয়া যেমন আমাদের দেহের উপকারে ভূমিকা রাখছে তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রাখতেও সাহায্য করছে।নাইট্রোজেন ফিক্সিং ব্যাক্টেরিয়া,যেমন-Azotobacter,Rhizobium,Clostridium মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক গ্রীন হাউস গ্যাসগুলির মধ্যে একটি, মিথেন যা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য এবং সমস্ত ধরণের শিল্প ও প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া দ্বারা উৎপাদিত হয়। কিছু ধরণের ব্যাকটেরিয়া পরিবেশ থেকে তামার ব্যবহার করে মিথেনের সাথে বিক্রিয়া করে, গ্রীন হাউস গ্যাস এবং বিষাক্ত ভারী ধাতু উভয়ই একযোগে নির্মূল করে।সালফার রিডিউসিং ব্যাক্টেরিয়া,Proteus spp.,Pseudomonas,Campylobacter পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এসিড বৃষ্টির হার হ্রাস করে।এছাড়াও বিয়োজক হিসেবে পরিবেশের বর্জ্য কমাতে সাহায্য করছে।
ব্যাক্টেরিয়া্র সাথে আমরা ও পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কে আবদ্ধ।অপকারী দিক প্রতিরোধের উপায় সন্ধানের সাথে জীবনযাপনের উপাদানসমূহে ব্যাক্টেরিয়ার ব্যবহার বাড়ানো উচিত।

সাদিয়া আখতার
মাইক্রোবায়োলোজি বিভাগ,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

04/10/2022

"মহাবিশ্বের শক্তিশালী প্রাণ"

যখন তুমি তোমার চারপাশে তাকাও তখন কী দেখ? নিশ্চয় বিভিন্ন ধরনের গাছ-পালা, পশু-পাখি সহ আরো কত কিছু তাই না! কিন্তু কখনো কি ভেবেছ যে এগুলোর বাইরেও কত-শত জীব আছে যেগুলো আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না!
বিজ্ঞানীরা বহু বছর আগে ভাবতো যে, পৃথিবীতে শুধু এই দৃশ্যমান প্রাণগুলোরই অস্তিত্ব বিরাজমান, কিন্তু তাদের ধারনা ভেঙ্গে যায় ১৬৬৫-৮৩ সালের গবেষনায়। এ সময়ই আবিষ্কৃত হয় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণ 'অনুজীব'।
আরো অবাক করার বিষয়টি হলো এই অনুজীব গুলোর সংখ্যাই পৃথিবীর সকল অস্তিত্বমান প্রাণের তিন ভাগের দুইভাগ।

আর এরাই তৈরি করেছে এক অদৃশ্য 'অনুপৃথিবী',এক অদৃশ্য রহস্যের।

মোঃ হাসিবুর রহমান
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জবি।

04/10/2022

**কলেরা(Cholera)**

ভিব্রিও কলেরী (Vibrio cholerae) নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এই রোগটি হয়ে থাকে। মানব শরীরে সংক্রমণের প্রধান বাহক হচ্ছে দৈনন্দিন পানীয় জল এবং খাবার।

সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। পয়ঃপ্রণালীর সুষ্ঠ ব্যবস্থার অভাবে আক্রান্ত রোগীর মল যেকোনো ভাবে খাবার ও পানির সংস্পর্শে এসে এগুলোকে দূষিত করে। পরবর্তীতে উক্ত খাবার ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে কলেরার জীবাণু সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে এবং আক্রান্ত করে। সাধারণত যে কোন পরিবেশেই কলেরা জীবাণু দীর্ঘদিন পর্যন্ত আরামছেই বেঁচে থাকতে পারে।

উনিশ শতকের মধ্য ভাগে গাঙ্গেয় বদ্বীপ এলাকায় কলেরা মহামারী আকার ধারণ করে, আর এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ মারা যেত। এ বিষয়ে 'জহির রায়হান' এর "হাজার বছর ধরে" উপন্যাসে এমন কথা উল্লেখ রয়েছে যে; ওলাবিবি, বসন্ত বিবি ও যক্ষা বিবি ছিলো তিন বোন। এদের মধ্যে ওলাবিবি যাকে বলা হচ্ছে সেটিই আসলে কলেরা,যা ’ওলাউঠা’ নামেও অভিহিত ছিল। গাঁও গেরামে যা হয়, কলেরা বসন্তের মড়ক লাগলে উজাড় হয়ে যায় শতশত ঘর মানুষ। ডাক্তার না দেখিয়ে টুকটাক গলায় তাবিজ ঝুলিয়েই চলতো তখনকার কলেরার চিকিৎসা।

কলেরা জীবাণু যা খাবার এবং পানির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশের পর ক্ষুদ্রন্ত্রের গায়ে লেগে যায় এবং সংখ্যায় দ্রুত বাড়তে থাকে। এ সময় জীবাণু বিষ (Enterotoxin) উৎপন্ন করে, পরবর্তীতে যার জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রোগীর প্রচুর পাতলা পায়খানা হয়ে থাকে।
প্রাথমিকভাবে কলেরা রোগে দেহ প্রচুর তরল পদার্থ ও ইলেকট্রোলাইটস (Electrolytes) হারিয়ে পানিশূন্য (Dehydrate) হয়ে পড়ে। এভাবে একদিনেই রোগীর দেহ থেকে প্রায় ২০ লিটার এর মতো তরল পদার্থ (মল) বেরিয়ে যেতে পারে।

পানিশূন্যতা নিয়ন্ত্রণে রোগীর রক্তনালীর মধ্যে তরল প্রবেশ করানোর পাশাপাশি মুখে খাবার স্যালাইন (Oral Rehydration Solution) ও তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়ে থাকে। তাছাড়া এর টিকা(Vaccine) আবিষ্কারের দরুন কলেরা নিয়ন্ত্রণ সম্ভবপর হয়েছে।

কলেরা প্রতিকার ও প্রতিরোধে ১৯৬০ সালে 'বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র' (আইসিডিডিআরবি) প্রতিষ্ঠিত হয়(আন্তর্জাতিক মর্যাদা লাভ ১৯৭৮ সালে), যা কলেরা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রেখেছে। এই প্রতিষ্ঠানের গবেষক এবং বিজ্ঞানী ডা. রফিকুল ইসলাম ওরস্যালাইন এর আবিষ্কারক, যা তিনি কলেরা চিকিৎসায় প্রয়োগ করেন এবং আশানুরূপ ফল পান। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার এবং ১৯৮০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার আবিষ্কৃত ওরস্যালাইনকেই স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে দেশি এনজিও ব্র্যাক এই ওরস্যালাইনকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়, যা এদেশে কলেরা নিরাময়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেছে।

মো: মোস্তাক আহমেদ
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, জবি।

রেফারেন্স:(বিবিসি নিউজ,উইকিপিডিয়া,বাংলাপিডিয়া, এনটিবি নিউজ,ডেইলি আমাদের সময়)

04/10/2022

অ্যান্টিবায়োটিক জিনিসটা আসলে কী জিনিস, আর কী ভাবেই দেহের ভেতর কাজ করে এই অ্যান্টিবায়োটিক কখনও ভেবে দেখেছেন? প্রথমেই এটা বলে নেওয়া ভাল যে এই অ্যান্টিবায়োটিক সম্বন্ধে বহুল প্রচলিত একটা ভুল ধারণা আছে অনেকের মধ্যেই- যে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্য যেকোনও পরজীবীর সংক্রমণ রুখে দিতে যে ঔষধ ব্যবহার করা হয় সেটাই হল "অ্যান্টিবায়োটিক"। আসলে ঘটনাটা কিন্তু তা নয়, অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র এককোষী ব্যাকটেরিয়াদেরকে ধ্বংস করে সংক্রমন রোধ করতে সক্ষম। অল্প কিছু ক্ষেত্রে প্রোটোজোয়াদের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হলেও ভাইরাস বা অন্যান্য পরজীবীর সংক্রমণ রোধ করতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে তার কোনও ফলই পাওয়া যাবে না।
এখন আসা যাক এই অ্যান্টিবায়োটিকের সূচনালগ্নের কথায়, কী ভাবে আমরা এই অ্যান্টিবায়োটিক্সের সন্ধান পেলাম? ১৯২৮ সালে স্কটল্যান্ডের বিজ্ঞানী স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং প্রথম লক্ষ্য করলেন, পেনিসিলিয়াম গোত্রের ছত্রাক "পেনিসিলিয়াম রুবেসেন্স" বিশেষ এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ নিঃসরণ করে যার প্রভাবে ব্যাকটেরিয়ারা আর বাড়তে পারে না এবং ব্যাকটেরিয়াদের কোষের মৃত্যু হয়। পেনিসিলিয়াম ছত্রাক থেকে বেরিয়ে আসা ওই বিশেষ যৌগটিরই তিনি নাম দিলেন- "পেনিসিলিন"। ১৯২৯ সালে তাঁর গবেষণাপত্রটি "ব্রিটিশ জার্নাল অফ এক্সপেরিমেন্টাল প্যাথোলজি"তে প্রকাশিত হলো। ১৯৪৫ সালে তাঁর এই অসামান্য অবদানের জন্যে তাঁকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়।
কিন্তু আসলে কী ভাবে ব্যাকটেরিয়াদের ধ্বংস করে পেনিসিলিন এটা জানতে অপেক্ষা করতে হল আরও কয়েক দশক। ব্যাকটেরিয়াদের কোষের আকার স্বভাবতই আমাদের কোষের তুলনায় অনেক অনেক গুণ ছোট। ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই সকল ব্যাকটেরিয়া কোষের দৈর্ঘ্য এক মিলিমিটারেরও এক হাজার ভাগের এক ভাগ মাত্র। কিন্তু সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে তাদের অনেক বেশি লড়াই করতে হয়েছে বেঁচে থাকার জন্য এ কারনে ব্যাকটেরিয়াদের কোষের গঠন আমাদের কোষের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত। আমাদের কোষের মতোই ব্যাকটেরিয়ার কোষ আর কোষরসকে ঘিরে ফসফোলিপিড দিয়ে বানানো একটি আস্তরণ আছে যাকে "অন্তর্বর্তী কোষ পর্দা" বলা হয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে নিজেদের বাঁচাতে ব্যাকটেরিয়ার কোষের বাইরে আরও দুইটি প্রতিরক্ষা বলয় আছে। অন্তর্বর্তী কোষপর্দার ঠিক বাইরে থাকে কোষপ্রাচীরের একটি সুদৃঢ় আবরণ আর শেষে থাকে বাহ্যিক কোষপর্দার আরও একটি আস্তরণ। তবে হ্যাঁ, সব ব্যাকটেরিয়ার কোষের বাইরের দিকে বাহ্যিক কোষপর্দার আস্তরণটা থাকে না। "গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া" দের কোষের বাইরের দিকটায় সাধারণত এই বাহ্যিক কোষপর্দার আস্তরণটা থাকে না তবে "গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া"দের বাইরের দিকটায় কিন্তু বাহ্যিক কোষপর্দার আস্তরণটা থাকে| শুধুমাত্র ওই আস্তরণটার জন্যেই "গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া" দের মেরে ফেলাটা অনেক বেশি কঠিন। আজ পর্যন্ত যত রকমের "সুপার-বাগ" বা "মাল্টি-ড্রাগ রেসিস্ট্যান্স (MDR)" এর সন্ধান মিলেছে, তাদের বেশির ভাগই "গ্রামনেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া"।

এখানে বলে রাখা ভালো কোষপ্রাচীরের কাজটা হল ব্যাকটেরিয়াদের কোষের আকৃতিটাকে রক্ষা করা আর ব্যাকটেরিয়া কোষকে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার হাত থেকে বাঁচানো। কোনওভাবে ব্যাকটেরিয়াদের এই কোষপ্রাচীর নষ্ট হয়ে গেলে ব্যাকটেরিয়ার কোষটিও নষ্ট হয়ে যায়। বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলে ‘সেল লাইসিস’। পেনিসিলিন গোত্রের অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ব্যাকটেরিয়াদের কোষের এই কোষপ্রাচীরের গঠনটাকেই ধ্বংস করে দেয় আর সেই জন্যই এই সব অ্যান্টিবায়োটিক থাকলে ব্যাকটেরিয়ারা একেবারে কুপোকাত। কিন্তু ব্যাপারটা যতটা ভাবছেন তত সহজ নয়। পৃথিবীতে প্রাণ-সৃষ্টির একদম ঊষালগ্নে আবির্ভাব ঘটেছিল ব্যাকটেরিয়ার আজ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে। নানা রকম প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করতে করতে ওদের অভিযোজন ক্ষমতা অস্বাভাবিক রকমের বেশি। বিপদে পড়লে ওরাও কিছু দিনের মধ্যেই তার থেকে বেরিয়ে আসার একটা উপায় বের করে ফেলতে পারে চটপট। পেনিসিলিনের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি।

এবার জানা যাক, পেনিসিলিনের হাত থেকে বাঁচতে কী করল ব্যাকটেরিয়ারা? পেনিসিলিন বা ওই গোত্রের যে কোনও অ্যান্টিবায়োটিকের প্রধান গঠনগত বৈশিষ্ট্য হল "বিটা-ল্যাকটাম রিং" এর উপস্থিতি। তাই ওই পেনিসিলিন গোত্রের যে কোনও অ্যান্টিবায়োটিককে "বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিক" ও বলা হয়। বুদ্ধিমান ব্যাকটেরিয়ারা তাই "বিটা-ল্যাক্টামেজ" নামে এমন একটি উৎসেচক (বিশেষ ধরণের প্রোটিন) বানিয়ে ফেললো, যা রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক্সের বিটা-ল্যাকটাম রিংটিকে ভেঙে ফেলতে সক্ষম। ফলস্বরূপ পেনিসিলিন গোত্রের অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারীতা একেবারেই নষ্ট হয়ে গেল।

তা হলে এবার উপায় কী! এই সব পেনিসিলিন গোত্রীয় অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকরীতা রুখে দিতে সক্ষম এমন "সুপার বাগ" দের সংক্রমণ কী ভাবে রোধ করা যায়? বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা উঠেপড়ে লেগে গেলেন কী ভাবে এই "বিটা-ল্যাক্টামেজ" উৎসেচকটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়! সমাধানের সূত্র মিলে গেল একটি ব্যাকটেরিয়া থেকেই। এ যেন কাঁটা দিয়েই কাঁটা তোলা। "স্ট্রেপ্টোমাইসেস ক্লাভুলিজেরাস" নামে একটি ব্যাকটেরিয়া থেকে ক্লাভুলানিক অ্যাসিড নামে একটি যৌগের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা যা ব্যাকটেরিয়ার "বিটা-ল্যাক্টামেজ" উৎসেচকটিকেই নিষ্ক্রিয় করে দেয়। তাই ক্লাভুলানিক এসিডের উপস্থিতিতে পেনিসিলিন আবার কাজ করতে শুরু করে দিল। আর এই ভাবেই "বিটা-ল্যাক্টামেজসুপার বাগ" দের আবার জব্দ করা সম্ভব হল। এই জন্যই "অ্যামোক্সিসিলিন" এর মতো ওষুধ কাজ না করলে ডাক্তাররা আমাদের "কো-অ্যামোক্সিক্লাভ" বা "অগমেনটিন" দেন যা আসলে পেনিসিলিন আর ক্লাভুলানিক এসিডেরই সমষ্টি।

তা হলে আর ভয়টা কীসের রইলো? থামেন, গল্পের শেষ কিন্তু এখানেও নয়। ব্যাকটেরিয়ারাও কিন্তু হাল ছেড়ে বসে রইল না। তারা "বিটা-ল্যাক্টামেজ" জিনের গঠনে বার বার পরিবর্তন (মিউটেশন) করিয়ে দিয়ে অ্যান্টিবায়োটিককে নানাভাবে ধোঁকা দিতে লাগল এবং আজ পর্যন্ত ধোঁকা দিয়ে চলেছে। একেবারে হালের একটি গবেষণাপত্র থেকে জানা গিয়েছে, নানা রকমের ব্যাকটেরিয়া সামগ্রিক ভাবে প্রায় ১৩০০-রও বেশি রকমের "বিটা-ল্যাক্টামেজ" তৈরি করতে পারে। অপরদিকে, বিজ্ঞানীরাও ‘বিটা-ল্যাকটাম’ (অর্থাৎ, পেনিসিলিন গোত্রের) অ্যান্টিবায়োটিকের গঠনের বার বার পরিবর্তন করে তার সক্রিয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করে চলেছেন। এইভাবেই অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যাওয়া অ্যান্টিবায়োটিককে যতটা সম্ভব বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে তাহলে এইসব "সুপার বাগ" আর বিজ্ঞানীদের এই লড়াইয়ে এখনও পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে কে? শুনতে খুব অবাক লাগলেও এটাই সত্যি ব্যাকটেরিয়ারাই কিন্তু সামান্য এগিয়ে রয়েছে। আরও অবাক হয়ে যাবেন এটা শুনলে যে এখন বাজারে চালু "বিটা-ল্যাকটাম" অ্যান্টিবায়োটিকগুলির মধ্যে সবেচেয়ে সেরা কার্বাপেনেমের বিরুদ্ধেও এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাকটেরিয়ারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে যা বিজ্ঞানীদের কাছে এখন বেশ আতঙ্কের বিষয় হয়েই দাঁড়িয়েছে। আর সে জন্যই এই সব ব্যাকটেরিয়াদের সংক্রমণ রোধ করতে আমাদের শেষ অস্ত্র কলিস্টিনেরই দ্বারস্থ হতে হয়েছে। তবে আমাদের শরীরে কলিস্টিনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া (সাইড-এফেক্টস) কিন্তু মারাত্মক। তাই প্রায় ৫০ বছর আগে এই অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধে সক্ষম হয়ে ওঠা MDR "সুপার বাগ" দের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাধ্য হয়েই আবার এই অ্যান্টিবায়োটিকটিকে নতুন রূপে ফিরিয়ে এনেছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। তবুও আজকাল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের এই "অ্যান্টিবায়োটিকের ব্রহ্মাস্ত্রের" বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে একদল ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যাকটেরিয়ারা "এমসিআর-১" নামে একটি জিনকে বদলে দিতে পারে আর সেই ভাবেই তারা নিষ্ক্রিয় করে দিচ্ছে কলিস্টিনকেও। শুধু তাই নয়, এই ব্যাকটেরিয়াদের 'ভ্রাতৃ-প্রীতি' এতটাই বেশি যে তারা এই "এমসিআর-১" জিনটিকে এক ব্যাকটেরিয়া থেকে অন্য ব্যাকটেরিয়ায় ছড়িয়েও দিতে পারছে। তাই বিজ্ঞানীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই কলিস্টিন-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা ক্রমশই বাড়তে থাকবে। আর তাই বিজ্ঞানীদের কপালের ভাঁজটা আরও গভীর হয়েছে।

এখন তাহলে উপায় কী? "সুপার বাগ" দের বিরুদ্ধে লড়াইটাকে জোরদার করে তুলতে বিজ্ঞানীরা ‘বিটা-ল্যাকটাম’ ছাড়া কম করে আরও ৫টি শ্রেণির অ্যান্টিবায়োটিকের (রাইবোজোম ইনহিবিটর্স, জায়রেজ ইনহিবিটর্স, ফোলেট সিন্থেসিস ইনহিবিটর্স, ট্রান্সক্রিপশন ইনহিবিটর্স ও আউটার মেমব্রেন পারমিয়াবিলিটি চেঞ্জ-ফ্যাক্টর্স) উৎকর্ষ বাড়িয়ে তুলতে মন দিয়েছেন। যেগুলো ব্যাকটেরিয়া কোষের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলোতে বাধা দিয়ে ব্যাকটেরিয়াদের মেরে ফেলে। সন্ধান চলছে আরও নতুন নতুন শ্রেণির অ্যান্টিবায়োটিকেরও। তবে হ্যাঁ, যতই নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক বাজারে আসুক না কেন, বার বার তাদের ব্যবহার করা হলে এক সময় কিন্তু তাকে রুখে দেওয়ার কৌশলও বের করে ফেলবে ব্যাকটেরিয়ারা।

তা হলে আমাদের কী করণীয়? "সুপার বাগ" দের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধটা পুরোপুরি জিততে হলে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে আর সবার প্রথমে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে যে শুধু আমেরিকাতেই প্রতি বছর প্রায় ৫ কোটি অনাবশ্যক অ্যান্টিবায়োটিকের প্রেসক্রিপশন দেওয়া হয় ঠান্ডা লাগা, ব্রঙ্কাইটিস বা ভাইরাল জ্বরের জন্যে যাতে অ্যান্টিবায়োটিক কোন কাজই করে না। ইংল্যান্ডেও এই সংখ্যাটা ১ কোটিরও বেশি। তা হলে গোটা বিশ্বে, বিশেষত আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কী পরিমানে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যাবহার হচ্ছে ভাবুন একবার। একই ভাবে, গবাদি পশুর দ্রুত বৃদ্ধির জন্যে তাদের খাদ্যেও প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সব থেকেই অ্যান্টিবায়োটিককে রোধ করার ক্ষমতা ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে ব্যাকটেরিয়াদের মধ্যে। কলিস্টিনকেও রোধ করার ক্ষমতা যে ব্যাকটেরিয়াদের মধ্যে গড়ে উঠতে শুরু করেছে তার শুরুটা কিন্তু হয়েছিল চিনের একটি শুয়োর প্রতিপালন কেন্দ্রেই। এই ধুরন্ধর "সুপার-বাগ"দের কী ভাবে মোকাবিলা করা যাবে, বা আদৌ পুরোপুরি মোকাবিলা করা যাবে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Microbiology Infograph 04/10/2022
04/10/2022

Another interesting motivational writing. This is the era of IT (Information Technology) & BT (Biotechnology), and let's see how BT revolutionise our understandings.

—ফড়িংয়ের চোখ তৈরি করো—

ফড়িংয়ের দৃষ্টিশক্তি মানুষের চেয়ে বহুগুণ বেশি। মাশরাফির যে বলটাকে আমাদের কাছে অনেক গতিশীল মনে হয়, একটা ফড়িংয়ের কাছে সেটা অন্তত তিন-চারভাগ ধীরগতির। অর্থাৎ মানুষের যদি ফড়িংয়ের মতো দৃষ্টিশক্তি থাকতো, তাহলে মাশরাফিকে আরো তিন-চারগুণ গতিতে বল করতে হতো। তা না হলে প্রতি বলে দেখে শুনে চার-ছক্কা মারতে পারতো ব‍্যটসম‍্যান। —কী সাংঘাতিক কাণ্ড হতো তখন! মানুষ সেকেণ্ডে মাত্র ষাটটি “মুভেবল ইমেইজ” ধারণ (Capture) করতে পারে। ফড়িং পারে প্রায় দুইশতটি ইমেইজ ক‍্যাপচার করতে। ডিজিটাল ক‍্যামেরা নিয়ে যারা গবেষণা করে, তারা ফড়িংয়ের এই ক্ষমতাটাকে ক‍্যামরায় প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে।

ফড়িংয়ের চোখে অসংখ‍্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ল‍্যান্স বসানো থাকে। যেগুলোকে বলা হয় ওমাটিডিয়াম। একেকটা ওমাটিডিয়াম আমাদের একটা চোখের মতো। ফড়িংয়ের দৃষ্টিশক্তি তাই খুবই প্রখর ও উন্নত। মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফড়িংয়ের মতো প্রখর না হলেও, মানুষ তার ভাবনায় অনন‍্য। মানুষ তার চিন্তাশক্তিতে অসাধারণ। যে মানুষ যতো বেশি কল্পনা করতে পারে, নতুন নতুন বিষয় নিয়ে ভাবতে পারে—জগতে তার দৃষ্টিশক্তি ততই বেশি। দুনিয়াতে পথ চলা তার জন‍্য ততোই সহজ। এই দুনিয়ার অসংখ‍্য মানুষ এই কল্পনা শক্তি প্রখরের জন‍্য, দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

সম্প্রতি এক গবেষক এসে আমাকে বললো, সে লজ্জাবতী নিয়ে গবেষণা করে। শুনে আমি থ! লজ্জাবতী নিয়ে খেলেছি, কিন্তু এটা নিয়ে গবেষণা করা যায় কস্মিনকালেও ভাবিনি। লজ্জাবতির পাতা ছুঁলে চুপসে যায়। —কেন চুপসে যায়? কারণ সে গাছে নিদির্ষ্ট কোন জিন (gene) আছে, যেটা তার এই চুপসে যাওয়ার কাজটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। জীবজগতের প্রতিটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর কোষে কোষে এমন নিদির্ষ্ট জিন থাকে। এই জিনগুলো জীবের যতো বৈশিষ্ট আছে সেগুলো হাজার হাজার বছর ধরে বহন করে। সারা ভারতবর্ষের মানুষ দেখতে প্রায় একই—কারণ আমাদের যে জিন এই চেহারা ও গঠনের জন‍্য দায়ী, সেটা লক্ষ বছর ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বহন করছে। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্ম সবই বদলেছে, জিন বদলায়নি।

সারা দুনিয়ায় এই জিন নিয়ে গবেষণা হয়। এগুলোকে কিভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং করে পরিবর্তন করা যায়, নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করা যায় সেসব নিয়ে কাজ হচ্ছে। বায়োট‍েকনোলজি নামে একটা গবেষণা এরিয়া আগামি পঞ্চাশ বছরে দুনিয়ার শীর্ষে চলে যাবে। যাই হোক, সেই লজ্জাবতি গবেষকরা চেষ্টা করছে কী করে লজ্জাবতীর চুপসে যাওয়া নিয়ন্ত্রণকারী জিনকে স্টাডি করে, অন‍্য উদ্ভিদের শরীরে প্রবেশ করানো যায়! আমাদের দেশে ঝড়ের দিনে আম গাছগুলোর কথাই চিন্তা করুন। সে গাছগুলো ঝড়ে পড়ে, ডালা ভাঙ্গে—কারণ প্রচণ্ড ঝড়ে সে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারে না। আম গাছের যদি লজ্জাবতির মতোর গুণ থাকতো, তাহলে বৃষ্টি বা বাতাসের স্পর্শে নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারতো। ঝড়ের ধকল তাকে সইতে হতো না। পঞ্চাশ বছর পর যদি কোথাও এমন আম গাছ দেখেন, যে গাছ স্পর্শ করলেই নিজেকে গুটিয়ে নেয়, তাহলে অবাক হবেন না। ভাববেন না, এ কোন জ্বীনের কাজ—এ আসলে জিনের ইঞ্জিনিয়ারিং। মানুষের মগজের কাজ। মানুষের ভাবনার ফসল।

সারা দুনিয়ার তরুণরা এমন সব অসাধারণ বিষয় নিয়ে ভাবছে। সেই ভাবনারকে প্রখর করার জন‍্য ইন্টারনেটকে কাজে লাগাচ্ছে। তরুণদের অনুরোধ করে বলবো, সারাদিন শুধু কারেন্ট এফেয়ার্স নিয়ে পড়ে থেকো না। তোতা পাখির মতো সারা দুনিয়ার রাজধানী আর মুদ্রার নাম মুখস্থ করে যৌবনের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময়টাকে ভোঁতা করে দিও না। গণ্ডির বাইরে এসে ভাবো। দুনিয়ার চলমান সময় ও ভবিষ‍্যৎকে দেখার চেষ্টা করো। ভাবনাকে প্রখর করো। নতুন নতুন জগৎ নিয়ে জানো। প্রশ্ন করো! একেকটা নতুন নতুন ভাবনা, একেকটা ওমাটিডিয়ামের মতো। ফড়িং চাইলেই ওমাটিডিয়াম বাড়াতে পারে না। মানুষ চাইলেই পারে। আর সেই ভাবনার চোখ বা ওমাটিডিয়াম দিয়ে পৃথিবীর চলার পথকে মসৃন করো। মানুষ যে ভাবনার শক্তি নিয়ে এসেছে, সেটা অদ্বিতীয়, অনন‍্য, অসাধারণ!
………..
Written by
Rauful Alam
গার্ডেন স্টেইট, যুক্তরাষ্ট্র
.............
Md Ekramul karim স্যারের পোষ্ট থেকে সংগৃহীত।

জিনোম এডিটিং 04/10/2022

জিনোম এডিটিং জিনোম এডিটিং / ক্রিসপার/ক্যাস নাইন প্রযুক্তি (CRISPR/Cas9) ইদানিং জিনোম এডিটিং বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হচ্ছে। বলা হ.....

Want your school to be the top-listed School/college in Dhaka?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Dhaka